বৃষ্টিতে হলেই তলিয়ে যায় বরিশাল নগরীর প্রধান সড়ক

বরিশাল অফিস :: টানা ২ দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকা। এতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে হাঁটু সমান পানি জমেছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ। এছাড়া টানা বর্ষণে নগরীর বেশকয়েকটি প্রধান সড়ক হাঁটু সমান পানি দেখা গেছে।

শুক্রবার (২ আগস্ট) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে নগরীর প্রাণকেন্দ্র বটতলা থেকে চৌমাথা সড়ক, বগুড়া রোডের একাংশ, রাজাবাহাদুর সড়কসহ অলিগলিতে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে।

এছাড়া নগরীর চৌমাথা সিঅ্যান্ডবি রোড সংলগ্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি), শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বিএম কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পানি জমে রয়েছে।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের জলানুসন্ধান বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত বরিশালের কীর্তনখোলাসহ ছয় নদীর পানি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এসব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বরিশাল নগরীর বটতলা এলাকার বাসিন্দা কালু জানান, যতই খাল খনন আর ড্রেন পরিস্কার করুক বটতলা থেকে চৌমাথা সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়। তাই বাসা থেকে বের হয়ে বাজারসহ সব কাজই হাঁটুসমান পানির মধ্যে করতে হচ্ছে।

সিএনজি চালক শামিম বলেন, বৃষ্টির কারেণে ব্যাটারি ও ইঞ্জিন চালিত যানবাহন চালানো দুষ্কর হয়ে পড়েছে। পানি লেগে গাড়ি বিকল হয়ে যাচ্ছে। মোটরে পানি ঢুকে সমস্যা হওয়ায় তা সারাতে বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে। এছাড়া পানির কারণে রাস্তাঘাটে মানুষজনও কম, তাই আয়ও কমেছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, শুক্রবার সকাল ৯টা নাগাদ ১৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজও দিনভর বৃষ্টি থাকবে, শনিবার নাগাদ বৃষ্টি কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটা মৌসুমের স্বাভাবিক বৃষ্টি বলে জানান তিনি।




বরিশালে পিকআপের সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষ, নিহত ২

বরিশাল অফিস :: বরিশালগামী পিকআপের সঙ্গে একটি কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২জন নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে
বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার বাসস্ট্যান্ডে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

তুমুল বৃষ্টির কারণে গাড়ির চালক ঠিকভাবে চালাতে না পারায় এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহতরা হলেন: মাদারীপুর উপজেলার কালকিনি উপজেলার মো. মহিম (২০) ও বাকেরগঞ্জ উপজেলার আলেক হাওলাদার (৪২)। এ ঘটনায় নিহত আলেক হাওলাদারের স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মো: হাবিবুর রহমান জানান,বিপরীত দিক থেকে একটি ছোট পিকআপ আসছিল। এত বৃষ্টি হচ্ছিল যে সামনের মানুষটিও দেখা যাচ্ছিল না। ঠিক তখনই গাড়ি দুটি বিকট শব্দে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। পরে সকলে ছুটে গিয়ে ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী রিপন শীল বলেন, প্রচণ্ড বৃষ্টিতে আমার দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এজন্য খুব ভোরেই স্ট্যান্ডে আসি। এ সময়ে বরিশালের দিক থেকে মাদারীপুরের দিকে যাওয়া একটি কাভার্ড ভ্যান যাচ্ছিল।

মুখোমুখি সড়ক দূর্ঘনার বিষয় গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস এর স্টেশন অফিসার মোঃ বিপুল হোসেন জানান, আমরা খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধর করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছি। অবস্থার অবনতি হলে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়।

বরিশাল গৌরনদী হাইওয়ে থানা এস আই মো: কামরুজ্জামান বলেন, ঢাকা থেকে বাসা ছেড়ে দেয়া একটি পরিবারের মালামাল নিয়ে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় যাচ্ছিল। সাড়ে ছয়টার দিকে দুর্ঘটনা ঘটলে ঘটনাস্থলেই পিকআপ চালক ও মালামাল নিয়ে যাওয়া আলেক হাওলাদার নিহত হন। এ ঘটনায় আলেক হাওলাদারের স্ত্রী আসমা বেগম আহত হলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওসি বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনটি আটক করে থানায় রাখা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।

 




বরিশাল মেডিকলে সংকট সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের, বাড়তি ভাড়া প্রাইভেটে

বরিশাল অফিস :: বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেলে ২২টি অ্যাম্বুলেন্সের ১৬টি নষ্ট পড়ে আছে। বাকি ৬টি সচল থাকলেও চালক না থাকায় গ্যারেজে পড়ে থাকে বেশিরভাগ সময়। চালক না থাকায় জরুরি প্রয়োজনেও সেবা পাচ্ছে না রোগীরা। বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকায় প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স নিতে হচ্ছে তাদের।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন-পুরোনো মিলিয়ে ২২টি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও বেশির ভাগই নষ্ট পড়ে আছে। পুরোনো ১৫টির মধ্যে ৮টি একেবারেই নষ্ট। আর অত্যাধুনিক ৭টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি বিকল। বাকি ৬টি চালক না থাকায় বেশিরভাগ সময় পড়ে থাকে গ্যারেজে।

অ্যাম্বুলেন্সের এক চালক বলেন,আমাদের এইখানে কেউ মারা গেলে বা অবসরে গেলে নতুন কোনো নিয়োগ হচ্ছে না। এইখানে নতুন নিয়োগটা আমাদের প্রয়োজন।’

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা বিপদে আছি। নতুন এসব অ্যাম্বুলেন্স বেশিরভাগ সময় চালানো না হলে ত্রুটি দেখা দেয়, টায়ারের টেম্পার নষ্ট হয়ে যায় ও ব্যাটারি ড্যামেজ হয়ে যায়। বৈদ্যুতিক কাজেও ত্রুটির সৃষ্টি হয়। কল রোটেশন করে গাড়ি সচল রাখতে হচ্ছে।’

সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে প্রতি কিলোমিটার যাতায়াত খরচ ২০ টাকা। কিন্তু হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকার পরও এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগী ও স্বজনেরা। বাধ্য হয়েই প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স নিতে হচ্ছে তাদের।

হাসপাতালে আসা এক রোগীর স্বজন বলেন, হাসপাতালের যে অ্যাম্বুলেন্স সেগুলো নাই। সেগুলো গ্যারেজে বসায় রাখছে। অথচ ১২ শ টাকা ভাড়া দিয়ে এইখানে আইছি।’

আরেক স্বজন বলেন, ‘আমরা তাদের কাছে জিম্মি। আমরা যখন প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স আনতে যাই, তখন তারা যা ভাড়া দাবি করে তখন তাদের সেটাই দিতে হয়। সেটা কখনো ৩ হাজার, কখনও ৪ হাজার। এ অবস্থায় জনবল নিয়োগ দিয়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৫টি অ্যাম্বুলেন্স ছিল। এর মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৮টি অ্যাম্বুলেন্স সম্পূর্ণভাবেই অচল হয়ে পড়েছে। চালকের ৫টি শূন্যপদ পুরোনো করা গেলে বাকি অ্যাম্বুলেন্সগুলো সার্বক্ষণিক সচল রাখা যাবে।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বার বার এমন আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।




নেছারাবাদে নানা সঙ্কটে জাহাজ শিল্প পেশা পাল্টাচ্ছেন শ্রমিকরা

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় জাহাজ শিল্প নানা সঙ্কটে পড়েছে। এই শিল্পওকে ঘিরে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ না পেয়ে এখন পেশা পাল্টাতে শুরু করেছেন। উপজেলাটি মূলত শিল্পসমৃদ্ধ একটি এলাকা। এখানে কৃষিপণ্যের উৎপাদনের পাশাপাশি কাঠ ও জাহাজ শিল্পের ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে। শুধু এই এলাকার মানুষই নন, জাহাজ শিল্পকে ঘিরে উপজেলার বাইরে খুলনা, রাজবাড়ী, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করছেন।

স্টিলের তৈরি লঞ্চ, ট্রলার ও কার্গো তৈরির লক্ষ্যে উপজেলার স্বরূপকাঠি সদর, সোহাগদল, সুটিয়াকাঠি, তারাবুনিয়া, নাওয়ারা, কালীবাড়ি, বরছাকাঠি, ডুবিরহাট ও বালিহারিতে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক ডকইয়ার্ড গড়ে উঠেছে। জানা গেছে, নানা প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা এসব ডকইয়ার্ডে বিভিন্ন পেশায় প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কর্মরত আছেন। এদের প্রত্যেকের দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে ৯০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া ওভারটাইম নিয়েও কাজ করেন অনেক শ্রমিক।

আরো জানা গেছে, বর্তমানে নৌযান নির্মাণের পেইন্ট, ঝালাইকাঠি ও রংসহ নানা ধরনের কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় নৌযান তৈরির ব্যয়ও বহুগুণ বেড়ে গেছে। আর এ কারণে ডকইয়ার্ডগুলোতে নতুন নৌযান নির্মাণ কমে গেছে। শুধু পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণেই নয়, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলে সড়কপথে পণ্য পরিবহন বেড়ে গেছে। এ কারণে ট্রাকের কাঠামোসহ পরিবহনের নৌযান তৈরি কমে গেছে বলে অনেকে ধারণা করছেন। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে এ শিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিকদের আয়-রোজগারের ওপর।

হাওলাদার ডকইয়ার্ডের কন্ট্রাক্টর জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, জাহাজ তৈরির জন্য যে পেইন্টসহ অন্যান্য কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ইদানীং জাহাজ নির্মাণ বা মেরামতে মালিকদের আগ্রহ কমে গেছে। আগের ৮৫ থেকে ৯৫ হাজার টাকার প্রতি টন পেইন্ট এখন এক লাখ ৩০ হাজার টাকায় কিনতে হয়। শুধু ডকইয়ার্ডেই নয়, এ শিল্পকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, হার্ডওয়্যার, রং ও যন্ত্রপাতির দোকান গড়ে উঠেছে। সেখানেও বহু শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। তাদের আয়ও কমে গেছে।

ফরাজি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাসুম ফরাজি জানান, আগে প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার রং বিক্রি হতো। বর্তমানে জাহাজ নির্মাণ কমে যাওয়ায় মাসে ২০ লাখ টাকাও বিক্রি করতে পারি না।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাহাজ নির্মাণের এ শিল্পের প্রসারতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোক্তারা আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এলে এ শিল্প থেকে কোটি কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যেত। আর এর মাধ্যমে খুলে যেতে পারে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দ্বার।

নেছারাবাদ বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মোজাহিদুল ইসলাম আসাদ বলেন, প্রায় ৪০ বছর স্থানীয় পর্যায়ের কিছু ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে এই ব্যবসা চালু করেছেন। এর ফলে এখানে বহু লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকার এই সম্ভাবনাকে বিবেচনা করে কিভাবে এর পরিসর আরো বাড়ানো যায় সে বিষয়ে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত।

এ ব্যাপারে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান জানান, ব্যবসার পরিধি বাড়ানো ও সরকারি সুযোগ-সুবিধাসহ ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা উপজেলা প্রশাসন সবসময় করে আসছে।




ঝালকাঠির বাসন্ডা খাল থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠির বাসন্ডা নদীতে ভাসমান অবস্থায় এক নবজাতকের লাশ পাওয়া গেছে। জন্মের পরপরই নবজাতকটিকে কেউ নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে ধারণা পুলিশ ও স্থানীয়দের। ঝালকাঠি সদর উপজেলার চামটা এলাকার বাসন্ডা খাল থেকে বুধবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ওই নবজাতকের লাশটি উদ্ধারকরে স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে ঝালকাঠি থানা পুলিশ লাশটি থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, চামটা বাজার এলাকার বাসন্ডা নদীতে ভাসমান অবস্থায় একটি নবজাতকের লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা লাশটি উদ্ধার করে স্থানীয় মুকুল হাওলাদারের রাইস মিলের সামনে ঘাটলার উপর তুলে রাখে। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি থানায় নিয়ে আসেন। পরে ময়না তদন্তের জন্য লাশটি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ।

ঝালকাঠি সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সরোয়ার হোসেন জানান, খালের পানিতে ভেসে আসা একটি মেয়ে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নবজাতকটির ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে স্থানীয় পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। তবে কে বা কারা এভাবে নবজাতক শিশুটি নদীতে ফেলে গেছে, সে বিষয়ে কিছু জানায়ায়নি।




‘শেখ হাসিনার সরকার গরিববান্ধব সরকার’

বরিশাল অফিস :: শেখ হাসিনার সরকার গরিববান্ধব সরকার। গরিবদের অভাব দূর করার জন্য ছোট ছোট কাজ করার বিনিময়ে আপনাদের টাকা দিচ্ছেন। এমন গরিববান্ধব প্রধানমন্ত্রী আর কোথাও পাবেন না বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম।

বৃহস্পতিবার (১ আগষ্ট ) বিকেলে পিরোজপুর সদর উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য নিয়োজিত নারী শ্রমিকদের কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষে তাদের সঞ্চয়ী আমানতের অংশের টাকা চেকের মাধ্যমে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

রেজাউল করিম বলেন, এক একজন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আপনাদের মতো অসহায় নারীরা কল্পনা করছেন যে এতো টাকা পাবেন। এই টাকা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এ জন্য সব সময় মাথায় রাখবেন যে আপনাকে ভালোবাসে, আপনার দায়িত্ব তাকেও ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার মানুষটা কিন্তু শেখ হাসিনা। ভোটের সময় মাথায় রাখবেন শেখ হাসিনাই আপনাদের আসল বন্ধু।

তিনি বলেন, কাজে ফাঁকি দেবেন না। আপনারা সবাই যত্নের সঙ্গে করবেন। আপনাদের এই সঞ্চয়ের টাকাটা খেয়ে ফেলবেন না। নিজে সাবলম্বী হওয়ার জন্য টাকা যে কোনো ভালো কাজে লাগাবেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফ মুর্শেদ মিশুর সভাপতিত্বে ও এলজিইডির সদর উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত সরকারের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম বায়জিদ হোসেন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহানাজ পারভীন শানু প্রমূখ।

এ সময় সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ৪ বছর শেষ হওয়ায় তাদের পারিশ্রমিক থেকে সঞ্চয় টাকার মোট ৭০ জন নারীকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার চেক ও সনদ বিতরণ করা হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কের পাশের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিপাটি রাখা এবং সড়কের পাশের গাছের পরিচর্যার বিনিময়ে দৈনিক ২৫০ টাকা ও মাসিক ৫ হাজার ২৭০ টাকা পান।

এর আগে এমপি সকালে ইন্দুরকাণী উপজেলা মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্থ ১০০ জনের মাঝে ঢেউটিন ও অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। দুপুরে সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের বাদোখালী-পাড়েরহাট হুলার হাট সড়ক এবং তুলাতলা ও উত্তর কালীকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কের (বিটুমিন কার্পেটিং) উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।




বরগুনায় বঙ্গোপসাগরে ট্রলার থেকে ছিটকে পড়ে জেলে নিখোঁজ

বরিশাল অফিস :: বরগুনার পাথরঘাটা থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ট্রলার থেকে পড়ে শাহজাহান (৬০) নামে এক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন।

নিখোঁজ শাহজাহান পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের ছোট পাথরঘাটা গ্রামের লাল শরীফের ছেলে। শাহজাহান পাথরঘাটার কামাল হোসেনের মালিকানাধীন এফবি মা-বাবার দোয়া ট্রলারের জেলে।

এফবি মা-বাবার দোয়া ট্রলারের মাঝি আরমান জানান, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর ২৭ জুলাই পাথরঘাটা মৎস্য ঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারের জন্য রওনা দেন। হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হলে পরদিন তালতলীর ছকিনা এলাকায় ট্রলার নোঙর করে রাখা হয়। ২৯ জুলাই পুনরায় সাগরে যাওয়ার সময় ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় জাল পাতার জন্য ঘণ্টা বাজানো হয়। এ সময় ট্রলারে ১২ জেলেকে পাওয়া গেলেও শাহজাহানকে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, সাগরে অতিরিক্ত ঝড়ের কারণে কোনো এক সময় শাহজাহান সাগরে পড়ে গেছেন।

নিখোঁজ জেলে শাহজাহানের ছেলে জয়নাল বলেন, আমার বাবার যদি হায়াত থাকে তাহলে যেন আল্লাহ ফিরিয়ে দেন। আর তা যদি না থাকে তবে যেন বাবার লাশটা অন্তত ফিরে পাই।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মাসুম আকন জানান, নিখোঁজ জেলের সন্ধানের জন্য সাগরে থাকা সব মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। বর্তমানে সাগর উত্তাল রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ শাহজাহান ভেসে ভারতের ভেতরের অংশে চলে গেছে।

কোস্টগার্ড দক্ষিণ স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট শাকিল মেহবুব জানান, বৃহস্পতিবার ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরীর মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। সাগরে অবস্থানরত টহল টিমকেও অবগত করা হয়েছে।




বসুন্ধরা আইজ আমার আহারের ব্যবস্থা কইররা দিছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘তিন দিনের বৃষ্টির লইগ্যা ঘরের বাইরে যাইতে পারি না। বেইন্নাকালে কিছু খাই নাই। একটু আগে কোলা (বিল) দিয়া কিছু কচুর লতি টোহাইছি, হেইয়া কুড়ি টাহায় বেইচ্চা দিছি। আইজ এ কুড়ি টাহা দিয়াই পেট চালামু।

কয়েক দিন পেট ভইরা খাইতে পারি নাই। বসুন্ধরা আইজ আমার আহারের ব্যবস্থা কইররা দিছে। আল্লায় হেগো ভালো করবে। আমি আল্লার কাছে দুই হাত তুইল্লা মোনাজাতে দোয়া করমু।
’ কথাগুলো বলছিলেন গলাচিপা পৌর এলাকার রাজিয়া বেগম।

পেশায় তিনি একজন ভিক্ষুক। অন্যের বাড়ি থেকে যে খাবার দেয় তা দিয়েই দিন চলে। গলাচিপা পৌরসভার অন্যের ঘরের বারান্দায় থাকেন।

বিধবা রাজিয়ার কোনো সন্তান না থাকায় কষ্টে দিন কাটছিল তার।

গলাচিপা সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরখালী গ্রামের বিধবা রোকসনা বেগমের চার কন্যাসন্তান নিয়ে ভিক্ষা করে দিন চলে। ছোট একটি খুপরি ঘর তা-ও ঘূর্ণিঝড় রিমেলের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ভিক্ষা করে কোনো মতে পেট চললেও খুপরি ঘর আর মেরামত করা সম্ভব হয়নি। টানা বর্ষণে কন্যাসন্তানদের নিয়ে অন্যের ঘরের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন।
আশ্রয় মিললেও খাবার জোটেনি তাদের।

রোকসানা বলেন, ‘আইজ আমার ময়নাগুলার (মেয়েদের) মুহে ( মুখে) ভাত দিতে পারি নাই। আইজ আল্লায় নিজে আমার ধারে বসুন্ধরার সাহায্য পাডাইছে। এইডা আমার লইগ্যা নেয়ামিত। আমি এই মালিকের লইগ্যা দোয়া করি।’

বসুন্ধরা শুভসংঘ গলাচিপা উপজেলা শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় অসহায় দরিদ্রের চাল, ডাল, তেল, আলু, চিনি, মরিচ, হলুদ, লবণ ও নগদ দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়। নগদ অর্থ সহায়তা করেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল।

খাদ্য সহায়তা বিতরণের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা, প্রভাষক বাদল চন্দ্র মিতে, বসুন্ধরা শুভসংঘ গলাচিপা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেদওয়ান তালাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম মলি, দপ্তর সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, সদস্য সাদিক মাহমুদ প্রমুখ।




সাংবাদিকদের সাথে গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যানের মতবিনিময় সভা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: “সকলের সহযোগিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। আল্লাহ সহায় থাকলে প্রতিপক্ষরা কিছুই করতে পারবে না। গরিব-ধনী উর্দ্ধে সেবা নিতে যে লোকই আসবে, সকলেই সেবা পাবে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে প্রতীক না দেয়ায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিপুল পরিমান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করতে পেরেছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কে ধন্যবান জানাই। দল-মত সকলকে সাথে নিয়ে গলাচিপা উপজেলার উন্নয়নে বদ্ধ-পরিকর।”

মতবিনিময় সভায় গলাচিপা উপজেলা নব-নির্বাচিত প্রথম নারী চেয়ারম্যান ওয়ানা মার্জিয়া নিতু এমনটি বলেছেন। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে গলাচিপা উপজেলা নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয় উপজেলার সকল সাংবাদিকদের নিয়ে একটি মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা নব-নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফরিদ আহসান কচিন, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান মোসাঃ তহমিনা আক্তার, স্টার্ফ রিপোর্টার শংকর লাল দাস, সাংবাদিক খালিদ হোসেন মিল্টন, প্রেসক্লাবের সভাপতি সমিত কুমার দত্ত মলয়, মোঃ কাওসার, মোঃ হারুন অর রশিদ, সাজ্জাদ আহমেদ মাসুদ,সাইমুন রহমান এলিট, জাকির হোসেন, রুবেল আকন, মোনাজাতসির মামুন, মাসুদ রানা, রিয়াদ হোসেন, হাসান এলাহী, সঞ্জিব দাস, নাসির উদ্দিন, সোহাগ রহমান, মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল, সোহেল আরমান, আহসান উদ্দিন জিকো, সাকিবুল হাসান সাকিব, মিঠুন চন্দ্র পাল, কমল সরকার ও আরেফিন লিমন ,পঙ্কজ গাঙ্গুল, সঞ্জীব সাহাসহ সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




তরুনী গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে ৩দিন আটকে পাষবিক নির্যাতন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জেলার কলাপাড়ায় তরুনী এক গৃহবধূকে উ-ল-ঙ্গ করে হাত-পা বেঁধে ৩ দিন আটকে রাখা হয়েছে একটি কক্ষে। টানা মারধরে ধেতলে দেয়া হয়েছে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গসহ মুখ। থেতলানো জায়গায় লাগিয়ে দেয়া হয়েছে মরিচের গুড়ো। বাদ দেয়া হয়নি যৌ-না-ঙ্গ। সেখানেও লাগিয়ে দেয়া হয়েছে মরিচের গুড়ো। খাবার, পানি কিংবা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার কথা বললেই নেমে আসতে স্বামী, শাশুড়ী, জাঁ, ভাসুর এবং ননদের ভয়াবহ গন নির্যাতন। স্বামীর চাহিদার যৌতুক দিতে না পারায় এবং পরকীয়া দেখে ফেলায় পটুয়াখালীর মহিপুর থানার গৃহবধূ কাকলীর উপড় চালানো হয়েছে এমন নারকীয় মধ্যযুগীয় নির্যাতন।

মেয়ের উপড় চলমান ভয়াবহ নির্মমতার কথা জানতে কাকলীর বাবা-মা শশুড় বাড়ী ছুটে আসলেও পারেননি মেয়েকে নির্যাতনকারীদের হাত থেকে উদ্বার করতে। বাধ্য হয়ে থানা অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ এনে উদ্বার করেন মুমুর্ষ প্রায় কাকলীকে।

গুরুতর আহত কাকলী বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিছানায় শুয়ে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন।

কাকলীর পারিবার জানায়, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের আজিমপুর গ্রামের কালাম ফরাজীর কন্যা কাকলীর সাথে লতাচাপলী এলাকার খাজুরা গ্রামের ইউনুচ খা’র পুত্র রুবেল খা’র সাথে ৮ বৎসর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। তাদের রয়েছে সওদা (৫) ও ইসা নামের আট মাসের দু’সন্তান। বিয়ের পর থেকেই ইজিবাইক চালক রুবেল ও তার পরিবার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের যৌতুকের দাবী করে কয়েকবার মারধর করে। এনিয়ে বছরে প্রায় ২ বার শালিস বৈঠক এ মিমাংসা হয়। ফলে সন্তানদের কথা চিন্তা করে কাকলী ফিরে যায় স্বামীর কাছে।

সর্বশেষ রবিবার (১৪ জুলাই) ২ লাখ দাবী করে রুবেল ও তার পরিবার। এনিয়ে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে কাকলী তুলে ধরেন স্বামীর পরকীয়ার খবর। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রুবেল ও তার পরিবার। চিৎকার যাতে না করতে পারে সেজন্য কাকলীর মুখ বেঁধে স্বামী রুবেল খা, ভাসুর হানিফ খা, জাঁ সুরমা, ননদ রহিমা শুরু করে গন নির্যাতন।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ কাকলী যন্ত্রনা কাতর গলায় চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, উপর্যপরি নির্যাতনে কয়েক দফা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফিরলেই আবার শুরু হত নির্যাতন। টানা তিনদিন উ-ল-ঙ্গ করে হাত-পা বেঁধে ফেলা রাখা হয় জাঁ সুরমার কক্ষে। সারা শরীর এমনকি গোপনা-ঙ্গে মরিচের গুড়া লাগিয়ে দিয়েছে। খাবার কিংবা পানি চাইলে পেতে হত নির্যাতন। হাত-পা ধরে প্রান ভিক্ষা চেয়েছি। শশুড় ইউনুচ খাঁ আমার প্রানভিক্ষা দেয়ার জন্য ওদের কাছে অনুরোধ করেছেন। বলেছেন মরে গেলে সবগুলো আসামী হবে। ওরা একটা মরলেও যা, ৩টা মরলেও তা। তিনটাকেই মেরে ফেলবে।

নির্যাতনের বর্ননা দিতে গিয়ে বারবার শিউরে উঠছিল তরুনী গৃহবধূ কাকলী বলেন, মেয়ে সাওদাকে ওরা লুকিয়ে রেখেছে। ওরা ওকে মেরে ফেলবে। আমি স্বামীর কাছে ফিরে যাব না। ওদের সবার বিচার চাই।

হাউমাউ করে কেঁদে দিয়ে কাকলীর মা শাহিনুর বেগম বলেন, জামাতা রুবেল যখন যা দাবী করেছে সাধ্যমত দেয়ার চেস্টা করেছি। তারপরেও মেয়েকে নির্যাতন করে মেরে ফেলতে চেয়েছে। বুধবার (১৭ জুলাই) স্বন্ধ্যা ৬টায় পুলিশ নিয়ে মেয়েকে উদ্বার করে এনেছি। এসময় ওরা পুলিশকে লাঞ্চিতও করেছে।

কাকলীর বাবা কালাম ফরাজী বলেন, আমার মেয়ের উপড় চালানো নির্মম নির্যাতনের বিচার চাই। আদালতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে জানার জন্য রুবেল খা’ বলেন, আভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা। পারিবারিক সামান্য বিরোধকে বড় আকারে তুলে ধরে আমাকে হয়রানি করার চেস্টা করা হচ্ছে।

লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, রুবেল-কাকলীর বিষয় নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক করা হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনা আমাকে জানানো হলে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলে দিয়েছি।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, আইনী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।