পটুয়াখালীতে ফানুস উড়িয়ে শেষ হলো প্রবারণা উৎসব

পটুয়াখালী জুড়ে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। সোমবার (৬ অক্টোবর) রাতে কলাপাড়ার নতুনপাড়া বৌদ্ধ বিহারে ফানুস উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় এই উৎসবের মূল পর্ব।

রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন রাখাইনপল্লী উৎসবের সাজে সেজে ওঠে। কুয়াকাটার রাখাইনপাড়া, মৎস্য বন্দর মহিপুরের কালাচানপাড়া, অমখোলাপাড়া, মিস্রিপাড়া ও নয়াপাড়াসহ পটুয়াখালী জেলার মোট ৩১টি রাখাইন গ্রামে একযোগে শত শত ফানুস উড়িয়ে প্রবারণার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

রাতভর চলা এই উৎসবে অংশ নেন রাখাইন সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণরা। আকাশজুড়ে উড়ন্ত ফানুসের আলোয় উৎসবস্থল রূপ নেয় এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যে। উৎসবের আগে গৌতম বুদ্ধকে স্মরণে প্রজ্জ্বলন করা হয় হাজারো প্রদীপ, যা বৌদ্ধ বিহারজুড়ে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি করে।

উৎসব উপলক্ষে প্রতিটি বৌদ্ধবিহারে ছিল বর্ণিল আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা ও ধর্মীয় আয়োজন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদীকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এদিকে, প্রবারণা উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আরেক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার কঠিন চিবরদান উৎসব, যা এক মাসব্যাপী চলে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আবারও বিসিবি সভাপতি বুলবুল, সহ-সভাপতি ফারুক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সোমবার (৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৫ পরিচালক সর্বসম্মতিক্রমে তাকে সভাপতি নির্বাচিত করেন। সহ-সভাপতি হয়েছেন সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ ও বরিশাল বিভাগের সাখাওয়াত হোসেন।

এবারের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন বুলবুল। এর আগে এনএসসি মনোনীত সভাপতি হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। এবার পূর্ণ মেয়াদে চার বছরের জন্য দায়িত্ব পেলেন সাবেক এই ক্রিকেটার।

নির্বাচনে ১৫৬ জন ভোটারের মধ্যে ১১৫ জন ভোট দেন, যা মোট ভোটের ৭৩.৭১ শতাংশ।

পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন যারা :
চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে আহসান ইকবাল চৌধুরী ও আসিফ আকবর, খুলনা বিভাগ থেকে আব্দুর রাজ্জাক রাজ ও জুলফিকার আলী খান, ঢাকা বিভাগ থেকে নাজমুল আবেদীন ফাহিম ও আমিনুল ইসলাম বুলবুল, বরিশাল বিভাগ থেকে সাখাওয়াত হোসেন, সিলেট থেকে রাহাত শামস, রাজশাহী থেকে মোখলেসুর রহমান এবং রংপুর থেকে হাসানুজ্জামান নির্বাচিত হয়েছেন।

ক্লাব ক্যাটাগরিতে ১২ জন পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন—ইশতিয়াক সাদেক, আদনান রহমান দিপন, আবুল বাশার, আমজাদ হোসেন, শাহনিয়ান তানিন, মকসেদুল কামাল, ফয়াজুর রহমান, এম নাজমুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ, মঞ্জুর আলম, মেহরাব আলম চৌধুরী ও ইফতেখার রহমান মিঠু।

এছাড়া ক্যাটাগরি ‘সি’ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে পরিচালক হয়েছেন ইশফাক আহসান ও ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়য়াল আশিক।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঝালকাঠিতে মোটরসাইকেল বাসের নিচে, মুহূর্তে আগুনে পুড়ল যানটি

ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের প্রতাপ এলাকায় ভয়াবহ এক দুর্ঘটনা ঘটেছে। মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের পর ঢাকাগামী সাকুরা পরিবহনের বাসে আগুন লেগে যায়।

সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঝালকাঠি বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিল সাকুরা পরিবহনের বাসটি। প্রতাপ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল বাসের নিচে ঢুকে যায়। মুহূর্তেই আগুন ধরে পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে যাত্রীরা দ্রুত বাস থেকে বেরিয়ে আসেন, ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো যায়।

খবর পেয়ে ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে মোটরসাইকেলটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের জেলা কর্মকর্তা শ্রীভাস বলেন, “দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে না আনলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। সৌভাগ্যবশত বাসের সব যাত্রী নিরাপদে আছেন।”

গুরুতর আহত মোটরসাইকেল আরোহীর পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তিস্তা নদীতে বিপৎসীমার ওপরে পানি, প্লাবিত চার উপজেলা

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা ভারি বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বিশাল অংশ প্লাবিত হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে উজানে থাকা ফ্লাড বাইপাস, সড়ক ও ঘরবাড়ি। রাত গভীর হলে এসব এলাকায় আরও পানি ঢুকে দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রোববার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে। আর রাত ৯টায় পানি বেড়ে বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় উজানের ঢল আরও তীব্র হতে পারে, ফলে তিস্তা ও আশপাশের নদীগুলোতে বিপৎসীমার ওপরে পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকবে।

পানি বৃদ্ধি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে পাউবো। এতে ভাটির নিম্নাঞ্চলে হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় ঘরবাড়ি, রাস্তা ও ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই গবাদিপশু ও শিশুদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

তিস্তা তীরবর্তী বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম জানান, “আমার বাড়ি পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে। আজকে চুলা জ্বালাতে পারিনি। বাচ্চাদের খাবার নিয়েও চিন্তায় আছি। এখন সরকার ও প্রশাসনের সহায়তা সবচেয়ে বেশি দরকার।”

গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “তিস্তা ব্যারেজের পাশে হওয়ায় আমাদের ইউনিয়নে পানির চাপ সবচেয়ে বেশি। প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শুকনো খাবার ও ত্রাণ সহায়তা এখন খুবই জরুরি।”

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, “উজান থেকে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি এবং স্থানীয়দের আগেই সতর্ক করা হয়েছে।”

এদিকে লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. শায়খুল আরিফিন বলেন, “বর্তমানে তিস্তা তীরবর্তী অঞ্চলে রোপা আমন, চিনাবাদাম ও শাকসবজির চাষ হচ্ছে। পানি যদি তিন থেকে চার দিন স্থায়ী হয়, তবে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তবে এক-দুই দিনের মধ্যে পানি নেমে গেলে বড় ক্ষতি হবে না। আমরা চেষ্টা করছি কৃষকদের ক্ষতি যেন ন্যূনতম হয়।”

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ৫ থেকে ৬ অক্টোবরের মধ্যে উজান ও দেশের অভ্যন্তরে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাটসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে নতুন বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিস্তা নদী পাড়ের মানুষ এখন দিনরাত আতঙ্কে সময় কাটাচ্ছে। অনেকের ঘরবাড়ি, ফসল ও গবাদিপশু পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাওয়াশের উল্লাসে টাইগাররা! আফগানদের দুর্গে দাপুটে জয়

সিরিজের শুরু থেকে শেষ—একই ছন্দ, একই দাপট! তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে আফগানিস্তানকে একটিবারও সুযোগ না দিয়ে শারজাহতে হোয়াইটওয়াশ করল জাকের আলী অনিকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। রবিবার অনুষ্ঠিত সিরিজের শেষ ম্যাচে ৬ উইকেট ও ২ ওভার হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় টাইগাররা।

এই জয়ে ২০১৮ সালের ভারতের দেরাদুনে আফগানদের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশের পুরনো ক্ষত মুছে দিল বাংলাদেশ। সেই সময় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে হেরে ছিল টাইগাররা, এবার সেই একই ব্যবধানে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে পাল্টা হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ দল।

শারজাহ, যে মাঠটিকে আফগানিস্তান নিজেদের দুর্গ হিসেবে মনে করে—সেই মাঠেই তিন ম্যাচে তিন জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। এর আগে টানা ছয় ম্যাচে প্রথম ব্যাট করে জয় পেয়েছিল আফগানরা, কিন্তু এবার টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও সুনিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে হার মানতে হলো তাদের।

শেষ ম্যাচে টসে হেরে ব্যাট করতে নামে আফগানিস্তান। শুরু থেকেই শরিফুল, সাইফউদ্দিন, নাসুম আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিবদের আগুনে বোলিংয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। পাওয়ারপ্লেতে মাত্র ৩৯ রানে হারায় ৩ উইকেট। সেদিকউল্লাহ আতাল (২৮), রাসুলি (৩২) ও মুজিব উর রহমান (২৩*) কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে থামে আফগানিস্তানের ইনিংস।

বাংলাদেশের হয়ে সাইফউদ্দিন নিয়েছেন ৩ উইকেট, নাসুম ও সাকিব পেয়েছেন ২টি করে, শরিফুল ও রিশাদ নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় সতর্ক সূচনা করেন পারভেজ হোসেন ও তানজিদ হাসান। কিন্তু সত্যিকারের রূপ বদল আসে সাইফ হাসানের ব্যাটে। ৩৮ বলে ৭ ছক্কা ও ২ চারে গড়া ৬৪ রানের ইনিংসে জয় এনে দেন তিনি। শেষে নুরুল হাসান সোহানের ৯ বলে ১০ রানের ক্যামিওতে ছক্কা মেরে ম্যাচের ইতি টানেন টাইগাররা।

১৮ ওভারে ১৪৪ রান তুলে ৬ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখে ৩–০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় তারা।

বাংলাদেশের এই জয় শুধু একটি সিরিজ জয়ের প্রতীক নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন আত্মবিশ্বাসের বার্তা। আফগানদের দুর্গ শারজাহ এখন টাইগারদের জয়ের গর্বিত সাক্ষী।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আফগানিস্তান: ১৪৩/৯ (২০ ওভার)
বাংলাদেশ: ১৪৪/৪ (১৮ ওভার)

ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




উপদেষ্টাদের বিশ্বাস করে প্রতারিত হয়েছি: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, সরকারের অনেক উপদেষ্টা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করে এখন সেফ এক্সিটের পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, “উপদেষ্টা পরিষদের অনেককে বিশ্বাস করাটা ছিল বড় ভুল। তাদের প্রতি আস্থা রেখে আমরা প্রতারিত হয়েছি। অনেক উপদেষ্টা ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় গেছেন। কেউ কেউ নিজেদের আখের গুছিয়ে ফেলেছেন, আবার কেউ গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সময় এলে আমরা তাদের নাম প্রকাশ করব।”

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, “যারা উপদেষ্টা হয়েছেন, তাদের অনেককেই বিশ্বাস করাটা আমাদের রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। আমাদের উচিত ছিল ছাত্র নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করা এবং সরকারে গেলে সম্মিলিতভাবে যাওয়া। নাগরিক সমাজ ও কিছু রাজনৈতিক দলের প্রতি অতিরিক্ত আস্থা রাখার ফলেই আমরা প্রতারিত হয়েছি।”

উপদেষ্টা হিসেবে ছাত্রনেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা কেউই সরকারের উপদেষ্টা পদ নিতে চাইনি। বরং আমরা শুরু থেকেই একটি জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি। ছাত্র নেতৃত্ব না থাকলে এই সরকার প্রথম তিন মাসও টিকতে পারত না। অভ্যুত্থানের শক্তিই সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার গঠনের প্রথম ছয় মাসে প্রতিবিপ্লবের চেষ্টাও হয়েছিল, যা এখনো আংশিকভাবে চলছে। যদি রাজনৈতিক দলগুলো সম্মত হয়ে নাগরিক সরকার গঠন করত, তাহলে ছাত্রদের কাঁধে এই দায়িত্ব আসত না। কিন্তু সময়ের দাবি অনুযায়ী আমাদেরই নেতৃত্ব নিতে হয়েছিল।”

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা আরও মন্তব্য করেন, “৫ আগস্ট ক্যান্টনমেন্টে সেজদা দিয়েছে রাজনৈতিক নেতারাই, ছাত্ররা নয়।” তিনি বলেন, “সুশীল সমাজের কিছু প্রতিনিধিকে নিয়ে সরকার গঠন না করে যদি একটি জাতীয় সরকার করা হতো, তাহলে আজকের এই আক্ষেপ আমাদের মধ্যে থাকত না।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন

শিক্ষকতা পেশা: মিলিত প্রচেষ্টার দীপ্তি”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালীতে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা পরিবারের উদ্যোগে আয়োজিত এ দিবসটি উদযাপিত হয় র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে।

রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় সার্কিট হাউস চত্বরে একত্রিত হন জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। পরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। র‍্যালিতে অংশ নেন শত শত শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।

পরবর্তীতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মুজিবুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহসীন উদ্দীন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উম্মে সালমা লাইযু, পটুয়াখালী সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক জালাল উদ্দীন, পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদুজ্জামান, এবং পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মো: জাকির হোসেন

সভায় বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষক শুধু পাঠদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন; তিনি সমাজ গঠনের অন্যতম স্থপতি। শিক্ষা শুধু জ্ঞানের নয়, মূল্যবোধ ও মানবিকতার আলোও ছড়িয়ে দেয়— যা জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত করে।

আলোচনায় আরও অংশ নেন হাজী আক্কেল আলী কলেজের অধ্যক্ষ বাবুল হাওলাদার, পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল, হেলাতিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শবনম মোস্তারি, লোহালিয়া নাজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী, পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক মো: গিয়াস উদ্দিন, এবং টাউন কালিকাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন

অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনটি শিক্ষকদের মাঝে নতুন অনুপ্রেরণা ও ঐক্যের বার্তা বয়ে আনে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষণা: ‘আমরা শহিদুল ও গাজার পাশে আছি’

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক আবেগঘন বার্তায় বলেছেন, “আমরা শহিদুল আলম এবং গাজার পাশে আছি।” শনিবার (৪ অক্টোবর) রাতে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান।

ড. ইউনূস বলেন, শহিদুল আলমের সাহস, দৃঢ়তা ও অবিচল মনোবল আমাদের জাতির অদম্য চেতনার প্রতীক। ২০১৮ সালে হাসিনা সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারণে ১০৭ দিন কারাবন্দি অবস্থায় থেকেও তিনি নতি স্বীকার করেননি। সেই একই দৃঢ়তায় এবার তিনি গাজার মানবিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া নিজের ভাষণের উদ্ধৃতি টেনে ড. ইউনূস বলেন, “মানবিক কষ্টের প্রতি উদাসীনতাই ধ্বংস করছে সেই অগ্রগতি, যা মানবজাতি দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জন করেছে। গাজায় সেই ট্র্যাজেডি এখন সবচেয়ে নির্মমভাবে দৃশ্যমান। শিশুরা ক্ষুধায় মারা যাচ্ছে, বেসামরিক মানুষ নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে, হাসপাতাল ও বিদ্যালয় ধ্বংস হচ্ছে, সম্পূর্ণ মহল্লা মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা শহিদুল আলমের পাশে আছি, গাজার পাশে আছি — এখন এবং সর্বদা।”

ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন ও সর্বাত্মক অবরোধের কারণে গাজায় এখন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই অবরোধ ভেঙে মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৪৫টিরও বেশি নৌযান গাজামুখী হয় গত মাসের শুরুর দিকে।

সেই অভিযানের অন্যতম ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের উদ্যোগে পরিচালিত “মিডিয়া ফ্লোটিলা” অভিযানে তিনি অংশ নেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, তিনি গাজার উদ্দেশে যাত্রা করছেন। ২৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে পৌঁছে সেখান থেকেই এই অভিযানে যোগ দেন তিনি।

ড. ইউনূসের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার রক্ষায় তাঁর এই দৃঢ় অবস্থানকে অনেকেই বাংলাদেশের নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ পটুয়াখালীর পাঁচ জেলে, ৭ দিনেও সন্ধান মেলেনি

পটুয়াখালীর মহিপুর থানার ধূলাসার ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামের পাঁচ জেলে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজের সাত দিন পার হলেও এখনো তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজরা হলেন — মিলন বিশ্বাস, মিরাজ বিশ্বাস, রায়হান হাওলাদার, কাইউমইউনুস

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভোরে নতুনপাড়া জেলেঘাট থেকে লাল রঙের একটি ফাইবার নৌকা নিয়ে তারা বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে রওনা দেন। সর্বশেষ ১ অক্টোবর তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ হয়। এরপর থেকে তাদের কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

নিখোঁজ জেলে মিলন বিশ্বাসের ভাই মুস্তাকিন বিশ্বাস বলেন, “আমার ভাইসহ আরও চারজন জেলে মাছ ধরতে সমুদ্রে যায়। সাধারণত দুই দিন পরপর ফিরে আসে তারা। কিন্তু এবার ৭ দিন কেটে গেলেও কোনো খবর নেই তাদের। হয়তো নিম্নচাপের প্রভাবে নৌকাটি ডুবে গেছে অথবা ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভেসে আছে কোথাও।”

স্থানীয় মহাজন সগীর বুড়া জানান, “নৌকাটিতে আমার কিছু দাদনের টাকা বিনিয়োগ ছিল। তাদের কোনো খোঁজ না মেলায় আমিও চিন্তায় আছি। পরিবারগুলোর অবস্থা এখন খুবই করুণ।”

অন্যদিকে স্থানীয় জেলে জাকির বলেন, “নিখোঁজদের খোঁজে আশপাশের নৌকাগুলোকে সমুদ্রে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিষয়টি কোস্টগার্ড ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।”

কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ মণ্ডল জানান, “গত ২৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ জেলে সমুদ্রে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের পরিবার মহিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং কোস্টগার্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।”

এদিকে, সমুদ্রে নিম্নচাপ ও মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুনপাড়া ও আশপাশের জেলে গ্রামগুলোতে শোক ও উদ্বেগ নেমে এসেছে। পরিবারগুলো প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আশায় প্রতিদিন ঘাটে অপেক্ষা করছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভ্যানই এখন তার ঘর, ভ্যানই তার পৃথিবী

স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে স্বপ্নের সংসার গড়েছিলেন কাঠুরে মো. ইমরান শেখ। প্রতিদিনের পরিশ্রমে চলত সংসার, সন্তানদের মানুষ করে তোলার স্বপ্নই ছিল তার জীবনের লক্ষ্য। কিন্তু ২০১৯ সালের ঘূর্ণিঝড় বুলবুল-এর পর গাছ কাটতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ভেঙে যায় সব স্বপ্ন।

গাছ থেকে পড়ে গিয়ে মেরুদণ্ড ভেঙে যায় এবং স্পাইনাল কর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইমরানের। সেই থেকে কোমরের নিচ থেকে তিনি চিরতরে অচল হয়ে পড়েন। হাঁটা-বসা তো দূরের কথা, সারাদিন তাকে শুয়ে থাকতে হয়।

গত ছয় বছর ধরে এমন করুণ বাস্তবতার সঙ্গেই বেঁচে আছেন তিনি। প্রতিদিন সকালে ভ্যানগাড়ির ওপর শুয়ে নিজেই ভ্যান চালিয়ে মানুষের কাছে সাহায্য চান। দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হয়, তাতেই কোনোমতে চলে চার সদস্যের সংসার। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে নাজিরপুরের একটি আবাসনে থাকেন তিনি।

কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। এমনকি ভ্যানগাড়িতে ওঠা-নামার কাজও করতে হয় অন্যের সহায়তায়। সন্তানদের লেখাপড়াও এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

আক্ষেপ ভরা কণ্ঠে ইমরান বলেন,“ছয় বছর ধরে শুধু ভ্যানের ওপর শুয়ে আছি। এই ভ্যানই এখন আমার ঘর, আমার পৃথিবী।”

নাজিরপুরের এই অসহায় মানুষটির জীবন যেন সমাজের বঞ্চিত ও দুঃখী মানুষের প্রতিচ্ছবি। সামান্য সহায়তা, চিকিৎসা আর সহযোগিতা পেলে হয়তো আবারো নতুন স্বপ্ন দেখতে পারতেন তিনি ও তার পরিবার।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫