কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে মিলল যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ

 

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটার পূর্ব দিকের সৈকতের ঝাউ বাগান এলাকা থেকে ভেসে আসা এক অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকালে সাগরের জোয়ারে মরদেহটি ভেসে এসে বালু চরে আটকে পড়ে।

কুয়াকাটা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) দেলোয়ার হোসেন জানান, সকালে ভেসে আসা মরদেহটি দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। নিহত যুবকের বয়স ২৫-৩০ বছর। তার শরীর ও মুখমণ্ডলে পচন ধরেছে। অনেকদিন সাগরে ভেসে থাকায় এ অবস্থা হতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশের ধারণা, এটি সাগরে ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ কোনো জেলের মরদেহ হতে পারে।

তিনি আরও জানান, নৌ পুলিশ এ বিষয়ে মহিপুর থানা পুলিশকে অবহিত করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।




এইচএসসির স্থগিত হওয়া পরীক্ষা ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে




বাস-ট্রাকের মাঝে চাপা পড়ল ইজিবাইক, নিহত ৪

বরিশাল অফিস :: গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে বাস ও ট্রাকের মাঝে চাপা পড়ে ইজিবাইকের চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৯ জন। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উপজেলার রাঘদি ইউনিয়নের ডোমরাকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- বশার শেখ (৩০), খায়ের শেখ (৩৮), হাচান শেখ (২৯) ও ইয়ারআলী শেখ (৩৪)। নিহতরা সবাই মুকসদুপুর উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের বিশ্বম্ভরদী গ্রামের বাসিন্দা তারা ইজিবাইকে করে টেকেরহাট যাচ্ছিলেন

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ মো. খায়রুল আনাম জানান, বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সাকুরা পরিবহনের একটি বাস একই দিক থেকে আসা একটি ট্রাককে সাইড দিতে যায়। এ সময় বাস ও ট্রাকের মাঝে চাপা পড়ে একটি ইজিবাইক। এতে ঘটনাস্থলেই ইজিবাইকের দুই যাত্রী বশার শেখ ও খায়ের শেখ নিহত হন এবং ইজিবাইক চালক হাসান শেখ ও ইয়ার আলী গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত ইজিবাইক চালকসহ ২১ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে। বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইয়ার আলী ও হাসান শেখ মারা যান।




কোটা আন্দোলন মনে হয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে: মেয়র খোকন

বরিশাল অফিস :: বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত বলেছেন, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সব সময়ই চলছে। আগস্ট এলে ষড়যন্ত্র আরও বাড়ে। কোটা আন্দোলন মনে হয় এখন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। আমরা শান্তি চাই, সন্ত্রাস চাই না। মানুষের মধ্যে গুজব, বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বরিশালবাসীর প্রতি আমার আবেদন, আপনার বিভ্রান্ত হবেন না।

শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিনে আজ বৃহস্পতিবার তাঁর উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত। বেলা ১১টায় নগরের অশ্বিনী কুমার টাউন হলে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সহায়তায় এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র জিয়াউর রহমান বিপ্লব, এনামুল হক বাহার, কহিনুর বেগম, আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল হক হারুন, নগর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন প্রমুখ। মেয়র খোকন শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে নগরীতে মাসব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।




উত্তাল বঙ্গোপসাগর – পটুয়াখালীতে বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে পটুয়াখালীতে গত এক সপ্তাহ ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে বুধবার (৩১ জুলাই) রাত ৯টা থেকে টানা মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার কলাপাড়া উপজেলায় ১৫২.৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

জানা গেছে, টানা বর্ষণে জনজীবনে ভোগান্তি নেমে এসেছে। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর। কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পায়রাসহ সব সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

সকল মাছধরা ট্রলার উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।




কুয়াকাটায় আওয়ামী লীগের শান্তি মিছিল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় আওয়ামী লীগের শান্তি মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩১ জুলাই বুধবার শেষ বিকেলে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের একাংশ আয়োজিত শান্তি মিছিল ও পথসভার নেতৃত্ব দেন কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কাউন্সিলর তৈয়বুর রহমান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অনন্ত মুখার্জি, কাউন্সিলর আবুল হোসেন ফরাজি, হাবিবুর রহমান, মজিবর রহমানসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠেনর কয়েকশত নেতাকর্মী।

এ সময় পথসভায় পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, কোটা আন্দোলনকে ঘিরে জামায়াত-বিএনপি সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তাই ছাত্রছাত্রীদের ঘরে ফিরে যাবার অনুরোধ করেন তিনি। কোটা আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের সুযোগ না দেওয়ার অনুরোধ করেন মেয়র।




মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে পটুয়াখালীতে মতবিনিময় সভা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘ভরবো মাছে মোদের দেশ, গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ’ এই স্লোগান নিয়ে পটুয়াখালীতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণ, বর্নাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা এবং সফল মৎস্য চাষির মাঝে ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (৩১ জুলাই) সকালে জেলা সার্কিট হাউজ পুকুর সংলগ্ন পুকুরে পোনামাছ অবমুক্তকরণ করেন জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম। পরে তিনি ফেস্টুন উড়িয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে বর্নাঢ্য র‌্যালির উদ্বোধন করেন। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সদর উপজেলা মৎস্য কর্তকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন- জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য ফিসারিজ বিভাগের চেয়ারম্যান সাজিদুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত আরা জামান ঊর্মি, প্যালেন মেয়র আকলিমুনেচ্ছা রুবি প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, আমরা জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৪ এর স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের মৎস্য সম্পদের কাঙ্খিত উন্নয়ন ঘটিয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করে ২০৪১ সালে একটি সমৃদ্ধশালী র্স্মাট দেশ গঠনে এগিয়ে যাব।

আলোচনা সভা শেষে জেলায় ৪ জন সফল মৎস্য খামারি এবং মৎস্য চাষির মাঝে ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়।




পটুয়াখালীতে গোয়াল ঘর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের পূর্ব নওমালা গ্রামের ল্যাড়া মুন্সী বাড়ির নাসির মুন্সীর খড়ের গাদা থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বাউফল থানার পুলিশ ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন জানান, নাসির মুন্সী তার খড়ের গাদাটি জলিল মুন্সির কাছে বিক্রি করেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জলিল মুন্সি খড়ের গাদাটি ভেঙ্গে নেওয়ার সময় আগ্নেয়াস্ত্রটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করেন।

ওসি আরো জানান, ইংল্যান্ডের তৈরি ওই অস্ত্রটিকে রাইফেল টু টু বোর বলা হয়। এটিকে ব্যালেষ্টিক পরীক্ষা করে বিস্তারিত জানা যাবে কি ধরনের অস্ত্র। তবে এই ঘটনায় কেউ আটক হয়নি।




দুমকিতে মেয়েকে শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করায় বাবাকে মারধর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকিতে মেয়েকে উত্ত্যক্ত ও শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করায় মেয়ে ও স্কুলশিক্ষক বাবাকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে মাসুম নামের এক বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে।

রোববার দুপুরে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে বাবা ও মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক মো. শাহ ইয়ার গাজীর সরকারি জনতা কলেজের ছাত্রী উম্মে হানীকে (১৭) যাওয়া-আসার পথে প্রায়ই প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন একই এলাকার এলেমদ্দীন হাওলাদারের মেয়ের ঘরের নাতি মাসুম (২০)। মাসুমের বাবা মো. লিটন শ্বশুরবাড়ি থাকার সুবাদে একই এলাকায় তাদের বসবাস।

প্রতিদিনের মতো রোববার দুপুরে উম্মে হানী প্রাইভেট পড়ে বাসায় ফেরার পথে বখাটে যুবক মাসুম পথ আটকে প্রেমের প্রস্তাব দেন এবং বলেন প্রস্তাবে রাজি না হলে উঠিয়ে নিয়ে বিয়ে করবেন। মাসুমের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় উম্মে হানীকে মারধর করেন এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করলে বাবা শাহ ইয়ার গাজী প্রতিবাদ করায় তাকেও মারধর করে এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনা কারও কাছে বলাবলি করলে উম্মে হানীকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক বলে পুলিশি হয়রানি করবেন বলে জানান। এ ঘটনায় দুমকি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযুক্ত মাসুমের বাবা লিটন খান বলেন, উত্ত্যক্ত বা শ্লীলতাহানির ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা। উল্টো আমার ছেলেকে ওই মেয়ে প্রেমের প্রস্তাব দেন আমার ছেলে তা প্রত্যাখ্যান করায় উল্টো আমার ছেলেকে তারা মেরেছে।

এদিকে তথ্য জানতে অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা দুমকি থানার এসআই মাসুদকে ফোন দিলে তিনি জানান, কোনো ইভটিজিং বা শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি কথা কাটাকাটি ও উভয়পক্ষে মারামারি হয়েছে।

দুমকি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি। তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




লঘুচাপে সাগর উত্তাল – অলস বসে আছে মাছ ধরার ট্রলার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সাগরে মাছ ধরার ৬৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। তারপরও মাছ ধরতে যেতে পারছেন না জেলেরা। কারণ লঘুচাপের কারণে এখন সাগর উত্তাল। তাই মাছ ধরার ট্রলারগুলো ঘাটে খালি ফিরে এসেছে। অনেক ট্রলার মাঝপথ থেকে ফিরে আসায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মালিকরা। এসব ট্রলার বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, পটুয়াখালী ও মোংলা উপকূলের বিভিন্ন ঘাটে অলস বসে আছে।

পটুয়াখালী ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সামুদ্রিক মৎস্যর প্রজনন মৌসুমকে নিরাপদ রাখতে টানা ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। গত ২০ মে থেকে এই নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়, শেষ হয় ২৩ জুলাই। সেদিন রাতে ফিশিং ট্রলার নিয়ে অধিকাংশ জেলে সাগরে রওনা হন। তার একদিন পরেই ফিশিং ট্রলারগুলো আবার খালি ফিরে আসে।’

‘জেলেরা জানান, সাগর উত্তাল। বাতাসের গতি বেশি। ঢেউগুলো বেশ বড় বড়। সাগরের পরিবেশ মাছ শিকারের অনুকূলে নেই। দুর্ঘটনা এড়াতে তারা ফিরে এসেছেন।’

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর ফিশারিঘাটসহ বিভিন্ন ঘাটে অলস বসে থাকতে দেখা গেছে শত শত ফিশিং ট্রলারকে। মাছ ধরার বড় ট্রলারগুলো নোঙ্গর করে আছে নদীর মাঝখানে।

মো. আমিনুল হক বাবুল সরকার বলেন, ‘আলিপুর, মহিপুর, রাঙ্গাবালী থেকে অনেকগুলো ট্রলার মাছ শিকারে বের হয়েও নিরাপত্তার জন্য নদীতে এসে আশ্রয় নিয়েছে।’

ফিশিং ট্রলারের মালিক আবুল হোসেন বলেন, ‘২৪ জুলাই ভোরে আমার দুটি ট্রলার মাছ ধরার জন্য সাগরের দিকে রওনা হয়। যাত্রার আগে প্রতিটি ট্রলারে পর্যাপ্ত বরফ, জেলেদের জন্য খাবার, ট্রলারের জ্বালানি তেলসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কিনে দিয়েছি, এজন্য আমার প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বরফ বাবাদ যে টাকা খরচ হয়েছে তা ক্ষতি হলো। অলস বসে থাকলেও জেলেদের বেতন দিতে হচ্ছে।’

এদিকে, সাগরের পরিবেশ-পরিস্থিতি ভালো হলে আবারো ফিশিং ট্রলারগুলো রওনা দেওয়ার সময় বরফ কিনে লোড করতে হবে বলে জানান আবুল হোসেন।

সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে দেশে মোট মাছ উৎপাদন হয়েছে ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে সামুদ্রিক মৎস্য আহরণের পরিমাণ ছিল সাত লাখ ছয় হাজার মেট্রিক টন।

জানতে চাইলে জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, জেলায় প্রায় পাঁচ হাজার ফিশিং ট্রলার রয়েছে। গত ২৪ জুলাই ভোরে অনেকগুলো ফিশিং ট্রলার মাছ শিকারের জন্য বঙ্গোপসাগরে গেলেও পরে তারা ফিরে আসে।