গলাচিপায় ফ্যান ছিঁড়ে শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় বুধবার মাথায় শ্রেণিকক্ষের সিলিং ফ্যান ছিঁড়ে পড়ে প্রিয়াংকা পাল নামে এক ছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। তাৎক্ষণিক ওই ছাত্রীকে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এতে তার মাথায় ৫/৬টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, প্রিয়াংকা গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের একটি জরাজীর্ণ কক্ষে ১৮ জন ছাত্রী পরীক্ষা দিচ্ছিল। এ সময় ফ্যান ছিঁড়ে নিচে পড়ে। তখন প্রিয়াংকার পাশে থাকা এক শিক্ষার্থী তাকে ধাক্কা দেয়। তাই সরাসরি মাথার ওপর না পড়ে কানের কাছে ফ্যানের পাখা লাগলে প্রিয়াংকা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। দুই বছর আগেও একই ভবনে আরেক ছাত্রী এভাবে আহত হয়েছিল বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান।

আরো পড়ুন : রাঙ্গাবালীতে গৃহবধূকে মারধর করায় আদালতে মামলা

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, গলাচিপা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে প্রিয়াংকাকে বাসায় নেওয়া হয়েছে। সব চিকিৎসা খরচ স্কুল কর্তৃপক্ষ বহন করেছে।




বদলেছে কীর্তনখোলা পাড়ের জীবন, ভাঙারপাড় যেন ‘মিনি কুয়াকাটা’

বরিশাল অফিস :: এই জনপদে এক সময় নাম ছিল ভাঙন। কীর্তনখোলা গিলে খেয়েছে অসংখ্য ঘর-বাড়ি। বরিশালের সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নে সেই ভাঙন আতঙ্ক আর নেই। সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ বদলে দিয়েছে হুমকির মুখে থাকা এই এলাকার জীবন। ভাঙন ভয়ে এক সময় যারা এলাকা ছেড়েছিলেন, তারা ফিরেছেন। স্থায়ী বসতি গড়েছেন আরও অনেকে।

ইউনিয়নটিতে সবচেয়ে বেশি ভাঙনের শিকার ভাঙারপাড়ে আতঙ্ক কেটেছে, নেই হাহাকার, বদলে গেছে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা। বেড়িবাঁধ কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দর্শনীয় স্থান, হোটেল, রেস্তোরাঁ, অবকাশ কেন্দ্র। মুগ্ধ করা পরিবেশে বিকেল হলেই হাজারো দর্শনার্থীর ঢল নামে। স্থানীয়রা ভাঙারপাড়কে এখন কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সঙ্গে তুলনা করছেন। নাম দিয়েছেন— ‘মিনি কুয়াকাটা’।

জানা গেছে, চরবাড়িয়ার নদী ভাঙন ঠেকাতে ২০১৯ সালে তিন কিলোমিটার নদী তীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাত ধরে প্রথমে ১৬ কোটি টাকা ব‌্যয়ে কাজ শুরু হলেও সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং প্রকল্প যুক্ত করে প্রায় ১৯১ কোটি টাকা ব‌্যয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ শেষ হয় ২০২৩ সালে। এরপরই বদলে যেতে শুরু করে গ্রামটি।

প্রাণোচ্ছল আলাপ করছিলেন বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাঙারপাড়ের বাসিন্দা নূরুল ইসলাম। কীর্তনখোলা নদীর তীরের পাশে নূরুল ইসলামের টিনেশেড ঘর। কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। প্রাণোচ্ছল আলাপে ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় কম হইলেও এক কিলোমিটার গাও (গ্রাম) ভাঙছে। প্রত্যেকবার বর্ষাকালে মোগো (আমাদের) ঘরবাড়ি পানিতে তলাই থাকতো। বেড়িবাঁধ হওয়ার পর নিশ্চিন্ত। চাইরপাশ কুয়াকাটা হইয়া উঠছে।’

ভাঙারপাড় ঘুরে দেখা গেছে, গত ছয় মাসের ব্যবধানে সেখানে ৩০টিরও বেশি রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। নদী তীরে বসানো আছে ট্যুরিস্ট বেঞ্চ। আছে স্পিড বোট ও ট্রলার। বসানো হয়েছে চরকি, নাগরদোলা। প্রতিদিন বিকেল হলেই সেখানে হাজারো দর্শনার্থীর ঢল নামে।

স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, ২০২১ সালের ঘূর্ণিঝড় ইয়াস যে তাণ্ডব চালায় তাতে আমরা ভেসে গিয়েছিলাম। তবে এবার রেমালে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বেড়িবাঁধটা হওয়ায় এখন অন্তত ভাঙনের ঝুঁকি কমেছে। যেহেতু নদী তীরে থাকি, জোয়ারে পানিতে তলিয়ে যাবে এটা স্বাভাবিক। তবে এখন আর বাপ-দাদার ভিটা ছাড়তে হচ্ছে না।

 

ভাঙারপাড়ে প্রাণচাঞ্চল্য ::

ট্রলার চালক সুমন বলেন, এখানে নদী দেখতে সুন্দর, শান্ত থাকে। তাই মানুষ ট্রলারে নদী ভ্রমণ করে। জনপ্রতি ২০-৩০ টাকা করে নিয়ে নদীতে ভ্রমণে যাই। প্রতি ট্রিপে এক ঘণ্টার মতো থাকি।

নীলা সাহা ঘুরতে এসেছেন ভাঙারপাড়ে, আলাপে তিনি বলেন, আমার কাছে কুয়াকাটার চেয়ে কীর্তনখোলা নদীরপাড় ভালো লাগে। নির্মল বাতাস, গ্রামীণ পরিবেশ, শান্ত নদী। এখানে পরিবার নিয়ে সময় কাটানো সেরা। সুযোগ পেলেই আমি এখানে আসি। বেড়িবাঁধে বসে নদীর জলে পা ভেজাই।

একটি রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, বেড়িবাঁধ হওয়ার পর কয়েকজন বন্ধু মিলে ঘুরতে এসে দেখলাম ব্যবসার জন্য জায়গাটা উপযোগী। এরপর আমরা সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিয়ে রেস্তোরাঁ ব্যবসায় নেমেছি। এখানে অধিকাংশ রেস্তোরাঁ জমি ভাড়া নিয়ে করা হয়েছে।

কাওছার হোসেন নামে এক দর্শনার্থী বলেন, এখানে পরিবেশটা সুন্দর। অধিকাংশ মানুষ নদীপাড়ে হাঁটতে আসেন কিন্তু বেপরোয়া মোটরাসাইকেল চলাচলের কারণে ভয়ও আছে। অনেক মোটরসাইকেলচালক ইচ্ছে করে দর্শনার্থীদের বিরক্ত করেন। গত শুক্রবার পরিবারসহ এসেছিলাম। ওই দিন এক বখাটের মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আমার শ্যালিকা নদীতে পড়ে যায়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, চরবাড়িয়া ভাঙারপাড় এলাকায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যান। অবসর কাটাতে আসা মানুষেদের এবং সেখানকার ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় সবসময়েই সেখানে পুলিশ ফোর্স নিয়োজিত রাখা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ বলেন, বেড়িবাঁধটি বড় ধরনের ভাঙনের হাত থেকে ওই এলাকাকে বাঁচিয়েছে। এখন বাঁধ রক্ষা করা এলাকাবাসীসহ সকলের দায়িত্ব। বেড়িবাঁধে গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ। এছাড়া ট্রলার-স্পিড বোট ভেড়ানোও নিষিদ্ধ। সেখানে মোটরসাইকেল যেন চলাচল করতে না পারে সে জন্য আমরা ব্যবস্থা দিয়েছি। ট্রলার-স্পিড বোট নিয়ে সাইনবোর্ড দেওয়া আছে। নিয়ম উপেক্ষা করে যদি কেউ বেড়িবাঁধের ক্ষতি করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




কুয়াকাটা রেলপথ তৈরিতে চীনের বিনিয়োগ চায় সরকার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত রেলপথ এবং ঢাকার গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রো রেল চলাচলে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-২ নির্মাণ করতে চায় বাংলাদেশ। এর জন্য প্রয়োজন প্রায় এক লাখ দুই হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৭৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ হিসেবে পেতে চায় সরকার।

দুটি প্রকল্পে চীনের কাছ থেকে বিনিয়োগের প্রত্যাশা করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ থেকে ১১ জুলাইয়ের মধ্যে চীন সফরে যেতে পারেন। ওই সফরে বেশ কিছু যুগান্তকারী বাণিজ্যিক চুক্তি হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে এমআরটি লাইন-২ ছাড়াও ফরিদপুর-বরিশাল এবং বরিশাল-কুয়াকাটা চারলেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের জন্য চীনা অর্থায়ন চাওয়া হতে পারে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ থেকে প্রায় ৩০ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা বা ২.৫৭৯ বিলিয়ন ডলার (প্রতি ডলার ১১৭ টাকা হিসাবে) জোগানের প্রস্তাব রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে ৩০-৩৫টি ছোট আকারের সেতু এবং দুর্যোগকালীন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য অর্থায়নের ঘোষণা দিতে পারে চীন। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়েও একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সঙ্গে একটি সমঝোতাও সই হওয়ার কথা রয়েছে।

বিনিয়োগ নিয়ে চীনা মন্ত্রীর আগ্রহ
গত সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ জিয়ানশাও। সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর ও সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে আশা করছি, যা দুই দেশের সম্পর্কের মাইলফলক হতে পারে। আর প্রধানমন্ত্রী ৮ থেকে ১১ জুলাইয়ের মধ্যে চীন সফর করবেন বলে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এই সফরের আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সমন্বয় সভা হবে। এই সভায় ঠিক করা হবে কোন কোন এজেন্ডা নিয়ে চীন সফরে আলোচনা ও ঋণচুক্তি হবে।

হাছান মাহমুদ বলেন, চীনের বিনিয়োগ যেন আরও আসে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চীনা মন্ত্রী এ দেশে আরও বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ ফরিদপুরের ভাঙ্গা রেলওয়ে জংশন থেকে বরিশাল হয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত ৩৬৯ দশমিক ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সিঙ্গেল লাইন রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এ রেলপথ নির্মাণে প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা। যার মধ্যে বৈদেশিক ঋণ প্রায় ৩২ হাজার ১৯৯ কোটি ৯৪ লাখ, বাকি টাকা দেশীয় অর্থায়নে প্রভিশন রাখা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ খাতে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হবে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ৮ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও মারধরের অভিযোগ

‘ভাঙ্গা জংশন (ফরিদপুর) থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা পর্যন্ত ব্রডগেজ (বিজি) রেললাইন নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলপথ নির্মাণের জন্য সমীক্ষা খাতে ৪৯ কোটি টাকা সরকারি অর্থ ব্যয় হয়েছে। রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হয়েছে ২০২২ সালের জুনে। এরপর থেকেই বৈদেশিক ঋণের সন্ধান করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। কিন্তু বৈদেশিক ঋণের উৎস এখনো খুঁজে পায়নি ইআরডি। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। চীনা অর্থায়ন পাওয়ার জন্য বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলমান। চীনা ঋণ পেতে রেলপথ মন্ত্রণালয় ইআরডিকে আবারও অনুরোধ করবে বলে জানা গেছে।

প্রকল্পের মূল কাজ রেললাইনের মোট দৈর্ঘ্য বা রুট লাইন হবে ২১৪ দশমিক ৯১ কিলোমিটার, এর মধ্যে মেইন লাইন ১৯০ দশমিক ১১ কিলোমিটার ও ব্র্যাঞ্চ লাইন ২৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার। তবে ট্র্যাকের মোট দৈর্ঘ্য হবে ৩৬৯ দশমিক ৪০ কিলোমিটার। এর মধ্যে মেইন লাইন ২১৪ দশমিক ৯১ কিলোমিটার ও লুপ লাইন ১৫৪ দশমিক ৪৯ কিলোমিটার। রেলপথে এমব্যাংকমেন্টের দৈর্ঘ্য হবে ১৬৮ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার। ৪৪০টি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হবে, এর মোট দৈর্ঘ্য হবে ৪ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার।

১০টি মেজর ব্রিজ নির্মাণ করা হবে, এর মোট দৈর্ঘ্য হবে ৪ দশমিক ৮৬ কিলোমিটার। মেজর সেতুগুলোর উভয় প্রান্তে ৩৬ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। কুমার, কালিগঙ্গা, শিকারপুর, আমতলী, কীর্তনখোলা, পায়রা, পটুয়াখালী, আন্ধারমানিক, টিয়াখালী, খাপরা ভাঙা নদীর ওপর দিয়ে উড়াল রেলপথ নির্মিত হবে।

পুরো রেলপথে থাকবে ১৯টি নান্দনিক স্টেশন
পুরো রেললাইনে ১৯টি নান্দনিক স্টেশন ভবন নির্মাণ করা হবে। স্থানগুলো হলো- ভাঙ্গা জংশন, বরইতলা, টেকেরহাট, মাদারীপুর, কালকিনি, গৌরনদী, উজিরপুর, বরিশাল এয়ারপোর্ট, বরিশাল, দপদপিয়া, বাকেরগঞ্জ, বদরপুর, পটুয়াখালী, কাকুয়া, আমতলী, পায়রা পোর্ট, পায়রা পোর্ট ইয়ার্ড, লেমুপাড়া ও কুয়াকাটা।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানায়, প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছে সাত বছর। এর মধ্যে দেড় বছর ধরে টেন্ডারিং, ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন কাজ করা হবে। সাড়ে চার বছর ধরে প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) শেখ সাকিল উদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভাঙ্গা থেকে বরিশাল ও কুয়াকাটা পর্যন্ত দীর্ঘ একটি রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) তৈরি করেছি। বিশাল রেলপথটি নির্মাণের জন্য আমরা এখনো কোনো উন্নয়ন সহযোগী খুঁজে পাইনি। সামনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর রয়েছে। আমরা এই প্রকল্পে যাতে চীনের বিনিয়োগ পেতে পারি সেই জন্য ইআরডিকে অনুরোধ জানাবো।




53 thousand diarrhea patients in Barishal hospitals in 6 months

Barisal Office :: In the first 6 months of the year, about 53,000 patients have been treated in the government hospitals of Barisal with various types of abdominal pain including diarrhoea. 1 person has already died.

On the other hand, with the arrival of monsoon, dengue has also started attacking Barisal region. The health department has reported that 106 dengue patients have been admitted to Barisal’s government hospital in the last one month. About 39,000 dengue patients have been treated in government hospitals and 218 deaths have been confirmed by the departmental health department. About 150 dengue patients were admitted to the hospitals in May.

On the other hand, after 12,000 in April and 8,500 in May, about 8,000 diarrhea patients received treatment in government hospitals in Barisharel Government Hospital in June.

However, according to general doctors including several specialist doctors, the number of diarrhea and dengue patients in Barisal who are admitted to the hospital or receive treatment, some of them are receiving treatment at home under the supervision of doctors. As a result, it is not possible to determine the actual number of diarrhea and dengue patients in this region. However, all the doctors said that the situation is not satisfactory and urged the local government institutions including the City Corporation to take urgent action with a proper action plan with special vigilance on dengue. If not, the doctors have expressed concern that the situation may be worse than last year.

Last year also, about 72,000 diarrhea patients were treated in government hospitals in Barisal. The number of the previous year was more than 77 thousand. And in 2021, despite the peak infection of Corona epidemic, about 80 thousand diarrhea patients came to government hospitals for treatment in Barisal. In the first 6 months of this year, about 53,000 diarrhea patients came to government hospitals, and by the end of the year, the number may reach the highest level in recent years.

Meanwhile, although the situation has improved since the end of February, doctors feel that the dengue situation is slowly getting complicated since May. They also urged to take urgent measures including vigilance in this regard.

On the other hand, despite many improvements in clean water and sanitation systems, prevention of this disease is not possible in the diarrhea prone Barisal region. However, the doctors are now blaming the poor quality of street food stalls rather than the water and sanitation system behind it. The number of authorized and unauthorized street food stalls of the city corporation in Barisal metropolis is now several thousands. It is also alleged that there is no effective action taken by the city hall to stop the sale of these foods along with the lack of public awareness about the poor quality and stale and tasty food of these shops which is continuously increasing the stomach pain of the city dwellers.

In this regard, Barisal Divisional Health Director Dr. Shyamal Krishna Mandal said, there is no alternative to public awareness and intensive activities of local government institutions to prevent diarrhea. In this case, the official advised to avoid street food stalls. Besides killing the Aedes mosquito, the only vehicle of dengue, he has immediately emphasized on all the local government institutions to get into the field with ‘zero tolerance’. He also urged doctors to consult doctors in any unusual situation including diarrhea and dengue.

The Divisional Health Director has also informed about the stocking of all types of medical supplies including a large number of antibiotic capsules and metronidazole tablets in addition to 30,000 bags of IV saline of 1,000 and 500 ml in Barisal for the treatment of diarrhea.




বরিশালে হাসপাতালগুলোতে ৬ মাসে ৫৩ হাজার ডায়রিয়া রোগী

বরিশাল অফিস ::  বছরের প্রথম ৬ মাসেই ডায়রিয়া সহ নানা ধরনের পেটের পীড়া নিয়ে বরিশালের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায় ৫৩ হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। ইতোমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের।

অপরদিকে বর্ষার আগমনের সাথে ডেঙ্গুও হানা দিতে শুরু করেছে বরিশাল অঞ্চলে। গত একমাসে বরিশালের সরকারি হাসপাতালেই ১০৬ ডেঙ্গু রোগী ভর্তির খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এনিয়ে সরকারি হাসপাতালেই প্রায় ৩৯ হাজার ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার কথা জানিয়ে ২১৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর। মে মাসেও প্রায় দেড়শ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল হসপাতালগুলোতে।অপরদিকে গত এপ্রিলে ১২ হাজার এবং মে মাসে সাড়ে ৮ হাজারের পরে জুন মাসেও সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায় ৮ হাজার ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করে বরিশারেল সরকারি হাসপাতালে।

তবে একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সহ সাধারন চিকিৎসকদের মতে, বরিশালে যে সংখ্যক ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয় বা চিকিৎসা গ্রহণ করে, তার কয়েকগুন চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বাড়ীতে চিকিৎসা গ্রহণ করছে। ফলে এ অঞ্চলে ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব না। তবে সব চিকিৎসকরাই পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয় বলে জানিয়ে অবিলম্বে ডেঙ্গুর বিষয়ে বিশেষ নজরদারী সহ সুষ্ঠু কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সিটি করপোরেশন সহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন। তা না হলে পরিস্থিতি গতবছরের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে বলেও শংকা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।

গত বছরও বরিশালের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায় ৭২ হাজার ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। যে সংখ্যাটা আগের বছর ছিল ৭৭ হাজারেরও বেশী। আর ২০২১ সালে করোনা মহামারীর সর্বোচ্চ সংক্রমনের মধ্যেও বরিশালে প্রায় ৮০ হাজার ডায়রিয়া রোগী সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার জন্য আসেন। চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসেই প্রায় ৫৩ হাজার ডায়রিয়া রোগী সরকারি হাসপাতালে আসায় বছর শেষে সংখ্যাটা সাম্প্রতিক বছরগুলোর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে।

এদিকে ফেব্রয়ারীর শেষ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও মে থেকে ধীরে ধীরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। তারা এ ব্যাপারে নজরদারী সহ জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণেরও তাগিদ দিয়েছেন।

অপরদিকে বিশুদ্ধ পানি ও স্যনিটেশন ব্যবস্থার অনেক উন্নতির পরেও ডায়রিয়া প্রবন বরিশাল অঞ্চলে এ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব হচ্ছে না। তবে এর পেছনে পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার চেয়ে এখন পথ খাবারের দোকানের নিম্নমানের মুখরোচক খাবারকে দায়ী করছেন চিকিৎসকরা। বরিশাল মহানগরীতে সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত ও অননুমোদিত পথ খাবারের দোকানের সংখ্যাই এখন কয়েক হাজার। এসব দোকানের নিম্নমানের এবং বাসি ও মুখরোচক খাবার নগরবাসীর পেটের পীড়াকে ক্রমাগত বৃদ্ধি করে চললেও তা নিয়ে জনসচেতনতার অভাবের সাথে এসব খাবার বিক্রি বন্ধে নগর ভবনের কার্যকরি কোন পদক্ষেপ নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ সব ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বার্তা২৪.কমকে বলেন, ডায়রিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবিড় কার্যক্রমের কোন বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে পথ খাবারের দোকানের খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন এ কর্মকর্তা। পাশাপাশি ডেঙ্গুর একমাত্র বাহন এডিস মশা নিধনেও তিনি অবিলম্বে ‘জিরো টলারেন্স’ নিয়ে সবগুলো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে মাঠে নামার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পাশাপাশি ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু সহ যেকোন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

ডায়রিয়া চিকিৎসায় বরিশালে ১ হাজার ও ৫শ এম এল-এর  প্রায় ৩০ হাজার ব্যাগ আইভি স্যালাইন ছাড়াও বিপুল সংখ্যক এ্যন্টিবায়োটিক ক্যাপসুল ও মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট সহ সব ধরনের চিকিৎসা সামগ্রীর মজুতের কথাও জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক।



চালতা ফুলের সৌন্দর্য ও সৌরভে বিমোহিত পথিক

বরিশাল অফিস :: রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ চালতা ফুলের রূপে মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন- ‘আমি চলে যাব বলে/ চালতা ফুল কি আর ভিজিবে না শিশিরের জলে/ নরম গন্ধের ঢেউয়ে?’

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে চলতি বর্ষায় কেয়া ও কদমফুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফুটেছে চালতাফুলও। পথের ধারে কিংবা পুকুর পাড়ে দৃশ্যমান এ চালতার দৃষ্টিনন্দন ফুল ও সৌরভ বিমোহিত করছে সৌন্দর্যপিপাসু পথিকদেরকেও।

সাদা রঙের সুরভিত ওই ফুলের ব্যাস ১৫-১৮ সেন্টিমিটার। মূলত গ্রাম-গঞ্জে বর্ষাকালে দেখা মেলে চালতা ফুল ও ফলের। দৃষ্টিনন্দন এই ফুলটি বর্ষা মৌসুমে গাছের শাখায় ফুটে কেবল আবহমান প্রকৃতির শুদ্ধতারই জানান দেয়।

সূত্রমতে, ঔষধিগুণসম্পন্ন ও টক জাতীয় চালতা ফলের কদর রয়েছে দেশের সর্বত্রই। এ গাছটি উচ্চতায় প্রায় ১৮ মিটার পর্যন্ত বড় হয়ে থাকে। গাছটির শাখা-প্রশাখা অবিন্যস্ত ও প্রসারিত। সবুজ পাতাগুলো খাঁজকাটা ধরনের হয়। বর্ষায় ওই সবুজের মাঝে শুভ্র চালতা ফুল দেখতে বেশ আকর্ষণীয় লাগে। দীর্ঘাকার ঘন পাতার আচ্ছাদনে এ ফুলকে আড়াল করে রাখে। এর বৃতির রঙ সবুজ ও স্থায়ী। সুমিষ্টি গন্ধযুক্ত এ ফুলের পরাগধানী কাঁচাহলুদ রঙের পুংকেশরে মণ্ডিত।

এছাড়া তারকাবৃতির গর্ভমুণ্ড এ ফুলকে দিয়েছে বাড়তি সৌন্দর্যময়তা। সাধারণত চালতার বৃতিগুলো দ্রুতই ফলে পরিণত হয় বলে এ ফুল দু-এক দিনের বেশি স্থায়ী হয় না। এটি প্রভাতে পাপড়ি মেলে আর সন্ধ্যায় ঝরে পড়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রঙেও পরিবর্তন আসে ফুলটিতে। এরপর নিষিক্ত ফুলই পরবর্তীতে পরিপূর্ণ চালতা ফলে পরিণত হয়।

স্থানীয় বৃক্ষ গবেষক অধ্যাপক ইয়াসিন আলী বলেন, চালতা ফল বহুবিধ ঔষধিগুণ সম্পন্ন হলেও এর আচার দেশের নারী-শিশুদের জন্য খুবই লোভনীয় ও মুখরোচক খাবার হিসাবে ব্যাপক সমাদৃত। কিন্তু যথাযথ উদ্যোগের অভাবে দিনে দিনে আবহমান গ্রাম বাংলা থেকে এ গাছটি হারিয়ে যাচ্ছে। অতীতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিস্ময়কর ও বহুবিধ ঔষধিগুণসম্পন্ন এই চালতা গাছ দেখা গেলেও বর্তমানে এটি ক্রমেই কমে যাচ্ছে।

হোসেনপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি (অনার্স) কলেজের সহকারী অধ্যাপক নাজমুন নাহার বলেন, বহুবিধ ভেষজ ঔষধি গুণসম্পন্ন এ ফল পাকে বর্ষার পর। পাওয়া যায় শীতকাল পর্যন্ত। আষাঢ়-শ্রাবণে ফোটে চালতা ফুল। সুগন্ধি এ ফুলে পাঁচটি পাপড়ি থাকে। পাপড়িগুলো আঁকড়ে থেকে ফলে রূপান্তরিত হয়। ফোটার পর এ ফুলে মৌমাছির আগমন ঘটে। মৌমাছিরা মধু আহরণ করতে গিয়ে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে বসে। এভাবেই চালতার পরাগায়ন ঘটে। একটি চালতা ফলের গাছে বছরে একবারই ফল ধরে। প্রতিটি চালতা ফল স্বাভাবিকভাবে ২০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজন হয়ে থাকে।

স্থানীয় পরিবেশবিদ ও সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, এক সময় আমাদের গ্রামীণ জনপদের রাস্তার পাশে, পুকুরের ধারে ও বাড়ির আঙ্গিনায় অনেক চালতা গাছ দেখা যেতো। নানা কারণে এখন আর সে দৃশ্য খুব বেশি চোখে পড়ে না। তাই প্রকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এই বৃক্ষ লাগানো প্রয়োজন। তা না হলে আগমী প্রজন্ম এ ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য ও মুগ্ধতা থেকে বঞ্চিত হবে। তাই এ বর্ষায় চালতা গাছ লাগানো খুবই জরুরি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একেএম শাহজাহান কবীর বলেন, একটি চালতা গাছে বছরে একবারই ফল ধরে। চালতার ফুল সাধারণত রাতে ফোটে এবং ফুল ফোটার এক দিনের মধ্যেই ফুলের পাপড়ি নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তাই পরিপূর্ণ একটি ফুল ফুটেই ঝড়ে যায়। যেহেতু এ গাছ ওষুধি গুণাগুণসম্পন্ন ও ফুলটি দেখতেও অত্যন্ত সুন্দর এবং সুগন্ধিযুক্ত,তাই পরিবেশবান্ধব এ গাছটিকে প্রকৃতিতে টিকিয়ে রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।




ঝালকাঠিতে পানি উঠছে না অধিকাংশ নলকূপে!

বরিশাল অফিস :: ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ঝালকাঠি শহর ও গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ হস্তচালিত নলকূপে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও নতুন নলকূপে পানি উঠলেও লবণাক্ততার কারণে তা খাবার অনুপযোগী।

বিকল্প উপায়ে খাবার পানি সমস্যা দূর করতে সরকার সৌরশক্তিচালিত পিএসএফ (পন্ডস স্যান্ড ফিল্টার) প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। যদিও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ বলছে, এ অবস্থায় মোটরচালিত গভীর নলকূপের কোনো বিকল্প নেই।

জানা গেছে, মাটি থেকে ১৮ ফিট নিচে থাকার কথা থাকলেও পানির স্তর ২২ থেকে ৩১ ফুট নেমে গেছে। এতে সুপেয় পানিসংকটে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। ইতিমধ্যেই জেলার দুইটি পৌরসভায় ৮০ শতাংশ এবং ইউনিয়ন সমূহে ৩৫ শতাংশ নলকূপ অকেজ হয়ে পড়েছে। ঝালকাঠি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পানির স্তর নেমে যাওয়ায় সরকার ইতিমধ্যেই জেলায় তিনটি উপায়ে পানি সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলো হচ্ছে—প্রতিটি ৮৬ হাজার টাকা ব্যয়ে হস্তচালিত গভীর নলকূপ স্থাপন, ৫০ হাজার টাকায় রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং এবং সাড়ে ৭ লাখ টাকায় সোলার পিএসএফ পদ্ধতি।

উল্লিখিত হস্তচালিত গভীর নলকূপ স্তর সমস্যার কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকর নয়। তাই এর সাথে সাবমারসিবল মোটর যুক্ত করতে পারলে নলকূপগুলো অচল হওয়ার আশঙ্কামুক্ত হবে। এ ক্ষেত্রে হারভেস্টিং পদ্ধতি খরচ কম হলেও কার্যকর। কিন্তু তা বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করতে হবে। তৃতীয় পদ্ধতি পিএসএফ ব্যয়বহুল হওয়ায় বরাদ্দ জটিলতায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। এ পদ্ধতির মাধ্যমে কমপক্ষে ১০টি পরিবার জীবাণুমুক্ত সুপেয় পানি পান করতে পারবে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের ঝালকাঠি সদর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী অমিত কর্মকার জানান, উপজেলায় ৫ হাজার নলকূপ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে স্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে গত ৫ বছরে ১ হাজার ৩০০টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু পানির স্তর নিচে নামার কারণে এসব নলকূপ হুমকির মুখে পড়েছে। কিছু দিন আগে পোনাবালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে স্থাপন করা ৪টি নলকূপে পানি পাওয়া যায়নি।

জেলায় পানির স্তর নিচে নেমে নলকূপ অকেজ হওয়ার বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার এরশাদুজ্জামান মৃদুল বলেন, পানির স্তর নিচে নামায় হস্তচালিত নলকূপে পানি উঠছে না। এতে ক্রমান্বয়ে সুপেয় খাওয়ার পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। তাই হস্তচালিত গভীর নলকূপের সঙ্গে সাবমারসিবল মোটর স্থাপনের কোনো বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে ৭০ ফুট গভীরতা থেকে পানি ওঠানো সম্ভব। তাই ভবিষ্যতে নলকূপের সঙ্গে সাবমারসিবল মোটর স্থাপনের মৌখিক প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।




শিক্ষক সংকটে ধুকছে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ

বরিশাল অফিস :: দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মক অচলাবস্থার সম্মুখীন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে ৩৩১ জন শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫১ জন। ১৮০টি পদে কোন শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তা নেই। অনুমোদিত পদের প্রায় ৬৫ ভাগেরও বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, কিউরেটর, প্রভাষক, প্যাথলজিষ্ট, মেডিকেল অফিসার ও বায়োকেমিষ্টের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর অর্ধেকেও পদায়ন নিশ্চিত হয়নি।

সূত্র মতে, বছর দুয়েক আগে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের কিছু নতুন পদ সৃষ্টি করা হলেও সে আলোকে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে শূন্য পদের সংখ্যাটা বেড়ে সংকট আরো তীব্রতর হয়েছে। কলেজে শিক্ষক সংকটের কারণে হাসপাতালটিতেও চিকিৎসা ব্যবস্থায় ভয়াবহ সংকট চলছে।

পুরো হাসপাতালটিতে নানা অব্যবস্থা-অনিয়ম আর চিকিৎসা ব্যবস্থায় নানা সংকটের মধ্যে অতি সম্প্রতি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বদল হয়েছে।

নতুন সভাপতি বরিশাল সদর আসনের এমপি ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম গত ২৮ জুন রাতে বরিশালের সর্বস্তরের জনগণসহ হাসপাতাল ও কলেজ প্রশাসন নিয়ে এক বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা উন্নত করাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখানে মেডিকেল কলেজ ব্যবস্থাপনায় কোন বেসরকারি কমিটি নেই।

সচেতন বরিশালবাসী মনে করছেন, সদর আসনের এমপি এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে কলেজের শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে তার নৈতিক দায় রয়েছে। সেই দায় থেকে জাহিদ ফারুক শামীমের হাত ধরে অতি দ্রুত সকল সমস্যার সমাধান হবে বলেও সচেতন বরিশালবাসী মনে করছেন।

সূত্র মতে, ১৯৬৪ সালের ৬ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর আব্দুল মোনয়েম খান বরিশাল মেডিক্যাল কলেজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালের ২০ নভেম্বর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার একমাত্র মেডিকেল কলেজটির উদ্বোধন করা হয়। ১৯৭৮ সালে কলেজটি সংযুক্ত করে হাসপাতালের নিজস্ব ভবন উদ্বোধন করা হয়। ওইসময় অবিভক্ত বাংলার গভর্ণর ও বরিশালের কৃতি সন্তান শের-ই বাংলার নামে এ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালটির নামকরণ করা হয়। শিক্ষক সংকটে ঐতিহ্যবাহী এ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ব্যবস্থা এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে শিক্ষক সংকটের মধ্যেও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে মঞ্জুরিকৃত পদের ৮০ ভাগ শিক্ষকও নিয়োগ না দেওয়ার কারণে সংকট ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফয়জুল বাশার। তিনি বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টি আমরা নিয়মিত অবহিত করছি। শিক্ষক সংকটে এখানে লেখাপড়ার ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের আগ্রহ ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। এমন কী চিকিৎসা শিক্ষার ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৬৫ ভাগ শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী, শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে নতুন ১০টিসহ ৫০ জন অধ্যাপকের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। নতুন ২৪ জনসহ ৫০ জন সহযোগী অধ্যাপকের মধ্যে রয়েছেন ৪২ জন। ৪৩টি নতুন পদসহ ১২৩ জন সহকারী অধ্যাপকের মধ্যে আছেন মাত্র ৫৭ জন।

এছাড়া চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে ৮২ জন প্রভাষক, মেডিক্যাল অফিসার, প্যাথলজিষ্ট, বায়োকেমেষ্ট্রি ও ফার্মাসিষ্ট পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৫ জন। প্রতিষ্ঠানটিতে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের ২০৫ জন কর্মচারীর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৯২ জন।

ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে ১২৩জন সহকারী অধ্যাপক পদের ৬৬টি পদই শূন্য পরে আছে। ফলে অনেক বিভাগে কোন শিক্ষকই নেই। প্রভাষক বা মেডিক্যাল অফিসার দিয়েও পুরো বিভাগের শিক্ষাক্রম চলছে বেশ কয়েকটি বিভাগে। কিন্তু প্রভাষক, মেডিক্যাল অফিসার, প্যাথলজি, বায়োকেমেষ্ট্রি ও ফার্মাসিষ্টের ৮২টি পদের ৩৭টি শূন্য পরে আছে।

সূত্রমতে, এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডেন্টাল বিভাগে প্রতি বছর প্রায় অর্ধশত ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হলেও সেখানে শিক্ষা দেওয়ার মতো তেমন কোন শিক্ষকই নেই। ফলে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল বিভাগ থেকে যারা পাস করে বের হচ্ছে তাদের বিষয়েও নানা ধরনের প্রশ্ন রয়েছে জনমনে। এমন কী এই বিভাগের ক্লিনিক্যাল শিক্ষার জন্য সংলগ্ন হাসপাতালটির ইনডোরের অবস্থাও চরম নাজুক।

দেশের ঐতিহ্যবাহী ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকের শূন্যপদ নিয়ে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফয়জুল বাশার বলেন, করোনাকালে ১৯ মাস ক্লাস বন্ধ ছিল। এসময়ে অনেক শিক্ষক অবসরে গেছেন। ফলে ওইসব শূন্যপদে জনবল নিয়োগে যে বিলম্ব ঘটেছে তা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগছে।

তিনি আরও বলেন, সমস্যা থাকলেও কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।




কলাপাড়ায় কৃষকের জালে ধরা পড়ল ভয়ংকর রাসেলস ভাইপার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কৃষকের জালে ধরা পড়েছে বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপ। চার ফুট লম্বা সাপটি দেখতে ভিড় জমান স্থানীয় অনেক মানুষ। পরে সাপটি উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে আসেন বন বিভাগ ও এনিমেল লাভারস অব পটুয়াখালী টিমের সদস্যরা।

বুধবার (২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামের টুকু মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন রাস্তার পাশে সাপটি ধরা পড়ে।

কৃষক মিলন বলেন, গতকাল রাতে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বাড়ির সামনে ডোবায় জাল ফেলা হয়। সকালে দেখি সাপটি আমাদের জালে আটকে আছে। সাপটি জীবিত থাকায় জাল থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেও পারিনি। এরপর বন বিভাগ ও এনিমেল লাভারসের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়।

লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামের মো. রুবেল হোসেন বলেন, আমরা মনে করেছিলাম, রাসেলস ভাইপার হয়তো আমাদের এলাকায় নেই। তবে বাড়ির পাশে রাসেলস ভাইপার সাপ দেখে হতবাক হলাম। অনেকেই সাপটিকে এক নজর দেখতে এসেছে। রাসেলস ভাইপার সাপ আমাদের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছি।

আরো পড়ুন : উপকূল জুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত, জনজীবনে ভোগান্তি

এ বিষয় এনিমেল লাভারস অব পটুয়াখালীর সদস্য বায়জিদ মুন্সী বলেন, আমাদের একটি টিম ঘটনাস্থল থেকে সাপটি উদ্ধার করার জন্য ইতোমধ্যে রওনা দিয়েছে। আমরা সবাইকে সাপ দেখে আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের অথবা বন বিভাগকে খবর দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। সাপে কাটলে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। সাপ আসলে আমাদের জীববৈচিত্র্যের জন্য অনেক উপকারী বন্ধু। সাপ বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে কলাপাড়া উপজেলা থেকে এটি নিয়ে মোট চারটি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এনিমেল লাভারস অব পটুয়াখালীর সদস্যরা।

এ বিষয়ে বন বিভাগ মহিপুর রেঞ্জের কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, লতাচাপলি ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকায় একটি রাসেলস ভাইপার সাপ ধরা পড়েছে বলে খবর পেয়েছি। ইতোমধ্যে সেখানে আমাদের টিম পাঠানো হয়েছে।




উপকূল জুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত, জনজীবনে ভোগান্তি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: প্রবল মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে পটুয়াখালীর উপকূল জুড়ে গত এক সপ্তাহ ধরে হচ্ছে টানা ভারী বৃষ্টিপাত। ঘন কালো মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে আছে আকাশ। এতে জনজীবনে নেমে এসছে চরম ভোগান্তি। দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ আর মৌসুমী সবজি চাষীরা।

অধিকাংশ এলাকার নিচু স্থানে পানি জমে সৃস্ট হয়েছে জলবদ্ধতা। তলিয়ে গেছে অধিকাংশ রাস্তাঘাট। রাস্তায় রাস্তায় তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। তলিয়ে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর। অধিকাংশ দোকানপাট বন্দ করে রাখায় ব্যবসা বাণিজ্যে নেমেছে ধস। কুয়াকাটা পর্যটন শিল্পে পড়েছে এর প্রভাব। পর্যটকদের উপস্থিতি না থাকায় অধিকাংশ হোটেল-মোটেল-কটেজ রযেছে খালি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ইটভাটা মালিকরা।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশে লাঠিসোটা নিয়ে হামলার অভিযোগ

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার কলাপাড়ায় ৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে খেপুপাড়া আবহাওয়া অফিস। উত্তাল হয়ে আছে কুয়াাকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর। উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঝড় হওয়া বয়ে যেতে পারে এমন শংকায় পায়রাসহ দেশের সব সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সকল মাছধরা ট্রলার সমূহকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।