কালো টাকার প্রলোভনে পড়বেন না, আপনারা নিজে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট দিবেন : আনারস মার্কা প্রার্থী মেহেদী হাসান মিজান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ করার ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ যে প্রকল্প সেটি বাস্তবায়নের লক্ষে দুমকী উপজেলাকে নির্বাচন করেছেন। এমন বাস্তবতায় সৎ, শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে উন্নয়ন করার সুযোগ চেয়েছেন আনারস মার্কার উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান।

আজ রবিবার (২৬ মে) বিকালে দুমকী মুরাদিয়া ইউনিয়নের বোর্ড অফিস বাজারে নির্বাচনীয় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মেহেদী হাসান মিজান জানান,বাংলাদেশের ১২ টি উপজেলাকে ৪ টি প্যাকেজ এ তিনটি করে নির্ধারণ করেছেন। প্রথম ধাপের প্যাকেজে এই দুমকী উপজেলা রয়েছে। এই মেগা প্রকল্পগুলো বিশেষ করে আয়তনে ছোট উপজেলা থেকে শুরু হয়। বিগত দিনেও আপনারা উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসাবে দুমকী বাংলাদেশে প্রথম শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছিল।

তিনি জানান,আমার গ্রাম আমার শহর এই প্রকল্পে দুমকী উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন আমাদের লেবুখালী ইউনিয়নের কৃতি সন্তান পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত মো: হারুন আর রশীদ। তার কাছে আমরা দুমকীর জনগণ কৃতজ্ঞতা জানাই । তার মতো একজন দক্ষ ও মেধাবী চৌকস অফিসার আমাদের দুমকীর জনপদে ছিল বলেই এই দুমকী উপজেলাটির উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য এই প্রকল্পটি দুমকী উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একজন সৎ, শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্ব নির্বাচিত করে উপজেলা উন্নয়ন করার সুযোগ দিন। ইতিমধ্যেই সৎ, শিক্ষিত ও তরুণ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করুন এই নির্বাচনীয় স্লোগান হিসাবে আনারস মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেছি। এই তিনটি গুনেরও সমন্বয়ে যে ব্যাক্তি নির্বাচিত হবে তিনি এই দুমকীকে একটি আধুনিক দুমকীতে ও স্মার্ট উপজেলা হিসাবে রুপান্তরিত করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রকল্প আপনাদের দিয়েছেন সেটি বাস্তবায়নের জন্য একজন দক্ষ, সৎ, শিক্ষিত,তরুন জনসেবক দরকার। যদি আমার ভিতরে এই গুনগুলো থাকে তাহলে আগামী ২৯ তারিখ আনারস মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করে সকলের সেবা করার সুযোগ দিন।

এডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান জানান, খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য কর্মসংস্থান এবং বেকার সমস্যা নিরসনে কাজ করতে চাই । তরুণ উদ্যোক্তা হিসাবে তরুণ প্রজন্মের জন্য কাজ করতে চাই বিশেষ করে বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। ইতোমধ্যেই আমি দুমকীতে ২টি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। নির্বাচিত হলে আরো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করে বেকার সমস্যা নিরসনে কাজ করবো ।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল সে সময়ও আমি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলাম। তার পরবর্তী সময়েও আপনাদের সাথে আমি কাঁধে কাধঁ রেখে দুমকি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়িয়েছি তাই আপনাদের অনেকের সম্মতি নিয়ে এই উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আংশগ্রহণ করেছি।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স পাশ করে এডভোকেট হয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি সেবা করার জন্য।

এডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান বলেন, আমাকে আপনারা নির্বাচিত করলে আমি আগামী ৫ বছর নয় আমার আমৃত্যু পর্যন্ত আপনাদের দুমকি উপজেলা জনগণের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করবো। অনেক প্রার্থী আছেন যারা নির্বাচনে নির্বাচিত জোক বা না হোক ভোটের পরে আর দুমকি উপজেলায় থাকবে না। এই গুলো আপনারা বিবেচনা করেই আপনাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করবেন।

আনারস মার্কা প্রার্থী বলেন, এবারের নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক না থাকায় আপনাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করবেন। আপনারা কারোর কথায় বা কালো টাকার প্রলোভনে পড়বেন না। আপনারা নিজে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট দিবেন। বিগত দিনের ভোট এবং এবারের ভোট পুরোটাই ভীন্ন। এবারের নির্বাচনে কোনো প্রার্থী পেশী শক্তি প্রয়োগ করতে পারবেনা। সুষ্ঠ, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকেও ব্যাপক জোরালো ভূমিকা রয়েছে। আগামী ২৯ মে আপনারা আপনাদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের জন্য আপনাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন বলে আমি আশা করি।

দুমকী উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও তরুণ উদ্যোক্তা নিউ ভিশন গ্রুপের এমডি মো. তরিকুল ইসলাম মনির বলেন, মেহেদী হাসান মিজান আমার বন্ধু । সে একজন সৎ এবং যোগ্য নেতৃত্ব। জনগণের উন্নয়ন ও সেবা দেওয়ার জন্যই সে নির্বাচনে এসেছে। সে নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তরুনদের বেকারত্ব দূরীকরণে কাজ করবে। এ লক্ষে ইতিমধ্যে আমরা এখানে একটি ইন্ডাস্ট্রি করেছি এ ছাড়াও প্রতিটা ইউনিয়নে ফ্রি স্বাস্থ্য সেবা সহ আরো কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছি। সে নির্বাচিত হলে দুমকির আমুল পরিবর্তন হবে। পদ্মা সেতু হওয়ার পরপরই এখানে পায়রাপোর্ট ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ কুয়াকাটা ট্যুরিজম কেন্দ্রিক আমাদের যে জনশক্তি দরকার হবে তা তৈরিতে এবং শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের এই বিষয়ে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ আমরা নেবো।

যয়বুন নেসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো: ইউসুফ আলী মৃধা সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, মুরাদীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণত সম্পাদক মো: হারুন চাকলাদার সাবেক,নিউ ভিশন গ্রুপের এমডি মো. তরিকুল ইসলাম মনির, স্থানীয় সমাজ সেবক ইমু গাজী,সালামপুর আমিনিয়া ফাজিল মাদ্রাসা,শিক্ষক রুহুল আমীন মাউলানা,বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো: গফুর হাওলাদার। দুমকি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রাকিব মৃধা সহ আরও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও কয়েক শত মহিলা পুরুষ ও যুবকরা। এর আগে ঘূর্ণিঝড় রিমাল মহাবিপদ সংকেত অপেক্ষা করে দলে দলে সমর্থকরা মিছিল নিয়ে বৈঠকে অংশ গ্রহণ করেন।




মাল্টা কাওসারের সক্রিয় কর্মী গাঁজাসহ আটক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দুমকী উপজেলার পশ্চিম আঙারিয়ার শামসুদ্দিন খানের ছেলে মোঃ রবিউল ইসলাম সাইদকে গাঁজাসহ আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

সরেজমিনে জানা যায়, আজ সকালে দুমকি থানাধীন পশ্চিম আঙ্গারিয়া গ্রামস্থ আসামীর বসত ঘরের পশ্চিম ভিটির পূর্ব পার্শ্বের কক্ষে আসামীকে একটি হলুদ বর্ণের সিনথেটিক ব্যাগের মধ্যে পলিথিনে মোড়ানো ৬০ (ষাট) গ্রাম লুজ গাঁজাসহ আটক করা হয়।

আরো পড়ুন : স্মার্ট,  উন্নত ও মানবিক দুমকী বিনির্মাণের রুপরেখা ঘোষণা করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মেহেদী হাসান মিজান

এদিকে আসামী রবিউল ইসলাম সাঈদ আসন্ন দুমকী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আলোচিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কাওসার আমিন হাওলাদার ওরফে মাল্টা কাওসারের সক্রিয় কর্মী হিসেবে বিভিন্ন জনসংযোগে অংশগ্রহণ করায় এলাকায় বেশ গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।




পটুয়াখালীতে রিমালের জলোচ্ছ্বাসে প্রাণ গেল যুবকের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাগরের জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে শরীফ নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে আজ রোববার উপজেলার ধূলাসর ইউনিয়নের কাউয়ারচর প্লাবিত হলে সেখানে বসবাসরত স্বজনদের বাঁচাতে দিয়ে তার মৃত্যু হয়।

আরো পড়ুন : স্মার্ট,  উন্নত ও মানবিক দুমকী বিনির্মাণের রুপরেখা ঘোষণা করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মেহেদী হাসান মিজান

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীফের ফুপু মাতোয়ারা বেগম কাউয়ার চর এলাকায় বাস করেন। ওই বাড়িতে তার বোনও ছিল। আজ দুপুর ১টার দিকে অনন্তপাড়া থেকে শরীফ তার বড় ভাই ও ফুফাকে নিয়ে বোন এবং ফুফুকে উদ্ধার করতে কাউয়ারচরে যান। এ সময় ওই এলাকা ৫ থেকে ৭ ফুট পানিতে প্লাবিত ছিল। স্বজনদের সাঁতরে উদ্ধারের সময় ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে যান শরীফ। প্রায় ঘণ্টা খানেক পর ওই স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

মহিপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন তালুকদার জানান, ঘটনাস্থলো পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




পটুয়াখালীতে বেড়িবাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রেমাল ক্রমেই উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। এর প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ রাঙ্গাবালী। এতে উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমোন্তাজ নয়ার চর এলাকায় গ্রাম রক্ষা বাঁধ অতিক্রম করে গ্রামের মধ্যে পানি প্রবেশ করেছে। এতে বউ বাজার, নয়ার চর, দক্ষিণ চরমোন্তাজ, উত্তর চরমোন্তাজ, মোল্লাগ্রাম ও চর আণ্ডাসহ ২০ গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

আরো পড়ুন : স্মার্ট,  উন্নত ও মানবিক দুমকী বিনির্মাণের রুপরেখা ঘোষণা করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মেহেদী হাসান মিজান

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, জেলায় ১৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১৪ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে দেড় কিলোমিটার বাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের সময় জরুরি ভাঙন মেরামতের জন্য ১৬ হাজার জিও ব্যাগ প্রস্তুত রয়েছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, চালিতাবুনিয়ায় আগেই বেড়িবাঁধ ভাঙা ছিল। কিন্তু আজ জোয়ারের পানিতে চরমোন্তাজের অনেক জায়গায় বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা পানি বন্দিদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করছি।




স্মার্ট,  উন্নত ও মানবিক দুমকী বিনির্মাণের রুপরেখা ঘোষণা করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মেহেদী হাসান মিজান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক :: ২৫০ কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি ও ৭৫০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে উচ্চ শিক্ষা বৃত্তি প্রদান, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে নারী -পুরুষ সকলের বেকারত্ব দূরীকরণ, দুমকী বাজার খালকে স্বরূপে ফিরিয়ে আনা

আজ (রবিবার) সকালে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার পায়রা চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনারস প্রতীক প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোঃ মেহেদী হাসান মিজানের পক্ষে মো. তরিকুল ইসলাম মনির ইশতেহার উপস্থাপনকালে এই ঘোষণা দেন।

ইশতেহারে ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ‘স্মার্ট সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তোলায় সরকারের প্রত্যয়ের সাথে মিল রেখে  দুমকীকে একটি স্মার্ট উপজেলা হিসেবে এর নাগরিক, সমাজ, অর্থনীতি ও প্রশাসনকে  আধুনিক এবং প্রযুক্তি সচেতন অর্থাৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের দিক নির্দেশনা রয়েছে।  যেখানে নারী পুরুষ,  তরুন বৃদ্ধ থেকে শুরু করে বাদ যায়নি কৃষক, জেলে এমনকী প্রতিবন্ধী তথা সমাজের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীও বাদ যায়নি।

এ সময় প্রার্থী অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান, নির্বাচন পরিচালনাকারী কমিটির আহবায়ক দুমকী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সুলতান আহমদ মোল্লা ও মনিটরিং দলের আইয়ুব আলী অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

ইশতেহারে মেহেদী হাসান মিজান স্মার্ট বাংলাদেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে তরুণ ও যুবকদের গড়তে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা বলেছেন। তিনি তথ্য প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের কথা বলেছেন।

তরূণদের এগিয়ে নেয়ার লক্ষে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে উপজেলার ৫টা ইউনিয়নের
প্রতিটা থেকে প্রতি বছর ৩০ শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে মেধাবৃত্তি দিবেন। যার অর্থ দাঁড়ায়  আগামী পাঁচ বছরে এ জনপদ থেকে ৭৫০ জন তরুন মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষার দ্বার উন্মোচন হবে। যা দুমকীকে আরও সামনে এগিয়ে নেবে।

শুধু তাই নয়,  গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে প্রধান অন্তরায় ঢাকায় থেকে  কোচিং করা। অন্যান্য জেলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ক্ষেত্রে যাতায়া-থাকার অসুবিধা এমনকী কোনোভাবে ভর্তির সুযোগ পেলেও যথাযথ ক্যারিয়ার প্লানিং এ অনেকে  ভুল করেন। সেক্ষেত্রে মেহেদী হাসান মিজান তার ইশতেহারে অধ্যয়ন এবং ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষার সময় ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের কথা বলেছেন যেটা তরুণ সমাজের জন্য একটা অসাধারণ উদ্যোগ।

চাকরির পাশাপাশি আগামী পাচঁ বছরে দুমকীতে ২৫০ কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণের অভাবে বিদেশে গিয়ে আমাদের তরুনরা উপযুক্ত বেতন পাননা। এমন বাস্তবতায় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহায়তায় বিদেশগামী তরুণদের কারিগরি ও ভাষাসহ বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের কথা আছে ইশতেহারে।

পায়রা বন্দর, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ও পটুয়াখালীতে প্রস্তাবিত ইপিজেড-এর সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠান তৈরিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মতো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাও তিনি নিয়েছেন।

নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে সেলাই ও হস্তশিল্প, মাছ ও সবজি চাষ, হাঁস-মুরগি-গরু-ছাগল পালনে দক্ষ করে তোলা।

শুধু তাই নয় নারীদের কষ্ট লাঘবে প্রতি বাড়িতে একটি করে টিউবয়েল, বিনামূল্যে বন্ধু চুলা সরবরাহ ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে সহযোগিতার মতো ইউনিক বিষয়কে তিনি সামনে এনেছেন।

দেশজুড়ে উন্নয়নের অভিযাত্রায় দুমকী উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে সমৃদ্ধ করার লক্ষে  বাংলাদেশ সরকারের ‘গ্রাম হবে শহর’ প্রকল্পের মাধ্যমে জনগণের মতামত নিয়ে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং স্বচ্ছতার সাথে প্রকল্পের শতভাগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতিও তিনি দিয়েছেন।

ফায়ার স্টেশন ও বিদ্যুতের সাবস্টেশন স্থাপন করার কথা বলেছেন। পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেহেদী হাসান মিজান উপজেলার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা আধুনিক করার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট বসানো এমনকী দুমকী বাজার খালকেও স্বরুপে ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন।

মানবসেবাকে গুরুত্ব দিয়ে দুমকীর নারী-পুরুষ-তরুণ-বৃদ্ধ সকলের সুষম উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে মানবিক দুমকী বিনির্মানের বিষয়টিও কিন্তু মেহেদী মিজান তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেছেন।

দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য গ্রামে গ্রামে ফ্রি হেলথ ক্যাম্প করা এবং সদর ইউনিয়ন ছাড়া বাকি ৪টি ইউনিয়নে ৪টি কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র চালু করা।

সেবা প্রদানে এতিম, বিধবা, মিসকিন, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ও মানসিক ভারসাম্যহীনকে গুরুত্ব দেয়ার কথাও তিনি বলেছেন।

বাদ যায়নি সমাজের অসহায় ও প্রবীণদের কল্যাণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের কথাও।

এসবের পাশাপাশি মেহেদী হাসান মিজান ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে তিনি উপজেলার সকল বরাদ্দ জনগণের নিকট উন্মুক্ত করবেন।




স্মার্ট দুমকী বিনির্মাণে নারীদের জন্যও করা হবে কর্মসংস্থান : আনারস মার্কার প্রার্থী মেহেদী হাসান মিজান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক :: পটুয়াখালী দুমকী উপজেলার আনারস মার্কা চেয়ারম্যান পদ-প্রার্থী অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান বলেছেন, সৎ,শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্ব নির্বাচিত করে স্মার্ট ও উন্নত মানবিক দুমকী বিনির্মাণে গড়ার লক্ষে আনারস মার্কা বিজয় হলে দুমকী উপজেলার পুরুষের পাশাপাশি নারীদের জন্যও করা হবে কর্মসংস্থান।

শনিবার ( ২৫ শে মে) বিকালে দুমকী মুরাদিয়া ইউনিয়নের সন্তোষদী গ্রামের সৈয়দ গাজী বাড়িতে উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

 

আনারস মার্কা চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেন, খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য কর্মসংস্থান এবং বেকার সমস্যা নিরসনে কাজ করতে চাই । তরুণ উদ্যোক্তা হিসাবে তরুণ প্রজন্মের জন্য কাজ করতে চাই বিশেষ করে বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। ইতোমধ্যেই আমি দুমকীতে ২টি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। নির্বাচিত হলে আরো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করে বেকার সমস্যা নিরসনে কাজ করবো ।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল সে সময়ও আমি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলাম। তার পরবর্তী সময়েও আপনাদের সাথে আমি কাঁধে কাধঁ রেখে দুমকি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়িয়েছি তাই আপনাদের অনেকের সম্মতি নিয়ে এই উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আংশগ্রহণ করেছি।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স পাশ করে এডভোকেট হয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি সেবা করার জন্য।

এডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান বলেন, আমাকে আপনারা নির্বাচিত করলে আমি আগামী ৫ বছর নয় আমার আমৃত্যু পর্যন্ত আপনাদের দুমকি উপজেলা জনগণের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করবো। অনেক প্রার্থী আছেন যারা নির্বাচনে নির্বাচিত জোক বা না হোক ভোটের পরে আর দুমকি উপজেলায় থাকবে না। এই গুলো আপনারা বিবেচনা করেই আপনাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করবেন।

আনারস মার্কা প্রার্থী মেহেদী হাসান মিজান আরও বলেন,বাংলাদেশের ১২ টি উপজেলাকে ৪ টি প্যাকেজ এ তিনটি করে নির্ধারণ করেছেন। প্রথম ধাপের প্যাকেজে এই দুমকী উপজেলা রয়েছে। এই মেগা প্রকল্পগুলো বিশেষ করে আয়তনে ছোট উপজেলা থেকে শুরু হয়। বিগত দিনেও আপনারা উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসাবে দুমকী বাংলাদেশে প্রথম শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছিল।

তিনি বলেন,আমার গ্রাম আমার শহর এই প্রকল্পে দুমকী উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন আমাদের লেবুখালী ইউনিয়নের কৃতি সন্তান পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত মো: হারুন আর রশীদ। তার কাছে আমরা দুমকীর জনগণ কৃতজ্ঞতা জানাই । তার মতো একজন দক্ষ ও মেধাবী চৌকস অফিসার আমাদের দুমকীর জনপদে ছিল বলেই এই দুমকী উপজেলাটির উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য এই প্রকল্পটি দুমকী উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

মেহেদী হাসান মিজান বলেন,এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একজন সৎ, শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্ব নির্বাচিত করে উপজেলা উন্নয়ন করার সুযোগ দিন।

ইতিমধ্যেই সৎ, শিক্ষিত ও তরুণ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করুন এই নির্বাচনীয় স্লোগান হিসাবে আনারস মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেছি। এই তিনটি গুনেরও সমন্বয়ে যে ব্যক্তি নির্বাচিত হবে তিনি এই দুমকীকে একটি আধুনিক দুমকীতে ও স্মার্ট উপজেলা হিসাবে রুপান্তরিত করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রকল্প আপনাদের দিয়েছেন সেটি বাস্তবায়নের জন্য একজন দক্ষ, সৎ, শিক্ষিত,তরুন জনসেবক দরকার।

আনারস মার্কা প্রার্থী বলেন, এবারের নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক না থাকায় আপনাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করবেন। আপনারা কারোর কথায় বা কালো টাকার প্রলোভনে পড়বেন না। আপনারা নিজে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট দিবেন। বিগত দিনের ভোট এবং এবারের ভোট পুরোটাই ভীন্ন। এবারের নির্বাচনে কোনো প্রার্থী পেশী শক্তি প্রয়োগ করতে পারবেনা। সুষ্ঠ, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকেও ব্যাপক জোরালো ভূমিকা রয়েছে। আগামী ২৯ মে আপনারা আপনাদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের জন্য আপনাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন বলে আমি আশা করি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ যুব লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির, মুরাদীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণত সম্পাদক মো: হারুন চাকলাদার , স্থানীয় সমাজ সেবক ইমু গাজী,বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো: গফুর হাওলাদার। দুমকি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রাকিব মৃধা সহ আরও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও কয়েক শত মহিলা পুরুষ ও যুবকরা । এর আগে দলে দলে সমর্থকরা মিছিল নিয়ে উঠান বৈঠকে অংশ গ্রহণ করেন।

 




মেদ কমানোর সহজ উপায়




প্রকৌশলীর কাছে চাঁদা দাবি, টাকা না দেওয়ায় ছিনতাই

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এলজিইডির প্রকৌশলীকে আটকে চাঁদা দাবি এবং ৩২ হাজার ৪০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশের তালিকাভুক্ত টোকাই মিরাজ ওরফে কালা মিরাজসহ তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নেমেছে পুলিশ।

গত শুক্রবার রাতে টোকাই মিরাজের এক সহযোগী আনছার মুন্সীকে (৪০) পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও গা ঢাকা দিয়েছে টোকাই মিরাজ।

সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় পৌরশহরের নাচনাপাড়া এলাকার নির্মাণাধীন একটি ভবনের নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে অফিসে ফিরছিলেন কলাপাড়া এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল হোসেন। পথে টোকাই মিরাজ ও তার দুই সহযোগী প্রকৌশলীকে আটকে গরুর হাট সংলগ্ন আন্ধারমানিক নদী পাড়ের নির্জন স্থানে নিয়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় তার পকেটে থাকা ২২ হাজার ৪০০ টাকা ছিনিয়ে মোবাইল ফোনের বিকাশ থেকে ১০ হাজার টাকা সেন্ড করে নেয় টোকাই মিরাজ। এরপর সন্ত্রাসীরা তাদের দাবিকৃত অবশিষ্ট টাকা পরের দিন প্রদানের শর্তে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছেড়ে দেয় প্রকৌশলী আবুল হোসেনকে।

আরো পড়ুন : ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে পটুয়াখালীতে গুড়ি-গুড়ি বৃষ্টি

এ বিষয় কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, কোনো ভাবেই এসব সন্ত্রাসীকে ছাড় দেওয়া হবে না। কালা মিরাজের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। মিরাজ একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী।

কলাপাড়া থানার ওসি আলী আহম্মেদ বলেন, এ ঘটনায় প্রকৌশলী আবুল হোসেন থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ রাতেই একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রধান অভিযুক্ত কালা মিরাজকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।




ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে পটুয়াখালীতে গুড়ি-গুড়ি বৃষ্টি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে পটুয়াখালী জেলা এবং উপকূলজুড়ে গুড়ি-গুড়ি বৃষ্টি ও মাঝারি ধরনের হাওয়া বইছে। সাগর ও নদীতে বইছে জোয়ার। কুয়াকাটা সমূদ্র সৈকতে ঢেউয়ের তান্ডব চলছে।

এদিকে দূর্যোগ মোকাবিলায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে শনিবার সকালে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে দূর্যোগ মোকাবিলায় সব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও প্রস্তুত রাখা হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র এবং পর্যাপ্ত শুকনো খাবার।

আরো পড়ুন : সংকীর্ণ ও অগভীর হয়ে পড়ছে পটুয়াখালীর নদীগুলো

তবে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলায় ঝড় হাওয়া দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া লক্ষ্য করা যায়নি। আরও ২-৩ বিরামহীন বৃষ্টি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

সমুদ্র বন্দরে ইতিমধ্যে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।




সংকীর্ণ ও অগভীর হয়ে পড়ছে পটুয়াখালীর নদীগুলো

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী জেলা পটুয়াখালীর ওপর দিয়ে বয়ে গেছে অনেক নদী। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় নদ-নদীর সংখ্যা ৩৭টি। ভাটিতে অবস্থানের কারণে এক-দেড় দশক আগেও এগুলো ছিল বেশ প্রশস্ত ও খরস্রোতা। কিন্তু গত কয়েক বছরে জেলাটির নদীগুলোর গভীরতা ও প্রশস্ততা হারিয়েছে ব্যাপক মাত্রায়। দখল, অপরিকল্পিত নদী শাসন, অবকাঠামো নির্মাণ ও পলি পড়ে সংকীর্ণ ও অগভীর হয়ে পড়ছে নদীগুলো।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ৩৫ বছর আগে করা মানচিত্রের সঙ্গে নদীগুলোর বর্তমান মানচিত্রের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ সময় জেলার নদ-নদীগুলোর অনেক স্থানেই প্রশস্ততা নেমে এসেছে আগের তুলনায় অর্ধেকে। প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে নাব্য সংকটে ভোগা সংকীর্ণ এলাকার পরিমাণ।

পটুয়াখালীর অন্যতম প্রধান নদী গলাচিপা। নদীটির বিভিন্ন পয়েন্টে গত ৩৫ বছরে প্রশস্ততা ও গভীরতা কমে নেমে এসেছে এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশে। বিআইডব্লিউটিএর তথ্য অনুযায়ী, এ সময় শেখাটি এলাকায় গভীরতা কমেছে অর্ধেকেরও বেশি। ১৯৮৮ সালের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে শেখাটি এলাকায় নদীর গভীরতা ছিল তিন থেকে নয় মিটার পর্যন্ত। বর্তমানে নদীর এ অংশে প্রায় আড়াই হাজার মিটারজুড়ে গভীরতা এক মিটার বা এরও কম। কলাগাছিয়া অংশে ১৯৮৮ সালে নাব্য ছিল চার থেকে ১১ মিটার পর্যন্ত। বর্তমানে তা নেমে এসেছে এক থেকে চার মিটারে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শুষ্ক মৌসুমে নাব্য সংকটে নদীটি দিয়ে ভারী ও মাঝারি নৌযান চলাচল এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শেখাটি ও কলাগাছিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ কমে এ সংকট মারাত্মক হয়ে দেখা দেয়।

গলাচিপা পৌরসভার অভ্যন্তরে ও চিকনিকান্দি বাজারসংলগ্ন এলাকায় নদীটি এখন সংকীর্ণ হয়ে খালের আকার ধারণ করেছে। সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় এ এলাকায় ভারী ও মাঝারি নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে এক দশকের বেশি সময় ধরে। আবার নদীর গলাচিপা পৌর এলাকার মধ্যকার অংশটি এখন প্রায় পুরোপুরিই দখলদারদের আওতায়।

নদীর এসব এলাকা দখলমুক্ত করতে কাজ করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।

পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য এসএম শাহজাদা বলেন, ‘পৌর এলাকার মধ্যে নদী দখলমুক্ত করতে এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে কাজ করা হচ্ছে। নাব্য ও গভীরতার সংকটের বিষয়ে অভিযোগ পেলে আমরা ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেব।’

গলাচিপা নদীর মতোই জেলার আগুনমুখা, লোহালিয়া, কোরালিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে গভীরতা ও প্রশস্ততা কমে অর্ধেক থেকে এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। নদীগুলোর এমন পরিস্থিতির জন্য বিআইডব্লিউটিএ দখলের পাশাপাশি দায়ী করছে উজান থেকে পানিপ্রবাহ হ্রাস ও পলিপ্রবাহ বেড়ে যাওয়াকে। গভীরতা ও প্রশস্ততা ঠিক রাখতে পটুয়াখালীর নদ-নদীগুলোয় নিয়মিত ড্রেজিং করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. কবির হোসেন বলেন, ‘গেজেট অনুযায়ী নদীবন্দরের আওতাভুক্ত জায়গাগুলোয় কেউ অবৈধভাবে দখল করলে তা যথাসম্ভব দ্রুত উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া নদীগুলোয় নিয়মিত ড্রেজিংও করা হয়। তবে যেহেতু উজান থেকে পানিপ্রবাহ কম এবং বন্যায় যে পানিপ্রবাহ হচ্ছে সেখানে পলি অনেক বেশি, তাই নদীগুলোর গভীরতা কমে যাচ্ছে।’

আরো পড়ুন : গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞার আভাস যুক্তরাষ্ট্রের

একসময় জেলার অন্যতম খরস্রোতা নদী ছিল আগুনমুখা। পানিপ্রবাহ হ্রাস ও পলি পড়ে নদীটিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর। কঠিন হয়ে পড়েছে নৌ-চলাচলও। নদীটির উত্তরে গলাচিপা উপজেলা, দক্ষিণে রাঙ্গাবালী উপজেলা ও পশ্চিমে পায়রা সমুদ্রবন্দর। বিশেষত রাঙ্গাবালী উপজেলার মানুষের কোনো স্থানে যাতায়াত করতে হলেই এ নদী পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে নদীটিতে ডুবোচরের সংখ্যা ব্যাপক মাত্রায় বেড়েছে। ফলে এটিও এখন দিনে দিনে ভারী ও মাঝারি নৌযান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

জেলার গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি নদী লোহালিয়া। এখানে ১৯৮৮ সালেও গভীরতা ছিল ৩ থেকে ১২ মিটার পর্যন্ত। কিন্তু বর্তমানে এখানে নদীর নাব্য হ্রাস পেয়েছে ব্যাপক মাত্রায়। বিশেষ করে গত দুই দশকে নদীটির প্রস্থ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড পটুয়াখালীর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে পটুয়াখালী শহরে লোহালিয়া নদীর প্রস্থ ২ নং বাঁধঘাটে ছিল ১৬০ মিটার। এখন আছে ৯১ মিটার। উত্তর ধরান্দী লঞ্চঘাটে নদীর প্রস্থ ৩২৫ মিটার থেকে নেমে এসেছে ১১৫ মিটারে। ২০ বছরের ব্যবধানে কৌরাখালী খেয়াঘাটে নদীর প্রশস্ততা ৩২৫ থেকে ২৫৩ মিটারে নেমে এসেছে। এছাড়া এ সময় নদীর প্রশস্ততা সেয়াকাটি খেয়াঘাটে ৩৫৩ থেকে ২৯৬ মিটারে ও বগা ফেরিঘাটে ২৪৪ থেকে ১৯০ মিটারে নেমে এসেছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, নদীটির এ অংশগুলোর অধিকাংশ স্থানেই নানা জায়গা বেদখল হয়ে পড়েছে। এমনকি কোনো কোনো স্থানে নদী-তীরবর্তী কম নাব্য অংশ ভরাট করে দোকান, আবাসিক ভবন ও বাজার গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশ নদী রক্ষা কমিশনের ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, জেলার নদীগুলোয় দখলদারের সংখ্যা ৯৯৯। এর মধ্যে পটুয়াখালী সদরে ৩০১ আর গলাচিপা উপজেলায় ২৮৯ জন। এছাড়া কলাপাড়ায় ১৮৬ ও রাঙ্গাবালীতে আছে ৫৫ জন। বাকিরা অন্যান্য উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে দখলদারের সংখ্যা অনেক বেশি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, পটুয়াখালীর নদীগুলোকে দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলম বলেন, ‘আমরা নিয়মিত অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করি। এছাড়া নদীর নাব্যতা বৃদ্ধিতেও কাজ চলছে। বেশকিছু স্থানে ড্রেজিংয়ের জন্য নতুনভাবে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।’

নদীগুলোর এমন পরিস্থিতির জন্য দখলের পাশাপাশি অপরিকল্পিত স্লুইস গেট ও সেতু নির্মাণও অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করছেন পানি বিশেষজ্ঞরা।