পটুয়াখালীতে করলার বাম্পার ফলনেও ক্ষতির মুখে কৃষক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পাশের জেলাসহ ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের করলা। উচ্চ মূল্যের ফসল উৎপাদন করে নজর কেড়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারার কৃষকরা।

স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কলাপাড়ার আওতায় ২৫ কৃষক গ্রুপ করে পাঁচ একর জমিতে করলা চাষ করে এবার বাম্পার ফলন ফলিয়েছেন।

চাষাবাদের সময় থেকে ফসল উৎপাদন পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে প্রায় ২০ লাখ টাকা আয়ের আশা কৃষকদের। তবে বর্তমানে প্রবল বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে এসব কৃষক। কৃষকদের মাথায় হাত। লাভের সম্ভবনা মুহূর্তেই হারিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু গ্রুপ নয়, আধুনিক চাষাবাদ দেখে ইউনিয়নের অনেক কৃষক এখন করলা চাষ করে লাভবান। যেদিকে চোখ যাবে মাঠভর্তি শুধু করলা আর করলা। প্রবল বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে এসব করলার ক্ষেত। আরও কয়েক দিন এমন ধারাবাহিকভাবে বৃষ্টি থাকলে পুরো ক্ষেতে পচন ধরার সম্ভাবনা। ফলে লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে এখানকার কৃষক।

কৃষকরা বলেন, যদি পানি নামার ব্যবস্থা ভালো থাকত তাহলে হয়তো ক্ষতির পরিমাণ কমে আসত।

কৃষক আলতাফ হোসেন গাজী জানান, বাংলাদেশের মধ্যে আমরা নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষকরা এসএসিপির প্রশিক্ষণ পেয়ে সবচেয়ে বেশি করলা উৎপাদন করতে পেরেছি। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে আমাদের উৎপাদিত করলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কৃষক সুলতান গাজী জানান, আগে আমরা সনাতন পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করতাম। এখন আমরা কৃষি অফিস থেকে এসএসিপির প্রশিক্ষণ পেয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে করলা চাষাবাদ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছি। বর্তমানে দুশ্চিন্তার কারণ হচ্ছে প্রবল বৃষ্টি। বৃষ্টিতে গাছ পচন শুরু হয়েছে।

আড়তদার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পাখিমারা থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় চারশ থেকে পাঁচশ মণ করলা পাঠানো হয়। আজ থেকে কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিতে উৎপাদন কমছে, পাশাপাশি গাছ মরে যাচ্ছে।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন জানান, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষকরা প্রচুর পরিমাণ উচ্চ মূল্যের ফসল করলা উৎপাদন করেছে। তারা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ করলা পাঠাচ্ছে। এসএসিপিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের আমাদের অফিসে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আধুনিক পদ্ধতিতে রেইজড বেড করে কীভাবে করলা চাষ করতে হয় তা আমরা কৃষকদের হাতে-কলমে শিখিয়েছি। আর এ প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে কৃষকরা আজ লাভবান। এ সময়টায় বাধ সাধে প্রবল বৃষ্টি। আজ টানা বৃষ্টিতে কৃষকরা ক্ষতির মুখে।




কোটা আন্দোলনকারীদের কথা শুনতে চান প্রধানমন্ত্রী

বরিশাল অফিস :: “কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার জন্য গণভবনের দরজা খোলা রয়েছে। আমি তাদের সাথে বসতে চাই, তাদের কথা শুনতে চাই। আমি সংঘাত চাই না।”

শনিবার (৩ আগস্ট) গণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন।

এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রস্তাবিত প্রত্যয় স্কিম বাতিলেরও ঘোষণা দেন।




পুষ্টিগুণে টইটম্বুর-ভিটামিনে ভরপুর, ভেষজগুণও যথেষ্ট

বরিশাল অফিস :: বরিশালের আমড়া সারাদেশে প্রসিদ্ধ। আমড়া বাঙালির অতি প্রিয় একটি ফলের নাম। টক-মিষ্টি মিশ্রণে ভিন্ন এক স্বাদ। কচি অবস্থায় টক। পরিপক্ক হলে খেতে বেশ লাগে। পাকা ফল খুবই মিষ্টি। আমড়ার সিংহভাগ কাঁচা খাওয়া হলেও ভর্তা, আচার, চাটনি আর পরিপক্ক ফল দিয়ে তৈরি করা যায় জুস, জেলি এবং মোরব্বার মতো লোভনীয় খাবার। গ্রামাঞ্চলের কেউ কেউ মাংসের সাথে আমড়া রেঁধে খান। ডালের সাথেও খাওয়া যায়। আমড়ার শাঁস সাদা। পাকলে হলুদ রঙ ধারণ করে। যে কারণে একে গোল্ডেন আপেলও বলা হয়।

বছরের মাঘ ও ফাল্গুন মাসে আমড়ার মুকুল আসে। এর পরে ফল। কচি অবস্থায় ফলের বিচি নরম থাকে। পরিপক্ক হলে আঁটি বেশ শক্ত হয়। কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে ফল পাকে। পাকা ফলের গন্ধ চমৎকার। আমড়া সারাদেশেই চাষ করা যায়। দক্ষিণাঞ্চলের মাটি ও পানির জন্য এর ফলন ও গুণগতমান কাঙ্খিত হয়। বরিশালের আমড়া নামকরা হিসেবে জানলেও আসলে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি ও নেছারাবাদকে আমড়ার রাজধানী বলা হয়। কারণ ওখানে আমড়ার ফলন হয় সবচেয়ে বেশি। ঝালকাঠি, বরিশাল, ভোলা এবং বরগুনায়ও আমড়া ভালো জন্মে। বাংলাদেশে দুই প্রজাতির আমড়া চাষ হয়। একটি দেশি এবং একটি বিলাতি। বিলাতি আমড়ার অপর নাম বরিশালের আমড়া।

দেশি আমড়া খেতে টক, বিচি বড়। বিলাতি আমড়া খেতে মিষ্টি, বিচিও ছোট। ভালো ফলনের জন্য আমড়ার উচ্চফলনশীল জাত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি আমড়া-১ এবং বারি আমড়া-২। বারি আমড়া-১ বারোমাসি। গাছ বামনাকৃতির হয়। তাই বাড়ির ছাদেও লাগানো যায়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি জাত উদ্ভাবন করেছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে এফটিআইপি বাউ আমড়া-১।

আমড়া পুষ্টিগুণে যেমন টইটম্বুর, তেমনি ভেষজগুণও যথেষ্ট আছে। আমড়ায় ভিটামিন-সি’র পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর পরিমাণ লৌহ। বাচ্চা থেকে বড়রা পর্যন্ত সকলেই নানারকম লৌহস্বল্পতা রোগে ভুগে।

লৌহস্বল্পতাজনিত সকল রোগে লৌহসমৃদ্ধ অন্য খাবারের পাশাপাশি আমড়া খেলে এসব সমস্যা এড়ানো সম্ভব। কফ ও পিত্ত নিবারণের পাশাপাশি মুখে রুচি আনা এবং কন্ঠস্বর পরিস্কারে আমড়ার ভূমিকা রয়েছে। জ¦র, সর্দি, কাশি, এমনকি ইনফ্লুয়েঞ্জার জীবাণুকে প্রতিরোধ করে। দাঁতের মাড়ি শক্ত রাখে। দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত ও পুঁজপড়া বাঁধা দেয়। স্ট্রোক এবং হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ করে। আমড়ায় পেকটিনজাতীয় আঁশ থাকায় বদহজম, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্যে দূরীকরণে সহায়তা করে। মুখের রুচি বৃদ্ধি করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় আমড়া ক্যান্সার প্রতিরোধক।

ভাইরাল ইনফেকশনের বিরুদ্ধে আমড়া কাজ করে। রক্ত আমাশয় হলে আধা কাপ পানিতে ৩/৪ গ্রাম আমড়ার কষ, সেই সাথে এক চা চামচ গাছের রস এবং একটু চিনি মিশিয়ে খেতে হবে। ব্রণ, ফুস্কুড়ি কমাতে এবং ত্বক মোলায়েম ও উজ্জাল রাখতে আমড়ার ব্যাপক অবদান রয়েছে।

আমড়ার পাতা, ছাল, শিকড় এবং বীজে ওষুষিগুণ রয়েছে। পাতার তৈরি চাজার ও শরীরের ব্যথা দূর হয়। চা বানানোর জন্য পাতাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকানোর পর গুঁড়ো করে ব্যবহার করতে হয়। গাছের ছাল ছত্রাকজনিত সংক্রমণ প্রতিহত করার উপাদান রয়েছে। ফলের বীজ উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এর শিকড় প্রজননজনিত রোগ নিরাময়ে অবদান রয়েছে। ভেষজবিদদের মতে, আমড়ায় গর্ভপাত হওয়ার উপাদান থাকায় গর্ভবতী নারীদের এ ফল খাওয়া নিষেধ। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা কাঁচা আমড়া খেতে পারবেন।




বঙ্গবন্ধুর বাবা ছারছিনার ভক্ত ছিলেন: দরবার শরিফে ধর্মমন্ত্রী

বরিশাল অফিস :: এ দেশে ইসলাম এসেছে অলি আউলিয়াদের মাধ্যমে। ছারছিনা দরবার বাংলাদেশে প্রায় দেড় শ বছর ধরে ইসলামের খেদমত করছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাবা শেখ লুৎফর রহমানও ছারছিনা শরিফে আসতেন এবং এখানেরই ভক্ত ছিলেন।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর পিরোজপুরে ইসালে সওয়াব ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান।

নেছারাবাদ উপজেলার ছারছিনা দরবার শরিফে ছারছিনার মরহুম পির মাওলানা শাহ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহর (রহ.)–এর জন্য এই মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ দেশে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে ছারছিনা দরবারের অবদান অনস্বীকার্য। তারা রাজপথ দখল করে বা জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন করে না, তারা সঠিক ইসলামের দাওয়াত নিয়ে কাজ করে।’

ছারছিনা দরবার শরিফের পির আমিরে হিজবুল্লাহ হজরত মাওলানা মুফতি শাহ আবু নসর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইনের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী মহিবুর রহমান, সাবেক হুইপ আ. স. ম. ফিরোজ এমপি, সাবেক মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম এমপি, মহিউদ্দিন মহারাজ এমপি, সাবেক এমপি এ. কে. এম. এ. আউয়াল, বরিশালের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আহসান হাবীব খান, পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সেলিম হোসেন, বরিশালের সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ প্রমুখ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী মহিবুর রহমান খান বলেন, আমি সহ আমার বাবা দাদা সবাই ছারছিনা দরবারের খাদেম। ছারছিনার মরহুম পির কেবলা ছিলেন এ উপমহাদেশের প্রখ্যাত অলিয়ে কামেল। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ সব জাতীয় নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করেছেন। আমরা পির কেবলার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

ছারছিনা দরবার শরিফের পির শাহ আবু নসর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন বলেন,ছারছিনা দরবার কোনো দলীয় রাজনীতি করে না। আমার বাবা, দাদা, পরদাদাসহ ফুরফুরা সিলসিলার কেউই রাজনীতি করে না। আমরাও ভবিষ্যতে করতে চাই না। আমাদের মুরুব্বিরা যে ভাবে ইসলাম ও দেশের খেদমত করছেন আমরাও একই ভাবে কাজ করতে চাই।




দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প হিসেবে স্থান পেয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি

বরিশাল অফিস :: উষ্ণ আবহাওয়া আর দ্রুত শিল্পায়নের প্রভাবে দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশে নির্মিত হয়েছে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রও। দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প হিসেবে স্থান পেয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।

করোনা ভাইরাস মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা চড়াই-উৎরাই পার হয়ে অবশেষে উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই এটির প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাল বা পরশুর মধ্যেই শুরু হচ্ছে এ প্রকল্পে জ্বালানি লোডের প্রথম ধাপ। প্রস্তুতি শেষ হয়েছে ডামি ফুয়েল লোডিংয়ের। শেষ হয়েছে প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কম্পার্টমেন্টে রিফুয়েলিং মেশিনের প্রস্তুতির কাজও। রিঅ্যাক্টর কোরে ডামি ফুয়েল লোডিংয়ের জন্য এটিই সর্বশেষ ধাপ। এরপরেই উৎপাদনে যেতে পারবে এই ইউনিটটি। নদী পারাপারের সামান্য কিছু কাজ ছাড়া প্রস্তুত সঞ্চালন লাইনও। সব ঠিকঠাক থাকলে ২০২৫ সালের শুরুতেই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আসবে জাতীয় গ্রিডে। এতে করে দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের সাফল্য আসবে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ৩০ জুলাই মঙ্গলবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকারী রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এর প্রথম ইউনিটে ডামি ফুয়েল লোডিং প্রস্তুতি নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কম্পার্টমেন্টে রিফুয়েলিং মেশিনটি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। রিঅ্যাক্টর কোর এ ডামি ফুয়েল লোডিংয়ের জন্য এটি সর্বশেষ ধাপ। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ডামি ফুয়েল লোডিংয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, রিঅ্যাক্টর কোর এ ফ্রেশ পারমাণবিক জ্বালানি লোড এবং কোর থেকে ব্যবহৃত জ্বালানি বের করে আনার জন্য ব্যবহৃত হয় নিউক্লিয়ার রিফুয়েলিং মেশিন। ৬০ টন ওজনের মেশিনটি ফুয়েল পুল ও রিঅ্যাক্টর পিটের ওপরে অবস্থিত। এটির যান্ত্রিক অংশে রয়েছে ব্রিজ, ট্রলি এবং সার্ভিস এরিয়া। এছাড়াও এই মেশিনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে একটি কন্ট্রোল এবং একটি মনিটরিং সিস্টেম। যার মাধ্যমে দূরবর্তী স্থান থেকে পারমাণবিক জ্বালানির ফুয়েলিং/ রিফুয়েলিং ও ইন্সটলেশন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং করা হয়।

এসব বিষয় নিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের সাইট ডিরেক্টর প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, যেকোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউরেনিয়াম (জ্বালানি) ফুয়েল রিঅ্যাক্টর স্থাপনের আগে কয়েক ধাপে ডামি ফুয়েল দিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চালাতে হয়। এসব বিষয়ে আমাদের সব প্রস্তুতি শেষ। আশা করছি আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ডামি ফুয়েল দিয়ে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। এটি ঠিক থাকলে ডিসেম্বরে বা তার আগে ফ্রেশ ইউরেনিয়াম লোড করা হবে। সব ঠিকঠাক থাকলে আশা করছি ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই প্রথম ইউনিটটি উৎপাদনে যেতে পারবে। আর উৎপাদন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপস্থিত থাকবেন রোসাটমের মহাপরিচালকও। এর আগে আপনারা জানেন এই কেন্দ্রের রিয়েক্টর ভ্যাসেল যখন বসছিল তখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্টও ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। উৎপাদন কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি নিয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও রসাটমের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষরা অবশ্যই উপস্থিত থাকবেন বলে আমরা আশা করছি।

কিন্তু চলতি বছরের শেষেই উৎপাদনে আসার কথা থাকলেও জাতীয় গ্রিডে আনার জন্য সঞ্চালন লাইন তৈরি নিয়ে শংকা ছিল এতদিন। তবে এই শংকাও কাটছে বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)। স্থলভাগের প্রায় ৯৯ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে। রিভারক্রসিংয়ের কাজও এগিয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। পিজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম গাউছ মহীউদ্দিন আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু নানা সময় নানাভাবে আমাদের বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আমাদের স্থলভাগের কাজ তো ৯৯ ভাগই শেষ। চ্যালেঞ্জ রিভারক্রসিং নিয়ে। রিভারক্রসিংয়ের কাজও চলছে পূর্ণোদ্যমে। সাম্প্রতিক দেশব্যাপী যে সংকট তৈরি হয়েছিল এতেও আমাদের কাজে বিঘ্ন হয়। তবে আমাদের নদীর ওপর টাওয়ার বসানোর কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ। সব মিলিয়ে রিভারক্রসিংয়ের ৩৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে ২ আগস্ট শুক্রবার পর্যন্ত। ডিসেম্বরের আগেই পুরোটা লাইন প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে আশা করছি।

পিজিসিবি জানিয়েছে, রূপপুর পারমণাবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঞ্চালন লাইন তৈরির কাজ সাতটি প্যাকেজের মাধ্যমে চলছে। এর মধ্যে রূপপুর থেকে বাঘাবাড়ী পর্যন্ত ৬৫ দশমিক ৩১ কিলোমিটার ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণকাজের অগ্রগতি শতভাগ। আমিনবাজার থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৯০ শতাংশের বেশি।

রূপপুর থেকে ঢাকা (আমিনবাজার-কালিয়াকৈর) ১৪৭ কিলোমিটার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ পর্যন্ত ১৪৪ কিলোমিটারের অগ্রগতি ৭০ শতাংশের মতো, ধামরাই পর্যন্ত ১৪৫ কিলোমিটারের অগ্রগতি ৬০ শতাংশের কিছু বেশি, বগুড়া পর্যন্ত ১০২ কিলোমিটারের অগ্রগতি ৬০ শতাংশের মতো এবং ৯টি বে এক্সটেনশন নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৩০ শতাংশের ওপরে। সব মিলিয়ে স্থলভাগের প্রায় ৯৯ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে প্রকল্পের পরিচালক মো. মাসুদুল ইসলাম বলেন, এখন ছোট ছোট কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি টাওয়ার নির্মাণ হচ্ছে। টাঙ্গাইল এবং ভেড়ামারার কাজ চলছে। বাকিটাও শেষ হয়ে যাবে। আর কয়েকদিনের মধ্যেই আমাদের শতভাগ কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছি।

পাবনার রূপপুরে দেশের সবচেয়ে বড় এই প্রকল্পটিতে চলছে এখন শেষ মুহূর্তের কাজ। রাশিয়ার অর্থায়নে কেন্দ্রটি নির্মাণের কাজ চলছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে। ডিসেম্বরেই পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর পর আগামী বছর এই প্রকল্প থেকে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন। এতে করে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা অনেকটাই মিটবে। এর দ্বিতীয় ইউনিটটি উৎপাদনে যাবে পরের বছর ২০২৬ সালে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রকল্পটি চালু করার সময় যে বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে, তা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড থেকে নেওয়া হবে। প্রকল্প এলাকায় এই বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতির কাজও এগিয়ে চলছে। এর প্রথম অংশের কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। অক্টোবরের আগে বাকি কাজও শেষ হবে।

চূড়ান্তভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে ডিসেম্বরে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রকল্পের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অলক চক্রবর্তী বলেন, রাশিয়ার উদ্ভাবিত থ্রিজি (+) ভিভিইআর ১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে এখানে। এর জ্বালানিও সরবরাহ করবে রাশিয়া। গত বছর অক্টোবরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম বুঝে পেয়েছে বাংলাদেশ।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য বিশেষজ্ঞ তৈরি ও তাদের প্রশিক্ষণের কাজও করছে রাশিয়া। প্রকল্পটি চালুর পর ৫-৬ বছর বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরাই এটি পরিচালনা করবেন। পরে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্ব বুঝে নেবেন।

দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কথা থাকলেও কোভিড, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনীহাসহ নানা কারণে এ প্রকল্পের গতি ধীর হয়েছে। তবে বর্তমানে তবে সব জটিলতা কাটিয়ে এখন পুরোদমে চলছে সঞ্চালন লাইন তৈরির কাজ। এতে করে নির্ধারিত সময়েই কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে রূপপুরের সঞ্চালন লাইনের কাজ পিছিয়ে গিয়েছিল। তবে আবার কাজ চলছে পূর্ণোদ্যমে। ইতোমধ্যে স্থলভাগের কাজ শেষের দিকে। নদী পারাপারের কাজও নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে বলে আমরা আশা করছি। আমাদের লক্ষ্য কেন্দ্রটি উৎপাদনে গেলেও যেন সঞ্চালন লাইনের কারণে বসে না থাকে। যেমনটি হয়েছিল পায়রায়। যদিও নদী পারাপারের কাজটি চ্যালেঞ্জিং। তবু আমাদের কর্মীরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

চলতি বছরের ডিসেম্বরেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে জানিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানও বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় থাকলেও এটির কাজ দ্রুত শেষ করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রণালয়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উইং বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির নির্মাণ কাজে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ও তদারকি করছে। এর আগে সঞ্চালন লাইন তৈরি করতে না পারায় প্রায় দেড় বছর বসিয়ে রাখতে হয় পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রকে। জরিমানা গুনতে হয় মাসে মাসে। একই শঙ্কা ছিল রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নিয়েও। তবে এখন আর শঙ্কা নেই জানিয়ে ইয়াফেস ওসমান বলেন, কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। তবে ডলারের মূল্যবৃদ্ধিসহ সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্পে সিংহভাগ অর্থায়ন দিয়েছে রাশিয়া। ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পে রাশিয়ার অর্থায়ন রয়েছে ৯৩ হাজার কোটি টাকা। এ প্রকল্পের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিটের সক্ষমতা মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। চলতি বছরে প্রথম ইউনিট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের কংক্রিট ঢালাইয়ের মধ্য দিয়ে রূপপুর প্রকল্পের মূল পর্যায়ের কাজ শুরু হয়। পরবর্তী বছর ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের কংক্রিট ঢালাই উদ্বোধন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি ইউনিটেরই কংক্রিট ঢালাই কাজের উদ্বোধন করেন।

পূর্ব নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট এবং ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল। শিডিউল অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১৩ অক্টোবর প্রথম ইউনিট আর ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিটের চূড়ান্ত হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শিডিউল অনুযায়ী কাজ এগুতে না পারায় চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রথম ইউনিটের উৎপাদন শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদী প্রকল্প কর্মকর্তারা।

এদিকে, প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালুর পর এই একই স্থানেই দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। দ্বিতীয় প্রকল্পটিও বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিচ্ছে রাশিয়া। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রোসাটম প্রধানের প্রাথমিক আলোচনাও হয়েছে। এখন চলছে প্রাথমিক নিরীক্ষা-সমীক্ষার কাজ।

 




বরিশালে বন্দর থানার ওসি বদলি

বরিশাল অফিস :: বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান মুকুলকে বদলি করা হয়েছে। ওই থানায় নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়েছেন বিপ্লব কুমার মিস্ত্রি। বিপ্লব কুমার এতদিন কোতোয়ালি মডেল থানায় পরিদর্শক (অপারেশন) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জিহাদুল কবির। এর দুই দিন আগে কোতোয়ালি মডেল থানা ও বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছিল।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে মোট চারটি থানা গত তিন দিনে তিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বদলি করা হলো।




দুমকিতে মালবাহী ট্রাক চাপায় নিহত এক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকিতে মালবাহী ট্রাক চাপায় মো. জাকির হোসেন (২৭) নামের এক এনজিও কর্মী নিহত হয়েছে। শুক্রবার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টায় দুমকি-লেবুখালী সড়কের সাতানী বাইপাসে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত জাকির হোসেন কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) বাউফল ব্রাঞ্চের ক্রেডিট অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার মহিষকাটা গ্রামে।

দুমকি থানা পুলিশ জানায়, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাউফল ব্রাঞ্চ থেকে মোটর সাইকেল যোগে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন। দুমকি সাতানী বাইপাস মোড়ে বিপরীত দিকের একটি দ্রুতগামী পাথর বোঝাই ট্রাক (ঝিনাইদহ- ট-১১-১৮৩৬) তাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান জাকির হোসেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে প্রেরণ করে। ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। তবে ট্রাক চালক ও হেল্পার পালিয়ে যায়।

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ তারেক মো. আবদুল হান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিৎ করেছেন।




রাঙ্গাবালীর ১ কিমি. রাস্তা ৪ গ্রামের মানুষের গলার কাঁটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: চরমোন্তাজের দারভাঙ্গা, বাইলাবুনিয়া, নয়ারচর ও পশ্চিম চরমোন্তাজকে একত্রিত করেছে একটি সড়ক। সড়কটিতে ইটের সলিং (এইচবিবি) নষ্ট হয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে চার গ্রামের আট হাজার মানুষ। আর বর্ষা মৌসুমে এই ভোগান্তি বেড়ে যায় আরো দ্বিগুণ। রাস্তা নির্মাণের ১২ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ইটের রাস্তায় পিচ ঢালাই (কার্পেটিং) ও উন্নীতকরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের একপাশে দারভাঙ্গা, বাইলাবুনিয়া ও নয়ারচর গ্রাম, আর অন্য প্রান্তে রয়েছে পশ্চিম চরমোন্তাজ গ্রাম। এই চার গ্রামকে একত্রিত করেছে ১ কিলোমিটারের এই চরমোন্তাজ লঞ্চ ঘাট-বাইলাবুনিয়া সড়কটি। ১২ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কতৃক নির্মাণ করা হয় ১০ ফুট প্রশস্তের ইটের সলিংয়ের সড়কটি। কিন্তু দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্নস্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে শত শত ভ্যান, ইজিবাইক, মাল বোঝাই পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন। বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ গর্ভবতী নারী ও রোগীদের। এছাড়া এসব এলাকার উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারে আনা, নেয়ায় বেগ পোহাতে হচ্ছে কৃষকদের। সড়কের বেহাল দশায় পরিবহন খরচ বেশিসহ ঠিক সময় মতো বাজার ধরতে পারছেন না কৃষকরা।

ভ্যানচালক ইমন গাজী বলেন, এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও গর্ত থাকায় যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন বলেন, সড়কের অধিকাংশ জায়গাই ভাঙা। বিগত প্রায় ১৫ বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে। ফলে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা চাই এই সড়কটি মেরামত করা হোক।

স্থানীয় কৃষক খলিল কাজী বলেন, নিজেদের খেতের উৎপাদিত সবজি বাজারে নিতে বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। ভ্যান চালকরা যেতে চায় না। দ্রুতই সড়কটি পিচ ঢালাইয়ের দাবি আমাদের।

রাঙ্গাবালী উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, রাস্তাটির টেন্ডার প্রক্রিয়ার কাজ শেষ হয়েছে, আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে কাজ করা যাচ্ছে না। আবহাওয়া অনুকুলে এলে এ সড়কসহ উপজেলার আরো কয়েকটি সড়ক পিচ ঢালাই (কার্পেটিং) কাজ শুরু হবে।




উপকূলে আজও বৃষ্টিপাত অব্যাহত – পায়রা বন্দরে ০৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আজও বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল নয়টা পর্যন্ত উপজেলায় ১৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

টানা বৃষ্টিতে জনজীবনে ভোগান্তি নেমে এসেছে। বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বাসা বাড়িতেও পানি প্রবেশ করেছে। পানিতে ভেসে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর। বিভিন্ন গ্রামীণ কাঁচা সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে গেছে।

এদিকে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই পটুয়াখালীর পায়রা সহ সব সমুদ্র বন্দরকে ০৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সকল মাছধরা ট্রলার সমূহকে নিরাপদ থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

মহিপুর মৎস্য আড়ৎ সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ দিদার উদ্দিন আহম্মেদ মাসুম বলেন, আমাদের মাছধরা ট্রলার মহিপুর শিব্বারিয়া নদীতে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে, তবে কিছু ট্রলার সাগরে আছে।




হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ ফেলে পালালেন স্বামী – আটক দুই

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় হালুয়া ইউনিয়নের হাসনাপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সুমী বেগম নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুমীর স্বামীসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে কলাপাড়া উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে সুমীর মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান স্বামী ইব্রাহিম প্যাদা ও তার ভাই সাইদুল।

পরে খবর পেয়ে কলাপাড়া থানা পুলিশ নিহত সুমীর মরদেহ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে। শুক্রবার তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, সুমীকে বিয়ের পর থেকেই নানা কারণে শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন করতো। তিনি আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত দাবি করেন তারা ।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী আহম্মদ সাংবাদিকদের জানান, নিহত গৃহবধূর ভাই পলাশ হাওলাদার আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে তিনজনের নামে কলাপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এ ঘটনায় ইব্রাহিম প্যাদা ও সাইদুলকে আটক করেছে। কেন কি কারণে সুমী মারা গেছেন তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।