কলাপাড়ায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘূনিভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় গত ৪ দিন ধরে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে বিভিন্ন নিচু স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে রোববার (২৮ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় ২৯.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

এদিকে, সুষ্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পায়রাসহ সব সমুদ্র বন্দর সমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। সকল মাছ ধরার ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

কলাপাড়ার টিয়াখালীর পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামের হাসনাইন বলেন, চার দিন ধরে বৃষ্টি এখন ঘরের মধ্যেও পানি ঢুকেছে। আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই।

একই এলাকার শিহাব হোসেন জানান, বৃষ্টির পানি পুকুরে তলিয়ে সব মাছ ভেসে গেছে। উঠোনে হাটু সমান পানি। দুর্ভোগে আছি।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা উপকূলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।




দেশের নামিদামি ব্র্যান্ডের পাশাপাশি বরিশালের পণ্য যাচ্ছে বিদেশে

বরিশাল অফিস :: লেখাপড়া করলেও চাকরি নিয়ে জীবনধারণ কখনোই ছিলোনা এমএ রশিদ আরিফের। চিন্তা ছিল নতুন কোনো আইডিয়া নিয়ে কাজ করবেন। যে চিন্তা সেই কাজ। ২০০৪ সালে নারিকেলের আইচা দিয়ে হাতেই শো-পিস বানানো শুরু করেন। নিজের বানানো শো-পিসের বাজার সৃষ্টি করতে দোকানে দোকানে ঘুরে বেড়ান। কিন্তু নিজেই সন্তুষ্ট হতে পারছিলেন না উৎপাদনের গতি নিয়ে। চিন্তা করলেন বিকল্প পণ্য উৎপাদনের। কিন্তু তখনও রশিদ আরিফের শুন্যহাত। তাই ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করেন কাঠের কারুপণ্য তৈরি। আর তাতেই ভাগ্য সু-প্রসন্ন হলো সফল উদ্যোক্তা রশিদ আরিফের।

ঋণ করে শুরু করা সেই ব্যবসা থেকে এখন দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় কাঠের কারুপণ্যের কারখানার মালিক এমএ রশিদ আরিফ। তার দুইটি কারখানায় এখন তৈরি হচ্ছে লাখ লাখ পণ্য। বছরে দেড় কোটি টাকারও বেশি পণ্য তৈরির অর্ডার আসে দেশের নামিদামি ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠান থেকে। রশিদ আরিফের এক প্রতিষ্ঠান হাসিনা কুটির শিল্প। বরিশাল বিসিক শিল্প নগরীতে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান। প্রতিদিন ভোর হতেই সেখানে কাঠ প্রক্রিয়াজাত করে মেশিনে তুলে দেওয়ার ব্যস্ততা শুরু হয়। সেখানে ৩০ জন শ্রমিক কাজ করেন।

কারখানার ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন মাহি বলেন, আমাদের পণ্যগুলো সাধারণত মেহগনি কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়। ভালো গাছ কিনে তা স্ব-মিল দিয়ে পাতলা কাঠ করে কারখানায় নিয়ে এসে শুকিয়ে তোলা হয় নকশার মেশিনে। নকশা হয়ে গেলে পাঠানো হয় বার্নিশে। এরপর সেগুলো আবারও পরীক্ষা করে প্যাকেটজাতের পর ক্রেতার হাতে হস্তান্তর করা হয়। প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কারখানায় কাজ চলে।

শুধু দেশেই নয়; দেশের বাহিরেও যাচ্ছে হাসিনা কুটির শিল্পের পণ্য। কারখানার আরেক কর্মী আহসান হাবিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের পণ্য নিয়ে বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া দেশের নামিদামি ব্র্যান্ড যেমন আড়ং চুক্তিবদ্ধভাবে পণ্য নিচ্ছে। বাৎসরিক হিসেবে পণ্যের অর্ডারের তারতম্য হলেও গড়ে প্রতি বছর লাখের অধিক পণ্য উৎপাদন হয়। এখানে গ্লাসের ঢাকনা, দেয়ালচিত্র, টিস্যুবক্স, শিশুদের পাজেল, ফুলদানি, ভিজিটিং কার্ডদানিসহ সৌখিন মানুষের ঘর ও অফিসের সৌন্দর্যের সবকিছুই তৈরি হয়।

এমএ রশিদ আরিফ বলেন, আমি কখনো ভাবিনি কারখানার মালিক হতে পারব। যদিও আমার আব্বা কুটির শিল্পের সাথে বহু আগে থেকেই জড়িত। তার কাজ দেখে আমি নিজেও অনুপ্রেরণা পাই। এরপর যখন নারিকেলের আইচা দিয়ে কারুপণ্য তৈরি শুরু করি তখন হাত শুন্য ছিল। সেটি জনপ্রিয় হওয়ার পরে ব্যবসার ধরণ বদলে একজন শ্রমিক নিয়ে কাঠের কাজ শুরু করি। তিনি আরও বলেন, প্রথমে আমার বাসায় এবং পরবর্তীতে চাঁনমারি এলাকার একটি কক্ষে কাজ করতাম। পর্যায়ক্রমে মানুষের মধ্যে কাঠের পণ্যের চাহিদা বাড়ায় বিসিকে কারখানা শুরু করি। এখন চাঁনমারি ও বিসিকে দুইটি কারখানা চালু রয়েছে। যেখানে প্রতিমাসে প্রায় ১২ লাখ টাকার পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে।

নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে সফল এ ব্যবসায়ী বলেন, ব্যবসার অনেক সুযোগ রয়েছে। তবে উদ্যোক্তাকে অবশ্যই নতুন নতুন আইডিয়া জেনারেট করে ব্যবসায় নামতে হবে। বিদেশি মানহীন পণ্য কারুপণ্যের সবচেয়ে বড় বাঁধা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিদেশি মানহীন পণ্য এখন বাজার দখল করে নিয়েছে। তারপরেও আমরা ভালোমানের পণ্য দিয়ে ব্যবসায় টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। সরকার যদি বাজার ব্যবস্থার প্রতি নজর দিতো তাহলে দেশীয় উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলো আরো প্রসারিত হতো।

বিসিক বরিশাল জেলা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম বলেন, কুটির শিল্প নিয়ে বেশ ভালো কাজ করছে হাসিনা কুটির শিল্প। প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন করে ইতোমধ্যে নিজের পণ্যের বাজার সৃষ্টি করেছে। আমরাও চাই এভাবে সবগুলো প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যাবে।




মানুষ কি দোষ করলো এভাবে খুন করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বরিশাল অফিস :: লক্ষ্য একটাই, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেই চেষ্টায় করে যাচ্ছিলাম । কিন্তু বারবার এই ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা। এটা তো কাম্য নয়। মানুষ কি দোষ করলো যে এভাবে খুন করতে হবে। মানুষ খুন করে সরকার পতন।

রোববার (২৮ জুলাই) গণভবনে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহত ৩৪ জনের পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নিহত পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে সরকার প্রধান বলেন, আমি তো বুঝি আপনাদের বেদনা। আমার তো প্রতিনিয়ত বাপ, মা, ভাই, ভাইয়ের বউদের হারোনার বেদনা নিয়ে চলতে হচ্ছে। এমনকি আমি তাদের লাশটাও দেখতে পারেনি। কাফন-দাফনটাও তো করতে পারেনি। ৬ বছর দেশেও ফিরতে পারেনি। ফিরতে দেওয়া হয়নি। তারপর দেশে আসছি, সারা বাংলাদেশ ঘুরছি। চেয়েছি এ দেশের মানুষের জন্য। কারণ আমার বাবা বলতেন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাও। সেই চেষ্টায় করে যাচ্ছিলাম। কিন্তু বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটাবে, সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটাবে। এটা তো কাম্য নয়। মানুষ কি দোষ করলো যে এভাবে মানুষ খুন করতে হবে। মানুষ খুন করে সরকার পতন। এটা কবে হয়, কখন হয়। সাধারণ মানুষ কি দোষ করেছে। আমি আসলে আপনাদের কি বলে সান্ত্বনা দেব। আমি শুধু এটুকু বলবো, আমি আপনাদের মতোনই একজন। বাবা-মা, ভাই হারানো এতিম। কাজেই আপনাদের কষ্ট আমি বুঝি। আমি আপনাদের পাশে আছি।

তিনি আরও বলেন, এই খুনের সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের খুঁজে, খুঁজে বের করে তারা যেন শাস্তি পায় সেটাই আমার প্রচেষ্টা থাকবে। আমি আপনাদেরও সাহায্য চাই। যদি আপনারা কিছু জানানে তাহলে আমাদের জানাবেন। কারণ এভাবে বাংলাদেশকে নিয়ে বারবার খেলা এটা আর হতে দেওয়া যায় না। কাজেই আমি আপনাদের সাহায্য চাই।

শেখ হাসিনা বলেন, আপনার আপনজন হারিয়েছেন। একটা শোক সইতে পারেন না। আর আমি কি শোক নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। শুধু কেনো এ দেশের মানুষের জন্য। কিন্তু আজকে এভাবে বাধা দেওয়া । যা কিছু করি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দেওয়া। এটা তো কোনদিন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সাধারণ মানুষই তো সুবিধা পেতো। মেট্রোরেল কারা চলতো, এক্সওয়েতে কারা চলে। মানুষের কাজ করাইতো আমার কাজ।

তিনি বলেন, মানুষ মেরে লাশ ঝুলিয়ে রাখার মতো এই বর্বরতা, জানোয়ারের মতো ব্যবহার এটা কি কেউ করতে পারে। একজন মুসলমান একজন মুসলমানের পা বেধে এভাবে ঝুলিয়ে রাখবে। যারা এগুলোর সঙ্গে জড়িত তাদের বিচার অবশ্যই করা হবে। তাদের বিচার করতে হবে, না হলে মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া যাবে না।

নিহতদের স্বজনদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা আরও বলেন, আপনাদের কাছে শুধু এইটুকু বলবো, আপনারা সবুর করেন। আর আল্লাহকে ডাকেন যেন এই সমস্ত খুনি-জালেমের হাত থেকে আমাদের দেশটা রেহাই পায়। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি, পাশে আছি। আমারও আপনাদের চোখের পানি দেখতে হচ্ছে। এটিই সবচেয়ে কষ্টের। স্বজন হারানোর ব্যথা ভোলার না, সেটা আমি জানি। তবুও আল্লাহ আপনাদের সবুর দিন সেটা আমি চাই।




শাফিনের মরদেহ দেশে কবে আসবে জানালেন ভাই হামিন

বরিশাল অফিস :: যুক্তরাষ্ট্রে একটি কনসার্টে অংশ নিতে গিয়ে গেল বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) ভোরে প্রয়াত হয়েছেন জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘মাইলস’র প্রধান ভোকাল ও বেজ গিটারিস্ট শাফিন আহমেদ। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শাফিন আহমেদের প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর ভার্জিনিয়ার মেনাসাসে দ্বার আল নূর ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে শাফিন আহমেদের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

বর্তমানে শাফিনের মরদেহ দেশে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়।

মরদেহ দেশে আনতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথাও ছিল বড় ভাই হামিন আহমেদের; কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর যাওয়া হয়নি। গণমাধ্যমকে তিনি জানান, ২৯ জুলাই বিকেলে শাফিনের মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছাবে।

হামিন আহমেদ আরও জানান, ৩০ জুলাই দুপুরে গুলশানের আজাদ মসজিদে শাফিন আহমেদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বনানী কবরস্থানে বাবার কবরে সমাহিত করা হবে শাফিনকে।

পাশে তার মা সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগমের কবর রয়েছে।

জানা গেছে, শাফিন আহমেদের অসুস্থ হওয়ার পরই তার স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। মৃত্যুর খবর শোনার পর বড় ভাই হামিন আহমেদেরও দেশটিতে যাওয়ার কথা ছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারিবারিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা স্বজন ও বন্ধুদের সিদ্ধান্তে তার যাওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ৯ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান শাফিন আহমেদ। ২০ জুলাই কনসার্টে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার, কিন্তু এর আগেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এই শিল্পী। ভার্জিনিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শিল্পী।




মেট্রোরেলে নাশকতা: বিএনপি নেতা স্বপন-অসীম রিমান্ডে

বরিশাল অফিস :: মেট্রোরেলে নাশকতা মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও দলটির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ে সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীমসহ তিন জনের বিভিন্ন মেয়াদের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

অপর আসামি হলেন, কেন্দ্রীয় জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য এবং সাবেক গাজীপুর জেলার জামায়াতের সেক্রেটারি ড. মো. সামিউল হক ফারুকী।

শনিবার (২৭ জুলাই) মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক শিকদার মহিতুল আলম আসামিদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।

শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমানের আদালত জহির উদ্দিন স্বপন ও ডঃ মো. সামিউল হক ফারুকীর পাঁচ দিন এবং ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীমের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামিদের পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ জয়নাল আবেদীন মেজবাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ২২ জুলাই সেতু ভবনে হামলার মামলায় স্বপন, অসিম ও ফারুকীর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। ওই রিমান্ড শেষে শনিবার মেট্রোরেলে নাশকতা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা বিএনপি জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতা। আসামিরা গত ১৯ জুলাই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র যেমন-রামদা, যা কুড়াল, শাবল, কাটার, হাতুড়ি, অগ্নিসংযোগের সরঞ্জামাদি নিয়ে মিরপুর মডেল থানা এলাকায় কাজীপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের প্রবেশ-বহির্গমন গেইট ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ক্ষতিসাধন ও সরঞ্জামাদি আগুন দিয়ে পঞ্চাশ কোটি টাকার ক্ষতি করে।

তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রত্যেক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের জবানবন্দি ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসামিদের জড়িত থাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য রিমান্ডে নেওয়া দরকার মর্মে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।




গাজার স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩০

বরিশাল অফিস :: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজারি একটি স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা এই স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

শনিবার (২৭ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্য ও দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের কাছে একটি স্কুলে ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। ওই স্কুলে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবার জানিয়েছে, দেইর আল-বালাহ শহরের খাদিজা স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ওই স্কুলে হামলায় নিহতদের মধ্যে ১৫ জন শিশু ও আটজন নারী রয়েছেন এবং আরও ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) টেলিগ্রামে বলেছে, খাদিজা স্কুলের ভেতরে হামাসের একটি কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ছিল। তাদের দাবি, হামাস হামলার নির্দেশনা ও পরিকল্পনা এবং অস্ত্র মজুদ করার জন্য গোপন স্থান হিসাবে ওই কম্পাউন্ড ব্যবহার করেছিল।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ফুটেজে দেখা গেছে নিহতরা বেসামরিক নাগরিক এবং তাদের বেশিরভাগই শিশু। বিবিসি একটি ভিডিও যাচাই করেছে, যাতে আহতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে বলে দেখা গেছে।

মোস্তফা রাফাতি নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে বলেন, বিস্ফোরণে তার শরীর কেঁপে ওঠে এবং তিনি পড়ে যান। ভয় পেয়ে তিনি স্কুলের ভেতরে দৌড়ে গিয়ে যান এবং সেখানে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পড়ে থাকার মতো ‘ভয়ঙ্কর দৃশ্য’ দেখতে পান। তিনি বলেন, ‘আমি বিস্মিত হয়ে গেছি।’

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার সকাল থেকে দেইর আল-বালাহ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে ইসরায়েলি সামরিক বহিনীর বোমা হামলায় ৫৩ জন নিহত ও আরও ১৮৯ জন আহত হয়েছেন।




ভোলায় পরিত্যক্ত ভাঙা কাঁচ থেকে তৈরি হচ্ছে বাহারি চুড়ি

বরিশাল অফিস :: ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা পরিত্যক্ত ভাঙা কাঁচের টুকরো দিয়ে কাঁচের চুড়ি তৈরি করা হচ্ছে। ফেলে দেওয়া বিভিন্ন বোতল ভাঙা, নানান ধরনের ফেলে দেওয়া ভাঙা কাঁচের টুকরো দিয়ে হচ্ছে বাহারি ধরনের চুড়ি। উপজেলার টবগী ইউনিয়নের নতুন হাকিমুদ্দিন বাজার এলাকায় উদ্যোক্তা আফজাল হোসেন ও বাদল মিয়া গড়ে তুলেছেন কাঁচের চুড়ির এ কারখানা। বর্তমানে এখানে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ জন কর্মচারী কাজ করছেন। তবে ঈদের মৌসুমে তাদের কাজের চাপ বেশি থাকে। তখন এর দ্বিগুণ কর্মচারী কাজ করে।

চুড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামাল হিসেবে অব্যবহৃত কাঁচ ঢাকা ও স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া ভোলার কয়েকটি স্থান থেকেও এ চুড়ি তৈরিতে ভাঙা কাঁচ সংগ্রহ করা হয়।

কারখানায় গ্যাস ব্যবহার করে বিশাল একটি চুল্লীতে আগুন জ্বালিয়ে এসব কাঁচ গলানো হয়। পরে মেশিনের সহায়তায় তৈরি করা হয় লাল, নীল, হলুদ, সবুজসহ হরেক রঙয়ের কাঁচের চুড়ি। এরপর ঢাকায় নিয়ে তাদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে চুড়িগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়। এরপর তা বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজারে বাজারজাত করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. আওলাদ হোসেন জানান, ঈদের সময় দুই শিফটে কাজ হলেও বর্তমানে এক শিফটে কাজ চলছে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কাজ হয় এখানে। এছাড়া দৈনিক ২৫০ থেকে ৩০০ ব্রুজ চুড়ি তৈরি করা হয়। প্রতি ব্রুজ চুড়ির দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। এখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের।

তিনি আরও জানান, চুরি তৈরির কারিগরদের অন্য জেলা থেকে নিয়োগ দিলেও প্রায় অধিকাংশ শ্রমিক স্থানীয়ভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রত্যেক শ্রমিককে দৈনিক ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি দেওয়া হয়।

চুড়ি তৈরিতে কাজ করা নারী শ্রমিক স্থানীয় বাসিন্দা রাবেয়া বেগম ও নাসরিন আক্তার জানান, তারা প্রতি ব্রুজ চুড়ি থেকে ১০ টাকা করে পান। সেই হিসেবে দৈনিক প্রায় ৪০ ব্রুজ থেকে ৪০০ টাকা করে ইনকাম হয় তাদের।

অপর নারী শ্রমিক শাহানুর বেগম জানান, তিনি মাসিক ৮ হাজার টাকা বেতন পান। এতে করে তার পরিবারে বাড়তি আয়ে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে।

জেলা বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক এস এম সোহাগ হোসেন বলেন, “ফেলে দেওয়া ভাঙা কাঁচ দিয়ে কাঁচের চুড়ি তৈরি একটি ভালো উদ্যোগ। এতে করে উদ্যোক্তারা একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছেন, অন্যদিকে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করছে। সরকারিভাবে এসব উদ্যোক্তাদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় আবু সাঈদের পরিবার

বরিশাল অফিস :: কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় এসেছেন।

বর্তমানে তারা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।

শুক্রবার (২৭ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে ঢাকায় রওনা দেয় আবু সাঈদের পরিবার। বর্তমানে তার পরিবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে অবস্থান করছেন। শুধু আবু সাঈদের পরিবার নয়, কোটা আন্দোলনে নিহত সকলের পরিবার রোববার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা যায়।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই কোটা আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম ব্যাচের ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জে।




বরিশালে ১৬ ঘণ্টা কারফিউ শিথিল থাকবে

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলা ও নগরে রোববার (২৮ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুলাই) রাতে বরিশাল মেট্রোপ‌লিটন পু‌লিশের ক‌মিশনার জিহাদুল ক‌বির ও জেলা প্রশাসক শ‌হিদুল ইসলাম ১৬ ঘণ্টা কারফিউ শিথিল থাকবে বলে জানান।

তারা আরও জানান, রাত ১০টার পর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ বহাল থাকবে।

কারফিউ শিথিল থাকা পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলা ও জন‌নিরাপত্তার স্বার্থে সব প্রকার গণজমায়েত, মি‌ছিল ও জনসমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ দিকে শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের দাবি সরকার পূরণ করেছে। তাই দেশের সার্বিক বাস্তবতায় ‘আপাতত’ আর কোনো আন্দোলন কর্মসূচি নেই জানিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন আন্দোলনের সমন্বয়ক সুজয় শুভ।

এ সময় কোটা সংস্কারের নামে যারা সন্ত্রাস, সহিংসতা করেছে তাদের প্রতি ঘৃণা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের হাতিয়ার হতে চায় না আন্দোলনকারী ছাত্র নেতারা। সেই সঙ্গে, দেশব্যাপী সন্ত্রাস সহিংসতায় কোনো শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও দাবি করেন শুভ।

সহিংসতায় নিহত, আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে।




পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হোস্টেলের কাজ বন্ধ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ছাত্রলীগের বাধায় বন্ধ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা হোস্টেলের আসবাব ফিটিং ও সেটিংয়ের কাজ।

হোস্টেলগুলোতে আসবাব স্থাপনে ঢাকা থেকে দুই দফা টেকনিশিয়ান পাঠানো হয়। কিন্তু ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের হুমকি দিয়ে কাজে বাধা দেয়। এ ছাড়া তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। ফলে এসব কাজ বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

গত ৯ জুলাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লিখিত অভিযোগ করেন গণপূর্ত ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, স্থানীয় কলেজ ছাত্রলীগ কর্মীরা বাধা দিয়ে সরকারি কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না।

এতে আরও বলা হয়, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্পের অধীনে হোস্টেলে আসবাবপত্র সরবরাহ ও স্থাপন করার কথা। এসব কাজ সম্পন্ন করতে গত ১২ মে ঢাকা থেকে আসবাবপত্র ফিটিংয়ে টেকনিশিয়ান আসেন। এ সময় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের কাজ করতে বাধা দেন। ফলে কাজ বন্ধ রেখে টেকনিশিয়ানরা ঢাকা ফিরে যান। কাজের স্বাভাবিক গতি ফেরাতে ২৩ মে কলেজ অধ্যক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক এবং ছাত্রলীগের নেতাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়। এরপর অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে ঢাকা থেকে আবারও টেকনিশিয়ান পটুয়াখালীতে এলে গত ২২ জুন রাত সাড়ে ১১টায় মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ কর্মী পরিচয়ে ফোন করে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং কাজ না করতে হুমকি দেয়। এখানেই শেষ নয়। ঈদুল আজহার পরে আবার কাজ শুরু করতে গেলে মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে কর্মীরা টেকনিশিয়ানদের আবাসিক হোটেলে গিয়ে মারধর করে, মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং কলেজে না ঢুকতে হুমকি দেয়। এতে তারা ভীত হয়ে পড়েন। তারা হোটেলে থাকতেও রাজি হয়নি।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষক জানান, কলেজ ছাত্রলীগ অনেকদিন ধরেই বেপরোয়া। তারা কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত। কলেজ প্রশাসন থেকে শুরু করে কেউই তাদের কিছু বলতে বা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহস করে না।

তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পটুয়াখালী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইফাদুল ইসলাম। তিনি মন্তব্য প্রদানে অনীহা প্রকাশ করে ছাত্রলীগের প্যাডে লিখিত বিবৃতি পাঠান। এতে উল্লেখ করা হয়, আসবাবগুলো নিম্নমানের হওয়ায় তারা টেকনিশিয়ানদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কোনো ধরনের হুমকি বা অসদাচরণ করা হয়নি। তাদের নাম ব্যবহার করে কেউ তাদের হুমকি বা এ ধরনের কিছু করে থাকলে তার দায়ভার ছাত্রলীগ নেবে না।

জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মনিরুজ্জামান শাহীন বলেন, ছাত্রলীগের ছেলেরা ভীষণ দুষ্টু। তারা হোস্টেলের কাজ বন্ধ করেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেডিসিন, গাইনিসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান এবং হোস্টেল সুপারের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি অভিযুক্তদের হাজির হতে নির্দেশ দিলে অসুস্থতার অজুহাতে তারা উপস্থিত হয়নি। কিন্তু সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছে। তবে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।