টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে কলাপাড়ায় মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে টিয়াখালী নদী পাড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।

উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের পশ্চিম লোন্দা গ্রামে টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায়, জোয়ার ভাটায় প্লাবিত প্রায় ২৫০ পরিবার এবং চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে শত শত একর কৃষি জমি। তাই টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং এলাকাবাসীর।

মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ফকু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ মোল্লা, মো. শাহীন মোল্লা, মো. সোহেল মোল্লা, ভুক্তভোগী কৃষক মো. মোশারফ হাওলাদার, বেল্লাল হোসেন, মোসা. হালিমা আয়শা ও মেহেদী হাসান।

বক্তারা বলেন, ‘জোয়ার-ভাটায় আমাদের এলাকার প্রায় ২৫০ পরিবারের ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে যায়। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে না। রান্নাঘরে পানি উঠায় আমরা রান্না করতে পারি না। বিগত দিনে ঘূর্ণিঝড় রেমালের সময় চার দিন পর্যন্ত আমাদের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে ছিল। জোয়ার-ভাটায় কৃষি জমি তলিয়ে যাওয়ার কারণে বছরে একবার চাষাবাদ করতেও আমাদের কষ্ট হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সোহেল মোল্লা বলেন, আমাদের এখানকার প্রায় ২০০ একর জমি তলিয়ে থাকে। তিন ফসলি এই জমি অথচ আমরা এক ফসলও চাষাবাদ করতে পারি না। আমরা অনেক কষ্টের মাঝে আছি। আমাদের এখানে একটা টেকসই বেড়িবাঁধ খুবই প্রয়োজন।




এক দফা দাবিতে মির্জাগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষকদের মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা এক দফা দাবি নিয়ে মানববন্ধন করেছেন।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের ব্যানারে উপজেলা পরিষদের সামনের মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলামের মাধ্যমে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্বারকলিপি দেন শিক্ষকরা।

মানববন্ধনে সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বর্তমানে তারা ১৩তম গ্রেডে শিক্ষকতা করছেন। ইউনিয়ন ভূমি সচিব, পুলিশের সাব ইনসপেক্টর, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার এবং সিনিয়র নার্স ১০ম গ্রেডে বেতন পান। আমরা বৈষম্যের শিকার, একই যোগ্যতাসম্পন্ন হয়েও ১৩তম গ্রেডে থাকায় সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন তারা।

বর্তমান সরকার বৈষম্য নিরসনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের পদকে ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার সুপারিশ করেছে। কিন্তু, এই প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে ১০তম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি জানান শিক্ষকরা। তাই ১০ গ্রেড বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা সোচ্চার আছি।

১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক মো. নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আবদুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দীন মল্লিক, দশম গ্রেড বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ন-আহবায়ক মো. গাজী মশিউর রহমান, মো. শামিম আহমেদ নাসির মোল্লা, মো. নজরুল ইসলাম মিঠু, কমল চন্দ্র হাওলাদার, সামসুল আরেফিন ও আসাদ কামাল, মাহমুদা আক্তার, ইসরাত জাহান রুমি, রোজিনা ইয়াসমিন প্রমুখ।




জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় দেশী-বিদেশী উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়ে রাঙ্গাবালীতে মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘জীবাশ্ম জ্বালানি মুক্ত ভবিষ্যতের জন্য লড়াই’ স্লোগানে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় দেশী-বিদেশী উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করা হয়েছে।

গ্লোবাল ডে অফ ক্লাইমেট এ্যাকশন উপলক্ষে শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলার আগুনমুখা নদীর তীরে এ কর্মসূচি করা হয়। এতে নদী ভাঙন কবলিত এলাকার শতাধিক নারী-পরুষ ও শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

এ সময় গ্রীন হাউস গ্যাস নিঃসরন কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানী গ্রহণ, জ্বালানী নীতিতে নারীদের অবস্থান সুদৃঢ় করা, ন্যায্যতার এবং ঐতিহাসিক দায়ের ভিত্তিতে জলবায়ু তহবিল বৃদ্ধি ও তাতে ভুক্তোভোগী দেশগুলোর অভিগম্যতা সহজীকরণসহ নানা দাবি তুলে ধরেন বক্তারা। সেই সঙ্গে জলবায়ু ন্যায্যতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে অতিসত্বর জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানানো হয়।

সুইডেন দূতাবাসের অর্থায়নে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বেসরকারী সংস্থা ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার (ভার্ক) এর আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন, ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার ভার্কের উপজেলা প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ মোহসীন তালুকদার, রাঙ্গাবালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামরুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক এম সোহেল, ক্লাইমেট এ্যাকশন গ্রুপের সদস্য সাব্বির হোসাইন, প্রকল্প কর্মকর্তা কানিজ সুলতানা প্রমুখ।




আমি কখনো হিজবুত তাহরির-শিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না : মাহফুজ আলম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হয়েছেন মাহফুজ আলম। বলা হচ্ছে কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি পিছনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা মাঠে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি প্রধান উপদেষ্টার সহকারী হওয়ার পর থেকে তার অতীতের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় অনেক কথা উঠেছে। সেই সমালোচনার বিষয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় তিনি নিজস্ব ভেরিফায়েড পেজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হয়েছেন মাহফুজ আলম। বলা হচ্ছে কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি পিছনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা মাঠে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি প্রধান উপদেষ্টার সহকারী হওয়ার পর থেকে তার অতীতের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় অনেক কথা উঠেছে। সেই সমালোচনার বিষয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় তিনি নিজস্ব ভেরিফায়েড পেজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

ইকোনমিক টাইমস-এর এক সাংবাদিক আমার হিযবুত তাহরীরের সাথে মিথ্যা সম্পৃক্ততা নিয়ে লিখেছেন, যা ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে ভারতীয় রাষ্ট্রের ন্যারেটিভে ফাঁসানোর জন্য করা হয়েছে।
আমি আগে যেমন, এখনও তেমন হিযবুত তাহরীরের মতাদর্শের বিরুদ্ধে এবং যেকোনো অগণতান্ত্রিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই আছি।

আমি ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথেও জড়িত ছিলাম না। আমি তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করি নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে তারা আমাকে তাদের প্রোগ্রামে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, কিন্তু তাদের বাংলাদেশ নিয়ে তাদের মতাদর্শ আমাকে আকৃষ্ট করতে পারে নি।

আমি জামায়াতে ইসলামকে অনুসরণ করি নি এবং এখনও করি না। সেই কারণে আমি তামিরুল মিল্লাত বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যান্য শিবিরকর্মীদের মতো কোনো সুবিধা বা অধিকার পাইনি। বরং আমাকে ক্যাম্পাসে ইসলামোফোবিয়া এবং শিবির ট্যাগিংয়ের শিকার হতে হয়েছে।

আমাকে বেছে নিতে হয়েছে নির্জন পথ— মুজিববাদ, ইসলামোফোবিয়া এবং ইসলামী মতাদর্শের বিরুদ্ধে, বাঙালি মুসলমানদের ঐতিহাসিক আকাঙ্ক্ষার অভিমুখে। পরে আমি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক অধ্যয়ন চক্রের সাথে জড়িত হয়ে জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে আমার রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভূমিকা গ্রহণ করি।

আমি মাস্টারমাইন্ড ছিলাম না। তবে নয় দফাসহ ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আমার সাথে পরামর্শ করে এবং আমার ‘অনুমোদন’ক্রমে। গত পাঁচ বছরে প্রায় সব প্রোগ্রাম ও ন্যারেটিভ আমার হাত দিয়েই লেখা হয়েছে। সবই আপনার জানতে পারবেন যদি আমি বা আমার সঙ্গীরা বর্তমানের চ্যালেঞ্জগুলো পার করতে পারি। দোয়া করবেন যেন আমরা সম্মানজনক জীবন যাপন করতে পারি অথবা শহীদ হতে পারি।

আমি একজন বিশ্বাসী এবং বাঙালি মুসলমান। আমি ইসলামী বা সেক্যুলার কোনো মতাদর্শকেই সমর্থন করি না। আমি এই অঞ্চলে  সভ্যতাগতভাবে পরিবর্তিত একটি রাষ্ট্র ও সমাজের রূপকল্প পোষণ করি, যা গড়ে উঠবে দায় ও দরদের আদর্শের ভিত্তিতে। নির্যাতিত জনগণের ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষাগুলো রাষ্ট্রনীতিতে রূপান্তরিত হবে।

ঢাকা হবে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের সভ্যতাগত মেলবন্ধন এবং বেণী লেনাদেনার কেন্দ্র। ইনশাআল্লাহ!

দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি আরও লিখেন, আমি ইসলামী বা অন্য কোনো ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভিপ্রকাশের বিরোধী নই। আমি মনে করি রাষ্ট্রগঠনে সম্প্রদায়গুলোর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভিপ্রকাশসমূহের  সহাবস্থান করার সুযোগ থাকা দরকার। রাষ্ট্রের সেক্যুলার প্রকল্প যেন কোনো সম্প্রদায়েরই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভিপ্রকাশের জায়গাকে সংকুচিত করে না ফেলে। তবে এই অভিপ্রকাশগুলো যেন আবার ফ্যাসিবাদী মতাদর্শের দিকে না যায়।

একদম ঠিক ঠিক করে বললে, আমি লালন বা মার্কসের অনুসারী নই, তাই আমি ফরহাদ মজহারের ইসলাম ও মার্কসবাদ গ্রহণ করি না। লালনকে আমি বাংলার আত্ম-অন্বেষণ চর্চা ও আচার-অনুষ্ঠানের একটি সমন্বিত প্রকাশ হিসেবে দেখি। আর যতদিন পুঁজিবাদ থাকবে ততদিন প্রাসঙ্গিক থাকবেন মার্কস। তবে, বাঙালি মুসলমানদের প্রশ্নটি প্রধানত নদীমাতৃক ইসলাম ও বাংলার মুসলিম সম্প্রদায়ের ফ্রেমওয়ার্কে আলোচনা করা উচিত। বাঙালি মুসলমানদের উচিত হীনমন্যতার শেকল ভেঙে ফেলে তাদের পূর্বপুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বদরবারে ব্যাখ্যা করা।

আমি মাজার/কবর পূজারী নই। আমি বিভিন্ন তরিকার সুফি এবং আলেমদের শ্রদ্ধা করি। কৈশোরকাল এবং পরবর্তী সময়ে আমি অনেক আলেম ও পীরদের সাথে সংযুক্ত ছিলাম। এবং এখনও তাদের সাথে আমার সম্পর্ক আছে। তারা আমাকে নবীর (সা.) প্রতি ভালোবাসায় অভিষিক্ত করেছেন। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আবার, আমি আপোষকামী এবং ফ্যাসিবাদ সমর্থনকারী সুফিবাদ পছন্দ করি না। আমি সেই সুফি ও আলেমদের ভালোবাসি, যারা নিজেদের অধিকারের জন্য দাঁড়ান।

আমি মনে করি, যারা মাজার ভাঙছে তারা আসলে বাঙালি মুসলমানদের সাধারণ আকাঙ্ক্ষা এবং বাংলার ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে কাজ করছে। ঐতিহাসিক সম্প্রদায় হিসেবে বাঙালি মুসলমানদের জোট গঠন করতে হবে দক্ষিণ এশিয়ার মজলুম হিন্দু, বৌদ্ধ, ও মুসলমানের সাথে। এভাবেই দূর করতে হবে মুজিববাদ, ইসলাম-আতঙ্ক, হিন্দুত্ববাদ, এবং ফ্যাসিবাদ-সমর্থনকারী সুফিবাদ ও ইসলামিজমকে। আমরা অনেক বার দেখেছি কীভাবে ফ্যাসিবাদবিরোধী ইসলামিজমও মুজিববাদ ও হিন্দুত্ববাদের বাঁচার উপায় হয়ে উঠেছে।

আমি আমার বাঙালি মুসলমান পূর্বপুরুষদের অনুসরণ করি, যারা ত্যাগ ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে একটি সম্প্রদায় গড়ে তুলেছিলেন। এই সম্প্রদায় এ অঞ্চলে তাদের ন্যায্য হিস্যা পাবে এবং তাদের রূপকল্প বাস্তবায়িত হবে। আমি পশ্চাদপদ জাতীয়তাবাদগুলোর বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের ভেতরে এবং বাইরে আরও আরও মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য দরকার নতুন ভাষা ও শব্দভাণ্ডার।

পুনশ্চ: আমার লেখাগুলোতে কেউ আহত হলে, আমি অন্তর থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি আপনাদের সকলকে সহনাগরিক হিসেবে এবং ভাই ও বোন হিসেবে ভালোবাসি। দয়াল দরদি নবিজিকে সালাম!




পটুয়াখালীতে কৃষকদলের সভাপতি টিটু’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার এর প্রতিবাদে মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলা কৃষক দলের সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান টিটু’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় টিটু’র নিজ গ্রাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের চটুয়ার স্লুইজ এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচী করে এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে স্থানীয়রা জানায়- সোমাবার (৯ সেপ্টেম্বর) জেলা কৃষক দলের সভাপতি মনিরুজ্জামান টিটু’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক যে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট।

লতিফ হাওলাদার, আশ্রাফুল, মাসুম মৃধা,বশির সিকদার তারা আওয়ামী লীগের দোসর। তারা আওয়ামী লীগের সময়ে আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানী করেছে, এখন ও হয়রানি করার চেষ্টা করছে।




রাজাকার খুঁজে বার করার ভার পেলেন তাঁদেরই আইনজীবী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: হত্যা-গণহত্যায় অভিযুক্ত রাজাকারদের কৌঁসুলির হাতেই এ বার রাজাকারদের খুঁজে বার করে বিচারের ভার দিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। জামায়াতে ইসলামীর প্রভাব ইউনূস সরকারের উপরে কতটা, এই ঘটনায় ফের তা সামনে এল।

একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে জনপ্রিয় দাবি ছিল, স্বাধীনতার বিরোধিতা করা জামায়াতে ইসলামীর যে সব নেতা সেই সময়ে রাজাকার, আল বদর, আল শামস নামে সংগঠন গড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের গণহত্যা ও নির্যাতন চালাত, তাদের বিচারের ব্যবস্থা করা। এ নিয়ে বারে বারে সাংস্কৃতিক ও গণআন্দোলন হয়েছে বাংলাদেশ। ২০০৯-এক্ষমতায় আসার পরে শেখ হাসিনা এই কাজের জন্য আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত গঠন করেন। এক ঝাঁক রাজাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারের পরে দণ্ড কার্যকরকরে সরকার। এই রাজাকারের অধিকাংশই জামায়াতের নেতা ছিলেন। বিএনপির এক শীর্ষ নেতা এবং আওয়ামী লীগের এক নেতারও রাজাকার হিসাবে বিচার হয়েছে যুদ্ধাপরাধ আদালতে। চিফ প্রসিকিউটরদের নেতৃত্বে অন্যান্য প্রসিকিউটররা এ জন্য খুবই পরিশ্রম করে প্রমাণ সংগ্রহ করছিলেন, যাতে অপরাধের শাস্তির হাত থেকে কেউ রক্ষা পেতে না পারে ন।

গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পরে যুদ্ধাপরাধ আদালতের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।শনিবার রাতে সেই আদালতের চিফ প্রসিকিউটর নিযুক্ত করা হয়েছেসুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীমোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে। তাজুল যে শুধু জামায়াত ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত তাই নয়, যে সমস্ত রাজাকারকে এ পর্যন্ত এই আদালতে বিচার করা হয়েছে, প্রায় সকলেরই আইনজীবী ছিলেন তিনি। শুনানির পরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথাও বলতেন তাজুলই। নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করার পরে এই দলের কিছু নেতা এবি (আমার বাংলাদেশ) পার্টি নামেএকটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। তাজুল ছিলেন এই দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। চিফ প্রসিকিউটর হওয়ার পরে তিনি এই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর নিয়োগে যুদ্ধাপরাধ আদালত নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের অনেক আইনজীবীর বক্তব্য— রাজাকারদের অন্যতম প্রধান আইনজীবীকেই রাজাকার খুঁজে বার করার দায়িত্ব দিলেন ইউনূস সরকার! এর চেয়ে হাস্যকরকী হতে পারে?

শনিবার রাতে রাজশাহিতে প্রতিবন্ধী এক যুবক আবদুল্লা আল মাসুদকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। মাসুদ রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র লীগের প্রাক্তন নেতা ছিলেন। ২০১৪-য় জামায়াতে ইসলামীর শাখা ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মীরা খুনের উদ্দেশ্যে মাসুদকে প্রচণ্ড মারধর করে হাত ও পায়ের ধমনী কেটে দেয়। তাঁরএকটি পায়ের পাতাও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। কোনও ক্রমে প্রাণে বাঁচলেও নিদারুণ অর্থসঙ্কটে ছিলেন নিম্নবিত্ত পরিবারের মাসুদ। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখার পরে শেখ হাসিনার নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি চাকরি দেওয়া হয় মাসুদকে। তিন দিন আগে মাসুদের একটি মেয়ে হয়েছে। শনিবার তাঁকেখুনের জন্যও ছাত্র শিবিরকেই দায়ী করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। মাসুদকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সাবেক শাসক দলের কর্মী হওয়ার ‘অপরাধে’ মাসুদের এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

কোটা-বিরোধী আন্দোলনের মঞ্চ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এ দিন জাতীয় নাগরিক কমিটিনামে নতুন একটি সংগঠনেরঘোষণা করেছে। এই সংগঠন রাজনৈতিক দল কি না, সেটি স্পষ্ট ভাবে বলতে পারেননি নতুননেতারা। দিন কয়েক আগেরাজনৈতিক দল গঠন করা হবে বলে জানিয়েছিলেন কোটা-বিরোধী আন্দোলনের নেতারা।




জীবন পাল্টে দিতে পারে এ পি জে আব্দুল কালামের এই ১০ বাণী




‘আয়নাঘরে আর কেউ থাকলে তাদের মুক্ত করতে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে’

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলাল বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতা স্থায়ী করতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (বরখাস্ত) আব্দুল্লাহিল আমান আযমীসহ শত শত মানুষকে আয়নাঘরে বন্দি রেখেছে। এখনও বন্দি যদি থেকে থাকে, আয়নাঘর থেকে তাদেরকে মুক্ত করাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। যারা ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। যারা নিষ্ঠুরতা করেছে, তাদের ক্ষমা পাওয়ার কোনও সুযোগ নাই।’

তিনি বলেন, ‘অন্তবর্তী সরকারকে বলবো, দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয় সেই ভূমিকা রাখুন। যে ধরনের সংস্কার দরকার, সেই সংস্কারের উদ্যোগ আপনারা নিন। বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী যেন একটি সরকার গঠন হতে পারে তার উদ্যোগ আপনারা নিন।’

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পটুয়াখালী জেলা শাখার আয়োজনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়, আর্থিক অনুদান প্রদান ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এ বলেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর পটুয়াখালী জেলা আমির অধ্যাপক মুহম্মদ শাহ্আলম-এর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরা সদস্য মাওলানা এ কে এম ফকরুদদ্দীন খান রাযী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া, সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টিসহ জেলা জামায়াতে ইসলামী ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।




রাষ্ট্র সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকারকে ২ বছর দেয়া উচিৎ – নুরুল হক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, রাষ্ট্রের সংস্কারের জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অন্তত দুই বছর সময় দেয়া উচিৎ। বিভিন্ন অফিস আদালতসহ নির্বাচন কমিশনকে ঢেলে সাজানোর জন্য এ সময় তাদের দিতে হবে নচেৎ একটি সুন্দর গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক কোন সংশ্লিষ্টতা নাই।

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে এসব কথা বলেন তিনি।

পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং গণ অধিকার ফোরামের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নুরুল হক বলেন, দুই বছর সরকারের ক্ষমতায় থাকার জন্য কাঠামো আরও বাড়ানো দরকার। ২১ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে রাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থায় তারা ভালোভাবে কাজ করতে পারবে না। এই সরকারের চেহারা জাতীয় সরকারের চেহারায় দেয়া যেতে পারে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আলাপ করে তাদের মনোনীত প্রার্থীদেরকে অন্তর্ভুক্তি করে জাতীয় সরকারের রূপ দেওয়া যায়।

তিনি বলেন, সরকার যদি তাদের লক্ষ্য পরিষ্কার করে তবে রাজনৈতিক দলগুলোর আর কোন সন্দেহ থাকবে না। এই সরকার যদি রাষ্ট্রের সংস্কার করতে না পারে তাহলে কোন রাজনৈতিক সরকারও তা পারবেনা।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এলাকায় এক দলের উত্থান দেখা যাচ্ছে তারা ডিসি অফিস, এসপি অফিসসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। সমাজের প্রয়োজনে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এদের প্রতিহত করতে সাংবাদিকদের শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে।




বাউফলে প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাউফল উপজেলায় ধানদী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুর মোরশেদের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বহী কর্মকর্তার মাধ্যমে শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর এক স্মারকলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।

এ সময় প্রধান শিক্ষককে তার কার্যালয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। ঘটনাস্থলে বাউফল থানার পুলিশ পৌঁছে তাকে নিরাপদে বাসায় ফেরত যেতে সহায়তা করেন।

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের সংযোগ সড়কে ওই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজিত কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন অপর একটি বিদ্যালয়ের (আবদুস সালাম মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়) শারীরিক শিক্ষক সাইদুর রহমান বাচ্চু।

ওই সময় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ওই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মাওলানা আব্দুল ওহাব, আব্দুস ছত্তার, হাসান মৃধা, মো. শাহজাহান মৃধা, শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন, আ. হালিম প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ক্লাস বর্জন করে প্রধান শিক্ষককে অপসারণের জন্য মানববন্ধন করেন কিছু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তবে ৯ম ও ১০ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন বর্জন করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মঞ্জুর মোরশেদ জানান, আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। প্রতিষ্ঠানটি দখলে নিয়ে লুটপাট চালানোর জন্য একটি চক্র উঠে পড়ে লেগেছে এবং শিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে মিছিলে অংশ গ্রহণ করতে বাধ্য করেছেন।