ঈদের ছুটির ৩ দিনে বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭

বরিশাল অফিস :: ঈদের ছুটির তিনদিনে পৃথক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছে। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার আটিপাড়া নামক এলাকায় বুধবার দুপুরে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের সাথে গ্রেট বিক্রমপুর নামের পরিবহনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বৃষ্টি আক্তার (১৮) নামের এক কলেজছাত্রী নিহত ও কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঝালকাঠি থেকে বরযাত্রী নিয়ে মাইক্রোবাসটি গৌরনদীর বাটাজোরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো।

অপরদিকে একই উপজেলার নতুন শিকারপুর এলাকায় ১৮ জুন দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে রাস্তাপারাপারের সময় বরিশালগামী সাকুরা পরিবহনের ধাক্কায় ইসমাইল বেপারী (৭৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। তিনি (ইসমাইল) উপজেলা সদরের মুন্ডপাশা গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ ঘাতক বাস ও চালককে আটক করেছে।

অপরদিকে নগরীর কাশিপুর এলাকায় ১৬ জুন সকালে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে বেপারী পরিবহনের চালকের সহকারী মোঃ সোহাগ (১৯) ও কুমিল্লার বাসিন্দা অজ্ঞাতনামা সুপারভাইজার (৪০) নিহত হয়েছেন।

আহত আট যাত্রীকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একইদিন ভোররাতে বরিশাল-ঝালকঠি মহাসড়কের নলছিটি এলাকার শ্রীরামপুর বাজারে সাকুরা পরিবহনের বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি চালক আল-আমিন ও যাত্রী আলতাফ মুন্সী নিহত হয়েছেন।

অপরদিকে ১৫ জুন দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ব্রিজে দুইটি থ্রি-হুইলারের সংঘর্ষে স্বপ্না বেগম (৫০) নামের এক নারী যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত চালকসহ দুইজনকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।




বরিশালে দেখা দিল আষাঢ়ে প্রথম স্বস্তির বৃষ্টি

বরিশাল অফিস :: ঘূর্ণীঝড় রিমেলের পর অবশেষে বরিশালে দীর্ঘ অস্বস্তি গরমের পর প্রথমবারে আষাঢ় মাসে মাত্র ত্রিশ মিনিটের জন্য মুসলধরে বজ্র বৃষ্টির মাধ্যমে নগরবাশির মাঝে ক্ষনিকের স্বস্তি এসেছে।

বুধবার (১৯) জুন,৫ই আষাঢ় সকাল থেকে বরিশালের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে ঊঠায় বিগত দিনের মত তেমন কোন গরমের প্রভাব দেখা যায়নি।

বেলা বাড়ার সাথে সাথে আকাশ মেঘে ভারি হয়ে উঠে অবশেষে বেলা বারটার দিকে মুষল ধরে বৃষ্টির শুরু হওয়ার সাথে সাথে আকাশে ছিল বজ্রের ডাক।

এসময় নগরের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ পূর্ব থেকে ছাতা নিয়ে বেড় হয়ে এসেছে তারা স্বস্তির মত চলা ফেরা করতে পারলেও অন্যসকল শ্রেণির মানুষ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। মাত্র ত্রিশ মিনিটের বৃষ্টিতে নগরীর সদররোড, আগুুরপুর সড়ক প্রেসক্লাব গলি সহ বিভিন্নস্থানে পালি জমে যায়।

এসময় বেশ কিছু পথচারি বলেন হঠাৎ করে বৃষ্টি চলে আসায় আমাদের চলাচলে সামান্ন ক্ষতি হলেও তারপরেও আমাদের মনে দীর্ঘ গরমের ভিতর যে অস্বস্তি ভোগ করেছি তার চেয়ে এবৃষ্টি অনেক আনন্দের এখন মনে হচ্ছে শরীরটা শিতল হয়ে এসেছে।

অপরদিকে নগরীর রাস্তায় কতিপয় পথচারি নিজ থেকেই বৃষ্টিতে ভিজে দীর্ঘ গরমের শরীরের ভিতর জমে থাকা তাফ দুর করছে।

এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বরিশালের আকাশ মেঘাচ্ছনের পাশাপাশি গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে সেই সাথে বইছে হালকা শিতল বাতাশ। অন্যদিকে ঈদুল-আযহার পর অফিস আদালত খোলা থাকার পরও নগরীর রাস্তায় তেমন কোন লোকজনের চাপ নেই।




বরিশালে পুকুর থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার একটি পুকুর থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৯) জুন, বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে নথুল্লাবাদ বিআরটিসি বাস ডিপো সংলগ্ন ওই পুকুর থেকে মরদহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয়রা সকালে বিআরটিসি বাস ডিপোর পেছনের অংশে অবস্থিত ওই পুকুরে নারীর মরদেহ ভাসতে দেখে থানা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় লাল রংয়ের পোশাক পরিহিত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত নারীর বয়স আনুমানিক পঞ্চাশোর্ধ হবে। তবে মরদেহের শরীরে পচন ধরায় চেহারা ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছে না।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার মো. ফারুক হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। আর বর্তমান অবস্থাতে কেউ এখনও ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। মরদেহের ডিএনএ স্যাম্পল রাখা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

 




ঈদের দ্বিতীয় দিনে প্রাণ ফিরেছে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঈদের দ্বিতীয় দিনে পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। মঙ্গলবার সকাল থেকে সৈকতে পর্যটকের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিকালের দিকে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢল নামে। আর সন্ধ্যার পরে তো বিনোদন প্রিয় মানুষের আনাগোনায় রীতিমতো মুখর হয়ে উঠে সাগরকন্যা কুয়াকাটা।

প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে সৈকতের বেলাভূমিতে আনন্দ উন্মাদনায় মেতেছেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার সৈকতের বেঞ্চিতে বসে অথবা প্রিয়জনের হাতে হাত রেখে সৈকতের মেলাভূমিতে হেঁটে উপভোগ করছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ঝাউবাগান, শুটকি পল্লী ও গঙ্গামতিসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে পর্যটকের উপস্থিতি বেড়েছে। এতে কুয়াকাটার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিক্রিও বেড়েছে।

সৈকতের ছাতা বেঞ্চ ও স্পিড বোট ব্যবসায়ী মো. খলিফা বলেন, আজকে অনেক পর্যটক বেড়েছে। এ সপ্তাহে আরও বাড়বে।

আরো পড়ুন : ছুটি শেষে বুধবার খুলছে সরকারি অফিস, চলবে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী

হোটেল-মোটেল ওর্নাস এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব শরীফ জানান, আজকে ভাল পর্যটক আসছে এবং ফোনেও রুম বুকিং হচ্ছে। গরমটা কমলে আরও পর্যটকের আগমন ঘটবে।

বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, পর্যটকের নিরাপত্তারয় আমরা উপজেলা প্রশাসন ও মহিপুর থানা পুলিশ, কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত আছি।




ছাগলের চামড়ায় নিয়ে বরিশালে ব্যবসায়ীদের অনীহা

বরিশাল অফিস ::  দাম বাড়াতে বরিশালের আড়তগুলোতে গরুর কাঁচা চামড়ার আমদানি গত বছরের থেকে তুলনামূলক বেশি থাকলেও, ছাগলের চামড়াতে অনীহা ব্যবসায়ীদের। ফলে এবারও মূল্যহীন অবস্থা রয়েছে ছাগলের চামড়া।

বরিশাল নগরের হাটখোলা ও পদ্মাবতী এলাকার তিন-চারজন ব্যবসায়ী কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে কিনছেন। তারা কেউই ছাগলের চামড়ার দাম করেননি। ফলে পরিবহন ভাড়া আর শ্রম দিয়ে সংগ্রহ করা ছাগলের চামড়াগুলো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনেই ফেলে রেখে চলে যান সংগ্রহকারীরা।

হাইড অ্যান্ড স্কিন অ্যাসোসিয়েশন বরিশালের সভাপতি বাচ্চু মিয়া বলেন, গরুর চামড়া নিয়ে আসলে কাউকেই ফেরাতে চাচ্ছি না। দর-দাম করে রেখে দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে ছাগলের চামড়া নিতে চাই না। ছাগলের একটি চামড়ার পেছনে শ্রম দিয়ে সংরক্ষণ করতে যে খরচ হবে তা ট্যানারি মালিকরা দেবেন না।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ছাগলের চামড়ার কোনো মূল্য ওঠে না বরিশালের বাজারে। তারপরও অনেকেই ছাগলের চামড়া নিয়ে আসছেন কিন্তু আমি নিরুপায় তা নিতে পারছি না। তাই ফেরত নিয়ে যেতে বলি, কিন্তু বেশিরভাগেই ফেরত না নিয়ে ফেলে রেখে যাচ্ছেন।

আর মাঠ পর্যায় থেকে চামড়া সংগ্রহকারীরা বলছেন, গতবারের থেকে গরুর চামড়ার দর কিছুটা বেশি, তবে ছাগলের চামড়ার জন্য কোনো টাকাই দিতে চাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।

মর্তুজা নামে এক চামড়া সংগ্রহকারী জানান, সাধারণত দর পড়ে যাওয়ার পর থেকে গত কয়েকবছর মাদরাসাগুলো চামড়া সংগ্রহ করেন। তবে এবার দাম বাড়াতে মাদরাসা ছাড়াও ব্যক্তি পর্যায়ে অনেকে চামড়া সংগ্রহ করছেন, তবে তারা বাজারের অবস্থা না বুঝে এবারে ছাগলের চামড়াও সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু ছাগলের চামড়ার কোনো দামই দিতে চান না পাইকাররা। তাই বাধ্য হয়ে ছাগলের চামড়া ফেলে দিতে হয়েছে, কিন্তু যদি ৫০ টাকা করেও কেউ দিত, তাহলে অন্তত গাড়ি ভাড়ার খরচ উঠতো।

অপরদিকে নগরের পদ্মাবতী এলাকার ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান মাসুম বলেন, সময়মতো সংরক্ষণ না করলে চামড়া নষ্ট হয়ে যায়, তাই গরুর চামড়া সংরক্ষণেই সবাই ব্যস্ত থাকি। কারণ ট্যানারিতে পৌঁছানোর আগে নষ্ট হলে সব লোকসান আমাকেই গুনতে হবে। আর এর মধ্যে ছাগলের চামড়া কেনার সুযোগই নেই। এর পেছনে এখন দেওয়া সময়, অর্থ ও শ্রম সবই বৃথা যাবে।

তিনি বলেন, আমাদের এ অঞ্চলে মাঝারি সাইজের চামড়া বেশি, তবে মান ভালো। আর এবারে গরুর চামড়ার তুলনামূলক আমদানি গতবারের থেকে ভালো আছে, সেদিকেই মনোযোগ দিতে চাই। হাতে থাকা টাকার সবটাই সেখানে ব্যয় করতে চাই।

 




বরিশালে বাকিতে চামড়া কিনছেন ব্যবসায়ীরা

বরিশাল অফিস :: ঢাকায় কয়েক কোটি টাকা আটকা। তাই নগদ অর্থের অভাবে বরিশালে সবপশুর চামড়ার দাম বাকিতে পরিশোধ করছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা।

সোমবার (১৭ জুন) ঈদুল আযহার জামাতের পর কোরবানি শুরু হয়। সারা দিন চামড়া সংগ্রহের পর সেগুলো নিয়ে যাওয়া হয় আড়ত বা ট্যানারিতে।

(১৮) জুন সকালে আলাপকালে বরিশালের হাইড অ্যান্ড স্কিন অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি বাচ্চু মিয়া বলেন, ঢাকার ট্যানারি ব্যবসায়ীদের কাছে বছরের পর বছর ধরে আমাদের বরিশালের আড়তদারদের কয়েক কোটি টাকা আটকা। তারপরও যারা এ ব্যবসা কোনোভাবে টিকে আছি, সংগ্রাম করতে হচ্ছে। কোরবানির কিছুদিন আগে কয়েক লাখ টাকা দিয়েছে ট্যানারি ব্যবসায়ীরা, যা দিয়ে পশুর বড় ধরনের চামড়ার মজুদ করা সম্ভব না। তাই এবারে নিজের এলাকার একটি মাদরাসার সংগ্রহকৃত পশুর চামড়া ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছি না। তারা নগদ টাকা চায়। এখন যারা চামড়া নিয়ে আসছেন, তাদের সবাইকে সব টাকাও দিতে পারছি না, কিছু বাকিতেও রাখছি।তিনি বলেন, চামড়া শুধু রাখলেই হয় না, পরিষ্কার করে সেটিকে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখতে হয়। আর সেই লবণের দামও কোরবানির আগেই বস্তা প্রতি বেড়েছে।

সরকারের হস্তক্ষেপে গতবারের চেয়ে চামড়ার দর কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কেনা থেকে শুরু করে শ্রমিক দিয়ে পরিষ্কার করে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখতে আকার ভেদে গড়ে হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এখন আমরা কি দাম পাবো সেটা বলতে পারছি না, আবার সংরক্ষণ করা সব চামড়ার যে দর পাবো তাও বলতে পারছি না। এটা নির্ভর করবে ট্যানারি ব্যবসায়ীদের ওপর। সরকারের উদ্যোগ ভালো, তবে তার একার পক্ষে সবকিছু সামলানো সম্ভব নয়। সবাইকে মিলে উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে চামড়া শিল্প ভালো হয়।

যদিও মাঠ পর্যায়ে চামড়া সংগ্রহকারীরা বলছেন, যেটুকু বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে তা ২০ থেকে ৫০ টাকার বেশি নয়। আর বরিশালে অল্প ব্যবসায়ী মাঠে থাকায় বাজারও যাচাই করা যাচ্ছে না।

বরিশাল নগরে এবার ৩-৪ জন ও জেলা মিলিয়ে ৫-৬ জনের বেশি চামড়া সংগ্রহ করছেন না
বলে জানিয়েছেন পদ্মাবতী এলাকার ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান মাসুম। তিনি বলেন, আগে
১০-১৫ জন এ ব্যবসায় জড়িত ছিল। ঢাকার ট্যানারির কাছে টাকা আটকে যাওয়ার পর এখন
৩-৪ জন নগরে এবং গোটা জেলা মিলিয়ে ৫-৬ জন চামড়া সংগ্রহ করেন। আর আমি তো
ব্যবসা নয়, পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে এটা করছি। কোরবানির আগে ট্যানারি মালিকের কাছ থেকে কিছু টাকা পেয়েছি। আর এ টাকা দিয়ে যে কয়েক পিস চামড়া হবে তাই কিনবো। বাকি বাট্টার ঝামেলায় যাব না।

তিনি বলেন, বরিশালের বাজারে ২০-৩০ স্কয়ার ফিটের মধ্যে পশুর চামড়া পাওয়া যায়। যেখানে
মান ও আকার ভেদে ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকায় কিনছি। যা গতবারের থেকে তুলনামূলক বেশি। আর এ চামড়া সংরক্ষণে এভারেজে ৪০০ টাকার বেশি খরচ হবে। লবণসহ সংরক্ষণ ও পরিবহনের কারণে আমাদের খরচ বাড়লেও ট্যানারি কি দেবে সেটার ওপর নির্ভর করবে লাভ লোকসান। আবার সংরক্ষণ করা চামড়ার মধ্যে এই গরমে না হলেও ১৫ শতাংশ নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ ব্যবসা এখন ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে বলা যায়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারে বরিশাল জেলায় লাখের ওপর পশু কোরবানি

হবে। হাইড অ্যান্ড স্কিন অ্যাসোসিয়েশন ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা সর্বোচ্চ ৫০-৬০
হাজার চামড়া সংগ্রহ করতে পারবেন। বাকিটা জেলার বাইরের ব্যবসায়ীরা সংগ্রহকরতে
পারবে।




নতুন সাজে ভোলার বিনোদনকেন্দ্রগুলো

বরিশাল  অফিস :: দ্বীপ জেলা ভোলায় ঈদুল আজহাকে ঘিরে নতুন সাজে সেজেছে বিনোদনকেন্দ্রগুলো। ঈদ আনন্দকে আরও উপভোগীয় করে তুলতে প্রস্তুত করা হয়েছে পর্যটনকেন্দ্র, পার্টি সেন্টার ও রিসোর্ট।

উপকূলীয় জেলা ভোলার দর্শনার্থীদের বিনোদনের অন্যতম স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভোলা সদরের তুলাতলী মেঘনা পাড়ের ভোলা ইলিশ বাড়ি, আলপনা পার্টি সেন্টার, ইলিশা শাহবাজপুর পর্যটনকেন্দ্র, তেঁতুলিয়া বঙ্গবন্ধু উদ্যান ও খেয়াঘাট বেবিল্যান্ড শিশু পার্ক।

এ ছাড়া চরফ্যাশনের জ্যাকব টাওয়ার, শেখ রাসেল শিশু বিনোদনকেন্দ্র, জেনিক অ্যান্ড জেনিথ রিসোর্ট সেন্টার (খামার বাড়ি), বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক এবং কাকতাড়ুয়া ও চরকুকরিমুকরি পর্যটনকেন্দ্র।

ভোলা ইলিশ বাড়ি বিনোদন কেন্দ্রের পরিচালক হেলাল উদ্দিন গোলদার বলেন, উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনেক স্থান রয়েছে। কিন্তু পর্যটকদের বিনোদনের জন্য বড় ধরনের পর্যটনকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। তবুও গত কয়েক বছর ধরে ভোলা মেঘনা পাড়ে ইলিশ বাড়িসহ কিছু বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এগুলোকে আধুনিকায়ন করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

পর্যটনকেন্দ্রের শেয়ার হোল্ডার গালিব ইবনে ফেরদাউস বলেন, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি দ্বীপ জেলা ভোলা। পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণীয় করে তুলতে জেলার বিভিন্ন স্থানের মনোরম পরিবেশের দৃশ্যকে উপভোগ করতে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী পাড় কেন্দ্রিক বিভিন্ন পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। দিনে দিনে ভ্রমণ পিপাসুদের চাহিদা অনুযায়ী বিনোদন কেন্দ্র ও রিসোর্টগুলোকে আরও আধুনিক করে গড়ে তুলতে নতুন সাজে সাজানো হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারীর টানে যে সব মানুষ বিভিন্ন উৎসব পালন করতে নিজের এলায় আসছেন, তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে যাতে একটু বিনোদন করতে পারে এবং মনোরম পরিবেশে ঘুরে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারেন এবং কর্মস্থলে ফিরে গিয়ে বলতে পারেন ভোলায় বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এই বিনোদন কেন্দ্রগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ ছাড়াও লোভনীয় সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে খেলনাসহ বিভিন্ন রাইডার। তাই টানা ছুটিতে ঈদুল আজহা উদযাপনের জন্য প্রস্তুত ভোলা জেলার সব কয়টি বিনোদনকেন্দ্র।




বরিশালে ৫ হাজার পরিবার সৌ‌দি আর‌বের সঙ্গে মিল রেখে অগ্রিম ঈদ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল মহানগর ও সদর উপজেলা সহ জেলার ৫ টি উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার পরিবার সৌ‌দিন আর‌বের সঙ্গে মিল রেখে অগ্রিম ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। বরিশাল জেলার প্রায় অর্ধশত মসজি‌দে সকাল ৭ থেকে ৮টার মধ্যে প্রথম ঈদের নামাজের জামাত অনু‌ষ্ঠিত হয়।

রোবার (১৫) জুন যারা ঈদ পালন করছেন তারা চট্টগ্রামের চন্দনাইশের জাহাগীরিয়া শাহ্সুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের অনুসারী ভক্ত গণ। মধ্যপ্রাচ্য সহ পৃথিবীর কোন প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলে তার সঙ্গে মিল রেখে তারা রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা সহ যাবতীয় ধর্মীয় আচার নিয়ম নীতি পালন করেন।

ব‌রিশাল নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হরিনাফুলিয়া চৌধুরীবাড়ি শাহসুফী মমতাজিয়া জামে মসজিদের সভাপতি মমিন উদ্দিন কালু জানান, আমা‌দের ওয়ার্ডে আগাম ঈদ পালন কর‌ছেন প্রায় ১ হাজার পরিবার।

বরিশাল নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তাজকাঠীর হাজী বাড়ীর জাহাগিরিয়া শাহসুফি মমতাজিয়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আমীর হোসেন জানান,২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিন সাগরদী,তাজকাঠীসহ আশপাশের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার ঈদ পালন করছেন।

এখানে সকাল ৮টায় ঈদের নামাজ অনু‌ষ্ঠিত হয় জাহাগিরিয়া শাহসুফী মমতাজিয়া জামে মসজিদে। রোববার তাদের ওয়ার্ডের যেসব পরিবার ঈদ পালন করছেন তারা চট্টগ্রামের চন্দনাইশের জাহগিরিয়া শাহসুফী মমতাজিয়া দরবার শরীফের অনুসারি। বরিশাল নগরী সহ জেলার ৫০ টি মসজিদে চন্দনাইশ দরবারের অনুসারীরা ঈদের নামাজ আদায় করেছে।

‌এদিকে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জের খানপুরা,কেদারপুর, মাধবপাশাসহ ৫-৬টি গ্রামে একহাজারের বেশী পরিবারে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। এছাড়া বরিশাল জেলার মুলাদী,হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় এবং সদর উপজেলার চন্দ্রমাহন,পতাং,লাহারহাট গ্রামের জাহা‌গি‌রি
সুফী দরবারের প্রায় ২ হাজার অনুসারী রয়েছেন।




বরিশালে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায়, নিহত ২

বরিশাল অফিস :: বরিশাল ঢাকা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাসের সিলিন্ডারবাহী ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরো পাঁচজন।

আজ (১৬) জুন রোববার সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ব্র্যাক অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, সোহাগ (১৮) ও প্রায় ৩০ বছর বয়সী অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ছেলে। আহতরা হলেন- জিয়াউল করিম (৩৩), জাহাঙ্গীর মোল্লা (৪৫), একরামুল (২৬), আরিফ (৩০) ও ইমন (৩০)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন।

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন বলেন, ঢাকা থেকে ব্যাপারী পরিবহনের একটি বাস যাত্রী নিয়ে বরিশালের নথুল্লাবাদ টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিল। ওই সময় গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই একটি ট্রাক মহাসড়কে দাঁড়ানো ছিল। এ সময় দ্রুতগতির বাসটি থেমে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটি ছিটকে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। বাসের সামনে অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় দুইজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের বরিশাল শের ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।




বরিশালে তেঁতুল গাছের গুঁড়ি বিক্রির ধুম,বেড়েছে হোগলের দাম

বরিশাল অফিস :: আর মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকি ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশু ক্রয়ের পর এবার মাংস কাটার জন্য দা, ছুরি, চাকুর পাশাপাশি শেষ মুহূর্তে মাংস ভাল থাকার জন্য তেঁতুল গাছের গুঁড়ি বিক্রির ধুম পড়েছে।পশু জবাইয়ের পর পরিচ্ছন্নভাবে মাংস ভাগ-বাটোয়ারা টুকরা করতে গাছের গুঁড়ি বেশি প্রয়োজন হওয়ায় সর্বত্রই এর কদর বৃদ্ধি পেয়েছে। এরমধ্যে তেঁতুল গাছের গুঁড়ির কদর রয়েছে সবচেয়ে বেশি।

ঈদের সময় ঘনিয়ে আসছে বরিশালে সর্বত্র গাছের গুঁড়ির চাহিদা বাড়ছে। হাট বাজারে কিংবা নগরীর বিভিন্ন রাস্তার পাশে এসব গাছের গুঁড়ির পসরা সাজিয়ে বসে বিক্রি করছেন মৌসুমি বিক্রেতারা। নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এসে এসব গুঁড়ি ক্রয় করছেন।

গাছের গুঁড়ি মূলত তেঁতুল, নিম, করইসহ বিভিন্ন গাছের হয়। এরমধ্যে ক্রেতাদের কাছে তেঁতুল গাছের গুঁড়ি রয়েছে সবার উপরে। এক একটি গাছের গুঁড়ি ১ফুট বা সোয়া ফুট লম্বা রাখা হয়। প্রতিটি গাছের গুঁড়ি ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বরিশালের একাধিক ‘স’মিল মালিক জানান, সব গাছ দিয়ে গুঁড়ি তৈরি করা যায় না। তেঁতুল গাছের গুঁড়ি সব চেয়ে ভালো হয়। আর তেতুঁল গাছ ছাড়া অন্য গাছ দিয়ে খাটিয়া তৈরি করলে মাংসের সঙ্গে গাছের গুঁড়ি উঠে মাংসের মান নষ্ট হয়ে যায়।

আর এই গাছের গুঁড়ি সহজে নষ্ট হয় না। কাজ শেষে পরিষ্কার করে যতœ করে রাখলে বহুদিন থাকে। তাই ঈদুল আজহা আসলেই সবার কাছে তেঁতুল গাছের গুঁড়ির চাহিদা বেড়ে যায়।তারা আরো জানান, এখন আর আগের মতো তেমন বেশি তেঁতুল গাছ পাওয়া যায় না। আর পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত দামে ক্রয় করতে হয়। তারপর ‘স’মিলে নিয়ে খন্ড খন্ড করে গুঁড়ি তৈরি করে বিক্রি করা হয়।

মৌসুমি তেঁতুল গাছের গুঁড়ি বিক্রেতা নগরীর হাটখোলা এলাকার বাসিন্দা রাজা মিয়া বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে গুঁড়ির কদর বেড়েছে।

ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ছোট, মাঝারি ও বড় তিন ধরনের গুঁড়ি তিনি তৈরি করে বিক্রি করছেন। তার কাছে বেশি বিক্রি হচ্ছে তেঁতুল গাছের গুঁড়ি। এক একটি গুঁড়ি ২০০ টাকা থেকে সর্ব্বচ ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

বরিশাল নগরীর ৫নং ওয়ার্ড এলাকার বাবুল নামের এক যুবক বলেন, গরু কেনা শেষ। শুধু বাকি ছিল গাছের গুঁড়ি কেনার। তেঁতুল গাছের গুঁড়ি ভালো হওয়ায় ২৫০ টাকায় একটি ক্রয় করা হয়।

আরো জানান, কোরবানির পশু জবাইয়ের পর চামড়া ছাড়ানোর পর পরিচ্ছন্নভাবে গোশত কাটার জন্য গাছের গুঁড়ি ভালো হয়। তাই বড় আকারের একটি তেঁতুল গাছের গুঁড়ি এবার দাম বেড়ে ৪০০ টাকায় কেনা হয়েছে।

স্বরুপকাঠী থেকে আসা কাঠ ব্যবসায়ী জলিল বলেন, গত কয়েক বছর ধরে তেঁতুল গাছ পাওয়া বড়ই দুষ্কর হয়ে উঠেছে। ফলে তেঁতুল গাছের তৈরি গুঁড়ির দাম একটু বেশি নেয়া হচ্ছে। এখন মানুষ খুবই সচেতন। সবাই চায় পরিচ্ছন্নভাবে মাংস বানাতে।

গুড়ি ব্যবসায়ী রাসেল হাওলাদার বলেন এবার স্বরুপকাঠীতে তেমন তেঁতুল গাছ পাওয়া যায়নি তাই পটুয়াখালী থেকে গাছ ক্রয় করে মিল থেকে গুড়ি করতে আমাদের ছোট সাইজের গুড়িতে খরচ পড়েছে ১৫০ টাকার মত সেই গুড়ি বিক্রি করছি ২০০ টাকায়। আর বড় সাইজের গুড়ি ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যেহারে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে সেহারে আমাদের যে পরিমান শ্রম ও ঘাম জড়িয়ে গুড়ি বিক্রি করি তাতে শ্রমের মজুরী আসে না।

অপর দিকে নগরীর স্বরোড ও নাজিরপুলে পরিমল বসেছেন হোগলা নিয়ে এবার নাকি হোগলার দাম একটু বেশি। বিভিন্ন চরাঞ্চলে তেমন হোগলা না জন্মানোর কারনে ঠিকমত হোগল পাতা পাওয়া যাচ্ছে না।
তাই তারা বিভিন্ন উপকুলীয় এলাকা থেকে হোগলপাতা ক্রয় করে আনা ও বোনা পর্যন্ত খরচের পরিমান বেড়ে গেয়ে ফলে বড় সাইজের একটি হোগলা বিক্রি করছেন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। আর মাঝারি সাইজেরটা বিক্রি করতে হচ্ছে ২০০টাকা।