প্রধান উপদেষ্টা পরিষদের সভায় তিন নীতিমালার খসড়া অনুমোদন

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৪১তম সভায় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিনটি নীতিমালার খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, সভায় অনুমোদিত খসড়া নীতিমালাগুলো হলো—
১. বিদ্যুৎ বিভাগের ‘বেসরকারি অংশগ্রহণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্ভর বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন/বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা, ২০২৫’
২. ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা, ২০২৫’
৩. আইন ও বিচার বিভাগের ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (তৃতীয় সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৫’

সভায় জানানো হয়, এসব খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিংয়ের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের নীতিমালা দেশের বিদ্যুৎ খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। একইসঙ্গে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ হলে জনগণের ডিজিটাল সুবিধা আরও প্রসারিত হবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) সংশোধনী অধ্যাদেশ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অভিমত দিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ইলিশের সংকটে চড়া দাম, ভোক্তাদের নাগালের বাইরে জাতীয় মাছ

দেশের প্রধান নদীগুলোতে অতিরিক্ত পলি জমা, জলবায়ু পরিবর্তন, পানিদূষণ এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে মাছ শিকারের কারণে জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে সাধারণ মানুষের বাজারে। ভোক্তাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে ইলিশ, আর ব্যবসায়ীরা বলছেন—এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখেননি।

মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ৫২টি নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যাপক পলি জমা হয়েছে। বিশেষ করে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর সোনারচর থেকে নোয়াখালীর ঢালচর পর্যন্ত মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় নাব্যতা সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে সাগর থেকে নদীতে ইলিশ ওঠার স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে জরুরি ভিত্তিতে পলি অপসারণ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠিয়েছে অধিদপ্তর।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্যাহ বলেন, “সরকার নদীকেন্দ্রিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিলেও সাগরে ইলিশ সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেই। অথচ দেশের মোট ইলিশ আহরণের ৬০ শতাংশই সাগরে ধরা হয়।”

অন্যদিকে, রাজধানী ঢাকার বাজারে ইলিশের অস্বাভাবিক দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। পুরান ঢাকার নবাবগঞ্জ বাজারে স্কুল শিক্ষক নুরন্নবী হোসেন বলেন, “গত বছর ১,২০০ টাকা কেজি দরে ইলিশ কিনেছি, আর এবার একই মাছ কিনতে খরচ হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি।”

নিউ মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ী সানাউল্লাহ মৃধা জানান, ছোট ইলিশ (৬০০ গ্রামের নিচে) প্রতি কেজি ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের (৮০০-৯০০ গ্রাম) ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকায়। তিনি বলেন, “পাইকারি দামে ভয়াবহ বৃদ্ধি ঘটেছে। সদরঘাটে এক মণ (৪০ কেজি) মাঝারি আকারের ইলিশ এখন ৭২ থেকে ৭৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।”

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. রমজান আলী জানান, উপকূলীয় বাজারগুলোতেও একই অবস্থা। বরিশাল, বরগুনা, কক্সবাজার ও পটুয়াখালীর পাইকারি বাজারে এক কেজির বেশি ওজনের বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। মাঝারি আকারের ইলিশ কেজিপ্রতি ১,৭০০ থেকে ১,৭৫০ টাকা এবং ছোট ইলিশ ১,১৫০ থেকে ১,২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইলিশ সংরক্ষণে নদী ও সাগর উভয় ক্ষেত্রেই সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। একদিকে দেশের ঐতিহ্যবাহী জাতীয় মাছ হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে ভোক্তাদের জন্য ইলিশ এখন ক্রমেই ‘অলভ্য বিলাসিতা’তে পরিণত হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্থগিত দলের প্রতীক বাতিল, নির্বাচনে অংশগ্রহণে অনিশ্চয়তা: ইসি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কার্যক্রম স্থগিত থাকা কোনো রাজনৈতিক দল দলীয় প্রতীক নিয়ে অংশ নিতে পারবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো দলের কার্যক্রম স্থগিত থাকলে তাদের প্রতীকও স্থগিত থাকবে। তবে প্রতীক ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানো সম্ভব হবে কিনা—সেটি সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হবে।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনী নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ না করলেও তার বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে যে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না হলে দলটি দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

ইসি সানাউল্লাহ আরপিও সংশোধনীতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে—

  • আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তালিকায় সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত করা হয়েছে।

  • জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ভোটকেন্দ্র স্থাপন করবেন।

  • আদালতের ফেরারি আসামিরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

  • সরকারি ৫০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার থাকা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বা লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তিরা প্রার্থী হতে পারবেন না।

  • প্রার্থীর হলফনামায় মিথ্যা বা তথ্য গোপন প্রমাণিত হলে ইসি ব্যবস্থা নিতে পারবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সংসদ সদস্য পদ হারাবেন।

  • প্রার্থীর জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকলে ব্যালটে ‘না’ ভোটের ব্যবস্থা থাকবে। জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন হলেও প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ইভিএম-সংক্রান্ত সব বিধান বাতিল করা হয়েছে এবং ভোট গণনায় মিডিয়ার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।

এছাড়া নির্বাচনী পোস্টার বাতিল করা হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আচরণবিধি ভঙ্গের সুযোগ থাকবে না। কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন স্থগিত থাকবে এবং তাদের প্রতীক সংরক্ষিত থাকবে বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

ফলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে স্থগিতাদেশপ্রাপ্ত দলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ডিবি এড়াতে লোহালিয়া নদীতে ঝাঁপ, প্রাণ গেল তুহিনের

পটুয়াখালীতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানের সময় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তুহিন হাওলাদার (৩০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার লোহালিয়া নদীর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। নিহত তুহিন পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের টাউন জৈনকাঠী এলাকার বাসিন্দা মো. কালাম হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাত প্রায় ১১টার দিকে লোহালিয়া সেতুর ডকইয়ার্ড এলাকায় ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। পুলিশ দেখে তিনজন নদীতে ঝাঁপ দেন—তাদের মধ্যে ছিলেন তুহিন হাওলাদার, কসাই আল-আমিন এবং সিডি আল-আমিন। কসাই আল-আমিন ও সিডি আল-আমিন সাঁতরে ওপারে উঠতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ হন তুহিন। টানা প্রায় ২৪ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার রাতে নদীতে ভেসে ওঠে তার নিথর দেহ।

তুহিনের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী সুখি আক্তার, পাঁচ বছরের কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌস এবং মাত্র দুই মাস বয়সী নবজাতক পুত্র আবু তাহেরকে। পরিবার জানায়, হঠাৎ করে এই মৃত্যুর ঘটনায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

নিহতের চাচাতো ভাই মো. মিরাজ বলেন, “আমরা শুনেছি ডিবি পুলিশ এলাকায় অভিযান চালায়। তুহিনসহ তিনজনকে ধাওয়া করা হলে তারা নদীতে ঝাঁপ দেয়। কসাই আল-আমিন নদীর ওপারে উঠতে পারলেও তুহিন আর উঠতে পারেনি। অবশেষে নদীতে তার লাশ পাওয়া গেছে।”

তুহিনের মামা জানান, “মঙ্গলবার ভোরে কসাই আল-আমিন এসে তুহিনের স্ত্রীকে জানায়, ডিবি ধরতে এসেছিল, আমি আর তুহিন নদীতে ঝাঁপ দিয়েছি। আমি ওপারে উঠেছি কিন্তু তুহিনকে পাইনি। পরে সে নিজ শ্বশুরবাড়ি চলে যায় এবং সেখান থেকে ঢাকায় গিয়েছে বলে শুনেছি। এরপর আর যোগাযোগ করা যায়নি।”

ঘটনার বিষয়ে জানতে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। থানা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট কাজ করছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।”

হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছেন, যাতে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নুরের সুচিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নুরুল হক নুর এর সুচিকিৎসার জন্য প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিদেশে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নুরের সহধর্মিণী মারিয়া আক্তার, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, নুরের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, নাকের হাড় ভাঙা এবং চোয়াল ও মেরুদণ্ডে আঘাত হয়েছে। সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া অপরিহার্য।

প্রধান উপদেষ্টা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশ দেন নুরকে বিদেশে পাঠানোর জন্য। তিনি বলেন, “এই ঘটনায় আমরা সকলেই স্তম্ভিত। নুরের সুচিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চলছে।”

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, হামলার ঘটনা তদন্তে বিচারপতি আলী রেজার নেতৃত্বে এক সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আগামীকালের মধ্যেই গেজেট প্রকাশিত হবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে কমিটি তাদের কাজ সম্পন্ন করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাংলাদেশ-পাকিস্তান: বাণিজ্য ও কূটনীতিতে নতুন অধ্যায়

বাংলাদেশে ১৩ বছর পর শীর্ষ পর্যায়ের পাকিস্তানি সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় এসে বাণিজ্য ও কূটনীতিতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন।

শীর্ষ পর্যায়ের এই সফর মূলত কূটনৈতিক ও সামরিক সংযোগের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফলাফল। গত এক বছরে বিশেষ করে বাংলাদেশে শাসন পরিবর্তনের পর পাকিস্তান-ঢাকার সম্পর্ক দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠেছে। ইসহাক দার বলেন, “দুই দেশের তরুণরা হাত মিলিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে, স্বপ্ন ভাগাভাগি করবে। এটি হবে অংশীদারিত্বের নতুন অধ্যায়।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তান বর্তমান বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে কাজে লাগাতে চায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দিলওয়ার হোসেন বলেন, “পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ ১৯৭৫ সালের পরবর্তী কৌশলগত সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা।”

সফরের সময় দুই দেশের কর্মকর্তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাকিস্তানের সাবেক কূটনীতিক আবদুল বাসিত বলেন, “২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বৈঠকগুলো গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের সমস্যাগুলো দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে হবে।”

অর্থনৈতিকভাবে, বাংলাদেশ ৬% প্রবৃদ্ধি রাখলেও পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি ২.৫%। ২০২৪ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশে ৬৬১ মিলিয়ন ডলার পণ্য রপ্তানি করেছে, বিপরীতে আমদানি মাত্র ৫৭ মিলিয়ন ডলার। দু’দেশের সম্মিলিত জনসংখ্যা ৪৩০ মিলিয়ন, যা পশ্চিম ইউরোপের দ্বিগুণেরও বেশি।

বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে তুলা, টেক্সটাইল, চাল, সিমেন্ট, ফল ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য আমদানি করতে পারে। পাকিস্তান বাংলাদেশ থেকে পাটজাত পণ্য, কেমিক্যাল, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ও তামাকজাত দ্রব্য আমদানি করতে পারে।

তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এখনো দুই দেশের আস্থায় বাধা। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইছে, পাশাপাশি দেশটির দুই লাখেরও বেশি উর্দুভাষী মুসলমানের নাগরিক অধিকার ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাগাভাগি এখনও সমাধানহীন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, অতীত ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়, তবে কূটনীতি গতিশীল। অর্থনীতি, কূটনীতি ও সংস্কৃতিতে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি অতীতের ক্ষত নিরাময়ও চলতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাবেক আইজিপি মামুন ট্রাইব্যুনালে ক্ষমা চাইলেন

সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, তার মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হলে বাকি জীবনটা অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পাবে।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এর সাক্ষীর ডায়াসে দাঁড়িয়ে, অশ্রুসজল চোখে গণহত্যার শিকার পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন সাবেক এই পুলিশপ্রধান। তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

আইজিপি মামুন বলেন, “আমি ৩৬ বছর পুলিশের চাকরি করেছি। চাকরি জীবনে কখনও কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে শেষ পর্যায়ে এত বড় গণহত্যা আমার দায়িত্বে সংঘটিত হয়েছে। এর দায় আমি স্বীকার করছি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে এই ঘটনা ঘটেছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “গণহত্যার স্বীকার প্রত্যেক পরিবার, আহত ব্যক্তি ও দেশবাসীর কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আল্লাহ যদি আমাকে আরও হায়াত দান করেন, সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে বাকি জীবনটা অপরাধবোধ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাবে।”

সাবেক আইজিপি বলেন, “বৈষম্যরোধী আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে সরকারের আদেশে ছাত্র-জনতার ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগ ও নিহত-আহত করার ঘটনায় আমি লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য বিবেকের তাড়নায় আমি রাজসাক্ষী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ান সহ অন্যান্যরা।

সাক্ষ্যগ্রহণের ১১তম দিন আজ শেষ হয়েছে। জেরার জন্য আগামীকাল বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ বেলা পৌনে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আইজিপি মামুনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম কমল

ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের দাম আবারও কমানো হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩ টাকা কমিয়ে ১,২৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি কেজি এলপিজির দাম কমানো হয়েছে মাত্র ২৫ পয়সা।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন এই দাম ঘোষণা করেছে। নতুন দাম সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, “আগস্ট মাসে ১২ কেজি এলপিজির দাম ১,২৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা এবার ৩ টাকা কমিয়ে ১,২৭০ টাকা করা হয়েছে।”

এছাড়া, অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম ১৩ পয়সা কমিয়ে ৫৮ টাকা ১৫ পয়সা করা হয়েছে। বিইআরসি জানিয়েছে, সৌদি আরামকোর প্রোপেন ও বিউটেনের ঘোষিত সৌদি সিপি অনুযায়ী প্রোপেন ও বিউটেনের গড় সৌদি সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৫০০.৫০ মার্কিন ডলার বিবেচনা করে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ৩ আগস্ট শেষবার এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




রাজধানীর মৌচাকে মসজিদে আগুন, ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে

রাজধানীর মৌচাক এলাকায় একটি মসজিদে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ১২ মিনিটের দিকে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে।

মৌচাক মার্কেট সংলগ্ন সিদ্ধেশ্বরী স্কুলের পাশের মসজিদে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে দুটি ইউনিট কাজ করছে। তবে, আগুন লাগার সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি।

আঞ্চলিকভাবে এলাকায় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আ. লীগের হামলার চেষ্টা করলে কঠোর জবাব দেবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যে কোনো সময় আওয়ামী লীগের কেউ বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিএনপির খাল পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি বলেন, “দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত আমরা আমাদের অধিকারের জন্য লড়াই চালাব।”

তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালালেও ভারতে গিয়ে শয়তানি করছেন, কিন্তু যদি আওয়ামী লীগের কেউ আমাদের ওপর হামলা করতে আসে, তাদের হাত ভেঙে দেওয়া হবে।”

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, “এখন শুধু স্লোগানের রাজনীতি নয়, শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করতে হবে। ছাত্র সংসদ নির্বাচন বা অন্য কোনো স্থানে অশান্তি করা যাবে না।”

অতীতের ঘটনাগুলো ভুলে পুলিশকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন।

ফখরুল আরও উল্লেখ করেন, “ড. ইউনূস রাজনীতি করতে আগ্রহী নন, তিনি দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। আগামী দিনে ক্ষমতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনবে বিএনপি।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫