বাউফলে বিএনপি নেতা গাজী গিয়াসের সাংবাদিক সম্মেলন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও বিএনপি নেতা গাজী মো. গিয়াস উদ্দিন সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন।

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার কালাইয়া বন্দরের প্যাদা রোডে নিজ বাসভবনে এ সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি।

সাংবাদিক সম্মেলনে গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘গতকাল (রোববার) কালাইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন তুহিন ও দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। আমি ওই সাংবাদিক সম্মেলনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতার সাথে রাজনীতি করে আসছি। প্রায় ১২ বছর উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে অত্যাচার নির্যাতন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছি। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বিএনপি নামধারীদের চাঁদাবাজি, লুটপাট ও ব্যবসায়য়ীদের রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি। এতে বিএনপি নামধারী একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে কালাইয়া হাটের ইজারাদার ছিলেন স্থানীয় এমপি আসম ফিরোজের ভাতিজা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহম্মেদ মনির মোল্লা। সরকার পতনের পর তিনি পালিয়ে যান। তখন কালাইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তুহিন ইজারাদার ফয়সাল আহম্মেদ মনির মোল্লার সাথে সমঝোতা করে হাট বাজার নিয়ন্ত্রণে নেন। আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতা করে হাট বাজার দখলের জন্য আমাকেও প্রস্তাব দেওয়া হয় । আমি এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করি। এতে তারা (তুহিন ও আজম) আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেন।

তিনি আরও বলেন,‘ আওয়ামী লীগ ১৭ বছর বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন। সেই আওয়ামী লীগের সমঝোতা করে বিএনপি হাটবাজারের খাজনা আদায় করতে পারেন না। হাটের মূল ইজারাদার মনির মোল্লা। তার প্রতিনিধি হিসেবে তুহিন ও আজম হাট-বাজার পরিচালনা করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার ওপর একাধিকবার হামলা চালায়। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট করে। আমার মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়। তারপরেও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজপথে ছিলাম। কিন্তু যারা তখন ঢাকা চাকরি করেছেন তারা এখন টাকার বিনিময় পদ-পদবী নিয়ে বিএনপি দাবি করছেন। আমিসহ ত্যাগী বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।

যারা বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতা করে হাট বাজার দখল ও ত্যাগী বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠিনক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেন গাজী গিয়াস উদ্দিন।

ওই সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও কালাইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য নুর হোসেন খান, কালাইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সদস্য মো. শাহজাহান মাতব্বর এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফুর রহমান রিফাতসহ শতাধিক বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মী।




পটুয়াখালীতে ড্রোনের মাধ্যমে ভূমি জরিপ বন্ধের দাবীতে কৃষকদের মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে ক্রটিযুক্ত হয়রানিমূলক ডিজিটাল (ড্রোন দ্বরা) ভূমি জরিপ বন্ধ করার জন্য সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া মৌজায় জেএল নং -৪০ এলাকার শত শত ভুক্তভোগী কৃষকদের বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে।

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া মৌজায় জেএল নং -৪০ এলাকায় ক্রটিযুক্ত ডিজিটাল ভূমি জরিপ বন্ধ করার দাবীতে ইটবাড়িয়া দুই নম্বর ব্রিজ থেকে শত শত ভুক্তভোগী বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এসে মানববন্ধন করেন। ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনকালে ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া মৌজায় জেএল নং -৪০ এলাকায় ক্রুটিযুক্ত হয়রানিমূলক ডিজিটাল ভূমি জরিপ বন্ধ করার দাবীতে বক্তব্য রাখেন ভূক্তভোগী মো. ইউসুফ আলী তোতা, শাহ আলম গাজী, নাসির গাজী, গিয়াস উদ্দিন হাওলাদার, মো. নিয়াজ ফরাজী, মোশারেফ হোসেন, কামাল হাওলাদার, বাকি বিল্লাহ, নিয়াজ ফরাজী প্রমুখ।




বাউফলে সাংবাদিকদের মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সাংবাদিকদের উপর হামলা, হুমকি ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে পটুয়াখালীর বাউফলে মানববন্ধন করেছে বাউফল প্রেসক্লাব।

শনিবার বেলা ১১টায় বাউফল প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বাউফল প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, প্রথম আলোর এবিএম মিজানুর রহমান, সমকালের জিতেন্দ্র নাথ রায়, প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি মনজুর মোর্শেদ ও জবাবদিহির আবুল বশার বক্তব্য রাখেন।

আরো পড়ুন :  বাউফলে নদী থেকে বৃদ্ধর মরদেহ উদ্ধার

বক্তারা বলেন, ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর একদল দুর্বৃত্ত কালেরকন্ঠ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এমরান হাসান সোহেলের উপর হামলা. প্রথম আলোর মিজানকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি, ভোরের আকাশ পত্রিকার মো. ফিরোজের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়াসহ সারাদেশের সাংবাদিকদের উপর হামলা ও তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।




দুর্যোগ ঘিরে এমন ‘একতাবদ্ধ বাংলাদেশ’ আগে দেখেনি কেউ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রাকে করে নৌকা-স্পিডবোট নিয়ে বন্যায় প্লাবিত এলাকার মানুষজনকে উদ্ধারে যাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবী মানুষজন। অনেকে কভার্ড ভ্যান, ট্রাক, পিক-আপ ভরে নিয়ে যাচ্ছেন শুকনো খাবার, জরুরি ওষুধ, নিরাপদ পানি, চাল-ডাল। কিছু জায়গায় বানভাসিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে নগদ অর্থ। আবার বন্যার্তদের সহযোগিতায় অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কর্মীরা একদিনের বেতন দান করেছেন। লাইন ধরে দাঁড়িয়ে দাতা প্রতিষ্ঠানে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা পৌঁছে দিতেও দেখা গেছে। অর্থাৎ যে যার জায়গা থেকে যেভাবে পারছেন সেভাবেই দাঁড়াচ্ছেন বানভাসি মানুষদের পাশে। অনেকেই বলছেন, দুর্যোগ ঘিরে এমন ‘একতাবদ্ধ বাংলাদেশ’ আগে দেখেননি তারা।

মূলত, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টিতে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যা সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে ফেনীতে। এছাড়া চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার জেলাও বন্যাকবলিত হয়েছে। এসব জেলাগুলোতে বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অনেক জায়গায় মানুষ মারা যাওয়ার পর কবর দেওয়ার জায়গাও মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে  সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন সাধারণ বেসামরিক মানুষজনও। এর সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক দল, সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ফান্ড সংগ্রহ করছেন।

অরাজনৈতিক, অলাভজনক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তারা ৫০০ টন ত্রাণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া এরইমধ্যে বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) তাৎক্ষণিক ১০ টন খেজুর, ১০ টন চিড়া, ৫ টন চিনি, ৫ টন লবণ ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী নিয়ে আমাদের তিনটি ট্র্যাক ফেনী পৌঁছেছে। সেসব মালামাল পাঁচ হাজার পরিবারের মধ্যে বিতরণ করার কার্যক্রম চলছে। ত্রাণের ব্যাগে প্রতিটি পরিবারকে এজন্য প্রথম ধাপে ২ কেজি খেজুর, ২ কেজি চিড়া, ১ কেজি লবণ ও ১ কেজি চিনি দেওয়া হয়েছে।

এরপর দ্বিতীয় ধাপে আবারও আরও ৩৫ হাজার পরিবারের জন্য শুকনো ও ভারী ত্রাণসামগ্রীর ব্যবস্থা করেছে সংগঠনটি। যার জন্যে ৫০০ টন মালামাল কেনা হয়েছে।

টিএসসিতে ‘গণত্রাণ সংগ্রহ’ কার্যক্রম

বন্যার্তদের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে  চলছে গণমানুষের গণত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে এই কার্যক্রমে প্রথমদিনেই অসংখ্য মানুষ সাড়া দিয়েছেন।

এখানেও অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে নজির স্থাপন করছেন। গণত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচিতে ৬ বছর ছোট্ট ইহান নিয়ে এসেছেন ৩ বছর ধরে জমানো সব টাকা। পুরো প্লাস্টিকের ব্যাংকই তুলে দিয়েছেন বানভাসি মানুষের সহযোগিতার জন্য। এমন অনেকেই যার যার অবস্থান থেকে দাঁড়িয়েছেন।

দুর্গোৎসবের বাজেট থেকে বন্যার্তদের জন্য অর্থ সহায়তা

এবার বন্যা ঘিরে সম্প্রীতির এক নতুন নজির সৃষ্টি করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও। তাদের দুর্গোৎসব আয়োজনের বাজেট থেকে বন্যাদুর্গতদের অর্থ সহায়তা পাঠিয়েছে বরিশালের বেশ কয়েকটি মন্দির কমিটি। আরো কয়েকটি কমিটি সহায়তা পাঠাতে তহবিল প্রস্তুত করেছে বলে জানা গেছে।

বরিশালের সবচেয়ে বড় শ্রী শ্রী শংকর মঠ পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তন্ময় দাস বলেছেন, ফেনী-কুমিল্লাসহ ১০টি জেলায় বন্যায় মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। আমাদের শংকর মঠের পক্ষ থেকে দুর্গোৎসবের জন্য যে বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছিল তার বড় একটি অংশ বন্যাদুর্গতদের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখানে আমাদের মন্দিরের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবী দলও পাঠানো হয়েছে। আরো কয়েকটি মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকার বেশি পাঠানো হয়েছে। আমরা আরও কিছু কমিটির সাথে যোগাযোগ করেছি এবং সকলের প্রতি আহ্বান রেখেছি দুর্গত এলাকার মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য।

সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে পুলিশ, সেনা-নৌ-বিমানবাহিনী

বন্যা দুর্গত সাধারণ মানুষজনের সহযোগিতায় কাজ করছে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থা। উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি রান্না করা খাবারও বিতরণ করছেন তারা। এছাড়া এরকম এলাকাগুলোতেই হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা।

বন্যার্তদের সহযোগিতায় ১ দিনের বেতন দিচ্ছেন অনেকেই

আকস্মিক বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষজন।

বন্যার্তদের জন্য ফ্রি মিনিট ও ইন্টারনেট দিয়েছে অপারেটররা

বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ফ্রি টকটাইম এবং ইন্টারনেট সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে দেশের অপারেটররা। সবার আগে তারাই বন্যার্তদের জন্য সহযোগিতামূলক উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের ৪টি বেসরকারি অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি এবং এয়ারটেল এবং সরকারি অপারেটর কোম্পানি টেলিটকের পক্ষ থেকে এমন সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে জুমার নামাজে বয়ানে ইমামদের আহ্বান

ভয়াবহ ও আকস্মিক এই বন্যায় ১৫টিরও বেশি জেলায় তৈরি হয়েছে মানবিক বিপর্যয়। এমন অবস্থায় বানভাসি ও বন্যাকবলিত মানুষদের পাশে সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদের খতিবরা। এক্ষেত্রে অনেক মসজিদে কমিটির পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করার উদ্যোগ।

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে আগ্রহী অনেক মানুষ

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য-সহায়তা করার জন্য অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছেন। আর বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মহতী আগ্রহকে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকেও স্বাগত জানানো হয়েছে। আগ্রহী ব্যক্তিরা প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের সহায়তার অর্থ পাঠাতে পারবেন।

dhakapost

◑ হিসাবের নাম : ‘প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল’

◑ ব্যাংক : সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখা, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়

◑ হিসাব নম্বর : ০১০৭৩৩৩০০৪০৯৩

এ তহবিলের অর্থ ত্রাণ ও কল্যাণ কাজে ব্যয় করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।




বন্যার্তদের সহায়তায় রাজনৈতিক-ধর্মীয় পরিচয় না দেখার আহ্বান তারেক রহমানের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার দেশে মানুষে মানুষে হিংসা-বিভেদ তৈরি করেছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেছেন, এক ভিডিও বার্তায় ‘আপনাদের প্রতি একান্ত অনুরোধ, মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেবেন না। ব্যক্তিগত ও দলীয় উদ্যোগের পাশাপাশি বন্যার্তদের সহায়তার জন্য সরকার ও প্রশাসন আপনাদের সহযোগিতা চাইলে সাধ্যমতো সহায়তা করবেন।’

দেশবাসীর উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দলমত-নির্বিশেষে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াই তাহলে আল্লাহর রহমতে অবশ্যই এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যাবে।’

বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যার জন্য ভারতকে দায়ী করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের এই বন্যা দেশের অভ্যন্তরে উদ্ভূত কোনো কারণে নয়। বন্যাকবলিত অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হলেও তা দেশের পূর্বাঞ্চলের বন্যার মূল কারণ নয়। বরং এবারের বন্যার মূল কারণ উজানের দেশ প্রতিবেশী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও খামখেয়ালিপনা।




বন্যা সৃষ্টির প্রতিবাদে কলাপাড়ায় গণবিক্ষোভ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ভারতের সাথে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে এবং উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে ডম্বুর ও গজলডোবা বাঁধ খুলে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টির প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গণবিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে কলাপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে গণবিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিল টি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রতিনিধি আল ইমরান, নজরুল ইসলাম, জাকারিয়া আহমেদ, মাশরাফি কামাল, নাজমুল সাকিব প্রমুখ।

বক্তারা বাংলাদেশে বন্যা সৃষ্টির প্রতিবাদে খুলে দেয়া বাঁধের সামনে বাঁধ নির্মাণসহ সকল ভারতীয় পণ্য বর্জনের দাবি জানান। একইসাথে ভারতের বাংলাদেশ বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশবাসীকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান।




বাউফলে জোড়া খুন মামলার বাদীর পরিবারকে হুমকি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলের কেশবপুর ইউনিয়নে দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার বাদীর পরিবারকে বাড়ি ছাড়া করার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে। পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে ইউএনও ও সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। গতকাল দুপুরে লিখিত অভিযোগ দেন নিহত রুমান তালুদকারের মা ফাতিমা বেগম।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২০ সালের ২রা আগস্ট কেশবপুর ইউনিয়নে বিরোধের জেরে যুবলীগ নেতা রুমান ও ইশাদকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুন করা হয়। ওই ঘটনায় নিহত রুমানের বড় ভাই মিন্টু বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মামলার আসামিরা নিহতদের পরিবারকে বাড়ি ছাড়া করার হুমকি, মারধরের চেষ্টা ও চাষাবাদ করতে বাধা দিয়ে আসছেন।

অভিযোগকারী ফাতেমা বেগম বলেন, আমার দুই ছেলেকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। যারা খুন করেছেন তারা এখন এলাকায় তাণ্ডব চলাচ্ছেন। আমরা অবরুদ্ধ হয়ে আছি। পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজী বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




বাউফলে সন্ত্রাসী বাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খুনি ভূমি দস্যু কুখ্যাত সন্ত্রাসী মোতালেব হাওলাদার ও তার পুত্র জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খুনি সন্ত্রাসী মাহমুদ হাসান বাহিনী সহ সকল সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার সহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।

রবিবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১০ টায় বগা বন্দরেব এলাকাবাসীর আয়োজনে এ কর্মসূচী পালিত হয়।

নির্জাতিত পরিবারের পক্ষ থেকে বত্তব্য রাখেন, গনি সিকদার উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক, বাবুল সিকদার বগা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সস্পাদক, নজরুল মৃধা ইউপি সদস্য, আনিচ মৃধা শ্রমিক দল সদস্য, শফিক মৃধা সাংগঠনিক সম্পাদক বগা ইউপি, তোফায়েল আহম্মেদ, কালাম মৃধা উপজেলা বিএনপির সদস্য, জাকির হোসেন, জালাল ফকির, আ: রহমান মাস্টার ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, মিলন মুন্সি, আ: লতিফ ডা:, মজিবর, গোপাল কর্মকার, আ; রহমান ব্যাংকার অব: সহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

মানববন্ধনে সন্ত্রাসী হামলায় আহত সফিক মৃদা ও তার পরিবারের সদস্যসহ এলাকার প্রায় দুই শতাধিক এলাকাবাসী মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন মোতালেব হাওলাদার ও তার পুত্র জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খুনি সন্ত্রাসী মাহমুদ হাসান বাহিনীর অত্যাচারে এলাকা অতিষ্ঠ। দোকানদারদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নিতো। আর চাঁদা না দিলে বিড়ম্বনায় পড়তো হতো দোকানীদের।
মোতালেব হাওলাদার ও তার পুত্র হাসান আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় কাউকেই তোয়াক্কা করে না।

ভুক্তভোগী বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করলে, মোতালেব হাওলাদার এবং তার পুত্র হাসাসকে মামলা থেকে বাদ দেয় থানা পুলিশ। ব্যবসায়ীরা ভয়ে ঠিকমতো ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে না, মোতালেব ও তার পুত্র হাসাস এর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান এলাকাবাসী।




১৩৫ বছরে বিএম কলেজ : শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা

বরিশাল অফিস :: দক্ষিণ বাংলার অক্সফোর্ড হিসেবে পরিচিত বরিশালের ঐতিহ্যবাহী, প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ। দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপীঠটি ১৮৮৯ সালে মহাত্মা অশ্বিনীকুমার দত্ত প্রতিষ্ঠা করেন, তার বাবা ব্রজমোহন দত্তের নামে কলেজটির নামকরণ করেন। একসময় বরিশাল অঞ্চলের একমাত্র উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রস্থল ছিল এই কলেজটি। বরিশালের প্রাচীনতম এই কলেজটিতে পড়াশোনা করেছেন দেশবরেণ্য অসংখ্য গুণিজন। কলেজটির সুনাম, সুখ্যাতি রয়েছে দেশ জুড়ে। ইতিহাস ঐতিহ্য ও গৌরবের ১৩৪ পেরিয়ে কলেজটি পা দিয়েছে ১৩৫ বছরে। শর্তবষী কলেজটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন, অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী, তরুণ লেখক মো. মেহেরাব হোসেন রিফাত

‘ব্রজমোহন কলেজের গৌরব পুনরুদ্ধারে আমাদের অঙ্গীকার’ ::

ব্রজমোহন কলেজ, বরিশাল- যে নামটি শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং বরিশাল শহরের জন্য এক গর্বের প্রতীক। এ কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্রছাত্রীরা এসে এখানকার জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়েছে। তবে গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলতে পারি, এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ধীরে ধীরে অবনতি হয়েছে, যা একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার এবং অনেকের কাছেই গভীর উদ্বেগের বিষয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম মূলভিত্তি হলো তার শিক্ষকরা। ব্রজমোহন কলেজের অনেক শিক্ষকই অত্যন্ত যোগ্য এবং অভিজ্ঞ। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, কিছু শিক্ষকের পাঠদানের পদ্ধতি অত্যন্ত পুরোনো এবং কার্যকারিতা হারিয়েছে। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, কিন্তু আমাদের কলেজে এই দিকটি যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। ল্যাবরেটরি এবং লাইব্রেরির ব্যবহারে নতুনত্বের অভাবও শিক্ষার মানকে প্রভাবিত করছে। প্রশাসনিক কাঠামোর জটিলতা এবং দুর্বলতা শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সময়মতো ক্লাস না হওয়া, পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন এবং ফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রতা শিক্ষার্থীদের মনোবল হ্রাস করছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় না, যার ফলে শিক্ষার্থীরা হতাশা এবং বিভ্রান্তির মধ্যে থাকে। সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং ছাত্রসংগঠনগুলোর কার্যক্রমেও মন্দা দেখা যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শুধু অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমই নয়, বরং ছাত্রছাত্রীদের সর্বাঙ্গীন বিকাশের জন্য সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গত কয়েক বছরে এ ধরনের কার্যক্রমের সংখ্যা এবং মান কমে গেছে, যা শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের অভাব সৃষ্টি করছে। তবে সবকিছুর পরও, ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখনো উচ্চমানের শিক্ষার জন্য একটি গভীর আগ্রহ এবং প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আমি আশা করি, কলেজের প্রশাসন এবং শিক্ষকরা আমাদের এই চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করবেন। শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন এবং মানসিক বিকাশের জন্য একটি আদর্শ পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে পারি। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে স্মরণীয় এবং অর্থবহ করতে, আসুন আমরা আমাদের কলেজের উন্নতির জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকি।

রাইসুল ইসলাম শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ

‘চন্দ্রদীপের প্রদীপ’ ::

আজ থেকে ১৩৫ বছর আগে আঁধারে ঘেরা চন্দ্রদীপের মধ্যে প্রদীপ রূপে জ্বলে উঠেছিল এই ব্রজমোহন কলেজ। প্রদীপালোক পৌঁছে গেছে পদ্মার পাড় থেকে বঙ্গোপসাগর তীরে। তিন শতাব্দীর সেতুবন্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও জ্ঞান বিতরণ করে চলেছে এই ব্রজমোহন কলেজ। বহু শিক্ষার্থী এই ক্যাম্পাসে এসে হয়েছেন প্রতিষ্ঠিত। পেয়েছেন পরিচিতি ও সম্মান। তারা আমাদের গর্ব। আমাদের প্রেরণা ও আবেগ। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সরকারি ব্রজমোহন কলেজ তার গৌরব হারাতে বসেছে। হয়তো যৌবন পেরিয়ে প্রৌঢ় হয়ে যাচ্ছে। আগের মতো সফলতার গল্প শোনা যায় না। প্রত্যাশা পূরণ করছে না এখন আর। বিসিএস পরীক্ষার সাফল্য প্রচার হচ্ছে না। এমনকি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিংয়ে প্রথম হওয়া কলেজটি এখন টপ-থ্রিতেও জায়গা পায় না। ক্যাম্পাসে পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়ে না। বহিরাগত, অছাত্র এবং উচ্চমাধ্যমিকের শিশুশিক্ষার্থীদের চলাফেরা আমাদের ভাবতে বাধ্য করে। বিভিন্নভাবে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ, ক্যানটিন উন্নয়ন, হল অব্যবস্থাপনা নিরসন, বাকসু নির্বাচন, প্রয়োজনীয় কর্মচারী নিয়োগ দেওয়াসহ ইত্যাদি বিষয়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ করছি। পরিশেষে বলতে চাই, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে, শিক্ষাবান্ধব স্মার্ট ক্যাম্পাস চাই।

বনি আমিন শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ

‘দৈন্যদশায় ভুগছে ব্রজমোহন কলেজ’ ::

দক্ষিণবঙ্গের আলোকবর্তিকা হিসেবে পরিচিত, ইতিহাস ঐতিহ্যসমৃদ্ধ সরকারি ব্রজমোহন কলেজ। কথিত আছে, ভারতবর্ষ যখন অন্ধকারে নিমজ্জিত, বরিশাল তখন আলোকিত। মূলত শিক্ষার আলোতেই আলোকিত ছিল বরিশাল। সেই আলোর দীপশিখা জ্বেলেছে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত প্রতিষ্ঠিত ব্রজমোহন কলেজ। ইতিহাস ও ঐতিহ্যে আমাদের কলেজটি ছিল ঋদ্ধ। কিন্তু বর্তমান সময়ে কলেজটির মর্যাদা ও শ্রীবৃদ্ধি ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। আমাদের এই শিক্ষাঙ্গন জাতীয় পর্যায়ে সর্বদাই শীর্ষ পাঁচে থাকত। কিন্তু বর্তমানে সেই স্থানটিও হারিয়ে ফেলছে। জাতীয় রাজনীতিসহ সব ক্ষেত্রেই এই প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিখ্যাত অনেক ব্যক্তি আমাদের এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বর্তমান সময়ে ব্রজমোহন কলেজ তার অতীত জৌলুস হারিয়ে হয়তো বার্ধক্যে উপনীত হচ্ছে। কলেজের কিছু ডিপার্টমেন্টে রয়েছে শিক্ষকস্বল্পতা, প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত ছাত্রাবাস; আবার ক্যাম্পাসে সৌন্দর্য রক্ষার্থে দেখা যায় কলেজ প্রশাসনের চরম উদাসীনতা। রাজনৈতিক অনৈক্য ও অস্থিরতা সমানতালে বিরাজমান। এ ছাড়া এই কলেজে একসময় বিশটিরও বেশি সামাজিক সংগঠন ছিল যেগুলো বিভিন্ন উৎসব, পার্বণে বা সংকটে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখত। কিন্তু ক্রমান্বয়ে সামাজিক সংগঠনগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। আবাসিক ছাত্ররা কায়ক্লেশে ও টানাপড়েন জীবন-সংগ্রাম চালাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা তিনবেলা যে খাবার খাচ্ছে তাতে নেই চাহিদামতো পুষ্টি উপাদান। কলেজ প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপই পারে কলেজের দৈন্যদশা থেকে অতীত ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে। তাই আমি সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে কলেজ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

জাহিদুল ইসলাম পলাশ শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ




যেভাবে সেমিতে যেতে পারে বাংলাদেশ, বাদ পড়তে পারে ভারতও