পটুয়াখালীর ৩৫ গ্রামে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর গ্রামের প্রায় ২ হাজার মানুষসহ জেলার ৩৫টি গ্রামে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন করছেন।

রোববার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় বদরপুর দরবার শরীফে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরিফের খাদেম মো. নাজমুল হোসেন জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ১৯২৮ সাল থেকে এখানকার গ্রামবাসীরা একদিন আগে থেকে রোজা রাখা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় একদিন আগে তারা ঈদ উদ্‌যাপন করছে।

আরো পড়ুন : নিখোঁজের তিন দিন পর পায়রা নদী থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

জানা গেছে, জেলার গলাচিপার সেনের হাওলা, পশুরী বুনিয়া, নিজ হাওলা, কানকুনি পারা, মৌডুবি, বাউফলের মদনপুরা, রাজনগর, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, সুরদি, চন্দ্রপাড়া, দ্বিপাশা, শাপলা খালী, কনকদিয়া, আমিরাবাদ, কলাপাড়ার নিশানবাড়িয়া, ইটবাড়ীয়া, শহরের নাঈয়া পট্টি, টিয়াখালী, তেগাছিয়া, দক্ষিণ দেবপুরসহ মোট ৩৫ গ্রামের ২৫ হাজার মানুষ ঈদুল আজহা পালন করেছে। এরপর আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় পশু কোরবানি করেন।

এরা সবাই হানাফি মাজহাব কাদেরিয়া তরিকাভুক্ত। এদের বর্তমান পীর চট্টগ্রাম চন্দনাইশ উপজেলার হযরত শাহসুফি মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মমতাজ আলী।




কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দীর্ঘদিন পরে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান মুসা ও সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান অমি গাজী।

শুক্রবার রাতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক তানভির হাসান আরিফ স্বাক্ষরিত এক প্রেস নোটে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগামী এক বছরের জন্য ছাত্রলীগের এ নতুন কমিটির তথ্য জেলা থেকে পোস্ট করার পর পর নবাগত নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানিয়ে শনিবার সকালে কলাপাড়া পৌর শহরে আনন্দ মিছিল করে ছাত্রলীগ।

আরো পড়ুন : নিখোঁজের তিন দিন পর পায়রা নদী থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

মিছিল শেষে ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান মুসা ও সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান অমি গাজী ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অধ্যক্ষ মোঃ মহিববুর রহমান এমপি’র বাসভবনে উপস্থিত হন।




নৌপথে কাঙ্খিত যাত্রীর আকাল,সড়ক পথে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

বরিশাল অফিস :: ঈদ উল আজহাকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে বরিশালে ঘরমুখী জনস্রোত শুরু হয়েছে।

শনিবার রাতের শেষ প্রহর থেকে বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়ক সহ ফরিদপুর হয়ে উত্তরবঙ্গমুখী সবগুলো মহাসড়কেই যানবাহনের দীর্ঘ লইনে ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রায়শই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।

তবে ঐতিহ্যবাহী বরিশালের নৌপথে সেই চিরচেনা দৃশ্য আর নেই। শুক্রবার সন্ধ্যায় নিয়মিত ট্রিপের অতিরিক্ত কয়েকটি বেসরকারী নৌযান ছাড়াও প্রায় ৩ বছর পরে বিআইডব্লিউটিসি’র ‘ঈদ স্পেশার সার্ভিস’র জাহাজ ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করলেও যাত্রীদের তেমন দেখা মেলেনি।

বেসরকারী নৌযান মালিকরা বছরজুড়ে দুটি ঈদে ব্যবসার যে আশায় ছিলেন,পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে তা এখনো অনুপস্থিত।

অপরদিকে, অপ্রশস্ত বরিশাল-ফরিদপুর জাতীয় মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আর যান চলাচলে ধীর গতির কারনে অনেক বাড়তি সময় ব্যায়ের পরেও গত দুটি বছরের মত বরিশাল ও সন্নিহিত এলাকার মানুষ এবারো সড়ক থেকেই বেছে নিচ্ছেন। এবারো ঈদের আগে পরে অন্তত ১০ লাখ মানুষ বরিশাল অঞ্চলে যাতায়াত করবে বলে আশা করছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।

তবে এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সড়ক পথে বাড়তি ভাড়া অদায়েরও সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ঈদকে সামনে রেখে ঢাকার সাথে বরিশালের সড়ক পথে রুট পারমিটবিহীন যানবাহন চলাচলেরও অভিযোগ রয়েছে।

পদ্মা সেতু চালুর পূবর্বর্তি যুগের পর যুগ ধরে বরিশালের নৌপথ ছিল রমরমা বানিজ্যের এক প্রধান ক্ষেত্র। এমনকি এখন পর্যন্ত এ অঞ্চলে প্রধান বিনিয়োগ রয়েছে নৌপথেই। বিভিন্ন বানিজ্যিক ব্যাংক ও ব্যক্তির বরিশালের নৌবানিজ্যে বিনিয়োগের পরিমান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। প্রবাদ আছে বরিশাল অঞ্চলের মানুষের জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় কেটেছে নৌপথে। লিফট সংযোজিত অত্যাধুনিক বিলাসবহুল বহুতল নৌযানের পথিকৃত বরিশালই।

বিশাল যানজট পেরিয়ে সদরঘাটে পৌঁছানো সহ ঘাট শ্রমিক ও ইজারাদারদের অনৈতিক কর্মকান্ড সহ নানা বিড়ম্বনায় এ অঞ্চলের মানুষের নৌপথে ভ্রমণের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে পদ্মা সেতু চালুর পরে যাত্রীদের একটি বড় অংশ নৌপথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এমনকি পদ্মা সেতু চালুর আগে বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল রুটের নৌযানে একটু জায়গা পাওয়া সহ ‘সোনার হরিণ’ একটি কেবিনের টিকিট এতদিন মহা সৌভাগ্য মনে করতেন যাত্রীরা।

পদ্মা সেতু চালুর পরে এখন তা অতীত। এতদিন সাধারন যাত্রীরা নৌযানের পেছনে ছুটলেও এখন বরিশাল ও ঢাকা নদী বন্দরে নৌযান সমূহ যাত্রীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। এমনকি বরিশাল-ঢাকা নৌপথে রুট পারমিটধারী ২৯টি নৌযানের অন্তত ১৫টির কেন হদিস নেই। যার অনেকগুলোই ইতোমধ্যে স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রী হয়ে গেছে। বছর কয়েক আগেও ঈদ ও কোরবানির আগে পরের অন্তত ৮ দিন ১৫টি করে বেসরকারী নৌযান প্রতিদিন ডাবল ট্রিপে যাত্রী পরিবহন করলেও বৃহস্পতি ও শুক্রবার ঢাকা-বরিশাল রুটে ১০টির বেশী লঞ্চ চলেনি। বিআডব্লিউটিএ এবং নৌযান মালিক-শ্রমিকদের মতে রোববার পর্যন্ত ঢাকা থেকে এবং আগামী বুধবারের পরে বরিশালহ সন্নিহিত এলাকা থেকে কর্মস্থলমুখী ফিরতি যাত্রায় ভীড় থাকছে নৌপথে। এবারো যাত্রীদের নৌপথমুখী রাখতে বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল নৌযানে যাত্রী ভাড়া বৃদ্ধি করেনি নৌযান মালিকরা।

এদিকে, দেশের ৮ নম্বর বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কটিতে পদ্মা সেতু চালু হবার পরে ক্ষমতার ৩ গুনেরও বেশী যানবাহন চলছে। পদ্মা সেতু চালুর পরে ১৮-২৪ ফুট প্রশস্ত এ মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা দৈনিক গড়ে ১৮ হাজারে উন্নীত হয়েছে। যা ৬ লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের প্রায় সমান বলে সড়ক অধিদপ্তর ও হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে।

ঈদকে সামনে রেখে শুক্রবার থেকে যানবাহনের সংখ্যা ৪ গুনে উন্নীত হওয়ায় সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের ভাঙ্গা-বরিশাল অংশের ৯১ কিলোমিটার অতিক্রম করতেই ৩ থেকে ৪ ঘন্টারও বেশী সময় লাগছে। ফলে নারী ও শিশু সহ সব যাত্রীর দুর্ভোগ সব সীমা ছাড়িয়েছে। এ সড়ক পথে জেলা পুলিশের পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নও নিয়োগ করা হয়েছে শুক্রবার সকাল থেকে। কিন্তু নৌপথে এখনা কাঙ্খিত যাত্রী নেই।

তবে গত দুবছরের খরা কাটিয়ে আসন্ন ঈদ উল আজহায় রাজধানী থেকে বরিশালের নৌপথে মাত্র দুদিন নিরাপদ যাত্রী পরিবহন করছে রাষ্ট্রীয় জাহাজ চলাচল প্রতিষ্ঠান-বিআইডব্লিউটিসি। তবে চট্টগ্রাম-বরিশাল নৌপথটি বন্ধ রয়েছে গত প্রায় ১৩ বছর। ফলে ঝড় ঝঞ্ঝার মৌসুমে এ অঞ্চলের যাত্রীদের ঘরে ফিরতে দুর্ভোগের সাথে ঝুঁকিও বাড়ছে। কিন্তু এ রুটের জন্য ৫টি নতুন নৌযান সংগ্রহ ও পুনর্বাসনে সরকারী কোষাগার থেকে শতাধিক কোটি টাকা ব্যায় হয়েছে গত কুড়ি বছরে।

এদিকে,বরিশালে ঈদ উল আজহা উপলক্ষে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনের মহাসড়কে অভিযানে ১৫;জুন শনিবার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরিশাল জেলার বিভিন্ন অংশে অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন গাড়ী বন্ধসহ সড়ক নিরাপত্তায় ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসক বরিশাল শহিদুল ইসলাম এর নির্দেশে গৌরনদী, উজিরপুর ও বরিশাল সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার ভূমিবৃন্দ মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তারা স্পিডোমিটার দিয়ে গাড়ির গতিসীমা পরীক্ষা করেন। দূরপাল্লার গাড়িগুলোকে মহাসড়কে গতিসীমা মেনে চলতে সতর্ক করা হয়।

রুটপারমিট বিহীন গাড়ি, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রভৃতি অপরাধে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর বিধান মোতাবেক আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যাত্রী ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসন বরিশালের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো: জিহাদুল কবির বলেন, মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে মিটিং হয়েছে। আমরা তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছি। কোন বাসে অতিরিক্ত যাত্রী ও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অধিক ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে আমরা ভালোভাবেই মনিটরিং করতেছি। যদি কোন পরিবহনের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অধিক ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠে আমরা সাথে সাথেই ব্যবস্থা নিব।

বরিশাল জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন,ঈদুল আযহা কেন্দ্র করে ঢাকা থেকে অনেক মানুষ বরিশালে আসবে। বিশেষ করে এ সময় যাত্রীদের চাপ কেন্দ্র করে কোন ফিটনেসবিহীন গাড়ি। যে গাড়িগুলো যাত্রীদের জন্য নিরাপদ নয় এ ধরনের গাড়ি যেন মহাসড়কে চলাচল করতে না পারে ও যাত্রীদের কাছ থেকে জিম্মি করে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা না নিতে পারে সে জন্য আমাদের জেলা প্রশাসনের এক্সক্লুসিভ ম্যাজিস্ট্রেটের টিম কাজ করছে । আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নিরাপদ ঈদ যাত্রা দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর।




বরিশালে ঈদ উল আজহা উপলক্ষে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনের মহাসড়কে অভিযান

বরিশাল অফিস :: ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরিশাল জেলার বিভিন্ন অংশে অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন গাড়ী বন্ধসহ সড়ক নিরাপত্তায় ব্যবস্থা গ্রহণে বরিশাল জেলার বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম এর নির্দেশনায় ঢাকা বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী, উজিরপুর ও বরিশাল সদর উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে মোবাইল কোর্ট পরিচলানা করা হয়।

এ সময় তারা স্পিডোমিটার দিয়ে গাড়ির গতিসীমা পরীক্ষা করেন। দূরপাল্লার গাড়িগুলোকে মহাসড়কে গতিসীমা মেনে চলতে সতর্ক করা হয়। রুটপারমিট বিহীন গাড়ি, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রভৃতি অপরাধে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর বিধান মোতাবেক ৭টি মামলায় ৩৩,৫০০/- টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। যাত্রী ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসন বরিশালের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।




নিখোঁজের তিন দিন পর পায়রা নদী থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে নিখোঁজ হওয়ার ৩ দিন পর পায়রা নদী থেকে খাদিজা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ জুন) দুপুর ২টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে গেলে পায়রা নদীর লেবুখালী ইউনিয়নের আলগির চরে কচুরিপানার মধ্যে লাশটি দেখতে পেয়ে দুমকি থানা পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে শেষ দিকে জমে উঠেছে কোরবানী পশুর হাট

নিহত খাদিজা বেগম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ২নম্বর বদরপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আইয়ুব আলী খানের স্ত্রী।

তিনি গত ৩ দিন আগে বাড়ি থেকে পার্শ্ববর্তী দুমকি উপজেলায় ভাইয়ের ছেলের কাছে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হন।

জানা যায় খাদিজা বেগম সুস্থ এবং স্বাভাবিক একজন মানুষ ছিলেন। গত ১২ জুন (বুধবার) পার্শ্ববর্তী দুমকি উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তারপর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে কি কারণে বা কীভাবে নিখোঁজ হয়েছে তার কারণ জানা যায়নি। পরবর্তীতে আত্মীয়স্বজনরা নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি ফেসবুকে দিলে অনেকেই জানতে পারেন।




বরিশালের রিকসা চালক বাবার সন্তান সোহেল সরদারের এক সপ্তাহেও খোঁজ মেলেনি নিখোঁজ

বরিশাল অফিস :: রিকসা চালক বাবার অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে ঈদ-উল আযহার পরেরদিন প্রবাসে যাওয়ার কথা রয়েছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদ গ্রামের যুবক সোহেল সরদারের (২১)। এরইমধ্যে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুলিশ অদ্যবর্ধি নিখোঁজ যুবকের সন্ধান মেলাতে পারেনি।

নিখোঁজ সোহেল বেঁচে আছে নাকি তাকে কেউ অপহরণ করে হত্যা করেছে, সেকথা ভেবে পাগল প্রায় সোহেলের রিকসা চালক বাবা শাহ আলম সরদার ও মা সোনেফা বেগম। ছেলের সন্ধান পেতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরীর পাশাপাশি ঘুরছেন বিভিন্ন লোকজনের দ্বারে দ্বারে।

শনিবার দুপুরে নিখোঁজ সোহেলের বাবা শাহ আলম সরদার জানান, আমার ছেলে ফ্রেস কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার ঝাউচরের গুদারাঘাট এলাকায় মালামাল সরবরাহ করে আসছিলো। সে ওই এলাকার আলমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতো। গত ৯ জুন বিকেলে কেরানীগঞ্জ থানার ঝাউচর এলাকার বিভিন্ন দোকান থেকে বিক্রয় প্রতিনিধির টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে রহস্যজনক ভাবে সোহেল নিখোঁজ হয়।

নিখোঁজের পর থেকে তার কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছেনা। এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে (যার নম্বর ৭১৬)। ছেলের সন্ধান পেতে তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 




পটুয়াখালীতে শেষ দিকে জমে উঠেছে কোরবানী পশুর হাট

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে জমে উঠেছে কোরবানী পশুর হাট। জেলার ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা শহরের হাট গুলোতেও এখন ক্রেতা বিক্রেতাদের উপচে পরা ভিড়। তবে গত কয়েকদিন হাটে বেচা বিক্রি কম হলেও শনিবার থেকেই মূলত কোরবানী পশুর মূল বিক্রি শুরু হবে বলে জানান হাট সংশ্লিষ্টরা।

পটুয়াখালী সহ দক্ষিণ অঞ্চলের কোরবানী উপযোগী করে যে সব গবাদী পশু লালন পালন করা হয় তার বড় একটি অংশ গৃরস্ত বাড়িতেই লালন পালন করা হয়। ফলে খামারে লালন পালন করা গরুর থেকে এই গরুর চাহিদা একটু বেশি থাকে। এ কারনে বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে অনেকে সরাসরি মালিকের কাছ থেকে গরু ক্রয় করতে দেখা গেছে। তবে শুক্রবার থেকে অধিকাংশ গরুর মালিক তাদের পশুগুলো হাটে তুলতে শুরু করেন।

পটুয়াখালী হেতালিয়া এলাকার খামারি ও পটুয়াখালী সদর উপজেলা ডেইরি ফার্মাস এসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এবার আমি আমার খামারে মোট ৫টি গরু মোটাতাজা করণ করেছি। এগুলো সব আমার নিজস্ব খামারের গরু। তবে গরুর খাবারের যে দাম তাতে খরচ অনেক বেশি হয়। এর পরও যেহেতু খামারে উৎপাদিত বাছুর, সে কারনে সেগুলোকেই লালন পালন করে কোরবান তে বিক্রি উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বাজারে এখনও পুরোদমে বিক্রি শুরু হয়নি। অনেকেই গরুর দাম দর করছেন, যেহেতু এখনও কোরবানীর ১ দিন বাকী আছে,হয়তো আজ (শনি – রবিবার) অধিকাংশ গরু বিক্রি হবে। ’

পটুয়াখালী হেতালিয়া বাঁধঘাট পশুর হাটে গরু কিনতে আশা ক্রেতা বাদশা মৃধা জানান, কোরবানীর ১দিন বাকী থাকায় এখনও বিক্রেতারা গরুর দাম ছাড়ছে না। এ কারনে গরু কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বাজারে বিভিন্ন সাইজের গরু আছে। সমস্যা হচ্ছে দুই দিন আগে গরু কিনলে তা লালন পালন করা এবং রাখা একটা বড় সমস্যা, এই কারনে শেষ দিনে গরু কিনতে হবে।

এদিকে গত কয়েক মাস থেকেই তিব্র দাবদাহ এবং গরমের কারনে গবাদী পশু নিয়ে কিছুটা বিপাকে পরেন খামারিরা। এমন পরিস্থিতিতে এই আবহাওয়ায় হাঁটে গরুর প্রতি বাড়তি নজর দেয়ার কথা বলছেন প্রানী সম্পদ বিভাগ। তবে প্রতিটিন হাটেই প্রাণী সম্পদ বিভাগের মেডিকেল টিম কাজ করছে করছে বলে জানান তারা।

আরো পড়ুন : ঈদের লম্বা ছুটিতে পর্যটক বরনে প্রস্তুত কুয়াকাটা

বিগত বছর গুলোর মতো এ বছরেও পটুয়াখালী জেলায় উৎপাদিত গরু ছাগল দিয়ে জেলার স্থানীয়দের কোরবানীর চাহিদা মিটিয়ে বাহিরের জেলায় সরবরাহ করতে পারবেন বলে দাবী জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের।

পটুয়াখালী জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ ফলজুল হক সরদার জানান, পটুয়াখালী জেলায় এবার কোরবানীর জন্য ১২৬৬৭৬ গবাদী প্রাণী লালন পালন করেছেন ৬০৯০ জন খামারি। তবে জেলার জেলায় কোরবানী উপযোগী পশুর চাহিদা রয়েছে ১২৩২১০ টি। এ ক্ষেত্রে ৩৪৬৬ টি গবাদী প্রাণী উদ্বৃত্ত রয়েছে ,যা দিয়ে অন্য জেলার চাহিদাও মেটানো সম্ভব হবে।

এবার পটুয়াখালী জেলায় মোট ২৭ টি পশুর হাটে গবাদী পশু বিক্রি হচ্ছে। হাট গুলোতে প্রাণী সম্পদ বিভাগের মেডিকেল টিমের পাশপাশি জেলা পুলিশের নির্দিষ্ট টিম কাজ করছে। এসব পুলিশ ক্যাম্পে জাল টাকা সনাক্ত করন সহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।




ঈদের লম্বা ছুটিতে পর্যটক বরনে প্রস্তুত কুয়াকাটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও মুসলমানদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে লম্বা ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটক বরণ করতে প্রস্তুত সাগর কন্যা কুয়াকাটা। টানা ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুরা সমুদ্র সৈকতে ছুটে আসবেন বলে প্রত্যাশা পর্যটন ব্যবসায়ীদের। কিন্তু কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট গুলোতে এখন পর্যন্ত নেই অগ্রিম বুকিং।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন আশা করছি ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠবে কুয়াকাটা সৈকত।

এদিকে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশের নজরদারি, থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। জোরদার করা হয়েছে উদ্ধার কার্যক্রম।

শনিবার বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেল, রিসোর্ট,ও বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পর্যটক বরণে পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত আশানুরূপ বুকিং না থাকায় কিছুটা হতাশায় ভুগছেন তারা। তবে ঈদের পরে পর্যটক আসবে বলেই বিশ্বাস করছেন তারা ।যারা ঘুরতে আসবেন, তাদের জন্য পর্যটন এলাকাগুলো আরও আরামদায়ক ও মনোরম করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটকদের সেবা দেওয়া ১৬টি পেশার ব্যবসায়ী ও কর্মীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা, সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি। তবে আশানুরূপ অগ্রিম বুকিং না পাওয়ায় কিছুটা হতাশায় রয়েছেন অনেক ব্যবসায়ীরা। ঘূর্ণিঝড় রেমাল এবং অতিরিক্ত তাপদাহের প্রভাবে এ বছর আশানুরূপ পর্যটক আসেনি কুয়াকাটায়। বর্ষার আগে ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটক আসবে কুয়াকাটায় এটাই ছিল আমাদের আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সবার চোখে মুখে শুধু হতাশা।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা(টোয়াক) জয়েন্ট সেক্রেটারি আবুল হোসেন রাজু বলেন,বর্তমানে হোটেল-মোটেলগুলো ধুয়ে মুছে একবারে পরিপাটি করা হয়েছে। তবে তেমন কোন পর্যটক না থাকায় সৈকত দীর্ঘদিন ফাঁকা, পুরো এলাকা ঝকঝক করছে। বর্ষার শুরুতে সৈকতে উঁচু উঁচু ঢেউ,এ দৃশ্য নজর কাড়বে সব বয়সী মানুষের। এসব কারণে ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের আগমন ঘটবে এমনটাই সবার আশা।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন এর সাধারণত সম্পাদক মোঃ মোতালেব শরীফ বলেন, প্রতিবছর এইসময় আমাদের অধিকাংশ হোটেল এবং রিসোর্ট গুলোর রুম বুকিং হয়ে যায়। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত তেমন কোন বুকিং নেই। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের হোটেলের ৫০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। আশা করছি কুয়াকাটা সব হোটেল গুলোতেই বুকিং বাড়বে এবং ঈদ পরবর্তী সময়ে পর্যটকে মুখরিত থাকবে কুয়াকাটা। তবে সব মিলিয়ে ৩০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে কুয়াকাটায়।

আরো পড়ুন : নেপালের বিদায়ে যেমন হলো বাংলাদেশের সুপার এইট সমীকরণ

সী বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, ঈদের ছুটিতে বাড়তি পর্যটক আগমনের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত তৎপরতার পাশাপাশি তিনজন অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট, স্কাউটের প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও সৈকতে রেসকিউ টিম প্রস্তুত থাকবে। বাড়তি ভাড়া আদায় প্রতিরোধ ও হয়রানি বন্ধে নজরদারি করা হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং সেবা দেয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লেম্বুরবন থেকে রামনাবাদ চ্যানেল পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকবে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা। পর্যটকদের সেবায় জল ও স্থলপথে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।




বরিশালে কোরবানির গরু কিনতে খামারে ভিড় করছেন ক্রেতারা

বরিশাল অফিস :: গরুর হাট এখনো জমেনি বেশিরভাগ এলাকায়। যে দু চারটি জমজমাট বাজারের কথা শোনা যায়, সেখানেও পছন্দের গরু না পাওয়ায় হতাশ কোরবানির গরু কিনতে আগ্রহী ক্রেতারা। তারা এখন সার্চ দিচ্ছেন অনলাইনে, ঠিকানা খুঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন খামারে।

বরিশালের লোক ছুটে যাচ্ছেন ঢাকা কিম্বা চট্টগ্রাম, আবার ঢাকা চট্টগ্রামের লোকেরা ছুটে আসছেন বরিশালে। নগর ও মহানগরীর বাইরে প্রত্যন্ত গ্রামের অসংখ্য গরু খামার এখন অনলাইনে যুক্ত হয়ে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করার প্রতিযোগিতার নেমেছে বলে জানালেন একাধিক ব্যবসায়ী ও ক্রেতা। এমনকি গরুর হাটের ইজারাদার থেকে শুরু করে ক্ষুদে গরু ব্যবসায়ী এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বললেন, অনলাইন খামারিদের যন্ত্রণায় আর ডাক নেয়া যাবেনা। ক্ষুদে গরু ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে। মোটাতাজা করার মেডিসিন খাওয়া গরু খেয়ে মানুষ যখন প্রতারিত হবে তখন বুঝবে, বলে আক্ষেপ করেন একাধিক গরু ব্যবসায়ী।


তাদের এ বক্তব্যের প্রতিবাদে বরিশালের আমতলা মোড়ের একজন বাড়িওয়ালা মিরাজ হোসেন বললেন, আমি ইন্টারনেট সার্চ করে ঢাকার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও পিএসবি এগ্রো থেকে পছন্দের গরুটি কোরবানির জন্য কিনে এনেছি। ওখানে তারা প্রাকৃতিক ঘাস,খড়,ভুসি, খড়কুটো, ভুট্টা ইত্যাদি খাবার দিয়ে গরু লালনপালন করছেন। তাদের গরু যথেষ্ট হৃষ্টপৃষ্ঠ ও সুন্দর।

সরেজমিনে শনিবার (১৫ জুন) দুপুরে
বরিশালের গড়িয়ারপাড় এলাকার কেমিস্ট্র এগ্রো বায়োটেক ঘুরে দেখা গেল এখানে দূর দূরান্ত থেকে ক্রেতারা গরু কিনতে এসেছেন। এখানে গরু কিনতে আসা ঢাকার ইন্দিরা রোডের একজন ক্রেতা জাকির হোসেন বললেন, অনলাইনে দেখে ঠিকানা নিয়ে আমরা সরাসরি চলে এসেছি বরিশালের কাশিপুরে। এখানে গড়িয়ার পাড়ের রেন্ডিতলা বলতেই মহসড়ক সংলগ্ন এই কেমিস্ট এগ্রো বায়োটেক খামারটি স্থানীয়রা দেখিয়ে দিলেন । এখানে এসে যাচাই-বাছাই করে পছন্দের গরুটি কিনে নিয়েছি। খুবই তৃপ্তি পাচ্ছি এখন। আমার সাথে আমার ছেলে এসেছে। সেও মহাখুশি। খামারের লোকেরাই খরচ নিয়ে ঢাকায় পৌঁছে দেবেন গরুটি।

যশোর থেকে আসা ক্রেতা বললেন, এখানে এসে এদের কথা ও কাজের মিল পেয়েছি বলেই গরুটি কিনতে পারলাম।

এদিকে বরিশালের গরুর হাটগুলো দুদিন ধরে প্রচার প্রচারণা শুরু করেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকার ভিতরে স্থায়ী ২টি এবং অস্থায়ী ৬টি কোরবানির পশুর হাট বসানো হয়েছে। আর জেলায় স্থায়ী ১০টি ও অস্থায়ী প্রায় অর্ধশত পশুর হাট হয়েছে বলে জানালেন জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। বরাবরের মতো চরমোনাই ময়দানেও গরুর হাট সাজানো হয়েছে। যেখানে কখনোই হাসিল দিতে হয়না।


অন্যদিকে বিভাগীয় কমিশনার অফিস থেকে জানানো হয়েছে, এ বছর বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ৩২৮টি কোরবানির পশুর হাট বসবে। ছয় জেলায় ২৬ হাজার ৫৭৮ জন খামারি কোরবানিযোগ্য ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৪৫৪ পশু লালন পালন করেছেন। আর বিভাগে এবারের কোরবানিতে মোট পশুর চাহিদা ৪ লাখ ৩২ হাজার ৬১১টি। খামারিরা বলছেন, গো-খাদ্যের দাম বাড়ার প্রভাব পড়বে কোরবানির পশুর দামে। খামারে লাইভ ওয়েট মেশিনে বিক্রি করা পশুর দামও কেজি প্রতি ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তারা। হাটের চেয়ে খামারে লালনপালন করা পশু ঝুঁকি মুক্ত জানিয়ে এমন বাস্তবতা ক্রেতারাও মেনে নিয়েছেন। যে কারণে হাটগুলোতে এখনো পশু ও ক্রেতার উপস্থিতি কম। বরিশালে এমইপি অ্যাগ্রো ফার্মের ইনচার্জ মো. রাফিউর রহমান জানিয়েছেন, ভারতীয় গরু না এলে কোরবানির বাজার স্থানীয় গরুর দখলে থাকবে।

অন্যদিকে প্রায় ৯০ শতাংশ গরু অনলাইনেই বিক্রি হয়ে গেছে জানিয়ে গর্বিত কেমিস্ট এগ্রো বায়োটেক লিমিটেড এর পরিচালক ওয়ালিউল্লাহ। তিনি বলেন, অন্যদের কথা জানিনা, আমাদের এখানে প্রায় ২৫০টি গরু রয়েছে। প্রতিটি গরুর লালন-পালনে নিজস্ব উৎপাদিত খাবার সরবরাহ করা হয়, আমাদের ক্ষেতেই ঘাস,কুড়া, ভুট্টা, ধান চাষ হয়। এগুলো নয়টি উপাদানের মিশ্রণে আমাদের কেমিস্ট ল্যাবরেটরিজ এর নিজস্ব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া হয়। ফলে আমাদের মাংসের দাম কিছুটা বেশি কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পরবে বলে জানান তিনি।

এদিকে ঝিনাইদহ থেকে ১২টি গরু নিয়ে বরিশালের কাউনিয়া হাটে বসে হতাশা প্রকাশ করলেন গরু ব্যবসায়ী ইসমাইল মোল্লা। বললেন, এই গরমে গরুগুলো নিয়ে আতঙ্কে আছি। এখন পর্যন্ত ক্রেতার দেখা পাইনি। গরমের তীব্রতায় একটি গরুর ক্ষতি হলে আমরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবো বলে জানালেন একাধিক গরু ব্যবসায়ী।




বরিশালে দুই সন্তানের জননী কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল মুলাদী উপজেলায় পারিবারিক কলহের জের ধরে দুই সন্তানের জননী মোসাম্মৎ পুতুল নামের (৩০) এক গৃহবধূ কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছে ।

মুলাদী উপজেলার গাউছিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে গতকাল ( ১৪ জুন) বিকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত পুতুল ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা একটি মাদ্রাসার ইমাম মোঃ আহসান উল্লাহার গৃহবধূ ছিলেন।

শনিবার ( ১৫ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, বরিশাল মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া তিনি জানান,দীর্ঘদিন ধরেই তাদের স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে পরিবারিক সমস্যা ছিল সেই থেকেই কলহের জের ধরে গৃহবধূ পুতুল অভিমান করে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছেন। বিষ পান করার সাথে সাথেই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

পরবর্তীতে তার স্বামী পুতুলকে বাড়ি নিয়ে গেলে পুলিশ খবর পেয়ে তার বাসা থেকে পুতুলের লাশ উদ্ধার করে। পুতুলের স্বজনের কাছে হস্তান্তর করে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ না করায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নিহত পুতুলের স্বামী মোঃ আহসান উল্লাহ জানান, আমার স্ত্রীর সাথে দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক সমস্যা চলছিল। সে আমাকে বিভিন্ন সময় ভাবে মিথ্যা কথা বলতো। সেই থেকেই সে আর আমি ভিন্ন থাকতাম তবে সঠিক কী কারণে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে তা আমার জানা নেই।

তবে এ বিষয়ে বরিশাল মুলাদী উপজেলার গাউছিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে গ্রামের বাসিন্দা পুতুলের স্বজন আরিফুর রহমান ইমন জানান, আহসান উল্লাহা তার স্ত্রীকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক ভাবে অত্যাচার করতো এবং স্ত্রী পুতুলের ও তার দুই সন্তানের খোঁজখবর রাখতো না তাই বিভিন্ন মানসিক চাপে পড়েই বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।