কারফিউর মাঝেও স্বস্তি ফিরেছে সবজিতে

বরিশাল অফিস :: কারফিউর কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেছে অনেকটা। তবে বুধবার থেকে কারফিউ শিথিল ও যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ঢাকার সবজির বাজারে।

শুক্রবার রাজধানীর পলাশী কাঁচাবাজার, নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ও হাতিরপুর কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

এসব বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ বেড়েছে। কিন্তু আগের মতো চড়া দামেই চাল, পেঁয়াজ ও আলু বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, সরু চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩-৪ টাকা।

বাজারে গাজর, বেগুন, টমেটো ও করলা ছাড়া এখন বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে কিনতে পারছেন ক্রেতারা। গত সপ্তাহে প্রায় প্রত্যেকটি সবজির দাম ছিল ৭০ টাকার উপরে।

প্রতিকেজি পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, প্রতিকেজি চিচিঙ্গা ও ঢেঁড়শ ৬০ টাকায়, প্রতিকেজি পেঁপে ৫০ টাকায়, চাল কুমড়া প্রতিপিস ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়া প্রতিকেজি ৪০ টাকায়, শসা প্রতিকেজি ৮০ টাকায়, কচুরমুখী প্রতিকেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, টমেটো প্রতিকেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, গাজর প্রতিকেজি ২০০-২৩০ টাকায়, লাউ প্রতিপিস সাইজভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি করলা প্রায় ৫০-৭০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়।

বাজারে প্রতিকেজি গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। প্রতিকেজি কাঁচামরিচ গত সপ্তাহে ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাজারে আজ প্রতিকেজি কাঁচামরিচ মিলছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়।

রাজধানীর কাঁচাবাজারের একজন সবজি বিক্রেতা বলেন, পর্যাপ্ত সবজির সরবরাহ রয়েছে। এ কারণে টমেটো আর গাজর ছাড়া সবধরনের সবজির দাম কমেছে। টমেটো আর গাজর আমদানি করে আনতে হচ্ছে।

এ ছাড়া দেশি রসুন প্রতিকেজি ২২০ টাকায়, আমদানিকৃত রসুন প্রতিকেজি ২০০ টাকায়, ছোট দানার মসুর ডাল প্রতিকেজি ১৪০ টাকায় এবং বড় দানার মসুর ডাল প্রতিকেজি ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সরবরাহ বাড়ায় কমেছে মুরগির দাম। প্রতিকেজি ২০ টাকা পর্যন্ত কমে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় এবং সোনালী মুরগি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আগের মতোই প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০-৭৮০ টাকায় আর প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১১৫০ টাকায়। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে প্রতিকেজি ১ কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। প্রতিকেজি রুই মাছ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, পাঙ্গাশ ২০০ টাকা করে। এছাড়া প্রতিকেজি তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২৪০ টাকায়, চিংড়ি ৭০০ টাকায়, দেশি টেংরা মাছ ৮০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।




তান্ডবের সময় রাজপথে না থাকা দায়িত্বশীল নেতাদের কমিটি বিলুপ্তের দাবি

বরিশাল অফিস :: কোটা সংস্কারের নামে দেশব্যাপী বিএনপি ও জামায়াতের নাশকতায় জেলার গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা এক যুবদল নেতা ঢাকায় এবং আরেকজন নারায়ণগঞ্জে নিহতের পর রাজপথে সরব হওয়ার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলো বিএনপির নেতাকর্মীরা। অথচ সন্ত্রাসীদের প্রতিহতের জন্য সরকারের পক্ষে জেলার প্রবেশদ্বার গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পুরোপুরি নিস্কিয়। এমনকি ওইসব কমিটির নেতৃবৃন্দের অনুসারীদেরও রাজপথে দেখা মেলেনি।

শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নিরব ভূমিকায় সরকার দলীয় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আগামীতে আরো কোন কঠোর আন্দোলন সংগ্রাম আসলে এসব সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা কেমন ভূমিকা পালন করবেন তা নিয়েও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাই উপজেলার সকল স্তরের কমিটি বিলুপ্তের দাবি উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোটা বিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বর্তমান নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মিয়া এবং নবনির্বাচিত পৌর মেয়র আলহাজ¦ মোঃ আলাউদ্দিন ভূঁইয়ার
নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা রাজপথে সরব ছিলেন। সকল প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে নবনির্বাচিত ওই দুই জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম মল্লিক খোকন, পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল-আমিন হাওলাদার ও পৌর প্যানেল মেয়র ইখতিয়ার হাওলাদার তাদের অনুসারিদের নিয়ে রাজপথে সরব থেকে শান্তি মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।

সেখানে পুরোপুরি নিস্কিয় ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

সূত্রমতে, সদ্য সমাপ্ত গৌরনদী পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচএম জয়নাল আবেদীন এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারিছুর রহমান। উভয়নির্বাচনে ওই দুই প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলেছেন ওই দুই পরাজিত প্রার্থী ও তাদের কতিপয় সমর্থকরা।

এরইমধ্যে কারফিউ জারির আগ পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই গৌরনদী বন্দরস্থ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ
সম্পাদকের ব্যক্তিগত অফিসে আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ তাদের অনুসারিরা প্রতিদিন বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সরব উপস্থিতি ছিলেন। কিন্তু দেশব্যাপী কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচিতে যখন রাজনৈতিক কালো থাবা ভর করে, তার বিরুদ্ধে স্থানীয় পদ-পদবী দখল করে রাখা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে কোন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি।

কিন্তু নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর

মেয়রের নেতৃত্বে তাদের অনুসারি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজপথে রাজনৈতিক সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করার জন্য সরব ছিলেন।

বরিশাল পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর মোঃ আল-আমিন হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলীয় পদ-পদবী দখল করে রাখা শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে দেশের ক্লান্তি লগ্নে একটিবারের জন্যও রাজপথে পাওয়া যায়নি। তারা তাদের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিজদলের নেতৃবৃন্দকে শায়েস্তা করাসহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের রাজপথে নামানোর
ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত ছিলেন। যেকারণে ওইসব বির্তকিত নেতৃবৃন্দকে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও
সমর্থকরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছেন। তিনি আরও বলেন, অনতিবিলম্বে ওই বির্তকিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে রাজপথে সরব থাকা নেতৃবৃন্দদের নিয়ে কমিটি গঠণ করার জন্য সর্বস্তরে জোর দাবি উঠেছে।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মনির হোসেন মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম মল্লিক খোকন বলেন, দেশের ক্লান্তি লগ্নে দায়িত্বপ্রাপ্ত
যেসব নেতৃবৃন্দ রাজপথে অনুপস্থিত ছিলেন তাদের দলীয় শীর্ষ পদ আটকে রাখার কোন এখতিয়ার নেই। বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতাদের অবহিত করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা সভাপতি মরহুম মোঃ ইদ্রিস মিয়ার সন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, যারা বিরোধী দল করেনি তাদের দিয়ে দলের দুর্দীনের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নসহ সঠিক নেতৃত্ব আশা করা যায়না। বর্তমান সরকারের টানা মেয়াদে গৌরনদীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের একতরফা ক্ষমতার রাজনীতির কারণে দলের দুর্দীনের নেতাকর্মীদের কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যর কাছ থেকেও দুর্দীনের নেতাকর্মীদের দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

হাবিবুর রহমান আরও বলেন, যে লোক (বর্তমান সাধারণ সম্পাদক) কোনদিনও বিরোধী দল করেননি সে কিভাবে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে নেতৃত্ব দিবেন। কোটা সংস্কারের আন্দোলনে যা স্পস্ট হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক :/




বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুলাই) বিকেলে আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকাসহ দেশের ১০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিমি বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এতে বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নৌবন্দরকে ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




বরিশালে ইন্টারনেট বিহীন ৭ দিনে এক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল :: বরিশাল নগরীর কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা তরিকুল ইসলামের সংসার চলে ফ্রিল‌্যান্সিং করে। গত ১৮ জুলাই দুপুরে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে ২৮৭ ডলার ব‌্যয় করে একটি ক‌্যাম্পেইন চালু করেছিলেন। সন্ধ‌্যায় ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনলাইন দুনিয়া থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেন।

তরিকুল ইসলাম বলেন, ক‌্যাম্পেইনের অর্ডারটি বিদেশী ক্লায়েন্টের ছিল। আমার ডলার কেটে নিয়ে গেলেও কাম্পেইন সম্পন্ন হয়নি। আরও কয়েকটি অর্ডার হারিয়েছি। ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যে ক্ষতি হয়েছে তা চাইলেও আগামী চার বছরেও পূরণ করতে পারবো না। শুধু তরিকুল ইসলামই নন; তার মতো প্রায় ১০ হাজার ফ্রিল্যান্সার অনলাইনে খুঁজে নিয়েছেন কর্মসংস্থান। এরা সকলেই ক্ষতির মুখে হারিয়েছেন পুঁজি।

শুক্রবার ( ২৬ জুলাই) বিকালে ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীদের সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে জানা গেছে, গত সাতদিনে বরিশাল বিভাগে ন্যূনতম এক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে-ইন্টারনেট নির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ফ্রিল‌্যান্সার, ক্যাবল অপারেটর ও পরিবহন কাউন্টার। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইন্টারনেট সরবারহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

বরিশাল ফ্রিল‌্যান্সার ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক জিহাদ রানা বলেন, আমার সংগঠনের অন্তর্ভূক্ত দুই হাজার সদস্য রয়েছেন। সরকার অনুমোদিত আরেকটি সংগঠন বাংলাদেশ ফ্রিল‌্যান্সার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটিতে ৫০ জন আছেন। সংগঠনের বাইরে ফ্রিল‌্যান্সার রয়েছে আরও প্রায় সাত হাজার। তারা সকলেই ক্ষতির মুখে পরেছেন। তিনি আরও বলেন, আমার প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার বিডি নেটওয়ার্ক ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন ছয়দিনে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার নিট মুনাফা হারিয়েছে।

এরমধে্য দেখা গেছে, অনেক অর্ডার সময় মতো
ডেলিভারি দিতে ও অর্ডার নিতে পারিনি। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে বহির্বিশ্বে আমাদের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। কারণ টানা ছয়দিন কোনো ক্লায়েন্টের সাথে
যোগাযোগ হয়নি। তারা আমাদেরকে প্রতারক ভাবলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। সুতরাং নেতিবাচক মনোভাব তৈরির ক্ষতি আর কখনো পুষিয়ে উঠতে পারবো বলে মনে হয় না।

জিহাদ রানা বলেন, ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট সবগুলো খাত অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পরেছে। অর্থের হিসেবে বিভাগে আনুমানিক এক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু মার্কেটিং পলিসিতে খ‌্যাতির যে ক্ষতি হয়েছে তা টাকায় পরিমাণযোগ‌্য নয়।

দক্ষিণাঞ্চলে ইন্টারনেট সরবারহকারী সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান ইউরোটেল বিডি অনলাইন লিমিডেটের ব‌্যবস্থাপনা পরিচালক ও বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক এসএম জাকির হোসেন বলেন, হঠাৎ করে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট
কর্মজীবীদের পাশাপাশি ইন্টারনেট সরবারহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পরেছে।
কারণ ব‌্যান্ডউইথ কিনে ব‌্যবহারকারী পর্যায়ে দিতে না পারায় আমরা নিট মুনাফা হারিয়েছি।

উল্লেখ‌্য, কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি গোষ্ঠি দেশে নাশকতার সৃষ্টি করার জন্য ইন্টারনেট সংযোগের লাইন বিচ্ছিন্ন করায় গত ১৮ জুলাই রাতে হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় ইন্টারনেট পরিষেবা। এরপর ২৪ জুলাই মাঝরাতে বরিশাল বিভাগের জেলা শহরগুলোতে ব্রডব‌্যান্ড সার্ভিস পাওয়া শুরু হলেও ২৬ জুলাই দুপুর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ গতি পাচ্ছেনা ইন্টারনেট ব‌্যবহারকারীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ /




বরিশালে কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীতে মিম আক্তার (১৮) নামে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে নগরীর পলাশপুরের জামাই বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত মিম আক্তার (১৪) বরিশাল সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পলাশপুর এলাকার মিলন হাওলাদারের মেয়ে।

মিমের মা রেনু বেগম জানান, ভোরে মেয়ের রুমে গিয়ে দেখতে পান রুম খালি। পরে বাথরুম ভেতর থেকে আটকানো দেখে তালা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন।

বরিশাল কাউনিয়া থানার এসআই নাইম আহম্মেদ বলেন, বাথরুমের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্যমতে, ব্যক্তিগত কারণে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে অবসাদগ্রস্ত ছিলেন। এ কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।




৫ দিন পর চালু হলো বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটের লঞ্চ

বরিশাল অফিস :: টানা পাঁচদিন পর সচল হলো বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুট। ‘কারফিউ’ শিথিল থাকায় আজ শুক্রবার (২৬ জুলাই) বরিশাল থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে লঞ্চ। তবে যাত্রীদের চাপ না থাকায় বরিশাল নদী বন্দর থেকে একটি মাত্র লঞ্চ ছেড়ে যায়।

এর আগে ‘কারফিউ’ ঘোষণার পর গত ২০ জুলাই থেকে বরিশাল-ঢাকাসহ অভ্যন্তরীণ রুটে সব ধরনের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

তথ্য নিশ্চিত করে বরিশাল নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক রিয়াদ হোসেন জানান,কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় সারাদেশে সহিংসতা হয়। সহিংসতা থেকে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তায় গত ১৯ জুলাই রাত থেকে সারাদেশে কারফিউ ঘোষণা করে সরকার।

এদিকে কারফিউ ঘোষণার কারণে গত ২০ জুলাই থেকে বরিশাল-ঢাকা এবং অভ্যন্তরীণ রুটে সব ধরনের নৌ-যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেই সাথে বন্ধ হয়ে যাত্রী যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল।

 

কারফিউর কারণে নৌ-যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় শ্রমিকদের। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায় দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক এবং কলম্যানদের।

এমন পরিস্থিতিতে গত ২৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হয়। ফলে ঐদিন থেকেই বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীবাহী নৌ-যান চলাচল শুরু হয়। তবে ৬টার পর থেকে কারফিউ থাকায় দূরপাল্লার রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকে।

বরিশাল নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক রিয়াদ হোসেন বলেন, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল ছিল। এ কারণে শুক্রবার রাতে বরিশাল থেকে দুটি লঞ্চ ঢাকায় ছেড়ে যাওয়ার জন্য ঘাটে বার্দিং করা ছিল।

তবে যাত্রীসল্পতার কারণে শুধুমাত্র এমভি সুন্দরবন-১২ লঞ্চটি যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। রাত ৯টায় কারফিউ শুরু হওয়ায় তার আগেই রাত পৌনে ৯টার দিকে বরিশাল নদী বন্দর থেকে লঞ্চটি ছাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তায় নদী বন্দর এলাকায় নৌ-পুলিশ এবং নদীতে নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও শনিবারও বরিশাল থেকে ঢাকায় লঞ্চ ছেড়ে যাবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।




বরিশালে সরকারি হাসপাতালে মিলছে না চিকিৎসা সেবা,দুর্ভোগে রোগীরা

বরিশাল অফিস :: সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা কাজে আসেনি ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

দীর্ঘদিন থেকে হাসপাতালের তিনজন চিকিৎসক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে রোগীদের। নিরুপায় হয়ে অনেক রোগী বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডাঃ আবু বকর সিদ্দিক ২০১১ সালের ১ জুলাই আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে যোগদান করেছেন। মাত্র পাঁচ মাস তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিয়ে ২০১২ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন। একইভাবে ২০১৪ সালের ৮ অক্টোবর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছেন ডাঃ সোমা হালদার। এক বছর কর্ম পালনের পর
২০১৫ সালের ৫ নভেম্বও থেকে তিনিও অনুপস্থিত রয়েছেন। সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২৫ নভেম্বর হাসপাতালে যোগদান করেছিলেন ডাঃ শাহানা রহমান। গত ৮ মাস ধরে তিনি হাসপাতালে আসছেন না।

দীর্ঘদিন থেকে উল্লেখিত ওই তিনজন চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকলেও তাদের জায়গায় কোনো নিয়োগ হচ্ছেনা। ফলে প্রতিনিয়ত রোগীদের সেবাদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও বিপাকে পরেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের

দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারীদের শাস্তি না হওয়ায় উদ্বেগজনক এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে শক্ত তদারকির অভাব।এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ বখতিয়ার আল মামুন বলেছেন, আবু বকর
সিদ্দিক ও সোমা হালদারকে একাধিকবার কর্মস্থলে যোগদানের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা এখনও কাজে ফেরেননি। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান। এছাড়া ডাঃ শাহানা রহমানকে কাজে যোগদান করতে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। সিভিল
সার্জন অফিসকেও বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতি মাসেই চিকিৎসকদের তথ্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেই হিসেবে মন্ত্রণালয় বিষয়টি সম্পর্কে জানে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী এক চিকিৎসকের চাকরি হয়তো আর নেই। বাকি দুইজনের মধ্যে একজন বিদেশে; অন্যজন
কোথায় জানি না। চিকিৎসক নিয়োগ সম্পর্কে তিনি বলেন, পদগুলো খালি না হওয়া পর্যন্ত পদায়ন সম্ভব না। ফলে নতুন করে চিকিৎসক পেতে সময় লাগবে।




ঐক্যবদ্ধ আ.লীগকে কেউ হারাতে পারে না: নাছিম

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহউদ্দিন নাছিম বলেছেন, তৃণমূলের কর্মীরাই আওয়ামী লীগের শক্তি। সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে তৃণমূলের কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকলে আওয়ামী লীগকে কেউ হারাতে পারে না।

শুক্রবার (২৬ জুলাই) দুপুরে ঢাকা ৮ আসনের অন্তর্গত পাঁচটি থানা ও নয়টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলার জনমানুষের দল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব শ্রেণি, পেশা, ধর্মের মানুষ আওয়ামী লীগ করে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগের শক্তি। দেশের যেকোনো দুর্দিনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে থাকে। সাম্প্রতিক বিএনপি জামাত জঙ্গিবাদী শক্তির নৈরাজ্যের সময়ও তৃণমূলের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে থেকে জানমালের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চটা করেছে। নেতৃত্বের দ্বিধাগ্রস্ততা বা দ্বন্দ্বের কারণে কোথাও কোথাও তারা প্রয়োজনমতো দাড়াতে পারেনি তবে সামগ্রিকভাবে আওয়ামী লীগ মানুষের পাশে থেকে নৈরাজ্য রুখে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের সবাইকে দল ও দেশের প্রয়োজনে আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সভায় ঢাকা ৮ আসনের সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিন নাছিম সাম্প্রতিক বিএনপি জামাত জঙ্গিবাদী শক্তির নৈরাজ্যের সময় ঢাকা ৮ আসেনর অন্তর্গত থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, সবাই মাঠে ছিল বলেই মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ এলাকায় এবার নৈরাজ্যবাদী শক্তি নৈরাজ্য করতে পারেনি। এজন্য ঢাকা ৮ আসেনর অন্তর্গত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ।

তিনি বলেন, বিএনপি জামাত জঙ্গিবাদী শক্তি এখনো ঘাপটি মেরে আছে। সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। তাদের নৈরাজ্য করার কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। তারেক রহমান লন্ডনে বসে নতুন নতুন চক্রান্ত করছে। জনগণ কষ্ট পেলে তারেক রহমান আশার আলো দেখে। দেশ অস্থিতিশীল হলে তারেক রহমান অবৈধ পথে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। দেশ ও জনগণ ভালো থাকলে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ভালো থাকেন। তাই আওয়ামী লীগের সবাইকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব নৈরাজ্য রুখে দিতে হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফির সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সহ-সভাপতি নুরুল আমিন রুহুল, শহীদ সেরনিয়াবাত, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য কামাল চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি, মিরাজ হোসেন, দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইনুদ্দিন রানা, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজল কুণ্ডু, নয়টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।




রাতে ঢাকাসহ ১০ জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস

বরিশাল অফিস :: ঢাকাসহ ১০ জেলার ওপর দিয়ে রাতের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

শুক্রবার (২৬ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত দেশের নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে ঢাকা ছাড়াও ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নৌবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ফলে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া সংস্থাটি।

লঘুচাপটির প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ছাড়াও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।




‘ছাত্রনেতাদের মধ্যে জঙ্গি গোষ্ঠীর এজেন্ট আছে কিনা খোঁজ নিতে হবে’

বরিশাল অফিস :: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যদি একটু ধৈর্য ধরা হতো তাহলে ছাত্র আন্দোলনে বিএনপি জামায়াত দেশ বিরোধী অপশক্তির সুযোগ নিতে পারতো না। ছাত্রনেতাদের মধ্যে জঙ্গি গোষ্ঠীর এজেন্ট আছে কিনা খোঁজ নেওয়া দরকার।

শুক্রবার (২৬ জুলাই) দুপুরে ‘দেশ ও স্বাধীনতা বিরোধী সন্ত্রাস নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের শপথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে সাপ্তাহিক গণ বাংলা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি প্রকৃত কোনো ছাত্র এই ধরনের হামলা অগ্নি সংযোগের সঙ্গে জড়িত ছিল না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তাদের নেতাকর্মী ও জামায়াত ইসলাম রাষ্ট্রের ওপর এই হামলা চালিয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে। যারা পিটিয়ে মানুষ হত্যা করেছে, মেট্রোরেল, বিটিভিতে আগুন দিয়েছে তাদের প্রত্যেকের বিচার হবে। আমরা এটি করতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, আজকে রাষ্ট্র আক্রান্ত। এই রাষ্ট্রের ওপরে হামলা তারেক রহমানের নির্দেশে হয়েছে। গতকাল তারা (বিএনপি নেতারা) স্বীকারোক্তি দিয়েছে, ছাত্র লীগ মারলে পাঁচ হাজার ও পুলিশ মারলে দশ হাজার টাকা দেওয়া হবে। আমির খসরু নির্দেশ দিচ্ছেন তাদের তরুণ নেতাকর্মীদেরকে ছাত্র আন্দোলনে ঢুকে পড়ার জন্য। তারেক রহমান নির্দেশ দিচ্ছেন, সেই অডিও ক্লিপ সরকারের কাছে আছে। অডিওতে তারেক রহমান বলছেন, ‘কারফিউ ভাঙো, আর নাহয় পদত্যাগ করো’। গত বছরে ২৮ অক্টোবর যারা ঢাকা শহরে অগ্নিসংযোগ ও নৈরাজ্য করেছিল তাদেরকে বিএনপি বড় বড় পদ দিয়েছে। এবারও যারা মানুষ মারবে, পুলিশ মারবে তাদেরকে বিএনপি বড় বড় পদ দিবে। এটি কোনো রাজনৈতিক দল! এটি একটি দেশবিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠন।

তিনি আরও বলেন, দেশ স্বাধীনতা বিরোধী জঙ্গি বিএনপি-জামায়াত দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও তাদের সহায় সম্পত্তি আক্রান্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ধ্বংস ও রাষ্ট্রের ওপরে আঘাত হানা হয়েছে। এ অঞ্চলে স্থাপিত প্রথম টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভিতে আঘাত হানা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের ওপর এমন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, দেশে যখন ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণায়লের কর্মকর্তারা দুর্যোগ কবলিত মানুষের কাছে ছুটে যান। কিন্তু, এখন সেই মন্ত্রণালয়েও আগুন দিয়েছে। এটি রাষ্ট্রের ওপরে হামলা। যে সেতু ভবন পদ্মা, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ কাজ পরিচালনা করেছে সেই সেতুভবনকেও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডাটা সেন্টারে আগুন দেওয়া হয়েছে, যার কারণে বেশ কয়েকদিন ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করে সাবমেরিন কেবলগুলোকে কেটে দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। ঢাকাবাসীর গর্ব মেট্রোরেলে হামলা চালিয়েছে। ফুটওভার ব্রিজে আগুন দেওয়া হয়েছে। একহাজারের বেশি গাড়িকে আগুন দিয়ে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি বিদেশি রাষ্ট্রদূতদেরকে এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখানোর জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম। তখন ইটালিয়ান রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘এটা লজ্জাজনক’। বিভিন্ন বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সামাজিক মাধ্যমের আইডি হ্যাক করে উল্টাপাল্টা পোস্ট দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার কোটা পুনর্বহাল করেনি। ২০১৮ আমাদের সরকার কোটা ব্যবস্থা বাতিল করেছিল। সে অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছিল। কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে আপিল করেছিল। হাইকোর্ট ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপনকে বাতিল করে রায় দেয়। এটি হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত, সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নয়। সরকার সাথে সাথে আপিল বিভাগে গেলে হাইকোর্টের রায়কে স্থগিত করে দেওয়া হয় এবং ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন বহাল হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, যেটি আমাদের সংবিধান ও আইন মতে যদি কোনো বিষয় সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকে সরকারের পক্ষে নির্বাহী ক্ষমতায় কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। সরকারের পক্ষ থেকে সেটি আমরা বারবার বলেছি।

প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে বলেছেন,‘শিক্ষার্থীরা হতাশ হবেন না’। কিন্তু দেখলাম প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আধা ঘণ্টা পরেই শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কিন্তু, পরে উচ্চ আদালতের রায়ে সমস্যার সমাধান হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যা চেয়েছিল; তার চেয়ে বেশি পেয়েছে। রায়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা রাখা হলেও বাস্তবে তারা এক-দুই শতাংশের বেশি পাবে না। তাহলে বাকিটাও মেধাতে যাবে। কোটা থাকলেও সবাইকে মেধার ভিত্তিতে পরীক্ষার শেষ ধাপে যেতে হয়। শেষ ধাপে যেতে পারে মাত্র দুই শতাংশ শিক্ষার্থী। তারপরেই তাদের ক্ষেত্রে কোটা প্রয়োগ হয়। কিন্তু কোটার বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে ভুল বোঝানো হয়েছে। কিন্তু, এরপরেও পত্র-পত্রিকায় নানা ধরনের বিবৃতি ও আহবান দেখি।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী এই নির্মমতার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। অনেক সাধারণ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীও যে ঘটনার স্বীকার হয়নি তা নয়। সমস্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচার আওতায় আনা হবে- এই প্রতিশ্রুতি শেখ হাসিনা দেশের জনগণকে দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিমের সভাপতিতে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মো.মহিববুর রহমান,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক,জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।