বসত ঘরে দেখা মিলল রাসেলস ভাইপার – আতঙ্কে গলাচিপাবাসী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় বসত ঘরে ভয়ংকর বিষধর রাসেলস ভাইপার দেখে আতঙ্কে প্রহর গুণছে এলাকাবাসী। আর এই খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে উপজেলার সব ইউনিয়ন ও পৌরসভায়। ফলে সবার মুখে এখন একটাই কথা রাসেলস ভাইপার থেকে কীভাবে বাঁচা যায়।

গত শুক্রবার গলাচিপা পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড গার্লস স্কুল রোডে মন্টু বালার বাসায় রাসেলস ভাইপার সাপ দেখতে পেয়ে ভয়ে ডাক চিৎকার দিলে এলাকাবাসী সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। এ সময় স্থানীয়রা সাপটিকে মাটিচাপা দেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে ঘরের বাহিরে অবস্থান করছেন এলাকার লোকজন। পরে স্থানীয়রা সাপটির ছবি তুলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে শনাক্ত করে যে সাপটি বিষাক্ত রাসেলস ভাইপার। বিশ্বের ভয়ংকর সাপের মধ্যে রাসেলস ভাইপার অন্যতম। আগে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ফিলিপাই, ভারত, নেপাল, ভুটানসহ বাংলাদেশের কিছু কিছু অঞ্চলে দেখে গেলেও বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বত্র এর বিস্তার লাভ করে। এই সাপের কামড়ে শরীরের দংশিত অংশে বিষ ছড়িয়ে অঙ্গহানি, ক্রমাগত রক্তপাত, রক্ত জমাট বাঁধা, স্নায়ু বৈকল্য, চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়া, পক্ষাঘাত ও কিডনির ক্ষতিসহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়। যার ফলে এই সাপে কামড়ালে অল্প সময়ের মধ্যে মানুষ মারা যাওয়া সম্ভাবনা থাকে।

এ বিষয়ে গলাচিপা বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রাসেলস ভাইপার সাপ লোকালয়ে সাধারণত খুব কমই দেখা যায়। বন্যার পানিতে ভেসে আসতে পারে এই সাপ। বাচ্চা দেওয়ার কারণে হয়তো ওই সাপটি লোকালয়ে চলে এসেছে। তবে সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।




দশমিনায় দালালে জিম্মি ক্রেতাদের নাভিশ্বাস – হাত বদলেই মাছের দাম দ্বিগুণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও দালাল চক্রে জিম্মি নদী তীরবর্তী দশমিনা উপজেলার হাজার হাজার ক্রেতার চড়া দামে মাছ কিনতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে। শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও বাজার ইজারাদারদের পকেট কাটার কৌশলে অসহায় আত্মসমর্পণ ক্রেতাদের। উপজেলা সদরের মাছ ব্যবসায়ীদের স্বেচ্ছাচারিতা আর অসদাচরণ এবং অপমান-অপদস্ত হওয়ার কারণে আত্মসম্মানের ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না সাধারণ ক্রেতারা। রাজধানী ঢাকার চেয়ে তুলনামূলক নদী তীরবর্তী এলাকায় মাছের এমন চড়া দাম হতবাক করেছে সবাইকে। অন্যদিকে বাজার তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় হতভম্ব সবাই।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা সদরের মাছ বাজার থেকে কাটাখালী জেলে পল্লির দূরত্ব ৩ কিলোমিটার। এ ৩ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে দালালের হাত ধরে উপজেলা সদরে মাছ এলে তার দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ শিকার করা জেলেরা পানির দামে মাছ বিক্রি করেন ৩ শ্রেণির পাইকারের কাছে।

এরপর আবার আড়তদারদের দাদনের কাছে জিম্মি জেলেদের ভাগ্য বন্দি রয়ে যায় ওই দাদনের খাতায়। দীর্ঘ বছর জেলে পেশায় থেকেও ভাগ্য বদল দূরের কথা, ঋণের বোঝা নিয়ে মারা যেতে হয় জেলেদের।

অন্যদিকে বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্রতম এ উপজেলার মানুষের কাছে মাছ-ভাত দিন দিন যেন বিলাসিতায় পরিণত হচ্ছে।

আরো পড়ুন : জামিন বেরিয়েই বিচারকের নামে বেফাঁস মন্তব্য বাউফলের আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যানের

দশমিনা সদরের মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটামুটি সামান্য একটু বড় সাইজের চিংড়ি ৮০০ থেকে ১২০০, জাটকা ১২০০, মাঝারি ১৬০০, পোয়া ৮০০ ও তপুসি (ছুড়ড়া) ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে চাষ করা পাঙাশ আড়াইশ আর তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা বা তার বেশি দরে।

কাটাখালী জেলে পল্লিতে গিয়ে কথা হয় মো. আব্দুর রাজ্জাক খাঁ, জয়নাল সিকদার ও মো. মিজানুর রহমান হাওলাদারের সঙ্গে।
তারা জানান, মোটামুটি সামান্য একটু বড় সাইজের চিংড়ি ৫০০, জাটকা ৬০০, পোয়া ৪০০ ও তপুসি (ছুড়ড়া) ৩০০ টাকা কেজি দরে দালাল, খুচরা বিক্রেতা আর আড়তদারদের কাছে বিক্রি করছেন তারা। অন্যদিকে চাষ করা পাঙাশ আর তেলাপিয়া ১২০ টাকা কেজি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।
তারা আরও জানান, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরে আমরা ন্যায্য দাম পাই না। অথচ দালালরা জেলেদের থেকে মাছ কিনে তা প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন। এর মধ্যে আড়তদাররা প্রতিকেজি মাছ ওজনের চেয়ে ১০০ গ্রাম বেশি নিয়ে এক কেজির দাম দিচ্ছেন।’

মো. আকবর নামে এক ক্রেতার দাবি, বাজার তদারকি আর দশমিনা মাছ বাজারে গড়ে ওঠা একাধিক সিন্ডেকেটের কারণে মাছের বাজার চড়া। সবচেয়ে দরিদ্রতম উপজেলায় মাছের বাজার এমন চড়া হওয়ায় গরিবের পাঙাশ আর তেলাপিয়াই একমাত্র ভরসা। জেলেদের সরাসরি বাজারে মাছ বিক্রির সুযোগ না থাকায় হাত বদলেই মাছের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে।

পটুয়াখালী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শাহ শোয়াইব মিয়া বলেন, দশমিনায় যখন অভিযান পরিচালনা করা হবে, তখন বিক্রেতাদের চড়া দামে মাছ বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করা হবে।




বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে পারছে না জিও ব্যাগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: গলাচিপার তেঁতুলতলা গ্রামের পাশে ভাঙছে রাবনাবাদ নদীর তীর। সেখানে ফেলা জিও ব্যাগও ধসে পড়ছে।

ফলে রাবনাবাদ নদীর ভাঙনে ঝুঁকিতে পড়ছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধের একটি অংশ। এতে উপজেলা সদরের সঙ্গে পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে বেড়িবাঁধ ও এর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সড়ক রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এতেও ভাঙন থামছে না। উল্টো বেশকিছু জিও ব্যাগ ধসে পড়ছে নদীতে।

এলাকাবাসী জানায়, ঘূর্ণিঝড় রিমাল আঘাত হানার পর বাঁধের একটি অংশ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে যায়। এ সময় প্লাবিত হয় ইউনিয়নের আটখালী, ডাকুয়া ও হোগলবুনিয়া গ্রাম।

আটখালীর কৃষক বাদল মৃধা বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারে লবণপানি ঢুকে পড়েছিল। এতে তাঁর ৫ কুড়ি পানের বরজ নষ্ট হয়ে যায়।

ডাকুয়ার তাজুল ইসলামের ভাষ্য, জোয়ারের নোনাপানি বাঁধ উপচে বাড়িঘর ও ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ছে। ফলে আগামী মৌসুমে চাষবাস করাই কঠিন হয়ে পড়বে।
জোয়ারে রাবনাবাদ নদীর তীব্র ঢেউ বাঁধে আছড়ে পড়ে। এতে ভেঙে যাওয়া অংশ পুরো ধসে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন আটখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক দীপক নারায়ণ ভূঁইয়া।
তাঁর ভাষ্য, বিশেষ করে অমাবশ্যা-পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারের প্রবল চাপ থাকে। ভাঙন ঠেকাতে বালুর বস্তা ফেলা হলেও এ সময়কে ঝুঁকিমুক্ত বলা যাবে না। ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতেও সম্প্রতি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পটুয়াখালী পাউবো ও এলজিইডি সূত্র জানায়, ১৯৭৬-১৯৭৭ অর্থবছরে গলাচিপায় ৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে পাউবো। ৫৫/১ পোল্ডারের বাঁধটি গলাচিপা পৌর এলাকা থেকে শুরু হয়েছে গলাচিপা সদর ইউনিয়ন, পানপট্টি, রতনদী-তালতলী ইউনিয়ন, ডাকুয়া পর্যন্ত গেছে। ১৯৯৫-১৯৯৬ অর্থবছরে ওই বেড়িবাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ করে এলজিইডি। গলাচিপা থেকে বকুলবাড়িয়া ­ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার অংশে কার্পেটিং করা হয়। এ সড়কটি গলাচিপা উপজেলা সদরের সঙ্গে ডাকুয়া, কলাগাছিয়া, চিকনিকান্দি, গজালিয়া ও বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ সহজ করে দেয়। এ ছাড়াও সড়কটি দিয়ে পটুয়াখালী জেলা সদর, দশমিনা ও বাউফল উপজেলায় সহজে যাতায়াত করা হয়। ফলে এটি এখন জেলার ব্যস্ততম একটি সড়ক।

আরো পড়ুন : পরকীয়ার অপবাদে আ. লীগ নেতাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

ডাকুয়া এলাকার বাসিন্দা গাজী গোলাম মোস্তফা সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা। তাঁর আশঙ্কা, যেভাবে বাঁধের পাশাপাশি সড়কের অংশ নদীতে ভেঙে পড়ছে, এতে তাদের এলাকা সদর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন তিনি।

ডাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটিও ভাঙনঝুঁকিতে আছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ রায়। তাঁর ভাষ্য, তেঁতুলতলা বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ঘরবাড়ির পাশাপাশি মসজিদ-মন্দির, দুটি বিদ্যালয়, প্রাচীন একটি জমিদারবাড়ি, সাংবাদিক নেতা আলতাফ মাহমুদের কবরস্থানটিও হুমকির মুখে। সড়কটি নদীতে ধসে পড়লে পাঁচ ইউনিয়নের দেড় লাখ মানুষ ভোগান্তিতে পড়বে। তাই নদীশাসন ও খনন করে গতিপথ বদলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এলজিইডির গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, সম্প্রতি তাঁর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ভাঙনঝুঁকিতে থাকা সড়কটি পরিদর্শন করেছেন। শুরুতে বাঁধ মেরামত করে পরে কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এখন বাঁধের কাজ চলছে। তা শেষ হলেই সড়ক নির্মাণ শুরু করা যাবে।

রাবনাবাদের জোয়ারে তেঁতুলতলায় বাঁধের ১০০ মিটার ভাঙনের কবলে পড়েছে জানিয়ে পটুয়াখালী পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মিরাজ গাজী বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমাল ও পূর্ণিমার জোয়ারে ১০ মিটার অংশ ধসে পড়েছে। সঙ্গে সড়কও ভেঙেছে। ভাঙন রোধে তারা জিওব্যাগ ফেলছেন।

তাঁর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন জানান, ভাঙন রোধে প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার জিওব্যাগ ফেলে নদী সংরক্ষণকাজ শুরু হয়েছে। এতে এক কোটি ৭২ লাখ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২ হাজার ব্যাগ ফেলা হয়েছে।




পটুয়াখালীতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

সোমবার (২৩ জুন) সকালে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন নেতা-কর্মীরা।

পরে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে পটুয়াখালীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় গাছ রোপণ করা হয়।

আরো পড়ুন : বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রস্তুত পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র

অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কাজী আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ভিপি আব্দুল মান্নান, সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এডভোকেট সুলতান আহমেদ মৃধা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট গোলাম সরোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




রিটার্ন দাখিল করা যাবে ৩০ জুন পর্যন্ত!




বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রস্তুত পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত হয়েছে পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। সেপ্টেম্বরে এ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আর ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হবে বাকি ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। সে লক্ষ্যে চলছে শেষ পর্যায়ের কাজ।

এ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হওয়া বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য এটি মাইলফলক বলে মনে করছেন এই প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নোরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরএনপিএল) যৌথ বিনিয়োগে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু করে।

জেলার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামে ৯১৫ একর জমির উপর ২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরে এর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। করোনাসহ নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে টারবাইন, চুল্লি, কোল স্টোর, স্টিল স্ট্রাকচার, বয়লার, ওয়াটার ফিড ও জেনারেটর বসানোর কাজ। বর্তমানে দ্রুতগতিতে চলছে কনস্ট্রাকশন ও রঙের কাজ। ৪ হাজার বাঙালি ও দেড় হাজার চাইনিজ শ্রমিক এ নির্মাণ কাজ করছেন।

আরো পড়ুন : মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক

ইতোমধ্যে বয়লারে ফায়ারিংও করা হয়েছে। মোট কথা বর্তমানে বিদুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত এ পাওয়ার প্লান্ট। এ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে নিজস্ব অর্থায়নে ২০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন, ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন ও পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলায় একটি সুইচিং স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। এ সুইচিং স্টেশনের কাজও ৯২ ভাগ শেষ।

বর্তমানে শেষ পর্যায়ের টেস্টিং ও কমিশনিংয়ের কাজ চলমান। জুলাই মাসে ব্যাক ফিড পাওয়ার পেলে সেপ্টেম্বরে প্রথম ইউনিট থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট ও ডিসেম্বরে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করতে চায় প্রকল্পটি।

পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী (তড়িৎ) আসিফ আহমেদ জানান, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে ২০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন, ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন ও পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলায় একটি সুইচিং স্টেশন তৈরি করেছি। এ সুইচিং স্টেশনের কাজও ৯২ ভাগ শেষ হয়েছে।

অপর নির্বাহী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) শওকত ওসমান বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের প্রথম ইউনিটের সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আমরা বয়লারে ফায়ারিংও করেছি। মোটকথা আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।

পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমরা আশা করছি, জুলাই মাসে ব্যাক ফিড পাওয়ার পাব। এ ব্যাক ফিড পাওয়ার পেলে সেপ্টেম্বরে ৬৬০ মেগাওয়াট ও ডিসেম্বরে আরও ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করতে পারব বলে আশা করছি।




মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: একের পর এক দুর্ঘটনা সড়ক পথে ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালী রুটের যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। তাই নিরাপত্তার খাতিরে অনেক যাত্রী আবার নৌ-পথে যাতায়াত শুরু করেছেন।

যার প্রমাণ মিলেছে বরিশাল ও পটুয়াখালীর নদী বন্দরে পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষগুলোর ভিড় দেখে।

লঞ্চের যাত্রী ওমর ফারুক বলেন, গত কয়েকদিনে শুধু সড়কে দুর্ঘটনার খবরই শুনছি। নিজেও পটুয়াখালী আসার পথে একটুর জন্য দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গেছি। তাই লঞ্চে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাসের থেকে অন্তত নিরাপদে তো যেতে পারবো।

যদিও পদ্মা সেতু চালুর পর সময় স্বল্পতার কারণে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা সড়ক পথে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতের দাবি বেশিরভাগ যাত্রীর।

ঢাকা-পটুয়াখালী সড়কপথে নিয়মিত চলাচলকারী বাস যাত্রী ফাহিম রহমান বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর প্রতিনিয়ত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ঢাকা থেকে বরিশাল ও পটুয়াখালী রুটের মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। তবে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত দীর্ঘ মহাসড়কের ধারণক্ষমতা আছে ২০২২ সালের আগের মতোই। যদিও কিছু কিছু বাঁকে সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে, তবে তা কার্যত তেমন উপকারে আসছে না এখনও। এই যাত্রীর মতে, প্রয়োজন অনুসারে মহাসড়ক প্রশস্ত না হওয়ায় গতির প্রতিযোগিতাই দুর্ঘটনার মূল কারণ।

সম্প্রতি দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রী মিজানুর রহমানের মতে, ঈদ-কোরবানির সময়টায় চালকরা একটানা বেশি ডিউটি করায় ক্লান্ত থাকেন। আর যেখান থেকে ঘুমের ভাব হলেই দুর্ঘটনা ঘটে। যে কারণে তিনিও দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এখন নিয়মিত লঞ্চে যাতায়াত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে গণমাধ্যমও বলছে, ১৫ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত ছয়দিনে শুধু বরিশাল জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৯ জন। পক্ষান্তরে নৌ-পথে দুর্ঘটনার কোনো খবর পাওয়া যায়নি এ কয়দিনে।

বাস চালকরা বলছেন, শুধুই গতি নয়, অনভিজ্ঞ চালকসহ মহাসড়কে বৈধ-অবৈধ ও মিশ্র প্রযুক্তির গাড়িই দুর্ঘটনার মূল কারণ।

বাসের চালক নয়ন বলেন, ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত একমাত্র মহাসড়ক, যেখানে অবাধে দূরপাল্লার গাড়িগুলোর সাথে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, টমটম, নছিমন, করিমন, সিএনজি, আলফাসহ সকল ধরনের থ্রি-হুইলার চলাচল করে। অথচ বিআরটিএর অনুমোদন পাওয়া-না পাওয়া এসব যানবাহন মহাসড়কে চলার কথা না। সেই সাথে বাজার-ঘাটে ঘেরা মহাসড়কে অটো ও ম্যানুয়াল প্রযুক্তির গাড়ির পাশাপাশি, তেলের- ব্যাটারির, নতুন-পুরাতন বিভিন্ন গতির গাড়ি চলাচল করছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে চাচার মারধরে ভাতিজার মৃত্যু

তিনি আরো বলেন, সবমিলিয়ে দিনের বেলা যেমন তেমনভাবে গেলেও রাতে তো আরও ভয়ানক হয়ে ওঠে ভাঙ্গা-বরিশাল- কুয়াকাটা মহাসড়ক। ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, টমটম, নছিমন, করিমনের মতো অবৈধ অনেক যানবাহনের তো কোনো ধরনের বাতিই থাকে না, আবার যাদের আছে তাদের গাড়ির সামনে পেছনের সবগুলো বাতি ঠিকভাবে জ্বলে না। ফলে গাড়িটা কতখানি প্রশস্ত কিংবা চালক ব্রেক কষল কিনা তা বোঝা যায় না। সবমিলিয়ে যে অবস্থা তাতে এ মহাসড়কে বাস চালনা করতে একজন চালককে কতটা বেগ পেতে হয় তা বলে বোঝানো যাবে না। আর হিসেবের গড়মিল হলেই দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তখন দোষ হয় পরিবহন চালকদের।

পরিবহন চালকদের মতে দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে মহাসড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি সর্বপ্রথমে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে, নয়তো বিমুখ হবেন বাস যাত্রীরা। একই কথা জানালেন হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারাও।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল মোল্লা মুঠো ফোনে বলেন, এ মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে সর্বপ্রথম মহাসড়ক প্রশস্ত করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মানুষ চলাচলে জায়গায় জেব্রা ক্রসিংসহ রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা রাখা এবং মহাসড়কের পাশ ধরে হাঁটার জায়গা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, রাস্তা সরু হওয়ায় বর্তমান সময়ে ওভারটেক করতে গিয়ে যেমন দুর্ঘটনা ঘটছে, তেমনি রাস্তার পাশে চলাচলের জায়গা না থাকায় মানুষ যানবাহনে চাপা পড়ছে। গেল কোরবানির ঈদের আমরা গরুর গাড়ি নির্বিঘ্নে চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি যাত্রীবাহী যানবাহনের ছাদে লোক না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক ছিলাম। সেইসাথে মহাসড়কে অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল রোধ, থ্রি-হুইলারসহ আনফিট গাড়ির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াও হয়েছে। আর এজন্য বিভিন্নভাবে মহাসড়কে আমাদের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছে। তবে নিজ নিজ পর্যায় থেকে সবাইকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ এই কর্মকর্তার।

এদিকে এবারের ঈদে পটুয়াখালী-ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বিগত দিনগুলোর থেকে বেশি থাকায় খুশি সংশ্লিষ্টরা।




কলাপাড়ার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে আতঙ্কে তিন লক্ষাধিক মানুষ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলের তিন লক্ষাধিক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করা, বছরের পর বছর বৃষ্টির পানিতে বেড়িবাঁধের উচ্চতা কমতে থাকলেও মাটি দিয়ে এর উচ্চতা বৃদ্ধি না করাই এই আতঙ্কের অন্যতম কারণ।

কলাপাড়া উপজেলার আয়তন ৪৯২.১০ বর্গ কি.মি। এখানে ১২টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভায় ২৪৪টি গ্রাম রয়েছে। উপজেলা ২২টি স্পটে ৯.১৯ কি. মি বেড়িবাঁধ বেড়িবাঁধ জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড় ছাড়াও প্রতি অমাবস্যা আর পূর্ণিমার সময় এলাকার মানুষ জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় থাকে আতঙ্কিত।

জানা যায়, গত এক দশকে মে মাসে আটটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে। ৪৭/৪ পোল্ডারের মিঠাগঞ্জ বেড়িবাঁধ ইতিমধ্যে বাঁধের রিভার সাইডের মূল বাঁধসহ জিওব্যাগ ধসে আন্ধারমানিক নদীতে পড়ে গেছে।
ভাঙন শুরু হয়েছে বাঁধের কান্ট্রি সাইডেও। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ফাঁটল। এ কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

৪৬ পোল্ডারের নীলগঞ্জ ইউনিয়নে গইয়াতলা গ্রামের ভাঙা বাঁধ সংলগ্ন ছয়টি গ্রামের মানুষ রয়েছে আতঙ্কে। বাঁধসহ স্লুইসগেট ভেঙে পড়ার পর এবার বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়ার চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে এলাকার মানুষ। সোনাতলা নদীর ঢেউয়ের তোরে গইয়াতলা বেড়িবাঁধের রিভার সাইডের বাঁধ ভেঙে পড়েছে। বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা দিয়েছে ফাটল।

এদিকে, ৪৭ পোল্ডারের মহিপুর ইউনিয়নে সিডরের পর থেকে নিজামপুর ৫ গ্রামের মানুষ ১০ বছর ধরে জমিতে কোনো চাষ করতে পারেনি। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ড জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে এখানের রিং বেড়িবাঁধ করে দেয়। এখন আবার নতুন করে আতঙ্কে ভুগছে। হুমকিতে পড়ছে উপজেলা নিজামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিনই ভাঙছে নতুন করে একেকটি পরিবারের স্বপ্ন। সাগর ও নদীর প্রতিটি জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বসতঘর, আবাদি জমি ও মাথাগোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু। নিঃস্ব হতে হতে এই গ্রামের মানুষের শেষ সম্বল এখন শুধুই বেঁচে থাকার আকুতি। এভাবে পাউবোর পূর্ব গৈয়াতলা, লেমুপাড়া, চম্পাপুর, মঞ্জুপাড়া, মুন্সীপাড়া, নিজামপুর, জালালপুর, ধূলাসার, বালিয়াতলী, দেবপুর, নাচনাপাড়া, বড়কলবাড়ি, খ্রিস্টান পাড়ার বেড়িবাঁধ।

আরো পড়ুন : পূর্ব বিরোধের জেরে বাউফলে বৃদ্ধকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

এলাকাবাসীর দাবি, ত্রাণ চাই না শুধু বাঁধ চাই। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় সিডরে নিশ্চিহ্ন আন্দারমানিক নদী তীরবর্তী এলাকার হাজারো পরিবারের দিন কাটছে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যদিয়ে। ভয়াবহ ভাঙন ও তীর রক্ষাবাঁধ ধসে যাওয়ায় ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় তাদের মধ্যে এ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পুরো বাঁধ ভেঙে গেলে অরক্ষিত হয়ে পড়বে গোটা কলাপাড়া উপজেলা।

স্থানীয়রা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সময়মতো মেরামতের উদ্যোগ নিলে কম খরচ ও কম সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ সম্ভব। তবে বর্ষার আগ মুহূর্তে যখন নদীতে জোয়ারের পানি বেড়ে বাঁধ কানায় কানায় পূর্ণ হয়, পাউবো কর্তৃপক্ষ সে সময় এসে মেরামতের উদ্যোগ নেয়। এতে একদিকে খরচ বাড়ে, অন্যদিকে তড়িঘড়িতে কাজ হয় নিম্নমানের। প্রতি বছরের মে মাস এলেই পাউবো কর্তৃপক্ষ বাঁধ মেরামতের তোড়জোড় শুরু করে। কী কারণে তা কেউ বলতে পারে না। অথচ শীত মৌসুমে কাজ করার অনেক সুবিধা। বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টির জন্য পাউবোর লোকজন অসময়ে এসে কাজ ধরেন।

মহিপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী ফজলু গাজী জানান, এ এলাকার বেশির ভাগ মানুষই মৎসজীবী। আবার কেউ কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শুধু অমাবস্যা-পূর্ণিমাই নয়, জোয়ার ভাটার সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয় তাদের। পূর্বের বেড়িবাঁধ নেই।

পাউবোর উপ-বিভাগীয় সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানান, পাউবোর পূর্ব গৈয়াতলা, লেমুপাড়া, চম্পাপুর, মঞ্জুপাড়া, মুন্সীপাড়া, নিজামপুর, জালালপুর, ধূলাসার, বালিয়াতলী, দেবপুর, নাচনাপাড়া, বড়কলবাড়ী, খ্রিস্টানপাড়া, চরান্ডা, চর মোন্তাজ, চালিতবুনিয়া বড় বাইশদিয়া বেড়িবাঁধের ২২টি স্পটে ৯.১৯ কি. মি. বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকতাদের সঙ্গে মিটিং হয়েছে। তারা বলছে বেড়িবাঁধগুলো পর্যায় ক্রমে মেরামত করা হবে।




স্মার্ট খেলোয়ার দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে – এস.এম. শাহজাদা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জাতির জনকের স্বপ্ন পূরণে ফুটবল-ক্রিকেট-ক্রীড়া সংস্কৃতিতে স্মার্ট খেলোয়ার দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে বললেন-এস.এম. শাহজাদা (এমপি)।

গলাচিপায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (অনুর্ধ্ব-১৭) ফুটবল খেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১১৩ পটুয়াখালী-৩ গলাচিপা-দশমিনা আসনের দুইবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত ও জন মানুষের নেতা এস.এম. শাহজাদা (এমপি) প্রধান অতিথি হিসেবে দর্শক ক্রীড়ামোদী খেলোয়ারদের উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেন।

শুক্রবার (২১ জুন) বিকাল ৪ টায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলার সুযোগ্য নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটায় এলজিএডির প্রধান প্রকৌশলীর প্রটোকলে থাকা অবস্থায় বরগুনার প্রকৌশলীর মৃত্যু

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জননেতা মু. শাহিন, আ’লীগ নেতা মো. সামসুজ্জামান লিকন, জেলা পরিষদ সদস্য মো. মাঈনুল ইসলাম রনো, আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তপন কুমার বিশ্বাস, গজালিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. হাবিব বিশ্বাস সহ উপজেলা আ’লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং স্থানীয় সূধী, গণমাধ্যম কর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, মোট ১৩টি দল নিয়ে এই ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী খেলায় গলাচিপা পৌরসভা একাদশ ও গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ একাদশ অংশগ্রহণ করে। খেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. আবু বকর শিবলী সহ সংস্থার প্রতিনিধিরা। উদ্বোধনী খেলা দেখতে শত শত দর্শক ও সমর্থকেরা মাঠের চারপাশে ভিড় জমায়।




বরিশালে মহাসড়কে অভিযান

বরিশাল অফিস :: সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়া, গাড়ির ফিটনেস, লাইসেন্স এবং ওভার স্পিড নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কে ও পরিবহন কাউন্টারগুলোতে অভিযান চালানো হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট ও গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু আবদুল্লাহ খান বলেন, গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ডে অভিযান
চালিয়ে পরিবহনের কাগজপত্র সঠিক না থাকায় চেয়ারম্যান পরিবহনকে পাঁচ হাজার টাকা এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করায় বিএমএফ কাউন্টার মালিককে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।