বরিশালে কমিউনিটি ভিত্তিক ন্যায়বিচার প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা

বরিশাল, ব্যুরো চীফ: কমিউনিটিভিত্তিক বিরোধ মীমাংসার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে অংশীজনদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেন্ডার ন্যায্যতাভিত্তিক অভিগম্যতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি সংস্থা নাগরিক উদ্যোগের বাস্তবায়নে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এই সভার আয়োজন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভার সভাপতিত্ব করেন বেসরকারী সংস্থা এইডের নির্বাহী পরিচালক ও উপজেলা এনজিও সমন্বয় কমিটির সভাপতি প্রেমানন্দ ঘরামী।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ দেবনাথ, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. মাহবুবুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বিভাষ চন্দ্র বাড়ৈ, সমবায় কর্মকর্তা আফসানা শাখী এবং প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম জহির।

সভায় বক্তব্য রাখেন সরিকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মোল্লা, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম ফকির, নলচিড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সেকান্দার আলী মৃধা প্রমুখ।

নাগরিক উদ্যোগের সিনিয়র প্রোগ্রামার মো. আবু নাসের সঞ্চালনায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম ও দিক নিয়ে আলোচনা করেন প্রকল্প কো-অর্ডিনেটর লাকী আক্তার এবং আঞ্চলিক সমন্বয়কারী সুপ্রিয় দত্ত। সভায় বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ৬০ জন অংশীজন অংশগ্রহণ করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাংলাদেশ–পাকিস্তান ইস্যুতে নীরব থাকবেন না মোদি: বিজেপি নেতা

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চুপ থাকবেন না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির এক শীর্ষ নেতা। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মোদির প্রভাব এতটাই শক্তিশালী যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিরাও তাঁকে ভয় পায়।

ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু দাস নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তওয়ার এলাকায় একটি হিন্দু সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সনাতন ধর্ম সেবার প্রেসিডেন্ট মোহন্ত রাম সারন দাস আচার্য্যের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ‘বন্ধ’ ঘোষণা করা হলে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী তাদের দোকানপাট বন্ধ রেখে সংহতি প্রকাশ করেন।

বিক্ষোভে অংশ নিয়ে জম্মু–কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও বিজেপি নেতা সুনীল শর্মা বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদি কোনোভাবেই নীরব থাকবেন না। তাঁর মতে, মোদি বিশ্বব্যাপী হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য, এক আশার প্রতীক।

সুনীল শর্মা আরও দাবি করেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে একটি সুপারপাওয়ারে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। এই অগ্রযাত্রা থামাতে কিছু দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতকে যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজেপি নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো শক্তিশালী দেশগুলোও নরেন্দ্র মোদির প্রভাবকে ভয় পায়। তিনি বাংলাদেশের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে বিদেশি উসকানির ফল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করতেই এসব পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

ইকোনোমিক টাইমসের সূত্র উল্লেখ করে সুনীল শর্মা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে মোদিজি অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আল্লাহ যেসব জায়েজ বিষয় থেকেও দৃষ্টি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন ‘

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ দুনিয়াবী বিষয়গুলো নিয়ে যার ভেতর আকর্ষন এবং হীনমন্যতা বেশী কাজ করে, তার জন্য জরুরী এরকম ক্ষেত্রেও দৃষ্টির হিফাযত করা। যার লেটেস্ট মডেলের গাড়ীর প্রতি ফ্যাসিনেশন আছে, এরকম গাড়ি চোখে পড়লেই তার জন্য চোখ সরিয়ে নেয়া জরুরী। সুন্দর বাড়ী বা এপার্টমেন্ট, লেটেস্ট মডেলের মোবাইল ফোন বা আকর্ষণীয় কোন ড্রেস – যেগুলো দেখলে তার নিজের ভেতর আফসোস এবং আকর্ষণ তৈরি হয়, সে যেন এসব কিছু থেকেও দৃষ্টির হিফাযত করে।

 

স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তার রাসুলকে এরকম আদেশ দিয়েছেন।

 

وَلَا تَمُدَّنَّ عَیۡنَیۡکَ اِلٰی مَا مَتَّعۡنَا بِہٖۤ اَزۡوَاجًا مِّنۡہُمۡ زَہۡرَۃَ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۬ۙ لِنَفۡتِنَہُمۡ فِیۡہِ ؕ وَرِزۡقُ رَبِّکَ خَیۡرٌ وَّاَبۡقٰی

 

হে নবী! তুমি পার্থিব জীবনের ওই চাকচিক্যের দিকে তাকিও না, যা আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণীকে সাময়িক উপভোগের জন্য দিয়ে রেখেছি, তা দ্বারা তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। বস্তুত তোমার রব্বের রিযক সর্বাপেক্ষা উত্তম ও সর্বাধিক স্থায়ী। – সুরা ত্বহা, আয়াত ১৩১।




যে ১০ অভ্যাসে শিশুরা নৈতিক ও মানবিক গুণাবলী অর্জন করতে পারে

শিশুরা সমাজসেবা করার মাধ্যমে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলী অর্জন করতে পারে। এখানে ১০টি সমাজসেবা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে:

০১. টিফিন শেয়ার করা:

শিশুরা সহপাঠীদের সাথে টিফিন শেয়ার করলে দরিদ্রদের সাহায্য করে এবং অতিথি সেবার গুণাবলী অর্জন করে।

০২. অসুস্থ গুরুজনের সেবা করা:
অসুস্থ পরিবারের সদস্যদের সেবা করা শিশুদের মমত্ববোধ ও সহানুভূতির শিক্ষা দেয়।

০৩. পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা:
শিশুরা নিজেদের আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে তা সদকাস্বরূপ হয়ে যায়।

০৪. পড়ায় পিছিয়ে থাকা বন্ধুদের সাহায্য করা:
শিশুরা তাদের সহপাঠীদের পড়াশোনায় সাহায্য করলে সওয়াব অর্জন করে।

০৫. অন্যকে পানি পান করানো:
পানি পান করানো এক মহান সদকা, যা শিশুরা সমাজসেবায় অংশগ্রহণ হিসেবে করতে পারে।

০৬. ছোটদের প্রতি সদাচার করা:
শিশুরা তাদের ছোটদের সাহায্য করে নেক কাজের মধ্যে থাকবে।

০৭. প্রতিবেশীর প্রতি সদ্ব্যবহার:
প্রতিবেশীদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে, তাদের সাহায্য করা শিশুর জন্য সমাজসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

০৮. উপকারীর জন্য দোয়া করা:
যে কেউ তাদের উপকার করলে, তার জন্য দোয়া করে শিশুরা সওয়াব অর্জন করতে পারে।

০৯. প্রাণী ও গাছের প্রতি দয়া করা:
গৃহপালিত প্রাণী ও গাছের প্রতি সদয় আচরণ করা শিশুর জন্য সমাজসেবার আরেকটি বড় সুযোগ।

১০. হাসিমুখে কথা বলা:

শিশুরা পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলে সদকার সওয়াব অর্জন করতে পারে।

এভাবে শিশুরা সমাজে ভালো কাজের মাধ্যমে মানবিক গুণাবলী গড়ে তুলতে পারে এবং দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে পারে।




বাংলাদেশ সুযোগ করে দিয়েছে বলেই জিতেছে পাকিস্তান: কামরান আকমল

নিজেদের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করলেও শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারে লিটন দাসের দল। তবে পাকিস্তানের এই একমাত্র জয় ‘বাংলাদেশের দয়া’ বলেই দাবি করেছেন দেশটির সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটার কামরান আকমল।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আকমল বলেন, “তৃতীয় টি-টোয়েন্টি পাকিস্তান জিতেছে, কিন্তু সেটা বাংলাদেশের সুযোগ দেওয়ার কারণেই। প্রথম দুই ম্যাচে যেভাবে খেলেছে বাংলাদেশ, তাতে মনে হচ্ছিল হোয়াইটওয়াশ নিশ্চিত। কিন্তু শেষ ম্যাচে ওরা (বাংলাদেশ) একাদশ ঘুরিয়ে নতুনদের সুযোগ দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ যদি শাহিবজাদা ফারহানকে খেলাতে বাধ্য করত, তাহলে পাকিস্তান এতটা সুবিধা পেত না। ওরা লেফট-রাইট কম্বিনেশনের কথা ভেবেই স্পিনারদের আক্রমণ করেছে। অথচ পাকিস্তান দল নির্বাচনে কোনো কৌশলের ছাপই ছিল না।”

বাংলাদেশের রোটেশন নীতিকে ‘অসম্মানজনক’ বলেও মনে করেন এই সাবেক তারকা। তার ভাষায়, “বাংলাদেশ যেভাবে পুরো সিরিজে দল ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলিয়েছে, সেটা লজ্জাজনক। তারা কিন্তু আয়ারল্যান্ড বা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নয়, পাকিস্তানের বিপক্ষেই এমনটা করেছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া একটা দলের সঙ্গে এমন আচরণ! এটুকুই বলব, আর কিছু বলার দরকার নেই।”

এছাড়া দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির পর তাসকিন আহমেদকে বিশ্রামে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন কামরান। তার মতে, “তাদের সেরা বোলারকে বসিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ বোঝাতে চেয়েছে, পাকিস্তান তাদের জন্য কোনো হুমকি নয়।”

উল্লেখ্য, সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশ ১১০ ও ১৩৩ রান করে যথাক্রমে পাকিস্তানকে ১০৮ ও ১২৫ রানে গুটিয়ে দেয়। তবে শেষ ম্যাচে একাদশে পরিবর্তন এনে বাংলাদেশ হেরে যায় বড় ব্যবধানে। সিরিজের ফলাফল শেষে বাংলাদেশের জয় এবং পাকিস্তানের খেলায় ঘাটতি নিয়ে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ও সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।




নির্বাচন যত দেরি হবে, দেশ তত পিছিয়ে যাবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের যতো বেশি দেরি হবে, দেশ ততো বেশি পিছিয়ে যাবে। বিনিয়োগ কমে যাবে, নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে, বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠবে। এজন্য প্রয়োজন একটি নির্বাচিত সরকার, যাদের পেছনে থাকবে জনগণের সমর্থন।

সোমবার (৭ জুলাই) সিলেটের পাঠানটুলাস্থ সানরাইজ কমিউনিটি সেন্টারে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালিকের আমন্ত্রণে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ মুক্তি বহু সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে সম্ভব হয়েছে। তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই করেছে, যেখানে মানুষ বাকস্বাধীনতা পাবে, মহিলারা নিরাপত্তা পাবে, তরুণদের কর্মসংস্থান হবে এবং সকলকে চিকিৎসার সুযোগ থাকবে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। এছাড়া দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হলেও দলের পরামর্শ দিয়ে চলেছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ভোট, গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যা জনঅধিকার লঙ্ঘন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ প্রশস্ত করেছিলেন। বিএনপি দেশের উন্নয়নের জন্য ৩১ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে।

ড. মুহম্মদ ইউনুসকে ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করেছেন।

মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, কেউ যেন দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে না পারে। জয় তাদের সুনিশ্চিত বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সিলেট তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানকার মহান sufi শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.) এর কীর্তি এবং তারেক রহমানের শ্বশুর বাড়ি এখানে অবস্থিত।

 




ক্ষমতায় এলে জুলাই শহীদদের জাতীয় মর্যাদা দেবে জামায়াত: রেজাউল করিম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, “জামায়াত যদি জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় আসে, তবে জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদদের জাতীয় মর্যাদা দেওয়া হবে।”

রোববার লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের পুরাতন ডায়াবেটিক হাসপাতাল সংলগ্ন একটি মসজিদে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানটি জুলাই শহীদ ও আহতদের স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়।

ড. রেজাউল করিম বলেন, “ছাত্রসমাজের স্লোগান ছিল ‘We Want Justice’। এই ন্যায়ের দাবি বাস্তবায়ন কেবল আল্লাহর বিধানের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠন করলেই সম্ভব। জামায়াত সে লক্ষ্যেই কাজ করছে। রাষ্ট্র তখনই জুলাই শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে পৃষ্ঠপোষকতা দেবে।”

দোয়া পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি নাছির উদ্দিন মাহমুদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্যা, সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোরশেদ আল হিরু, পৌর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান এবং সেক্রেটারি নুর মোহাম্মদ রাসেলসহ প্রায় শতাধিক মুসল্লি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




মবে জড়িতদের কোনো ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলবদ্ধ সহিংসতা বা ‘মব লিঞ্চিং’ এর মতো ঘটনায় জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

রোববার রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “অপরাধী যত বড় বা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। সরকার এসব বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে আছে।”

তিনি জানান, “আগে অনেক ঘটনা লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যেত। কিন্তু এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ফলে প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারছে। সামগ্রিকভাবে মবের ঘটনা কমলেও কিছু কিছু এলাকায় এর প্রবণতা আবার দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ দমন করা সরকারের অগ্রাধিকার।”

রংপুরে সম্প্রতি সংঘটিত একটি মব সহিংসতার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আর এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না। তাকে অবশ্যই আইনের মুখোমুখি হতে হবে।”

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক দায়িত্ব নয়। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে একসাথে কাজ করতে হবে। প্রশাসনের কোনো ঘাটতি নেই, আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনীতি মানে কেবল অভিযোগ নয়, জনগণের পাশে থেকে তাদের আস্থা অর্জন করাও দায়িত্ব। সরকার ও প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




জুলাই স্মরণে বিএমইউ’র আলোচনা সভা: উন্নত চিকিৎসা ও মানবিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ যেন অমূল্য না হয়, তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা ও প্রশাসনিক অঙ্গনের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিএমইউ আয়োজিত র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আধুনিক, মানবিক ও দক্ষ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারলেই শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই ছিল আমাদের ইতিহাসের এক মোড় ঘোরানো সময়। সেই দুঃসময়ে ছাত্র-জনতার ঐক্য, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগে যে সম্ভাবনার সূচনা হয়েছিল, তা আজ বাস্তবে রূপ দিতে হবে। বিএমইউ শুধু একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি গণতন্ত্র, মানবতা ও আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে উঠতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতের দক্ষ চিকিৎসক ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলা এখন আমাদের কর্তব্য। তাহলেই আমরা শহীদদের ঋণ শোধ করতে পারব।”

বিএমইউ-এর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “বিগত সরকার মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। সেই সময় ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধে একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। এখন এই ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে সামনের দিনগুলোতে আরও বড় চ্যালেঞ্জ আসবে।”

গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, “ছাত্রজনতা জীবন দিয়ে যে পথ খুলেছে, আজ আমাদের দায়িত্ব সেই পথ রক্ষা করা। আধুনিক, মানবিক ও জনগণকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই হবে শহীদদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা।”

বিএমইউ-এর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, “এই আন্দোলনের কারণেই আমরা আজ নেতৃত্বের জায়গায় আছি। আমাদের কর্তব্য—আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং জনগণের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করা।”

জুলাই মাসজুড়ে বিএমইউ হাতে নিয়েছে একগুচ্ছ কর্মসূচি। এর মধ্যে রয়েছে শহীদ দিবস উপলক্ষে প্রামাণ্যচিত্র ও স্থিরচিত্র প্রদর্শনী, রক্তদান ও স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং ক্যাম্প, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বহির্বিভাগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান, উন্নতমানের রোগী আহার বিতরণ, কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং স্মরণসভা।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমীন, প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ, ডা. ইকবাল মাহমুদ রনি, ডা. সাখাওয়াত হোসেনসহ অন্যান্য চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।




কলম্বো টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতায় হতাশা, ওয়ানডে সিরিজে আশাবাদী ফাহিম

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক নাজমুল আবেদিন ফাহিম। ম্যাচ চলাকালেই দলের মনোবল ও ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে টিম হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে কলম্বোতে পৌঁছান ফাহিম। তার মতে, গল টেস্টে যেভাবে বাংলাদেশ লড়াই করেছিল, সেই ধারা দ্বিতীয় টেস্টে ধরে রাখা যেত — এমনটাই ছিল তার প্রত্যাশা।

তিনি বলেন,
“আমার আশা ছিল, প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ দল যে মানসিকতা দেখিয়েছে, দ্বিতীয় টেস্টেও সেটা দেখতে পাব। প্রথম দিন ব্যাট করতে নেমে আমাদের কঠিন লেগেছে, উইকেটে তখন বোলারদের জন্য সহায়তা ছিল। কিন্তু এরপরও বলব, প্রথম দিনে আমরা আরও ভালো খেলতে পারতাম।”

বিশ্লেষণে ফাহিম যোগ করেন,
“দলের কয়েকজন ব্যাটার সেট হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। যদি তারা লম্বা ইনিংস খেলত, তাহলে প্রথম ইনিংসে একটা সম্মানজনক সংগ্রহ গড়া যেত। সেটা প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করত। কিন্তু সেটাই আমরা পারিনি এবং এখানেই সমস্যার সূত্রপাত।”

এদিকে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে ফাহিম বেশ আশাবাদী। শ্রীলঙ্কার আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের বিপরীতে বাংলাদেশের সাদা বলের স্কোয়াডে অভিজ্ঞ পেসারদের ফেরাটা ইতিবাচক বলে মনে করছেন তিনি।

“চ্যালেঞ্জিং সিরিজ হবেই। শ্রীলঙ্কা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে, টেস্টেও সেটা দেখা গেছে। তবে আমাদের জন্য ভালো দিক হলো, তাসকিন, মুস্তাফিজের মতো বোলাররা ফিরে এসেছে। তারা দলের শক্তি বাড়াবে বলে বিশ্বাস করি। ব্যাটিংয়েও নতুন মুখ আসবে — এটা আমাদের জন্য একটা সুযোগ।”

নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজকে নিয়ে আলাদা করে কোনো চাপ দিতে চান না ফাহিম। তিনি বলেন,
“মিরাজের কাজ হবে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং সতীর্থদের সেরা পারফরম্যান্স বের করে আনা। ওয়ানডেতে বরাবরই সে ভালো করেছে। আমরা চাই, সে যেন নিজের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারে।”

কলম্বো টেস্টে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশায় বাংলাদেশ — এমনটাই মনে করছেন বিসিবি পরিচালক।