বরিশালে নিখোঁজের একদিন পর লাশ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: নিখোঁজের একদিন পর শুক্রবার  পুকুর থেকে রাজমিস্ত্রি আলমগীর হোসেন সরদারের (৪৭) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের স্ত্রী শেফালী বেগমের অভিযোগ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরধরে তার (শেফালী) আপন দেবর পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। ঘটনাটি জেলার গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধুনা গ্রামের।

নিহত আলমগীর ওই গ্রামের মৃত আলী হোসেন সরদারের ছেলে। পুলিশ নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছেন।

শেফালী বেগম অভিযোগ করে বলেন, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে আমার আপন দেবর সাহাবুদ্দিন সরদারের সাথে আমাদের চরম বিরোধ চলে আসছে। এনিয়ে একাধিকবার আমার স্বামীকে হত্যার হমকি দেওয়া হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিকেলে আমার স্বামীর সাথে তুমুল বাগ্বিতন্ডায় জড়িয়ে পরে সাহাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী ঝুমুর বেগম। ওইসময় আমার স্বামীকে হত্যা না করে ঘরে ফিরবেনা বলে সাহাবুদ্দিন হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়।

শেফালী বেগম আরও বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আমার স্বামী পাশ্ববর্তী চন্দ্রহার বাজার থেকে বাড়িতে না ফেরায় বিভিন্নস্থানে খোজাখুজি করেও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সকালে প্রতিবেশী বাচ্চু সরদার তাদের পুকুরের মধ্যে লাশ ভাসতে দেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়। শেফালী বেগমের অভিযোগ, তার স্বামীকে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলা হয়েছে।

বরিশাল গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 




বরিশাল সিটি মেয়রের জয়ের একবছর : জোয়ার এসেছে খালে: হাসতে শিখেছে মানুষ

বরিশাল অফিস :: ‘নতুন বরিশাল গড়ার অঙ্গিকার জয় হোক শেখ হাসিনার’ এই শ্লোগান নিয়ে বরিশালের মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত বলেছেন, আমাকে কাজ করতে দেন, আগামী ৪ বছরের মধ্যে এই বরিশাল প্রকৃত রূপসী বাংলায় পরিনত হবে। বাণিজ্যিক নগরী হবে বরিশাল।

১২ জুন বুধবার নির্বাচনে জয়ী হবার একবছর পূর্তি উপলক্ষ্যে কাউন্সিলের শুভেচ্ছা গ্রহণকালে মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত আরো বলেন, নগরীর কাউন্সিলররা হচ্ছেন আমার হাত।

আপনারা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করলে জনগণ আমাদের উপর আস্থাশীল হবেন। মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহর জয়ী হবার পরপরই বরিশালে চিত্র বদলে যেতে শুরু করে। ১৪ নভেম্বর ২০২৩ আনুষ্ঠানিক ভাবে বরিশাল সিটি করপোরেশন বসিকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তিনি খাল পুনরুদ্ধার ও নগরীর ড্রেনগুলো আধুনকায়নের জন্য ৭৯৭ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করিয়ে এনেছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে । এই প্রকল্পের মধ্যে ২৬৮ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ এই মুহূর্তে চলমান রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ২৫০ কিলোমিটার রাস্তার কার্পেটিং, ৪৩ কিলোমিটার আরসিসি রাস্তা, ৫০ কিলোমিটার সিসি রাস্তা, ১০০ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন নির্মান, ৯০৪৫ বর্গমিটার আরসিসি চত্বর, নগরের ২১টি রাস্তার মোড়ের সৌন্দর্য বর্ধন, নগরীতে ৪টি ভাস্কর্য নির্মাণ ও নির্মাণ সহায়ক যানবাহন ক্রয়।


এছাড়াও সাড়ে ৩৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প জমা দিয়েছেন তিনি যা এই মুহূর্তে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এরমধ্যে আছে ৯২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর খাল খনন ও খালের দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মানসহ নান্দনিক সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ। একই সাথে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ২২শ কোটি টাকার আরো একটি সনন্বিত প্রকল্প। এরমধ্যে রয়েছে ফুটওভার ব্রিজসহ নগরীর রাস্তা, ড্রেন বিদ্যুৎ খাল ও পানি সরবরাহের অত্যাধুনিককরনের কাজ। এছাড়া অন্য একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় করে নির্মাণ করা হবে নতুন নান্দনিক অত্যাধুনিক নগরভবন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

গত এক বছরে নগরীতে ৮ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে, সাড়ে তিন কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে, দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাগরদি খালের দুপাড়ে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ প্রকল্পের আওতায় নগরীর ড্রেন থেকে আবর্জনা অপসারণসহ ড্রেনের উপর পকেট স্লাব নির্মাণ করা হয়েছে। যা দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিমধ্যে সুফল দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত। উন্নয়ন সহায়তা কর্মসুচীর অংশ হিসেবে শীতের সময় কয়েক হাজার শীতার্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং ঘুর্নিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ঈদগাঁ সংস্কার, মশক নিধন, পার্ক ডেকরেশনসহ সার্বিক কার্যক্রম করা হয়েছে।

সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন হলো নিয়মিত সিটি করপোরেশন (বসিক) পরিষদের সভা করা হচ্ছে, কাউন্সিলরদের ক্ষমতায়ন করা হয়েছে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের ওয়ার্ড ওয়ারি কাজের সমবন্টণ করা হয়েছে। যা নিয়ে খুশি নগরীর ৩০ ওয়ার্ডের ৪০ জন কাউন্সিলর।

গতবছর ১২ জুনের এইদিনে বরিশাল মহানগরীর ভাগ্যের এই পরিবর্তন ঘটেছিল। একজন অপরিচিত প্রায় মানুষ, যিনি রাজনীতি থেকে সবসময় দূরে সরে থাকতে পছন্দ করতেন, তাকেই বরিশালবাসী নগরপিতা নির্বাচিত করে উল্লাসে মাতোয়ারা হয়েছিলো। নাম তার আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত। শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এর ছোট ছেলে। নিভৃতচারী, মৃদুভাষী একজন সাদামাটা মানুষ। বরিশালে যখন যোগ্য নেতৃত্বের সংকট চরমে। ঠিক তখন ২০২২ সালের ১৫ আগষ্টকে ঘীরে এই মানুষটি আলোচনায় এলেন প্রথম। আগষ্টের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী এই মানুষটি নিজেও পায়ে গুলি খেয়ে অল্পের জন্যে বেঁচে গেছেন এবং বাঁচিয়েছেন ভাতিজা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকেও।

গণমাধ্যমের কল্যাণে এই সংবাদ মূহুর্তে পৌঁছে গিয়েছিল ৫৮ বর্গমাইল বরিশাল নগরীর প্রায় ৫ লাখ মানুষের কাছে। একইসাথে বিষয়টিতে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথও খুঁজে পেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। কেননা তখনকার সময়ে বরিশালের মেয়র এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বে একটা চরম সংকট তার চোখেও ধরা পরেছিলো হয়তো। একেতো বরিশাল ৫ আসনের সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল অবঃ জাহিদ ফারুক শামীম এবং জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের মধ্যে চলছিল একটা টানটান দ্বন্দ্ব উত্তেজনা। তারউপর ঐ সময়ের মেয়রের কাজকর্মে নগরবাসীসহ প্রশাসনও রীতিমতো বিরক্ত। বরিশালে নেতৃত্ব সংকট দূর করতেই সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ২০২৩ সালের জানুয়ারী থেকেই পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সাথে খোকন সেরনিয়াবাত আলোচনায় আসতে থাকেন। নৌকার মনোনয়ন নিশ্চিত হতেই চারিদিকে শ্লোগান ওঠে শামীম- খোকন দুই ভাই, বরিশালে আর সমস্যা নাই।


নতুন বরিশাল গড়ার অঙ্গিকার, জয় হোক শেখ হাসিনার। এসময় আরো একটি নাম উচ্চারণ হয় বরিশালের ঘরে ঘরে। তিনি খোকন সেরনিয়াবাত এর সহধর্মিণী লুনা আব্দুল্লাহ। বরিশাল মহানগরীর মহিলাদের কাছে প্রিয় নাম লুনা ভাবী সহজেই হয়ে ওঠেন সকলের আপন। জাহিদ ফারুক ও খোকন সেরনিয়াবাত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পাশাপাশি লুনা আব্দুল্লাহ এর অক্লান্ত পরিশ্রমে ২০২৩ সালের ১২ জুন বরিশাল সিটি করপোরেশন বসিক নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত। উৎসব আর উল্লাসে নগরবাসী তাকে বরণ করে নেন। মেয়র নির্বাচিত হবার পূর্বে নগরবাসীকে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছিলেন খোকন সেরনিয়াবাত। সেখানে আধুনিক বরিশাল গড়ার লক্ষ্যে খাল পুনরুদ্ধারসহ ৩৫ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বরাদ্দও চলে আসে তিনি জয়ী হওয়া মাত্রই। যার প্রমাণ পুরোপুরি চাক্ষুস এখন বরিশাল নগরীতে। নগরীর সাতটি খাল পুনরুদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়েছে, ইতিমধ্যেই জোয়ারভাটার পানিতে দূর হয়েছে জলাবদ্ধতা ও নোংরা আবর্জনা। বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের মানুষ গত ২২ বছর ধরে বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার করছিলেন।

গণমাধ্যমে এ সংবাদ দেখেই সেখানে ছুটে যান মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত। স্বচক্ষে দেখেন নগরীর মাতাসার এবং পুরানপাড়ার অবস্থা। বাসিন্দারা পানি সংকটে তখন স্থানীয় মসজিদ কিংবা যে বাড়িতে টিউবওয়েলসহ পাম্প বসানো আছে সেখানে পানির জন্য ধরনা দিচ্ছিলেন। অপেক্ষা করছেন দীর্ঘ লাইনে। মেয়রকে দেখে ছুটে আসেন তারা।মাতাসার এবং পুরানপাড়ার বাসিন্দারা জানান, বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত মেয়র এবং ভারপ্রাপ্ত মেয়রসহ ছয়জন দায়িত্ব পালন করেছেন। এভাবে ২২ বছর কেটে গেছে। কেউ একটু খোঁজও নেয়নি তাদের। এই প্রথম কোনো মেয়র তাদের কষ্ট দেখতে ছুটে এসেছেন এতেই খুশি আমরা বলে জানালেন বাসিন্দারা।

বাসিন্দাদের এই দৌড়ঝাঁপের কষ্ট ও কথা শুনে কেঁদে ফেললেন মেয়র খোকন নিজেও। বললেন, আমি যতদিন বেঁচে আছি এবং মেয়র আছি ততদিন আর আপনাদের এভাবে দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না। মেয়রের নির্দেশে তৎক্ষনাৎ ঐ এলাকায় নিয়মিত দুটো পানির ট্রাক ও দুটো টিউবওয়েল বসানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে মাতাসার ও পুরানপাড়া এলাকায়। এদিকে আবার ঢাকা থেকে প্রকৌশলী এনে বসিয়ে রেখেছেন নগরভবনে। দুটি বাস টার্মিনালের আধুনিকায়ন এবং নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য কাজ করবেন এই প্রকৌশলীরা।

মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত বললেন, আমি আমার দেয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটাবো। আমাকে সময় দেন ও প্রশ্ন না তুলে কাজ করতে দেন। ধীরে ধীরে বদলে যাবে এই বরিশাল। বাণিজ্যিক বরিশাল হবে বিশ্বের অনন্য উদাহরণ। আগামী চার বছরের মধ্যে এই বরিশাল প্রকৃত রূপসী বাংলায় পরিনত হবে বলে জানান খোকন সেরনিয়াবাত।




বরিশালে ত্রিমুখী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় সেনাবাহিনীর গাড়ি, সিএনজিচালিত থ্রিহুইলার ও অটোরিকশার সংঘর্ষে শিশুসহ ২ জন নিহত ও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৪ জুন) সকাল ৮ টার দিকে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের বাকেরগঞ্জ থানাধীন বাখরকাঠি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন ২ জনের নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন- থ্রিহুইলার চালক সাইদুল ইসলাম (৪০) ও থ্রি ‍হুইলারের যাত্রী শিশু জায়ান (৪)।

এদের মধ্যে নিহত সাইদুল বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদী এলাকার আব্দুস ছালাম হাওলাদারের ছেলে ও শিশু জায়ান একই উপজেলার বাগদিয়া এলাকার মেজবাহ উদ্দিন অপুর ছেলে।

এছাড়া এ দুর্ঘটনায় নিহত জায়ানের বাবা মেজবাহ উদ্দিন অপু (৩৩), অপুর স্ত্রী, হাফেজ মিজান (৪৫) ও কাওসার (৩২) নামে চারজন আহত হয়েছে। হতাহতরা সবাই জিএনজিচালিত থ্রিহুইলার ও অটোরিকশার যাত্রী এবং চালক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি সেনা সদস্যদের নিয়ে বরিশাল যাচ্ছিল। এ সময় বরিশাল থেকে পটুয়াখালীর দিকে যাচ্ছিল সিএনজিচালিত একটি থ্রিহুইলার ও অটোরিকশা। এ সময় সংঘর্ষ হয়। তখন আহতদের উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ২ জন নিহত ও দুই জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের লাশ শেবাচিমের মর্গে রযেছে।

ওসি আরও বলেন, সকাল ৮ টার দিকে তিনটি যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে কীভাবে কি দুর্ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত না করে বলা সম্ভব নয়। শেবাচিম হাসপাতালে দায়িত্বরত বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, নিহতদের মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে হস্তান্তর করা হবে।

হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম হতাহতদের বরাতে জানান, নিহত জায়ান সাইদুল ইসলামের সিএনজিচালিত থ্রিহুইলারের যাত্রী ছিলেন। সাইদুলকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছে। জায়ান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম আরও বলেন, আহতদের মধ্যে জায়ানের মায়ের অবস্থা শঙ্কটাপন্ন। এ ঘটনায় মোট ৪ জন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে নিহতদের মরদেহ ময়না তদন্ত করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

 




পটুয়াখালীর ডোবায় ভেসে এসেছে জীবিত ডলফিন – সাগর মোহনায় অবমুক্ত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি ডোবায় ভেসে এসেছে বোটলনোজ প্রজাতির একটি জীবিত ডলফিন। এটির দৈর্ঘ্য ৫ ফুট ও প্রস্থ দেড় ফুট।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকেল ৩টায় নীলগঞ্জ ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের আন্ধারমানিক নদী সংলগ্ন ডোবায় ওই ডলফিনটি ভেসে আসে।

এরপর ডলফিনটি এক নজর দেখতে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা। খবর শুনে এনিমেল লাভারস অব পটুয়াখালীর কলাপাড়া টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডলফিনটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে আন্ধারমানিক নদী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের মোহনায় ডলফিনটি অবমুক্ত করেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ইজিবাইকে ওড়না পেঁচিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

স্বেচ্ছাসেবী প্রাণিকল্যাণ ও পরিবেশবাদী সংগঠন এনিম্যাল লাভার অব পটুয়াখালীর কলাপাড়া টিমের সদস্য আলম নজির জানান, জেলেদের জালে আটকে ডলফিনটি অনেকটা আহত হয়। আমাদের ধারণা, পথভ্রষ্ট হয়ে এটি আন্ধারমানিক নদী হয়ে ডোবায় ঢুকে পড়ে। এর আগে কখনও এ অঞ্চলে ডলফিন ভেসে আসার খবর পাওয়া যায়নি।




অবহেলিত জনপদ হিজলা-মুলাদি ও মেহেন্দিগঞ্জ: ভোগান্তি যাদের আজন্ম সাথী

বরিশাল অফিস :: বরিশালের সবচেয়ে অবহেলিত জনপদ হিসেবে হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও মুলাদি উপজেলার নাম এখন সর্বজন স্বীকৃত।

শুধু বংশ পরম্পরায় ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের খুনখারাবি বা মারামারির জন্যই নয়, নদী ভাঙনের শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত হওয়া মানুষের হাহাকারের জন্যেও এ অঞ্চল সমান প্রসিদ্ধ এখন।

রাত নামলেই গৃহবন্দী জীবন ::

মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, স্কুল ছাড়াও অসংখ্য বসতভিটা, ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে এ অঞ্চলে মেঘনা নদীর ভাঙনে। তারউপর রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকট। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে সুচিকিৎসার জন্য নিতে হবে বরিশালের শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শেবাচিম এ। কিন্তু সেজন্য সহজে যাতায়াতের কোনো উপায় নেই। অসংখ্য পোয়াতি মা এই হাসপাতালে পৌছানোর আগেই হয় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, নয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানা গেল তিন উপজেলার প্রায় প্রতিজন মানুষের মুখে।


এরমধ্যে সবচেয়ে করুন ও মানবিক জীবনযাপন মেহেন্দিগঞ্জের মানুষের। চারদিকে যাদের অথই জলের পাহারা। রাত নামলেই গৃহবন্দী জীবন। ফেরী বা ট্রলারে নদী পার হলে তবেই ওপারে হিজলা ও মুলাদি উপজেলা। এ দুটি উপজেলা পাশাপাশি এবং একই সড়কে, একই সমস্যায় জর্জরিত তারা। এখানে আড়িয়াল খা এবং মেঘনা নদী শহরের সাথে এই দুই উপজেলাকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। অন্যদিকে হিজলা এবং মেহেন্দিগঞ্জ নিয়ে বরিশাল ৪ আসনটি গঠিত। ফলে হিজলার সাথে মেহেন্দিগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নদী ভাঙন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই হিজলার তিনপাশে এবং মুলাদির একপাশে বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিকল্প নেই বলে মনে করেন এ অঞ্চলের বাসিন্দারা।

বাবুগঞ্জ ও মুলাদি উপজেলা বরিশাল ৩ সংসদীয় আসন। বর্তমান সংসদ সদস্য বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ রাশেদ খান মেনন। বাবুগঞ্জের সন্তান রাশেদ খান ইতিপূর্বেও এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন তবে নিজ এলাকার উন্নয়নেই কখনো কোনো ভূমিকা নেননি বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সেখানে মুলাদির মানুষের জন্য তিনি কিছু করবেন বলে বিশ্বাস করতে চাননা মুলাদিবাসী। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিঠু জানালেন, এই যাতায়াত সংকটের কারণে মুলাদির বেশ কয়েকজন রোগী হাসপাতালে যাওয়ার আগেই মারা গেছে। এখানে মীরগঞ্জ সেতু তৈরির পরও ওপারে বাবুগঞ্জ লাকুটিয়া সড়কটি মেরামত না হলে ভোগান্তি কমবে না বলে জানান মিঠু।

কৃষি এবং নদীতে মাছ শিকার এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবীকা। বলা যায়, জেলে অধ্যুষিত অঞ্চল এই মুলাদি, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা। তিন উপজেলার লোকসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ হবে বলে অনুমান করেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এ,কে,এম মাহফুজ উল আলম। তিনি বলেন শুধু মেহেন্দিগঞ্জের জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ। ঝড়-ঝঞ্ঝা মাথায় নিয়ে আমরা যে এখনো বেঁচে আছি এটাই সপ্তাশ্চর্য।

মেহেন্দিগঞ্জের যোগাযোগ সবটাই নদী পথে। আর হিজলা উপজেলার মানুষের জন্য সড়ক পথ রয়েছে। তবে তা মুলাদির খেয়াঘাট পর্যন্ত। নদী পথে বরিশাল থেকে সরাসরি স্পিডবোটে তিন উপজেলাতেই আসাযাওয়া সম্ভব হলেও তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল বলে জানালেন হাতেম আলী কলেজে অধ্যায়নরত হিজলার বাজার টেক এলাকার বাসিন্দা রেদোয়ান।

তিনি বলেন, গরীব বা মধ্যবিত্ত কিম্বা ধনী, আমাদের সবাইকে বাজার-সদাই করতে, চাকরি, পড়াশুনা করতে বরিশাল শহরে যেতেই হয়। শহরে যেতে হলে হিজলা থেকে মহেন্দ্র বা অটোরিকশা নিয়ে মুলাদির কাজীচর খেয়াঘাট যেতে হবে। সেখান থেকে খেয়া পার হয়ে ওপারে মীরগঞ্জ। মীরগঞ্জ থেকে অটোরিকশা বা ইজিবাইক নিয়ে বাবুগঞ্জের রহমতপুর যেতে হবে। আগে তাও লাকুটিয়া দিয়ে যাতায়াত করা যেত। কিন্তু ঐ সড়ক এখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পরে আছে। আমাদের তাই আরো ঘুরে রহমতপুর থেকে বরিশালের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় পৌঁছাতে কম হলেও দুই আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে এখন।

বরিশাল থেকে হিজলা উপজেলা পরিষদে এসে পৌঁছাতে মোটরসাইকেল নিয়ে এই প্রতিবেদকেরও দেড়ঘন্টার মতো সময় লেগেছে মাত্র ৪০ কিলোমিটার পথের দুরত্ব পেরোতে।

তিনপাশে নদী, একপাশে সড়ক চলে গেছে মুলাদির কাজীরচর খেয়াঘাট পর্যন্ত। চারিদিকে ভাঙনের চিত্র এখানে। বেড়িবাঁধ এলাকায় বাঁধের উপরই অসংখ্য ঘরবাড়ি চোখে পড়ে। টেকের বাজার বা বাজার টেক পার হয়ে দক্ষিণে বড়জালিয়া ইউনিয়নের বাউসিয়া গ্রাম। মেঘনা নদীর পাড়ে এখানে ২০০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে নদী ভাঙন রোধের চেষ্টা চলছে। নদী তীরবর্তী বাউসিয়া গ্রামের মানুষ তাই অনেক খুশি। স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ ও শাম্মী আহম্মেদ এর প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, এই ব্যাগ যদি ফেলা না হতো তাহলে এবছরের মধ্যে হিজলা উপজেলা পরিষদ এলাকাও নদীতে বিলুপ্ত হয়ে যেত।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ঝন্টু হাওলাদার সহ কয়েকজন গ্রামবাসী আরো বলেন, এই জিও ব্যাগ হয়তো সাময়িক ভাবে ভাঙন রোধে সাহায্য করবে তবে নদীর দুই পাড়ে বরিশালের চরকাউয়া ও চরবাড়িয়া বেড়িবাঁধের মতোই বাঁধ নির্মাণের দাবী করেন তারা। একইসাথে মীরগঞ্জ সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি রক্ষার দাবী জানান হিজলা উপজেলার বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ।


এখানে উপজেলা পরিষদ চত্বরে কথা হয় স্থানীয় সাংবাদিক ও হিজলা প্রেসক্লাবের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন এর সাথে। তিনি জানালেন, ইতিমধ্যেই ৫ টি গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকির মুখে রয়েছে আরো অর্ধশত গ্রাম। পানি উন্নয়ন বোর্ড যদিও এখানে ৬২৮ কোটি টাকার কাজের বরাদ্দ দিয়েছেন। রীতিমতো নদী তীরবর্তী এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টাও শুরু হয়েছে। তবে ১০ টি প্যাকেজে এই কাজ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটি প্যাকেজের কাজই দৃশ্যমান বলে জানান সাংবাদিক দেলোয়ার।

এ বিষয়ে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নদী ভাঙন রোধে গৃহিত পদক্ষেপ আমার আসার পূর্বে হয়েছে। এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। কাজের মান নিয়েও কিছু বলতে পারবোনা। তবে মীরগঞ্জ সেতু নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এখন টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। মীরগঞ্জ সেতু তৈরি সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের মানুষের ৮০ ভাগ ভোগান্তি দূর হয়ে যাবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।




আত্মসমর্পন করা জলদস্যুদের মাঝে ঈদ উপহার দিয়েছে র‌্যাব

বরিশাল অফিস :: আত্মসমর্পন করা সুন্দরবনের ২৮৪ জলদস্যুর মাঝে ঈদ উপহার বিতরন করেছে র‌্যাব-৮। বুধবার খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার জলদস্যুদের মাঝে এসব বিতরন করা হয়। র‌্যাব এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ৩১ মে থেকে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর পর্যন্ত ২৭টি বাহিনীর ২৮৪ জন জেলে আত্মসর্পন করে। ঈদ উল আযহা উপলক্ষ্যে তাদের মাঝে চাল, তেল, ঘি, সেমাই, চিনি, গুড়া দুধ, লবন, বাদাম/কিসমিস, জিরা, এলাচ, দারুচিনি, পেয়াজ ও ব্যাগ দেয়া হয়েছে।

খুলনার জিরো পয়েন্টে ২৬ জন, চুকনগর বাজারে একজন, তালা বাজারে ৩ জন, আকড়ঘাটায় দুই জন এবং কয়রা উপজেলায় ১৪ জনকে অধিনায়ক লে, কর্নেল যুবায়ের আলম ও উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম খাবার সামগ্রী বিতরন করেন।

সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জে ৫৫ জন, সদর কোর্টে ৭ জনকে ঈদ উপহার দেন এএসপি রেজাউল করিম। এছাড়াও বাগেরহাটের সাইনবোর্ড এলাকায় ৩০ জন, ভাগা এলাকায় ৮১ জন ও মংলা এলাকায় ৬২ জনকে র‌্যাব-৮ এর পক্ষ থেকে উপহার দেয়া হয়েছে।




১৬ বছরের উন্নয়নে বদলে গেছে দ্বীপজেলা ভোলা

বরিশাল অফিস :: বঙ্গোপসাগর মোহনায় মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীবেষ্টিত দেশের একমাত্র সর্ববৃহৎ দ্বীপজেলা ভোলা গত ১৬ বছরের উন্নয়নে বদলে গেছে। এক সময়ে খ্যাতি ছিল ধান সুপারি আর ইলিশের ভাণ্ডার হিসেবে। কিন্তু ধান সুপারি আর ইলিশ এই তিনের মধ্যে এখন আর এই জেলার সীমাবদ্ধতা নেই। প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদে ভরপুর দেশের সর্বদক্ষিণের এই জেলা এখন বাংলাদেশের একটি অপার সম্ভাবনাময় জেলায় পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা চার মেয়াদে নতুন নতুন প্রকল্প আর উন্নয়নের জোয়ারে একদিকে যেমন এখানকার দৃশ্যপট বদলে গেছে, অন্যদিকে সৃষ্টি হচ্ছে বেকার যুবকদের কর্মস্থান।

সেই উন্নয়নের ছোঁয়া শুধু শহরই নয়, পৌঁছে গেছে প্রত্যন্ত গ্রাম গঞ্জেও। এমনকি এক সময়ের কাল্পনিক স্বপ্নও বাস্তবে রূপ নিয়েছে। জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দুর্গম চরাঞ্চলেও পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ সুবিধা। সাবমেরিন ক্যাবল এর মাধ্যমে ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে এই বিদ্যুৎ। এখন দিনের আলো শেষে রাতের আঁধারে বিদ্যুতের আলোতে আলোকিত হয়ে উঠে মানুষের ঘরবাড়ি। এতে করে ঘুচে গেছে শহর-গ্রামের পার্থক্য। যা ছিল এখানকার মানুষের জন্য এক অকল্পনীয় অধ্যায়।

এছাড়া জেলার সর্বদক্ষিণের সাগর মোহনার দ্বীপ চর কুকরি-মুকরি ও মনপুরার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে সরকারী নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইতিমধ্যে সেখানে গড়ে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্র। যা ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের কাছে নয়নাভিরাম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি নদী গর্ভে ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার আতঙ্ক আর নেই। মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেয়েছে ভোলার ভাঙ্গন কবলিত এলাকাবাসী। এছাড়া দ্বীপের ২০ লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ভোলা-বরিশাল সেতু এখন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এই সেতু নির্মাণ হলে শুধু ভোলাবাসীই নয় দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের অর্থনীতিতে বিশাল এক বিপ্লব ঘটবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ভোলায় একের পর এক জ্বালানি গ্যাস কূপের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ভোলার ইলিশা-১ নামে নতুন একটি কূপ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু করেছে বাপেক্স। এ নিয়ে জেলার মোট ৯টি কূপে গ্যাসের সন্ধান পেল বাপেক্স। ইত্তেফাকের এই প্রতিনিধি সরেজমিন ভোলার সর্বত্র পরিদর্শন করে এই চিত্র দেখেছেন।

১৯৮৪ সালে মহাকুমা থেকে ভোলা জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে রয়েছে ৭টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা, ৭০টি ইউনিয়ন, ১০টি থানা। ৩ হাজার ৪০৩.৪৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপের অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে নদী ভাঙ্গন। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকলেও সুপরিকল্পিত কার্যকরী কোন পদক্ষেপ বা কাজ বাস্তবায়ন হয়নি। যা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের টানা চার মেয়াদে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অনেক প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক সহযোগিতায় তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদের প্রচেষ্টায় সরকারের একের পর এক উন্নয়নে ভোলা বাংলাদেশের মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ জেলায় রূপান্তরিত হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে করে পাল্টে যাচ্ছে চিরচেনা দ্বীপ জেলা ভোলার সেই পুরনো চিত্র। দেড় যুগ আগের পিছিয়ে থাকা ভোলা শহর এখন পরিণত হয়েছে আধুনিক পরিকল্পিত নগরীতে। ভোলা জেলা শহর ছাড়াও উন্নয়নের ছোঁয়া গেছে সব উপজেলাতেও। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আমূল পরিবর্তনের ফলে সুফল পাচ্ছে এলাকার জনগণ। দ্বীপজেলা ভোলায় ইতোপূর্বে নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকরী তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তাই নদী ভাঙ্গনে বহু এলাকা বিলীন হয়ে যায়। ভোলা সদরের ইলিশা জংশন এলাকায় যখন রাক্ষুসে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গনে যখন হাজার হাজার বসত ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা, বাজার বিলীন হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল ঠিক তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকা সিসি ব্লক স্থাপনের মাধ্যমে ইলিশা বাজারসহ বহু সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা রক্ষা পায়। ভোলায় অসংখ্য রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, জেলা শহরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, পৌরভবনসহ সরকারী অসংখ্য বহুতল ভবন, ভোলা খেয়াঘাটে আধুনিক টার্মিনাল, নদী বন্দর স্থাপনসহ ব্যাপক উন্নয়নে গত ১৬ বছরে পাল্টে গেছে ভোলার চিত্র।

ভোলার চরফ্যাসনের বাসিন্দা রাহাত হোসেন (৬২) জানান, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চরফ্যাসন আধুনিক ও পর্যটন উপজেলায় রূপান্তরিত হয়েছে। চর কুকরি মুকরিতে আধুনিক রেস্ট হাউস নির্মাণ করা হয়েছে। চর কুকরিতে বঙ্গবন্ধু ইকোপার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। তাছাড়াও চরফ্যাসন মনপুরায় প্রায় হাজার কিলোমিটার পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। চরফ্যাসন ও মনপুরাবাসীকে রক্ষা করার জন্য হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ব্লকবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। চরফ্যাসনে শতভাগ ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এমনকি চরফ্যাসনের বিচ্ছিন্ন দ্বীপচর ইউনিয়ন মুজিবনগর ও কুকরি মুকরিতে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুতায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চরফ্যাসনে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে।

এদিকে লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করা হয়েছে। লালমোহন ও তজুমদ্দিনে মেঘনার ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষায় প্রায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সিসি ব্লক স্থাপন করা হয়েছে। অসংখ্য রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, থানা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। লালমোহন ও তজুমদ্দিনে ঘুরলে বর্তমান সরকারের অসংখ্য জনবান্ধবমুখী উন্নয়ন পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে। গ্যাসভিত্তিক ভোলায় বিভিন্ন শিল্পকলকারখানা স্থাপন শুরু হয়।দ্বীপবাসীকে ঝড় জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার জন্য ভোলা জেলার ৭ উপজেলায় ৫২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৭টি সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ করা হচ্ছে। ভোলার প্রাকৃতিক সম্পদককে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা।

পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে চরফ্যাশন: ভোলার চরফ্যাসনের কুকরি মুকরির ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল যেন এক মিনি সুন্দরবনে পরিণত হয়েছে। সেখানে এক সঙ্গে সাগরের ঢেউ, সূর্যদয়, বিশাল সমুদ্রের জলরাশি আর সমুদ্য সৈকত, লাল কাঁকড়া, বনের হরিণ, নানা পশু পাখির সমারোহ ভ্রমণপিপাসুদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জেলাটির বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে ছোট-বড় চর। এরমধ্যে আয়তনে বড় এবং একইসঙ্গে ঘুরে দেখার মতো উপজেলাটির নাম চরফ্যাশন। বলা হয়ে থাকে, সবুজ শ্যামলিমায় ভোলা জেলাকে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখতে হলে আসতে হবে চরফ্যাশনে। অর্থাৎ চরফ্যাশনে অবস্থিত সু-উচ্চ ১৮ তলা জ্যাকব টাওয়ারে উঠলেই দেখা মিলবে পুরো জেলা। ১০০ টাকার টিকেট কেটে লিফটের সাহায্যে উপরে উঠে সর্বোচ্চ স্থান থেকে চারদিকে তাকানোর সুন্দর সুযোগ রয়েছে। ওখান থেকে যেদিকেই চোখ পড়ে দেখা মিলবে সবুজের সমারোহ। যেন, প্রকৃতির অপূর্ব লীলাভূমি হাতছানি দিয়ে ডাকে।

টাওয়ারের একেবারে পাশে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ এবং শহীদ শেখ রাসেল শিশু পার্ক। প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের এখানে ভীড় করতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চরফ্যাশনে পর্যটকদের কথা চিন্তা করে তৈরি হয়েছে হোটেল ও রিসোর্ট। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ঢাকা থেকে চরফ্যাশনে আসা একজন ভ্রমন পিপাষু মানুষের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা হয়। লোকটির নাম নাজমুল করিম পেশায় ব্যাংকার। তিনি জানান, একটি চওড়া এবং সোজা সড়ককে ঘীরে ভোলা জেলা। ভোলা সদর থেকে চরফ্যাশন যেতে ভিন্ন পথের প্রয়োজন পড়ে না। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা জেলার নাম ভোলা।

এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বেশকিছু চর। আর এসব চর ঘিরেই পর্যটনশিল্প অপার সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছে ভোলাবাসী। এই যেমন চর কুকরি-মুকরি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে চমকপ্রদ ও আকর্ষণীয়। ইতোমধ্যে এখানকার জীববৈচিত্র্য ও দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে শুরু করেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, চর কুকরি-মুকরিতে রোপণ করা হয়েছে নানা ধরনের গাছ।

এরমধ্যে কেওরা গাছ বৃহত্তর এলাকা জুড়ে দাপটের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আর কৃত্রিম এই বনে ছাড়া হয়েছে বন্য মহিষ, হরিণ ও বানর। আছে গরুও। চর স্বল্প পরিমাণে বসতিও আছে। যাদের প্রায় সবাই মৎস্যজীবী।

এলাকাটির বিভিন্ন পর্যায়ের লোকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এটি এক পাশে মেঘনা অন্যপাশে বঙ্গোপসাগরের জলরাশি। লবণাক্ত এবং মিঠাপানির জলের মিশ্রণ চর কুকরি-মুকরিতে জোয়ার ভাটার খেলা করে। ওখানের ওয়াচ টাওয়ারে তাকালে পুরো বনটি দেখতে সৌন্দর্য অবলোকন করা হয় সহজেই। চরফ্যাশন সদর থেকে থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্ব এই চর। স্বল্প খরচে একা বা যৌথভাবে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে স্পিডবোর্ডে গেলে খরচ বাড়লেও দ্রুত পৌঁছে যাওয়া যায়। মাঝেমধ্যে সমুদ্র গর্জন তুললেও বেশিরভাগ সময় জুড়ে থাকে খুব নিবীর এবং নিরাপদ।

চরফ্যাশনে ব্যক্তিগতভাবে গড়ে ওঠা আরেকটি দর্শনীয় এবং বিনোদন কেন্দ্রের নাম খামারবাড়ি রিসোর্ট। আগে থেকে যোগাযোগ করে সেখানে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বৃহদায়তন এই রিসোর্টে আছে খাওয়া, থাকা এবং ঘুরে বেড়ানোর সু-ব্যবস্থা।

একই উপজেলায় আকর্ষণীয় স্থান হলো ঢাল চরের তারুয়া সমুদ্রসৈকত। এখানে পর্যটকদের চোখে ধরা দেয় লাল কাঁকড়াসহ নানা প্রজাতির অতিথি পাখি। বেতুয়া প্রশান্তি পার্কও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মেঘনা নদীর পাড়ে গড়া ওঠা এ পার্কে পর্যটকদের আনাগোনা সব সময় লেগেই থাকে।

চরফ্যাশনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সালেক মূহিদ জানান, মানুষ একসময় উন্নয়নে পিছিয়ে থাকলেও এখন উন্নয়নের হাওয়া লেগেছে কমবেশি সবখানে। মানুষের জীবনযাত্রায় এসেছে পরিবর্তন। ব্যবসা-বাণিজ্য হচ্ছে গতিশীল। শিক্ষার আলো, বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। রাস্তাঘাটের চেহারায়ও লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। চরফ্যাশনের মতো একটি সম্ভাবনাময় উপজেলা পর্যটন খাতকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাবে, এটাই প্রত্যাশা।

চরফ্যাশন এলাকার অটোরিকশা চালক রিপন জানান, এখানে রাত বিরাতে নির্ভরে মানুষ চলাচল করে। অতীতে কিছু জটিলতা ছিলো এখান একেবারেই শান্ত ও শৃঙ্খল।




বিশুদ্ধ পানির সংকট বরিশাল নগরীতে, ঘরে ঘরে হাহাকার

বরিশাল অফিস :: বিশুদ্ধ পানির সংকট বরিশাল নগরীতে, ঘরে ঘরে হাহাকার‘আল্লাহ আরও দুটি হাত দিলে আমাদের জন্য ভালো হতো। চার হাতে কম করে হলেও ৬ থেকে ৭টি কলসি-বালতি পানিতে ভরে ঘরে নিয়ে আসতে পারতাম। সুস্থ থাকি আর না থাকি সংসারের প্রতিদিনের কাজের জন্য সকালে পানি আনতেই হয়।’— ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাসিনা বেগম। নগরীর মতাসার এবং পুরানপাড়ার বেশিরভাগ বাসিন্দার অভিযোগ এই পানি সংকট নিয়েই। প্রতিদিন সকাল থেকে ওই এলাকার বাসিন্দাদের শুরু হয় পানি সংগ্রহের সংগ্রাম। স্থানীয় মসজিদ কিংবা যে বাড়িতে টিউবওয়েলসহ পাম্প বসানো আছে সেখানে পানির জন্য ধরনা দিতে হয়। তবে স্থানীয় মেয়র ও কাউন্সিলর পানি সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

মতাসার এবং পুরানপাড়ার বাসিন্দারা জানান, বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত মেয়র এবং ভারপ্রাপ্ত মেয়রসহ ছয়জন দায়িত্ব পালন করেছেন। এভাবে কেটেছে ২২ বছর। এখনও সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। পানি সংগ্রহের এই দৌড়ঝাঁপ কবে শেষ হবে জানেন না তারা।

পানি সংগ্রহের এই দৌড়ঝাঁপ কবে শেষ হবে জানেন না নগরীর মতাসার এবং পুরানপাড়ার বাসিন্দারা পানি সংগ্রহের এই দৌড়ঝাঁপ কবে শেষ হবে জানেন না নগরীর মতাসার এবং পুরানপাড়ার বাসিন্দারা মো. মোবাশ্বের বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘরের নারী-পুরুষ সবাই গৃহস্থালির কাজে ব্যবহারের জন্য পানি সংগ্রহে নামেন। মসজিদে-মসজিদে এবং যে সকল বাড়িতে টিউবওয়েলসহ পাম্প বসানো আছে সেখানে যেতে হয় পানি আনতে। এতে নানা জনের নানা কথাও শুনতে হয়। কিন্তু সেই কথায় রাগ করলে পানি পাওয়া যাবে না। এ কারণে চুপচাপ থেকে পানি নিয়ে ঘরে আসতে হয়।

দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে দৈনন্দিন ঘর-গৃহস্থালির কাজে ব্যবহারের পানি অন্য বাড়ি থেকে আনতে হচ্ছে হাসিনা বেগমকে। তিনি বলেন, আল্লাহ আর দুটি হাত বেশি দিলে আমাদের জন্য ভালো হতো। কারণ চার হাতে কম করে হলেও ৬ থেকে ৭টি পানির পাত্র ভরে ঘরে নিয়ে আসতে পারতাম। সুস্থ থাকি আর না থাকি প্রতিদিন সকালে পানি আনতে অন্যের দুয়ারে যেতেই হয়।

নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের প্রায় সবার ঘরেই পানি সংকট। তাদের অভাব-অভিযোগের বেশির ভাগজুড়েই আছে পানি সংকটের কথা। তারা জানান, এই এলাকা যখন ইউনিয়ন পরিষদে ছিল তখনও পানির কষ্ট করতে হয়েছে। অনেক বছর ধরেই তারা পানির জন্য সরকারি বিভিন্ন মহলে দেন-দরবার করে আসছে। কিন্তু সরকারিভাবে টিউবওয়েল বা পাইপলাইনের পানি কোনটাই আসেনি। এর মধ্যে একদিন খবর আসে এই এলাকা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশনের অধীনে চলে গেছে। তখন সবাই ভেবেছিল, কষ্টের দিন বুঝি শেষ হলো। কিন্তু আশায় আশায় কেটেছে আরও ২০ বছর। পানি আর আসেনি।

‘প্রতিবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় যিনিই পানির ব্যবস্থা করে দেওয়ার ওয়াদা করেছেন তাকেই কাউন্সিলর নির্বাচিত করেছি। তাতেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখন বিষয়টা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছি।’— আক্ষেপ করে রাজ্জাক হাওলাদার ও ফারুক হাওলাদার বলেন, সিটি করপোরেশনের সব ধরনের ট্যাক্স তারা নিয়মিত দিয়ে আসছেন। কিন্তু পানির সুবিধা আজও পাননি। এ জন্য সিটি করপোরেশনের একাধিক মেয়রসহ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের কাছে অনুরোধ জানিয়েও কাজ হয়নি। তারা শিগগিরই সমাধান হয়ে যাবে বললেও আমাদের দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে না।

তারা আরও বলেন, এ এলাকায় পানির জন্য হাহাকার পাকিস্তান আমল থেকে। দেশ স্বাধীনের পর খাবার পানির দুর্ভোগ অবসানের আশায় ছিলেন এলাকাবাসী। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশনের অধীন আসার ঘোষণায় আশায় বুক বেঁধেছিলেন তারা। এবার নিশ্চয় পানির সমস্যার সমাধান হবে, ঘরের নারী-পুরুষ এবং সন্তানদের ভোর হলেই অন্যের দুয়ারে ছুটতে হবে না পানির জন্য। কিন্তু এত দিনেও কিছু হলো না।

গৃহবধূ কোহিনূর বেগম বলেন, খাবার পানির জন্য সকলেই সহযোগিতা করেন। কিন্তু গোসলের পানি কেউ দিতে চায় না। বেশিরভাগ পুকুরের পানি ভালো না। তা দিয়ে শিশুদের গোসল করালে চুলকানি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রোগ হয়। সেই রোগের জন্য আবার চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়। যাদের টাকা আছে তারা পারে, কিন্তু সবার পক্ষে সেটি সম্ভব হয় না। এ জন্য সিটি করপোরেশনের কাছে পানির লাইন দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

কোহিনূর বেগম আরও বলেন, মাঝে-মধ্যে ঘরে পানি না থাকলে প্রতিবেশীর কাছ থেকে পানি ধার করতে হয়। যে বাড়ি থেকেই পানি আনি, তাদের সাফ কথা— আগামীকাল ভোরে কলস ভরে পানি দিয়ে যাবা। পরদিন তাদের কলস ভরে পানি দিয়ে আসতে হয়।

পরপর দুইবার নির্বাচিত এই কাউন্সিলর জানান, প্রতিবারই নির্বাচিত মেয়রকে এই এলাকার পানির সমস্যার কথা জানিয়ে এলাকায় পানিরলাইন আনার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোনভাবেই সেই চেষ্টা সফল হয়নি। তবে বর্তমান মেয়র পানিরলাইন, সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ বড় একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছেন। বরাদ্দ এলে সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু হবে। ওই প্রকল্পের অধীন ৪টি পাম্প বসবে। সেই পাম্পের মাধ্যমে পাইপলাইন দিয়ে পানি যাবে দুর্ভোগকবলিত এলাকার প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি না হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ কাজ শুরু হবে বলে জানালেন কাউন্সিলর।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। কাউন্সিলর পানি সংকটের বিষয়টি অবহিত করার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৌশলীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই এলাকার সড়ক-ড্রেন এবং পানির লাইনের জন্য প্রকল্প প্রস্তুত করতে। তিনি আরও বলেন, যে এলাকায় সড়ক হবে সেই এলাকায় একই সঙ্গে পানির লাইন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এতে করে বারবার সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির প্রয়োজন হবে না। জনগণও দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে।




বরিশালে বাবা-মেয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকার একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে নাঈম ও রোজা নামে বাবা-মেয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি রহস্যজনক। পরিবারের দাবি, বিচ্ছেদের পরও নিহতের স্ত্রীর নানা চাপের মুখে হতাশ হয়ে নাঈম প্রথমে তার মেয়েকে হত্যা করেন। পরে নিজে ‘আত্মহত্যা’ করেন।

তবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে না দেখার আগ পর্যন্ত ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলতে রাজি নয় পুলিশ।

বুধবার (১২ জুন) সকালে বরিশাল নগরীর কাউনিয়া প্রধান সড়ক পানির ট্যাংকি সংলগ্ন স্বপ্ন বিলাস ভবনের চারতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে পাঁচ বছর বয়সী রাবেয়া বশরি রোজা ও তার বাবা নাইম হাওলাদারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তারপর ময়নাতদন্তের জন্য দেহ দুটি শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘটনাটি হত্যার পর আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু সেটি তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডি ও মহানগর গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান বলছেন, নাঈমের পরিবার জানিয়েছে- স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকে নানা চাপ সহ্য করে আসছিলেন তিনি। সাবেক স্ত্রীর এসব চাপ সহ্য করতে না পেয়ে নাঈম ঘরে থাকা বটি দিয়ে প্রথমে নিজের মেয়েকে জবাই করে হত্যা করেন। পরে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা করেন।

আমরা এসব তথ্যকে গুরুত্ব দিচ্ছি, তবে তা ঘটেছে কিনা সেটি তদন্ত সাপেক্ষ।

বরিশাল মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আলী আশরাফ ভুঞা বলেন, ঘটনাটি নিয়ে এত দ্রুত সিদ্ধান্তে আসা যাচ্ছে না। একটু তো রহস্য রয়েছে। নিহতের পরিবার দাবির ওপর আমরা নির্ভর করছি না। বিষয়টি আরও গভীরভাবে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

ভবনের মালিক জাহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, নাঈম ও তার পরিবার গত ১ মে থেকে আমার বিল্ডিংয়ের চার তলার উত্তর পাশের ফ্ল্যাটে ওঠেন। সকালে আমার ছেলে কল করে জানিয়েছে, ওই ফ্ল্যাটে ডাবল মার্ডার হয়েছে। আমি ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখি পুলিশ সদস্যরা নিজেদের কাজ করছেন। তাদের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেওয়াসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। ঘটনা কি ঘটেছে সেটি পুলিশ বলতে পারবে।

বাবুলের ছেলে পলাশ জানান, নাঈম তার বাবা-মা, মেয়ে রোজা, বোন আখি ও বোনের মেয়ে নুসরাতকে নিয়ে তাদের ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। এ বাসায় আসার পর থেকে বিষণ্ণ দেখা যেত তাকে। পরে জানতে পারেন স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়েছে। মেয়েকে নিজের কাছে রেখে দিলেও নাঈমের মনে বিষণ্ণতা ছিল। নাঈম চাকরি করে বলে তারা জানতেন। পরে শুনতে পান সেটি নেই। অন্য একটি চাকরিতে ঈদের পরে যোগে দেওয়ার কথা ছিল নিহতের।

তিনি বলেন, আজ সকাল ৯টার দিকে আখি চিৎকার শুরু করেন। সেটি শুনে আমি তাদের বাসায় যাই। সেখানে দুজনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখে পুলিশকে জানাই।

আখি আক্তারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা খেয়ে ভাই ও ভাতিজিকে ডাকতে তাদের কক্ষে যাই। গিয়ে দেখি তারা রক্তাক্ত, নিথর। আমাদের চিৎকার শুনে বাড়িওয়ালা এসে পুলিশকে জানিয়েছে।

নাঈমের বাবা শাহজাহান হাওলাদার জানান, গত রাতে ছেলে ও নাতনির সঙ্গে ঘুমিয়েছিলেন তিনি। সকাল সোয়া ৭টার দিকে তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নাঈমকে পান্তা ভাত খেতে দেখেন। রোজা তখন ঘুমচ্ছিল। তিনি বের হওয়ার সময় নাঈম তার কাছে ২০ টাকা চান। টাকা দিয়ে তিনি অনন্যা ফ্লাওয়ার মিলে (তার কর্মস্থল) চলে যান। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আখি তাকে কল করে নাঈম ও রোজার মৃত্যুর সংবাদ দেন। তিনি বাড়ি ফিরে দুজনের মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।

তিনি আরও জানান, প্রায় সাত বছর আগে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দক্ষিণ পলাশপুরের বাসিন্দা নুর ইসলাম মোল্লার মেয়ে অনা আক্তারের সঙ্গে নাঈমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক নানা সমস্যা দেখা দেয়। চার মাস আগে অনা তার ছেলেকে তালাক দেন। দেন মোহরের ৫ লাখ টাকাও নেন। স্ত্রীর তালাক পেয়ে নাঈম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। নিহত নাঈম অপসোনিন কোম্পানির গাড়িচালক ছিলেন। সেই চাকরি চলে যাওয়ার পর তিনি নতুন একটি খুঁজছিলেন।

শাহজাহান বলেন, মঙ্গলবার রাতে অনা কল করে রোজাকে নিয়ে যাবেন বলে জানান। তারপর থেকেই নাঈম খুব বিচলিত ছিল।

বরিশাল মেট্রোপলিটনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সরোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের প্রাথমিক ধারণা পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণেই ঘটনাটি ঘটে। বিশেষ করে নাঈমের সঙ্গে তার স্ত্রীর তালাক হয়েছে। এরপর থেকে শিশুকন্যাকে কাছে রাখেন তিনি। আজ সকালে রোজার মায়ের আসার কথা ছিল। তিনি মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। এ বিষয়টি নাঈম মেনে নিতে পারেননি। সেখান থেকেই হয়ত হত্যা ও আত্মহত্যাটি ঘটে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ফজলুল করিম বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা হবে। তদন্ত করে না করে প্রকৃত রহস্য কি বলা যাবে না।




আবারও আত্মহত্যা ববিতে: চার বছরে ঝরে গেল ৪টি প্রাণ

বরিশাল অফিস :: আত্মহত্যা প্রতিরোধে পৃথক কাউন্সিলিং দফতর চালু করার পরও আবারও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)তে। গত ৯ জুন রবিবার রাত সাড়ে ১২টায় একজন শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানালেন বরিশালের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান মুকুল।

এই নিয়ে ববিতে চার বছরে চারজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও ১১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুত্রে গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ববি’র বঙ্গমাতা আবাসিক হলের রিডিং রুমে শেফা নুর ইবাদী (২২) নামের এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নবম ব্যাচের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। শেফা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা হলের ১৪১১ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলো বলে জানা যায়।

ওসি আব্দুর রহমান মুকুল বলেন, বঙ্গমাতা হলের তৃতীয় তলায় রিডিং রুমের জানালার গ্রিলের সাথে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ওই ছাত্রীকে পাওয়া গেছে। তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এটা আদৌ আত্মহত্যা নাকি হত্যা? কিম্বা কি কারনে সে আত্মহত্যা করেছে এসব কিছুই নিশ্চিত করে বলতে পারেনি পুলিশ বা ববি প্রশাসন। তার লাশ মর্গে রয়েছে। পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে পরবর্তি সিদ্বান্ত নেয়া হবে বলে জানালেন ওসি মুকুল।


তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রেমিকের সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেছে শেফা।

এদিকে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কোটা বাতিলের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলো শেফা। “বৈষম্যমুলক কোটা বাতিল চাই ! মেধা ভিত্তিক নিয়োগ চাই !” ব্যানার নিয়ে মিছিলে অংশ নিয়েছে সে। তাই তার মতো সচেতন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করতে পারেনা বলে দাবী করেন একাধিক সহপাঠী। এ বিষয়ে ওসি আব্দুর রহমান মুকুল বলেন, আমিও শুনেছি সে মিছিলের অগ্রভাগে ছিলো। তার মোবাইল সেটটি এখনো হাতে পাইনি। যে কক্ষে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে গিয়ে তদন্ত করার পর বলতে পারবো আসলে কি ঘটেছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এখানে রীতিমতো সপ্তাহে দুবার আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাউন্সিলিং করা হয়। মানসিক সমস্যা শেয়ার করার জন্য চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারপরও কেন এ ধরনের আত্মহত্যা বাড়ছে, আমি বুঝিনা। শিক্ষার্থী শেফা প্রেম ঘটিত কারণে আত্মহত্যা করেছে বলে নিশ্চিত করেন উপাচার্য। তিনি বলেন, যে ছেলের সাথে তার সম্পর্ক ছিলো, সেও এই মুহূর্তে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানান উপাচার্য বদরুজ্জামান ভূঁইয়া।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর আগেও ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তারা হলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বৃষ্টি সরকার, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শাহরিন রিভানা ও গণিতের সুপ্রিয়া দাস। একই সময়ের মধ্যে ১১ শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলে দুজন, শের-ই-বাংলা হলে তিন জন, শেখ হাসিনা হলে একজন, মেসে চার জন এবং নিজ বাসায় এক ছাত্র আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। সর্বশেষ গত ১৭ জানুয়ারি রাতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৮ম ব্যাচের বৃষ্টি সরকার মেসে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।