পটুয়াখালীতে অসহায় বিধবা নারীর করুন আর্তনাদ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় সহায় সম্বলহীন এক অসহায় বিধবা নারীর করুন আর্তনাদ একটু আশ্রয়ের জন্য। বিধবা নারী আলো বেগম (৪৮) হচ্ছেন উপজেলা গোলখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড হরিদেবপুর ফেরিঘাট এলাকার মৃত. মানিক মাদবর এর মেয়ে এবং মৃত. হানিফ মোল্লার স্ত্রী।

আলো বেগম ছোট বেলায় বাবাকে হারিয়েছেন। পরে তার মা তাকে বিবাহ দিয়েছেন। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই মা আনোয়ারা বেগমও চলে যান না ফেরার দেশে। পরে স্বামীর সাথে হরিদেবপুর ফেরিঘাট সংলগ্ন সরকারি খাস জায়গায় জীবনের তাগিদে একটি চায়ের দোকান দিয়েছিলেন।

কিন্তু এক সময় তার স্বামীও তাকে একা করে মারা যান। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি সন্তানদের মুখে দুমুঠো অন্ন জোগাড় করতে নিজেই চালাতে থাকেন সেই দোকান। এখন সরকার সরকারি জায়গায় ডিসিআর দিচ্ছেন। কিন্তু আলো বেগম তার শেষ সম্বল দোকানের ঐ জায়গাটুকু ডিসিআর পাওয়ার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন সকলের দ্বারে দ্বারে।

এ বিষয়ে বিধবা নারী আলো বেগম বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পরে একটু শান্তি ও আশ্রয়ের জন্য স্বামীর সংসারে আসি। আমার স্বামী হরিদেবপুর ফেরিঘাট সংলগ্ন সরকারি খাস জায়গায় একটা চায়ের দোকান দেন। দোকানটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ হচ্ছে ১২ দ্ধ ১০ = ১২০ বর্গফুট।

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত টিনের একচালা ঘর তুলে দোকান করে আসছি আমরা। এক সময় আমার স্বামী ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। মানুষের উপকারে তাদের পাশে ছিলেন। ভালই চলছিল আমাদের সংসার। কিন্তু আমার স্বামী মারা যাওয়ায় শুরু হয় আমার করুন কাহিনী।

আমার জীবনে নেমে আসে অন্ধকারের ছায়া। এক সময় আমার স্বামী মানুষের উপকার করত এখন স্বামী মারা যাওয়ার পরে আমি মানুষের কাছে হাত পাতি। সংসারে ছেলেমেয়েদের কথা চিন্তা করে নিজেই সেই জায়গায় দোকান করা শুরু করি।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে পরেশ বিশ্বাসের খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন

বিভিন্ন সময় ঘূর্ণিঝড়ে দোকান ঘরটি নষ্ট হয়ে গেলেও ঠিক করার মত অর্থ ছিল না আমার। গত ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে আমার দোকানের চালা উড়ে যায় এবং একটি অংশ ভেঙ্গে যায়। এরই মধ্যে মাইকে ঘোষণা শুনেছি সরকারি জায়গার ডিসিআর কাটানোর জন্য।

আমার আর কোন পৈত্রিক জায়গা নাই। বর্তমানে ঐ দোকানটি হচ্ছে উপর্জনের একমাত্র আশ্রয়স্থল। এই জায়গাটি আমি ডিসিআর পেলে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে চলে যেত আমার সংসার। কিন্তু ডিসিআর না পেলে আমাকে পথে বসে যেতে হবে।

আমি ডিসি মহোদয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যারের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি যাতে আমি ডিসিআর পেয়ে সুন্দরভাবে চায়ের দোকান করে সংসার চালাতে পারি। এ জন্য আমি ডিসিআর পাওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেছি।

এ বিষয়ে গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, দীর্ঘ বছর পর্যন্ত হরিদেবপুর ফেরিঘাটে হানিফ মোল্লার চায়ের দোকানটি আছে। এখন তার স্ত্রী আলো বেগম ঐ দোকান চালাচ্ছেন।

ঘূর্ণিঝড় রিমেলে দোকানটির ছাউনি উড়ে যাওয়ায় পরিবারটি আজ দিশেহারা। যেহেতু সরকারি খাস জায়গা সেহেতু ডিসিআর পেলে আলো বেগমের সংসারটা ভালমত চলত। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি, দেখব।

এ বিষয়ে ১১৩ পটুয়াখালী-৩ গলাচিপা-দশমিনা আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এস.এম শাহজাদা (এমপি) বলেন, এ বিষয়ে আলো বেগম আমার কাছে এসেছিল। আমি ইউএনওর কাছে পাঠিয়েছি। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।




গলাচিপায় শিশু শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনায় মুগ্ধ হলেন পরিকল্পনা সচিব

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দেশের দক্ষিন জনপদ পটুয়াখালী জেলার সমুদ্র উপকূলীয় গলাচিপা উপজেলার শিশুদের উন্নত শিক্ষা প্রসারতায় নিডর বিধ্বস্ত গলাচিপা উপজেলা কমপ্লেক্সে ২ জানুয়ারি/২০০৮ খ্রিঃ তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শিক্ষা দরদী, বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রের পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের মাননীয় সচিব আবুল কাসেম মো. মহিউদ্দিন বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন (আইএসইডি) স্থাপন করেন একটি (প্রাইভেট) প্রাথমিক বাংলাদেশ-তুরস্ক ফ্রেন্ডশীপ স্কুল।

তিনি সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্প পরিদর্শনের মাঝে গত ১১ জুলাই/২০২৪ তারিখ তিনি এবং তার সুযোগ্য সহধর্মীনি ও স্কুলের প্রথম অধ্যক্ষ সেলিনা মহিউদ্দিন ও একমাত্র সু-কন্যা নিহা সহ সফর সঙ্গীদের নিয়ে স্কুল পরিদর্শনে দীর্ঘ ২১ বছর পরে পরিদর্শনের জন্য প্রবেশ করলে চার শতাধিক কোমল মতি স্মার্ট শিশু শিক্ষার্থীরা প্রবেশ গেট থেকে মূল ভবনের দু-পাশে শুভেচ্ছা সহ করতালী দিয়ে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রথম অধ্যক্ষ সাহেবকে বরণ করে। যেমনি ভাবে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সুধীজনদের উপস্থিতিতে এক মহা মিলন মেলায় পরিনত হয়।

শিশুরা ফুলের পাপড়ী, স্কুল ড্রেস, জাতীয় পতাকা ও নানা রঙের সাঁঝ সজ্জায় উল্লাস দেখে মুগ্ধ হন তিনি। সচিব মহোদয় বর্তমান স্কুলের সভাপতি ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল এবং তার সুযোগ্য সহধর্মীনি ও স্কুল অধ্যক্ষ ডাঃ জান্নাতুল নাঈম ইলভি সহ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নব নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ওয়ানা মার্জিয়া নিতু।

স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যবৃন্দরা এক পর্যায়ে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি স্কুল আঙ্গিনায় পার্কের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এবং এ সময় সংবর্ধনা সভা ও সাংস্কৃতিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্কুলের সভাপতি ও সুদক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মাননীয় সচিব আবুল কাসেম মো. মহিউদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সেলিনা মহিউদ্দিন, স্কুল অধ্যক্ষ ডাঃ জান্নাতুল নাঈম ইলভি, স্কুলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মু. খালিদ হোসেন মিল্টন।

পরিচালনায় ছিলেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান শিবলী। উপাধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম, শিশু শিক্ষার্থী মো. সালে আল ফাওজান শুভেচ্ছা জানান। শিক্ষার উন্নয়নে ইতিপূর্বে সাতক্ষীরা কালেক্টরেট উচ্চ বিদ্যালয় সহ শিক্ষা ও আগামী প্রজন্মের জন্য যে দেশ প্রেমের নিদর্শন রেখে গেছেন। তা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে ঐ সব জনপদে।




মির্জাগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পুকুরে হাত-পা ধূতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বপন হাওলাদার (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের গাবতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত স্বপন হাওলাদার ওই গ্রামের গোলাম মোস্তফা হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের গাপতলা গ্রামের স্বপন হাওলাদারের গোয়াল ঘরের পাশের পুকুর থেকে পানি তোলার জন্য বৈদ্যুতিক মটারের সংযোগ দেয়া ছিল। স্বপন গরুর জন্য ঘাস কেটে এনে গোয়াল রেখে হাত-পা পরিষ্কার করার জন্য পুকুরের পানিতে নামলে মটেরের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় সে। পরে তার বাবা স্বপনকে পানিতে ভাসতে দেখে চিৎকার দেয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মির্জাগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: হাফিজুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত পরিবারের থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।




পটুয়াখালীতে পরেশ বিশ্বাসের খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে নিহত পরেশ বিশ্বাসের খুনিদের বিচার ও গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা।

গতকাল বেলা ১১টায় পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে নিহতের পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, জমিজমা বিরোধের জেরে গত বৃহস্পতিবার বগা ইউনিয়নের চন্দনবাড়িয়া গ্রামে বিরোধপূর্ণ জমিতে পরেশ চাষাবাদ করতে গেলে বিরোধী পক্ষ ফারুকসহ তার সহযোগীরা চাষাবাদে বাধা দেয়। একপর্যায়ে ফারুক ও তার সহযোগীরা লাঠিসোটা ও লোহার পাইপ নিয়ে পরেশ এবং তার পরিবারের ওপরে হামলা চালায়। হামলায় পরেশ, মানবিকা বিশ্বাস ও পলাশী বিশ্বাস গুরুতর আহত হয়। আহত পরেশকে প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বাউফল থানায় অভিযোগ করলেও এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি বলে মানববন্ধনে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা।

হত্যায় জড়িত সকল আসামিকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য পটুয়াখালী পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে দাবি জানান।




বাউফলে মারধরে আহত ব্যক্তির মৃত্যুতে ১১ জনের নামে মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের চন্দনবাড়িয়া গ্রামে হাতুড়িপেটায় আহত পরেশ চন্দ্র বিশ্বাসের(৩৫) মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুলাই) রাতে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে বাউফল থানায় মামলা করেছেন নিহতের বড় ভাই শেখর চন্দ্র বিশ্বাস। গত শনিবার সন্ধ্যায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় পরেশ চন্দ্র বিশ্বাসের।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার চন্দনবাড়িয়া গ্রামের পরেশ চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে একই গ্রামের মো. ফারুক সিকদারের (৪৮) জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। গত বুধবার (১০ জুলাই) সকালে পরেশ চন্দ্র বিশ্বাস চন্দনবাড়িয়া গ্রামে তার জমি চাষ করতে যান। ওই সময় মো. ফারুক সিকদার (৪৮) নেতৃত্বে একটি দল ওই জমি চাষে বাঁধা দেয় এবং তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে লোহার হাতুড়ি ও লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। পরেশের চিৎকারে তার স্ত্রী পলাশী বিশ্বাস ও ভাইয়ের স্ত্রী মানবিকা বিশ্বাস এগিয়ে গেলে তাদেরকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হলে ওইদিনই তাদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে পরেশের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার বেলা ১১টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। সেখানে সন্ধ্যা ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরেশের মৃত্যু হয়।

আরো পড়ুন : দুমকিতে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি

এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বড় ভাই শেখর চন্দ্র বিশ্বাস বাদী হয়ে ফারুক সিকদারকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত নামা আরও ৬ জনের নামে রবিবার রাতে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ফারুক সিকদার পলাতক থাকায় থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন, ‘মারধরের ঘটনার পর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা তা করেননি। তৎক্ষণাৎ মামলা করলে আসামিরা পালাতে পারত না। এরপরেও পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আশা করছি খুব কম সময়ের মধ্যে আসামিরা গ্রেপ্তার হবে।




দুমকিতে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলায় বিভিন্ন বাজারে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এছাড়া কিছু পণ্য বিক্রি হচ্ছে আগের মতোই বাড়তি দামে।

সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারগুলোতে বেড়েছে ডিম ও পেঁয়াজের দাম। তবে আলুর দাম আগের মতোই আছে।

বিক্রেতাদের অজুহাত- বাড়তি দামে কিনতে হয়, তাই বাড়তি দামেই বিক্রি। দুমকি উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারে ডিমের হালি ৫৫ টাকা। অন্যদিকে, সব ধরনের পেঁয়াজের দাম ১১০ টাকার । দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা করে। এছাড়া বাজারে লাল আলু ৬০ টাকা, সাদা আলু ৬০ টাকা, বগুড়ার আলু ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে প্রতি কেজি দেশি রসুন ২৬০ টাকা, চায়না রসুন ২২০ টাকা, চায়না আদা ৩২০ টাকা, ভারতীয় আদা ৩১০ দরে বিক্রি হচ্ছে পটল ৬০টাকা, চিচিংগা ৭০টাকা, লাউ পিচ ৮০টাকা, পুই,লাউ শাক আটি ৬০টাকা।

এক ক্রেতা বলেন, ৮০-১০০ টাকার নিচে কোনো সবজিই নেই। বিক্রেতাদের কথা শুনলে মনে হয় আমাদের দেশে সারা বছরই বন্যা-বৃষ্টি হয়, গরম থাকে। কাঁচামাল ও নিত্যপন্য ব্যবসায়ীরা যা ইচ্ছা তাই করছে। বাজার নিয়ন্ত্রনের জন্য মোবাইল কোর্ট এর ব্যবস্থা হয়না। ভোক্তা অধিকারের মাথাব্যাথা নেই।




পটুয়াখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত ২০৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারে নেই উদ্যোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঘূর্ণিঝড় রিমালে পটুয়াখালীর দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এসব প্রতিষ্ঠান সংস্কার কিংবা পুনর্নির্মাণে নেওয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্ধ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠালেও এখনো মেলেনি বরাদ্দ। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানেই অথবা বিদ্যালয়ের বাইরে জোড়াতালি দিয়ে চালাতে হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

চলতি বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে পটুয়াখালীসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে জেলার ৮৪ হাজার ৫০০ পরিবারের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সম্পূর্ণ ও আংশিক বিধ্বস্ত হয় প্রায় ৩৮ হাজার ঘরবাড়ি। প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্লাবিত হয় হাজার হাজার পুকুর ও মাছ-কাঁকড়ার ঘেড়। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় দীর্ঘদিন বিদ্যুৎহীন থাকে অনেক এলাকা। চার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আংশিক বিধ্বস্ত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ। এরই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জেলার ২০৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজ।

ক্ষতিগ্রস্ত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামত কিংবা পুনর্নির্মাণে নেই দৃশ্যমান উদ্যোগ।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে স্থাপন প্রকল্পে চাঁদাবাজির অভিযোগ

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, জেলার কলাপাড়ায় ৪৯টি, গলাচিপায় ৪২টি, সদর উপজেলায় ৩৪টি, দশমিনায় ২৯টি, বাউফলে ২২টি, মির্জাগঞ্জে ১৬টি, দুমকীতে ৮টি, রাঙ্গাবালীতে ৭টি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদর উপজেলার চালিতাবুনিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলাপাড়া উপজেলার মেহনাজপুর হাক্কানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। রিমালের তান্ডবে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো দুমড়ে-মুচড়ে মাটিতে পড়ে যায়। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের উপযোগিতা একদম না থাকায় চালিতাবুনিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষার্থীকে পাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের সাইক্লোন শেল্টারের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে। কোনো ভবন না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের পাশেই মাঠে চলছে মেনহাজপুর হাক্কানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

চালিতাবুনিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবল চন্দ্র শীল ও মেনহাজপুর হাক্কানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফউজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের ভবন মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে উপজেলা ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো কোনো বরাদ্দ পাইনি।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মজিবুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ২০৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান মেরামতে প্রয়োজন সাড়ে ১৫ কোটি টাকা। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।




পটুয়াখালীতে পানিতে পচে যাচ্ছে আমনের বীজতলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বিরামহীন বৃষ্টি আর পূর্ণিমার প্রভাবে তেঁতুলিয়া নদীর পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল জমির বীজতলা পচে যাচ্ছে। জমির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এমনটি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। তারা নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নিষ্কাশনের টেকসই ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে স্থানীয় ও উপশি জাতের প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চর বেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরকে ঘিরে বেড়িবাঁধের একটি মাত্র স্লুইসগেট। যা দিয়ে দুই-তিনটি বিলের পানি নিষ্কাশন হয় না। বিলের সমতল ভূমির তুলনায় স্লুইসগেট উঁচুতে থাকায় পানি উঠলে আর নামে না। কিংবা নামলে আর ওঠে না। এ কারণে ওই ইউনিয়নের শুধু চর মিয়াজান গ্রামেই পচে যাচ্ছে ৮ হেক্টর আমনের বীজতলা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, বিরামহীন বৃষ্টি আর পূর্ণিমার প্রভাবে তেঁতুলিয়া নদীর পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে চর মিয়াজানের শতাধিক কৃষকের আমনের বীজতলা পচে গেছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। ওইসব বীজতলা থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশন উপায় না থাকায় এদের কেউ আবার নতুনভাবে বীজতলা তৈরির উদ্যোগ নিলেও চাষ মৌসুমে ২০-২৫ দিন পিছিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

কৃষক সাত্তার হাওলাদার জানান, বীজতলা তৈরির পরে বাজার থেকে ১০ কেজির প্রতি প্যাকেটে ১ হাজার ৫০ টাকা হিসাবে বিআর ১১জাতের বীজধান কিনে আনা হয়েছে। কিন্তু বীজ ছিটানোর কয়েকদিন পরই বৃষ্টি আর জোয়ারের পানি উঠলে বীজতলা পচে যায়।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত ২০৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারে নেই উদ্যোগ

সেকান্দার রাড়ি, আব্দুস ছালাম হুজুর, কুদ্দুস মৃধা, লিটনসহ প্রায় সব কৃষকেরই একই দশা। নান্নু বাবুর্চি নামে অপর এক কৃষক বলেন, ২ মন মোটা ধানের বীজ পানিতে ভেসে গেছে তার।

বিলে পানি জমে থাকায় ঠিকঠাক অঙ্কুর আসলেও শিকড় ধরেনি মোকলেস চৌকিদারের বীজতলায়। বিলের পানি নামতে না নামতেই আবার বৃষ্টির কারণে ক্ষতির মুখে পড়ে তার বীজতলাও।

তিনি জানান, পুরো চরে একটা মাত্র স্লুইস গেটে পানি নেমে শেষ হয় না। পানিতে প্লাবিত থাকায় স্থানীয় সকল চাষিদের বীজধান নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষকেরা জানান, চর মিয়াজান কামাল মাস্টার বাড়ির কাছে যদি আরও একটি স্লুইস গেট বা কালভার্ট নির্মাণ করা হয় তাহলে আমন চাষে কৃষকরা ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পারবেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনছার উদ্দিন বলেন, ‘ক্ষতি এড়াতে কৃষকদের কলার ভেলা, বাঁশের মাচা কিংবা ঘাস-লতাপাতা ব্যবহার করে ভাসমান বীজতলা তৈরির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ২০-২৫ দিনের জন্য ব্যবহৃত এসব ভাসমান বীজতলা তৈরি করে নিম্ন এলাকায় অনায়াসে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। চর মিয়াজানে আমন চাষের প্রতিকূলতা তুলে ধরে স্লুইস গেট কিংবা কালভার্ট সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হবে।’




কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ‘বৃহন্নলা’

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘বৃহন্নলা’।

সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে বৃহন্নলা’র আয়োজনে এ পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালানো হয়। পর্যটকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে সৈকতের জিরো পয়েন্টের ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পড়ে থাকা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করেন তারা।

এর আগে রোববার বিকালে বৃহন্নলা’র আয়োজনে ম্যারাথান অনুষ্ঠিত হয়। এ দৌড় প্রতিযোগিতায় তৃতীয় লিঙ্গের ৯ জনসহ বৃহন্নলার ২৫ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

বৃহন্নলা’র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সাদিকুল ইসলাম বলেন, সমাজের সকল স্তরের সদা বঞ্চিত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি ও সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে এ আয়োজন। এর অংশ হিসাবে রোববার সকালে কুয়াকাটা শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহারে রাখাইন শিক্ষার্থীদের সাথে জেন্ডার সেনসিটাইজেশন সেশনের আয়োজন করা হয়। বিকালে কুয়াকাটা সৈকতে দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আজ আমরা সৈকত এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছি। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে শিশুকাল থেকেই যাতে আলাদা বৈষম্য তৈরি না হয়, এজন্য আমরা কাজ করছি।




কলাপাড়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুুয়াখালীর কলাপাড়ায় পানিতে ডুবে ফাহিমা আক্তার (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নাওভাংগা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সে ওই গ্রামের মো. মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়ে। বাড়ীর সবার অগোচরে নিজেদের পুকুর পাড়ে খেলতে গিয়ে ফাহিমা আক্তার পানিতে পড়ে ডুবে যায়। অনেক খোঁজাখুজির পর পুকুর থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যককমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।