ঝালকাঠিতে গৃহবধূকে হত্যার পর সাড়ে ৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের ভরৎকাঠি গ্রামে গৃহবধূ সুখি বেগমকে (৪০) শ্বাসরোধে হত্যার পর নগদ টাকা লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত সুখি বেগম স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ী মনির হাওলাদারের স্ত্রী। তাদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ভোরে মনির হাওলাদার দুই ছেলেকে নিয়ে দোকানে যান। সকালে বাড়ির অন্যরা সুখি বেগমের কোনো সাড়া না পেয়ে ডাকাডাকি করেন। পরে স্বামী এসে দেখেন ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকানো। জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে তিনি স্ত্রীর নিথর দেহ খাটে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় আলমিরার ড্রয়ার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। মনির হাওলাদারের দাবি, সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা লুট হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভারতের কারাগারে বন্দি ১৯ জেলে, ভোলায় হতাশায় ডুবে পরিবার

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে ভারতে চলে যাওয়া ভোলার ১৯ জেলে এখন বন্দি রয়েছেন neighboring দেশের কারাগারে। তাদের ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটছে পরিবারগুলোর অশ্রুসিক্ত প্রতীক্ষায়।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের শান্তিরহাট খাল এলাকা থেকে সফিজল ব্যাপারীর নেতৃত্বে একটি ফিশিংবোটে ১৯ জন জেলে মাছ শিকারে বের হন। ঝড়ের কবলে পড়ে বোটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে দিক হারিয়ে তারা ভারত সীমান্তে ঢুকে পড়েন। পরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের আটক করে কোস্টাল থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বর্তমানে তারা সবাই ভারতের কারাগারে বন্দি।

এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছে পরিবারগুলো। ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী প্রিয়াংকা দাস কাঁদতে কাঁদতে বলে, “বাবা বলেছিল পূজার জন্য নতুন জামা কিনে দেবে। কিন্তু বাবা তো এখনো আসেনি।” তার বাবা রাজীব চন্দ্র দাসও বন্দিদের একজন।

রাজীবের স্ত্রী কল্পনা রানী দাস জানান, সংসার চালাতে স্বামী মাছ ধরার পাশাপাশি দিনমজুরের কাজ করতেন। এখন তিনি বন্দি হওয়ায় পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। দুই মেয়ে নিয়ে কীভাবে দিন কাটাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

ফিশিংবোটের মালিক সফিজল ব্যাপারীর স্ত্রী মিনারা বেগম বলেন, তার স্বামীসহ সব জেলেই গরিব। ধার-দেনা করে বোটটি তৈরি করেছিলেন তিনি। এখন স্বামী বন্দি হওয়ায় দেনা শোধ করা নিয়েও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানান, ভারতের একটি স্থানীয় সংবাদপোর্টালের মাধ্যমে বিষয়টি জানা গেছে। ইতোমধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে এবং প্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠিয়েছে। ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আপাতত পরিবারগুলোর পাশে থাকতে প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিলে বন্দি জেলেদের পরিবারগুলো আরও বিপাকে পড়বে। তারা সরকারের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তিন নদীর মোহনায় অপার সৌন্দর্য নিয়ে জেগে আছে ‘নিদ্রার চর’

বরগুনার তালতলী উপজেলার বঙ্গোপসাগর তীরের নয়নাভিরাম নিদ্রার চর সৈকত এখন পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ। সবুজ কেওড়া–ঝাউবন, খাঁজকাটা বেলাভূমি আর সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অপার সৌন্দর্যে ভরপুর এ স্থানকে ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনা বাড়ছে প্রতিদিনই।

পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর মিলনমোহনায় গড়ে ওঠা প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকতটি শীতকালে হয়ে ওঠে আরও মনোমুগ্ধকর। চারপাশে টেংরাগিরি ইকোপার্ক আর শুভসন্ধ্যা সৈকতের অবস্থান নিদ্রার চরকে দিয়েছে বাড়তি আবেদন। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসেন এই সৈকতের রূপ দেখতে।

তবে পর্যটকদের অভিযোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন না থাকায় এখানে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার সুবিধা সীমিত। নেই পর্যাপ্ত হোটেল, মানসম্মত খাবার কিংবা নিরাপদ শৌচাগার। স্থানীয় উদ্যোক্তারা স্বেচ্ছাশ্রমে সৈকত পরিষ্কার রাখা, গাইড দেওয়া ও অস্থায়ী তাঁবুতে রাতযাপনের ব্যবস্থা করলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।

বরগুনা জেলা পর্যটন উদ্যোক্তা উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরিফ খান বলেন, ‘‘নিদ্রার চর শুধু বরগুনা নয়, পুরো দক্ষিণাঞ্চলের জন্য গর্বের স্থান হতে পারে। এখানে পর্যটন বোর্ড বা প্রশাসনের স্বীকৃতি পেলে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।’’

ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক উন্নয়ন ও ওয়াশ ব্লক নির্মাণ শুরু হয়েছে। বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল আলম জানান, ধাপে ধাপে অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে, যাতে পর্যটকেরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন।

বিশ্ব পর্যটন দিবসে (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশেষজ্ঞদের মত, অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটলে নিদ্রার চর হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র। প্রকৃতিপ্রেমীরা একে বলছেন—এক অনাবিষ্কৃত কবিতার পঙ্‌ক্তি, যেখানে প্রতিদিন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত রচনা করে নতুন এক রূপকথা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির একাধিক, জামায়াতের একক প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ভোটের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটি রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ কখনোই এ আসন থেকে জিততে পারেনি। তবে অতীতে ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে এ আসনে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকলেও জামায়াত একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

বিএনপি থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং তরুণ নেতা ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদের নাম প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিভক্ত হলেও প্রত্যাশা করছেন, যেই প্রার্থীই মনোনয়ন পান না কেন, বিএনপি শক্ত অবস্থানে থাকবে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী বরিশাল মহানগরের আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে—বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদও প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি দুই প্রার্থী দেওয়ায় আসনটি হারায়। তবে স্থানীয় নেতাদের বিশ্বাস, এবার যদি প্রার্থী নির্ধারণে ঐক্য রাখা যায়, বিএনপি জয় পেতে সক্ষম হবে। বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, “এ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি। আওয়ামী লীগ কোনোদিনই এখানে জিততে পারেনি। মনোনয়ন যাকেই দেওয়া হোক, বিএনপিই বিজয়ী হবে।”

অন্যদিকে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টি মাঠে নেই। ফলে নির্বাচনের প্রাক্কালে মাঠ দখলে রাখতে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও এবি পার্টি সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে।

সব মিলিয়ে বরিশাল-৩ আসনটি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এ আসনকে ঘিরে ভোটযুদ্ধ জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে গৃহবধূ গণধর্ষণ, কারাগারে একজন

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় এক গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের পূর্বসুজনকাঠী গ্রামের ওই গৃহবধূ ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে পশ্চিমসুজনকাঠী গ্রামের খালার বাড়িতে বেড়াতে যান। রাত ১টার দিকে তিনি প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বাইরে বের হলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা তিন যুবক তাকে জোরপূর্বক পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তারা পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে তার চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এসে উদ্ধার করে।

ভুক্তভোগী নারী জানান, “আমি বাইরে বের হলে তারা আমার মুখ চেপে ধরে জোর করে ঘরে নিয়ে যায় এবং পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। এরপর পরিবারের লোকজন আমাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।”

এ ঘটনায় ধর্ষিতা বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১২, তারিখ ২৬-৯-২০২৫)। মামলায় নাবিল সরদার (২০), ফয়সাল বেপারী (২৬) এবং এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশংকর মল্লিক জানান, মামলার পর আসামি ফয়সাল বেপারীকে শনিবার সকালে ফুল্লশ্রীর বাইপাস সড়কের চৌরাস্তায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ

জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত টানা ২২ দিন দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমসহ ছোট-বড় সব নদ-নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে।

মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে মা ইলিশ ডিম ছাড়তে নদীতে আসতে শুরু করেছে। ফলে জেলেদের জালে ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আশ্বিনের দ্বিতীয় পক্ষ থেকে কার্তিকের প্রথম পক্ষ পর্যন্ত সময়টি ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় প্রায় ৮০ শতাংশ ইলিশ ডিম ছাড়ে।

বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জানান, নদীতে ছোট আকারের ইলিশ ধরা পড়ছে এবং তাদের অধিকাংশের পেটে ডিম রয়েছে। বড় আকারের ইলিশ কিছুটা পরে আসা শুরু করবে।

স্থানীয় জেলে রিয়াজ মোল্লা ও মোতালেব হোসেন জানান, গত কয়েক দিন ধরে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি বেড়েছে। আগে যেখানে দিনভর জাল ফেলে কয়েক শ টাকার মাছ মিলত, এখন কয়েক হাজার টাকার মাছ পাওয়া যাচ্ছে। তবে বড় আকারের ইলিশ কম ধরা পড়ছে, আর অধিকাংশ ছোট ইলিশের পেটে ডিম রয়েছে।

বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কিত তথ্য জানিয়ে বরিশালের পোর্ট রোডের আড়তদার আকতার হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। প্রতিদিন এখন দেড়শ থেকে দুই শ মণ মাছ বেচাকেনা হচ্ছে। তিনি জানান, দেড় কেজি ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭৫০ টাকায়, এক কেজি আকারের ইলিশ ২ হাজার ১৫০ টাকা, আর ৩০০ গ্রাম আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা দরে।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব নদ-নদীতে মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। বিশেষ করে চাঁদপুর, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাটসহ ২০ জেলার নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ হবে। এই সময়ে বরফকলও বন্ধ থাকবে।

অন্যদিকে খুলনা, কুষ্টিয়া, নড়াইল, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, গোপালগঞ্জসহ ১২ জেলার নদ-নদীতে শুধু ইলিশ মাছ আহরণ বন্ধ থাকবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলেছে, মা ইলিশকে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতেই এই নিষেধাজ্ঞা। সরকারের আশা, এ উদ্যোগে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাংলাদেশে আর ফিরবে না স্বৈরশাসন: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ আর কখনো স্বৈরশাসনের পথে ফিরে যাবে না। জনগণের আত্মত্যাগে অর্জিত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো টেকসই করার প্রক্রিয়াকে কোনো শক্তিই বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম চালানো সম্ভব হলেও সরকার বেছে নিয়েছে আরও কঠিন পথ—অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এ কারণেই বিচার বিভাগ, শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন এবং নারী অধিকারসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে ১১টি স্বাধীন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, এই সংস্কার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও জোটকে একত্রিত করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে সব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে ‘জুলাই ঘোষণা’ প্রকাশ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রতিশ্রুতির ফলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে যে দলই জনগণের সমর্থন পাক না কেন, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে কোনো অনিশ্চয়তা থাকবে না। দেশের গণতন্ত্রকে টেকসই করতে এটি একটি বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে।

ড. ইউনূস জানান, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য নাগরিকবান্ধব সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাজারভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় হার চালু করা হয়েছে এবং সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি পুঁজিবাজার সংস্কারে টাস্কফোর্স ও শক্তিশালী তদন্ত ব্যবস্থার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রবাসীদের নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

ড. ইউনূস বলেন, তরুণ প্রজন্মকে চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ চলমান রয়েছে। কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রভৃতি আধুনিক প্রযুক্তির সুফল যেন ন্যায্যভাবে সবার কাছে পৌঁছে—সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

সামাজিক ব্যবসার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক ব্যবসা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে যে, যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধানে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও ২১৯

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: হেলথ ইমার্জেন্সি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে  জানানো হয় যে , গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো ২১৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে ডেঙ্গুতে কেউ মারা যায়নি।।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ( সিটি কর্পোরেশন বর্হিভুত ) ৪৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি কর্পোরেশন বর্হিভুত) ৭৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৪০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৩৯ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি কর্পোরেশন বর্হিভুত) ২৩ জন রয়েছেন।

এদিকে গত একদিনে সারা দেশে ২৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪২ হাজার ৪৭৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত  ৪৪ হাজার ৬৯২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১৮৮ জনের।

২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে মোট ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।




শারদীয় দুর্গা উৎসব উপলক্ষে জামায়াত আমিরের শুভেচছা বার্তা

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ: শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জামায়াত আমির। শুভেচ্ছা বার্তাটি দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মূল পর্ব শুরু হতে যাচ্ছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও আমার নিজের পক্ষ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, সারা দুনিয়ায় বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির রোল মডেল হিসেবে অভিহিত এবং প্রশংসিত।

আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মসহ নানা আচার-অনুষ্ঠান উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যুগ যুগ ধরে পালন করে আসছে। এমন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নজির তামাম দুনিয়ার ইতিহাসে বিরল।

জামায়াত আমির বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এমন অনন্য পরিবেশের জন্য নানা সময়ে ভূয়সী প্রশংসা করেছে। তারা বাংলাদেশকে একটি ‘মডারেট মুসলিম কান্ট্রি’ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ‘রোল মডেল’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

কয়েক বছর আগে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে মুগ্ধ হয়ে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার এইচ ই গ্রে উইল কুক বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। পূজা ও ঈদ একই সময়ে পালনে এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের মানুষকে যেভাবে সহযোগিতা করে, তা দেখে আমরা মুগ্ধ।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেলিগেশন প্রধান উইলিয়াম হানা বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে বিরল। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উন্নত মডেল। এদেশে সব বিশ্বাস ও ধর্মের মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রেখে পাশাপাশি বসবাস করছে এবং নিজ নিজ ধর্ম পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে আসছে।

সবার অংশগ্রহণ ও উপস্থিতিতে বাংলাদেশের ধর্মীয় উৎসবগুলো পরিণত হয় সর্বস্তরের মানুষের মিলনমেলায়, যা সারা দুনিয়ায় জাতি হিসেবে আমাদের নিয়ে গেছে উচ্চমাত্রায়।

জামায়াত আমির বলেন, অতীতের মতো এবারো যেন হিন্দু সম্প্রদায় তাদের শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পারে সেজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রদানের জন্য আমি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে শারদীয় ধর্মীয় উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের জনশক্তি এবং শান্তিপ্রিয় দেশবাসীর নিকট উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

 




বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো সোহেল তাজকে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়েছে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এসএস (ইমিগ্রেশন) কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, ‘ভ্রমণরোধ’ থাকায় সোহেল তাজ দেশত্যাগ করতে পারেননি।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০১ সালের নির্বাচনে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সোহেল তাজ।

২০০৮ সালে একই আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

একই বছরের ৩১ মে মন্ত্রিসভা থেকে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি। ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল সংসদ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করেন সোহেল তাজ।