ডাকসু নির্বাচন স্থগিতাদেশ নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি বুধবার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত মামলার শুনানি আগামীকাল বুধবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে। আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের ওপর জারি করা স্থগিতাদেশ ওইদিন পর্যন্ত বহাল রেখেছেন।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের করা আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন। আদালতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্ট ডাকসু নির্বাচন আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার আদেশ দেন। তবে ওই দিনই চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন।

ডাকসু নির্বাচনে এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে ‘অপরাজেয় ৭১’, ‘অদম্য ২৪’ ও বামজোট মনোনীত প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী বি এম ফাহমিদা আলম গত ২৮ আগস্ট হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ও বামপন্থি সংগঠনসহ অন্তত ১০টি পূর্ণ ও আংশিক প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে।

এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের বিপরীতে ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৬২ জন। সদস্যপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সবচেয়ে বেশি ২১৭ জন প্রার্থী। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে ১৩টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক হাজার ৩৫ জন প্রার্থী।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




হাইকোর্ট রায়: বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে, পদোন্নতি ও বদলি বিষয়ে নতুন নির্দেশনা

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব এককভাবে সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকবে বলে মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেছেন। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। একইসঙ্গে, নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে পঞ্চদশ সংশোধনী ও চতুর্থ সংশোধনীর বিধান বাতিল করা হয়েছে।

হাইকোর্ট আগামী তিন মাসের মধ্যে আলাদা সচিবালয় গঠনের নির্দেশও দিয়েছে। রায়ের সময় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব তারেক রহমান, যিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, “বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।”

এর আগে সকালে বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের রায় ঘোষণা শুরু হয়। ১৩ আগস্ট এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত শুনানি সম্পন্ন হয়। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম।

রিটটি গত বছরের ২৫ আগস্ট দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে ১০ জন আইনজীবী মূল সংবিধানের ১৯৭২ সালের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেছিলেন। বর্তমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। তবে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে এই দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ছিল। হাইকোর্টের এ রায় অনুযায়ী, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃস্থাপিত হবে এবং নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমে আসবে।

 

আল-আমিন



লোহালিয়া-বাউফল সড়ক মরণফাঁদে, প্রতিদিন দুর্ঘটনা

পটুয়াখালীর লোহালিয়া-দশমিনা-বাউফল সড়ক এখন যেন দুর্ঘটনার মরণফাঁদ। সড়কজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত, ভাঙা পিচঢালাই আর খানাখন্দে পরিণত হয়েছে এই ২৩ কিলোমিটার পথ। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলোতে পানি জমে ছোট ছোট পুকুর তৈরি হয়। ফলে প্রতিনিয়ত আটকে যাচ্ছে বাস, ট্রাক, পিকআপ ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। এ কারণে ঘন ঘন ঘটছে দুর্ঘটনা, আহত হচ্ছেন যাত্রীরা। কাদাপানির ছিটায় নষ্ট হচ্ছে পথচারী ও স্থানীয় দোকানপাটের পোশাক ও পণ্যসামগ্রী।

এই সড়কটি লোহালিয়া নদীর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে সদর উপজেলার সঙ্গে দশমিনা, বাউফল, গলাচিপা এবং ভোলা জেলার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। জেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের জন্য ২০০৫ সালে সড়কটি নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পরে তা এলজিইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সড়কটি চালু হওয়ার পর বাউফল যেতে সময় লাগে মাত্র ৪৫ মিনিট, দশমিনা এক ঘণ্টা এবং গলাচিপা সোয়া ঘণ্টা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন পুরোপুরি ভাঙাচোরা হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

সড়কের শৌলা থেকে দশমিনা সংযোগস্থল পর্যন্ত অন্তত ২০টি বড় গর্ত ও দুই শতাধিক ছোট-বড় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এসব গর্তে বাস-ট্রাক আটকে গিয়ে প্রায়ই যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। যাত্রীরা নেমে গাড়ি ধাক্কা দিয়ে তুলতে বাধ্য হন। বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে এই পথে যাতায়াত করা এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অটোবাইকচালক সুভাষ কুমার বলেন, “এ রাস্তা হইছে ঠিকই; কিন্তু হওয়ার মতো হয় নাই। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়।” মিশুক চালক টিটু মিয়ার অভিযোগ, “রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। দুই ইঞ্চি ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় অর্ধেক। তাই এক বছরের মধ্যেই রাস্তায় গর্ত সৃষ্টি হয়।”

স্থানীয় যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, “বিশাল বিশাল গর্তে গাড়ি পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। যাত্রীদের নামিয়ে গাড়ি তুলতে হয়। বৃষ্টির সময় তো পুরো রাস্তাই পুকুর হয়ে যায়।” মোটরসাইকেলচালক মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ জানান, “নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে সড়ক সংস্কারের পরও তা বেশিদিন টেকে না।”

এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হোসেন আলী মীর বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে সড়কটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চালক, যাত্রী ও স্থানীয়দের ভোগান্তি নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে সড়ক সংস্কারের প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়েছে। শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করে সংস্কারকাজ শুরু হবে।

বর্তমানে এলাকাবাসী দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন দুর্ঘটনা আর যানজটের কারণে এই সড়ক দিয়ে চলাচল এখন দুর্ভোগের অন্য নাম।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



৭ দলের সঙ্গে বিকেলে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা

৭ দলের সঙ্গে বিকেলে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও অগ্রগতির বিষয়ে সাতটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এই ধারাবাহিক সংলাপকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত রোববার (৩১ আগস্ট) বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা।




আগামী ফেব্রুয়ারিতেই হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: আইন উপদেষ্টা

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, সরকারের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নির্বাচন কমিশনকে ইতোমধ্যে সব প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি সরকার বাস্তবায়ন করছে।”

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু মতবিরোধ থাকলেও প্রয়োজনীয় মুহূর্তে ঐক্য দেখা যাবে। আগে যেসব বিষয় নিয়ে মতবিরোধ ছিল, তা ইতিমধ্যে সমাধান হয়েছে। নির্বাচনের সময়সূচি পেছানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।”

নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. আসিফ জানান, এ ধরনের কোনো আলোচনা নেই। এনসিপি জাতীয় নির্বাচনের আগে গণপরিষদ নির্বাচন চাইলেও সরকার তার পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান দিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “গত এক বছরে আইনশৃঙ্খলা কিছুটা উত্থান-পতন করেছে। বিপ্লব পরবর্তী সময়ে সমাজে অস্থিরতা স্বাভাবিক। তবে আমরা এ ধরনের পরিস্থিতি আগে নিয়ন্ত্রণ করেছি এবং আবার নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হব।”

ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, “সরকার সব রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই আয়োজন করার লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এখানে কোনো ধরনের দেরি বা বাধা হওয়ার সুযোগ নেই।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




প্রধান উপদেষ্টা : নির্বাচন ছাড়া অন্য বিকল্প ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট করে বলেছেন, “নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। কেউ যদি নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো পথ খুঁজে নিতে চায়, তা হবে জাতির জন্য গভীর বিপজ্জনক।”

রোববার (৩১ আগস্ট) রাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সময়মতো হবে এবং এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

বৈঠকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মুনির হায়দার অংশ নেন। জুলাই সনদ চূড়ান্তকরণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়েও আলোচনা হয়।

দুর্গাপূজা ঘিরে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র ঠেকাতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “দেশে যেন কোনো গোষ্ঠী অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”

জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনায় পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ছিল বলে জানান প্রেস সচিব। তিনি বলেন, গত ১৩ মাস ধরে সরকার ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সব দলের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, ড. আসিফ নজরুল ও ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।




যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতৃত্ব আজ সন্ধ্যায় যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে প্রবেশ করেছে।

রবিবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল যমুনায় প্রবেশ করে।

বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার জানান, প্রতিনিধি দলে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

দলীয় সূত্র বলছে, বৈঠকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এছাড়া প্রশাসনে এখনো বিদ্যমান ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ একটি তালিকাও প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে জানা গেছে।




ফেব্রুয়ারিতেই ভোট, সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস অন্তর্বর্তী সরকারের

আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে—এ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শনিবার (৩০ আগস্ট) প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচালের যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। কোনো অশুভ শক্তিকে গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করে অন্তর্বর্তী সরকার।

শুধু নির্বাচনের অঙ্গীকার নয়, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাতেও সরকারের কঠোর অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে বিবৃতিতে। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নুরুল হক নুরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানায় সরকার। এ ঘটনাকে শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনার ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করা হয়।

হামলার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলা হয়, পদমর্যাদা বা প্রভাব যাই থাকুক, দোষীরা বিচারের বাইরে থাকবে না। ইতোমধ্যে নুর ও তার দলের আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁদের বিদেশেও পাঠানো হবে রাষ্ট্রীয় খরচে।

অন্তর্বর্তী সরকার আরও জানায়, নুরের দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে অমলিন হয়ে থাকবে। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত তার নেতৃত্ব জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।

সবশেষে, সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানায়। বলা হয়, জনগণের আন্দোলনের ফসল রক্ষা করতে ও গণতন্ত্রে সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে ঐক্যই এখন সবচেয়ে জরুরি।




“নুরসহ আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানো হবে: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার”

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতা নুরুল হক নূরের ওপর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে নূর ও তাঁর দলের অন্যান্য আহত সদস্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে পাঠানো হবে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) সরকারিভাবে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, নুরুল হক নূর এবং তাঁর দলের আহতদের চিকিৎসা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাঁদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই হামলা শুধু নুরের ওপরই নয়, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্পিরিটের ওপরও আঘাত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণকে আশ্বস্ত করেছে, ঘটনায় জড়িত যেকোনো ব্যক্তি অব্যাহতি পাবেন না এবং তদন্ত সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে করা হবে।

নূরের সাহসী ভূমিকা প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তিনি তরুণদের সংগঠিত করেছেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর ভূমিকা স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

বিবৃতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এছাড়া দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





“বাংলাদেশ সকল বৈধ জাতিগোষ্ঠীর: তারেক রহমান”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার (৩০ আগস্ট) ময়মনসিংহে জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের জাতীয় প্রতিনিধি সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ শুধু বাঙালির নয়, বরং বৈধভাবে বসবাসকারী সকল জাতিগোষ্ঠীর।

তিনি বলেন, “পাহাড় বা সমতলে সবার অধিকার সংরক্ষণের জন্য বিএনপির সব কমিটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। সব জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বিএনপি বদ্ধপরিকর।”

তারেক রহমান আরও জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সরকারি চাকরিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সুযোগ বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের রূপরেখা অনুযায়ী নিরাপদ ও সমানাধিকারযুক্ত বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সহযোগিতা চায় দলটি।

তিনি বলেন, পাহাড়ি ও সমতলের উন্নয়নে ৩১ দফা রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে, যা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কল্যাণ ও অধিকারের নিশ্চয়তা দেবে।

সমাবেশে দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা সকল জাতিগোষ্ঠীকে সমান অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫