পটুয়াখালীতে বাজুসের মতবিনিময় সভা পটুয়াখালী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) পটুয়াখালী জেলা শাখার সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।

শনিবার (৪ মে) সকালে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের ড. আতাহার উদ্দিন মিলনায়তনে বাজুস জেলা কমিটি এ সভার আয়োজন করে।

সংগঠনটির জেলা সভাপতি বিপুল কান্তি দাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান।

আরো পড়ুন : জীবন্ত ঘোড়া নিয়ে মিছিল, উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীকে শোকজ

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাজুস কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ও বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ডিস্ট্রিক্ট মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব পবিত্র চন্দ্র ঘোষ।

এ সময় স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তারা অনলাইনে জুয়েলারি কিনে গ্রাহকদের প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে এটি প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।




বিশ্ব গণমাধ্যম দিবসে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ মে) পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের আয়োজনে দুপুর ১২ টায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে যথোপযুক্ত আইন প্রনয়ন ও সাইবার সিকিউরিটি আইন সংশোধনের দাবি এ মানববন্ধনের প্রতিপাদ্য বিষয়।

১৯৯১ সালের ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশ অনুযায়ী ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ৩মে তারিখকে “ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে`র ( বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস) স্বীকৃতি দেয়া হয়। ওই দিন থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মত বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করে আসছেন গণমাধ্যমকর্মীগণ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা সরাকারে প্রতি আহবান জানাচ্ছি। দেশে চার হাজারের বেশি পত্রিকা রয়েছে তবে সাংবাদিক রয়েছে কয়েকগুণ এর প্রতিকার প্রয়োজন। কয়েক ধাপে ওয়েস বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালিত হলেও মফস্বল সাংবাদিকরা বেশিরভাগই ওয়েস বোর্ডের আওতায় আসেনি। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি মফস্বলের সাংবাদিকদের ওয়েস বোর্ড এর আওতায় আনা হোক।

আরো পড়ুন : দুমকিকে একটি মডেল ও স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে : চেয়ারম্যান প্রার্থী এ্যাড.মেহেদি হাসান মিজান

তাই প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দিবসটি পালিত হচ্ছে একঝাক প্রবীন ও নবীন সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে।

পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃজাকারিয়া হৃদয় এর সঞ্চালনায় মানব বন্ধনে অংশগ্রহন করেন পটুয়াখালীতে কর্মরত বিভিন্ন গনমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা।

এসময় সাংবাদিকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি দৈনিক সংবাদের জেলা প্রতিনিধি স্বপন ব্যানার্জী, দৈনিক ইনকিলাবের জেলা প্রতিনিধি মোঃ জাকির হোসেন, সাবেক সাধারন সম্পাদক জালাল আহম্মেদ ও সাধারন সম্পাদক জাকারিয়া হৃদয় প্রমুখ।




ঝগড়ার সময় শান্ত থাকতে ৫ উপায়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সম্পর্কে ঝগড়া হবেই। আর ঝগড়া হলে কখনো কেউ মিষ্টি করে কথা বলে না। ঝগড়া মানেই উচু গলায় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। কিন্তু রেগে গিয়ে মানুষ যা বলে, তার বেশিরভাগই অর্থহীন। ঝগড়া কখনো সমাধান আনে না। বরং আপনি যদি সত্যিই সমাধান চান তাহলে ঝগড়ার সময় শান্ত থাকতে হবে। এটি মোটেও সহজ নয়। কিন্তু সম্পর্ক ভালো রাখার খাতিরে আপনাকে শান্ত থাকতে হবে। কীভাবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক ৫ উপায়-




কলাপাড়া ইউএনওর বদলিতে কান্নার রোল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর কলাপাড়া ইউএনও মো: জাহাঙ্গীর হোসেনের বদলী জনিত বিদায়ে বিষন্নতা ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার সকল শ্রেনী পেশার মানুষের মধ্যে। ইউএনও’র বদলীর তথ্য জানাজানির পর নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ সহ সকল শ্রেনী পেশার মানুষ এ বদলী স্থগিত করার দাবী জানান।

মাত্র ১ বছর ১ মাসে ভালোবাসার বিনা সুতোয় বেধেছেন উপজেলার সাধারণ মানুষদের। তার এ বদলী নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই অভিব্যক্তি মত প্রকাশ করেছেন।

কেউ কেউ আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্না জুড়ে দেন উপজেলা কম্পাউন্ডে এসে। গত দুই দিন ধরে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ বিষন্ন মনে এসে ভিড় করে ইউএনও’র সরকারী বাসভবন ও সহ অফিসে। তাদের চোখের অশ্রু দেখে ইউএনও জাহাঙ্গীর হোসেনের চোখ ভিজতে দেখা গেছে।

এর আগে গত ১৮ মার্চ ২০২৪ বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো: শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে কলাপাড়া ইউএনও মো: জাহাঙ্গীর হোসেনকে বরিশালের হিজলা ইউএনও হিসেবে বদলী করা হয়। বর্তমাসে কলাপাড়া উপজেলায় ইউএনও হিসেবে যোগ দেন মো: রবিউল ইসলাম রবি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ইউএনও হিসেবে যোগ দেন মো: জাহাঙ্গীর হোসেন। যোগদানের পর থেকে অসহায়দের সহায়, কন্যা দ্বায়গ্রস্থ পিতার ভরসা, দরিদ্র শিক্ষার্থীর ফরম ফিলাপ সহ বইয়ের যোগানদাতা, কৃষকের কৃষি চাষাবাদে জলাবদ্ধতা নিরসনকারী, দুরারোগ্য অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা সহায়তাকারী, ভিটে মাটি হারা বাস্তুহারাদের আশ্রয়স্থল সহ গনমাধ্যমকর্মীদের কাছে সাংবাদিক বান্ধব ইউএনও হয়ে ওঠেন অল্প ক’দিনেই।

 




কলাপাড়ার নদী ও খাল খনন, পুকুর ও আবাদি জমি ভরাট বন্ধের দাবি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সকল নদী ও খাল খনন, পুকুর ও আবাদি জমি ভরাট বন্ধের দাবি জানিয়ে বিশ্ব পানি দিবস উদযাপন হয়েছে। এবারের বিশ্ব পানি দিবসের প্রতিপাদ্য শান্তির জন্য পানি।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় কলাপাড়ার পানি জাদুঘর এর সম্মেলন কক্ষে এ দিবস উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পানি জাদুঘর ও উন্নয়ন সংস্থা একশন এইড ও আভাস।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পানি জাদুঘর এর সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন বলেন, কলাপাড়ায় শুধুমাত্র পানির অভাবে ও লবনাক্ততার কারনে প্রতি বছর এ মৌসুমে হাজার হাজার একর জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। কৃষি জমি সংলগ্ন পানি নিষ্কাশনের খালের পানি শুকিয়ে যায়। অনেক খাল দখল ও ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে স্থাপনা। তাই ২২ মার্চ পানি দিবসে এসব সকল খাল দখলমুক্ত ও ভরাট হয়ে যাওয়া নদী ও খাল খননের দাবি জানান।

এ সময় কলাপাড়ার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ, গণমাধ্যমের কর্মী ও সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




কলাপাড়ায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় আন্ধারমানিক নদীর তীর ঘেসা পৌর শহরের হেলিপ্যাড মাঠে দূষণমুক্ত নদীর প্রতীকি পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়।

পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমরা কলাপাড়াবাসী এর আয়োজন করে।

এ সময় বক্তব্য রাখেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ উপক‚লীয় সমন্বয়ক সাংবাদিক মেজবাহ উদ্দিন মান্নু, পরিবেশকর্মী কামাল হোসেন রনি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমরা কলাপাড়াবাসী’র সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমুখ।




হয়রানিমূলক কারাদন্ডাদেশ’র নিন্দা, দুমকিতে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সমাবেশ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : তথ্য চাওয়ায় শেরপুরের নকলা উপজেলার দৈনিক দেশ রূপান্তর’র সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানা’কে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ৬মাসের কারাদন্ড দেয়ার প্রতিবাদ এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে পটুয়াখালীর দুমকিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রেসক্লাব দুমকির সভাপতি দৈনিক ভোরের কাগজ প্রতিনিধি প্রবীণ সাংবাদিক মোঃ হারুন অর রশীদ মৃধার সভাপতিত্বে ও দেশ রূপান্তর প্রতিনিধি মোহাম্মাদ মজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি জনকন্ঠ প্রতিনিধি মোঃ শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক যুগান্তর প্রতিনিধি মোঃ সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনন্দ টিভি সাংবাদিক মোঃ মিজানুর রহমান, মানবকন্ঠ প্রতিনিধি সৈয়দ আতিকুল ইসলাম, পর্যবেক্ষন প্রতিনিধি মোঃ সুমন মৃধা, কালবেলা প্রতিনিধি মোঃ রাজিবুল ইসলাম রন্টি প্রমূখ বক্তৃতা করেন।

বক্তারা বলেন, অনিয়মের তথ্য চাইতে গেলেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়াসহ নানা ধরণের হয়রানি করা হচ্ছে।অবিলম্বে সাংবাদিক রানা’র বিরুদ্ধে দায়ের করাা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে রানা’র নি:শর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।সেই সাথে সাংবাদিকরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষিদের শাস্তি দাবি করেছেন। না হলে বৃহত্তর কর্মসূচির হুশিয়ারী করে দেওয়া হয়।




মিয়ানমার ইস্যুতে ঢাকা-দিল্লিকে যে সতর্ক বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : রোহিঙ্গা সংকট ও মিয়ানমারে চলমান অস্থিরতায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে এর প্রভাব অব্যাহত থাকবে বলে ঢাকা ও দিল্লিকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য-এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু।

শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনের থিঙ্কট্যাঙ্ক ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস (ইউএসআইপি)—এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে স্টেট ডিপার্টমেন্ট, ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ও পেন্টাগনের অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে এসব কথা বলেন লু।

মিয়ানমারের পরিস্থিতি শিগগিরই উন্নতি হচ্ছে না এবং বাংলাদেশ ও ‘সম্ভবত ভারতের জন্যও’ যে শরণার্থী সংকট ও নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হচ্ছে তা আরও গভীর হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের উদাহরণ হিসেবে শ্রীলংকার সফলতার প্রশংসা করেছেন ডোনাল্ড লু। এক্ষেত্রে ভারতের মতো অন্যান্য অংশীদারদের সহযোগিতাের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ভারতের প্রতিবেশী সম্পর্কে ওয়াশিংটনের চিন্তা-ভাবনার বিষয়ে তিনি জানান, সম্প্রতি মালদ্বীপ সফরকালে তিনি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, বেইজিং যদি অন্যান্য দেশের সঙ্গে ‘সত্যিকারের প্রতিযোগিতার’ সম্মুখীন হয়, তাহলেই চীন তাদের ভালো অংশীদার হতে পারে।

আফ্রিকার উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোতে একসঙ্গে কী করা যেতে পারে, সে বিষয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠেয় আলোচনার দিকে ইঙ্গিত করে ডোনাল্ড লু ভারত মহাসাগরের ভারতীয় নেতৃত্ব এবং এই অঞ্চলে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেন।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মতানৈক্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারত-চীন সীমান্ত সংঘাত এবং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘ঐতিহাসিক ও গভীর সংঘাতের’ কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, মিয়ানমার পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি যথেষ্ট সময় ব্যয় করেছিলেন।

লু বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ, সেখানে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বার্মার অস্থিরতা এই অঞ্চলের জন্য কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে অনেক সময় ব্যয় করেছি। এক মিলিয়নেরও বেশি লোকের জন্য ঢাকা যে উদারতা দেখিয়েছে তা সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে কাজ করেছে। অনন্য এই উদারতা দেখার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির কক্সবাজার পরিদর্শনের সুযোগ হয়েছিল আমার। এসব শরণার্থীকে ঘরে ফেরানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়গুলোর একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছাও প্রত্যক্ষ করেছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং এই অঞ্চলে আমাদের অংশীদারদের, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতকে সমর্থন করতে হবে, যাতে তারা তাদের দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা বাড়তে না দিয়ে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পারে।’

বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল প্রণয়নের বিষয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এই নতুন বিশ্বকে পরিচালনা করছে এমন প্রশ্নের জবাবে মালদ্বীপের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘এটি এমন জায়গা যেখানে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ অন্যান্য দেশ নিজেদের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা করছে। আমরা আরও ভালো প্রস্তাব দেওয়ার মাধ্যমে জয়লাভ করব….আমার মত হলো চীন তখনই একটি ভাল অংশীদার হবে যখন সেখানে যথার্থ ও সত্যিকারের প্রতিযোগিতা থাকবে।’




মুমিনের ঘুম যখন সওয়াবের কাজ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য। নিন্দাহীনতা এক প্রকারের শারীরিক অসুস্থতা, যা মানবদেহে বহু রোগব্যাধির জন্ম দেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ঘুমকে তাঁর অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) দ্রুত সময়ে রাতে ঘুমিয়ে যেতে বলেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী। রাত্রিকে করেছি আবরণ।’ (সুরা : নাবা, আয়াত : ৯-১০)

মুমিনের ঘুম ইবাদতের অংশ

মুমিন যখন নিয়মানুযায়ী ঘুমায়, তখন তার ঘুম ইবাদতে পরিণত হয়। মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, আমি রাতের প্রথমাংশে শুয়ে পড়ি এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঘুমিয়ে উঠে পড়ি। এরপর আল্লাহ আমাকে যতটুকু তাওফিক দেন তিলাওয়াত করতে থাকি।

এতে আমি আমার ঘুমের অংশকেও সওয়াবের বিষয় বলে মনে করি, যেমন আমার দাঁড়িয়ে তিলাওয়াতকেও সওয়াবের বিষয় বলে মনে করি। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৩৪৪)

মুমিন কখন ঘুমাবে

কোরআনে রাতকে ঘুমের সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হাদিসে দিনের বেলা সামান্য সময় বিশ্রামের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় যাকে ‘কাইলুলা’ বলা হয়।

আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই স্বীয় রহমতে তোমাদের জন্য রাত ও দিন করেছেন, যাতে তোমরা তাতে (রাতে) বিশ্রাম গ্রহণ করো ও (দিনে) তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করো এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৭৩)।

বিনা প্রয়োজনে রাত-জাগা অপছন্দনীয় : আবু বারজা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এশার আগে ঘুমানো এবং এশার পর অহেতুক আলাপচারিতায় লিপ্ত হওয়া অপছন্দ করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬৮)।

মুমিন যেভাবে ঘুমায় 

মুমিন তার জীবনের সব ক্ষেত্রে নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহর অনুসরণ করে। আর ঘুমের কতিপয় সুন্নত হলো—

১. ঘুমের আগে অজু করা : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন নামাজের অজুর মতো অজু করে নাও। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৭)

২. ঘুমের আগে বিছানা ঝাড়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন তোমাদের কেউ বিছানায় শয্যা গ্রহণ করতে যায়, সে যেন তার চাদরের ভেতরের দিক দিয়ে নিজ বিছানা ঝেড়ে নেয়।

৩. ঘুমের আগে আগুন নিভিয়ে দেওয়া : মহানবী (সা.) বলেন, তোমরা যখন ঘুমাতে যাবে ঘরে আগুন জ্বেলে রাখবে না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ; ২০১৫)

৪. খাবারের পাত্র ঢেকে রাখা : নবীজি (সা.) বলেন, তোমরা রাতে বাসনগুলো ঢেকে রাখবে, মশকগুলোর মুখ আটকে রাখবে। কেননা বছরে একটি রাত এমন আছে, যে রাতে মহামারি অবতীর্ণ হয়। যেকোনো খোলা পাত্র এবং বন্ধনহীন মশকের ওপর দিয়ে তা অতিবাহিত হয়, তাতেই সে মহামারি নেমে আসে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫১৫০)

৫. ঘরবাড়ির দরজা বন্ধ করা : নবীজি (সা.) বলেন, তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে দরজা বন্ধ করবে। কেননা শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩০৪)

৬. ঘুমের আগে দোয়া বা অজিফা পাঠ করা : আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রাতে যখন বিছানায় যেতেন, তখন তিনি সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করে দুই হাত একত্র করে তাতে ফুঁক দিতেন। অতঃপর যতদূর সম্ভব সমস্ত শরীরে হাত বুলাতেন। মাথা ও মুখ থেকে শুরু করে তাঁর দেহের সম্মুখ ভাগের ওপর হাত বুলাতেন এবং তিনবার তিনি এরূপ করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০১৭)

পাশাপাশি ঘুমানোর আগে ও ঘুম থেকে ওঠে হাদিসে বর্ণিত নির্দিষ্ট দোয়া পড়া।

৭. ডান কাত হয়ে শোয়া : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন তুমি শোবার বিছানায় যেতে চাও তখন তুমি নামাজের অজুর মতো অজু করো; এরপর ডান পার্শ্বদেশের ওপর কাত হয়ে শুয়ে পড়ো। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৮৮)

আল্লাহ সবাইকে জীবনের সর্বত্র দ্বিন মেনে চলার তাওফিক দিন। আমিন।




পাকিস্তানের নির্বাচন, ক্ষমতার নাটাই কি সেনাবাহিনীর হাতেই?

চন্দ্রদীপ অনলাইন: মুসলিম লীগের নেতা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে ১৯৬২ সালের ৩০ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। দিনটি ছিল মঙ্গলবার। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁকে কারাবন্দী স্বৈরশাসক জেনারেল আইয়ুব খানের সরকার।

সেই ঘটনার ঠিক ৬২ বছর পর, একই তারিখ ও একই দিনে কারাগারে বিশেষ আদালত বসিয়ে পাকিস্তানের আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ফাঁসের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দুটি ঘটনার সাযুজ্য নিয়ে ফরাসি লেখক জ্যঁ ব্যাপতিস্ত আলফনসে কা’র একটি উক্তি মনে পড়ে যায়। তিনি বলেছিলেন, ‘বিষয় যতই পরিবর্তিত হোক, ঘুরে ফিরে আগের মতই থাকে।’ ধরা যাক, আপনি ভাবলেন, নিজেকে অনেক পরিবর্তন করে ফেলেছেন। কিন্তু, দেখা গেল আপনি আগের মত করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং আগের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন।

পাকিস্তানেও যেন একই পরিস্থিতি। আপাতদৃষ্টে দেশটি যতই গণতন্ত্রের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করুক, ঘুরে ফিরে স্বৈরশাসন টিকে থাকছে। রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ তোলা হলেও সোহরাওয়ার্দী ও ইমরান খানকে কারাবন্দী করার কারণ ছিল ভিন্ন। তা হলো, স্বৈরশাসনের কবল থেকে পাকিস্তানের মুক্তির পক্ষে কথা বলা। গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলে পরিচিত সোহরাওয়ার্দী সব সময় চেয়েছেন, পাকিস্তান স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পাক। ইমরান খানও তাঁর ক্ষমতার শেষ দিকে এসে সেনাবাহিনীর বিরাগভাজন হয়েছেন একই কারণে। তবে সেনাবাহিনীর প্রিয়পাত্র হিসেবেই ক্ষমতায় এসেছিলেন ইমরান।

পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন ইমরান খানের দলের প্রতীক ‘ব্যাট’ কেড়ে নিয়েছে। সরকার দলটির নেতা-কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারেও নামতে দেয়নি সেভাবে। বিপরীতে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে দেশের বাইরে থেকে ডেকে এনে সাজা স্থগিত করে নির্বাচনে ব্যাপক সুবিধা দিয়েছে দেশটির তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বিশ্লেষকেরাও মনে করছেন, পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন নওয়াজ শরিফ।

তবে এই নির্বাচনে যেই জয়ী হোক না কেন, পাকিস্তানের ক্ষমতার নাটাই সেনাবাহিনীর হাতেই থেকে যাবে। দেশটির কার্যত শাসক কিংবা কিংমেকার হিসেবে ভূমিকা রয়েই যাবে তাদের। পাকিস্তানের ইতিহাসজুড়েই এর প্রমাণ মেলে। অন্তত ৪ দফায় সামরিক শাসন জারি করা হয় এই দেশে। স্বাধীনতার পর দেশটির বেশিরভাগ সময় কেটেছে স্বৈরশাসকদের হাতে।

সামরিক শাসনের বাইরেও বাকি সময় দেশটির শাসনকাজে সেনাবাহিনী সরাসরি না হোক, পরোক্ষভাবে হস্তক্ষেপ করেছে। কখনো সমর্থিত রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে, কখনো নেতার মাধ্যমে। আবার কখনো কখনো সেনাবাহিনীর প্রিয়রা তাদেরই বিরুদ্ধে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। যেমন- ইমরান খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো। বিনিময়ে ভুট্টোকে প্রাণ দিতে হয়েছে। ইমরান খানও জেলে বন্দী। তবে নওয়াজ শরিফের মতো অনেকেই আবার সমঝোতা করে ক্ষমতার মসনদে ফিরে এসেছেন বারবার।

চীনের কিংবদন্তি নেতা মাও সে তুং বলেছিলেন, ‘দলই সব সময় বন্দুকের নল নিয়ন্ত্রণ করবে, বন্দুকের নল যেন কখনো দলকে নিয়ন্ত্রণ না করে’। কিন্তু পাকিস্তানের বেলায় বিষয়টি উল্টে গেছে। বন্দুকের নলই দলকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। পাকিস্তানের কয়েক দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়, বন্দুকই সব সময় রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো কখনোই বন্দুকের ওপর নিজেদের প্রাধান্য কায়েম করতে পারেনি। ইমরান খান পরিস্থিতির চক্রে বন্দুকের নলকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছিলেন। ফলাফল হিসেবে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত তো বটেই, কারাভোগও করতে হয়েছে।

গত বছরের আগস্টে দেওয়া তোশাখানা মামলার রায়ের পর জানুয়ারির শেষ দিকে কয়েক দিনের ব্যবধানে ইমরানের বিরুদ্ধে তিন মামলায় যথাক্রমে ১০, ১৪ ও ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এটি মূলত পাকিস্তানের কায়েমি স্বার্থগোষ্ঠীর গভীর কারসাজি। বিচারব্যবস্থায় সেনাবাহিনী ও দোসরেরা গভীর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। অভিযোগের সত্যতা যাই হোক না কেন, ক্যাঙারু আদালত তাড়াহুড়ো করে যে রায় দিয়েছে তা ইমরান খানের নির্বাচনী ভাগ্য সম্পূর্ণ ও অপরিবর্তনীয়ভাবে বন্ধ করে দেওয়ার প্রচেষ্টা এবং এটি সেনাবাহিনীর ইচ্ছারই প্রতিফলন।

এই রায়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ইমরান খানকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা জন্য ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একইসঙ্গে তাঁকে আর্থিক ও নৈতিকভাবেও দুর্নীতিগ্রস্ত বলে প্রমাণের প্রয়াস পেয়েছে। একগুচ্ছ রায়ের মাধ্যমে সেনাবাহিনী ও তার দোসরেরা পাকিস্তানের গণপরিষদ নির্বাচনে ইমরান খানের জন্য সামান্যতমও সুযোগও রাখেনি।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইমরান খান যখন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে টার্গেট করে বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মসূচি দিচ্ছিলেন তখন তাঁর প্রধানতম প্রতিদ্বন্দ্বী নওয়াজ শরিফের দল গোপনে ও নীরবে সেনাবাহিনীর আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছিল। দেশে ফিরে নওয়াজ শরিফও সেনাবাহিনীর কোনো সমালোচনাই করেননি। কেবল নওয়াজ নন, পাকিস্তানের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি বা পিপিপিও সেনাবাহিনীকে চটানোর বিরুদ্ধে। সেনাবাহিনীকে ‘নির্বাচনের ফলাফলের নিয়ন্ত্রক’ হিসেবে মেনেই নিয়েছে দলগুলো।

ব্রিটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদ স্যামুয়েল ফাইনার তাঁর বই ‘দ্য ম্যান অন হর্সব্যাক: দ্য রোল অব দ্য মিলিটারি ইন পলিটিকস’ বইয়ে বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে সামরিকবাহিনী সব সময়ই দুটি ভয়াবহ দুর্বলতায় ভোগে। এই দুর্বলতা দুটি তাদের বেসামরিক সহযোগিতা ছাড়া নিজ নামে প্রকাশ্যে শাসন চালানো থেকে বিরত রাখে। তবে এ ক্ষেত্রেও কিছু ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে।’

স্যামুয়েল ফাইনার বলছেন, ‘সেনাবাহিনীর দুটি দুর্বলতার একটি হলো— প্রশাসন বা রাষ্ট্র পরিচালনায় সশস্ত্রবাহিনীর কারিগরি দক্ষতার অভাব। তাদের যে দক্ষতা তা দিয়ে কেবল একটি আদিম সম্প্রদায়কেই শাসন করা সম্ভব। দ্বিতীয়টি হলো—বৈধতার অভাব। অর্থাৎ, শাসন করার ক্ষেত্রে তাদের কোনো নৈতিক অধিকার নেই।’ পাকিস্তানে মানবাধিকার আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূতও স্যামুয়েল ফাইনারের মতো করেই বুঝতে পেরেছিলেন। তাঁর বোধ ছিল, পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে সেনাবাহিনীর ‘বুদ্ধু জেনারেলরাই’ যথেষ্ট।

গভীর উদ্বেগের বিষয় হলো- পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিজেদের দেশপ্রেম, জাতীয় স্বার্থ, পররাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা নীতির চূড়ান্ত প্রণয়নকারী এবং নির্বাহক বলে মনে করে। একইসঙ্গে ক্ষমতা ও শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি নিজেদের কবজায় নিতে তারাই ইমরান খান ও সর্বশেষ পিডিএম জোটের হাইব্রিড শাসনব্যবস্থাকে ব্যবহার করেছে। অথচ ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খান যখন দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন, তখনো এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি।

সরকার ও শাসনব্যবস্থায় সেনাবাহিনী এমনভাবে জেঁকে বসেছে, শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে পিডিএম সরকার সেনাবাহিনীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি দিতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে শাহবাজের পিডিএম সরকার। ফলে, এখন পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ২০১৮ সালের চেয়ে অনেক অনেক বেশি।

যদিও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বা প্রচারণার সময় নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি দেশের বিভিন্ন বিষয় যেমন, সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক, বৈদেশিক নীতি, বেলুচিস্তানে ক্রমবর্ধমান সংঘাত, বেশ কয়েকটি পশতু অঞ্চলে বিপর্যয়কর নিরাপত্তা পরিস্থিতি উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু আগামী দিনে কোনো সরকারই এই বাস্তবতা এড়িয়ে যেতে পারবে না। কোনো সুযোগই নেই।

ক্রমবর্ধমান ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য, বাজেটে সামরিক বরাদ্দ বৃদ্ধির আগ্রাসী ক্ষুধা, অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে সাংবিধানিক অবস্থান ইত্যাদি কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতিতেও সেনাবাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। এই অবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা দলগুলো দেশটির সংকট নিরসনে কোনো ইশতেহারই ঘোষণা করেনি। যাও করেছে, সেগুলো যতটা না নীতি নির্ধারণী, তার চেয়ে বেশি ‘ইচ্ছাপূরণ’ বলেই বেশি প্রতিভাত হয়। ফলে, সরকার যেই আসুক না কেন পাকিস্তানের সরকার পরিচালনার নির্দেশনা আসবে সেনাবাহিনী থেকেই।

পাকিস্তানের ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি, মুহাম্মদ খান জুনেজো ও মীর জাফরুল্লাহ খান জামালির মতো দুর্বলতম প্রধানমন্ত্রীরাও যথাক্রমে প্রতাপশালী স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়াউল হক ও জেনারেল পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে মতভেদ করেছিলেন। সাংবিধানিক কর্তৃত্ব জাহিরের চেষ্টা করায় নওয়াজ শরিফকেও সেনাবাহিনী তিনবার ক্ষমতাচ্যুত করে। সর্বশেষ, দেশের গণতন্ত্র থেকে ইমরান খানকে নির্বাসিত করতে গণতন্ত্রকেই ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী।

ইমরান খানের বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগ রয়েছে। নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে শত্রুতো বটেই, এমনকি বন্ধুদেরও তিনি ছাড় দেননি। কিন্তু তারপরও পাকিস্তান সরকারের উচিত ছিল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তাঁর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

ইমরান খানকে দূরে রাখার জন্য সেনাবাহিনী যেভাবে নির্বাহী বিভাগ, সংসদ, বিচার বিভাগ ও নির্বাচনী যন্ত্র নিয়ে কারসাজি করেছে তা যে কেবল সেসব প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তা নয়, ভবিষ্যতে অস্থিতিশীল ও রাজনৈতিকভাবে বিশৃঙ্খল পাকিস্তান সৃষ্টির মঞ্চও তৈরি করেছে। ইতিমধ্যেই প্রায় অকার্যকর গণতন্ত্র অনেক ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। সব মিলিয়ে নির্বাচনে যারাই জিতুক না কেন, ‘বিপজ্জনক বুদ্ধুরাই’ দেশটিতে রাজত্ব করবে।

দ্য ওয়্যার ।