৩৩ বছর ধরে বন্ধ লালমোহন পাবলিক লাইব্রেরি

ভোলার লালমোহনে ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত লালমোহন পাবলিক লাইব্রেরি দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। তৎকালীন সময়ে ভোলা জেলা পরিষদের উদ্যোগে নির্মিত হয় এই লাইব্রেরি কাম অডিটোরিয়াম ভবন। উদ্বোধনের পর নিয়মিত পাঠাগার কার্যক্রম চালু হলেও মাত্র তিন বছরের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়।

সূত্র জানায়, ১৯৯৩ সালে ভবনটিতে লালমোহন মহিলা কলেজের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে লাইব্রেরিটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। তবে লাইব্রেরিয়ান নিয়মিত বেতন ভোগ করলেও বই-পত্র পড়া এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

২০১৮ সালে মহিলা কলেজটি নিজস্ব ভবনে চলে যাওয়ার পর লাইব্রেরি ভবন সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনটির ভেতরে ও আশপাশে আবর্জনার স্তূপ জমে গেছে। স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন করলেও প্রশাসনের তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি।

সম্প্রতি একটি সামাজিক সংগঠন উদ্যোগ নিয়ে ভবন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু করেছে। তারা স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছে। তবে এখনো লাইব্রেরি পুনরায় চালু হয়নি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ জানান, জেলা পরিষদ থেকে লাইব্রেরির জন্য ইতোমধ্যে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এ অর্থ দিয়ে বই, টেবিল-চেয়ার কেনা ও ভবন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের চাহিদা অনুযায়ী বই কেনার জন্যও পরামর্শ নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, তিন দশক ধরে বন্ধ থাকা এই পাঠাগার আবার কবে বইপ্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিএনপি-জামায়াত পদ নিয়ে কারাকারি করেছে: তথ্য উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ:  রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গণমাধ্যমের স্ব-নিয়ন্ত্রণ ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনা: রাজনৈতিক ও নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সংলাপে তথ্য উপদেষ্টা বলেন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী কাড়াকাড়ি করে প্রশাসনিক জায়গাগুলোতে তাদের লোক নিয়োগ করিয়েছে। নিয়োগের আগে তারা সংস্কারের জন্য সরকারকে যত সময় লাগে দেওয়ার পক্ষে ছিল। তবে নিয়োগ শেষ হওয়ার পরপরই ডিসেম্বর মাস থেকে তারা অসহযোগ শুরু করে দিয়েছে।

সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। এতে সহযোগিতা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার এবং দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন। সংলাপে সম্মানিত অতিথি ছিলেন তথ্য উপদেষ্টা।

সংলাপে সম্প্রচার নীতিমালা, সাংবাদিকের ওয়েজ বোর্ড, বিটিভি ও বেতারে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠাসহ নানা বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান নিয়ে কথা বলেন মাহফুজ আলম। এ সময় রাজনৈতিক দল ও আমলাদের সহযোগিতা না পাওয়ায় অসহায়ত্বও তুলে ধরেন তিনি।

মাহফুজ আলম বলেন, ‘বাংলাদেশে সবাই গোষ্ঠীস্বার্থের জন্য কাজ করে। জাতীয় স্বার্থ দেখে না। সামগ্রিকভাবে কোন জিনিসটা করলে একটা ভালো আইন পাওয়া যাবে, ভালো একটা নীতি পাওয়া যাবে সে বিষয়ে কেউ আগ্রহী না।’ আমলাদের ভাবনা সম্পর্কে এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমলারা পরের সরকারের অপেক্ষায় আছেন। সবাই পরের সরকারের জন্য অপেক্ষা করছে। এটা হলো ট্রানজিশনাল সরকারের দুর্বলতা।’

বর্তমান সরকারের বড় ক্রাইসিস (সংকট) আছে উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এক মাস ধরে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল যে ছাত্র উপদেষ্টারা নেমে যাবেন। ফলে ছাত্র উপদেষ্টাদের দপ্তর কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে এক মাস ধরে। সেখানে কাজ শ্লথ হয়ে গেছে।’

জুলাই অভ্যুত্থানের যে প্রত্যাশা ছিল, সে অনুসারে কাজ করা সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেন মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, দেশে সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র, মিডিয়া ও সুশীল সমাজ এবং ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মধ্যে যে পারস্পরিক সহযোগিতা রয়েছে, তা অটুট রয়েছে। গণমাধ্যম এখনো ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে।

সামরিক–বেসামরিক আমলাতন্ত্রকে ফ্যাসিস্টমুক্ত না করে গণমাধ্যমকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা।

 




শিগগিরই তথ্য কমিশন গঠন করা হবে: তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, শিগগিরই তথ্য কমিশন গঠন করা হবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কমিশন গঠনের প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

রোববার ঢাকার আগারগাঁওয়ে তথ্য কমিশনের অডিটোরিয়ামে ‘আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা মাহফুজ আলম আরও জানান, তথ্য অধিকার আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে আইনের কিছু ধারা সংশোধন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা। তিনি পরিবেশগত তথ্য জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং তথ্য প্রাপ্তিতে প্রযুক্তিগত বৈষম্য হ্রাসকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এক বছরের মধ্যে তথ্য কমিশন গঠিত না হওয়ায় অনেক তথ্য আপিল নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে কমিশন গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন তথ্য কমিশনের সচিব নূর মো. মাহবুবুল হক, এবং বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থাসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঝালকাঠিতে ময়লা ফেলার স্থান না থাকায় নদী দূষণে উদ্বেগ

ঝালকাঠি পৌর এলাকার বাসিন্দারা প্রতিদিনের ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় সুগন্ধা ও বাসন্ডা নদীতে বর্জ্য ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে এই নদী দুটি দূষণের কবলে পড়েছে এবং পানিতে রোগজীবাণু ছড়িয়ে জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি হচ্ছে।

শহরের দক্ষিণে বহমান সুগন্ধা নদী এবং পশ্চিমে প্রবাহিত বাসন্ডা নদী যুগ যুগ ধরে মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে দূষণের সঙ্গে লড়ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিন ময়লার গাড়ি ভর্তি বর্জ্য নদীতে ফেলে দিচ্ছেন। এতে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও পরিবেশবিদরা। নদী-খাল রক্ষা কমিটির সদস্য মু. আল-আমীন বাকলাই বলেন, “ঝালকাঠি পৌরসভা প্রথম শ্রেণির মর্যাদায় থাকলেও বাস্তবে মনে হচ্ছে কোনো শ্রেণিতেই নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সুরক্ষিত স্থান না থাকা এবং যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা, পুরো দায় পৌরসভাকেই নিতে হবে।”

উন্নয়নকর্মী মাহাবুব হোসেন সৈকত জানান, নদীতে ছড়িয়ে পড়া প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনা মাছ খাচ্ছে। এর ফলে বিষক্রিয়া মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। আগে সুগন্ধার মাছের স্বাদ এখন আর নেই।

ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন জানান, ডাম্পিং স্টেশনের জন্য জমি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং শিগগিরই নির্মাণ কাজ শুরু হবে, যা সমস্যার সমাধান করবে।

ঝালকাঠি পৌরসভা ব্রিটিশ আমলে ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৬.৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বসবাস করছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালের গৌরনদীতে ছিনতাইয়ের চেষ্টা, অস্ত্রসহ যুবক আটক

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠি কাঁচা বাজার এলাকায় রবিবার সকাল ১০টার দিকে একটি বিকাশ ও কনফেকশনারির দোকানে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালানো হয়। তবে পার্শ্ববর্তী দোকানদারদের তৎপরতায় জনতা অভিযুক্ত যুবককে আটক করতে সক্ষম হয়।

ভুক্তভোগী দোকানদার জুয়েল সরদার জানান, একজন ব্যক্তি তার দোকানে প্রবেশ করে বিকাশে ১০,২০০ টাকা পাঠানোর কথা বলেন। নগদ অর্থ দাবি করলে ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করে কোমরে ঠেকিয়ে বলেন, “৬ রাউন্ড গুলি খেতে না চাইলে দ্রুত টাকা পাঠাও।” জুয়েল চিৎকার করলে আশেপাশের দোকানদাররা এগিয়ে এসে ছিনতাইকারীকে আটক করেন।

খবর পেয়ে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশসেনাবাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জনতা প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তকে মারধর করেন। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান, “প্রাথমিকভাবে ছিনতাইকারীর নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তবে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত যুবক বর্তমানে থানার ও সেনা ক্যাম্পের হেফাজতে রয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে তরমুজ খেত নিয়ে বিরোধ, যুবককে ‘ডেকে নিয়ে’ পিটিয়ে হত্যা

বরিশালের বাকেরগঞ্জে সোহেল খান (৩৫) নামের এক যুবককে ডাকাত আখ্যা দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার সকালে উপজেলার চর কবাই এলাকা থেকে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করেছে।

নিহত সোহেল ওই এলাকার নুর ইসলাম খানের ছেলে। তার স্ত্রী সাজেদা বেগম জানান, কয়েক দিন আগে স্থানীয় শাহিন হাওলাদার, তাঁর ভাই ফিরোজ হাওলাদারসহ কয়েকজন সোহেলের কাছে তরমুজ চাষের জন্য জমি চেয়েছিলেন। সোহেল তা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাঁকে রাতে ফোন করে ডেকে আনা হয়। এরপর গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন চালিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মসজিদের মাইকে মাইকিং করে তাকে ডাকাত বলে প্রচার করা হয়।

নিহতের মেয়ে ফাতেমা আক্তার বলেন, “আমার বাবার কী দোষ ছিল? বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ডাকাতির অভিযোগ তুলে পিটিয়ে মেরেছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।” সোহেলের মা নিলুফা বেগমও দাবি করেন, “আমার ছেলেকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি তার ন্যায়বিচার চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শনিবার রাতে মসজিদের মাইকে সোহেলকে ডাকাত হিসেবে প্রচার করা হয়। পরে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। নিহত হওয়ার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ওসি আরও জানান, তরমুজ খেত নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যার অভিযোগ তুলেছে পরিবারের পক্ষ। তবে নিহত সোহেলের বিরুদ্ধে চুরি, চাঁদাবাজি ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে, যা জামিনে ছিল।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




২০০ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে ভোলার বৈষা দধি

ভোলার গরম দুপুরে শহরের মানুষ একটু স্বস্তি খুঁজে পেতে ব্যস্ত রাস্তায় হাঁসফাঁস করলেও তাদের কাছে স্বস্তি এনে দেয় ভোলার বিখ্যাত বৈষা দধি। দুপুরের আগেই শহরের দইয়ের দোকানগুলোয় হাঁড়ি ফাঁকা হয়ে যায়।

ভোলার বৈষা দধির বিশেষত্ব হলো এটি মহিষের কাঁচা দুধ দিয়ে তৈরি হয়। সাধারণ দই গরুর দুধ জ্বালিয়ে বানানো হয়, কিন্তু বৈষা দধি তৈরি হয় সম্পূর্ণ কাঁচা মহিষের দুধ থেকে। ভোলার চারপাশের নদী ও সমুদ্রবেষ্টিত চরাঞ্চলে প্রায় দুই লাখের কাছাকাছি মহিষ ঘুরে বেড়ায়, যার দুধই বৈষা দধির প্রাণ।

প্রায় দুই শতাব্দী ধরে বৈষা দধি ভোলার মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য ও অতিথি আপ্যায়নের অপরিহার্য অংশ। এটি ভাতের সঙ্গে খাওয়া হয়, চিড়া-মুড়ির সঙ্গে মিশিয়ে মুখরোচক তৈরি হয়, গরমের দিনে দই, পানি ও চিনি মিশিয়ে ঘোল বানানো হয়। শীতকালে হাঁসের মাংসের সঙ্গে দই ও খেজুরের গুড়ের সংমিশ্রণ ভোজনরসিকদের কাছে জনপ্রিয়।

ভোলার শহরের দই বিক্রেতারা প্রতিদিন মণকে মণ বৈষা দধি তৈরি করেন। প্রতি কেজি বিক্রি হয় ২০০ টাকায়, ঈদের সময় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ে। আবদুস ছত্তার প্রায় ৪০ বছর ধরে মহিষের দুধ দিয়ে দই তৈরি করছেন। তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমে দুধের সরবরাহ কমে যায়, ফলে সবসময় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না।

এছাড়া ভোলা লঞ্চঘাটে মহিষের দুধ সংগ্রহ করে শহরের বাজারে সরবরাহ করেন আজমল হোসেন। তিনি ৩০ বছর ধরে এ কাজ করছেন।

ভোলার মানুষদের কাছে মহিষের দই মানে শৈশবের উৎসব, ঈদের মিষ্টি, শীতের সন্ধ্যায় খেজুরের গুড়ের সঙ্গে স্বাদ মিশে যাওয়া স্মৃতি, ইতিহাস ও আবেগের এক অমূল্য অংশ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

বরগুনার পাথরঘাটায় স্ত্রীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে হানিফ মিয়া (৩৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খাগড়াছড়ি থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান।

মৃত নারী কৈতুরী পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মেয়ে। অভিযুক্ত হানিফ কালমেঘা ইউনিয়নের কালীবাড়ী এলাকার চান মিয়ার ছেলে এবং পেশায় এক চা বিক্রেতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে কৈতুরী ও হানিফের পরিচয় ঘটে এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে হয়। প্রথম দিকে সংসার ভালোই চললেও কন্যাসন্তানের জন্মের পর হানিফ অনলাইন জুয়ার নেশায় ডুবে যান। টাকার জন্য তিনি স্ত্রীর কাছে নিয়মিত যৌতুক দাবি করতেন। পরিবার থেকে সাড়া না পেলে কৈতুরীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন তিনি।

গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতেও একই কারণে নির্যাতনের শিকার হন কৈতুরী। এক প্রতিবেশী সেই দৃশ্য গোপনে মোবাইলে ধারণ করেন, যেখানে দেখা যায় হানিফ স্ত্রীকে অমানবিকভাবে মারধর করছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা কৈতুরীকে উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই হানিফ পালিয়ে যায়।

পরে জানা যায়, হানিফ এর আগে আরও সাতবার বিয়ে করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে পাথরঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ওসি মেহেদী হাসান জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হানিফকে খাগড়াছড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তাকে দ্রুত আদালতে হাজির করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে, এক মাসে রোগী দ্বিগুণ

ভোলায় হঠাৎ করে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জেলার সাতটি উপজেলার হাসপাতালগুলোতে গত এক মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এতে জেলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বেড সংকট তৈরি হয়েছে। অনেকে মশারি ছাড়াই মেঝেতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা নতুন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, জুলাই থেকে ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। রোগীর চাপ সামলাতে ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য দুটি পৃথক ইউনিট খোলা হয়েছে। তবে সেখানেও জায়গা সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের ফ্লোরে রাখতে হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী—

  • মে মাসে ডেঙ্গু রোগী ছিলেন ৮ জন
  • জুনে বেড়ে ৪১ জন
  • জুলাইয়ে ৭০ জন
  • আগস্টে ৭৬ জন
  • চলতি সেপ্টেম্বর মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫১ জনে

জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট ৩৬৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুধু গত এক সপ্তাহেই ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৩ জন ডেঙ্গু রোগী

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, অতিরিক্ত চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অপর্যাপ্ত জনবল থাকায় অনেক রোগীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ সুফিয়ান রুস্তম বলেন— “ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডে জায়গার অভাব থাকায় কিছু রোগীকে ফ্লোরে রাখতে হচ্ছে। তারপরও সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে তাদের চিকিৎসা দেওয়ার।”

তিনি সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি আশপাশের জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা ও মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আবাসিক সংকটে জর্জরিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০১২ সালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে দেশের ৩৪তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। বয়স ১৫ বছর পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠতে পারেনি বরিশাল বিভাগের একমাত্র সাধারণ এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী প্রায় ১০ হাজার ৫০০ জন। কিন্তু আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ২ হাজার ৩১ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে আবাসন সংকটে ভুগতে হচ্ছে। বর্তমানে চারটি হল রয়েছে—দুটি ছাত্র ও দুটি ছাত্রী হল। তবে প্রতিটি হলে ধারণক্ষমতার অন্তত দ্বিগুণ শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন।

প্রতিটি হল মূলত ২৮০ জন শিক্ষার্থীর জন্য নির্মিত হলেও বাস্তবে একেক রুমে চারজনের বদলে আটজন পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে। ফলে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, পর্যাপ্ত টেবিল-চেয়ার ও আলমারির অভাবে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

হলগুলোর অবস্থা:

  • বিজয় ২৪ হল: ৫৪৪ আসন, তবে দ্বিগুণ শিক্ষার্থী থাকেন।
  • শেরে বাংলা হল: মোট ৫৩৬ আসন।
  • তাপসী রাবেয়া বসরী হল: ৪৫০ আসন।
  • কবি সুফিয়া কামাল হল: ৫৩০ আসন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, সিট বরাদ্দে বৈষম্য ও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। অনেক স্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থী কিংবা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিচয়ে সিট পাওয়া সহজ হলেও প্রকৃত দরিদ্র শিক্ষার্থীরা সিট পান না।

একজন শিক্ষার্থী নোমান হোসেন বলেন— “আমি অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়ছি। কয়েকবার আবেদন করেও সিট পাইনি। অথচ অনেকে জুনিয়র হয়েও রাজনৈতিক প্রভাব বা শিক্ষকদের রেফারেন্সে সিট পাচ্ছে। এমনকি মাস্টার্স শেষ করেও সিট বরাদ্দ পাচ্ছেন কেউ কেউ।”

শিক্ষার্থীরা আবাসিক ফি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আগে দ্বৈত সিটের জন্য দিতে হতো ১৪২৭ টাকা ও একক সিটের জন্য ২৪০০ টাকা। শিক্ষার্থীরা প্রস্তাব করেছিলেন বছরে সর্বোচ্চ ১২০০ টাকা নির্ধারণ করার। তবে সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে দ্বৈত সিটের জন্য ২৩৭৫ টাকা নির্ধারণ করে, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়ামিন বলেন— “নতুন ফি কাঠামো শিক্ষার্থীদের আর্থিক সামর্থ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা ফি জমা দেব না।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম স্বীকার করেছেন যে আবাসিক সংকট প্রকট। তিনি জানান, নতুন কয়েকটি হল নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ফি কাঠামো কমানোর বিষয়টি অর্থ কমিটি ও সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হবে।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, নতুন আবাসিক হল দ্রুত নির্মাণ হলে সংকট কিছুটা হলেও কমবে এবং আবাসিক জীবনে বৈষম্য ও ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫