পটুয়াখালীতে মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা ও সমৃদ্ধি অর্জনে মতবিনিময় সভা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘ভরবো মাছে মোদের দেশ’, ‘গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ’ শ্লোগান নিয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে পটুয়াখালীতে মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা ও সমৃদ্ধি অর্জনে মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০জুলাই) বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা আয়োজিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের। মতবিনিময় সভায় গনমাধ্যমকর্মী ও সুবিধাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় মৎস্য সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষন, আবাসস্থলের সুরক্ষা, নাব্যতা বৃদ্ধি, সময়মত ভিজিএফ প্রদান সহ ভিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়।




কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলে মিলল পর্যটকের ঝুলন্ত মরদেহ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেল ফ্রেন্ডস পার্ক ইনের কক্ষ থেকে জাহিদ হাসান জিহাদ (২০) নামের এক পর্যটকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুলাই) শেষ বিকেলে ফ্রেন্ডস পার্ক ইন নামক হোটেলটির তৃতীয় তলায় সি-৫ নামক রুমের দরজা ভেঙ্গে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও মহিপুর থানা পুলিশ ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এসময় তার কক্ষ থেকে ইয়াবা খাওয়ার সরঞ্জাম, সিগারেটের প্যাকেট ও খাবার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়। ফরিদপুর জেলার চন্দ্রপাড়া থানার সদরপুরের জাহিদ হাসান জাফরের ছেলে জিহাদ। পোস্ট মর্টেমের জন্য জিহাদের লাশ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৮ জুলাই) দুপুর দুইটায় জিহাদ ওই হোটেলে এসে রুম ভাড়া নেয়। রাতে খাবার নিয়ে রুমে প্রবেশ করে। সোমবার দুপুরে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। পরে বিকেলে পুলিশ এসে জিহাদের লাশ উদ্ধার করে।

মহিপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার হোসেন তালুকদার জানান, প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পোস্ট মর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে। জিহাদের পরিবারকে খবর দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি ইউডি মামলার প্রস্তুতি চলছে।




পটুয়াখালীতে দু’শতাধিক নিম্ন আয়ের পরিবারকে খাদ্য সহায়তা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের আন্দোলন এবং পরবর্তী বিশৃঙ্খল পরিবেশ বিপাকে পরা শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুলাই) সকালে দি-পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে প্রায় দুই শতাধিক অসহায় দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্য সামগ্রিক বিতরণ করেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ।

এসময় দি পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি), দেলোয়ার হোসেন আকন, মোঃ ফারুক মৃধা, মোঃ জামাল হোসেনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় চেম্বার অব কমার্স সভাপতি আবুল কালাম আজাদ তার বক্তব্যে বলেন, দেশের কারফিউর চলাকালীন সময়ে সল্প আয়ের মানুষের আয়ের পথ বন্ধ হওয়ার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আজ আমরা দুই শতাধিক অসহায় দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্য সামগ্রিক বিতরণ করেছি এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই খাদ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে।




আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের সম্মান ধূলিসাৎ করে দিল: প্রধানমন্ত্রী

বরিশাল অফিস :: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি দিনরাত পরিশ্রম করে যে বাংলাদেশটাকে সম্মানের স্থানে নিয়ে এসেছিলাম, সেটাকে ধূলিসাৎ করে দিল। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে দুঃখের।

সোমবার (২৯ জুলাই) গণভবনে ছাত্রলীগের নারী নেতাদের সঙ্গে হওয়া মতবিনিময় সভায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে হওয়া সহিংসতা নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের আন্দোলন করে এবং আমাকে খাটো করতে যেয়ে বাংলাদেশটাকে কোথায় টেনে নামাল সেটা একবার চিন্তা করে না। এদের মধ্যে যদি এতটুকু দেশপ্রেম থাকত, দায়িত্ববোধ থাকত তাহলে এটা করত না।

আন্দোলনকারীদের কারা অর্থ দিয়েছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘এরা এত টাকা কোথা থেকে পায়? কোথা থেকে পেল? প্রতিদিনে তাদের আন্দোলনের খরচ, কে দিয়েছে সে টাকা?

আন্দোলনের ফসল হচ্ছে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে দেওয়া মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের যে মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করি সেগুলো নষ্ট করে দেওয়া। সেটাই করা হল। এ আন্দোলনের ঘাড়ে চেপে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা সুযোগ পেয়ে গেল। তাহলে আমার প্রশ্ন হচ্ছে অপরাধটা কি করলাম? মানুষের জীবনমান উন্নত করা? মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা করা? চিকিৎসার ব্যবস্থা করা? বিনা পয়সায় চিকিৎসা দিচ্ছি।

তিনি বলেন, আমার বাবা-মা সবাইকে হত্যা করেছে। তারপরেও সেই কষ্ট বুকে নিয়ে এসে শুধুমাত্র এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন, মানুষ একটু ভালো থাকবে। মানুষ উন্নত জীবন পাবে। মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয়ী জাতি হিসাবে আন্তর্জাতিকভাবে আমরা যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি, সম্মানের সঙ্গে চলতে পারি। সেই সম্মানটাতো আমি এনে দিয়েছি বাংলাদেশকে। এটাতো কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। আজকে যেখানে যাবে বাংলাদেশ শুনলে সমীহ করে এবং মর্যাদার চোখে দেখে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সৃষ্টি বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের ডিজিটাল সিস্টেম আমারই করে দেওয়া। হাতে হাতে মোবাইল ফোনতো আওয়ামী লীগ সরকারই করে দিয়েছে।

যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানুষ ব্যবহার করে সুবিধা ভোগ করে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কাজগুলো সেগুলো একে একে তারা ধ্বংস করে ‍দিল। কার স্বার্থে তারা এটা করেছে সেটাই প্রশ্ন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেশন জটের কথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘১৯৭৫ সালের পরবর্তী ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত, এমনকি আমরা সরকারে আসার পর পর্যন্ত প্রতিদিন বোমা, গুলি, মারপিট, লাশ, সেশনজট এই অবস্থা ছিল। ১৯৯৬ সালের পরে আমরা শিক্ষা কার্যক্রমে যে রিফর্ম নিয়ে আসি তাতে আমাদের ডিগ্রিগুলো আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে ‘

সাম্প্রতিক হওয়া আন্দোলন রাজনৈতিক ইস্যুতে হয়নি বলে ১৪ দলের সঙ্গে হওয়া বৈঠকে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। সহিংসতা ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ জঙ্গিবাদী কাজ। একেবারে জঙ্গিবাদী কাজ। আর্থসামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি। কোটা কোন ইস্যু না। বাংলাদেশের যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষকে সেবা দেয়, মানুষের জীবনমান উন্নতি করে সেটাই ধ্বংস করা। অর্থাৎ বাংলাদেশটাকে যেন ধ্বংস করে ফেলা।

তিনি বলেন, ‘এখানে শিবির-ছাত্রদল, বিএনপি-জামায়াত. . জঙ্গি এরা। জঙ্গিরা আমাদের উপর নতুন করে থাবা দিয়েছে।

 




বরিশালে পরিবারের ওপর অভিমান করে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়ায় সীমা মণ্ডল (২৩) নামে এক কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে ।

সোমবার (২৯ জুলাই) উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের মাগুরা (বাহাদুরপুর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন,বরিশাল আগৈলঝাড়া থানার এসআই মোশরাফ হোসেন ।

থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহিরুল ইসলাম জানান, উপজেলার মাগুরা (বাহাদুরপুর) গ্রামের মাধব মণ্ডলের মেয়ে সীমা মণ্ডল ডাসার শেখ হাসিনা উইমেন্স কলেজে অনার্সের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পরিবার থেকে কর্নপাড়া গ্রামে সীমার বিয়ে ঠিক করা হয়।

এতে সীমা মণ্ডল পরিবারের ওপর অভিমান করে রোববার রাতে ঘরের পাশে কাঁঠাল গাছের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করেছে।




পটুয়াখালীতে মুরগীর পচা মাংস সংরক্ষণ – হোটেল মালিককে জরিমানা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বস্তাভর্তি পচা মুরগীর মাংস সংরক্ষণের দায়ে মিজানুর রহমান (৪৫) নামে এক খাবার হোটেল ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে এ দণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহম্মেদ।

কলাপাড়া উপজেলা সেনিটারী ইন্সপেক্টর মৃনাল চন্দ্র দেবনাথ জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে পৌর শহরের হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকার ওই হোটেল ব্যবসায়ী পচা মুরগির মাংস রান্না করে বিক্রি করে আসছিলো। সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওই দোকানে অভিযান চালিয়ে এক বস্তা দুর্গন্ধযুক্ত পচা মুরগির মাংস উদ্ধার করে। এসব মুরগি রান্না করে বিক্রি করতে চেয়েছিলেন ওই হোটেল ব্যবসায়ী। পরে এসব মুরগি মাটিচাপা দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহম্মেদ বলেন, এর আগেও হোটেল ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে পচা-বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগ ছিলো। আজ বস্তাভর্তি পচা মুরগিসহ তাকে হাতে-নাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারাই হোটেল ব্যবসায় এ ধরণের কাজে যুক্ত থাকবেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।




বরিশালে ভিডিও কনফারেন্সে জেএমবি সদস্যের আদালতে হাজিরা

বরিশাল অফিস :: বরিশালে প্রথমবারের মতো ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেএমবি সদস্যের হাজিরা গ্রহণ করা হয়েছে। রোববার (২৮ জুলাই) বরিশালের সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ভার্চুয়াল আদালতের বিচারক মোস্তফা পাভেল হায়দার এ হাজিরা গ্ৰহণ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ভার্চুয়াল আদালতের বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দেওয়া ওই জেএমবি সদস্য হলেন, আতিকুর রহমান বাবু ওরফে শাওন ওরফে সাইফুল্লাহ। তিনি বরগুনা সদর উপজেলার রায়ভোগ মোড়খালী এলাকার মৃত গোলাম কবির মাতব্বরের ছেলে।

বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে কারান্তরীণ জেএমবি সদস্য বাবুকে আদালতে আনা হয়নি। কারাগার থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

তিনি আরও জানান, র‌্যাবের করা পৃথক দুইটি মামলার চার্জশিটভুক্ত মামলার আসামি জেএমবি সদস্য বাবু। দুইটি মামলায় রোববার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। ধার্য দিনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তার হাজিরা নিয়েছেন আদালত।

মামলার বরাতে বেঞ্চ সহকারী জানান, ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট নগরীর দরগাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব-৮ এর একটি দল। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ১০-১২ জনের একটি দল পালিয়ে যায়। এ সময় বিদেশি পিস্তল, গুলি, ব্যাটারি, সার্কিট, জিহাদী বইসহ জেএমবির এক সদস্যকে আটক করা হয়। এ ঘটনার পরদিন ১ সেপ্টেম্বর র‌্যাবের ডিএডি লুৎফর রহমান বাদী হয়ে নামধারী ৬ জনসহ অজ্ঞাত আরও ৬ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আতিকুর রহমান বাবু।

মামলার এক মাস পর ২৯ সেপ্টেম্বর নগরীর জিয়া সড়ক নয়াকান্দা এলাকায় র‌্যাব-৮ এর আরেকটি দল অভিযান চালায়। ওই দলটি বিদেশি পিস্তল, জিহাদি বই, দুইটি পাসপোর্টসহ জেএমবি সদস্য আতিকুর রহমান বাবুকে গ্রেফতার করে।

এ ঘটনায় পরদিন কোতোয়ালি মডেল থানায় র‌্যাবের ডিএডি মো. মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেন। দুইটি মামলা বর্তমানে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।




সাড়া ফেলেছে বরিশালের মোস্তফা কামালের ভাসমান টিলার

বরিশাল অফিস :: অল্প সময়ে ভালোভাবে জমি চাষের জন্য ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের বিকল্প নেই। কৃষিবান্ধব এই যন্ত্র দুটি মাটিতে চলাচল করতে সক্ষম। কিন্তু নদীপ্রধান বরিশাল বিভাগের অনেক জনপদ আছে যেখানে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার জমি চাষে অক্ষম। এমনকি আদিম পদ্ধতি গবাদিপশু দিয়েও চাষ করা সম্ভব হয় না। এবার সারা বছর জলমগ্ন এমন জমি আবাদের জন্য ভাসমান টিলার তৈরি করেছে মোস্তফা কামাল। ভাসমান টিলারকে স্থানীয়রা নাও (নৌকা) টিলার বলেও চেনেন।

বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারের ওয়ার্কশপ মিস্ত্রি গোলাম মোস্তফার তৈরি এই কৃষিযন্ত্র ইতোমধ্যে সুখ্যাতি ছড়িয়েছে বরিশালের বাইরেও। প্রতিবছরই ১০/১২টি নাওটিলার তৈরির অর্ডার পান তিনি।

গোলাম মোস্তফা বলেন, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, পিরোজপুর ও বরিশালের বিভিন্ন এলাকা থেকে আমার বানানো টিলার কিনে নেন। প্রথমদিকে লোহা দিয়ে তৈরি করতাম। তবে এখন ক্রেতা চাহিদা আর বাজারদর বিবেচনায় প্লাস্টিক দিয়েও তৈরি করছি। যে কৃষক দিনে পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে জমি আবাদ করতেন তিনি এখন এক থেকে দেড় হাজার টাকায় সমপরিমাণের জমি চাষ করতে পারছেন। ভাসমান টিলার ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করি।

তিনি আরও বলেন, আমি একসময় টিলার চালাতাম। কিন্তু নদী বিধৌত জনপদ হওয়ায় বালুমাটি, পানিতে তলানো জমি হওয়ায় অনেক জমিই চাষাবাদ করতে পারছিলাম না। আমাদের এদিকে এমন এলাকা আছে যেখানে মানুষ নামতেও পারে না আবার ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার দিয়েও চাষ করা যায় না। অথচ ওই জমিতে ধানের চমৎকার ফলন হয়। অনেককে দেখেছি বর্ষায় পানি থাকায় তাতে ট্রাক্টর বা গরু দিয়ে চাষ করতে না পারায় জমি পতিত ফেলে রেখেছেন। এ নিয়ে অনেকের অনেক আফসোস দেখেছি। আমি চিন্তা করলাম বিকল্প উপায় বের করার।

গোলাম মোস্তফা ২০১৬ সালে নিজের ওয়ার্কশপে পরীক্ষামূলক একটি টিলারের নকশা করেন। নৌকা আকৃতির টিলারটি পানিতে ভেসে থাকতে পারে যেন। এতে কোনো চাকা নেই। টিলারের ইঞ্জিন নৌকার ওপরে আর চাষের লাঙল নিচে। এতে করে পানিতে যখন চলবে তখন নৌকাটির সামনের দিক জেগে যাবে আর ইঞ্জিনসহ পেছনের দিকটা দেবে যাবে। এতে লাঙল মাটি চাষ করবে ভালোভাবে। নকশা অনুসারে তৈরি করে গোপনে নিজের জমিতে চাষ দিয়ে দেখেন উদ্ভাবিত টিলারে চাষ করা যায় কি না?

তিনি বলেন, দেখলাম চমৎকারভাবে ভাসমান টিলারটি জমি চাষ করছে। এর পর জনসম্মুখে নিয়ে আসি। মানুষও দেখে পছন্দ করেন। প্রথম বছর চারটি বিক্রি হয়েছিল। এরপর আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এখন প্রতিবছরই ১০/১২টি করে অর্ডার পাচ্ছি। আনুমানিক ৬০/৭০টি বিক্রি করেছি।

গোলাম মোস্তফার তৈরি ভাসমান টিলারের প্রথম ক্রেতা জাহিদ হোসেন বলেন, সন্ধ্যা নদীর ওপারে উজিরপুরের একটি গ্রামে জমি চাষ করছিলাম। মোস্তফার কাছ থেকে ভাসমান টিলার আনার পর সাত বছরে আমাদের বিলের জমি আর খিল (পতিত) থাকে না। ট্রাক্টরের চেয়ে এই টিলার জমির গভীরতাও তৈরি করে বেশি।

তিনি আরও বলেন, ভাসমান টিলারে চাকা না থাকায় এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পানিতে পানিতে নিয়ে যাওয়া যেমন সহজ তেমনি স্বল্প ব্যয় ও পরিশ্রমে বেশি জমি চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। শুধু আমরাই না এই টিলার নিয়ে অনেকেই তাদের জমি চাষ করছেন। এক বিঘা জমি চাষ করতে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা খরচ হত। ভাসমান টিলার কেনার পর এখন বিঘাপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা খরচ হয়। অর্থাৎ বিঘাপ্রতি আমার দুই আড়াই হাজার টাকা সাশ্রয় হয়।

আব্দুর রহিম নামের আরেক কৃষক বলেন, ঝোপ (বালুযুক্ত) মাটিতে গরু বা ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করা যায় না। নৌকা টিলার দিয়ে ভালোভাবে চাষ করা যায়। মোস্তফা এলাকার প্রয়োজন অনুসারে যন্ত্র বানিয়েছেন। যে এলাকায় যেমন যন্ত্র দরকার তা হলে কৃষকদের অনেক উপকার হয়। মোস্তফা কৃষকদের জন্য লোহার লাঙল, নৌকা তৈরি করেছেন। সম্প্রতি নদীতে চলাচল করতে পারে এমন একটি প্লেন তৈরি করেছে।

বিশারকান্দি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নান্না তালুকদার বলেন, মোস্তফা কামালকে আমরা মোস্তফা ফিটার নামেই চিনি। তার নিজের ওয়ার্কশপ আছে। মাঝেমধ্যে অনেক কিছুই তৈরি করে। কয়েক দিন আগে নদীতে চলাচল করতে পারে এমন প্লেন তৈরি করে আলোড়ন ফেলে দেয়। আমি এটি সমর্থন করি, যদি কারও উদ্ভাবনে সাধারণ মানুষের উপকার হয় তার চেয়ে ভালো কাজ আর হতে পারে না।

বানারীপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার অনয় সিংহ বলেন, ভাসমান টিলার তৈরির বিষয়টি আমাদের জানা নেই। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব, কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানব গোলাম মোস্তফার তৈরি যন্ত্র কৃষি সহায়ক কি না। যদি কৃষি সহায়ক কোনো যন্ত্র উদ্ভাবন করেন অবশ্যই আমাদের পক্ষ থেকে তাকে সহায়তা করা হবে।




ঝালকাঠিতে হতাশ পেয়ারাচাষিরা

বরিশাল অফিস :: কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন ঝালকাঠির পেয়ারাচাষিরা। এমনিতেই এবছর ফলন কম হয়েছে। তারপরও হতাশার পরিবর্তে ন্যায্য দামের আশায় বুক বেঁধেছিলেন তারা। কিন্তু সে আশায় যেন গুড়েবালি। পাইকার, ক্রেতা ও পর্যটক সংকটে হতাশা ব্যক্ত করেছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমবেশি সব জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পেয়ারা চাষ হলেও বরিশালের বানারীপাড়া, ঝালকাঠি সদর ও পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি ঘিরেই মূলত পেয়ারার বাণিজ্যিক চাষ। বরিশালের বানারীপাড়ার ১৬ গ্রামে ৯৩৭ হেক্টর, ঝালকাঠির ১৩ গ্রামে ৩৫০ হেক্টর এবং স্বরূপকাঠির ২৬ গ্রামে ৬৪৫ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়। এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষের কাছে ‘পেয়ারা’ জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।

ঝালকাঠির কীর্ত্তিপাশা, ভিমরুলী, শতদশকাঠি, খাজুরিয়া, ডুমুরিয়া, কাপুড়কাঠি, জগদীশপুর, মীরকাঠি, শাখাগাছি, হিমানন্দকাঠি, আদাকাঠি, রামপুর, শিমুলেশ্বর গ্রামে বৃহৎ অংশজুড়ে বাণিজ্যিকভাবে যুগ যুগ ধরে পেয়ারার চাষ হচ্ছে। তবে এবার গাছগুলোতে দেরিতে ফুল এসেছে। বৃষ্টি না হওয়ায় সেই ফুল অনেকটাই ঝরে পড়েছে। তার ওপর দেশের পরিস্থিতি পেয়ারাচাষি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

স্থানীয় চাষীরা জানান, আনুমানিক ২০০ বছরেরও বেশি সময় আগে বিচ্ছিন্নভাবে আবাদ হলেও ১৯৪০ সাল থেকে শুরু হয়েছে পেয়ারার বাণিজ্যিক আবাদ। এ আবাদ ক্রমশ বাড়ছে। চলতি বছরে অন্তত ১৯৩২ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারার আবাদ হয়েছে। পঙ্কজ বড়াল নামের একজন পেয়ারাচাষি বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর পর্যটক ও পাইকারদের আনাগোনা বেড়েছে। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই দেশের অবস্থা ভালো না হওয়ায় পাইকার, ক্রেতা ও পর্যটক আসছে না। ফলে পেয়ারার চাহিদা তুলনামূলক অনেক কম। ন্যায্য দাম তো দূরের কথা, নামমাত্র মূল্যেও বিক্রি করতে পারছি না। লাভ তো দূরের কথা, আসল খরচের টাকাই ওঠে কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

কৃষক দেবব্রত হালদার বিটু বলেন, ‘পেয়ারা আমাদের মৌসুমি আয়ের একমাত্র অবলম্বন। পেয়ারার ফলন ভালো হলে আমাদের সচ্ছলতা আসে। তবে এবার পাইকার, পর্যটক নেই। বাজারের যে অবস্থা তাতে গাছ থেকে পেয়ারা পাড়তে ইচ্ছা করে না।’

আরেক চাষি বিপুল চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা সংসারে তিনজন পুরুষ পেয়ারা বাগানের পরিচর্যাসহ সব ধরনের কাজে নিয়োজিত থাকি। বছরের এ মৌসুমটায় আমাদের আয় দিয়ে সারা বছর সংসার চলে। এবছর ফলন কম হয়েছে। তার মধ্যে কোটা আন্দোলন। যদি ন্যায্য দাম না পাই তাহলে মৌসুমের তিনমাসই সংসার চালানো দুঃসাধ্য হবে। বাকি সময়টাতে কীভাবে চলবো তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন।’

সুজন হালদার শানু পেশায় একজন পর্যটন ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, পেয়ারা মৌসুমকে ঘিরে দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পর্যটক আসেন। আগে শুধু নৌপথে আসতেন। এখন সড়কপথ ভালো হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই যাতায়াত সম্ভব। এ কারণে পর্যটকদের সংখ্যা আগের তুলনায় বাড়ছে। তবে এবছর দেশের যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে তেমন পর্যটক বা দর্শনার্থী আসবে বলে মনে হয় না।

পেয়ারাচাষি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ভবেন হালদার বলেন, শ্রাবণ মাসের শুরু থেকেই পাকা পেয়ারার মৌসুম শুরু হয়। আর এখনই কোটা আন্দোলনের নামে দেশে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়েছে। এজন্য পাইকার, ক্রেতা, পর্যটক আসছে না বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতে খরচ পোষানোই দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, এলাকার হাজার হাজার মানুষের কাছে ‘পেয়ারা’ অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য ও জীবিকার অবলম্বন। এবার বৃষ্টিপাত তেমন না হওয়ায় ফুল কিছুটা ঝরে গেছে। তারপরও যা আছে তার ঠিকমতো ন্যায্য দাম পেলে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু কোটা সংস্কারের নামে দেশের বর্তমান অবস্থার কারণে পাইকার, ক্রেতা, পর্যটক না আসায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে চাষি-ব্যবসায়ীদের।




পটুয়াখালীতে জমি দখল নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী এক মু‌ক্তি‌যোদ্ধা প‌রিবা‌রের ওপর হামলার অভি‌যোগ উঠে‌ছে।

গত শুক্রবার (২৬ জুলাই) সদর উপজেলার জৈনকাঠি ইউনিয়নের শিয়াকাঠি গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় নান্নু ও বাবুল গাজীর বিরু‌দ্ধে এই হামলার অভিযোগ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান গাজীর স্ত্রী সোনাবান বেগম। আর এ ঘটনায় সদর থানায় লি‌খিত অভিযোগ করা হলেও পু‌লিশ কোনো ব‌্যবস্থা নেয়‌নি ব‌লেও তিনি জানান।

রোববার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লা‌বে আয়োজিত সংবাদ স‌ম্মেল‌নে তিনি এই অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে সোনাবান বেগম আরও বলেন, ‘ঘটনার দিন আমার দুই সন্তান পৈতৃক জ‌মি‌তে ঘর তুল‌তে গে‌লে নান্নু ও বাবুল গাজীর নেতৃ‌ত্বে একদল সন্ত্রাসী বাধা দেয়। একপর্যা‌য়ে হামলা চা‌লি‌য়ে রক্তাক্ত জখম ক‌রে। এ সময় খোকন, ফারুক ও রেখাসহ আ‌রও কয়েকজন গুরুতর আহত হ‌ন। তা‌দের‌কে হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি করা হয়েছে।’ বর্তমা‌নে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগ‌ছেন ব‌লেও লি‌খিত বক্ত‌ব্যে উল্লেখ করেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে নান্নু ও বাবুলের চাচা হাবলু গাজী বলেন, ‘এই জমি ১০০ বছর ধরে আমাদের ভোগদখলে আছে। বর্তমানে এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। আমরা হামলা করিনি, আমাদের বাড়িতে এসেই তারা হামলা করেছে। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা।