বরিশালে বেড়েছে ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা

বরিশাল অফিস :: বরিশালের ডায়রিয়া পরিস্থিতি উন্নতির কোন লক্ষন নেই। গত মাসের প্রথম ২৫ দিনের প্রচ- দাবদাহে ডায়রিয়া পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। ২৬ ও ২৭ মে ঘূর্ণিঝড় রেমালের উপর ভর করে প্রবল বর্ষণে তাপমাত্রার পারদ নিচে নামায় ডায়রিয়ার বিস্তৃতি স্তিমিত হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতির আবারো অবনতি ঘটেছে।

রেমাল পরবর্তী গত এক সপ্তাহে নতুন করে আরো প্রায় দু হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু ডায়রিয়া রোগী সরকারী হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসার জন্য এসেছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানিয়েছে। ফলে মে মাসেই বরিশালের সরকারী হাসপাতালে আগত ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারের কাছে পৌছেছে। আর চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে বরিশালের সরকারী হাসপাতালগুলোতে আগত প্রায় ৪৩ হাজার ডায়রিয়া রোগীর মধ্যে গত সপ্তাহে এক জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে বরিশালের স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র।

এদিকে গত মাসেই বরিশালের বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালগুলোতে আরো শতাধিক ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন। ফলে বরিশালে ইতোমধ্যে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজার ছুই ছুই করছে। মৃতের সংখ্যাও ২১৮ জনে উন্নীত হয়েছে। নতুন করে বরিশাল মহানগরীতে ডেঙ্গু হানা দিতে শুরু করেছে।

এদিকে গত এপ্রিল মাসেও বরিশাল অঞ্চলের সরকারী হাসপাতালগুলোতে প্রায় ১২ হাজার ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা গ্রহন করেছেন। তবে ডায়রিয়া ও পেটের পীড়া নিয়ে আরো কয়েকগুন রোগী বিভিন্ন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বার এবং বেসরকারী ক্লিনিক সহ রোগীদের বাসায়ও চিকিৎসা নিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় দপ্তরের হিসেব এপ্রিলের শেষ সপ্তাহেও সরকারী হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগী আগমনের সংখ্যাটা ছিল সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশী। আর গত ১ জানুয়ারী থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সরকারী হানসপাতালগুলোতে আগত ডায়রিয়া রোগীল সংখ্যাটা দাড়িয়েছে প্রায় ৪৩ হাজারে।

অপরদিকে গত বছরও বরিশাল অঞ্চলের সরকারী হাসপাতালগুলোতে প্রায় ৭২ হাজার ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। যে সংখ্যাটা ২০২৩ সালে ছিল ৭৭ হাজারেরও বেশী। আর ২০২১-এ করোনার সর্বোচ্চ সংক্রমনের মধ্যেও বরিশালে প্রায় ৮০ হাজার ডায়রিয়া রোগী সরকারী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার জন্য আসেন।

এদিকে ডায়রিয়া চিকিৎসায় বরিশালে ১ হাজার ও ৫শ এম এল-এর প্রায় ২৮ হাজার ব্যাগ আইভি স্যালাইন ছাড়াও বিপুল সংখ্যক ক্যাপসুল সহ সব ধরনের চিকিৎসা সামগ্রীর মজুদের কথাও জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক। তবে অনুমোদিত জনবলের অর্ধেকেরও বেশী চিকিৎসকের পদ শূণ্য থাকায় ডায়রিয়া সহ সব ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থাই বাধাগ্রস্থ হলেও ডায়রিয়া চিকিৎসায় কোন সংকট হবে না বলেও দাবী করেন পরিচালক। পাশাপিশি তিনি ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু সহ যেকোন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সরকারী হাসপাতাল সহ চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হবারও তাগিদ দিয়েছেন।

 




রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাচনে তিনজনের প্রার্থিতা বহাল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: অবশেষে ভাগ্য খুলেছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া তিনজনের।

সোমবার তাদের তিনজনেরই প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া ওই তিনজন হলেন উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মু. সাইদুজ্জামান মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি রওশন মৃধা ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ফেরদৌসী পারভীন।

বুধবার এ উপজেলার ভোট। জানা গেছে, আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে রোববার ওই তিন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। ফলে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তারা। তিনজনের করা রিটের শুনানি নিয়ে সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি মুহম্মদ মাহবুব-উল ইসলামের সমন্বয় গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিষ্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

আরো পড়ুন : দুমকিতে ২ চেয়ারম্যান প্রার্থীর ৮ সমর্থকের কারাদণ্ড

এর আগে গত ৩১ মে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্য মহিববুর রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছিল নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে ওই তিন প্রার্থীকেও হাজির হতে বলেছিল ইসি।

ইসির সেই চিঠিতে বলা হয়েছিল, রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া বাজারে এবং ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া ঘাটে ত্রাণ বিতরণের সময় প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্যে তিন প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন। যা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

ইসি সূত্রমতে, সে অনুযায়ী রোববার নির্বাচন কমিশনে তাদের শুনানি হয়। প্রতিমন্ত্রী এবং তিন প্রার্থী ইসিতে হাজির হন। শুনানিতে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়ে নির্বাচন কমিশন বিধি ভঙ্গের দায় থেকে তাকে অব্যাহতি প্রদান করেন। কিন্তু ওই তিন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেছিলেন। পরে তিনজনই হাইকোর্টে রিট করেন। এই রিটের শুনানিতে তাদের পক্ষে রায় হয়।




দুমকিতে ২ চেয়ারম্যান প্রার্থীর ৮ সমর্থকের কারাদণ্ড

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকিতে নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা দেয়া, উত্তেজনা ও গোলযোগ সৃষ্টির দায়ে কাপ-পিরিচ মার্কার প্রার্থী কাওছার আমিন ও মোটরসাইকেল মার্কার প্রার্থী হারুন অর রশিদ হাওলাদার এ দু’চেয়ারম্যান প্রার্থীর ৮ কর্মী-সমর্থকের ৭ দিনের সাঁজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাচনী দায়িত্বরত নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ জিয়াউল হাসান রবিবার (২ জুন) রাত সাড়ে ১১ টায় ভ্রাম্যমান আদালতের বিচার বসিয়ে আটককৃত ৮ কর্মী-সমর্থকের প্রত্যেককে ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্চেন, সাতানী গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. শহীদুল ইসলাম (২০), বাহেরচর গ্রামের বজলুর রহমান মাঝির ছেলে সোহাগ (২৪), একই গ্রামের ইউসুব সিকদারের ছেলে রাকিব শিকদার (২২), আইয়ুব আলী মোল্লার ছেলে রিয়াজ মোল্লা (২২), দুমকি গ্রামের আবুল কালামের ছেলে সাইদুল হক (২৫), সাতানী গ্রামের হাবিব হাং এর ছেলে ইমরান হাওলাদার (২৫), দুমকি গ্রামের আ. লতিফ মৃধার ছেলে হাবিবুর রহমান (খোকন) (৪৩), ঝাটারা গ্রামের মান্নান খানের (কন্ট্রাক্টর) ছেলে সায়েম খান (৩৪)।

আজ (সোমবার) সকালে তাদের জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, রবিবার (২ জুন) রাত সাড়ে নয়টার দিকে আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের রূপাশিয়া গ্রামের তালুকদার পাড়ায় জনৈক এসএম ফজলুল হকের অসুস্থ শশুরকে দেখতে যান কাপ পিরিচ মার্কার চেয়াম্যান প্রার্থী কাওসার আমীন হাওলাদার। খবর পেয়ে মোটর সাইকেল মার্কার শতাধিক কর্মী-সমর্থক ওই বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নানা উস্কানী মূলক শ্লোগান দেয়। এতে দু’প্রার্থীর কর্মী সমর্থকের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে চেয়ারম্যান প্রার্থী কাওসার আমীন হাওলাদার ওই বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দু’পক্ষের উত্তেজিত কর্মী সমর্থকদের সাথে হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কি হয়।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে নৌ বাহিনীকে যুগপযোগী ভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে – নৌ বাহিনী প্রধান

এসময় নির্বাচনী দায়িত্বরত নির্বাহী মেজিষ্ট্রেট জিয়াউল হাসান ঘটনাস্থলে পৌছে দু’পক্ষের অন্তত ১১জনকে আটক করেন। পরে রাত সাড়ে ১১টায় ইউএনও কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচার বসিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা প্রদান, গোলযোগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে ৮জনের প্রত্যেককে ৭দিনের কারাদণ্ডাদেশ দেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ৩ কিশোর নয়ন গাজী (১৪), শাহাদত মৃধা (১৫) ও জায়েদ মৃধা (১৪)কে মুচলেকায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তদের ৩জন কাপ পিরিচ ও ৫জন মোটর সাইকেল প্রতীকের কর্মী সমর্থক বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোঃ সফিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিৎ করে দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান।




বরিশাল সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীর কালিজিরা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় সজীব (২২) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছে। এ সময় মোটরসাইকেল থাকা আরও একজন রিয়াজ হোসেন (২৫) আহত হয়েছে।

রোববার (২ জুন) রাত ৮ টার দিকে দুর্গাপুর নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ও আহতের বাসা সিটি কর্পোরেশনের ২৫নং ওয়ার্ড বটতলায়। এর মধ্যে সজীব খান ওই এলাকার আবু ইসাহাক খানের ছেলে এবং রিয়াজ উদ্দিন বজলুল হকের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) বিপ্লব মিস্ত্রি জানান, সন্ধ্যার পর দুজন একই মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেড়িয়েছিলেন। কালিজিরা সেতুর ঢালে দুর্গাপুর সড়কে প্রবেশের সময় দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা সজীব ও রিয়াজ আহত হলে তাদের উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক সজীবকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, মাথায় আঘাত ও রক্তক্ষরণে সজীবের মৃত্যু হয়েছে। আহত রিয়াজের অবস্থাও গুরুতর। তার চিকিৎসা চলছে।




বরিশালে পায়রা নদীতে নিখোঁজের দুইদিনপর স্কুলছাত্র মৃতদেহ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পায়রা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজের দুইদিনপর স্কুলছাত্র ফাহিমের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

সোমবার (৩ জুন) সকালে পায়রা নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

বাকেরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সাব্বির আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শনিবার (১ জুন) দুপুর ১টার দিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ এলাকায় পায়রা নদীতে ৪ বন্ধু মিলে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয় ফাহিম।

ফাহিম বরিশালের লেবুখালী শেখ হাসিনা সেনানিবাসের শেখ হাসিনা স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট কেফায়েত হোসেনের ছেলে।

বরিশাল বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল বলেন, ফাহিমের সঙ্গে থাকা তিন বন্ধু তীরে উঠে যেতে সক্ষম হয়। কিন্তু ফাহিম ডুবে যায়। সোমবার সকালে ফাহিমের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।




তরুণ উদ্যোক্তা হিসাবে দুমকী উপজেলার তরুণ প্রজন্মের জন্য কাজ করতে চাই : আনারস মার্কা প্রার্থী মেহেদী হাসান মিজান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক  :: দুমকী উপজেলার আনারস মার্কা চেয়ারম্যান পদ-প্রার্থী অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান বলেছেন,তরুণ প্রজন্মের জন্য উপজেলায় ৫০ টি ফ্রী ওয়াইফাই জোন নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে বর্তমান সময়ে স্মার্ট ও উন্নত মানবিক দুমকী বিনির্মাণে গড়ার লক্ষে তরুণ প্রজন্ম সঙ্গী হতে পারলে বেকারত্ব নিরসনে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।

রবিবার ( ২ জুন) বিকালে দুমকী পায়রা অটো ব্রিকসে এক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

 

আনারস মার্কা চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেন, খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য কর্মসংস্থান এবং বেকার সমস্যা নিরসনে কাজ করতে চাই । তরুণ উদ্যোক্তা হিসাবে তরুণ প্রজন্মের জন্য কাজ করতে চাই বিশেষ করে বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। ইতোমধ্যেই আমি দুমকীতে ২টি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। নির্বাচিত হলে আরো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করে বেকার সমস্যা নিরসনে কাজ করবো ।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল সে সময়ও আমি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলাম। তার পরবর্তী সময়েও আপনাদের সাথে আমি কাঁধে কাধঁ রেখে দুমকি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়িয়েছি তাই আপনাদের অনেকের সম্মতি নিয়ে এই উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আংশগ্রহণ করেছি।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স পাশ করে এডভোকেট হয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি সেবা করার জন্য।

এডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান বলেন, আমাকে আপনারা নির্বাচিত করলে আমি আগামী ৫ বছর নয় আমার আমৃত্যু পর্যন্ত আপনাদের দুমকি উপজেলা জনগণের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করবো। অনেক প্রার্থী আছেন যারা নির্বাচনে নির্বাচিত হোক বা না হোক ভোটের পরে আর দুমকি উপজেলায় থাকবে না। এই গুলো আপনারা বিবেচনা করেই আপনাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করবেন।

আনারস মার্কা প্রার্থী মেহেদী হাসান মিজান আরও বলেন,বাংলাদেশের ১২ টি উপজেলাকে ৪ টি প্যাকেজ এ তিনটি করে নির্ধারণ করেছেন। প্রথম ধাপের প্যাকেজে এই দুমকী উপজেলা রয়েছে। এই মেগা প্রকল্পগুলো বিশেষ করে আয়তনে ছোট উপজেলা থেকে শুরু হয়। বিগত দিনেও আপনারা উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসাবে দুমকী বাংলাদেশে প্রথম শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছিল।

তিনি বলেন,আমার গ্রাম আমার শহর এই প্রকল্পে দুমকী উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন আমাদের লেবুখালী ইউনিয়নের কৃতি সন্তান পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত মো: হারুন আর রশীদ। তার কাছে আমরা দুমকীর জনগণ কৃতজ্ঞতা জানাই । তার মতো একজন দক্ষ ও মেধাবী চৌকস অফিসার আমাদের দুমকীর জনপদে ছিল বলেই এই দুমকী উপজেলাটির উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য এই প্রকল্পটি দুমকী উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

মেহেদী হাসান মিজান বলেন,এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একজন সৎ, শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্ব নির্বাচিত করে উপজেলা উন্নয়ন করার সুযোগ দিন।

ইতিমধ্যেই সৎ, শিক্ষিত ও তরুণ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করুন এই নির্বাচনীয় স্লোগান হিসাবে আনারস মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেছি। এই তিনটি গুনেরও সমন্বয়ে যে ব্যক্তি নির্বাচিত হবে তিনি এই দুমকীকে একটি আধুনিক দুমকীতে ও স্মার্ট উপজেলা হিসাবে রুপান্তরিত করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রকল্প আপনাদের দিয়েছেন সেটি বাস্তবায়নের জন্য একজন দক্ষ, সৎ, শিক্ষিত,তরুন জনসেবক দরকার। যদি আমার ভিতরে এই গুনগুলো থাকে তাহলে আগামী ৯ তারিখ আনারস মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করে সকলের সেবা করার সুযোগ দিন।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন,দুমকি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রাকিব মৃধা,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সদস্য এএইচ আর স্বাধীন, দুমকী ছাত্রলীগের সদস্য রাব্বি। এর আগে দলে দলে আনারস মার্কার সমর্থনে মিছিল নিয়ে সভায় অংশ গ্রহণ করেন।

উল্লেখ, দুমকী উপজেলা নির্বাচন গত ২৯ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ঘূর্ণিঝড় রিমাল এর ফলে স্থগিত করে আগামী ৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে।




পটুয়াখালীতে নৌ বাহিনীকে যুগপযোগী ভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে – নৌ বাহিনী প্রধান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেছেন, বাংলাদেশের উত্তরোত্তর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যুগের সাথে তাল মিলিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ স্বপ্নকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নৌ বাহিনীকে যুগপযোগী ভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমুদ্র ভিত্তিক অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। বন্ধু-প্রতিম সকল রাষ্ট্রের নৌ বাহিনীর সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করে বঙ্গোপসাগরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

১লা জুন শনিবার পটুয়াখালীর বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বি/২০২৪ ব্যাচের ৪৩৮ জন নবীন নাবিকের বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ শেষে বর্ণাঢ্য শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি স্মার্ট নৌবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে চৌকশ ও প্রশিক্ষিত নাবিকের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি আরো বলেন, নৌবাহিনীর উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে নবীন নাবিক প্রশিক্ষণ বিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞান যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদেরকে যোগ্য নাবিক হিসেবে গড়ে তুলবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও অগ্রগতির পথে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে। আজকের নবীন নাবিকেরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সুবিশাল সমুদ্রসীমা রক্ষা করবেন।

আরো পড়ুন : বাউফলে সড়কের অভাবে ৬ সেতু অকেজো

কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ শেষে তিনি কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী নবীন নাবিকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

নৌবাহিনীর বি/২০২৪ ব্যাচের নবীন নাবিকদের মধ্যে মোঃ তাহাজ্জত হোসেন তপু পেশাগত ও সকল বিষয়ে সেরা চৌকশ নাবিক হিসেবে ‘নৌপ্রধান পদক’ লাভ করেন। মোঃ ফারদিল হোসেন দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ‘কমখুল পদক’ এবং আশিফুর রহমান আসিফ তৃতীয় স্থান অধিকার করে ‘শের-ই-বাংলা পদক’ লাভ করেন।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সহকারী নৌ প্রধান (পার্সোনেল), খুলনা নৌ অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার, বরিশাল জেলার জিওসি ৭ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার এবং পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং নবীন নাবিকদের অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।




বাউফলে সড়কের অভাবে ৬ সেতু অকেজো

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে ছয়টি সেতু প্রায় ২ বছর ধরে অকেজো পড়ে আছে। নতুন নির্মিত এসব সেতুর সংযোগ সড়ক তৈরি না করায় এসব সেতুতে চলাচল করা যাচ্ছে না। যদিও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের পুরো বিল তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ।

স্থানীয়রা বলছেন, ঠিকাদার পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন প্রভাব খাটিয়ে ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজগুলো ফেলে রেখেছেন। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পাঁচটি ইউনিয়নের দেড় লাখের বেশি মানুষের।

জানা গেছে, গত ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থ বছরে এলজিইডির আওতায় নয়টি আরসিসি গার্ডার সেতুর কাজ শুরু করে ‘মেসার্স সেলি এন্টারপ্রাইজ’ নামের পটুয়াখালী ভিত্তিক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক পটুয়াখালী জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন। সেতুগুলোর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য ১৭ মিটার এবং প্রস্থ ৩ দশমিক ৭ মিটার। কার্যাদেশ অনুসারে ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল এসব সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র তিনটি সেতুর কাজ শেষ করতে পারলেও বাকি ছয়টি সেতুর সংযোগ সড়ক তৈরি করা হয়নি। ফলে সেতুগুলোতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে দীর্ঘদিন ধরে সেতুর কাজ বন্ধ রয়েছে।

সংযোগ সড়ক না থাকা ছয়টি সেতু হলো, উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের কালামিয়ার বাজার সেতু, একই ইউনিয়নের ফাঁসিকাটা সেতু, দ্বিপাশা জোড়া সেতু, কাছিপাড়া জয়বাংলা সেতু, আয়লা সেতু ও জিরোপয়েন্টের মোহাম্মাদ হাওলাদার খালের ওপর নির্মিত সেতু।

আরো পড়ুন : প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমানকে ইসির তলব

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো কোনো সেতুতে স্থানীয়রা নিজস্ব অর্থায়নে কাঠের সিঁড়ি বা মাটির সরু রাস্তা তৈরি করে পায়ে হেঁটে চলাচলের ব্যবস্থা করেছে। তবে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেতু নির্মাণ শুরুর পর থেকে গত ৪ বছরের বেশি সময় ধরে ওই অচলাবস্থা চলছে।

জিরোপয়েন্ট সেতু এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে বহুবার সাংবাদিকরা আসছে কোনো লাভ হয়নি। ঠিকাদারের লোক আসে, তাদের আমরা অনুরোধ করছি, কিন্তু শোনেন না। আমরা এখান দিয়ে একটা চিকন করে রাস্তা তৈরি করেছি চলাচলের জন্য। এখানে পড়ে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছে। এমনকি ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি আছেন একজন।’

কালামিয়া বাজার সেতু এলাকার ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন বলেন, ‘সেতুটি গত ৩-৪ বছর ধরে এভাবে পড়ে আছে। দোকানের মালামাল নিয়ে সেতু পার হতে পারি না। গাড়ি রেখে মাথায় করে দোকানে মাল নিতে হয়।’

এদিকে এই নয় সেতুর বাইরে জয়বাংলা বাজার-কাপঢাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংযোগ সড়কের মিয়ার খালের ওপর নির্মিত আরেকটি সেতুরও সংযোগ সড়কও তৈরি করা হয়নি। মেসার্স শম্পা কনস্ট্রাকশন (জেবি) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের করা এ সেতুটিও ব্যবহার হচ্ছে না।

সেতুর কাজ সম্পর্কিত কোনো তথ্য দিতে এলজিইডি কর্মকর্তা কর্মচারীরা সব সময় গড়িমসি করেন। এসব সেতুর বিল কী পরিমাণ উত্তোলন করা হয়েছে জানতে চাইলে সে তথ্য দেননি সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্মকর্তারা।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কাজের বিল উত্তোলন করা হয়েছে বহু আগেই।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেলি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শুরু করব।’

২ বছর আগেও আপনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন দ্রুতই কাজ শেষ করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এবার আর দেরি হবে না।’

বাউফল উপজেলা প্রকৌশলী মো. মানিক হোসেন বলেন, ‘আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সেলি এন্টারপ্রাইজকে চলতি বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছি। আশা করি তারা কাজ শেষ করবে।’

জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. লতিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা ওই ঠিকাদারকে জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছি। ওই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করলে কর্যাদেশ বাতিল করে লাইসেন্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।




ঘূনিঝড় রিমালের এর তান্ডবে বরিশালে কোষ্টাল সার্কেলের ক্ষতি ৩২৫ কোটি টাকা

বরিশাল অফিস :: ঘূনিঝড় রেমালের প্রভাবে বরিশাল কোষ্টাল সার্কেলের আওতায় বন বিভাগের বনজ সম্পদ ও ভৌত অবকাঠামোর ৩২৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বরিশাল কোষ্টাল সার্কেলের বন সংরক্ষক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

ঘূর্নিঝড় রিমাল দীর্ঘ সময় প্রভাব বিস্তারে কারনে গাছপালার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানিয়ে বরিশাল আবহাওয়া অফিস সুত্রে জানা গেছে, সিডরসহ অন্যান্য ঘূর্নিঝড়ের মতো দেড় দুই ঘন্টা অবস্থান করলে এত ক্ষতি হতো না। সিডরের মতো বাতাসের গতিবেগ ছিলো না। কিন্তু ৯০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার গতিবেগ নিয়ে রেমাল ৪০ ঘন্টা একই স্থানে ঘূনায়মান ঝড়ো ও দমকা বাতাস বইছে। সাথে বৃষ্টি হওয়ায় গাছের গোড়া নরম হয়ে গাছ-পালা উপরে পড়েছে।

বরিশাল কোষ্টাল সার্কেলের বন সংরক্ষক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, বরিশাল কোষ্টাল সার্কেলের আওতায় বরিশাল, ঝালকাঠি, ভোলা, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ নোয়াখালী এবং লক্ষীপুর জেলা রয়েছে। এর মধ্যে ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী ও লক্ষীপুরে উপকুলীয় বন এবং বরিশাল ও ঝালকাঠিতে সামাজিক বন রয়েছে।

বরিশাল, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, নোয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলায় বিভিন্ন বন বিভাগের ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৮১ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগান, ৩ হাজার ৫৭৮ হেক্টর ও ১২৬১.৫০ সিকিমি গোলপাতা বাগান, ১৫ হাজার ২৪০ সিকিমি স্ট্রীপ বাগান, ২৮ হেক্টর নন-ম্যানগ্রোভ বাগান, ১৩ হেক্টর বাঁশ বাগান, ৩৫ হেক্টর বেঁত বাগান রয়েছে।

ম্যানগ্রোভ বাগানে কেওড়া, গেওয়া, বাইন, গোলপাতা, সুন্দরী, ধুন্দল, যানা, ক্রিপা, পশুর গাছ। নন-ম্যানগ্রোভ বাগানে রেইন্ট্রি, করাই, রাজ-করাই (চাম্বল), আকাশ মণি, খেয়া বাবলা, মেহগিনি, ঝাউ, নীম, অর্জুন, হরতকি, বহেরা, আমলকী, কাঁঠাল, পেয়ারা, নারিকেল, জাম, তেতুল, নীম গাছ রয়েছে।

বন সংরক্ষক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, রেমালের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ গাছের স্থলে নতুন গাছ রোপন করতে হবে। যে পরিমান গাছ ভেঙ্গে পড়েছে, সেই সকল গাছ সংগ্রহ করতে যা ব্যয় হবে। সেই ব্যয় উঠে আসবে না। তাই ওইসব যেখানে রয়েছে, সেখানে থাকবে। সেগুলো মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করবে ও নতুন কোন প্রজাতির সৃষ্টি করবে।

তিনি জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে নোয়াখালী জেলায়। এ জেলায় ১৫৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সৃজিত বন বাগানের ক্ষতি হয়েছে ১৫২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। প্রাকৃতিক বনের ক্ষতি হয়েছে ৫ কোটি টাকার ও নার্সারী চারার ক্ষতি হয়েছে ৪৫ লাখ টাকা।লক্ষীপুর জেলায় সৃজিত বনের ক্ষতি হয়েছে ৫ লাখ টাকা।

পটুয়াখালী জেলায় ক্ষতি হয়েছে ৭৯ কোটি ২০ লাখ টাকার। এর মধ্যে প্রাকৃতিক বনের ক্ষতি হয়েছে ৫ কোটি টাকা, সৃজিত বনের ৫৩ কোটি ৪০ লাখ, নার্সারী চারার ক্ষতি হয়েছে ১৪ কোটি ৫০ লাখ। এছাড়া অফিস ভবন, যানবাহন ও জলযান, রাস্তা এবং অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার।

বরগুনা জেলায় ক্ষতি হয়েছে ৩১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রাকৃতিক বনভুমির ক্ষতি হয়েছে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সৃজিত বন বাগানের ১৫ কোটি ২০ লাখ, নার্সারী চারার ক্ষতি হয়েছে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এছাড়া অফিস ভবন, যানবাহন ও জলযান, রাস্তা এবং অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার। ভোলা জেলায় ক্ষতি হয়েছে ৫৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রাকৃতিক বনভুমির ক্ষতি হয়েছে ১৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা, সৃজিত বন বাগানের ৩০ কোটি ৭০ লাখ, নার্সারী চারার ক্ষতি হয়েছে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। মনপুর রেঞ্জ অফিস ও বাসভবন, পচা কোড়ালিয়া বিট অফিস ভবন, ঢালচর সদর বিটের অস্থায়ী ক্যাম্প, ঢালচর অস্থায়ী ক্যাম্পের সোলার প্যানেল, কালকিনি বিট অফিস, ভোলা সদর রেঞ্জের বিদ্যুত লাইন, পচাকোড়ালিয়া বিটের একটি ট্রলারের ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার।

বরিশাল জেলায় ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার। এর মধ্যে সৃজিত বনের এক কোটি টাকা, নার্সারী চারার ৪৫ লাখ টাকা ও অবকাঠামোর ৫ লাখ টাকা। ঝালকাঠি জেলায় ১ কোটি ২৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সৃজিত বনের ক্ষতি হয়েছে ৮৫ লাখ টাকার, নার্সারী চারার ৪০ লাখ ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে ৪ লাখ টাকার।




প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমানকে ইসির তলব

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমানকে তলব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শুক্রবার (৩১ মে) ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোহম্মদ শাহজালাল প্রতিমন্ত্রীকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, আপনি ৩১ মে পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোট বাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়াঘাট নামক স্থানে ও চালতাবুনিয়া ইউনিয়নের চালতাবুনিয়া বাজারে ত্রাণ বিতরণকালে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের চতুর্থ ধাপে আগামী ৫ জুন অনুষ্ঠেয় রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মু. সাইদুজ্জামান মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রওশন মৃধা ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বেগম ফেরদৌসী পারভীনের পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, যা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

আরো পড়ুন : দুর্গত রাঙ্গাবালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ গুলো পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করে- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধি ২২ অনুসারে একজন সরকারী সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে আপনার উল্লিখিত প্রচারণা বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ আচরণবিধি লঙ্ঘন।

উল্লিখিত আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আপনাকে দোষী সাব্যস্ত করে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ২ জুন, ২০২৪ তারিখ বিকেল ৩টায় নির্বাচন কমিশনে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে আপনাকে উল্লিখিত তারিখ ও সময়ে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এদিকে পৃথক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদেরও তলব করেছে ইসি। এক্ষেত্রে একইদিন বিকেল ৪টায় তাদের ইসিতে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।