“বাংলাদেশ ছিল আমার কূটনৈতিক জীবনের ব্যতিক্রম অভিজ্ঞতা” — ট্রেস্টার

বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত অ্যাকিম ট্রেস্টার চার বছরের কূটনৈতিক দায়িত্ব শেষে আজ বুধবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন। রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, উন্নয়ন সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক ইউনূস রাষ্ট্রদূত ট্রেস্টারকে তার সফল কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্ক উন্নয়নে রাষ্ট্রদূতের অবদানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “উন্নয়নের যাত্রায় জার্মানি সবসময় আমাদের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। ইউরোপে জার্মানি আমাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, এবং উন্নয়ন সহযোগিতায় তাদের ভূমিকার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

রোহিঙ্গা সংকটে জার্মানির মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জার্মানির অব্যাহত সহায়তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সহায়তা বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে মানবতার একটি অনন্য উদাহরণ।”

বিদায়ী রাষ্ট্রদূত অ্যাকিম ট্রেস্টার বলেন, “বাংলাদেশ আমার কূটনৈতিক জীবনের অন্যতম সেরা পোস্টিং। এখানকার মানুষের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিয়ে বাংলাদেশ ছাড়ছি।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামোর সংস্কার প্রক্রিয়ায় সফলতা কামনা করি। ইনভেস্টমেন্ট সামিটের মতো উদ্যোগগুলো ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। আশা করি, সামনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “রাষ্ট্রদূত ট্রেস্টার আমাদের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হবেন। আপনি বাংলাদেশ ছাড়লেও আমরা ভবিষ্যতেও আপনার মতামত শুনতে আগ্রহী থাকব—তা সমালোচনামূলক হলেও।”

সাক্ষাতে এসডিজি সমন্বয়কারী ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।




জামায়াত নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা: কানাডার হাইকমিশনার

ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত শিং সোমবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, দুপুর ২টায়।

🤝 আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা

বৈঠকে কানাডার পক্ষ থেকে হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন সিনিয়র পলিটিক্যাল অফিসার সিওভান কের এবং পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক অ্যাডভাইজার নিসার আহমেদ। জামায়াতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, এবং কেন্দ্রীয় নেতারা।

🗳️ সংলাপ, নির্বাচন ও সংস্কার

বৈঠকে বাংলাদেশ-কানাডা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়, রাজনৈতিক সংস্কার, নির্বাচন ব্যবস্থা ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।

ডা. তাহের জানান, হাইকমিশনার “ঐকমত্য কমিশন” সংক্রান্ত সংলাপ নিয়ে জানতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা জানিয়েছি, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, একই ব্যক্তির একাধিকবার প্রধানমন্ত্রিত্বে নিষেধাজ্ঞা, নতুন ভোটার তালিকা, সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনসহ বেশ কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে মতৈক্য হয়েছে। তবে কিছু মৌলিক বিষয়ে এখনো ঐকমত্য হয়নি।”

তিনি আরও জানান, “এই বিষয়ে আমরা গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছি এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির আহ্বান জানিয়েছি যাতে কেউ ফ্যাসিস্ট আচরণ করতে না পারে।”

💰 কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার অনুরোধ

বৈঠকে নির্বাচনী কাজে সিসিটিভি সহায়তা এবং বাজেট সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়। জামায়াত প্রতিনিধি দল কানাডাসহ উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে আর্থিক অনুদানের আহ্বান জানায়। হাইকমিশনার জানান, তিনি বিষয়টি জাতিসংঘের মাধ্যমে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেবেন।

🇨🇦 কানাডার প্রতিশ্রুতি

কানাডা বাংলাদেশে স্বাধীন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে।


📌 সংক্ষিপ্তভাবে মূল আলোচনা বিষয়সমূহ:

  • রাজনৈতিক সংস্কার ও নির্বাচন পদ্ধতির আধুনিকায়ন
  • অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা ও সংলাপ
  • গণভোটের প্রস্তাব
  • লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ
  • নির্বাচনী বাজেট ও আন্তর্জাতিক অনুদান
  • কানাডার কারিগরি সহায়তা ও ভবিষ্যত সহযোগিতা



দ্বিতীয় দিনের ঐকমত্য সভায় জামায়াতের সক্রিয় অংশগ্রহণ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের (জিওকম) দ্বিতীয় ধাপের দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভায় প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (১৮ জুন) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে শুরু হওয়া আলোচনায় দলটির পক্ষ থেকে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অংশ নেন।

সভায় আজকের আলোচ্য বিষয় ছিল—জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি), রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি এবং জেলা সমন্বয় কাউন্সিল গঠন।

সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে একে একে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হতে থাকেন।

উল্লেখ্য, প্রথম দিনের আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামী উপস্থিত না থাকলেও আজকের বৈঠকে তাদের অংশগ্রহণকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সভা শেষে গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত নেতারা জানান, গঠনমূলক জাতীয় সংলাপে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।




প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: সারজিস

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, প্রবাসীদের ভোটের কথা উঠলেই সংশ্লিষ্টরা নীরবতা পালন করেন কেন।

সোমবার (১৬ জুন) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

সারজিস তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘অভ্যুত্থানের সময় প্রবাসীরা রেমিটেন্স শাটডাউনের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়াকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স। অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার— ভোটাধিকারের প্রশ্ন উঠলেই নীরবতা দেখা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোন পদ্ধতিতে সবচেয়ে সহজে ও স্বচ্ছভাবে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা যায়, সে সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নিক। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রবাসী ভাই-বোনদের ভোটাধিকার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।’

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সারজিস আলম প্রবাসীদের অধিকার ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে সোচ্চার বক্তব্য দিয়েছেন।




ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও তারেক রহমানের বৈঠক দেশের রাজনীতির এক টার্নিং পয়েন্ট : মির্জা ফখরুল

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লন্ডন বৈঠককে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই সঙ্গে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমা এগিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে দেশের গণতন্ত্রের জন্য ‘সুসংবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

শুক্রবার বিকেলে লন্ডনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা আজ বহুল প্রতীক্ষিত একটি সুসংবাদের প্রত্যাশায় ছিলাম। ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক নিয়ে গোটা জাতি উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিল। আমি আগেই বলেছিলাম—এই বৈঠকটি একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। বাস্তবেও সেটিই ঘটেছে।”

তিনি জানান, বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, আলোচনা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় নির্বাচন ইস্যুই ছিল প্রধান। তারেক রহমান নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তনের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটি গৃহীত হয়েছে। ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে দু’পক্ষ সম্মত হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “তারেক রহমান আবারও প্রমাণ করেছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলী তার রয়েছে। এই বৈঠকে তিনি অত্যন্ত সফল হয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে আমি তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই।”

ড. ইউনূসকেও ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “সবকিছু যখন অনিশ্চয়তার মধ্যে চলে গিয়েছিল, তখন ড. ইউনূস ও তারেক রহমান সেই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “চতুর্দিকে যখন অনিশ্চয়তা ছিল, তখন দুই নেতা প্রমাণ করেছেন—বাংলাদেশের মানুষ প্রয়োজনের সময় একত্রিত হতে পারে এবং সঠিক নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।”




ড. ইউনূসকে কলম ও বই উপহার দিলেন তারেক রহমান

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে লন্ডনে বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠক চলাকালে প্রধান উপদেষ্টাকে তিনটি উপহার দেন তিনি। উপহারগুলোর মধ্যে ছিল একটি কলম ও দুটি বই।

শুক্রবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় বৈঠকটি শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার কিছু পর শেষ হয়। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে উপহারের বিষয়টি জানান।

শফিকুল আলমের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, তারেক রহমানের দেওয়া উপহারগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি ফাউন্টেন পেন, গ্রেটা থুনবার্গের লেখা ‘No One Is Too Small to Make a Difference’ এবং ‘Nature Matters’ (সম্পাদনা করেছেন মোনা আর্শি ও ক্যারেন ম্যাকার্থি উলফ) বই দুটি।

এর আগে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে বাসা থেকে রওনা হয়ে বৈঠকের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছান তারেক রহমান। হোটেলে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

বিএনপির পক্ষ থেকেও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানানো হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।




৪০ বছরের অপেক্ষার পর হজে গেলেন ইন্দোনেশীয় পরিচ্ছন্নতাকর্মী দম্পতি

চার দশকের সঞ্চয়, অগাধ ধৈর্য আর অটুট বিশ্বাস—এই তিন শক্তিকে সম্বল করে অবশেষে হজ পালনের স্বপ্ন পূরণ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তার স্ত্রী। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে প্রতিদিন মাত্র ১,০০০ রুপিয়া করে জমিয়ে, ২০২৫ সালে এসে তারা সৌদি আরবে পৌঁছেছেন পবিত্র হজ পালনের জন্য।

লেজিমান নামের এই পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তার স্ত্রী ‘মক্কা রুট’ নামক একটি বিশেষ হজ কর্মসূচির আওতায় এবার ইন্দোনেশিয়া থেকে সৌদি আরবে গিয়েছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু দেশের হজযাত্রীরা নিজ দেশেই ভিসা, পাসপোর্ট ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারেন, ফলে যাত্রা হয় সহজ ও সাশ্রয়ী।

সৌদি প্রেস এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেজিমান বলেন,“আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে, আমি নিজের চোখে কাবা শরীফ দেখতে পাবো। আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি তাদের প্রতি, যারা আমাদের পাশে ছিলেন।”

তিনি জানান,“১৯৮৬ সালে আমি প্রতিদিন মাত্র ১,০০০ রুপিয়া সঞ্চয় শুরু করি। আয় দিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর ছিল, তবু আমরা হাল ছাড়িনি। কঠিন পরিশ্রমের মধ্যেও আমরা একদিন হজে যাব—এই আশা নিয়েই টিকে ছিলাম।”

এই দম্পতির এই সাধনার খবর ছড়িয়ে পড়েছে ইন্দোনেশিয়া ছাড়িয়ে সারা মুসলিম বিশ্বে। অনেকেই তাদের জন্য দোয়া করছেন যেন তারা সুস্থভাবে হজ পালন করে দেশে ফিরতে পারেন।

উল্লেখ্য, মুসলিম জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ, যদি শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম হওয়া যায়। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে এ বছর প্রায় ২ লাখ ২১ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব যাচ্ছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ইরানে হামলার ব্যাপারে রাশিয়া-তুরস্কের ‘না’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ইরানের পারমাণবিক ইস্যুটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সমস্যাটি কেবল শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করা উচিত।

আর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা করুক তা তার দেশ চায় না।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর দেশটিতে হামলা শুরুর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এমন হুমকির ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে পেসকভ বলেন, রাশিয়া মনে করে ইরানের পারমাণবিক ডসিয়ারের সমস্যাটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করা উচিত। সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সময় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপরেও মনোযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

পেসকভ উল্লেখ করেছেন, রাশিয়া এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে নিযুক্ত। তা সত্ত্বেও ইরান এখনো রাশিয়ার মিত্র ও অংশীদার।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, মস্কো ও তেহরান বহুমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।
তুরস্কও একইরকম বার্তা দিয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি না হলে ইরানে বোমা হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, তুরস্ক ওই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতার নতুন উৎসে আগ্রহী নয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা করুক তা তার দেশ চায় না।

এক সংবাদসংস্থাকে ফিদান বলেন, ওই অঞ্চল অস্থিতিশীলতার আরেকটি বড় উৎস হলো নতুন করে যুদ্ধ। এটি মেনে নেওয়ার মতো নয়। এ ধরনের হামলার ক্ষেত্রে কী ধরণের উত্তেজনা দেখা দিতে পারে, তা অজানা। তাই ইরানের ওপর কোনো মার্কিন হামলা তুরস্ক দেখতে চায় না। অতীতের মতো উভয় পক্ষ ও আগ্রহী পক্ষের দ্বারা শান্তিপূর্ণ আলোচনার আয়োজন দেখতে হবে।

গত ৩০ মার্চ ইরানে হামলার হুমকি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, পারমাণবিক আলোচনা ব্যর্থ হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। চুক্তি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করলে দেশটির ওপর নজিরবিহীন বোমা হামলার হুমকিও দেন তিনি।

এমন হুমকির পর ইরানি কর্মকর্তারা কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তারা বলেছেন, ইরানের ওপর যেকোনো আক্রমণের জবাব দ্রুত ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।




পঙ্গু হাসপাতালের আইসিইউতে আগুন

ঢাকার শের-এ-বাংলা নগরের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) আইসিইউতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) রাত সোয়া ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিস আগুন লাগার খবর পায়।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার মো. শাহজাহান আলী জানান, রাত ১০টা ১৮ মিনিটে অর্থোপেডিক বিভাগের আইসিইউতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে এরই মধ্যে হাসপাতালের কর্মী ও উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

এ অগ্নিকাণ্ডের কারণে আইসিইউতে থাকা রোগীদের স্থানান্তরের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছে কি না বা আইসিইউর যন্ত্রপাতি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পঙ্গু হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা রোগী ও স্বজনদের উদ্বিগ্ন করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন আইসিইউর মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত ছিল।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ নির্ণয় এবং এর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গলাচিপায় অসহায় পরিবারের জমি বন্দোবস্তের দাবিতে মানববন্ধন

পটুয়াখালীর গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলায় বসবাসরত ৩৬৫ অসহায় পরিবারের জমি বন্দোবস্তের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে শত শত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

বক্তারা জানান, ১৯৯৪ সাল থেকে চরবাংলায় তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ও বিত্তবান ভূমি দস্যু নতুন ম্যাপ তৈরি করে জমি নিজেদের নামে রেকর্ডভুক্ত করেছে। এর ফলে বসবাসরত ৩৬৫ পরিবারকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চলছে। তারা সরকারি কর্মকর্তাদের সরেজমিনে তদন্ত করে প্রভাবশালীদের বন্দোবস্ত বাতিল এবং জমি প্রকৃত বসবাসকারীদের নামে বন্দোবস্ত দেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তারা আরও বলেন, দাবি আদায় না হলে কাফনের কাপড় পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভূমি অফিসের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করবেন।

মানববন্ধনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গলাচিপা শাখার সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক, সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, সেক্রেটারি মাওলানা জাকির হোসাইন, চরবিশ্বাস ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা ইমরান নাজির এবং ভূমিহীন কৃষক মাওলানা আব্দুর রব উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম