গলাচিপায় অর্থনৈতিক শুমারিতে অগ্রাধিকার পায়নি বেকার যুবরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় অর্থনৈতিক শুমারি -২০২৪ জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভাকে চারটি জোনে বিভক্ত করে সম্প্রতি তালিকাকারী নিয়োগ দিয়েছে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস।

যার ৩ দিনের প্রশিক্ষন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে তালিকাকারীদের জন্য নাস্তা ও খাবার বাবদ বরাদ্দের টাকা বন্টন নিয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে।

জানা যায়, শিক্ষিত বেকার যুব / যুব মহিলাদের ও বিগত দিনে বিভিন্ন শুমারির কাজে অভিজ্ঞ দক্ষ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার বিধান রয়েছে।

তবে গলাচিপা উপজেলায় চিত্র তার উল্টো। এখানে যুবদের বঞ্চিত করে বেসরকারি চাকরি জীবী, এনজিও কর্মী, অনভিজ্ঞ, স্বামী-স্ত্রী, মধ্যে বয়সী পুরুষ ও নারীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের পরিসংখ্যান সহকারী (অ. দা.) ও নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব সোহাগ ভূইয়া স্বজনপ্রীতি করে তার পছন্দের লোক দিয়ে তালিকা প্রস্তুত করে তালিকাকারী নিয়োগ দিয়েছে।

যা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থেকে শুরু করে জনমনে। এদিকে সোহাগ ভূইয়া জোন ১ এর জোনাল অফিসার পদে দ্বায়িত্বে রয়েছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের নতুন কমিটির শপথ গ্রহন অনুষ্ঠিত

জনবল নিয়োগটি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ না করে গোপনে পরিসংখ্যান অফিস হতে জনশুমারির তালিকা থেকে এবং পছন্দের লোক ফোন করে আনা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুলো ঘুরে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ মধ্যে বয়সী পুরুষ ও মহিলাদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রশিক্ষণে তালিকাকারীদের জন্য নাস্তা ও দুপুরের খাবার বাবদ বরাদ্দ ৩০০ টাকা যা ভ্যাট বাদে ২৬১ টাকা।

সেখানে ১৭৫ টাকার নাস্তা ও খাবার দেয়া হয়েছে। একই চিত্র সব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ফলে খাবারের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এ নিয়ে কথা হয় নিয়োগ বঞ্চিত ভাইভায় অংশগ্রহণকারী একাধিক প্রার্থীর সাথে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানায়, জনশুমারী সহ বিভিন্ন শুমারীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের।

এ সূত্রে পরিসংখ্যান অফিস থেকে তাদের ফোন করে ডাকা হয়। পরে ভাইভায় অংশগ্রহণ করানো হয় তাদের। কিন্তু অভিজ্ঞতা থাকা স্বত্বেও নিয়োগ না দিয়ে সোহাগ ভূইয়া তার পছন্দমত তালিকা সাজিয়ে নিয়োগ দিয়েছে।

সেখানে স্বামী – স্ত্রী, চাকুরি জীবী নিয়োগ পেয়েছে। এমনকি তারা অভিযোগ করে বলেন, অনেকে ভাইভা না দিয়েও নিয়োগ পেয়েছে যা প্রশ্নবিদ্ধ।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্থানীয় যুবদের নিয়োগ না দিয়ে অন্য ইউনিয়নের লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বঞ্চিতদের অভিযোগ নিয়োগের অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই নিয়োগ প্রাপ্তদের তালিকা ওয়েবসাইটে বা অন্য কোথাও প্রকাশ হয়নি।

তাই এ বিষয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। সরকারের পদক্ষেপ থাকলেও বাস্তবে বেকার সমস্যা সমাধান হচ্ছে না অথচ কাজে যুবদের অগ্রাধিকারেই কমতে পারে বেকারত্ব।

এ বিষয়ে সোহাগ ভূইয়া অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, সকল কিছু নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে।

তবে খাবারে ১৭৫ টাকা ব্যয় করার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ বহন করতে বাকি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

সহকারী পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ও উপজেলা সমন্বয়কারী মো. মাসুদ বলেন, অর্থনৈতিক শুমারিতে শিক্ষিত বেকার যুবদের নিয়োগে অগ্রাধিকার থাকলেও অন্যান্যরাও নিয়োগ পেয়েছে। তবে যেসব অভিযোগ উঠেছে প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, নিয়োগে কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের নতুন কমিটির শপথ গ্রহন অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলার ব্যবসায়ীদের অন্যতম বৃহত্তম সংগঠন দি-পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর ২০২৪-২০২৬ ইং দুই বছর মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নতুন কমিটির শপথ গ্রহন ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১ জুলাই) বেলা ১১ টায় দি-পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি মিলনায়তনে চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পর্ষদের গঠিত নতুন কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আযাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান খান ও সহ-সভাপতি মো.মিজানুল আলম স্বপন মৃধাসহ ২১ জন পরিচালক সদস্যকে শপথ গ্রহন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন চেম্বারের নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিপি আব্দুল মান্নান।

আরো পড়ুন : বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রস্তুত ‘পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র

এ সময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মো. হাফিজুর রহমান, পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ, নবনির্বাচিত সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সোয়েব। কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন চেম্বারের নবনির্বাচিত সভাপতি আবুল কালাম আযাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান খান ও সহ-সভাপতি মো.মিজানুল আলম স্বপন মৃধা। নির্বাচন বোর্ডের সদস্য জিএম জাফর কিরনের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন চেম্বারের পরিচালক সদস্য মো. রেজাউল করিম।

অন্যান্য নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের ১৮ জন সদস্যরা হলেন যথাক্রমে- মো. রিয়াজ মৃধা, একেএম খায়রুল আহসান খায়ের, খন্দকার নুরুল ইসলাম সেলিম, খায়রুন্নাহার লাকি, শিবু লাল দাস, মো. হেলাল উদ্দিন, মো. ফারুক মৃধা, দেলোয়ার হোসেন আকন, সঞ্জয় কর্মকার, মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাপ্পি, আরিফুর রহমান সোহাগ, মো. রেজাউল করিম, মো. কাওসার হোসাইন, মো. জামাল হোসেন, আরেফুর রহমান সেলিম, মো. কামরুজ্জামান টিপু, মো. ইমরান হোসেন ও মো. রেজাউল করিম শুভ।




বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রস্তুত ‘পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্ম্পূনরুপে প্রস্তুত পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ডিসেম্বরের মধ্যে এ কেন্দ্র থেকে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রীডে। সে লক্ষে চলছে শেষ পর্যায়ের কাজ। এটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য এটি মাইলফলক বলে মনে করছেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

২০১৯ সালে চীনের রাষ্ট্রয়ত্ব প্রতিষ্ঠান নোরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার কোম্পানী লিমিটেড এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রয়ত্ব প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানী লিমিটেডের যৌথ বিনিয়োগে পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মান কাজ শুরু হয়। পটুয়াখালীর ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামে ৯১৫ একর জমির উপর ২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরে নির্মান কাজ শুরু করা হয়।

করোনাসহ নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে টারবাইন, চুল্লি, কোল স্টোর, স্টিল স্টাকচার, বয়লার ও জেনারেটর বসানোর কাজ।

আরো পড়ুন : বাবার দেয়া মসজিদের জমি রক্ষার প্রতিবাদ করায় হয়রানিসহ মামলা

দ্রুত গতিতে চলছে কনষ্ট্রাকশন ও রংয়ের কাজ। ৪ হাজার বাঙ্গালী ও দেড় হাজার চীনা শ্রমিক নির্মান কাজ করছেন। ইতোমধ্যে বয়লারে ফায়ারিংও করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে বিদুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত এ পাওয়ার প্লান্ট। সুইচিং স্টেশনের কাজও ৯২ ভাগ শেষ।

বর্তমানে শেষ পর্যায়ের টেস্টিং ও কমিশনিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। জুলাই মাসে ব্যাক ফিড পাওয়ার পেলে সেপ্টেম্বরের প্রথম ইউনিট থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট ও ডিসেম্বরে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে সংযুক্ত করতে চায় প্রকল্পটি।

এ প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ যোগ হলে লোড শেডিং অনেকটা কমবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।




বরিশালে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নারী কর্মী নিয়োগ, আবেদন ফি ১০০ টাকা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ‘বিলিং সহকারী’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, রূপাতলী, বরিশাল

পদের বিবরণ

চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক
প্রার্থীর ধরন: নারী
কর্মস্থল: বরিশাল

১২ জন শিক্ষক নিয়োগ দেবে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রভাষক পদে নিয়োগ দিচ্ছে হাবিপ্রবি

আবেদনপত্র সংগ্রহ: আগ্রহীরা বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, রূপাতলী, বরিশাল এর মাধ্যমে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।

আবেদনের ঠিকানা: জেনারেল ম্যানেজার, বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, রূপাতলী, বরিশাল।

আবেদন ফি: জেনারেল ম্যানেজার, বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, রূপাতলী, বরিশাল এর অনুকূলে ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট/পোস্টাল অর্ডার/পে-অর্ডারের রশিদ আবেদনপত্রের সঙ্গে পাঠাতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখ অফিস চলাকালীন সময় পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

সূত্র: যুগান্তর, ০১ জুলাই ২০২৪




সর্বাত্মক আন্দোলনে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শিক্ষকরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈষম্যমূলক পেনশন প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তনের দাবিতে সারা দেশে ন্যায় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) তে চলছে আন্দোলন কর্মসূচী।

দক্ষিণাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আজ ১ জুলাই থেকে দাবি আদায়ে আন্দোলন কর্মসূচী শুরুর ঘোষণা দেয়া হয়।

শিক্ষক সমিতি সভাপতি প্রফেসর জেহাদ পারভেজ জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত বৈষম্যমূলক পেনশন প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তনের দাবিতে তারা এ কর্মসূচী শুরু করেছেন।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের আহবানে আজ ১ জুলাই থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পবিপ্রবিতে সর্বাত্মক আন্দোলন কর্মসূচির রূপরেখা ঘোষণা করা হয়।

আরো পড়ুন : আমতলীতে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল – এক সপ্তাহে ১২ প্রাণহানি

ঘোষিত রূপ রেখা অনুযায়ী সকল অনুষদের সকল সেমিস্টারের সব ধরনের ক্লাশ ও পরীক্ষা (অনলাইন ও অফলাইন) বন্ধ থাকবে। বিভিন্ন অনুষদ, ইনস্টিটিউট, সেল এ দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ (ডিন, চেয়ারম্যান, পরিচালক ইত্যাদি) সকল ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন। বিভিন্ন অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শিক্ষকগণ (প্রভোস্ট, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা, প্রক্টর, পরিচালক এবং তাদের সহকারীগণ) যে কোনো ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে সকল ধরনের মিটিং (একাডেমিক কাউন্সিল, রিজেন্ট বোর্ড, তদন্ত কমিটি, সিলেকশন বোর্ড, ভাইভা বোর্ড, ভর্তি কমিটি, ভর্তি পরীক্ষা কমিটি, বিভাগীয় সভা) অনুষ্ঠিত হবে না।

ভর্তি পরীক্ষা ও শিক্ষার্থী ভর্তি সংক্রান্ত সকল ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স (ইভেনিং এমবিএ), থিসিস ডিফেন্স, গবেষণা প্রকল্প উপস্থাপন, সকল ধরনের ট্রেনিং, সেমিনার, কনফারেন্স, সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হবে না। সকল অনুষদের শিক্ষকগণ দাবি আদায়ে প্রতিদিনের ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত কৃষি অনুষদ প্রাঙ্গণে অংশগ্রহণ করবেন।




আমতলীতে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল – এক সপ্তাহে ১২ প্রাণহানি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বরগুনার আমতলীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। গত এক সপ্তাহে পৃথক কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন।

সবশেষ গতকাল রবিবার (৩০ জুন) বরিশাল থেকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে কলাপাড়া যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। আমতলী- পটুয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ডাক্তারবাড়ী নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন, আহত হন আরো একজন।

এর আগে গত শুক্রবার (২৮ জুন) একই সড়কে আমতলীর মহিষকাটা বাজারে মোটরসাইকেল ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন মাছ ব্যবসায়ী নিহত হন। আহত হন আরো চারজন।

একইদিন আমতলীর ঘটখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে আহত হন পাঁচজন।

গত ২২ জুন বৌভাতে যাওয়ার পথে হলদিয়াহাট লোহার সেতু ভেঙে মাইক্রোবাস খালে পড়ে নারী ও শিশুসহ ৯ জন নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় আহত হন আরো অন্তত আটজন।

এছাড়াও গত এক সপ্তাহে উপজেলার আমতলী- তালতলী সড়কসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে পৃথক মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক দুর্ঘটনায় আরো অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে বঙ্গোপসাগর উত্তাল – ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত

এ বিষয়ে আমতলীর প্রবীণ সাংবাদিক খান মতিয়ার রহমান বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের সড়কপথে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। সে অনুযায়ী যানবাহন চলাচলের জন্য সড়ক প্রশস্থ করা হয়নি। এছাড়া গাড়ির চালকদের অদক্ষতা, অসচেতনতা ও আঞ্চলিক মহাসড়কের সড়ক অব্যবস্থাপনাই প্রাণহানির প্রধান কারণ। তবে পটুয়াখালী-আমতলী ও কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নতি করা প্রয়োজন, তা নাহলে সড়ক দুর্ঘটনা ঠেকানো অসম্ভব হয়ে যাবে।’

সচেতন মহল অবিলম্বে পটুয়াখালী-আমতলী ও কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কটি চারলেন ও হাইওয়েতে পুলিশ দেওয়ার জোর দাবি জানান। না হলে মৃত্যুর মিছিল থামানো যাবে না বলে মত তাদের।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, ‘আমরা ট্রাফিক বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এছাড়া সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে আইনি প্রক্রিয়াও যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছি।’

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, ‘চালকদের চোখে পড়ে এমন রোড সাইন, রোড পোস্ট এবং মার্কিং করা জরুরি। প্রয়োজনে আমতলীতে দ্রুত হাইওয়ে পুলিশের ব্যবস্থা করা দরকার। হাইওয়ে পুলিশ থাকলে সড়কে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে যাবে।




১৩৫ বছরে বিএম কলেজ : শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা

বরিশাল অফিস :: দক্ষিণ বাংলার অক্সফোর্ড হিসেবে পরিচিত বরিশালের ঐতিহ্যবাহী, প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ। দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপীঠটি ১৮৮৯ সালে মহাত্মা অশ্বিনীকুমার দত্ত প্রতিষ্ঠা করেন, তার বাবা ব্রজমোহন দত্তের নামে কলেজটির নামকরণ করেন। একসময় বরিশাল অঞ্চলের একমাত্র উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রস্থল ছিল এই কলেজটি। বরিশালের প্রাচীনতম এই কলেজটিতে পড়াশোনা করেছেন দেশবরেণ্য অসংখ্য গুণিজন। কলেজটির সুনাম, সুখ্যাতি রয়েছে দেশ জুড়ে। ইতিহাস ঐতিহ্য ও গৌরবের ১৩৪ পেরিয়ে কলেজটি পা দিয়েছে ১৩৫ বছরে। শর্তবষী কলেজটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন, অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী, তরুণ লেখক মো. মেহেরাব হোসেন রিফাত

‘ব্রজমোহন কলেজের গৌরব পুনরুদ্ধারে আমাদের অঙ্গীকার’ ::

ব্রজমোহন কলেজ, বরিশাল- যে নামটি শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং বরিশাল শহরের জন্য এক গর্বের প্রতীক। এ কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্রছাত্রীরা এসে এখানকার জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়েছে। তবে গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলতে পারি, এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ধীরে ধীরে অবনতি হয়েছে, যা একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার এবং অনেকের কাছেই গভীর উদ্বেগের বিষয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম মূলভিত্তি হলো তার শিক্ষকরা। ব্রজমোহন কলেজের অনেক শিক্ষকই অত্যন্ত যোগ্য এবং অভিজ্ঞ। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, কিছু শিক্ষকের পাঠদানের পদ্ধতি অত্যন্ত পুরোনো এবং কার্যকারিতা হারিয়েছে। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, কিন্তু আমাদের কলেজে এই দিকটি যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। ল্যাবরেটরি এবং লাইব্রেরির ব্যবহারে নতুনত্বের অভাবও শিক্ষার মানকে প্রভাবিত করছে। প্রশাসনিক কাঠামোর জটিলতা এবং দুর্বলতা শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সময়মতো ক্লাস না হওয়া, পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন এবং ফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রতা শিক্ষার্থীদের মনোবল হ্রাস করছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় না, যার ফলে শিক্ষার্থীরা হতাশা এবং বিভ্রান্তির মধ্যে থাকে। সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং ছাত্রসংগঠনগুলোর কার্যক্রমেও মন্দা দেখা যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শুধু অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমই নয়, বরং ছাত্রছাত্রীদের সর্বাঙ্গীন বিকাশের জন্য সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গত কয়েক বছরে এ ধরনের কার্যক্রমের সংখ্যা এবং মান কমে গেছে, যা শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের অভাব সৃষ্টি করছে। তবে সবকিছুর পরও, ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখনো উচ্চমানের শিক্ষার জন্য একটি গভীর আগ্রহ এবং প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আমি আশা করি, কলেজের প্রশাসন এবং শিক্ষকরা আমাদের এই চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করবেন। শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন এবং মানসিক বিকাশের জন্য একটি আদর্শ পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে পারি। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে স্মরণীয় এবং অর্থবহ করতে, আসুন আমরা আমাদের কলেজের উন্নতির জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকি।

রাইসুল ইসলাম শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ

‘চন্দ্রদীপের প্রদীপ’ ::

আজ থেকে ১৩৫ বছর আগে আঁধারে ঘেরা চন্দ্রদীপের মধ্যে প্রদীপ রূপে জ্বলে উঠেছিল এই ব্রজমোহন কলেজ। প্রদীপালোক পৌঁছে গেছে পদ্মার পাড় থেকে বঙ্গোপসাগর তীরে। তিন শতাব্দীর সেতুবন্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও জ্ঞান বিতরণ করে চলেছে এই ব্রজমোহন কলেজ। বহু শিক্ষার্থী এই ক্যাম্পাসে এসে হয়েছেন প্রতিষ্ঠিত। পেয়েছেন পরিচিতি ও সম্মান। তারা আমাদের গর্ব। আমাদের প্রেরণা ও আবেগ। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সরকারি ব্রজমোহন কলেজ তার গৌরব হারাতে বসেছে। হয়তো যৌবন পেরিয়ে প্রৌঢ় হয়ে যাচ্ছে। আগের মতো সফলতার গল্প শোনা যায় না। প্রত্যাশা পূরণ করছে না এখন আর। বিসিএস পরীক্ষার সাফল্য প্রচার হচ্ছে না। এমনকি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিংয়ে প্রথম হওয়া কলেজটি এখন টপ-থ্রিতেও জায়গা পায় না। ক্যাম্পাসে পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়ে না। বহিরাগত, অছাত্র এবং উচ্চমাধ্যমিকের শিশুশিক্ষার্থীদের চলাফেরা আমাদের ভাবতে বাধ্য করে। বিভিন্নভাবে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ, ক্যানটিন উন্নয়ন, হল অব্যবস্থাপনা নিরসন, বাকসু নির্বাচন, প্রয়োজনীয় কর্মচারী নিয়োগ দেওয়াসহ ইত্যাদি বিষয়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ করছি। পরিশেষে বলতে চাই, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে, শিক্ষাবান্ধব স্মার্ট ক্যাম্পাস চাই।

বনি আমিন শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ

‘দৈন্যদশায় ভুগছে ব্রজমোহন কলেজ’ ::

দক্ষিণবঙ্গের আলোকবর্তিকা হিসেবে পরিচিত, ইতিহাস ঐতিহ্যসমৃদ্ধ সরকারি ব্রজমোহন কলেজ। কথিত আছে, ভারতবর্ষ যখন অন্ধকারে নিমজ্জিত, বরিশাল তখন আলোকিত। মূলত শিক্ষার আলোতেই আলোকিত ছিল বরিশাল। সেই আলোর দীপশিখা জ্বেলেছে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত প্রতিষ্ঠিত ব্রজমোহন কলেজ। ইতিহাস ও ঐতিহ্যে আমাদের কলেজটি ছিল ঋদ্ধ। কিন্তু বর্তমান সময়ে কলেজটির মর্যাদা ও শ্রীবৃদ্ধি ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। আমাদের এই শিক্ষাঙ্গন জাতীয় পর্যায়ে সর্বদাই শীর্ষ পাঁচে থাকত। কিন্তু বর্তমানে সেই স্থানটিও হারিয়ে ফেলছে। জাতীয় রাজনীতিসহ সব ক্ষেত্রেই এই প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিখ্যাত অনেক ব্যক্তি আমাদের এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বর্তমান সময়ে ব্রজমোহন কলেজ তার অতীত জৌলুস হারিয়ে হয়তো বার্ধক্যে উপনীত হচ্ছে। কলেজের কিছু ডিপার্টমেন্টে রয়েছে শিক্ষকস্বল্পতা, প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত ছাত্রাবাস; আবার ক্যাম্পাসে সৌন্দর্য রক্ষার্থে দেখা যায় কলেজ প্রশাসনের চরম উদাসীনতা। রাজনৈতিক অনৈক্য ও অস্থিরতা সমানতালে বিরাজমান। এ ছাড়া এই কলেজে একসময় বিশটিরও বেশি সামাজিক সংগঠন ছিল যেগুলো বিভিন্ন উৎসব, পার্বণে বা সংকটে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখত। কিন্তু ক্রমান্বয়ে সামাজিক সংগঠনগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। আবাসিক ছাত্ররা কায়ক্লেশে ও টানাপড়েন জীবন-সংগ্রাম চালাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা তিনবেলা যে খাবার খাচ্ছে তাতে নেই চাহিদামতো পুষ্টি উপাদান। কলেজ প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপই পারে কলেজের দৈন্যদশা থেকে অতীত ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে। তাই আমি সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে কলেজ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

জাহিদুল ইসলাম পলাশ শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ




জরুরি অবতরণ করা ইসরায়েলি বিমানে জ্বালানি দেয়নি তুরস্কের কর্মীরা




কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়, ” সড়কের বেহাল দশা – পর্যটক হারাচ্ছে কুয়াকাটা ” শিরোনামে চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডটকম সংবাদ প্রকাশের পর পর্যটক ও স্থানীয়দের চলাচলের জন্য সাময়িকভাবে সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রবিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করেন। এতে পর্যটকসহ জনসাধারণের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজার থেকে আলীপুর শেখ রাসেল সেতু পর্যন্ত দীর্ঘ ১১ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরা। সামান্য বৃষ্টিতেই পাখি মারা বাজারের মূল কেন্দ্রসহ মৎস্য বন্দর আলিপুর থ্রি পয়েন্টে বড় বড় গর্তে কয়েক ফুট পানি জমে থাকে। এতে করে কুয়াকাটাগামী বিভিন্ন পরিবহনকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কের পাখিমারা বাজার এবং আলিপুর থ্রি পয়েন্ট এলাকায়। এ নিয়ে গত ২৯ জুন চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডটকম এ ” সড়কের বেহাল দশা – পর্যটক হারাচ্ছে কুয়াকাটা ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয় সাংসদের নজরে এলে সড়কটির বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সাময়িক সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশেষ করে পাখিমারা বাজার এবং আলীপুর বাজারের থ্রি পয়েন্টে বড় বড় গর্তের ইট দিয়ে সাময়িক উপযোগী করায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এতে পর্যটক ও এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কিছুটা লাগব হবে বলে জানান স্থানীয়রা।

আরো পড়ুন : দুমকিতে রাস্তার বেহাল দশা – চলাচলের ভোগান্তি

তারা জানান, সংবাদ প্রকাশের দুই দিন পরই স্থানীয় সংসদ সদস্য মহিববুর রহমান মহিবের নির্দেশনায় সড়কটি সাময়িক সংস্কারের কাজ শুরু করেন কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন।

তবে সাময়িক সংস্কার নয়, দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে সড়কের সাময়িক সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেসহ বিভিন্নভাবে প্রশংসায় ভাসছে উপজেলা প্রশাসন। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, পাখিমারা বাজারসহ মহিপুর শেখ রাসেল সেতুর আলীপুর থ্রি পয়েন্টের বেশ কিছু বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় ভোগান্তি আমাদের নজরে আসে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে মাননীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনায় ও উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সড়কের সাময়িক সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০০৯-২০১৪ অর্থ বছরে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজার থেকে মহিপুর মৎস্য বন্দরের শেখ রাসেল সেতু পর্যন্ত ১১ কি. মি. অংশের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করে খুলনার দি রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তখন এর নির্মাণ ব্যয় ছিল ২০ কোটি টাকা। কাজটি মানসম্মত না হওয়ায় তখন ঠিকাদারের বিল আটকে দেয় পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এ নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দুটি দল সরেজমিন তদন্তও করেন। তদন্তকারী দলের পক্ষ থেকেও কাজের গুণগত মান ভালো হয়নি বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। নিম্নমানের কাজের কারণে তখন সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৮ কোটি টাকার বিল আটকে দেয়। তবে এ কাজ বাবদ ১২ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হয়। এ ঘটনার পর দি রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম চূড়ান্ত বিল দাবি করে ২০১৪ সালে আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলার কারণে ১১ কি. মি. সড়কের ওপর সংস্কার কাজে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন। যার ফলে গত দশ বছর ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকে পাখিমারা বাজার থেকে শেখ রাসেল সেতু পর্যন্ত এ অংশের সড়কটি। তবে কুয়াকাটা পর্যটন এলাকায় যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়ার কারণে সওজ কর্তৃপক্ষ এ অংশে জরুরি মেরামতের কাজ করে সচল রাখে সড়কটি।




দুমকিতে রাস্তার বেহাল দশা – চলাচলের ভোগান্তি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের “সেকান্দার আলী দফাদার বাড়ির দরজার সামনের আবাসন থেকে ডাকাতিয়া খাল ভায়া তালুকদার বাজার পর্যন্ত” পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাটির রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবৎ মেরামত, সংস্কার বা পাকা করনের অভাবে ভেঙে বড় বড় খানাখন্দে পরিনত হয়েছে।

এ রাস্তাটি শ্রীরামপুর, মুরাদিয়া ও মৌকরন এ তিন ইউনিয়নের হাজার হাজার জনসাধারনের যোগাযোগ মাধ্যম। উপজেলা শহর দুমকিতে নিত্যনৈমিত্তিক কার্যসম্পাদন, স্কুল, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ জনসাধারণের কেনাকাটা করতে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।

এছাড়াও দুমকি, মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজার থেকে তালুকদার বাজার হয়ে পটুয়াখালী যাতায়াতের বিকল্প হিসেবে এ রাস্তা দিয়ে জনসাধারণ চলাচল করে।
স্থানীয় তালুকদার বাজার, কলবাড়ি বাজারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী মালামাল, নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনের একমাত্র ভরসা এ রাস্তাটি। মুরাদিয়া মহিলা মাদ্রাসা, লতিফ মোহসেনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জামলা দাখিল মাদ্রাসা, ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি নুরানী মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষার্থীরা এ রাস্তা দিয়ে চলাচলে চরম দুর্ভোগে পোহাতে হয়। অনেক সময় জরুরি ভিত্তিতে মুমূর্ষু রোগী নিয়ে যাতায়াতে আরো ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায় হরহামেশা।

আরো পড়ুন : বাউফলে তীব্র লোডশেডিং – দুর্ভোগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

গত ৩ দিনের বৃষ্টিতে রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত হয়ে পানি জমে কাঁদায় পরিনত হয়েছে। এছাড়াও রাস্তাটি দিয়ে ইট বালু বোঝাই অবৈধ মাহেন্দ্রা, ট্রলি পার্শ্ববর্তী মুরাদিয়া ও মৌকরন ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত যাতায়াত করায় আরো নাজুক হয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন বিশ্বের রোল মডেল। সর্বক্ষেত্রে সাফল্য গাঁথা ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন স্মার্ট বাংলাদেশ রূপান্তরের জন্য অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। অভুতপূর্ন কাজ করা সত্ত্বেও পিছুটান ছাড়ছেনা এ রাস্তাটি পাকা করনের। বিভিন্ন সময় এলাকার তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে উপজেলা চেয়ারম্যান এমনকি সাংসদ পর্যন্ত গড়িয়েছে এ অবহেলিত জনপদের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম রাস্তাটির পাকাকরণনের দাবি। রাস্তার পাশে অবস্থিত দক্ষিণ সালামপুর মঈনুল উলুম কওমী মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মোঃ ইউসুফ আলী খান বলেন, এ রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে ছোট ছোট শিশুদের মাদ্রাসায় যাতায়াতে খুব ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
মোশারেফ হাওলাদার নামের এক স্থানীয় বৃদ্ধ বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর পূর্বে এ রাস্তাটির মেরামতের কাজ হয়েছে। বর্তমানে রাস্তাটি দিয়ে চলাফেরায় খুব কষ্ট হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মো: সাদ জগলুল ফারুক জানান, রাস্তাটির আইডি নাম্বার ৫৭৮৯৬৪১৩৫ পড়েছে অনেক পূর্বেই কিন্তু সংস্কার বা পাকাকরণনের কোন পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত আমার স্কিমে নাই। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, রাস্তাটির জরাজীর্ণ , বেহাল দশা নিয়ে কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হওয়ার পরেও অজানা কারণে জনপ্রতিনিধি ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি গোচর হয়নি।