সাড়ে ৩ হাজার চিকিৎসকের যোগদান প্রক্রিয়া চুড়ান্ত স্বাস্থ্য অধিদফতর

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:   স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার মো: আবু জাফর জানিয়েছেন অচিরেই সাড়ে তিন হাজার চিকিৎসক যোগদান করবেন বলে জানিয়েছেন। আরো তিন হাজার ৮০০ চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ৪৫, ৪৬ ও ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে।’তিনি বলেন, ‘কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে খুব দ্রুতই সাড়ে তিন হাজার ডাক্তার যোগ দিচ্ছেন।’

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

মহাপরিচালক বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন পিএসসি থেকে স্পেশাল বিসিএস থেকে তাদের নিয়োগের বিষয়ে ইতোমধ্যেই সুপারিশ করা হয়েছে।’

পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং অন্যান্য কিছু প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করে এ মাসেই তারা যোগদান করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই পেডিয়াট্রিক সার্জন এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রশাসক।

বাংলাদেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ পদস্থ এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, সারাদেশের জেলা উপজেলা পর্যায়ে ১২ হাজার ৩৯৭ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে।

৩৮তম বিসিএসে সুপারিশ করা হয়েছে তিন হাজার ১২০ জন। এর মধ্যে ৩০০ জন রয়েছে ডেন্টাল। বাকি দু’ হাজার ৮২০ জন সহকারী সার্জন।

তিনি বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে চিকিৎসকদের শূন্য পদ পূরণ করা হবে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকার যথেষ্ট আন্তরিক।’




১৭ বিয়ে কান্ডের সেই বন কর্মকর্তাকে আটক, অতঃপর

সাময়িক বরখাস্তের পর রাতের আঁধারে কোয়ার্টার থেকে পিকআপযোগে নিজস্ব ও সরকারি মালামাল সরানোর সময় ১৭ বিয়ে কান্ডের সেই বরখাস্তকৃত বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারীকে আটক করেছে স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে বরিশাল বিমানবন্দর থানা পুলিশ জনরোষ থেকে তাকে (কবির) বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় বন বিভাগের কোস্টাল সার্কেল কার্যালয়ের সামনে থেকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যান। পরবর্তীতে বন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে পুলিশ রাতেই তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর থানার ওসি মো. আল-মামুন উল ইসলাম।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন-১৭ বিয়ে কান্ডের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্তের পর ১৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত নয়টার দিকে কোয়ার্টার থেকে পিকআপযোগে নিজস্ব ও সরকারি মালামাল নিয়ে কবির হোসেন পালানোর চেষ্টা করছিলেন। পরে এলাকাবাসী তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।

বরিশাল সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান সাকিব বলেন, দায়িত্বে থাকাবস্থায় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারী বিভিন্ন সময় ধার বাবদ আমার কাছ থেকে ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা নিয়েছেন। এছাড়া স্থানীয়দের কাছ থেকেও সে বিভিন্ন সময় টাকা নিয়ে আর পরিশোধ করেনি। হঠাৎ করেই বুধবার দিবাগত রাতে সরকারি বাংলো থেকে মালামাল নিয়ে তিনি চলে যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে আমিসহ অন্য পাওনাদাররা এসে তাকে আটক করেছি। তাছাড়া তিনি পিকআপযোগে যে মালামাল নিচ্ছিলেন তার মধ্যে সরকারি কিছু মালামালও রয়েছে। সেগুলো আমি নামিয়ে রেখেছি।

বরিশাল বিমানবন্দর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন বাংলো থেকে সরকারি মালামাল নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন বরখাস্তকৃত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারী। এছাড়া তিনি ওই কর্মকর্তার কাছে টাকা পাবেন। এলাকার বেশ কিছু মানুষও তার কাছে টাকা পাবে বলে আটকে রেখেছেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, উল্লেখিত অভিযোগের ভিত্তিত্বে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই বন কর্মকর্তাকে স্থানীয়দের কাছ থেকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে আনেন।

তবে পালিয়ে যাবার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাময়িক বরখাস্তকৃত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারী। এ বিষয়ে তিনি বক্তব্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে উল্টো সাংবাদিকদের অভিশাপ এবং হুমকি দেন।

বরিশাল বিমানবন্দর থানার ওসি মো. আল-মামুন উল ইসলাম বলেন-বন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে রাতেই তাকে (কবির) ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে নানা প্রলোভনে ১৭ বিয়ে করে দেশব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি করা বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কবির হোসেন পাটোয়ারীকে ১৬ সেপ্টেম্বর সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

জানা গেছে, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে বিয়ের নামে প্রতারণা, যৌতুক দাবি এবং নির্যাতনের অভিযোগ এনে বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন খুলনা জেলার সোনাডাঙা এলাকার বাসিন্দা খাদিজা আকতার।

তার আগে ২০১৯ সালে কবির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন তার (কবির) আরেক স্ত্রী বাগেরহাটের মোংলা এলাকার নাসরিন আকতার দোলন। সেই মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

সবশেষ গত ৯ এপ্রিল দেয়া স্ত্রীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়। ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সাইদুর রহমান বরিশালে সরেজমিন তদন্তে আসেন। নগরীর কাশিপুরে কোস্টাল সার্কেলে বসে অভিযোগকারী দুই স্ত্রী, তাদের স্বজন এবং বন কর্মকর্তাদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেন।

ওই দিনই বিয়েপাগল বন কর্মকর্তার বিচার দাবিতে বন বিভাগের কোস্টাল সার্কেল অফিসের সামনে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী স্ত্রী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে প্রাথমিক শাস্তির অংশ হিসেবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

সূত্রমতে, চাঁদপুর জেলার তুষপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেন পাটোয়ারীর ছেলে কবির হোসেন এর আগে ঢাকা, খুলনা, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত ছিলেন। বন বিভাগের উচ্চ পদ ব্যবহার করে ফাঁদে ফেলেন অনেক নারীকে। এ কারণে একই অভিযোগে পূর্বে আরও দুইবার সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন বন কর্মকর্তা কবির হোসেন। তবে পতিত আওয়ামী সরকারের সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী দীপু মনির সুপারিশে তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন।

অপরদিকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ছাড়াও ১৬ সেপ্টেম্বর বরিশাল মহানগর আদালতে কবির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফিজ আহমেদ বাবলু। আদালতের বিচারক মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ।

এস এল টি তুহিন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / 




দুমকিতে কচাবুনিয়া নদীর বেড়িবাঁধ রক্ষায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের কচাবুনিয়া নদীর পশ্চিমপাড়ে বেড়িবাঁধ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নদীর পাড়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, নদীর ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। নামমাত্র সংস্কার করা হলেও কোনো স্থায়ী বা টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এলাকার মানুষ। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে পুরো সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং কৃষক পরিবারগুলো বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম বারেক জানান, নেছারিয়া মাদ্রাসা থেকে পুকুরজানা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার পাকা রাস্তা দুই বছর আগে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে বাকি অংশেও ফাটল ধরেছে। সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন যে সড়কটি নির্মাণ হয়েছিল, সেটিও মাত্র ছয় মাসের মাথায় ভেঙে গেছে, কারণ নদীর তীরে কোনো পাইলিং বা সাপোর্টিং কাজ করা হয়নি।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ হাওলাদার, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম এবং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান বাবুল। বক্তারা দ্রুত বেড়িবাঁধ ও সড়ক রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, “আমরা খুব দ্রুত সরজমিনে গিয়ে সার্ভে করবো। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের আশা, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে নদীর ভাঙন রোধ হবে এবং যোগাযোগব্যবস্থা রক্ষা পাবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্ষদের সম্মতিতে প্রশাসক বসানো হচ্ছে সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংকে

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ: সমস্যাগ্রস্ত ৫ ইসলামী ব্যাংকে  অস্থায়ী প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। কাকে কোন ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া হবে তার একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে ব্যাংকগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের পর ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ শূন্য হবে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিষয়টি অনুমোদন দিয়েছেন। গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিগত সরকারের সময়ে অনিয়ম–জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাতের কারণে শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক আর আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে পারছে না। এসব ব্যাংক মিলে এখন একটি শক্তিশালী ইসলামী ব্যাংক করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সরকারও তাতে সম্মতি দিয়েছে। বিগত সরকারের সময় বিভিন্ন জালিয়াতির কারণে এসব ব্যাংকের ৪৮ থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ এখন খেলাপি।

 




ডেঙ্গু পরিস্থিতি কোন অবস্থায় নিয়ন্ত্রনে আনা যাচ্ছে না

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:ডেঙ্গু জ্বরে কাপছে দেশ । গত ১০ দিন যাবৎ ডেঙ্গু জ্বরে ভুগছেন ইউনুছ মিয়া। নরসিংদী সদরের বাসিন্দা তিনি। বয়স ৬৯ বছর। প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে শুরুতে স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। দিন দিন পরিস্থিতি খারাপ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে ভর্তি হন ১২ই সেপ্টেম্বর। বর্তমানে হাসপাতালটির ৪০২ ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ৫ নম্বর শয্যায় জ্বর নিয়ে কাতরাচ্ছেন তিনি। একই ওয়ার্ডে আরেক ডেঙ্গু রোগী কবির হোসেন ২৬ নম্বর শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা। ১০২ ডিগ্রির উপরে জ্বর ওঠে। পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লার মোড় এলাকায় তার বাসা। তিনি জানান, রাতে মশারি টানানোর অভ্যাস নেই তার পরিবারের। তার সন্দেহ মশা হয়তো এই সুযোগে কোনো একসময়ে তাকে কামড় দিয়েছে। মেডিসিন ওয়ার্ডের ৬০১-এর বারান্দার মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৭ বছর বয়সী আরেক ডেঙ্গু রোগী হৃদয়। এসেছেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ব্যাংক কলোনি থেকে। ওয়ার্ডের মূল সিটে তার ঠাঁই হয়নি। তাই তিনি ফ্লোরে থেকে সেবা নিচ্ছেন বলে জানান তার স্বজনরা।

গতকাল সরজমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তাদের মতো আরও অনেক ডেঙ্গু রোগী ঢাকার বাইরে থেকে আসছেন। হাসপাতালের চতুর্থতলায় তাদের জন্য ডেঙ্গু ওয়ার্ড করা হয়েছে। ডেঙ্গু ওয়ার্ড ছাড়াও মেডিসিন ওয়ার্ডের সামনে সিঁড়ির গোড়ায় ডেঙ্গু রোগীদের কোনো রকম ঠাঁই হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীর কারণে প্রতিদিনই চাপ বাড়ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। মেডিসিন ৭০১ নম্বর ওয়ার্ডের এক চিকিৎসক জানান, প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগী আসছে তাদের ওয়ার্ডে। রোগীর চাপ থাকায় মূল সিটে জায়গায় না হওয়ায় রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

চলতি বছরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৯৩ জন রোগী। হাসপাতালটিতে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৪১ জন মারা গেছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন এক হাজার ৪৮৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৬৬৫ রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময় মারা গেছেন একজন। এ বছর সারা দেশে ডেঙ্গুতে ১৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৯ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগেই ১১ হাজার ৬৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী রয়েছেন। রাজধানীর উত্তর সিটিতে ডেঙ্গু রোগী ৪ হাজার ৪৬ জন, দক্ষিণে ৫ হাজার ৯৮৭ জন, চট্টগ্রামে ৬ হাজার ১২ জন, ঢাকার অন্যান্য জেলায় ৫ হাজার ৬৩৬ জন, খুলনা বিভাগে ২ হাজার ২৩ জন, ময়মনসিংহে ৭৬৫ জন, রাজশাহীতে ২ হাজার ৬৯২ জন, রংপুর বিভাগে ২৭২ জন এবং সিলেটে ১১৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে এবার।

ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষ ওয়ার্ড চালুর নির্দেশ: ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সব সরকারি হাসপাতালে বিশেষ ওয়ার্ড ও নির্দিষ্ট চিকিৎসক টিম গঠনের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার জারি করা এক জরুরি প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোতে আলাদা ওয়ার্ড ও চিকিৎসক দল গঠন করা আবশ্যক। এনএস-১ টেস্ট, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, মেডিসিন, শিশু চিকিৎসকসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠন করতে হবে। সেই বোর্ডের তত্ত্বাবধানে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা শুধুমাত্র ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগীদের চিকিৎসা দেবেন। সন্দেহভাজন রোগীদেরও বহির্বিভাগে নির্দিষ্ট কক্ষে পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। হাসপাতাল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনের জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভাকে চিঠি দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি শনিবার সকাল ১০টায় হাসপাতাল পরিচালক ও সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে সমন্বয় সভা আয়োজনের কথা বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ রোগী সেবাকে আরও সংগঠিত করবে এবং চিকিৎসার মান উন্নত করবে। একইসঙ্গে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।




শেষ বলে নাটকীয় জয়, সুপার ফোরের আশা বাঁচাল বাংলাদেশ

আবুধাবির মাঠে যেন সৃষ্টি হয়েছিল এক রোমাঞ্চকর আবহ। প্রতিটি বলের সঙ্গে দর্শকদের হৃদস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছিল, কে জিতবে—বাংলাদেশ নাকি আফগানিস্তান? শেষ বল পর্যন্ত অস্থির উত্তেজনার পর অবশেষে হাসল টাইগাররা। এশিয়া কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৮ রানে হারিয়ে সুপার ফোরে খেলার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে সংগ্রহ করে ৫ উইকেটে ১৫৪ রান। ইনিংসের শুরুটা দারুণ ছিল। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৩১ বলে ৫২ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল চারটি চার আর তিনটি ছক্কা। তার সঙ্গী সাইফ হাসান ২৮ বলে করেন ৩০ রান। তবে অধিনায়ক লিটন দাস ব্যর্থ হয়ে মাত্র ৯ রানে ফিরেন। হৃদয় করেন ২০ বলে ২৬ রান। শামীম হোসেন, জাকের আলী ও সোহান বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ফলে ভালো সূচনা সত্ত্বেও শেষ দশ ওভারে মাত্র ৬৭ রান যোগ হয়।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে আফগানিস্তান। নাসুম আহমেদ প্রথম ওভারেই উইকেট মেডেন করে সাজঘরে ফেরান ওপেনার জাদরানকে। রিশাদ হোসেনও বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন। গুরবাজ করেন ৩৫ রান, নাইব করেন ১৬, আর নবী চেষ্টা করেও দলকে টানতে পারেননি।

শেষদিকে ওমরজাই (১৬ বলে ৩০) ও রশিদ খান (১১ বলে ২০) ম্যাচে ফের উত্তেজনা নিয়ে আসেন। শেষ ওভারে আফগানিস্তানের দরকার ছিল ১৭ রান। মুস্তাফিজুর রহমানের বল সামলাতে হিমশিম খান ব্যাটাররা। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ৯ রান, কিন্তু মুস্তাফিজের নিখুঁত ডেলিভারিতে নুর আহমেদ ক্যাচ তুলে দিলে বাংলাদেশ নিশ্চিত করে রোমাঞ্চকর জয়। আফগানিস্তানের ইনিংস থামে ১৪৬ রানে।

ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজ নেন ৩ উইকেট, নাসুম ২ উইকেট, তাসকিনও ২ উইকেট শিকার করেন। দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্য ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন নাসুম আহমেদ।

এই জয়ে গ্রুপ পর্বে ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ করল বাংলাদেশ। সমান পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলঙ্কা এগিয়ে আছে নেট রান রেটে। এখন বাংলাদেশকে সুপার ফোরে যেতে হলে শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫৪/৫ (তানজিদ ৫২, সাইফ ৩০, হৃদয় ২৬; নুর ২/২৩, রশিদ ২/২৬)
আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৪৬ (গুরবাজ ৩৫, ওমরজাই ৩০, রশিদ ২০; মুস্তাফিজ ৩/২৮, নাসুম ২/১১, তাসকিন ২/৩৪)
ফলাফল: বাংলাদেশ ৮ রানে জয়ী
ম্যাচ সেরা: নাসুম আহমেদ


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শুক্রবার ২৫৬ কেন্দ্রে ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) ঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ)।

এ পরীক্ষা ঢাকাসহ রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ—এই আট বিভাগীয় শহরের মোট ২৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।

বিপিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই সকাল ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে হলে প্রবেশ করতে হবে। এরপর গেট বন্ধ হয়ে যাবে এবং কোনোভাবেই দেরিতে প্রবেশ করা যাবে না। আসন বিন্যাস, সময়সূচি ও কেন্দ্রসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে কমিশনের ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd) ও টেলিটকের ওয়েবসাইটে (bpsc.teletalk.com.bd)। পাশাপাশি এসএমএসের মাধ্যমেও পরীক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

প্রশ্নপত্রে থাকবে মোট ২০০টি এমসিকিউ। প্রতিটি সঠিক উত্তরে ১ নম্বর এবং ভুল উত্তরে ০.৫ নম্বর কাটা যাবে। পরীক্ষার সময়সীমা দুই ঘণ্টা। চারটি সেটে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়েছে—১, ২, ৩ ও ৪। পরীক্ষার্থী যে সেট নম্বরের উত্তরপত্র পাবেন, সেই সেট নম্বরের প্রশ্নপত্র দেওয়া হবে।

পরীক্ষার হলে বই-পুস্তক, ঘড়ি, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ব্যাগ, গহনা ও যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রবেশের সময় মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। এসব সামগ্রী নিয়ে হলে প্রবেশ করলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য শ্রুতিলেখক দেওয়া হবে এবং তারা প্রতি ঘণ্টায় ১০ মিনিট করে অতিরিক্ত সময় পাবেন। অন্যান্য প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সময় থাকবে প্রতি ঘণ্টায় ৫ মিনিট। প্রবেশপত্র ছাড়া কোনো পরীক্ষার্থী হলে প্রবেশ করতে পারবেন না। প্রবেশপত্র হারিয়ে গেলে কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে নতুন করে ডাউনলোড করতে হবে।

যেসব পরীক্ষার্থী ইংরেজি ভার্সনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের জন্য আলাদা আসন বিন্যাস ও প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে ভার্সন পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।

বিপিএসসি আরও জানিয়েছে, পরীক্ষায় অনিয়ম, গরমিল বা অসদাচরণ প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




একুশে বইমেলা এবারের সময়ের আগেই আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: অমর একুশে বইমেলা আমাদের প্রাণের স্পন্দন।প্রতি বছর হাজারো মানুষের পদভারে মুখরিত হয় বই মেলা প্র্রাঙ্গন । ফেব্রুয়ারির  প্রথম ‍দিন থেকে এই মেলার যাত্রা শুরু হয় কিন্তু কর্তৃপক্ষ এবার ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে বই মেলা  আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম গণমাধ্যমকে বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কারণে নিরাপত্তা ও মানুষের আগ্রহ নিয়ে সমস্যা হতে পারে। এজন্য প্রকাশকেরা প্রস্তাব দিয়েছেন, আমরা যেন ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে মেলা করি।”

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি লিখিতভাবে মেলা কর্তৃপক্ষকে তিনটি সময়ের প্রস্তাব দিয়েছে। সেগুলো হলো: ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি, অথবা ৫ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি। প্রকাশকরা মনে করছেন ফেব্রুয়ারির পরে মেলা হলে এর আমেজ থাকবে না এবং আবহাওয়ার কারণে আয়োজন কঠিন হবে।

মেলার মেয়াদ নিয়ে প্রকাশক সমিতি এবং কিছু প্রকাশক পরামর্শ দিয়েছেন ১৫ দিনের আয়োজন করলে খরচ কমবে এবং মেলার কার্যক্রম আরও সফল হবে। বাতিঘরের কর্ণধার দীপঙ্কর দাশ গণমাধ্যমকে বলেন, “ফেব্রুয়ারির পরে মেলা করলে আমেজ থাকবে না। মাসব্যাপী মেলারও প্রয়োজন নেই। পৃথিবীর কোথাও এত দীর্ঘ সময় বইমেলা হয় না।”

১৯৭২ সালে ভাষা দিবসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বই বিক্রি দিয়ে বইমেলার সূচনা হয়। ১৯৭৭ সালে মুক্তধারাসহ আরও প্রকাশক যুক্ত হয়ে বইমেলার ধারাবাহিকতা স্থাপন করেন। বর্তমানে মেলা বাংলা একাডেমি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।




তিস্তায় ফের পানি বৃদ্ধি, বন্যার শঙ্কা চরাঞ্চলের অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে

 

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ: অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তায় পানি আবারও বেড়ে জনজীবনে দূর্ভোগ বাড়িয়ে ‍দিয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৬টায় হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার তিন সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সন্ধ্যা ৬টায় তা কমে বিপৎসীমার নিচে নেমে যায়। পানির প্রবাহ বাড়তে থাকায় তিস্তা ব্যারাজের ভাটিতে থাকা হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করে। তলিয়ে যায় আমন ধানসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষেত। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, রোববার গভীর রাত থেকে তিস্তায় পানি বাড়তে থাকে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোয় পানি উঠে যায়। গোবর্ধন এলাকার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বাহে, চলতি বছরে চারবার বন্যা হইল। ঘরবাড়ি তলে যাচ্ছে।’ নদীপারের মানুষ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি থাকার আশঙ্কা থাকায় নিম্নাঞ্চলগুলোতে স্বল্পমাত্রার বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় জানান, উজানে বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি বাড়ছে। পানি ওঠানামার কারণে কোথাও কোনো ভাঙন দেখা দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান হালদার জানান, পানি সাময়িক বাড়লেও শঙ্কা নেই। বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।




বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষাকারী তিস্তা প্রকল্প যাচাইয়ে বাংলাদেশে আসছে চীনের বিশেষজ্ঞ দল

চন্দ্রদ্বীপনিউজ: উত্তরের জনপদের বহুল প্রত্যাশীত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ চীনের সহায়তা নিতে আগ্রহী। এ জন্য ঢাকা চীনের কাছ থেকে ঋণ চেয়েছে, এবং বেইজিংও প্রকল্পটিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চীনের একটি কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল সরেজমিনে তিস্তা প্রকল্প যাচাই করতে বাংলাদেশে আসবে।

ঢাকায় সোমবার পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে আলোচনায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এ তথ্য জানিয়েছেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চীনের কাছ থেকে প্রায় ৫৫ কোটি ডলারের ঋণ চেয়েছে। চীনের পক্ষ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রদূত জানান, এ প্রকল্পের বিষয়ে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফর এবং চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে হাসপাতাল নির্মাণসহ অন্যান্য প্রকল্পের হালনাগাদ পরিস্থিতিও আলোচনা হয়েছে।

গত মার্চে প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরের পর অন্তর্বর্তী সরকার তিস্তা প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে। মে মাসে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা কমিশনে চিঠি প্রেরণ করে এবং জুলাইয়ে ইআরডির মাধ্যমে চীনা দূতাবাসকে ঋণের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানো হয়।

তিস্তা প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫ কোটি ডলার, যার মধ্যে ৫৫ কোটি ডলার চীনের ঋণ থেকে আসবে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালে শুরু হয়ে ২০২৯ সালে শেষ হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, অতীতে তিস্তা প্রকল্পে ভারতেরও আগ্রহ ছিল। ২০২৪ সালের মে মাসে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রসচিব বাংলাদেশ সফরে এসে বিনিয়োগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।