মালদ্বীপের মুইজ্জুর ভারতবিরোধিতার খুঁটির জোর কোথায় ?

চীনপন্থী বলে পরিচিতি আছে মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর। নির্বাচিত হওয়ার পর কয়েক মাসে তাঁর বক্তব্য ও বিভিন্ন সিদ্ধান্তে এর প্রতিফলন মিলেছে। ভারতের বিরুদ্ধে জোরালো মন্তব্য ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তিনি। মুইজ্জুর খুঁটির জোর কোথায়- এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে ভারত ও চীনের গণমাধ্যমগুলো। ভাষান্তর করেছেন মোহাম্মদ খান

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই মুইজ্জু মালদ্বীপ থেকে ভারতীয় সেনাদের সরিয়ে দুই মাসের সময় বেঁধে দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে হাইড্রোগ্রাফিক চুক্তিও বাতিল করেছে এই দ্বীপদেশ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লাক্ষা দ্বীপ সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সরকার তো বটেই জনগণের মধ্যেও সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মুইজ্জুর চীন সফরের পর ভারত-মালদ্বীপ সম্পর্ক নিয়ে আরো নতুন করে ভাবছেন বিশ্লেষকরা।

মালদ্বীপের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিবেচনায় তাঁদের ধারণা, মুইজ্জু তাঁর পূর্বসূরির ভারতঘেঁষা নীতি থেকে বেরিয়ে আসবেন। অবশ্য এরই মধ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাঁর নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম স্লোগানই ছিল ‘ভারত হটাও’। ভারতীয় বিশ্লেষকদের অনুমান, মালদ্বীপের পিপলস ন্যাশনাল কংগ্রেস ও প্রগ্রেসিভ পার্টির জোট সরকার সামনের দিনগুলোতে চীন ঘেঁষা নীতিই অনুসরণ করবে।

জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে মুইজ্জু চীন সফরে যান। সেখানে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভসহ অবকাঠামো ও পর্যটন খাত নিয়ে সরকার-সরকার সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের উপস্থিতিতে চীন-মালদ্বীপ অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার কর্মপরিকল্পনা স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি বেল্ট অ্যান্ড রোড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি ও প্রযুক্তি, অবকাঠামো নির্মাণ এবং জনগণের জীবিকা, সবুজ উন্নয়ন এবং ব্লু ও ডিজিটাল অর্থনীতি বিষয়ে সহযোগিতার নথিপত্রও স্বাক্ষরিত হয়।

গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রচারের সময় মোহাম্মদ মুইজ্জু অভিযোগ করেন, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ দেশে ভারতের প্রভাব বাড়াচ্ছেন। সে সময় মুইজ্জু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি দেশে ভারতের প্রভাব কমাবেন। তারই ধারাবাহিকতায় মালদ্বীপ থেকে ভারতের সেনা সরিয়ে নেওয়ার আল্টিমেটাম, হাইড্রোগ্রাফিক সমীক্ষা চুক্তি বাতিল এবং মুইজ্জুর চীন সফর।

মালদ্বীপের জনগণের মধ্যেও ভারতবিরোধী মনোভাব বেশ স্পষ্ট। তার একটি উদাহরণ হলো—মালদ্বীপের রাজধানী মালের কাছে উথুরু থাইলাফালহুতে ভারতের সহায়তায় নির্মাণাধীন একটি ডকইয়ার্ড। এই বিষয়ে মালদ্বীপের জনমনে ধারণা, সেখানে ভারত ডকইয়ার্ডের আড়ালে মূলত একটি নৌঘাঁটি নির্মাণ করছে।

সর্বশেষ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বদৌলতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে করা ‘কটূক্তির’ পরিপ্রেক্ষিতে মালদ্বীপের ৩ মন্ত্রীর বরখাস্ত হওয়ার বিষয়টিও ভালোভাবে নেয়নি মালদ্বীপের জনগণ। বিষয়টি ভারতের বিপরীতে মালদ্বীপের জনগণকে বিরূপ করে তুলেছে। বিপরীতে ভারতীয় সাধারণ জনগণও মালদ্বীপ বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন। স্পষ্টভাবেই দেখা যাচ্ছে, সরকার-সরকার তো বটেই জনগণের পর্যায়েও দুই দেশের সম্পর্ক আর আগের জায়গায় নেই।

ভারতের সঙ্গে যখন মালদ্বীপের বিরোধ তুঙ্গে, ঠিক তখনই চীনের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে মসৃণ গতিতে। এ বিষয়ে মুইজ্জুর বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, তিনি চীনে তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে ব্যাপক সম্মানিত হয়েছেন এবং চলতি বছর প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে চীন সফর করার পর বেইজিং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে যে গুরুত্ব দিচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ পেয়েছেন।

বৈঠকে মুইজ্জু চীনা প্রেসিডেন্টকে বলেন, চীন তাঁর দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মূল্যবান সহায়তা প্রদান করেছে। মালদ্বীপের জনগণ বিআরআই থেকে অনেক উপকৃত হয়েছে, মালদ্বীপ-চীন মৈত্রী সেতুকে দুই দেশের মধ্যে বন্ধনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের কথা থেকে স্পষ্ট, ভারতের পরিবর্তে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতেই আগ্রহী দেশটি এবং চীনা সমর্থন তাঁর ভারতবিরোধী মনোভাবের অন্যতম খুঁটি।

চীনের তরফ থেকে মুইজ্জু ও তাঁর সরকারকে চীনের অকুণ্ঠ সমর্থনের বিষয়টি নিশ্চিত হয় সির বক্তব্য থেকে। মুইজ্জুর সঙ্গে বৈঠকে সি বলেছিলেন, চীন মালদ্বীপের সঙ্গে সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে, উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় শক্তিশালী করতে, উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতার এগিয়ে নিতে এবং চীন-মালদ্বীপের বন্ধুত্বের এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে প্রস্তুত। এই নতুন মানদণ্ডের একটি শর্ত যে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে নেওয়া তা সাদা চোখেই বোঝা যায়।

মালদ্বীপে চীনের প্রভাব বাড়ানোর ভূকৌশলগত গুরুত্বও আছে। ভারত মহাসাগরে চীনের জন্য মালদ্বীপ কৌশলগত দিক থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য মহাসড়কের এমন এক অবস্থানে আছে, যেখান দিয়ে চীনের জ্বালানি তেলের ৮০ শতাংশই পরিবাহিত হয়। ফলে চীন এই সরবরাহ লাইনে বরাবর নিজের উপস্থিতি বজায় রাখার চেষ্টা করবে তাই স্বাভাবিক।

তবে চীনের জন্য বিষয়টি লাভজনক হলেও এই অবস্থা অবশ্যই ভারতের জন্য উদ্বেগজনক। দলমত-নির্বিশেষে মালদ্বীপ যে ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়টি স্বীকার করবেন। যেমনটা স্বীকার করেছেন, ক্ষমতাসীন বিজেপি প্রধান প্রতিপক্ষ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শশী থারুর।

মালদ্বীপে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়ে সতর্ক করে শশী থারুর বলেছেন, ‘চীন যে আমাদের চারপাশ ঘিরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। প্রতিবেশী প্রতিটি দেশে সঙ্গে দেশটির ক্রমবর্ধমান প্রভাব দৃশ্যমান।’

তথ্যসূত্র: গ্লোবাল টাইমস, দ্য ওয়্যার, এনডিটিভি ও চায়না ডেইলি




শীতে বেড়ে যাওয়া ব্যাথা কিংবা এলার্জি রোধে মাত্র একটা লেবু

শীত এসে গেছে, নানান ব্যাথা দেখা দিচ্ছে,  পুরনো ব্যথা হলে তো কথাই নেই। এলার্জির সাথে হরহামেশা গ্যাসের সমস্যাও কাবু করে ফেলছে!  ভয় নেই,  সমাধানও আছে আর তা জানতে পড়ে ফেলুন বাকীটা। লিখেছেন মো. লতিফুর রহমান।

এছাড়াও যদি কারো বাতের ব্যাথা, দাতঁ দিয়ে রক্ত এমনকী কিডনিতে পাথরজনিত তীব্র ব্যাথাও থাকে তাহলে ঝটপট সমাধান হচ্ছে- প্রতিদিন কুসুম গরম পানিতে পুরো একটা লেবু খাওয়া। এটা ভোরে ঘুম থেকে উঠে খাওয়া ভালো। অথবা খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে খাবেন। তবে

👉 শুধু লেবু না খেয়ে এক গ্লাস পানির সাথে খেতে হবে।
👉 পানিটা কুসুম গরম হলে খেতে ভালো লাগবে।
👉 কিন্তু ভুলেও লেবুর সাথে চিনি বা লবণ খাবেন না।

লেবু পানি খাওয়ার কারণে ব্যাথা চলে গেলে তখন মাঝে মাঝে খাবেন।

লেবু যেভাবে উপকার করে:

লেবুতে রয়েছে ভিটামিন-সি ও সাইট্রিক এসিড।

লেবু দুইধারী তলোয়ারের মতো। এটা পেটের পরিবেশ এসিডিক করে ফলে হজম ভালো হয়।

আর হজম হওয়ার পর ব্লাডের বেড়ে যাওয়া এসিডিটি নিউট্রাল করে দেয়। মূলত ব্লাডের এসিডিটি বৃদ্ধি পেলে শরীরে বিভিন্ন রকমের ব্যাথা হয়। তাই লেবু খেলে শরীরের ব্যাথা কমে যায়।

যারা নানাবিধ ব্যাথা, এলার্জি ও ক্লান্তিজনিত সমস্যায় ভুগছেন আজ থেকেই শুরু করতে পারেন। উপকার পেলে কমেন্টে জানাবেন প্লিজ।




ইসলামে দেশপ্রেম

দেশপ্রেম একটি মহৎ গুণ। সব নবি-রাসূল ও মহামানবের মধ্যে পূর্ণমাত্রায় দেশপ্রেম ছিল। ইসলামের ইতিহাস আলোচনা করলে দেখতে পাই, পূর্বসূরি মনীষীরা স্বদেশ ও স্বজাতিকে নিজের সন্তান ও পরিজনের মতো ভালোবাসতেন। স্বদেশ ও স্বজাতির অধিকার আদায়ে যুগে যুগে ইসলামি চিন্তাবিদরা, ধর্মভীরু ব্যক্তিবর্গ তাদের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। তাদের মধ্যে সর্বজন শ্রদ্ধেয় উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন ইমাম হোসাইন (রা.) সপরিবারে শহাদতবরণ, ওমর বিন আবদুল আজিজ (রা.), মুহম্মদ বিন কাসিম, সাইয়্যেদ আহমদ শহিদ, ইসমাঈল শহিদ, মীর নিসার আলি তিতুমির, টিপু সুলতানসহ অসংখ্য মুসলিম নেতা দেশের স্বাধীনতা, মানুষের ধর্মীয় ও জাগতিক অধিকারের জন্য জীবন দান করে গোটা উম্মতের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। আরবি ভাষায় একটি বাণী স্বতঃসিদ্ধ আছে ‘হুব্বুল ওয়াতান মিনাল ইমান’। ‘দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ’। দেশের প্রতি ভালোবাসা মহব্বত ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। জন্মভূমি মক্কা মোকাররমার প্রতি মহানবি (সা.)-এর অপরিসীম ভালোবাসার কথা কে না জানে। মহানবির শিক্ষাই হচ্ছে দেশের প্রতি দেশের মানুষের প্রতি প্রাণী জগতের প্রতি ভালোবাসা। মহানবি (সা.)কে প্রতিপক্ষের প্রভাবশালী লোকেরা হিংস্রতার চরম নিষ্ঠুরতায় মক্কা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করল। তিনি যখন পবিত্র মদিনার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তখন পেছন ফিরে প্রিয় মাতৃভূমির দিকে তাকাচ্ছিলেন আর বলেছিলেন, ‘ভূখণ্ড হিসাবে তুমি কতই না উত্তম, আমার কাছে তুমি কতই না প্রিয়। যদি আমার স্বজাতি আমাকে বের করে না দিত তবে কিছুতেই আমি অন্যত্র বসবাস করতাম না’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৩৯২৬)। এছাড়া আরও অনেক হাদিসে দেশপ্রেমের কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ আমাদের অহংকার। এ দেশ আমাদের গৌরবের মিনার। সুতরাং দেশের প্রতি, প্রতিটি নাগরিকের ভালোবাসা থাকা আবশ্যকীয়। এ ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহ আমাদের দেশপ্রেমের প্রতি উৎসাহ দেয়। ইসলামে রয়েছে দেশপ্রেমের অত্যধিক গুরুত্ব। আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের ন্যায়পরায়ণ শাসকের আদেশ মেনে চল’ (সূরা নিসা : ৫৯)। আরও ইরশাদ হয়েছে-‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পার। আর তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদাবান সে, যে আল্লাহকে সর্বাধিক ভয় করে (সূরা হুজুরাত, আয়াত : ১২)। হাদিসে এসেছে; হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘আমি খেদমতের নিয়তে রাসূলের সঙ্গে খায়বার অভিযানে গেলাম। অতঃপর যখন অভিযান শেষে নবি করিম (সা.) ফিরে এলেন, উহুদ পাহাড় তার দৃষ্টিগোচর হলো। তিনি বললেন, এ পাহাড় আমাদের ভালোবাসে, আমরাও একে ভালোবাসি (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৮৮৯)। এছাড়া হুজুর (সা.) বিদায় হজের ভাষণে বলেন, ‘হে লোক সকল! জেনে রেখ! তোমাদের প্রতিপালক একজন। জেনে রেখ, অনারবের ওপর আরবের, আরবের ওপর অনারবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সাদার ওপর কালোর, কালোর ওপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তবে তাকওয়ার ভিত্তিতে একজন আরেকজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে পারবে’ (মুসনাদ আহমদ, ৫/৪১১; বায়হাকির সূত্রে দুররে মানসুর ৬/১২২)। মহানবি (সা.) আরও বলেন, দেশ রক্ষার জন্য সীমান্ত পাহারায় আল্লাহর রাস্তায় বিনিদ্র রজনি যাপন করা দুনিয়া ও এর মধ্যকার সব কিছুর চেয়ে উত্তম (বোখারি)। অন্যত্র বলেন, ‘আল্লাহর রাস্তায় এক রাতের রিবাদ একমাস ধারাবাহিকভাবে রোজা রাখা এবং এক মাসের রাতগুলো ইবাদত করার চেয়ে উত্তম (মুসলিম শরিফ)। মহানবি আরও বলেন, জাহান্নামের আগুন দুটি চোখকে কখনোই স্পর্শ করবে না, যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কাঁদে এবং যে চোখ আল্লাহর রাস্তায় সীমানা পাহারায় বিনিদ্র রাত কাটায় (তিরমিজি)।

ড. মো. শহিদুল্লাহ বলেছেন, আমাদের মা তিনটি, একটি যিনি গর্ভধারণ করেন দ্বিতীয় আমরা যে ভাষায় কথা বলি সেটি আরেকটি হচ্ছে আমাদের মাতৃভূমি মা। দেশের সব নাগরিক রাজনৈতিক নেতারা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের জনগণের অবশ্য কর্তব্য হচ্ছে দেশের প্রতি ভালোবাসা দেশকে সুন্দর রাখা বিজয় দিবসের এটিই হোক আমাদের অঙ্গীকার। মহান আল্লাহ সব দেশপ্রেমিক শহিদদের জান্নাতবাসী করুন এবং সুখ ও সমৃদ্ধিতে এ দেশ এগিয়ে যাবে এ প্রত্যাশা। সব সময় আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসব।

মোহাম্মাদ মোস্তাকিম হোসাইন 




বিশ্লেষণ: তফসিল পেছালেই কি সমঝোতা সম্ভব?

চন্দ্রদীপ নিউজ ডেস্ক ::  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর)। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগ মুহূর্তেও বিএনপি নির্বাচনে আসে কিনা তা নিয়ে দিনভর সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি কৌতূহল ছিল। সেই কৌতূহল থেকেই বিএনপি আজ মনোনয়নপত্র জমা দেয় কিনা তা দেখতে অনেকেই উৎসুক হয়ে অপেক্ষা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি আজ কোনো মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তি একটি জানার উৎসাহ থাকলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আগেই বুঝতে পারছিলেন যে, বিএনপি নির্বাচনে আসছে না। কারণ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনেও তারা হরতাল পালন করেছে। তাছাড়া বিএনপির পক্ষে নির্বাচনে যাওয়ার জন্য কোনো ধরনের প্রস্তুতিও নেই।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় নেতারা এখন কারাগারে। এই অবস্থায় নির্বাচন নিয়ে সংলাপ হওয়াটাও অসম্ভব। কারণ সংলাপের জন্য কথা বলার মতো নেতা কেউ কারাগারের বাইরে নেই।

কথা হচ্ছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা অতিক্রম করার পর প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নির্বাচনে আসার কিংবা সমঝোতার আর কি কোনো সুযোগ রয়েছে কিনা। আজ দিন শেষে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়নি। তার মানে বিএনপিকে ছাড়াই কি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অথচ একাধিক নির্বাচন কমিশনার বারবারই বলছিলেন বিএনপি নির্বাচনে এলে তফসিল পিছিয়ে দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তফসিল পেছানো এখনো সম্ভব। আর নির্বাচন কমিশনের হাতে সেই ক্ষমতাও রয়েছে। যদিও ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ৪৫ দিন সময় থাকার প্রয়োজন। সেই হিসেবে এবার নির্বাচনের দিন পর্যন্ত এক সপ্তাহ সময় হাতে রয়েছে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিল পেছানো যেতে পারে। বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের ওপর। তবে বিএনপি যদি নির্বাচনে না-ই আসে তাহলে তফসিল পিছিয়ে কি লাভ তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যেহেতু বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা কারাগারে আর যারা বাইরে রয়েছেন তারাও প্রকাশ্যে আসছেন না। এ অবস্থায় আলোচনা বা সংলাপে বসার মতো পরিস্থিতি নেই। রাজনৈতিক যে পরিবেশ এখন বিরাজ করছে কিংবা বিদেশি কোনো দেশের পক্ষ থেকেও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা পার হয়ে গেলেও তফসিল পেছানো যেতে পারে। তফসিল শুধু পেছানোই নয়, চাইলে নির্বাচন কমিশন তা বাতিলও করতে পারেন। সেক্ষেত্রে কমিশনকে অনেক সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অতীতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত কোনো কমিশনকে নিতে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও আর কোনো ধরনের উদ্যোগ নেই। যদিও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সময়সীমা ঠিক রেখে যদি তফসিল সমন্বয় করে সেটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। অর্থাৎ সরকারের পক্ষ থেকে একটি সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবারের পর সেই সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে গিয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

এদিকে সরকারের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ আগে থেকেই পুনঃতফসিলের দাবি জানিয়েছিলেন। তবে সরকারের কাছে রওশন এরশাদের এই দাবি আদৌ প্রাধান্য পাবে না বলেই অনুমিত।

যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি এবং ইউরোপের সাতটি দেশের রাষ্ট্রদূতরা বুধবার নির্বাচন কমিশনে গিয়েছেন এবং বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠক শেষে রাষ্ট্রদূতরা গণতান্ত্রিক, বিশ্বাসযোগ্য, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলেছেন। তবে নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন।

বিএনপি নেতারা অবশ্য বলছেন, তারা যেহেতু সরকারের পদত্যাগের আন্দোলন করছেন, তাই তফসিল পেছানো হোক না হোক এ বিষয়ে তারা উদ্বিগ্ন নন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, তারা একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন চান। এখানে মনোনয়ন জমার সময়সীমা বাড়ালেই তাদের দাবি অর্জিত হবে না।

সবকিছু বিবেচনা করে এবং বিএনপি-আওয়ামী লীগের অনড় অবস্থানে এটা স্পষ্ট যে, তফসিল পেছালেই দুই দলের মধ্যে সমঝোতা হবে না। এজন্য চাই আন্তরিক উদ্যোগ এবং শর্তহীন সংলাপ।

চন্দ্রদীপ নিউজ/ এস এল টি




ঝালকাঠিতে ১ টেবিলে তিন রাজনৈতিক দল

বরিশাল অফিস: ঝালকাঠিতে রাজনৈতিক সৌহার্দের সংস্কৃতি এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা বিষয়ে কর্মশালায় মিলিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতারা। ঝালকাঠি প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরামের (এমএএফ) এ কর্মশালায় মিলিত হন তারা।

কর্মশালায় রাজনৈতিক দলের নেতারা ছাড়াও সাংবাদিক ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। সহযোগিতায় ছিলেন ইউকেএইড। কর্মশালায় মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন করেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের উপ-পরিচালক দিপু হাফিজুর রহমান।

এতে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন- জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন আনু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঝালকাঠি এমএএফের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিল, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সাকিনা আলম লিজা ও ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মানিক রায়।

অংশগ্রহণকারীরা কর্মশালার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সম্প্রীতি নিয়ে আলোচনা করেন। একইসঙ্গে গ্রুপ ওয়ার্কের মাধ্যমে পরিকল্পনা করে উপস্থাপন করেন। উপস্থিত সবাই রাজনৈতিক সম্প্রীতির পক্ষে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন নাগরিক প্রত্যাশা পূরণে যুব সমাজ ও এমএএফের করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিল বলেন, আমাদের আদর্শের জায়গা থেকে আমরা অনেক কথা বলব, অনেক কাজ করব; কিন্তু তা হতে হবে আমাদের দেশের উন্নয়নের জন্য, নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্য আছে, কিন্তু আমরা এক জায়গায় আমরা একমত। এই দেশ আমার, আমাদের। অনেক কষ্টের বিনিময়ে আমরা এই দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা যদি দেশ ও মানুষের কল্যাণ মনে রাখতে পারি, তাহলে রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ, রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে। দেশের, মানুষের ও আমার এলাকার কল্যাণে আমাকে ডাকলে সব সময় পাবেন। কারণ আমরা সুন্দর একটি দেশ চাই।

ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও এমএএফের সাধারণ সম্পাদক সাকিনা আলম লিজা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে মতানৈক্য থাকবেই; কিন্তু আমাদের একে অন্যের মতানৈক্যের প্রতি সহনশীল হতে হবে। তাহলে রাজনৈতিক সৌহার্দের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

ঝালকাঠি জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, আমরা তিন দলের নেতারা এখানে একত্রে বসে আছি। কর্মশালা শেষে আমরা আমাদের আলাদা পথে ফিরে যাব; কিন্তু ভালো কাজের চর্চায়, নাগরিক প্রত্যাশা পূরণে একত্র থাকাটা জরুরি।




সফলতার জন্য ‘টার্গেট’ নাকি ‘হ্যাবিট’ কোনটা গুরুত্বপূর্ণ?

লতিফুর রহমান: ছোটবেলায় পড়েছিলাম নির্দিষ্ট লক্ষ্য না থাকা মানে হচ্ছে লক্ষ্যহীন নৌকার মতো। অর্থাৎ ‘এইম ইন লাইফ’ ছাড়া জীবনে সফলতা সম্ভব না। অথচ লেখক জেমস ক্লিয়ার এটা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। তিনি বললেন,

১. একই লক্ষ্য থাকার পরও খেলাধুলায় কেউ বিজয়ী ও কেউ পরাজিত হয়। তাহলে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়াও আরও কিছু রয়েছে যা সফলতার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

২. লক্ষ্য অর্জনের পর মানুষ হতাশায় ভুগে। কারণ লক্ষ্য অর্জনের পর কী করবে সেটা বুঝতে পারে না। অলিম্পিকে সোনা জিতে অনেকের নাকি এমন দশা হয়েছে।

৩. অনেক সময় লক্ষ্য অর্জনের পর সেটা ধরে রাখা সম্ভব হয় না। যেমন- পরীক্ষার আগে রাতদিন পড়াশোনা করি কিন্তু পরীক্ষা শেষে বই আর ছুয়েও দেখি না। বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য নামাজ পড়ি। বিপদ কেটে যেতেই আল্লাহকে ভুলে যাই।

৪. প্রতিবার আমার লক্ষ্য থাকে ঘর পরিস্কার রাখা। তাই কিছুদিন পরপর সময় নিয়ে পরিশ্রম করি। এর মানে হচ্ছে রেজাল্টকে সমস্যা মনে করছি। অথচ যেই অপরিস্কার অভ্যাসের কারণে ঘর নোংরা হয় সেটাকে সমস্যা মনে করা উচিত।

এজন্য লক্ষ্য অর্জনের চাইতে অভ্যাসকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন লেখক জেমস ক্লিয়ার।

এদিকে আরেক জনপ্রিয় লেখক সাইমন সিনেক বলেন, Goal বা লক্ষ্য থাকার যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেটার সমাধান হচ্ছে ‘ভিশন’।

গোল হচ্ছে এমন বিষয় যেটার নির্দিষ্ট মাইলস্টোন রয়েছে। কিন্তু ভিশনের কোনো মাইলস্টোন নেই। যেমন ডাক্তার হয়ে মানুষের উপকার করা। দোকানদারের ভিশন হচ্ছে ক্রেতার কাছে সর্বদা কোয়ালিটি পণ্য বিক্রি করা। অর্থাৎ মরণের আগ পর্যন্ত ভিশনের পেছনে মানুষ ছুটবে।

তাই আগামী একমাসে ৩ কেজি ওজন কমাবো এটা হচ্ছে গোল। কিন্তু ভিশন হচ্ছে সর্বদা সুস্থ থাকা। ফলে ওজন টার্গেটের মধ্যে এলেও সর্বদা স্বাস্থ্যকর ও পরিমিত খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হবে।

তাদের কথাবার্তা থেকে যেটা বুঝেছি সেটা হচ্ছে গোল, ভিশন ও অভ্যাস সবই গুরুত্বপূর্ণ। একেক বিষয় একেক রকম উপকারের জন্য।

শেষ করছি জেমস ক্লিয়ারের একটা কথা থেকে। তিনি বলছেন, মানুষ যদি প্রতিদিন শতকরা এক ভাগ উন্নতি করে তাহলে বছর শেষে তার ৩৭ গুণ উন্নতি হবে।

তাই আসুন, নিজের ভিশন ঠিক করি। সেটাকে ভেঙে ছোট ছোট টার্গেট সেট করি এবং দিনে দিনে কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে তুলি।




জাতীয় নির্বাচনে বরিশালে দু’টি আসন ঘিরে ধুম্রজাল

এস এল টি তুহিন,বরিশাল : দুইটি আসনে দুইটি পৌর শহরকে ঘিরে গঠিত বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) ও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়জয়কার বলে দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক ভিত্তি কতোটা মজবুত। তারপরেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রশ্নে বরাবরেই আওয়ামী লীগ এ আসন দুটি ছেড়ে দিচ্ছে শরিক দলগুলোকে।

দলের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে তাই বাধ্য হয়েই জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসন দুইটিতে শরিক দলের প্রার্থীদের সাথে থেকে তাদের বিজয় নিশ্চিত করছেন।

কিন্তু নির্বাচনের পর আর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কোনধরনের খোঁজখবর কিংবা এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারছেন না শরিক দলের নির্বাচিত সংসদরা। আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, মহাজোটের যে শরিক দলকেই এ আসন দুইটি ছেড়ে দেয়া হয়, তাদের এ আসনে এককভাবে পাঁচ হাজার ভোটও নেই। মূলত মহাজোটের শরীক দলের প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের ভোটের কারণেই এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হচ্ছেন।

পরবর্তীতে নির্বাচনের পর সেই ত্যাগী ও নির্যাতিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চরমভাবে অবমূল্যায়নসহ সমাজে নাজেহাল করছেন শরীক দলের নির্বাচিত সাংসদরা। তাই আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন দুইটি আওয়ামী লীগের ঘরে নেয়ার জন্য একক প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার জন্য দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে নেতাকর্মীরা জোর দাবি করেছেন।

নেতাকর্মীরা আরও জানিয়েছেন, দেশব্যাপী উন্নয়নের জোয়ার বয়ে গেলেও দুটি পৌর শহর নিয়ে গঠিত ওই দুইটি আসন বর্তমান সরকারের সবধরনের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

এমন অভিযোগ তুলে এবার ওই আসন দুটি ছাড়তে নারাজ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। তারা এবার সরাসরি দলীয় প্রার্থীকে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। অতিসম্প্রতি দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের দেওয়া বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়েছে। তবে শরিক দলের নেতৃবৃন্দের দাবি, হাইকমান্ড যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তার ওপরই তারা আস্থা রাখবেন।

সবশেষ জাতীয় শোক দিবসের মাসব্যাপী কর্মসূচিতে এ দুটি আসনের বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা। তাদের মতে, শরিক দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনধরনের উন্নয়ন করেননি। অন্যদিকে সরাসরি ক্ষমতায় না থাকায় দলও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। তাই দলের নেতাকর্মীদের চাঙা করার স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী দেওয়া জরুরি হয়ে পরেছে। নতুবা আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ দুটি আসনেই নৌকার সমর্থক নেতাকর্মীরা পুরোপুরি নিস্ক্রিয় হয়ে যাবে। তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবেনা।

গত ৩০ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাবুগঞ্জ উপজেলা চত্বরে অনুষ্ঠিত এক সভায় বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির প্রভাবশালী সদস্য মোঃ আতিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, সারাদেশে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের সুফল ভোগ করলেও বাবুগঞ্জ ও মুলাদীবাসী সবদিক থেকে পিছিয়ে আছে। কারণ একটাই এখানে দলীয় সংসদ সদস্য নেই। তাই দলের নেতাকর্মীদের খোঁজতো দূরের কথা, এলাকার সাধারণ জনগনের মাঝেও বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়া হয়নি। ওইসভায় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন থেকে এবার সরাসরি দলীয় প্রার্থীর নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জোর দাবি করেছেন। সেজন্য ওইসভায় সম্ভ্রাব্য প্রার্থী হিসেবে আতিকুর রহমান আতিকের নামও ঘোষণা করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর প্রতিবারই আওয়ামী লীগ বরিশাল-৩ আসনটি শরিক দলগুলোকে ছেড়ে দিয়েছে। আসনটিতে তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী। ২০০৮ সালে মহাজোটের কারণে আসনটি পায় জাতীয় পার্টি (জাপা)। ২০১৪ সালে শরিক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ঘরে যায়। ২০১৮ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি নৌকার টিকিট পেলেও এমপি নির্বাচিত হন জাপার সভাপতিমন্ডলীর সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু।

বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজী এমদাদুল হক দুলাল বলেন, ১৯৭৩ সাল থেকে এই আসনে আওয়ামী লীগের এমপি নেই। তাই দলীয় নেতাকর্মীরা অনেকটা অভিভাবকশূন্য। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন থেকে এখানকার দলীয় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সবধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়াসহ দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে সবধরনের সহযোগিতা করে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকা- প্রচারে জোরালো ভূমিকা পালন করে আসছেন আতিকুর রহমান আতিক। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৩ আসনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা আতিকুর রহমান আতিককে নৌকা মার্কার প্রার্থী করার জন্য দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জোর দাবি করেছেন।

আওয়ামী লীগে যখন নিজ দলীয় প্রার্থীর দাবি, তখন বরিশাল-৩ আসনের বর্তমান এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু বলছেন, তার দল জাপা এবার জোট-মহাজোটে যেখানেই যাক, তিনি ঠিকই প্রার্থী হবেন। এ আসনে আওয়ামী লীগ কোনো দিনই দলীয় প্রার্থী পাবেনা বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী আতিকুর রহমান আতিক বলেন, সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা চতুর্থবারের মতো আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার কোন বিকল্প নেই। এজন্য সরকারের নানামুখী উন্নয়ন কর্মকান্ডকে সাধারণ ভোটারদের কাছে তুলে ধরতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ভোটের হিসেবে বরিশাল-৩ আসনটি এককভাবে আওয়ামী লীগের। তাই আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনটি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেয়ার জন্য দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি।

অপরদিকে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনটি আয়তনে জেলার সবচেয়ে বড় নির্বাচনী এলাকা। মহাজোটের হয়ে মনোনয়ন পেয়ে ২০০৮ সালে এখানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাপার কো-চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার। সবশেষ দুইটি নির্বাচনে এমপি হয়েছেন রুহুল আমিনের স্ত্রী ও জাপার সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নাসরিন জাহান রতনা আমিন।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম চুন্নু বলেন, এরশাদ ও আওয়ামী লীগের শাসনামল মিলিয়ে রুহুল আমিন হাওলাদার ৩০ বছর এ আসনের এমপি। উন্নয়ন নিয়ে তার ওপর মানুষের প্রচন্ড ক্ষোভ রয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও শরিক দলকে এ আসনে আওয়ামী লীগের সমর্থন দেওয়া হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এর প্রতিক্রিয়া দেখাবেন।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমিরুজ্জামান রিপন বলেন, বাকেরগঞ্জ বারবার মহাজোটকে ছেড়ে দেওয়ায় মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। অধিকাংশ ইউনিয়নে এখনো কাঁচা সড়ক। এজন্য ১৫ আগস্ট উপলক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা এবার সরাসরি দলীয় প্রার্থীকে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৬ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন, দলের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মেজর জেনারেল (অবঃ) আবদুল হাফিজ মল্লিক, বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এসএম মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান বাদশা, বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল আলম চুন্নু, সাধারণ সম্পাদক ও তিনবারের পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া। দলের নেতাকর্মীদের দাবি, আওয়ামী লীগ থেকে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে এবার তার বিজয় নিশ্চিত করে এ আসনটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেওয়া হবে।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস বলেন, বরিশাল-৩ ও বরিশাল-৬ আসনের দলীয় নেতাকর্মীরা যে দাবি করেছেন, এটা তাদের ন্যায্য দাবি। দুইটি আসনই আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত দাবি করে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত দেবেন।




‘নারী কিসে আটকায়’

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে একটি বিষয়:- নারী কিসে আটকায়? কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও তার স্ত্রী সোফি গ্রেগরির মধ্যে বিচ্ছেদের ঘোষণা আসার পর ফেইসবুকে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। যে পোস্টে লেখা হয়েছিলো:- জাস্টিন ট্রুডোর ক্ষমতায়, বিল গেটসের টাকায়, ফুটবলার হাকিমীর জনপ্রিয়তায়, হুমাযূন ফরিদীর ভালবাসায়, তাহসানের কন্ঠে কিংবা হৃতিক রোশনের স্মার্টনেস কোনো কিছুই নারীকে আটকাতে পারেনি, বলতে পারবেন নারী কিসে আটকায়? এই পোস্টে যেসব পুরুষের নাম বলা হয়েছে তারা সবাই বিখ্যাত ও সুপরিচিত এবং পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই বিচ্ছেদের পথ বেছে নিয়েছেন। তাহলে প্রশ্ন হলো আমরা কেনো শুধু আমাদের পোস্টে বলছি ‘‘নারী কিসে আটকায়’’? আমরা কি বলতে পারতাম না ‘‘পুরুষ কিসে আটকায়‘‘? তাহলে আমরা কি বলতে চাইছি নারী কোনো কিছুর বিনিময়ে বা কোনো কিছু পাওয়ার আশায় কোনো সম্পর্ক করেন এবং টিকিয়ে রাখেন।

আমাদের এই অঞ্চলে নারীর জীবনে একমাত্র অর্জন বা অবলম্বন হলো বিয়ে। জীবনের সমস্ত স্বাদ আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে স্বামী সংসার এবং সন্তান সেবা করায় যেনো নারীর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। যুগ যুগ ধরে  পুরুষ বাইরে  এবং নারী ঘরের দায়িত্বে নিয়োজিত। তাই ঘর ভাঙলে আমার খুব সহজেই নারীর দিকে আঙ্গুল তুৃলি। পুরো দায়িত্ব নারীর উপর গিয়ে বর্তায় । নারীরা এই দেশে তখনই কাজ করতে স্বাধীন যখন তিনি একজন ভাল রাধূনীও। একজন পুরুষ কিভাবে তার সহকর্মী ও বন্ধুকে বোঝাবেন তার জীবন সঙ্গী একজন আদর্শ ও দুর্দান্ত নারী ? যতক্ষণ না তার আদর্শ জীবন সঙ্গী মজার ও সুস্বাদু রান্না করে  ডাইনিং স্বামীর বন্ধু ও সহকর্মীকে আপ্যায়ন না করেন ততক্ষণ একজন নারীর পক্ষে আদর্শ জীবন সঙ্গী হয়ে ওঠা কঠিন।

একটা সময় ছিল যখন নারীরা শুধুমাত্র গৃহকর্মী বা হোমমেকার ছিলেন। আর এখন একজন নারীকে দেখা যায় তার বাসা ও অফিস দুটোই সামলানোর অদম্য প্রচেষ্টাই ক্লান্ত- পরিশ্রন্ত। যখন একজন নারী সারাদিনের অফিসের সমস্ত কাজকর্ম সেরে বাসায় ফিরে  রাতের খাবার প্রস্তুতে ব্যস্ত, তখন একজন পুরুষ সারাদিনের অফিস শেষে বাসায় ফিরে ব্যস্ত টিভি দেখতে, আরাম করতে, বা তার একান্ত কোনো ব্যক্তিগত কাজে।

বাইরের কাজ করার অনুমতি দেয়ার পাশাপাশি পুরুষেরা যদি তাদের জীবন সঙ্গীকে দিন শেষে রান্নায় সাহায্য করতে পারেন, সন্তানকে স্কুলের জন্য প্রস্তুত করতে পারেন তাহলে নারী আর ক্লান্ত হয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে আটকাবেন না।

খুলনার বটিয়াঘাটায় চার কিশোরী ফুটবলার এর উপর হামলা ও কটুক্তির ঘটনা নতুন কিছু নয়। ফুটবলারদের একমাত্র অপরাধ ছিল তারা আর দশজন ফুটবলার এর মত শর্টস পরে ফুটবল অনুশীলণ করতেন। মূল বিষয়টা এখানে নারীর পোশাক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব চালাচালি হওয়া প্রশ্ন নারী কিসে আটকায়? এর উত্তর হতে পারে নারী কিছুতেই আটকায় না, কিন্তু নারীর পোশাকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা বারবার আটকায়। একজন নারী যতই আধুনিক, স্বাবলম্বী ও স্বকীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী হননা কেনো তিনি যদি আদর্শ জীবনসঙ্গী না হতে পারেন তার সমগ্র অর্জন বৃথা। নারী স্বত্তা তখন পূর্ণতা পায় যখন সে স্বার্থকতার সাথে সংসার, স্বামী ও সন্তান সামলাতে পারেন এবং আত্মত্যাগের জন্য সদা প্রস্তুত থাকেন।

একজন নারী কিন্তু বহ ভূমিকা পালন করেন। সারা বিশ্বের  নারীরা এখনোও পরিবারের প্রাণ কেন্দ্র। ঘরের কাজের সমস্ত চাপ এখনোও নারীরা সামলান। একটা পরিবার ভালো রাখতে ঐ পরিবারের নারীর ভূমিকা সর্বাগ্রে। এত কিছুর পরও পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা নারী তথা একটি গোটা লিঙ্গকে অবদমিত করে রেখেছে।
সবকিছুর মূলে রয়েছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা:- আধিপত্য, শাসন ও শোষণ। মনে রাখতে হবে সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ স্বাধীনচেতা প্রাণী। পুরুষ হোক বা নারী, সে যখন আটকে আছে অনুভব করবে  সে স্বাধীনতা লাভের অদম্য বিদ্রোহী হয়ে উঠবে। পুরুষ তান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার রসদ হিসেবে ‘‘নারী কিসে আটকায়’’ এ ধরণের লেখালেখি হয়ে ওঠে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ। 




সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম মাধ্যম সালাম বিনিময়

সমাজে হিংসা-হানাহানি বিদ্বেষ দূর করে পারস্পরিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ‘সালামের’ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা। ‘সালাম’ শব্দটি মহান রাব্বুল আলামীনের গুন বাচক নাম “সালাম” ইসলামের একটি অন্যকতম বিধান। হযরত আদম (আ:) হতে শুরু করে প্রত্যেক নবীর যুগেই সালামের প্রচলন ছিল এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) আনীত দ্বীনে এর প্রচলনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী তিনটি বিশেষ সুন্নতের ওপর আমল করলে প্রিয় নবি হযরত মুহম্মদ স. অধিকাংশ সুন্নতের ওপর আমল করা সহজ হয়। এর মধ্যের অন্যনতম হলো সমাজে বেশি বেশি সালামের প্রচলন করা। আগে সালাম দেওয়ার চেষ্টা করা। ধর্ম ও জীবন এই পর্বে এ সম্পর্কে লিখেছেন হাফেজ মাওলানা মানজুরুল হক, মুহতামিম, বাইতুল ফালাহ মাদরাসা ও এতিমখানা, আফতাব নগন, বা্ড্ডা, ঢাকা

সহি শুদ্ধভাবে সালাম দেয়ার মাসায়েল:
১. আসসালামু-এর হামযা এবং মীমের পেশকে স্পস্ট করে উচ্চারণ করা! (মুসলিম)
২. পরিচিত-অপরিচিত, ছোট-বড় নির্বিশেষে সকলকে সালাম দিবে মাতা-পিতা স্বামী, ছেলে-মেয়ে সকলকেই সালাম করবে! অনেকে মাতা-পিতা, ছেলে-মেয়ে বা স্বামীকে সালাম দিতে লজ্জা বোধ করে! অথচ এই লজ্জা ঠিক না! কয়েক দিন সালাম দিলেই এ লজ্জা কেটে যাবে! লজ্জা করে সালামের মত একটি ফযীলতের আমল থেকে বঞ্চিত হওয়া বোকামি (বুখারী ও মুসলিম)
৩. সওয়ারী ব্যক্তি পায়ে চলা ব্যক্তিকে, চলনেওলা বসা বা দাঁড়ানো ব্যক্তিকে, আগন্তুক অবস্থানকারীকে, কম সংখ্যক লোক অধিক সংখ্যক লোককে এবং কম বয়সী ব্যক্তি অধিক বয়সীকে আগে সালাম করবে এটাই উত্তম।

৪. সালামের সময় হাত দিয়ে ইশারা করবে না বা হাত কপালে ঠেকাবে না কিংবা মাথা ঝুকাবে না! তবে দূরবর্তী লোককে সালাম করলে-যার পর্যন্ত আওয়াজ না পৌছাঁর সম্ভাবনা রয়েছে-সেরুপ ক্ষেত্রে শুধু বোঝানোর জন্যে হাত দিয়ে ইশারা করা যেতে পারে। আমাদের অভ্যাস হল প্রয়োজন না থাকলেও আমরা সালাম প্রদান করার সময় হাত উঠাই এটা ঠিক না

৫. হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃস্টান, ইয়াহুদী প্রমুখ অমুসলিমকে সালাম করবে না তবে বিশেষ প্রয়োজনে নিজের ক্ষতির আশংকা থেকে বাচাঁর জন্যক একান্তই কিছু বলে যদি তাকে অভিবাদন জানাতেই হয়, তাহলে “গুডমর্নি ” “গুড ইভিনিং “বা শুভ-সকাল ইত্যাদি কিছু বলে অভিবাদন করা যায় (মুসলিম)
৬. কোন মজলিসে মুসলিম অমুসলিম উভয় প্রকারের লোক থাকলে মুসলমানদের নিয়তে সালাম দিবে কিবা নিম্নরূপ বাক্যেও সালাম দেয়া যায় (আসসালামু আলা মানিত্তাবা আল হূদা) (বুখারী ও মুসলিম)
৭. কিছ লোককে আবার সালাম দেয়া নিষিদ্ধ অর্থাৎ মাকরূহ (ক) কোন পাপ কাজেরত ব্যক্তিগনকে (খ) পেশাব-পায়খানায়রত লোককে (গ) পানাহাররত ব্যক্তিকে (ঘ) ইবাদত রত ব্যক্তিকে (ঙ) কোন মজলিসে বিশেষ কথা-বর্তা বলার মুহুর্তে, কথা -বার্তায় ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা থাকলেও সালাম করা উচিত না (চ) গায়রে মাহরাম নারী-পুরুষের মধ্যে যেসব ক্ষেত্রে ফেতনার আশংকা থাকে সেখানে সালাম আদান – প্রদান নিষিদ্ধ। কোন খালি ঘরে প্রবেশ করলে সেখান-ও সালাম দিতে হয়। সেক্ষেত্রে “আসসালামু আলাইনা অ আলা ইবাদিললাহি অথবা “আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল বাইতিস সালিহীন”।

সহীহ্ বোখারী ও মুসলিম শরীফ অবলম্বনে।




শিশুদের চোখে চশমা: সমাধানে করণীয়

লতিফুর রহমান : আমরা মনে করি, পুষ্টির অভাবে বাচ্চাদের চোখে সমস্যা হয় এবং চশমা পরতে হয়। একটু চিন্তা করলে দেখা যাবে, এটা সত্য নয়। কারণ বস্তি ও গ্রামের শিশুরা অপেক্ষাকৃত কম পুষ্টি পেলেও তাদের চোখে চশমা নেই। অথচ উচ্চ ও মধ্যবিত্তদের ঘরে ঘরে বাচ্চাদের চোখে চশমা পরতে হচ্ছে।

সুতরাং পুষ্টি নয়, বরং অন্য কিছুর কারণে এমন হচ্ছে। আর সেটা হচ্ছে- খেলাধুলা না করা এবং মোবাইলে আসক্তি। যেসব শিশুরা মোবাইলে বেশি সময় কাটাচ্ছে তাদের চোখে চশমা উঠছে। আসুন কারণটা একটু ঘেটে দেখি।

মূলত চোখে আলো প্রবেশ করলে আমরা দেখতে পাই। চোখের কালো মনিতে রয়েছে প্রথমে কর্নিয়া, অতপর লেন্স এবং সবশেষে রেটিনা। কর্নিয়া ও লেন্সের মধ্যে দিয়ে আলো রেটিনায় পড়লে আমরা দেখতে পাই। লেন্স পেশি দিয়ে আটকানো থাকে। পেশি লেন্সকে নড়াচাড়া করিয়ে কোনো বস্তুকে রেটিনায় ফোকাস করতে সাহায্য করে। দূরের বস্তু দেখার সময় পেশি প্রশারিত হয় এবং কাছের বস্তু দেখার সময় পেশি সংকুচিত হয়।

আমরা খুব কাছ থেকে মোবাইল চালাই। এতে লেন্সের পেশি দীর্ঘসময় সংকুচিত হয়ে থাকে। ফলে পেশি আগের মতো কাজ করে না এবং কাছের বস্তু ঠিক মতো ফোকাস করতে পারি না। আমরা তখন ঘোলা দেখি। ডাক্তার চশমা দেন।

অথচ চশমা মূলত সমাধান দেয় না। কিছুদিন পর আরও বেশি পাওয়ারের চশমা নিতে হয়। কারণ মূল সমস্যা তো রয়েই গেছে। চোখের পেশির যে সমস্যা হয়েছে সেটা তো ঠিক হচ্ছে না।

তাহলে সমাধান কী?

সমস্যা বুঝলে সমাধানও খুব সহজ। বলুন তো, মোবাইলে ফুটবল খেলা দেখা এবং মাঠে ফুটবল খেলার মধ্যে পার্থক্য কী? খুব সহজ উত্তর। মোবাইলে খেলা দেখলে একভাবে তাকিয়ে থাকতে হয়। আর মাঠে খেলা করলে বিভিন্ন দূরত্বে হাজার বার তাকানো হয়। চোখের পেশিকে এক জায়গায় স্থির থাকতে হয় না।

তাই সমাধান হচ্ছে বাচ্চা থেকে বড় সবাইকে বেশি বেশি দূরের দৃশ্য দেখতে হবে। নীল আকাশ, লেক-নদী-সাগর, পার্কের গাছগাছালি ইত্যাদি। আর খেলাধুলা করতে হবে।

একারণে বাচ্চাদের কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নেয়া সমাধান নয়। মূলত দূরে না তাকানোকে বেশি দায়ী মনে করতে হবে। আর খেলার সময় কাছে দূরের সব দিকেই তাকানো হয়। এজন্য চোখ থেকে চশমা দূর করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।

এছাড়া কিছু চোখের ব্যায়াম করা যায়। যেমন- চোখের সামনে বুড়ো আঙ্গুল কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিতে হবে। এভাবে কাছ থেকে দূরে তাকানোর অনূশীলন করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।