মির্জাগঞ্জে পায়রার ভাঙ্গনের মুখে প্রাথমিক বিদ্যালয়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: মির্জাগঞ্জের পিপঁড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পায়রার ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় অন্যত্র সরিয়ে নেয়ায় ব্যপারে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত ২৪ জুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরের প্রতিষ্ঠান প্রধানের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় ভবনটি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার রক্ষা ও পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য এবং বিদ্যালয়টি অন্যত্র স্থানান্তরে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনারকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট্য কমিটি গঠন করা হয়।

সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে বিদ্যালয়ের ভবন পায়রা নদী গর্ভে চলে গেলে স্থানীয় দ্বন্দ্ব ও জমি নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে গত চার বছর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের পাঁকা ভবন নির্মিত ব্যহত হওয়ার জটিলতা দেখা দেয়। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পায়রা নদীর বেড়িবাঁধের পাশে তিন কক্ষ বিশিষ্ট্য একটি টিনশেড ঘরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।

এছাড়া পায়রা নদী তীরবর্তী একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গনের ঝুকিঁর মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে টিনশেড ঘরটিও যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন প্রধান শিক্ষক। পায়রা নদী থেকে বিদ্যালয়টি ছয় থেকে সাত ফুট ফুট দূরে রয়েছে। বিদ্যালয়ের নেই কোনো বিদুৎ ব্যবস্থা। এতে শিক্ষার্থীরা জিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থায় পিছিয়ে রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের পিপঁড়াখালী গ্রামে বিদ্যালয়টি ১৯২৬ সালে প্রতিষ্টা করা হলে তা ১৯৮৮ সালে এডিপির মাধ্যমে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয় এবং ২০১৮ সালে পায়রা নদীতে বিলীন হয়ে যায় ভবনটি। এ বিদ্যালয়ে সাতজন শিক্ষককের স্থানে প্রধান শিক্ষকসহ কর্মরত আছেন তিনজন শিক্ষক। প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়সহ অফিসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। দুইজন শিক্ষক দিয়ে চলছে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৪১ জন। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্টালগ্নের সময়ে পূর্বদিকে প্রায় দেড় কিলোমিটার জমি এবং মানুষের বসতঘড় ছিল। কিন্তু পায়রা নদীতে আস্তে আস্তে সব বিলীন হয়ে গেছে। পায়রা নদীর তীরবর্তী এবং দুর্গম এলাকা বিধায় কোনো শিক্ষক এখানে আসতে চায় না।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে সমবায়ের ৮০ লাখ টাকা ঋণের চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীরা বলেন, সব সময়ে ভয়ে ভয়ে ক্লাশ করতে হয়। কখন যেন নদীতে বিলীন হয়ে যায় বিদ্যালয়টি। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের সামনে পায়রা নদীর পাড় হঠাৎ করে ভেঙে যায়। বেশি কষ্ট হয় বর্ষার সময়ে তখন চলাচল করাই দায় হয়ে যায়। নেই খেলার মাঠ। আমাদের এখানে একটি বিদ্যালয় ভবন নির্মান হলে সকল শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতো।

অভিভাবকরা বলেন, পায়রায় ভাঙ্গনের কারণে জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে এখানকার বহু পরিবার। নদীতে মাছ ধরে ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা ও আমাদের জীবন চলে। ছেলে-মেয়েকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েও ভয়ে থাকতে হয়। এখানে একটি ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার মান বাড়বে এবং নদী তীরবর্তী মানুষ ঝড়ের সময়ে আশ্রয় নিতেও পারবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু সুজিৎ মজুমদার বলেন, বিদ্যালয়টি পায়রার ভাঙ্গনে গত ২০১৮ সালে ভেঙে যায়। এরপর ছোট্ট একটি টিনশেড ঘরে চলে শিক্ষা কার্যক্রম। স্থানীয় কিছু জটিলতা ও বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য জমি নিয়ে জটিলিতা দেখা দেয়ায় নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। ঘূর্ণিঝড় রেমালে পর পায়রা নদীর ভাঙ্গন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। এদিকে পায়রার ভাঙ্গনের কারণে পিপঁড়াখালী বাজারসহ গ্রামটি সম্পূর্ন নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও এই নদী ভাঙ্গনের কারণে এ এলাকার বহু লোক তাদের ভিটাবাড়ি ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: রিয়াজুল হক বলেন, বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার পরে নতুন ভবন বরাদ্ধ হয়েছিল। স্থানীয় জটিলতার কারণে ভবন নির্মান হয়নি। বরাদ্ধ এলেই বিদ্যালয়ের কাজ শুরু হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টি ভাঙ্গনের মুখে পড়ায় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিদ্যালয়টি সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তর ও দ্রুত মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে এবং পাশের একটি মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকবে। পরে সুবিধাজনক জমি পাওয়া গেলে সেখানে বিদ্যালয়টি পূনঃস্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে।




পটুয়াখালীতে সমবায়ের ৮০ লাখ টাকা ঋণের চেক বিতরণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জন্মের পর প্রধান ও একমাত্র খাদ্য হিসেবে মাতৃদুগ্ধ গ্রহন করে বেঁচে থাকে মানব শিশুরা। পাশাপাশি গরুর দুধ মানুষের জন্য পুষ্টিকর ও সুষম খাবার। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এই পুষ্টিকর দুধের চাহিদা। তাই এই দুধের ঘাটতি পূরনে সরকার নানান পদক্ষেপ নিচ্ছে। দুধের ঘাটতি পূরনে সরকার ‘সমবায়ে গড়ছি দেশ, স্মার্ট হবে বাংলাদেশ’, এ স্লোগান নিয়ে ‘দুগ্ধ ঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় তৃণমূল পর্যায়ে সুবিধাভোগীদেরকে গাভী পালনে দিচ্ছে স্বল্প সুদে ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় পটুয়াখালী সদর উপজেলায় জৈনকাঠি ইউনিয়ন দুগ্ধ সমবায় লিমিটেড ও কালিকাপুর ইউনিয়ন দুগ্ধ সমবায় সমিতির ৫০ জন সদস্যকে দুইটি করে ফ্রিজিয়ান জাতের বকনা গাভী কেনার জন্য প্রত্যেককে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করে ৮০ লাখ টাকার ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

শনিবার (২৯ জুন) পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের মধুমতি হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডাঃ সঞ্জীব দাসের সভাপতিত্বে ঋণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সুবিধাভোগীদের মাঝে ঋণের চেক বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম।

এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমবায় অধিদফতর ঢাকার প্রকল্প পরিচালক তোফায়েল আহম্মদ, জেলা সমবায় অফিসার সুস্মিতা গোলদার।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা সমবায় অফিসার হারুন-অর-রশিদ।

উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা অফিসার জহিরুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইদ হাসান, কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সালমা জাহান, উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক সুশান্ত কুমার দাস, জেলা সমবায় কার্যালয়ের সহকারী নিবন্ধক কামরুজ্জামান।

আরো পড়ুন : লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল – গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি

সুবিধাভোগীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন কালিকাপুর দুগ্ধ সমবায় সমিতির সদস্য নিজামুল হক।

উল্লেখ্য, পরবর্তীতে গাভী গরু কেনার পর খাদ্য বাবদ প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে আরো ৪০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে বলে জানান উপজেলা সমবায় অফিসার হারুন অর রশিদ।

তিনি আরো বলেন, প্রদত্ত দুই লাখ টাকা ঋণ গ্রেস পিরিয়ড বা এক বছর পর ৩০ মাসের মধ্যে ৩০ কিস্তিতে দুধ বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করবে সুবিধা ভোগীরা। ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী গরু দিনে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লিটার দুধ দিবে বলেও জানান তিনি। এ ঋনের চেক পেয়ে খুশী সুবিধাভোগীরা।

প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক বলেন, দুগ্ধ ঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারন” প্রকল্পের আওতায় তৃণমূল পর্যায়ে গাভী পালনে দুধের উৎপাদন বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং নারীর ক্ষমতায়ন হবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে বিশাল ভূমিকা রাখবে।




পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে।

মোঃ মহাসিন রেজা ইমরুলকে আহবায়ক এবং মোঃ নুরুল আমিন লিটন গাজীকে সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক করে ৩৩সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করেছেন জেলা যুবদলের সভাপতি মোঃ মনিরুল ইসলাম লিটন ও সাধালণ সম্পাদক মোঃ শিপলু খান।

উক্ত কমিটিকে আগামী ৪৫ কার্ম দিবসের মধ্যে সদর উপজেলার আওতাধীন সকল ইউনিয়ন যুবদলের কমিটি গঠন ও সদর উপজেলার সম্মেলন করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। কমিটির আহবায়ক ও সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক এর সম্মিলিত স্বাক্ষরে উক্ত কমিটি অনুমোদিত হবে।

জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান হয়।

কমিটিতে মোট ১৪জনকে যুগ্ন আহবায়ক করা হয়েছে। তারা হলেন-এডভোকেট মোঃ শাকিল মিয়া, মোঃ সাইফুল ইসলাম মৃধা, নিয়াজ মোর্শেদ শুভ, মাহমুদুল হাসান মাহমুদ, মোঃ মজিবর সরদার, মোঃ মোকসেদুল মৃধা, মোঃ জহিরুল ইসলাম, মোঃ ফারুক গাজী, এ্যাডভোকেট সিকদার মোঃ আল ইমরান, মোঃ বশির উদ্দিন বিশ্বাস, মোঃ কবির সিকদার, মোঃ সাইদুল ইসলাম গাজী, মোঃ আনোয়ার হোসেন এবং মোঃ রিয়াজ মির।

আরো পড়ুন : লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল – গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি

কমিটিতে সদস্য হিসাবে যাদেরকে রাখা হয়েছে তারা হলেন- মোঃ গোলাম রব্বানী, মোঃ নুরুল আমিন আল-মামুন, জামাল হোসেন মিন্টু মৃধা (মেম্বার), মোঃ রেজাউল করিম (মেম্বার), মোঃ শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, আবুল কালাম গাজী, মোঃ নেছার উদ্দিন সিকদার, মোঃ নাসির, মোঃ সুমন মিয়া, মোঃ ফোরকান সিকদার, মোঃ রেজাউল করিম, মোঃ হারুন, মোঃ দেলোয়ার হোসেন মোল্লা, মোঃ বাচ্চু মৃধা, মোঃ সুমন আকন, মোঃ মহশিন প্যাদা এবং মোঃ মহশিন আকন।




লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল – গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকা দিয়ে যেকোনো সময় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর কিছুটা উত্তাল হয়ে উঠেছে। এ এলাকার অনেক স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। বাতাসের তীব্রতার সঙ্গে বেড়েছে নদ-নদীর পানির উচ্চতাও।

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহাবুবা সুখী আজকের পত্রিকাকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে মানববন্ধন

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় লঘুচাপ অবস্থান করছে। এ কারণে পটুয়াখালীর পায়রাসহ দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রেখেছে জেলা আবহাওয়া অফিস। সেই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব মাছধরা ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. দিদার উদ্দিন আহম্মেদ মাসুম বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাসের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে অধিকাংশ মাছধরা ট্রলার মহিপুর-আলীপুর শিববাড়িয়া নদীতে আশ্রয় নিয়েছে।




ঝালকাঠিতে জমে উঠেছে লেবুর ভাসমান হাট

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভিমরুলীর ভাসমান লেবুর হাট চলতি মৌসুমে জমে উঠেছে। প্রতিদিন এখানে লাখ লাখ লেবু কেনাবেচা হচ্ছে। পাইকাররা নৌকা থেকে লেবু কেনে গাড়িতে করে বরিশাল আড়তে নিয়ে বিক্রি করছেন। অনেকে আবার মালবাহী ট্রলার বা ট্রাকে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন জেলায়।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ বছর ঝালকাঠি জেলায় বাণিজ্যিকভাবে ৯২ হেক্টর জমিতে লেবুর চাষ করা হয়েছে। অনাবৃষ্টির কারণে লেবুর ফলন প্রতি বছরের চেয়ে এ বছর কম হলেও কৃষকরা ন্যায্য দাম পেয়ে খুশি। দেশীয় সুগন্ধিযুক্ত কাগজিলেবু ছোট হলেও ভেতরে পর্যাপ্ত রস থাকে। ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এই লেবুর প্রতি সবারই কম-বেশি আকর্ষণ আছে। লেবুচাষিদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে গাছের পরিচর্যাসহ সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রতি বছরের মতো এ বছরও ৩ কোটি টাকার বেশি বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঝালকাঠি জেলার ২২টি গ্রামের ৯২ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে সুগন্ধি কাগজিলেবুর। ভিটামিন-সি যুক্ত রসাল এই লেবুর ঘ্রাণে মাতোয়ারা আশপাশের এলাকা। বাজারে বিভিন্ন জাতের লেবু ১২ মাস পাওয়া গেলেও মৌসুমি এ কাগজিলেবুর চাহিদাই বেশি। সদর উপজেলার কৃষি অঞ্চলখ্যাত কীর্তিপাশা, নবগ্রাম ও গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ২২টি গ্রামেই কাগজিলেবুর উৎপাদন হয়। গ্রামীণ হাট-বাজারে বিক্রি হলেও মূল মোকাম ভিমরুলী।

ফরমালিন ও কেমিক্যালমুক্ত রসাল সুগন্ধি কাগজিলেবু সবার কাছেই প্রিয়। ঝালকাঠির বাউকাঠি, শতদশকাঠি, ভিমরুলী, কাফুরকাঠি, আটঘর, গাভারামচন্দ্রপুর, পোষণ্ডা, ডুমুরিয়া, খেজুরা, কীর্তিপাশা, মিরাকাঠিসহ ২২টি গ্রাম এখন লেবুর ঘ্রাণে মাতোয়ারা। প্রতিদিন এসব গ্রামের কৃষকরা গাছ থেকে লেবু সংগ্রহ করে নৌকায় ভিমরুলী বাজারে নিয়ে আসেন। অপেক্ষমাণ পাইকাররা ট্রলারে বসেই লেবু কেনে নেন।

সরেজমিন আলাপ হয় স্থানীয় লেবুচাষিদের সঙ্গে। এ সময় তারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনে অনাবৃষ্টির কারণে গত বছরের তুলনায় এবার ফলন কম হওয়ায় দাম বেশি। গত বছর ১ পোন (৮০টি) লেবু ছিল আড়াইশ টাকা। এবার তা ৪শ টাকা। গ্রামের কৃষকরা সজ্জন পদ্ধতিতে (কাঁদি কেটে) লেবু চাষ করছেন। একেকটি কাঁদি ১শ থেকে ১১০ হাত লম্বা এবং ৭-৮ হাত চওড়া হয়। প্রতিটি কাঁদিতে ২২ থেকে ২৫টি গাছ লাগানো যায়। এ রকম ১ বিঘার কাঁদিতে লেবু চাষ করতে খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা। ফল ধরার পরে প্রতি বছর লেবু বিক্রি করে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পাওয়া যায়। সে হিসাবে লেবু বিক্রি করে প্রতি বছর কৃষকরা আয় করছেন দেড় থেকে ৩ কোটি টাকা।

লেবুর পাইকারি ব্যবসায়ী রহমান জানান, পটুয়াখালী থেকে মালবাহী ট্রলার এলে সেই ট্রলারে পটুয়াখালী মোকামে পাঠানো হয়। ওখানের কাঁচামাল বিক্রেতাদের সঙ্গে আগেই চুক্তি করা থাকে। কেনা দামের ওপর লাভ রেখে বিক্রি করা হয়। স্থানীয় পাইকাররা জানান, তীব্র গরমের কারণে ঘেমে মানুষের শরীর দুর্বল হয়। জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হলে লেবুর শরবত পান করলে আরোগ্য লাভ করা যায়। তাই কাগজিলেবুর চাহিদা বরাবরই বেশি। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার চাহিদা অনেকগুণ বেশি। এ জন্য কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্য দিয়েই লেবু কেনে নেওয়া হচ্ছে। ভালো মানের একেকটি লেবুর ক্রয় মূল্যই হচ্ছে ৫ টাকা যা খুচরা বাজারে ৭-৮ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। প্রতি বছরই লেবুর চাহিদা থাকে। কিন্তু এ বছর চাহিদা অনেক বেশি।

কথা হয় লেবুচাষি বশিরের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, ঝালকাঠির কাগজিলেবুর কদর সবার কাছেই সমান। ফলন ধরার পর দুভাবে লেবু বিক্রি করে থাকি। প্রথমত স্থানীয় ভিমরুলী বাজারে পাইকারদের কাছে। এ ছাড়া গাছে ফল আসার পর পাইকারদের কাছে বাগান বিক্রি করি এককালীন নগদ টাকায়। ভিমরুলী থেকে নৌকা বা ট্রলারে করে পাইকাররা কেনে তা সরবরাহ করেন ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।




পটুয়াখালীতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে কলাপাড়া নাগরিক উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৯ জুন) সকাল ১১টায় শহীদ সুরেন্দ্র মোহন চৌধুরী সড়কের মনোহরী পট্টিতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক উদ্যোগ আহবায়ক কমরেড নাসির তালুকদার।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুর রহমান সিকদার, ধানখালী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. জিসান আলমগীর সহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা কলাপাড়ায় বিদুৎতের নানা অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানান।

আরো পড়ুন : পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ম ইউনিট বন্ধ, বেড়েছে লোডশেডিং

এসময় তারা বলেন, তাপবিদ্যুতের জন্য কলাপাড়ার মানুষ বাড়িঘর, মসজিদ, মন্দীর, গোরস্থান সবকিছু দিয়ে তারা বাস্তহারা হয়েছে। তাই এখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যু সরাসরি কলাপাড়াবাসিকে দিয়ে অন্যত্র বিতরণ করতে হবে।
এছাড়াও চলমান এই পরিস্থিতির উন্নতি না হলে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না করলে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।




পায়রার ১ ইউনিট বন্ধ – দক্ষিণে দৈনিক ৭ ঘণ্টা লোডশেডিং

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ৪ দিন ধরে বন্ধ পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট। ফলে দক্ষিণাঞ্চলসহ গোটা দেশে লোডশেডিং দেখা দিয়েছে চরমে। গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন।

বিদুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, শিডিউল মেইনটেনেন্সের জন্য সাময়িকভাবে এক ইউনিট বন্ধ রয়েছে। তবে অপর ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়া হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার (২৪ জুন) বিকেলে বন্ধ হয় পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট। ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুই ইউনিটের একটি বন্ধ হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা দেয় লোডশেডিং। দৈনিক ছয়-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না। তাই গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন।

আরো পড়ুন : বাউফলে কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তত্বাবাধায়ক প্রকৌশলী শাহ আব্দুল হাসিব জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কেন্দ্রে নিয়মিত যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় এক ইউনিটের উৎপাদন সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়। তবে ৪ জুলাই ইউনিটটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে ফের উৎপাদন শুরু হবে।

জাতীয় গ্রিডে কর্মরত একজন সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পটুয়াখালী জেলায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা ১০০ মেগাওয়াট। সেখানে বুধবার থেকে তারা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন মাত্র ৫০ মেগাওয়াট। এ অবস্থায় বেশি মাত্রায় লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে ন্যাশনাল ক্রাইসিসের কারণে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেশি হচ্ছে। তার ওপর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ না হওয়ায় পটুয়াখালী জেলায় লোডশেডিং বেড়ে গেছে। তবে সম্মিলিতভাবে বিদ্যুৎ বিভাগ চেষ্টা চালাচ্ছে এই ‘ন্যাশনাল ক্রাইসিস’ থেকে মুক্ত হওয়ার।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী দীন মোহাম্মদ মুহিম জানান, এ জেলায় মোট ৩২ হাজার গ্রাহকের জন্য ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে ১০-১২ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পৌর এলাকায়ও মাঝে মধ্যে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

দেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পায়রা। কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চীন ও বাংলাদেশের যৌথ বিনিয়োগে নির্মিত হয়েছে। ২০২০ সালের ১৫ মে প্রথম কেন্দ্রটি পুরোপুরি উৎপাদনে আসে।

এরপর ২০২৩ সালের ২৫ মে ডলার সংকটে কয়লার দাম পরিশোধ করতে না পারায় গত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। একই কারণে ৫ জুন দুপুরে কেন্দ্রটির ইউনিটটিও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।




শিক্ষকতার পাশাপাশি ছাদ বাগান করে সফল পটুয়াখালীর শামীম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বর্তমানে সারা দেশে ফসলি জমি কমছে বাড়ছে বসতি। তাই অল্প জায়গায় অধিক ফল-ফসল উৎপাদন করা যায় তা নিয়ে সরকারের নানা উদ্যোগ রয়েছে। তাই বিভিন্ন শহরে বড় বড় ভবনের ছাদ বাগানে বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি চাষে ঝুঁকছেন বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ। এসব বাগান করে সফলতাও পাচ্ছেন অনেকে। শখ থেকে হয়ে উঠছে বাণিজ্যিক চিন্তাধারাও। আর এই শখ এবং বাণিজ্যিক চিন্তাধারা মাথায় রেখে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের সুবিদখালী বাজার এলাকায় এম শামীম আহমেদ নাসির নিজ বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন, অরিজিনাল থাই ড্রাগন লাল, সাদা হলুদ প্রজাতির বাগান। এ ছাড়াও আম্রপলি, হাঁড়িভাঙ্গা, বারোমাসি পেয়ারাসহ বিভিন্ন প্রকার মৌসুমি শাকসবজি রয়েছে তার বাগানে।

শামীম উপজেলার এন এস আমড়াগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মির্জাগঞ্জ উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক।

আরো পড়ুন : বাউফলে কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

এ ব্যাপারে শামীম জানান, ২০২০ সালের করোনাকালীন বিদ্যালয়ে ছুটি থাকায় ড্রাগন ফলের গাছ লাগিয়ে ছাদবাগান শুরু করি। ছোট বেলা থেকেই বাগান করা আমার শখ। বর্তমানে আমার ছাদবাগানে ১০০টি অরিজিনাল থাই ড্রাগন লাল, সাদা ও হলুদ ড্রাগন ছাড়াও আম্রপলি, হাঁড়িভাঙ্গা, বারোমাসি পেয়ারা ও বিভিন্ন প্রকার মৌসুমি শাকসবজি রয়েছে। তিনি সব ধরনের সবজি ও ফলে জৈবসার ব্যবহার করেন। পরিবারের চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত ফল ও সবজি আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বণ্টন করেন।

তিনি আরো বলেন, ছাদ বাগানে পরিশ্রম ও খরচ বেশি তবে বাগান থাকে নিরাপদ। অনেকে আমার বাগান দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন। আমি তাদের ছাদ বাগান করার পরামর্শ দেই। তবে আমার মতো মির্জাগঞ্জের সুবিদখালীতে আরো দু’জন ছাদবাগান করে সফলতা পেয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আবদ্ল্লুাহ আল-মামুন জানান, শিক্ষকতার পাশাপাশি শামীম আহমেদের মতো প্রত্যেক নাগরিকের বাগান করার দিকে গুরুত্ব দেয়া উচিত। গত কয়েক বছরে মির্জাগঞ্জে ছাদ বাগানের সংখ্যা বেড়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সবাইকে নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।




বাউফলে কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাসের বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২০ জুন বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল পরিমাণ ওই অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অবহিত করে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৩-২০২৪ ইং অর্থ বছরে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করে ভূয়া বিল ভাউচার তৈরি করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাত করেন কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস। বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ মনগড়াভাবে পরিচালনা করেন তিনি। ঠিকভাবে কৃষি উপকরণ বিতরণ করেন না। কৃষকের প্রশিক্ষণের নাস্তা, খাবার ও ভাতাদি ঠিকমতো প্রদান না করে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাত করেছেন।

গত ২২ এপ্রিল আউশ প্রণোদণা কার্যক্রম না করে ১ মাস পর ২৩ মে কৃষকদের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ করেন। নির্দিষ্ট সময় সার ও বীজ বিতরণ না করায় সরকারের এই প্রকল্প কৃষকের উপকারে আসেনি।

এছাড়াও মৌসুম পেরিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন প্রণোদনা কার্যক্রম পরিচালনা করায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ২০২৩-২০২৪ ইং অর্থ বছরে অনাবাদী পতিত জমি ও বসত বাড়ির আঙিনায় সবজি ও পুষ্টি বাগান স্থাপণ প্রকল্প থেকে ৩৬ লক্ষ ২৪ হাজার ৩৫০ টাকা, কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ২৬ লক্ষ ৬১ হাজার ১১২ টাকা, পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোড়দারকরণ প্রকল্প থেকে ১০ লক্ষ ৮১ হাজার ৫০০ টাকা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠী, বরগুনা, মাদারীপুর ও শরিয়তপুর কৃষক উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ৪০লক্ষ ৮০ হাজার ৮০০ টাকা, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নতমানের ধান,গম ও পাটবীজ উৎপাদন সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্প থেকে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ১০০ টাকা, তেল জাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প থেকে ৯ লক্ষ ৩০ হাজার ৮০০ টাকা, রাজস্ব প্রকল্প থেকে ১৬ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা, সমন্বিত ব্যবস্থাপণার মাধ্যমে খামার যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প থেকে ১ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা, প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারগ্রেনরশীপ অ্যান্ড রেডিয়েশন ইন বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে বরাদ্দকৃত ২৭ লক্ষ ৪৫ হাজার ৩১৮ টাকা, ষ্টেকহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কমপিটিটিভনেশন প্রকল্প (এসএসিপি) থেকে ২৯ লক্ষ ১০ হাজার ৪০০ টাকা এবং বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে ১ লক্ষ ৭৭ হাজার ৮০০ টাকার কাজ না করে ভূয়া বিলভাউচার তৈরি করে মোট ২ কোটি ৪ লক্ষ ১৫ হাজার ২৯০ টাকা আত্মসাত করেন কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস।

আরো পড়ুন : দুমকিতে ছাত্রলীগের ৩ নেতাকে অব্যাহতি

প্রতিবেদন আরও উল্লেখ করা হয়, উল্লেখিত প্রকল্পের কোনো দৃশ্যমাণ কাজ বাউফল উপজেলায় নেই। কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস বরাদ্দকৃত সমুদয় টাকা আত্মসাত করায় সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কৃষক সঠিকভাবে সেবা পাচ্ছে না। কৃষি উপকরণ, প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাসের কারণে কৃষি সেক্টর ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং সরকারের উন্নয়ন আলোর মুখ দেখছে না।

একটি সূত্র জানায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উর্দ্ধতন কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজসে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত করেন অনিরুদ্ধ দাস। অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর থেকে ওই উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ম্যানেজ প্রক্রিয়ার জন্য মাঠে নেমেছেন। তারা অনিরুদ্ধ দাসের অনিয়ম-দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। বিষয়টি বাড়াবাড়ির পর্যায়ে না যায় সে জন্য লবিং তদবিরও শুরু করেছেন।

অর্থআত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস বলেন, প্রকল্পের কাজগুলো যথানিয়মে হয়েছে। সব কাজই দৃশ্যমান। এ ব্যাপারে পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বশির গাজী বলেন, আমার জানা মতে উল্লেখিত প্রকল্পের কোনো কাজই হয়নি। অনিরুদ্ধ দাসের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অবহিত করে এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসকের বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।




গৌরনদীতে মেয়র পদে উপ-নির্বাচন আটক কর্মকর্তাদের ঠাঁই হলো কারাগারে

বরিশাল অফিস :: জেলার গৌরনদী পৌরসভার মেয়র পদে উপ-নির্বাচনে এক মেয়র প্রার্থীর কাছ থেকে গ্রহণ করা ঘুষের টাকাসহ আটককৃত এক প্রিজাইডিং ও দুই সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও গৌরনদী উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ সাইদুর রহমান বাদি হয়ে মামলা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ওইদিন দুপুরে আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ জাহারে বাদি সাইদুর রহমান উল্লেখ করেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে জানতে পারি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও গৌরনদী বন্দর সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার মোঃ সাইদুর রহমান, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও গৌরনদী জাতীয় মহিলা সংস্থার কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার ভদ্র এবং সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার উত্তর কান্ডপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক দেলোয়ার হোসেন ভোটের আগের দিন মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে মোবাইল ফোন প্রতীকের মেয়র প্রার্থী এইচএম জয়নাল আবেদীনের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন।

বিষয়টি জানার পরে ভোট চলাকালীন সময়ে বুধবার আমি এবং বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার মোঃ আলাউদ্দিন, বরিশাল জেলা সিনিয়র অতিরিক্ত নির্বাচন অফিসার ও উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার অহিদুজ্জামান মুন্সী, কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ উপ-পরিদর্শক মোঃ আব্দুল কাইয়ুম একদল পুলিশ নিয়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তদের একটি কক্ষে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তারা ঘুষ গ্রহণের কথা স্বীকার করেন। স্বীকারোক্তিতে আসামিরা বলেন, গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মোবাইল ফোন প্রতীকেরমেয়র প্রার্থী এইচএম জয়নাল আবেদীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মোঃ হারিছুর রহমান ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফরহাদ হোসেন মুন্সী রাতে ভোট কেন্দ্রে এসে বকশিসের কথা বলে তাদেরকে আট হাজার টাকা দিয়েছেন।

একপর্যায়ে ঘুষের টাকা বের করে দিলে পুলিশ টাকা জব্দ করে করেন।

বরিশাল গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ মাজহারুল ইসলাম বলেন, দায়েরকৃত মামলায় আটক তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এজাহারের মধ্যে আরো তিনজনের নাম রয়েছে। তদন্তে তাদের জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোবাইল ফোন মার্কার পক্ষে প্রার্থী ও তার উল্লেখিত ওই দুই সহযোগি ভোটগ্রহণের আগেরদিন রাতে বিভিন্ন কেন্দ্রে কেন্দ্রে গিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারদের টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এরমধ্যে গেরাকুল বেগম আখতারুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে রাত সাড়ে এগারোটার দিকে টাকা দিতে আসে হারিছুর রহমানসহ তার সহযোগিরা। তাৎক্ষনিক দায়িত্বরত ম্যাজিষ্ট্রেট ওই কেন্দ্রে উপস্থিত হলে হারিছুর রহমানসহ তার সহযোগিরা পালিয়ে যায়।