ট্রাম্পের ভিসা ফি বাড়ানোয় ভারত উদ্বিগ্ন: মানবিক সংকটের আশঙ্কা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি ১ লাখ ডলার (প্রায় ৮৮ লাখ টাকা) করার ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আগ্রহী দক্ষ বিদেশি শ্রমিকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত বড় ধাক্কা হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারত। দেশটির মতে, হঠাৎ নেওয়া এ পদক্ষেপ মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, “এ ধরনের সিদ্ধান্ত অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে, যার ফলে মানবিক পরিণতি ডেকে আনবে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং আশা করছি যুক্তরাষ্ট্র গঠনমূলক উদ্যোগ নেবে।”

বর্তমানে এই ভিসার আবেদন ফি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে থাকলেও হোয়াইট হাউস দাবি করছে, নতুন ফি কার্যকর হলে কেবল উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন জনশক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে এবং স্থানীয় কর্মীদের চাকরি সুরক্ষিত থাকবে। হোয়াইট হাউস একে ‘সবচেয়ে অপব্যবহৃত ভিসা কর্মসূচি’ বলেও উল্লেখ করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে, দুই দেশের সম্পর্ক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই নীতিনির্ধারকদের উচিত উভয় দেশের জন্য লাভজনক সমাধান খোঁজা।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসাধারীদের মধ্যে ৭১ শতাংশই ভারতীয়, যাদের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলোর অনশোর প্রকল্প মূলত এই ভিসার ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে টিসিএস, ইনফোসিস ও উইপ্রোর মতো কোম্পানিগুলো এ ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশ্লেষকদের মতে, ফি বাড়ানো হলে এসব প্রতিষ্ঠানের খরচ কয়েক বিলিয়ন ডলার বেড়ে যাবে, যা নিয়োগ কমানো বা প্রজেক্ট ভারতে ফিরিয়ে আনার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিএনপির বিরুদ্ধে চলছে ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে অতীতে যেমন ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হতে পারেনি, আগামীতেও পারবে না।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছি। বিএনপিকে ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছে বহুবার। কিন্তু বিএনপি উড়ে এসে জুড়ে বসা দল নয়, এই দল জনগণের হৃদয়ে বেঁচে আছে।”

তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জনগণের ভোটে জনগণের পার্লামেন্ট গঠন করেছিলেন। তিনি একদলীয় বাকশালের পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাই বিএনপি সব সময় জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, “একাত্তরে ভিন্ন অবস্থানে থাকা দল, এমনকি যাদের কাল জন্ম হয়েছে তারাও বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা করে। অথচ এই দল ফিনিক্স পাখির মতো—ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু সফল হয়নি। বরং ষড়যন্ত্রকারীরাই পালিয়ে গেছে।”

তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কোনো ব্যক্তির নামে স্লোগান নয়, স্লোগান হবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ছাত্র-জনতার আন্দোলন জাতিকে পথ দেখিয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ছিল সত্য ও ন্যায়ের সংগ্রাম। ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সেই আন্দোলন গণমানুষের প্রত্যাশাকে একত্রিত করে জাতিকে নতুন দিশা দেখিয়েছে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পদ্মা সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে জুলাই শহীদদের স্মরণে অঙ্কিত বিশেষ গ্রাফিতি ‘জুলাই বীরত্ব’‘জুলাই আত্মত্যাগ’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এই প্রজন্ম এবং আগামী প্রজন্মকে জানতে হবে—জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান কেবল একটি আন্দোলন ছিল না, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল। ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সেই আন্দোলন জাতিকে নতুন দিশা দিয়েছে। এ উদ্যোগ তরুণ সমাজকে অনুপ্রাণিত করবে সত্য, ন্যায়, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের চেতনায় উজ্জীবিত হতে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দায়িত্ব হবে শহীদদের ত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা এবং তাদের আদর্শ ধারণ করা। শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায়, সমতা ও মানবিকতার বাংলাদেশ। আমাদের সেই পথেই এগিয়ে যেতে হবে।”

গ্রাফিতি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সেতু বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্বে), মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও স্থানীয় কর্মকর্তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




রোহিঙ্গা সংকট সমাধান সরকারের অগ্রাধিকার: পররাষ্ট্র সচিব

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি দেশের পররাষ্ট্রনীতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ বিষয়ে কেবল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দায়ী করা সঠিক হবে না।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীতে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এবং অক্সফামের যৌথ আয়োজনে ‘শিরোনামের বাইরে নতুন চোখে রোহিঙ্গা সংকট’ শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, রোহিঙ্গা সংকট অব্যাহত থাকায় কক্সবাজার ও মহেশখালী এলাকায় বিদেশি বিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা সব সময় চাই শান্তিপূর্ণ ও আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান হোক। জাতিসংঘের আসন্ন হাই-লেভেল বৈঠককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।”

ড. নজরুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান সবসময়ই সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। আন্তর্জাতিক মহলে এ বিষয়ে সহযোগিতা এবং ইতিবাচক ভূমিকাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

সিম্পোজিয়ামে অন্যান্য বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে ভূ-রাজনৈতিক সদিচ্ছাই মূল চাবিকাঠি। কেবল বাংলাদেশ নয়, এই অঞ্চলের অন্যান্য রাষ্ট্রেরও কার্যকর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মানুষ জামায়াতকে বিশ্বাস করে: অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, সৎ নেতৃত্বের কারণেই দেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে বিশ্বাস করে। আগামী নির্বাচনে জনগণ জামায়াতকেই ভোট দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিশ্ব নবীর জীবন ও কর্মনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামীর গোদাগাড়ী পৌর ওলামা বিভাগ।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (জাকসু) নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের নিরঙ্কুশ বিজয় প্রমাণ করেছে, জনগণ জামায়াতকে আস্থার জায়গায় রেখেছে। আধুনিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত হলো সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সেই রাষ্ট্রের রূপকার। তাঁর নীতি-আদর্শই আমাদের পথপ্রদর্শক।”

সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগরের মাজলিসুল মুফাসসিরীনের সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। সভাপতিত্ব করেন গোদাগাড়ী পৌর ওলামা বিভাগের সভাপতি শায়খ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক, রাজশাহী আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি ড. ওবায়দুল্লাহ, গোদাগাড়ী পৌর আমির আনারুল ইসলাম, জেলার সহকারী সেক্রেটারি মো. কামরুজ্জামান ও উপজেলা জামায়াতের আমির নোমায়ন মাস্টারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

দিনব্যাপী আলোচনা সভায় বক্তারা বিশ্বনবীর জীবন ও কর্মনীতি অনুসরণের আহ্বান জানান এবং সমাজে ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অভ্যুত্থানকে ঘিরে উগ্রপন্থার আশঙ্কা: জোনায়েদ সাকি

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের সুযোগ নিয়ে একটি রাজনৈতিক দল উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকতে চাইছে। তারা আন্দোলনের সুযোগকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পরিকল্পনা করছে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল নগরীর সদর রোডে অশ্বিনী কুমার টাউন হলে গণসংহতি আন্দোলনের দ্বিতীয় জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু।

জোনায়েদ সাকি বলেন, “যে কেউ যদি আবার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চায়, জনগণ তা মেনে নেবে না। অধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় আমাদের সবাইকে সংগঠিত হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, অভ্যুত্থানের পর থেকেই গণসংহতি আন্দোলন জোর দিয়ে বলছে, এ দেশের গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে বিচার সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য। যারা হত্যা ও ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল, তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রসঙ্গে সাকি বলেন, “আমরা ঐকমত্য চাই। আগামী জনপ্রতিনিধিরা যেন এই ঐকমত্য বাস্তবায়নে বাধ্য থাকে তার নিশ্চয়তা তৈরি করতে হবে। সংসদে বসে সংস্কার কার্যকর করার জন্য টেকসই গ্যারান্টি প্রয়োজন।”

তিনি অভিযোগ করেন, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি, দেশি-বিদেশি দোসর ও ভারতীয় আধিপত্যবাদীরা এ অভ্যুত্থান ভিন্ন পথে নিতে চক্রান্ত করছে। তাই রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বাচ্চু ভূঁইয়া, জেলা সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান মিরাজ, কৃষক মজুর সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম, যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন এবং ছাত্র ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা রহমান বিথী।

দিনব্যাপী সম্মেলন শেষে গণসংহতি আন্দোলনের বরিশাল জেলা শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু। পরে জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে নগরীর সদর রোডে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়, যা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আরব আমিরাতের ভিসা নিষেধাজ্ঞার কবলে বাংলাদেশসহ ৯ দেশ

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ: দিন দিন  সংকুচিত হচ্ছে বাংলাদেশীদের শ্রমবাজার।আর তারই ধারাবাহিকতায়  বাংলাদেশসহ নয়টি দেশের ওপর পর্যটন ও কর্ম ভিসার উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এই নির্দেশনা।

শ্রমিক, পর্যটক এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক এই ৯ দেশের নাগরিকরা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবেন।

বাংলাদেশিদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে  ছিল  সংযুক্ত আরব আমিরাত   আর সেখানে  ভ্রমণ, কাজ বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা একটি অপরিহার্য নথি। যদিও বেশিরভাগ নাগরিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর্যটন ভিসা বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাজের ভিসার জন্যই আবেদন করেন।

তবে এবার বেশ কিছু দেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করলো আমিরাত। এই বিধিনিষেধের অর্থ হলো- পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দেশগুলোর নাগরিকরা শ্রমিক, পর্যটক এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

দেশটির অভিবাসন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো- আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লেবানন, বাংলাদেশ, ক্যামেরুন, সুদান এবং উগান্ডা।

এই নিষেধাজ্ঞা সাময়িক বলে মনে করা হচ্ছে এবং আরব আমিরাতের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য মূল্যায়ণের ওপর নির্ভর করে তা পর্যালোচনা করা হবে। তবে যারা বৈধ ভিসা নিয়ে এরই মধ্যে আমিরাতে বসবাস করছেন, তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছেন না।




প্রতিক্ষার অবসান ৯ বছর পর কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন আজ

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ:   কিশোরগঞ্জ জেলায় দীর্ঘ ৯ বছরের প্রতিক্ষার অবসানের পর  বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন আজ শনিবার শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য মোট ছয়জন নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৩টি উপজেলা ও ৮ পৌর কমিটির ২ হাজার ৯০ জন কাউন্সিলরের ভোটের মাধ্যমে শীর্ষ দুটি পদে নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সম্মেলন কে  ঘিরে পুরো কিশোরগঞ্জে আজ উৎসবের আমেজ,  সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ কারা পাচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। শহরের স্টেশন রোডসহ বিভিন্ন এলাকা প্রার্থীদের ছবিসংবলিত ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনে ভরে গেছে। দুই শর ওপরে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। স্টেডিয়ামে বিশাল মঞ্চের সঙ্গে নির্মাণ করা হয়েছে ৩০ হাজার বর্গফুটের অস্থায়ী ছাউনি। সম্মেলন ঘিরে দলের নেতা–কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ–উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, বেলা ১১টায় সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে মো. শরীফুল আলমকে সভাপতি ও মাজহারুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা। ওই সময় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম উপস্থিত থাকলেও বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়ে যায় সম্মেলন। পরে তিন সপ্তাহ পর কেন্দ্র থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। এবার সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি মো. শরীফুল আলম। তাঁকে প্রতীক দেওয়া হয়েছে ‘আনারস’। তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বেও আছেন। তাঁর সঙ্গে ‘ছাতা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান জেলা কমিটির সহসভাপতি রুহুল হোসাইন।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হওয়ায় নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত। তাঁদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে কাউন্সিলররা তাঁদের নেতা নির্বাচন করবেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম বলেন, ‘বিএনপি যে একটি গণতান্ত্রিক দল, এ নির্বাচনই তার প্রমাণ। নেতা-কর্মীরা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে তাঁদের নেতা নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন। সব সময় দলের নেতা-কর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’

 




ঢাকার আকাশে ঘুর্নিবাতাসের শিকার বাংলাদেশ বিমান, হাত ভাঙল কেবিন ক্রুর

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ:  আকাশে শান্তির নীড় বাংলাদেশ বিমান । ঢাকার আকাশে  এই শান্তির নীড়ে  এয়ার টার্বুলেন্সের কালো ছায়া হয়ে আছরে পরেছে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ গায়ে । ৯ সেকেন্ড ধরে স্থায়ী সেই টার্বুলেন্সের তীব্র ঝাঁকুনিতে পড়ে গিয়ে হাত ভেঙেছে এক কেবিন ক্রুর। এ সময় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও তারা নিরাপদে ছিলেন।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার কিছু সময় পর বিমানের বিজি ১২৮ ফ্লাইটে এই ঘটনা ঘটে। বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজটি দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় ফিরছিল।

শুক্রবার সকালে বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজের বিজি-১২৮ ফ্লাইটটি দুবাই থেকে চট্টগ্রামে অবতরণ করে। সেখানে যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর ঢাকার যাত্রী ও অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের নিয়ে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। কেবিন ক্রুরা যাত্রীদের প্রাথমিক সার্ভিস করার মধ্যেই উড়োজাহাজটি ততক্ষণে ঢাকার আকাশে চলে আসে। তখনই উড়োজাহাজে তীব্র ঝাঁকুনি শুরু হয়। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই যাত্রীরা আতঙ্কে কান্না-চিৎকার শুরু করেন। টার্বুলেন্সের মধ্যে পড়ে অন্তত ৯ সেকেন্ড ধরে উড়োজাহাজটি এলোমেলোভাবে ঝাঁকুনি দিতে থাকে।

ওই ফ্লাইটটির পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন ইন্তেখাব হোসাইন। তিনি বিমানের ডেপুটি চিফ অব ফ্লাইট সেফটি পদেও রয়েছেন। ফ্লাই ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ফ্লাইট পার্সার রনি। ফ্লাইট স্টুয়ার্ডের দায়িত্বে ছিলেন মিথিলা। ওই ফ্লাইটের যাত্রী ও বিমানকর্মী সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদ অবতরণের পর দুর্ঘটনার শিকার কেবিন ক্রু শাবামা আজমী মিথিলাকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) নিয়ে যাওয়া হয়।

এক্সরে পরীক্ষায় দেখা গেছে, তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপরের (বাহু) হাড় ভেঙে অনেকটা আলাদা হয়ে গেছে।




নাড়ীছেড়া ধনের লাশের অপেক্ষায় চেয়ে থাকতে থাকতে চোখ ঝাপসা অইয়া গেছে, তবু আসতেছে না’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: ছেলের লাশটা আইন্না দেও। শেষবারের মতোন ছেলেডার মুখ এট্টু দেখতে চাই।‘লাশের অপেক্ষায় চোখ ঝাপসা অইয়া গেছে, তবু আসতেছে না।’ আজ শুক্রবার সকালে কাঁদতে কাঁদতে মুঠোফোনে নিজের আকুতি জানাচ্ছিলেন পারুল বেগম।  সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি হাসপাতালের মর্গে প্রায় এক মাস ধরে তাঁর ছেলে মো. সবুজের (৩৬) লাশ পড়ে আছে। তবে নানা জটিলতায় সেখান থেকে লাশটি আনতে পারছেন না।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সবুজ শ্যামল  ছায়া ঢাকা  ছোট গ্রামে দুর্গাপুর সবুজের বাড়ি জীবিকার । তিনি একই গ্রামের মৃত আমছর আলী ও পারুল বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। প্রায় দুই বছর আগে দুবাই শহরের পাড়ি জমান সবুজ। সেখানে তিনি শ্রমিকের কাজ করতেন। চলতি বছরের ২২ আগস্ট নিজের ভাড়া বাসার সামনে দুর্বৃত্তের অস্ত্রের আঘাতে তিনি খুন হন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২২ আগস্ট সন্ধ্যায় সেখানকার এক প্রবাসীর সঙ্গে টাকার লেনদেন নিয়ে সবুজের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে সবুজকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন ওই ব্যক্তি। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সবুজ। পরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সেখানকার একটি হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এখনো সেখানেই পড়ে আছে লাশটি। এ ঘটনায় সেখানকার থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছে। এ মামলায় ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।

সবুজের বড় ভাই সুলতান মিজি বলেন, তাঁর ভাইয়ের লাশ আনার জন্য দুই দেশের দূতাবাসে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সেখানকার মামলা মীমাংসা না হওয়ার পাশাপাশি নানা প্রক্রিয়াগত ও আইনগত জটিলতায় লাশটি আনতে দেরি হচ্ছে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা লাশটির অপেক্ষায় হাঁপিয়ে উঠছেন। তাঁর মা, সবুজের স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে কিছুতেই সান্ত্বনা দেওয়া না। লাশটি দ্রুত আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

সবুজের স্ত্রী রিভা আক্তার (২৫) বলেন, তাঁদের শিশু সন্তানটি বারবার বাবার কথা জানতে চায়। কিন্তু ছেলেটির প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না। সামনে অন্ধকার দেখছেন। স্বামী হত্যার বিচার দাবি করে লাশটি দ্রুত বাড়িতে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।