মাদারীপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সংগঠিত ডাকাতি চক্রের কথা ফাঁস করে পুলিশের মেলবন্ধনে গত বুধবার পর্যন্ত মোট ১৩ জন ডাকাত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে একটি চুরিকৃত তরমুজভর্তি পিকআপও উদ্ধার করা হয়েছে। তথ্যটি মঙ্গলবার মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) সালাহ উদ্দিন কাদের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে। খুলনার তেরখাদা থেকে তরমুজ নিয়ে মাদারীপুরের মস্তফাপুরের ফল আড়তে যাওয়ার পথে খুলনার সরদার জাহাঙ্গীর আলমের মালিকানাধীন একটি পিকআপ রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম ব্রিজ সংলগ্ন গঙ্গাবর্দী স্থানে থেকে ডাকাতরা চালক ও হেলপারকে মারধর করে নিয়ে যায়। পরে ঐ দিন রাজৈর থানায় ডাকাতির মামলা দায়ের করা হয়।
প্রাথমিক অভিযান শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর রাজৈর থানা পুলিশ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যমতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ, ফরিদপুর, ভাঙ্গা, সদরপুর, নগরকান্দা, কিশোরগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ধাপে ধাপে আরও গণসংখ্যক সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। শেষপর্যন্ত মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ ও জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকা থেকে ওই ডাকাতি করা পিকআপটি উদ্ধার করা হয় এবং পরে মালিককে জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ডাকাতদের নামসমূহ প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রকাশ করা হয়েছে,শাহ আলম শেখ (৪০), কবির চোকদার (৪৫), জাকির খাঁ (৫০), ইকরাম আলী মুন্সী (৩৫), হৃদয় বয়াতি (২৩), সুমন হোসেন মাতুব্বর (২৬), আল আল আমিন (৪৫), হাবিব (২৫), ইকবাল হোসেন (৩৬), সুজন মাতুব্বর (২৭), সোহাগ ওরফে নোবেল (২৬), ডালিম সরকার (৩০) ও স্বপন (২৫)। (প্রতিটি নামের সঙ্গে তাদের জেলা-উপজেলার তথ্য ব্রিফিংএ উল্লেখ করা হয়েছে)।
পিকআপ মালিক ও ফল ব্যবসায়ী সরদার জাহাঙ্গীর আলম (৬২) জানান, তার বহু কষ্টে উদ্ধার করা পিকআপটি রাজৈর থানার পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ফিরে পেয়ে তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি গ্রেপ্তারসহ পিকআপ উদ্ধার করার জন্য রাজৈর থানা-পুলিশকে ধন্যবাদ জানান এবং গ্রেপ্তারকৃতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
সহকারী পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিন কাদের জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতরা সাধারণত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে ডাকাতি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। তাদের দিয়ে তরমুজসহ অন্যান্য মালামাল কেড়ে নিয়ে বিক্রয় কার্যক্রমও চালানো হতো—কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডাকাতেরা তরমুজগুলো ঢাকার যাত্রাবাড়ি অথবা গাজীপুরের জয়দেবপুরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করত এবং পরে পিকআপ লুকিয়ে রাখত।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের অপকর্ম প্রশমনে তৎপর রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার পরিক্রমা ও তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য লোকদের সন্ধান ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫