একটি সেতুর অভাবে ৮ লাখ মানুষের ভোগান্তি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীর বগা পয়েন্টে একটি সেতুর অভাবে বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার প্রায় ৮ লাখ মানুষ দেশের সার্বিক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফেরি ও ট্রলারে পারাপারে সময় নষ্টের পাশাপাশি নানামুখী ভোগান্তি পোহাচ্ছে বিভাগীয় শহর ও রাজধানী গামী যাত্রীরা। তিন উপজেলার প্রায় ৮ লাখ মানুষের বহু বছরের লালিত স্বপ্ন লোহালিয়া নদীর ওপরে বগা সেতু নির্মাণ হবে। রাজধানী ঢাকা যেতে বগা ছাড়া অন্যকোথাও ফেরি পারাপার হতে হয় না।

এ অঞ্চলের ভুক্তভোগী জনগণ ও সংশ্লিষ্টরা জানায়, পটুয়াখালী জেলা শহরের সাথে বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলাকে বিভক্ত করেছে লোহালিয়া নদী। প্রতিদিন এই নদীর বাউফল উপজেলার বগা পয়েন্টের ফেরি পারাপার হয়ে জেলা, বিভাগ ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে হাজার হাজার যানবাহন। প্রতিনিয়ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরি ঘাটে আটকে থেকে ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

অন্যদিকে ট্রলারে করে এই নদী পাড় হতে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়ছে মানুষ। জেলার ভিতর সবচেয়ে বৃহৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা বাউফল। এই উপজেলাতেই রয়েছে দেশের প্রাচীণতম বাণিজ্যিক এলাকা কালাইয়া ও কালিশুরি বন্দর। এই বাণিজ্যিক এলাকা থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে যায় শতশত ভাড়ি ও মাঝাড়ি আকৃতির ট্রাক। এছাড়াও বাউফল-ঢাকা মহাসড়ক দিয়ে বগা ফেরি হয়ে রাজধানীতে চলাচল করে দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার বহু যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন।

ঢাকা থেকে বাউফল আসা যাত্রী আরিফুর জানান, ঢাকা থেকে বাউফল আসতে সময লেগেছে ৪ঘন্টা অথচ ফেরি ঘাটে এসে ১ঘণ্টা বসে আছি এটা খুবই দুঃখজনক।

অপর যাত্রী বলেন, সেতু না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছি আমরা সাধারণ মানুষ।

পরিবহন চালক আব্দুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতুর সুফল পাচ্ছি না আমরা। বগা ফেরিতে এসে ১/দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় এই দূর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে চাই।

এই অঞ্চলের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ফেরি কারণে সবথেকে বেশি বিপাকে পড়ে ইমার্জেন্সি রোগী ও তাদের স্বজনরা। অনেক সময় ফেরিতে দেড়ির কারণে রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি থাকে বলেও জানান তারা।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, সেতু না থাকায় রোগীদের বেশি সমস্যা হচ্ছে। ফেরিতে দেড়ি হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা পেতে দেড়ি হয় এতে মৃত্যু ঝুকি বেড়ে যায়।

বাউফলের ৮ বারের এমপি দীর্ঘ ৪০ বছর বিভিন্ন সময়ে জনগণকে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে তা আজও বাস্তবায়ন না করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনগণ।

বাউফল পৌরসভার সরকার দলীয় মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল বলেন, বগা সেতু নির্মাণ হলে এই অঞ্চল হবে শিল্পাঞ্চল এবং এই অঞ্চলের কৃষির অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে। দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই অঞ্চলের মানুষ। বদলাবে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান, কমবে বেকারত্ব। প্রধানমন্ত্রী বগা সেতু নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আ স ম ফিরোজ বলেন, সেতু নির্মানে বিলম্ব হওয়ার বিষয় সরকারের কোনো হাত নেই। চীনা সরকার বিষয়টি নিয়ে স্টাডি করতেছে। তারা ইতিমধ্যে সেতুর সম্ভব্যতা নিশ্চিত হয়েছে। তাদের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত সেতুটি বাস্তবায়ন করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।




বঙ্গোপসাগরে পাঁচ ট্রলার ডুবি – ৪৭ জেলে উদ্ধার – নিখোঁজ ২

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১নং বয়া হাইরের চর এলাকায় ৪৯ জেলে নিয়ে পাঁচটি মাছ ধরা ট্রলার ডুবে গেছে। এরমধ্যে একটি ট্রলারসহ ৪৭ জেলে উদ্ধার হলেও চারটি ট্রলারসহ নিখোঁজ দুই জেলের তিন দিনেও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের জাকির প্যাদার ট্রলারের জেলে ফিরোজ তালুকদার ও মৌডুবির আবদুল করিমের ট্রলারের জেলে নাঈম চৌকিদার।

গত বৃহস্পতিবার রাতের পৃথক সময়ে এ ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে।

কলাপাড়ার লালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বিশ্বাস তপন জানান, ২৩ জুলাই সাগরে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা শেষে ১৪ জেলে নিয়ে সাগরে মাছ শিকারে যায় লালুয়ার জাকির প্যাদার ট্রলার। বৃহস্পতিবার রাতে ট্রলারের পিছনে বসা অবস্থায় প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে ফিরোজ তালুকদার সাগরে পড়ে যায়।

শনিবার দুপুর পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মহিপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে ট্রলার মালিক জাকির প্যাদা।

মৎস্য বন্দর আলীপুর আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল জলিল জানান, তার আড়তে মাছ বিক্রি করে আবদুল করিম, শাহীন মাতুব্বর, সোহরাব গাজী, রাজ্জাক মাতুব্বর ও মো. উজ্জলের পাঁচটি ট্রলার সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে ডুবে যায়। এরমধ্যে একটি ট্রলারসহ ৪৭ জেলে উদ্ধার হলেও বেল্লাল চৌকিদারের ট্রলারের জেলে নাঈম চৌকিদার নিখোঁজ রয়েছে।

এদিকে লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কয়েকশ ট্রলার মাছ শিকার বন্ধ করে আলীপুর ও মহিপুর মৎস্য বন্দর ও বিভিন্ন মোহনায় আশ্রয় নিয়েছে। তবে এখনও ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ শিকার করছে কলাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারেরও বেশি ট্রলার এমনটাই জানিয়েছেন সাগর থেকে ফিরে আসা ট্রলারের জেলেরা।




‘ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেলের স্টেশন এক বছরেও চালু করা সম্ভব নয়’

বরিশাল অফিস :: কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেলের দুটি স্টেশন এক বছরেও চালু করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, মেট্রোরেল না থাকায় মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। ৩০ মিনিটের পথ দুই ঘণ্টায়ও যেতে পারছে না। মেট্রোরেল কবে নাগাদ চালু হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

শনিবার (২৭ জুলাই) সকালে কোটা সংস্কার আন্দোলনে রাজধানীর মহাখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতায় মেট্রোরেলের কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ স্টেশন ধ্বংসপ্রাপ্ত। এটা এক বছরেও যন্ত্রপাতি এনে সচল করা সম্ভব হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

মেট্রোরেল চলাচল কবে নাগাদ শুরু হতে পারে জানতে চাইলে কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, ওই সিদ্ধান্তের ওপর আমরা পর্যায়ক্রমে যেখানে যা করার সেটা করব। তার সিদ্ধান্তের আগে আমরা কোনো কিছু করতে চাই না। তিনি সব কিছু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তিনি প্রত্যক্ষভাবে বিটিভিসহ বিভিন্ন ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনায় গেছেন। সব কিছুর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তার কাছে আছে। কী অবস্থায়, কখন, কোনটা চালু করা যাবে আমি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, এটা সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কাজ নয়। তারা কোটার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। রাজনৈতিক মতলবে বিএনপি-জামায়াত এই আন্দোলনের ওপরে ভর করেছে তাদের দীর্ঘ দিনের ব্যর্থতা অবসানের জন্য। ২০১৮ সালে তারা ব্যর্থ হয়েছে, নির্বাচনের আগে অক্টোবর মাসে তারা ব্যর্থ হয়েছে, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে তারা অংশ নেয়নি—আজকে ক্ষমতার লিপ্সা তাদের পেয়ে বসেছে।




কোটা আন্দোলনে এক নেতা নুরকে চার লাখ টাকা দেন: ডিবিপ্রধান

বরিশাল অফিস :: দেশজুড়ে কোটা আন্দোলন চলাকালীন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে এক নেতা চার লাখ টাকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

এই ৪ লাখ টাকা কাকে, কীভাবে, কী জন্য খরচ করা হয়েছে সেসব বিষয়ে জানার জন্য ঢাকা মহানগর (গোয়েন্দা) পুলিশ চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

হারুন অর রশীদ বলেন, নুরকে আমরা রিমান্ডে নিয়েছিলাম। তার কাছ থেকে অনেক তথ্য পেয়েছি। সেই তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। নুর একটা কথা স্বীকার করেছেন। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে একজন নেতা তাকে চার লাখ টাকা দিয়েছেন। আমরা সেই নেতাকেও নিয়ে এসেছি। সে চার লাখ টাকা নুরকে দিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।

কি জন্য সেই নেতা নুরকে দিয়েছেন সেসব বিষয়ে ওই নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কোটা আন্দোলনে সমন্বয়কদের সঙ্গে সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান হারুন অর রশীদ।

এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সভাপতি (বিজেপি) ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন আমাদের কাছে। তার কাছ থেকে কিছু বিষয় জানার চেষ্টা করছি।

গতকাল শুক্রবার (২৬ জুলাই) পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এর আগে গত ২১ জুলাই তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে পার্থকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।




নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হবে না: কাদের

বরিশাল অফিস :: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হবে না। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

শনিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলন। বিবৃতিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বিবৃতির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে বিচারবিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পুলিশি তদন্ত চলমান রয়েছে। সংঘটিত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তদন্তের বাইরে থাকবে না। এই সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণকে মির্জা ফখরুল ইসলাম গণ-গ্রেফতার হিসেবে অভিহিত করে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এখানে কোনো গণ-গ্রেফতার করা হচ্ছে না।

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সন্ত্রাস, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের দায় এড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রবঞ্চনামূলক অপকৌশল গ্রহণ করছেন। বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা সশস্ত্র হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ ও পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড নজিরবিহীন এবং তা জনসাধারণের মনে দগদগে ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। বিএনপি-জামায়াত ও তার দোসররা কোনো ভাবেই এর দায় এড়াতে পারে না। তাদের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী হত্যাযজ্ঞ চালানোর গভীর চক্রান্ত নিয়ে মাঠে নেমেছিল।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযম নিয়ে এই হত্যাযজ্ঞ এবং ধ্বংসযজ্ঞ মোকাবিলা করা হয়েছে। সরকার কোনোভাবেই চায়নি কারও প্রাণহানি ঘটুক। বিপরীত দিকে বিএনপি-জামায়াত, ছাত্রদল-শিবিরের টার্গেটই ছিল লাশের রাজনীতি। এদের সশস্ত্র ক্যাডারদের মোকাবিলার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নিরস্ত্র নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থায় ছিল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি-জামায়াতের প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাকাণ্ডের মিশনে সারাদেশ থেকে ঢাকায় এসে জড়ো হয়েছিল। এই সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশ টেলিভিশন-বিটিভি ভবন, সেতু ভবন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবন, বিআরটিএ ভবন, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোলপ্লাজা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভবন, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, থানা ও পুলিশ বক্সসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং লুটপাট করেছে। হত্যা-গুপ্তহত্যা ও নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে তারা আবার ছড়িয়ে পড়েছে। এই সব সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় আনার জন্য আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী তৎপর রয়েছে।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে বিচারবিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশি তদন্ত চলমান রয়েছে। সংঘটিত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তদন্তের বাইরে থাকবে না। এই সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণকে মির্জা ফখরুল ইসলাম গণ-গ্রেপ্তার হিসেবে অভিহিত করে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছে। এখানে কোনো গণ-গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। নিরপরাধী কেউ কোনো প্রকার হয়রানির শিকার হবে না। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা আইনের সর্বোচ্চ সুষ্ঠু প্রয়োগ করবো। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জাতীয় ঐক্যের আহ্বান হলো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধবিরোধী এবং দেশবিরোধী অপশক্তির ঐক্য! উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের ঐক্য! জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যের ডাক দিয়ে বিএনপি আবার প্রমাণ করল জামায়াত-বিএনপির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিই বিএনপির দোসর। এই ঐক্যের ডাক এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহকে স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে এদের প্রতিরোধের আহ্বান জানাচ্ছি।




মিলছে না কাক্সিক্ষত ইলিশ উপকূলে জেলেদের হতাশা

বরিশাল অফিস :: সাগরে মাছ ধরার ক্ষেত্রে সরকারের দেয়া টানা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই ইলিশ মাছ ধরার প্রস্তুতি শুরু করলেও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় অধিকাংশ ইঞ্জিনচালিত মাছধরা ট্রলার নিরাপদে ঘাটে বাঁধা রয়েছে। ২৩ জুলাই রাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হলে বরগুনার জেলেপাড়াগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে। বৈরী আবহাওয়া ও কাক্সিক্ষত ইলিশ ধরা না পড়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় জেলেরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই মাসের বেশী সময় ধরে বেকার হয়ে ছিল জেলার উপকূলীয় জনপদের জেলেপাড়ার বাসিন্দারা। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সরকারি সহায়তা দেয়া হলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না বলে জানিয়েছেন জেলেরা।

পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের জেলে মোশাররফ হাওলাদার বলেন, এ উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের বাইরেও অনেক জেলে রয়েছে। নিবন্ধিত হয়েছে কিছুসংখ্যক। যারা নিবন্ধিত হয়েছে তারা নিষেধাজ্ঞার সময় সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে। বেশিরভাগ জেলে পরিবারের দু’মাস মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে।

বরগুনা সদরের নলটোনা ইউনিয়নের জেলে শামসুল আলম বলেন, দীর্ঘ দুমাস পর নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের কিছুটা উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকলেও ঋণের বোঝা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। অনেকের ঋণ রয়েছে। কিন্তু দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এখন মাছ ধরে নিজেও চলতে হবে, ঋণও পরিশোধ করতে হবে। এবার অনেক আশায় নিয়ে আমরা সাগরে নেমেছিলাম। কাক্সিক্ষত ইলিশ মাছ পাচ্ছি না। গত ২/৩ দিন যে মাছ পেয়েছি তাতে খরচই পোষাবে না। গত বছরও আশানুরূপ ইলিশ পাওয়া যায়নি। এ বছর ভাগ্যে কি রয়েছে জানিনা।

বরগুনা জেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, এসব জেলের দাবি, তারা এখন সাগরে কাক্সিক্ষত মাছ পেলে নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন। একই এলাকার জেলে মো. নাসির উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ছেলে-মেয়ে নিয়ে কষ্টে দিন কাটিয়েছি। এখন সাগরে যদি মাছ পাই, তবে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারব।’

পাথরঘাটার চার ভাইবোন ট্রলারের স্বত্বাধিকারী মো. কামাল বলেন, নিষেধাজ্ঞা জারীর আগেও সাগরে তেমন মাছ পাইনি। এর মধ্যে আবার নিষেধাজ্ঞা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ। চরম অভাব অনটনের মধ্যেই দিনাতিপাত করতে হয়েছে।

বরগুনা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে উপকূলের জেলেরা কঠিন সময় পার করেছেন। তবে তারা আশা করছেন, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে জালে যে হারে ইলিশ ধরা পড়েছে, এখন তার থেকেও বেশি ইলিশ পাবেন। কাঙ্খিত ইলিশ পেলে দুরাবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে।

পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের বিপণন কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং যা দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসিন বলেন, বরগুনা জেলায় মোট ৩৬ হাজার ২২ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে অবৈধ জাল বিনষ্ট করা ও অসাধু জেলেদের আইন অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। ৬৫ দিন শেষে বরগুনার জেলেরা সমুদ্রে আশানুরূপ মাছ পেলে অর্থনৈতিক দুর্দশা-দৈন্য কাটিয়ে উঠতে পারবেন।




বরিশালে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চোর চক্র, যন্ত্রাংশ বিক্রি হয় পানির দরে

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মোটরসাইকেল চোরচক্র। মেট্রোপলিটন এলাকার চার থানায় প্রতি মাসে মোটরসাইকেল চুরির দুই-তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, নিজ বাসাবাড়ি, গ্যারেজ থেকে অভিনব কায়দায় নতুন মোটরসাইকেল চুরি হয়ে থাকে। একাধিক ভুক্তভোগী চুরির ঘটনায় পরদিন থানায় সাধারণ ডায়ারি করেছেন।

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কিছু দিন গা-ঢাকা দেয় সংঘবদ্ধ চোর চক্র। আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান কমে আসলেই শুরু হয়ে যায় চুরি। চুরি হওয়া মোটরসাইকেল মালিকরা জানান, গভীর রাতে নগরীর চার থানায় এত টহল পুলিশ এড়িয়ে মোটরসাইকেলগুলো কীভাবে চোরচক্র নিয়ে গেল তা তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। কেননা রাত ১২টার পর থেকেই চার থানার পুলিশ টহল জোরদার করে। পাশাপাশি ডিবি পুলিশের টহলদল নগরীর মোড়ে মোড়ে টহল দেয়। প্রশাসনের এ কঠোর নজরদারিতে চোর চক্রের এ বীরদর্পের চুরিতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হিসেবে দেখছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর কাউনিয়া ও পলাশপুরের রসুলপুরে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্র রাতের আঁধারে বিভিন্ন এলাকায় চুরি সংঘটিত করে। দামি এসব মোটরসাইকেল তারা দুভাগে বিক্রি করে থাকে। নগরীর এক শ্রেণির অসাধু মোটরসাইকেল মেকানিক হচ্ছে এদের প্রধান ক্রেতা। দামি মোটরসাইকেলগুলো রাতেই কাউনিয়া ও রসুলপুরের নির্জন এলাকায় আলাদা করে চাকা, টায়ারসহ অপর যন্ত্রাংশগুলো বিক্রি করা হয়। পানির দরে তাদের নির্ধারিত মেকানিকের দোকানে যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করা হয় দামি মোটর সাইকেলগুলোর।

অপর চক্রটির সঙ্গে নদীবেষ্টিত উপজেলাগুলোসহ দ্বীপ জেলা ভোলার অসাধু ব্যবসায়ীরা জড়িত। তারা নৌ-পথে অতি সহজেই ভোলাসহ মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা ও অপর উপজেলাগুলোতে যোগাযোগ করে বিক্রি করে দেয়। সেখানে বেশি দাম না পেলেও যন্ত্রাংশ আলাদা করার ঝামেলাবিহীন ও একসঙ্গে কিছু টাকা পাওয়ায় পৌঁছে দিয়ে আসা হয়।

উপজেলাগুলোতে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এ চোরাই মোটর সাইকেলগুলো। চোর চক্র বিক্রি না করে মাসিক ভাড়ার চুক্তিতেও মোটরসাইকেল ভাড়া দিয়ে থাকে।

এছাড়াও চোরাই মোটরসাইকেলের ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি করে আসছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ চক্রটি অনলাইনে কম দামে মোটরসাইকেল বিক্রি করায় থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চক্রটি চোরাই মোটরসাইকেল কম দামে কিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সহ বিভিন্ন ওয়েব সাইটে বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। বিকাশ-সহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হওয়ায় অপর জেলায় বিক্রি হয়ে যায় ভুয়া কাগজপত্রের এ মোটরসাইকেল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকলেও হঠাৎ করেই সক্রিয় হয়েছে চক্রটি। দরবেশ ও ফকির বেশে তারা রাতের আঁধারে বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করে কৌশলে মোটরসাইকেল চুরি করছে। এরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়ায় পুলিশ এ চক্রটিকে গ্রেফতারে হিমশিম খাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে সংঘবদ্ধ চোর চক্রকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্যের ভিত্তিতে কিছু মোটরসাইকেল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া থানা পুলিশের পক্ষে নিজ নিজ এলাকা থেকে এসব চোর চক্র গ্রেফতার করা সম্ভব নয়।

পুলিশের এ কর্মকর্তা অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, চোর চক্র যে এলাকায় বসবাস করে সেসব এলাকায় কখনোই মোটরসাইকেল চুরি করে না। তাই গোয়েন্দা পুলিশ ছাড়া এসব চোর চক্র চিহ্নিত কিংবা গ্রেফতার করতে থানা পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।




বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর নতুন বার্তা

বরিশাল অফিস :: কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার আগে ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার (২৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার কর্মপন্থা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এক বার্তায় জানান, উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করে পাঠদান শুরু করার জন্যে ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রতি অনুরোধ জানাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা শুরু হওয়ায় গত ১৬ জুলাই রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

একই দিন রাতে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।




জার্মানিতে যাচ্ছে নেছারাবাদের কাঠের নৌকা

নদী বা খালে চলবে না- বসার জন্য তৈরি হচ্ছে সৌখিন নৌকা

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল :: নৌকার জন্য বিখ্যাত বরিশাল বিভাগের পিরোজপুরের নেছারাবাদের আটঘর। সেই আটঘরে তৈরি কাঠের নৌকা এবার সর্বপ্রথম যাবে জার্মানিতে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে নৌকাগুলো হস্তান্তর করা হবে। প্রথম চালানে ১০টি নৌকা যাবে জার্মানিতে।

নেছারাবাদ ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি রাকিব হোসেন বলেন, আটঘর বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা নৌকা তৈরির মিস্ত্রি আজিজুল হক নৌকা তৈরির অর্ডার পেয়েছেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কাঠের নৌকা তৈরিও করেছেন। বাকিগুলোর কাজ দ্ররুতগতিতে এগিয়ে চলছে। রাকিব হোসেন আরও বলেন, দুই মাস আগে জার্মানির নাগরিক এক পর্যটক এসেছিলেন আমাদের এলাকা ঘুওে দেখতে। তিনি আটঘরের কাঠের নৌকা দেখে পছন্দ করেন এবং আজিজুল হকের কাছ থেকে নৌকা তৈরি করে জার্মানিতে
নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

নৌকার কারিগর আজিজুল হক বলেন, আমি ৩০ বছর ধরে ডিঙ্গি ও টালাই নৌকা তৈরি করে আসছি। কয়েকদিন আগে জার্মানির এক লোক এসে ১০টি নৌকার অর্ডার দিয়েছেন। এটাই আমার প্রথম বিদেশে অর্ডার। এর আগে আমাদের এলাকায় নৌকা তৈরির বিদেশ থেকে অর্ডার কেউ পায়নি। প্রতিটি নৌকা তৈরিতে দশ হাজার টাকা চুক্তি হয়েছে।

জার্মান নাগরিক অগ্রিম টাকাও দিয়ে গেছেন। মেহগনি গাছ দিয়ে তার দেখানো ডিজাইন অনুসারে নৌকা তৈরি করা হচ্ছে। জার্মান নাগরিক যা বুঝিয়েছেন এই
নৌকা নিয়ে সেখানকার মার্কেটে দেখাবেন।

বাজারে চললে আরও নৌকা তৈরি কওে নেবেন।
তবে নৌকাগুলো জার্মানির কোনো নদী বা খালে চলবে না। এসব দিয়ে বসার জন্য সৌখিন আসন বানানো হবে। আজিজুল হক আরও বলেন, প্রথম দফায় ১০টি নৌকা যাবে জার্মানিতে। এরপর আরও ২০টি নৌকা বানাতে হবে ভিন্ন ডিজাইনে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জার্মান নাগরিকের পক্ষে নৌকা তৈরির কাজ তদারকি করা ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেল, এখন কাজ প্রাথমিক পর্যায়ে। এ জন্য আমরা বিস্তারিত জানাতে চাচ্ছিনা। তবে সবগুলো নৌকা পুরোপুরি তৈরির পর বিস্তারিত জানানো হবে।

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন কারণে নেছারাবাদ উপজেলা সারাদেশেই সমাদৃত। বিশেষ করে আটঘরের নৌকার হাট খুব বিখ্যাত। সেখান থেকে জার্মানিতে নৌকা যাচ্ছে সংবাদটি অত্যন্ত আনন্দের। এতে করে বাংলাদেশের পন্যের বিশ্ববাজার যেমন তৈরি হবে, তেমনি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দুয়ার খুলবে।

ইউএনও আরও বলেন, আমি ওই কারিগরের সাথে কথা বলব। তার যেকোনো সহায়তার প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই, আমাদের ঐতিহ্যবাহী নৌকা যেন বিশ্বমানের হতে পারে।

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর নৌকার হাট দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় হাট। এই অঞ্চলের পেয়ারা, লেবু ও আমড়ার বাগান তদারকির জন্য ছোট ছোট নৌকার খুব চাহিদা। এছাড়া জালের মতো খাল থাকায় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এখনো নৌকা। প্রতি মৌসুমে এই হাটে প্রায় ৩০ কোটি টাকারও বেশি নৌকা বিক্রি হয়ে থাকে।




কারফিউ তুলে নেয়া হবে কবে, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বরিশাল অফিস :: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে কারফিউ তুলে নেয়া হবে। সে পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।

শুক্রবার রাতে নিজ বাসভবনে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারফিউ শিথিল করা যায় কিনা আমরা দেখছি। পুলিশ বিজিবি, সেনাবাহিনী কাজ করছে। জনজীবন স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করতে হবে। জনগণকে ধৈর্য্য ধরতে হবে। এ বিষয়ে শনিবার আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সৃষ্ট সহিংসতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, দেশের এত ক্ষয়ক্ষতির দায় কে নেবে?

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়কদের হেফাজতে নেয়া প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়কদের নিরাপত্তার জন্যই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের ডেকে নেয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সারাদেশে সৃষ্ট সহিংসতার জেরে জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য গত ১৯ জুলাই রাত থেকে কারফিউ জারি করে সরকার। এ সময় রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার ৩ দিন নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।