পিরোজপুরে বাসচাপায় নিহত ১, আহত ৩

বরিশাল অফিস :: বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের পিরোজপুরে যাত্রীবাহী বাসচাপায় মো. আনসার মোল্লা (৬০) নামে অটোরিকশার এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ সময় ওই অটোর ৩ যাত্রী আহত হন। আহতদের ২ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১২ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের পিরোজপুরের পৌর গোরস্থান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. আনসার মোল্লা পিরোজপুর সদরের খলিশাখালী এলাকার বাসিন্দা। আর আহতদের মধ্যে রোকসানা (৪০) ও আলামিনের (৩৪) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের পিরোজপুর পৌর গোরস্থানের সামনে থেকে পালকি পরিবহনের একটি বাস বেকুটিয়ার দিকে যাচ্ছিল।

এ সময় হুলারহাট থেকে একটি অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে পিরোজপুরের দিকে আসছিলো। গোরস্থানের সামনে এলে বাসটি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ওই রিক্সার ৪ যাত্রী মারাত্মক আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে মো. আনসার মোল্লা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আহতদের মধ্যে রোকসানা ও আলামিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যজন পিরোজপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, বাসটিকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।




বরিশালে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত খামারিরা

বরিশাল অফিস :: কোরবানি ঈদ সামনে রেখে শেষে মুহূর্তে বরিশালে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা।

তবে, গো খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার কোরবানির পশুর দাম কিছুটা চড়া থাকবে বলে জানান খামারিরা। ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র ১০ দিন। বাসা বাড়ি ও খামারে লালনপালন করা কোরবানির পশুর বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন খামারিরা। বরিশালে খামারিরা গরু মোটাতাজাকরণের জন্য খাওয়াচ্ছেন ঘাস, ভুট্টা, খৈল, ভুসিসহ পুষ্টিকর সব খাবার।

এছাড়া এমইপি ফার্মে দেশি, দেশাল, আরসিসি, হাসা, শাহীওয়াল জাতের ২২০টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে কোরবানি ঈদে বিক্রির উদ্দেশ্যে। এক একটি গরুর ওজন আড়াইশো থেকে ৭শ’ কেজি পর্যন্ত। ঈদুল আজহায় দেশি গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে।

ইতিমধ্যে বেশিরভাগ খামারের অধিকাংশ গরু বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। সপ্তাহ খানেক পর এসব গরু বিক্রির উদ্দেশ্যে হাটে তোলা হবে। তবে গবাদি পশুর খাদ্যের দাম যেভাবে বেড়েছে সে তুলনায় কোরবানির পশুর দাম এ বছরও চড়া থাকবে বলে জানান খামারিরা।

খামারের শ্রমিকরা জানিয়েছেন, দেশীয় পদ্ধতির খাবার খাইয়ে গবাদিপশু মোটাতাজা করছেন তারা।

বরিশাল এমইপিএগ্রোর ম্যানেজার রাফিউর রহমান ওমি জানান, কোরবানির জন্য তাদের খামারে প্রস্তুত রয়েছ ২২০টি গরু। মোটাতাজা করতে দেশীয় পদ্ধতির খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে তাদের খামারের অর্ধেক গরুই বিক্রি হয়েছে।

বরিশাল জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে কর্মকর্তা নুরুল আলম জানিয়েছেন, বরিশাল জেলায় চাহিদার চেয়েও এবছর কোরবানির পশু অতিরিক্ত আছে। খামারিদের মোটাতাজাকরণের জন্য দেওয়া হয়েছে নানা পরামর্শ। যাতে কোন অসাধুব্যাক্তি গরু ইস্টু বিষ্টু কারণে রাসায়নিক ব্যবহার করতে না পারে সেদিকে আমাদের লক্ষ রয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির পশুর হাটে ৩৪টি ভেটেরিনারি টিম প্রস্তুত রেখেছি। তারা গবাদি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় পদ্ধতির বাইরে এবার জেলায় কেউ গবাদিপশু মোটাতাজা করছে না। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠ পর্যায়ে দেখভাল করছে।

বরিশাল জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় চলতি বছর কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪৭টি পশু। কিন্তু প্রস্তুত রয়েছে ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৫৫৭টি। এরমধ্যে গরু ষাঁড়, বলদ, গাভি মিলে রয়েছে ৯১ হাজার ১৮৭টি, মহিষ রয়েছে ৬৬১টি ও ছাগল রয়েছে ২২ হাজার ৫৯০টি, ভেড়া ৭৪টি, অন্যান্য ৪৫টি।




মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ : প্রধানমন্ত্রী




কী ঘটবে লালমোহন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে?

বরিশাল অফিস :: ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে স্থগিত হওয়া তৃতীয় ধাপের ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল (৯জুন)। নির্বাচনকে ঘিরে পৌরশহর থেকে শুরু করে গ্রামের ভোটারদের মধ্যে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। নতুন করে ‘কারা বসবেন লালমোহন উপজেলা পরিষদে, নির্বাচনে ঘটবে কী’ এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে। অনেক প্রার্থী আবার কাজে লাগাতে চান নিজ নিজ এলাকার ভোট ব্যাংক।

বর্তমানে লালমোহন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৭জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াসউদ্দিন আহমেদ। তিনি এরআগেও দুই বার টানা লালমোহন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী হন।

অন্যদিকে শালিক প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ভোলার দুই এমপির খুবই কাছের আত্মীয় মো. আকতার হোসেন। তিনি লালমোহন উপজেলার কালমা ইউপির একাধিকবারের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তার পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। যার ফলে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন তিনি ও তার সমর্থকরা। আকতার হোসেন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইউপি চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

এছাড়া দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির (একাংশের) সাবেক সদস্য সচিব মো. আকতারুজ্জামান টিটব। যদিও এ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন। আকতারুজ্জামান টিটবও উপজেলার চরভূতা ইউপির একাধিকবারের চেয়ারম্যান ছিলেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি ওই ইউপির চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে অন্যান্য প্রার্থীদের কাছে এই আকতারুজ্জামান টিটব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। কারণ লালমোহন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি একাই বিএনপিপন্থি চেয়ারম্যান প্রার্থী।

অপরদিকে হেলিকপ্টার প্রতীকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হোসেন হাওলাদার। তিনিও ছিলেন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।

এই নির্বাচনে একেবারেই নতুন চেয়ারম্যান প্রার্থী লায়ন আবুল হাসানাত হাসনাইন। তিনি লড়ছেন কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে। তারুণ্যকে কাজে লাগিয়ে জয়ী হতে চান তিনি। আবুল হাসানাত হাসনাইন অনলাইন লিগ্যাল সার্ভিস বিডির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বে রয়েছেন। চিংড়ি মাছ প্রতীক নিয়ে মাঠে লড়ছেন একেএম বাহারুল ইসলাম। তিনি লালমোহন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান একেএম নজরুল ইসলামের ভাই। এছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নজরুল ইসলাম লাভু। তিনি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির দুইবারের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে চমক আছে ভাইস চেয়ারম্যান পদে। এই পদে লড়ছেন মোট চারজন প্রার্থী। যাদের মধ্যে রয়েছেন, বর্তমান উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আবুল হাসান রিমন। তিনি এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চশমা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া নতুন করে এবার তালা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. জাকির হোসেন। বই প্রতীক নিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন আ.ন.ম. শাহ্ জামাল দুলাল এবং টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন মো. জাকির হোসেন। তবে ভাইস চেয়ারম্যান পদে চার প্রার্থী থাকলেও সাধারণ মানুষজন মনে করছেন, তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে চশমা প্রতীকের প্রার্থী আবুল হাসান রিমন ও তালা প্রতীকের প্রার্থী মো. জাকির হোসেনের মধ্যে।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুইজন। এদের মধ্যে হাঁস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন বর্তমান উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোসা. মাসুমা বেগম। এছাড়াও এই পদে কলস প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন বাংলাদেশ আওয়ামী মহিলা লীগের উপজেলার নেত্রী রোকেয়া বেগম।

এদিকে উপজেলার ভোটাররা বলছেন, এলাকার উন্নয়নে যারা কাজ করবে এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত থাকবেন তাদেরকেই নির্বাচনে ভোট দিয়ে জয়ী করবেন।

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, অবাধ সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা লালমোহনবাসীকে একটি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেবো।
প্রসঙ্গত, একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত লালমোহন উপজেলা। এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬১ হাজার ৮৪৭জন। এরমধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৩জন এবং পুরুষ ভোটার ১লাখ ৩৫ হাজার ৩৭১জন। এছাড়া এই উপজেলায় তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩জন। এসব ভোটাররা উপজেলার ৮৩টি কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।




১৩ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দেশের ১৩টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই সেসব এলাকার নদীবন্দরে সতর্কতা সংকেত তোলা হয়েছে।

শুক্রবার (০৭ জুন) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

তাই সেসব এলাকার নদীবন্দরগুলোয় তোলা হয়েছে এক নম্বর সতর্কতা সংকেত।
অন্য এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।

মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

শনিবার (০৮ জুন) সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়; রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেইসঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের বা ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা সামান্য বাড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তিভাব বিরাজ করতে পারে।

এদিকে খুলনা ও বরিশাল বিভাগসহ টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম ও চাঁদপুর জেলাসমূহের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

রোববার (০৯ জুন) সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়; রংপুর, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের বা ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তিভাব বিরাজ করতে পারে। চলমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

সোমবার (১০ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের বা ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তিভাব বিরাজ করতে পারে।

বর্ধিত পাঁচ দিনের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।

শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে ৫৪ মিলিমিটার।




আমার ইউনুস কোতায় আচে, কেমন আচে, বাড়িত আইবে কবে- সাগরে নিখোঁজ ইউনুসের মা

বরিশাল অফিস :: ‘আমার কোনো সম্পদ লাগবে না, আমার কইজ্জার (কলিজা) ধন পোলাডা ফেরত আইলেই হইবো’- বলতে বলতেই হাউমাউ করে অঝোরে কাঁদলেন তারাবানু। বাড়িতে কোনো অচেনা মানুষ এলেই মনে করেন তার ছেলের সন্ধান নিয়ে এসেছেন। ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরে জানতে চান, ‘আমার ইউনুস কোতায় আচে, কেমন আচে ইউনুস, বাড়িত আইবে কবে?’

শুধু বাড়িতেই নয়, জেলা শহরের যতগুলো সরকারি অফিস রয়েছে ছেলের ছবি নিয়ে সবখানে ধরনা দিচ্ছেন নিয়ম করে। প্রতিবেশী যারা আছেন তাদের কাছে সব সময় ছেলে ইউনুসের গল্পই বলেন।

বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের মঠখালী গ্রামের বাসিন্দা তারাবানু। জীর্ণ সংসারের একমাত্র উপার্জনের উৎস ছিল ছেলে ইউনুস। মৌসুমে বড় ট্রলারে মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে পারি দিতে হতো। মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে বেড়িয়েছিলেন ইউনুস। ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় মিধিলি আঘাত হানার পর মঠখালী গ্রামের যে চারজন জেলে আজও বাড়ি ফেরেনি তাদের মধ্যে একজন ইউনুস। দিন যত যাচ্ছে ছেলে ফিরে না আসার দুশ্চিন্তায় ততই অস্বাভাবিক হয়ে উঠছেন ষাটোর্ধ্ব এই বৃদ্ধা।

শুধু বরগুনার ইউনুসই নন, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালীর নদী তীরের গ্রাম ঘুরলে এমন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা অজস্র শোনা যায়। মাছ ধরতে বেড়িয়ে নিখোঁজ বা মারা যাওয়াকে স্থানীয়রা বলেন ‘সাগরে খাইছে’। কেউ সন্তানের জন্য অপেক্ষা করছেন, কেউ বাবার জন্য বা কেউবা স্বামীর জন্য। তারাবানু যেমন জানেন না তার অপেক্ষা আর কোনো দিন ফুরাবে কিনা, তেমনি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর অপেক্ষার রক্তক্ষরণ দক্ষিণাঞ্চলের চরের নিখোঁজদের পরিবারের। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি হারিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে শুধু একটি নিখোঁজ সংবাদই আসে না পাশাপাশি কয়েকটি পরিবার অচল হয়ে পড়ে। ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় সন্তানদের জীবন।

এদিকে সাগরে গিয়ে নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন আছে পরিবারবগুলোর।

ভোলার মনপুরা উপজেলার ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের আব্দুল মোতালেবের ছেলে সুমন সাগর থেকে ফেরেনি আট মাসেও। শুধু সুমন নয়, মনপুরার ২০ জেলের সন্ধান মেলেনি আজও।

সুমনের বাবা আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘আমাগো গেরামে গরু চুরি হইছিল। গরু চুরির কেচ্চা উদ্ঘাটনে তিন দফায় পুলিশ আইছিল যে। আমার পোলা গ্যালো, ট্রলারশুদ্ধ কুঁড়িডা মানুষ নিখোঁজ। একফিরও পুলিশ-প্রশাসন আমগো খোঁজ নিল না। আমগো জীবনের মূল্য কি গরুর চাইতেও কম?’

২০২৩ সালের অক্টোবরে আবহাওয়া অফিস পূর্বাভাস দিচ্ছিল ঘূর্ণিঝড় হামুনের। কিন্তু দক্ষিণ সাকুচিয়ার সমুদ্রগামী ট্রলার রিনা-১ এর মালিক আক্তার মাঝি তার ২০ মাঝিকে জোর করেই ২৩ অক্টোবর সাগরে পাঠান। পরের দিন ২৪ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় হামুন আঘাত হানার পর থেকেই রিনা-১ ট্রলারের সবাই নিখোঁজ।

স্বজনরা বলছেন, জেলেরা সংকেত নামার পর যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আক্তার মাঝি প্রশাসন ম্যানেজ করে ট্রলার নিয়ে সাগরে যেতে বাধ্য করেন জেলেদের। ২৪ অক্টোবর সাগরে থাকা এসব জেলেদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা আর জানা সম্ভব হয়নি। তারা জীবিত না মৃত তাও এখনো জানতে পারেননি স্বজনরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপার্জনক্ষম এসব জেলেরা ফিরে না আসায় দিশাহারা অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন পরিবারের লোকজন।
এক কাপড়ে বাঁইচ্যা আছি, পোলাডা কান্দে ভাতের জন্যউড়ে যাওয়া ঘরের চালা খুঁজে ফিরছেন তারা কবে আবার ক্লাসে ফিরতে পারবে জানে না ঢালচরের ১২শ শিক্ষার্থী
ঢালচরবাসীর ভরসা ‘হাতুড়ে চিকিৎসা’
নিখোঁজ আলাউদ্দিন মাঝির স্ত্রী পারভিন বেগম বলেন, ‘সংসারে সাত মুখ। রোজগারের লোক আছিলেন উনি (আলাউদ্দিন)। সাগরে খাওয়ার পরে আমাগো ঘরে ঠিকমতন চুলা জ্বলে না। অভাব অনটনে কী কষ্টে আছি তা কইতে পারমু না। মহিলা মানুষ হইয়্যা ক্যামনে সংসার চালামু জানি না, সংসারে যে ট্যাকা দিতো হেইতো ফিররা আইলো না।’

দক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ কাজল বলেন, নিখোঁজ জেলেদের সন্ধান পেতে এখনো প্রচেষ্টা চলছে। পরিবারগুলো যেন চলতে পারে সেজন্য ট্রলার মালিকের পক্ষ থেকে ৬০ হাজার করে ১২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। ঝড়ের কবলে পরে নিখোঁজ জেলেরা ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কায় আশ্রয় নিয়েছে কিনা তা জানার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে দূতাবাসগুলোতে যোগোযোগ করা হয়েছে।

সরকারি প্রতিবেদন যা বলছে ::

ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূল বিশেষ করে নদী তীরবর্তী চরের বাসিন্দারা মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকেন। তেমনি নদী বা সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরাও মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করেন। বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, প্রতি বছরই ঝড় জলোচ্ছ্বাসে নির্দেশনা অমান্য করে বহু জেলে নিখোঁজ ও প্রাণহানির শিকার হন।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এই সাত বছরে ২৫৯ জেলে নিহত হয়েছেন। এছাড়া ১৭২ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। যাদের কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, যাদের মরদেহ পাওয়া যায় তাদের নিহতের তালিকাভুক্ত করা হয়। আর যাদের মরদেহ পাওয়া যায়নি তাদের নিখোঁজ তালিকাভুক্ত করা হয়। সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছে ২০১৬ সালে ৭৭ জন। নিখোঁজ হয়েছেন ২০১৮ সালে ৬২ জন।

তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালে ১২ জন, ২০১৮ সালে ১৮ জন, ২০১৯ সালে ৩৮ জন, ২০২০ সালে ৫৭ জন, ২০২১ সালে ৩৯ জন ও ২০২২ সালে ১৮ জন নিহত হয়েছেন।

নিখোঁজ হয়েছেন- ২০১৬ সালে ১০ জন, ২০১৭ সালে ৭ জন, ২০১৯ সালে ২২ জন, ২০২০ সালে ১৩ জন, ২০২১ সালে ১১ জন ও ২০২২ সালে ৪৭ জন।

এই সাত বছরে ৬০৯টি নৌ দুর্ঘটনায় এসব মানুষ নিখোঁজ ও নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১ হাজার ১০৬ জন।

মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, ২০২৪ সালে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় রেমালের সময়ে সাগরে মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছিল। আমাদের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে জেলেরা নদী কিংবা সাগরে নামতে না পারায় প্রাণহানি ঘটেনি। ২০২৩ সালের প্রতিবেদনেও নৌ দুর্ঘটনার তথ্য নেই। মূলত সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে মাছ ধরতে গেলে অনেকেই দুর্ঘটনায় পতিত হন।




১৫ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

বরিশাল অফিস :: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ১৫ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এতে বলা হয়, আগামী ১১ থেকে ২৫ জুন একাডেমিক ও ১২ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত অফিস কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ঈদুল আজহার ছুটির পর একাডেমিক ও অফিস কার্যক্রম সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন সিকিউরিটিসহ অন্যান্য জরুরি সেবা চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে।




গৌরনদীর ৩৮টি ভোট কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ

বরিশাল অফিস :: ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে স্থগিত হওয়া জেলার গৌরনদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে কাল রবিবার (৯ জুন)। ওই উপজেলার একটি পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিয়নের ৩৮টি ভোট কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন করেছেন একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী।

শুক্রবার দুপুরে ওই উপজেলার কাপ-পিরিচ মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মনির হোসেনের দায়ের করা আবেদনে জানা গেছে, উপজেলার সর্বমোট ৬৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টি ভোট কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ওইসব কেন্দ্রগুলো প্রতিদ্বন্ধী মোটরসাইকেল মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে দখল করার নানা ষড়যন্ত্র করে আসছে।

তাই ভোটগ্রহণের দিন অন্যান্য কেন্দ্রের পাশাপাশি
অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রে স্থায়ীভাবে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের দাবি করা হয়।

চেয়ারম্যান প্রার্থী মনির হোসেনের আবেদনে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রের তালিকার মধ্যে রয়েছে-পৌর এলাকায় ছয়টি, খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে ছয়টি, বার্থী ইউনিয়নে ছয়টি, চাঁদশী ইউনিয়নে দুইটি, মাহিলাড়া ইউনিয়নে একটি, বাটাজোর ইউনিয়নে চারটি, নলচিড়া ইউনিয়নে সাতটি ও সরিকল ইউনিয়নে ছয়টি ভোট কেন্দ্র।

উল্লেখ্য, গৌরনদী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দুইজন, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুইজন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। নির্বাচন শুরুর প্রাক্কালে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ওইসময় একজন ইউপি চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করা হয়। পরবর্তীতে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া প্রায় প্রতিদিন এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে অপর প্রার্থীর কর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যেকারণে নির্বাচনের শুরু থেকে অদ্যবর্ধি দেশব্যাপী আলোচিত গৌরনদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।




নিখোঁজ হাফেজ তাজিনের ৫০ দিনেও সন্ধান মেলেনি

*পাচারের আশঙ্কা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীর সিএন্ডবি রোডের কাজিপাড়া এলাকা থেকে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজের ৫০ দিন পরেও হাফেজ তাজিন মোহাম্মদ মুস্তাকিমের সন্ধান মেলেনি। ছেলের সন্ধান না পেয়ে তার মা এখন পাগল প্রায়।

শিশু হাফেজকে অপহরন করা হয়েছে নাকি পাচারকারী চক্রের সদস্যরা তুলে নিয়েছে এমনই শঙ্কা বিরাজ করছে নিখোঁজ তাজিনের মা সাহিদা আরবীর কাছে। ছেলের সন্ধান পেতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাজিনের মা।

শুক্রবার দুপুরে নিখোঁজ তাজিনের মা জানান, গত ২০ এপ্রিল সকাল নয়টার দিকে নগরীর কাজিপাড়ার বাসা থেকে পাশ্ববর্তী দোকানে ডিম ক্রয় করতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় হাফেজ তাজিন মোহাম্মদ মুস্তাকিম। পরবর্তীতে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও তাজিনের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় গত ২৪ মে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (যার নম্বর ১৪৬৫) করা হয়েছে।

 




গৌরনদী আগৈলঝারা উপজেলা নির্বাচন ৯ জুন: দুই উপজেলায় নতুন মুখ মনির আর যতীন

বরিশাল অফিস :: বরিশালের অন্যতম দুটি উপজেলা গৌরনদী ও আগৈলঝারার নির্বাচন ৯ জুন। এই দুই উপজেলার ৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘুরে বেড়াচ্ছেন ১২টি ইউনিয়নের ৯৬টি গ্রামে। পুরাতন নয়, নতুনের জয়জয়কার এখানে এবার। তাই আলোচনায় উঠে এসেছেন গৌরনদীর মনির হোসেন এবং আগৈলঝারর যতীন্দ্র নাথ মিস্ত্রী।

যতীন,উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী
যতীন্দ্র নাথ মিস্ত্রী,উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী।

 

দুই উপজেলায় সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে চায় নির্বাচন কমিশন। এ জন্য সবরকমের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে বরিশালের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়। ৮ জুন সকাল এগারোটা থেকে দুই উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা ভোটের ব্যালট পেপারসহ আনুষঙ্গিক উপকরণ বিতরণ শুরু করবে বলে জানালেন নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান মুন্সি।

তিনি বলেন, গত ২৯ মে তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচন ছিলো এটি। ঘূর্ণিঝড় রেমাল এর কারণে এই নির্বাচন পিছিয়ে ৯ জুন করা হয়েছে। গৌরনদী ও আগৈলঝারায় ১২৯টি ভোট কেন্দ্রে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান বরিশালের এই নির্বাচন কর্মকর্তা।

বরিশাল গৌরনদী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী অফিসার সাইফুর রহমান এবং আগৈলঝারা নির্বাচন কর্মকর্তা সহকারী অফিসার বাসুদেব সরকারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দুই উপজেলার গৌরনদীতে সাতটি ইউনিয়নে মোট ভোটার এক লাখ ৭৩ হাজার ৫৪৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮৮ হাজার ৮৯৪ জন আর নারী ভোটার ৮৬ হাজার ৭৫ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৬৯টি। আর আগৈলঝারার ৫টি ইউনিয়নের মোট ভোটার এক লাখ ৩৪ হাজার ১৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৭ হাজার ৬৫৮ জন আর নারী ভোটার ৬৬ হাজার ৪৭৫ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ৬০টি।

তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচনে গৌরনদী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় পুরোটাই মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী সাবেক পৌরমেয়র হারিছুর রহমানকে ঘীরে। এখানে তাকে ঠেকাতে একাট্টা আনারস প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী এবং কাপ-পিরিচ প্রতীকের মনির হোসেন। তাই ব্যতিক্রমী প্রচার প্রচারণা গৌরনদী উপজেলায়। দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী মনির ও মেরী একসাথে প্রচারণার মাঠে সম্ভবত এটাই প্রথম উদাহরণ বরিশাল অঞ্চল তথা বাংলাদেশেও।

অন্যদিকে বরিশালের আগৈলঝারা উপজেলা পরিষদকে ঘীরে দু’জন প্রার্থীর সরব উপস্থিতি সর্বত্র। এদের একজন আনারস প্রতীকের রইস সেরনিয়াবাত। তিনি গত দুই বারের উপজেলা চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অন্যজন দোয়াতকলম প্রতীকের প্রার্থী যতীন্দ্র নাথ মিস্ত্রী। আগৈলঝারা ৫ ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষের মুখেই এবার এই সাদামাটা মানুষটির নাম। গৈলা বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, তিনি দোয়াতকলম প্রতীকের লিফলেট নিয়ে একাই বের হয়ে যান। মানুষ তখন তাকে সঙ্গ দিতে সেচ্ছায় তার পিছু নেয়। এ সম্পর্কে যতীন্দ্র নাথ মিস্ত্রি বলেন, বিগত সময়ের অন্যায় অনাচারের বিরুদ্ধে মানুষ সোচ্চার হয়েছে। সবাই পরিবর্তন চায়। সবাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা দেখতে চায়। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের লোকেরা আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকী ধামকী দিচ্ছেন। আমার প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করছেন। এ থেকেই বোঝা যায় তারা আমার জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে গেছেন বলে জানান যতীন্দ্রনাথ মিস্ত্রি।

তবে প্রচার প্রচারণা ও ক্যাম্পিং করে ক্লান্ত রইস সেরনিয়াবাত বললেন, আমার কাউকে বাধা বা হুমকি দেয়ার কোনো প্রয়োজন আছে কিনা তা আপনারাই মাঠ ঘুরে বলুন। ভোটের পরপরই বোঝা যাবে কার জনপ্রিয়তা বেশি, মানুষ কাকে চায়।

বরিশাল আগৈলঝারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে পুরুষ পাঁচজন এবং মহিলা চারজনসহ মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর গৌরনদী উপজেলায় পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ২ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে জানা গেছে।