তামিম ফিরছেন বিপিএলে, বরিশালের জার্সিতেই মাঠে নামার সম্ভাবনা

আগামী ডিসেম্বরেই মাঠে গড়াতে যাচ্ছে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। এবারের আসরকে ঘিরে শুরু হয়েছে দল গঠন ও প্রস্তুতি কার্যক্রম। তবে ফরচুন বরিশালের অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা এবার কাটতে শুরু করেছে।

দলটির মালিক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, বরিশাল বিপিএলে অংশ নিলে তামিম ইকবালই মাঠে নামবেন তাদের হয়ে। তিনি বলেন, “আমি মনে করি না তামিম বিপিএলে খেলবেন না। তিনি যে ক্রিকেট বয়কটের কথা বলেছেন, সেটা সম্ভবত সাধারণ ম্যাচের প্রসঙ্গে। বিপিএল হলে আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে খেলতে অনুরোধ করব। আমার বিশ্বাস, বরিশাল অংশ নিলে তামিম অবশ্যই খেলবেন।”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার ঘোষণা দেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এরপর থেকেই গুঞ্জন ওঠে তিনি হয়তো বিপিএলেও অংশ নেবেন না। তবে মালিকপক্ষের মন্তব্যে ভক্তদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

অন্যদিকে, ফরচুন বরিশাল জানিয়েছে, সময়ের স্বল্পতার কারণে দল গঠন ও প্রস্তুতি নিতে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তারা। এজন্য বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কাছে টুর্নামেন্টের সময়সূচি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছে দলটি।

গভর্নিং কাউন্সিলের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এবারের বিপিএলে মোট পাঁচটি দল অংশ নেবে এবং টুর্নামেন্টটি শুরু হবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে। বরিশালের দাবি, টুর্নামেন্টের তারিখ কিছুটা পিছিয়ে দিলে দলগুলো পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে অংশ নিতে পারবে, যা বিপিএলের মান ও প্রতিযোগিতা উভয়কেই আরও সমৃদ্ধ করবে।

এদিকে ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষায় রয়েছেন—তামিম কি সত্যিই বিপিএলে মাঠে নামবেন, নাকি এবারও তাকে দেখা যাবে না বরিশালের রঙে!

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাউফলে নৌ পুলিশের ধাওয়ায় নদীতে ঝাঁপ, দর্জি রাসেল এখনো নিখোঁজ

পটুয়াখালীর বাউফলে তেঁতুলিয়া নদীতে নৌ পুলিশের ধাওয়ার মুখে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন রাসেল খান (৩৫) নামে এক যুবক। শনিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৩ অক্টোবর) পর্যন্ত টানা ৪২ ঘণ্টা পার হলেও তার কোনো খোঁজ মেলেনি।

নিখোঁজ রাসেল খান উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড়ডালিমা গ্রামের ইউসুফ খানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন দর্জি এবং স্থানীয় বড়ডালিমা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় তার সেলাইয়ের দোকান ছিল। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যে কম দামে ইলিশ কেনার জন্য শনিবার সন্ধ্যায় রাসেল তার তিন বন্ধু—রাকিব, হাসান ও মাহবুবকে নিয়ে একটি ছোট ট্রলারে তেঁতুলিয়া নদীতে যান। এ সময় মা ইলিশ রক্ষায় টহলে থাকা নৌ পুলিশের একটি স্পিডবোট তাদের দিকে এগিয়ে আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভয় পেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন রাসেল খান। এরপর থেকে তিনি আর উপরে ওঠেননি।

ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় জেলেরা, ডুবুরি দল ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে নদীর তীব্র স্রোতের কারণে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া ডুবুরি আব্দুল্লাহ ও ইমরান জানান, “সাধারণত এক কিলোমিটারের মধ্যে লাশ ভেসে ওঠে। কিন্তু তেঁতুলিয়া নদীর স্রোত খুব বেশি, তাই তিন থেকে চার কিলোমিটারের মধ্যেও থাকতে পারে। আমরা এখনো অনুসন্ধান চালাচ্ছি।”

কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ মামুন বলেন, “রাসেল খানকে এখনো পাওয়া যায়নি। আশপাশের সব ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হয়েছে। নদীতে আমাদের টিম টহলে রয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের পক্ষ থেকেও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে খোঁজ চলছে।”

এদিকে নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা নদীর তীরে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয়রা বলছেন, ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন জরুরি হলেও, এমন মানবিক দুর্ঘটনা রোধে আরও সচেতন ও সতর্ক অভিযান পরিচালনা প্রয়োজন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঢাকায় সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন’ বাস্তবায়নের দাবি

রাজধানীর শিক্ষা ভবনের সামনে সোমবার সকালে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে। সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের সামনে এসে জড়ো হয়। এরপর তারা অবস্থান নেয় এবং সরকার দ্রুত অধ্যাদেশ জারি না করা পর্যন্ত সেখান থেকে না যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে শিক্ষা ভবন থেকে সচিবালয়ের দিকে যাওয়ার প্রধান সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ট্রাফিক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত সেখানে অবস্থান নেয় এবং সচিবালয় অভিমুখী সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে দেন যাতে শিক্ষার্থীরা সামনে যেতে না পারে।

অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ে। তারা একযোগে স্লোগান দেন— “অধ্যাদেশ নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না”, “লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে”, “শিক্ষা নিয়ে বানিজ্য চলবে না চলবে না”।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জিসান বলেন, “আমরা অনেকদিন ধরে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছি। সরকার আমাদের সাত কলেজকে নিয়ে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি করার ঘোষণা দিয়েছে, কিন্তু এখনো আইন জারি হয়নি। আজই অধ্যাদেশ দিতে হবে, না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো।”

অন্যদিকে কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তাসনিম বলেন, “প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার সময়ক্ষেপণ করছে। আমরা আর অপেক্ষা করবো না। আইন বাস্তবায়ন না হলে রাজধানী অচল করে দেবো।”

এসময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেনি, তবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাড়ানো হয় পুলিশের টহল।

চলতি বছরের ২৬ মার্চ সরকার রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে পৃথক করে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রস্তাবিত নাম ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’। এতে অন্তর্ভুক্ত কলেজগুলো হলো— ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ।

শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করতে হবে, যাতে তারা একাডেমিক অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পান। সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আট সদস্য গ্রেফতার

পটুয়াখালী পৌরসভার শশ্মানঘাট এলাকার মাঠের পাশ থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটজনকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। শনিবার (১১ অক্টোবর) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্রের সদস্যরা ধরা পড়ে। রবিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে পটুয়াখালী সদর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) সাজেদুল ইসলাম।

গ্রেফতাররা হলেন— মো. হাসান (৩০), মো. মাসুম বিল্লাহ (২৫), মো. রাসেল (৩৫), মো. আজিম (৩৫), মো. নাসির (৩৩), মো. মিঠু (৩০), মো. মিজান (২৭) ও মো. রনি (২৬)।
পুলিশ জানায়, আটকরা শশ্মানঘাট এলাকার মাঠের পাশের সড়কে একত্রিত হয়ে বড় ধরনের ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে আটজনকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ট্রাকসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, “আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম আরও জানান, “গ্রেফতাররা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি করে আসছে। তারা আগে থেকেই এলাকাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করে পরিকল্পিতভাবে অপরাধ সংঘটিত করতো। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে একটি বড় ট্রাক, তালা কাটার মেশিন, হাতুড়ি, হামার, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশ সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জনগণ সহযোগিতা করলে অপরাধ দমন আরও সহজ হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুই যুগ ধরে স্থবির বরিশালের কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন

প্রায় দুই যুগ ধরে বরিশালের সরকারি কলেজগুলোতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না ছাত্র সংসদ (ছাত্র প্রতিনিধি পরিষদ) নির্বাচন। ফলে ছাত্রদের নেতৃত্ব বিকাশ, অধিকার রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক চর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাজারো শিক্ষার্থী।

কলেজ প্রশাসন ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ২০০০ সালের পর থেকে বরিশালের কোনো সরকারি কলেজেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় ছাত্র রাজনীতির ইতিবাচক কার্যক্রমও হারিয়ে গেছে। এতে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের সুযোগ পাচ্ছে না।

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ অন্যান্য কলেজেও একই চিত্র। শিক্ষার্থীরা জানান, নিয়মিত শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ পাওয়ার অন্যতম ক্ষেত্র ছিল এই ছাত্র সংসদ। কিন্তু বছরের পর বছর নির্বাচন না হওয়ায় ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের সংস্কৃতি বিলুপ্তির পথে।

একজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, “কলেজ প্রশাসন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতার কারণেই আমরা দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক চর্চা থেকে বঞ্চিত। অথচ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিতভাবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়।”

বিএম কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, “ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। আমরা বারবার আবেদন করেছি, কিন্তু সিদ্ধান্ত আসে না।”

শিক্ষাবিদদের মতে, ছাত্রদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ও দায়িত্ববোধ তৈরির জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিকল্প নেই। তাই দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




আমি মুক্তিযোদ্ধা, সেফ এক্সিট আমার জন্য নয়: উপদেষ্টা ফারুক ই আজম

“আমি নিজে একজন মুক্তিযোদ্ধা, তাই সেফ এক্সিট আমার জন্য নয়। আমি এ দেশেই থাকব”— এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম

রোববার (১২ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে টাইফয়েড টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদানের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।

উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, “বছরের পর বছর আমাদের সমাজে বৈষম্য ও অধিকার বঞ্চনার যে চিত্র ছিল, সেখান থেকে জাতির একটি সেফ এক্সিট নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। জাতি যেন ন্যায়, সমতা ও মানবিকতার পথে এগিয়ে যেতে পারে এটাই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, “টাইফয়েড প্রতিরোধে এই টিকা ক্যাম্পেইন একটি আশীর্বাদ। রোগ প্রতিরোধ সবসময় প্রতিকারের চেয়ে উত্তম। তাই এই কর্মসূচিকে সফল করতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

এ সময় মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে টাইফয়েড টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

টিকা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত
বরিশাল বিভাগে ২৬ লাখ ১৪ হাজার মানুষকে টাইফয়েড টিকার আওতায় আনা হবে। ৪ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রথম ডোজ দেওয়া হবে। আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং ১ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট তৈরি করেছে এই টিকা, যা সরকার পেয়েছে আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভির সহযোগিতায়। টিকাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত ও সম্পূর্ণ নিরাপদ। ইতোমধ্যে নেপাল, পাকিস্তানসহ আটটি দেশে সফলভাবে ব্যবহার হয়েছে এবং কোথাও বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




আফগানিস্তানের কাছে ধস, ১০৯ রানে অলআউট বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি সিরিজে দাপুটে হোয়াইটওয়াশের পর ওয়ানডে ফরম্যাটে যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাংলাদেশ। ফরম্যাট বদলেই বদলে গেছে পারফরম্যান্স—প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতার পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও একই চিত্র। ১৯১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৮.৩ ওভারে মাত্র ১০৯ রানে গুটিয়ে গেছে টাইগাররা। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ৮১ রানের জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে আফগানিস্তান।

আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তান করে ১৯০ রান। বাংলাদেশের বোলাররা ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন। তানজিম হাসান সাকিবের দারুণ ওপেনিং স্পেল, মেহেদি হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণি—সব মিলিয়ে দারুণ বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দেয় টাইগাররা। আফগান ব্যাটারদের মধ্যে একমাত্র ইব্রাহিম জাদরান লড়াই চালিয়ে যান, করেন ৯৫ রান। কিন্তু তার সঙ্গী ব্যাটাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় ৪৪.৫ ওভারে অলআউট হয় আফগানিস্তান।

কিন্তু ১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তানজিদ হাসান তামিম শূন্য রানে বিদায় নেন। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত রান আউট হয়ে ফিরলে দল পড়ে আরও চাপে। সাইফ হাসান ২২ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বেশি দূর এগোতে পারেননি।

তাওহীদ হৃদয়ও ফিরে যান ২৪ রানে, এরপরের ব্যাটাররাও একে একে সাজঘরে ফেরেন। জাকের আলি অনিক, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন—কেউই বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। রশিদ খানের ঘূর্ণির জালে একে একে ধরা পড়েন সব ব্যাটার। ৫ উইকেট তুলে নিয়ে আফগান স্পিনার আবারও হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্ন।

শেষ পর্যন্ত ১০৯ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। এতে ৮১ রানের বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজ হার নিশ্চিত হয়।

এই পরাজয়ের ফলে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের পথও কঠিন হয়ে পড়ল বাংলাদেশের জন্য। একসময় সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা ব্যাটারদের অনিয়ন্ত্রিত শট বাছাই ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা যেন আবারও মুখ থুবড়ে ফেলল পুরো দলকে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জাপার অরাজকতা ঠেকাতে পুলিশের ভূমিকা প্রশংসনীয়: নুর

বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, জাপা (জাতীয় পার্টি) শনিবারের কর্মসূচিতে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক ও পেশাদার পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “তারা না থাকলে আরও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারত।”

শনিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় গণঅধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নুর এ মন্তব্য করেন।

নুরুল হক নুর অভিযোগ করে বলেন, “জাপাকে সেনাবাহিনীর কিছু ব্যক্তি আশকারা দিচ্ছে। তাদেরই ইন্ধনে আমার ওপর হামলা হয়েছে। আমাকে লক্ষ্য করে মাথায় আঘাত করা হয়, যা প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। আমার ব্রেইনেও আঘাত লেগেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে কোনো সংঘর্ষ হয়নি। তবে জাপার কিছু কর্মী ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল। ঘটনাটির পেছনে সেনাবাহিনীর এক কমান্ডিং অফিসারও জড়িত ছিলেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”

নুর দাবি করেন, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল ভয় দেখানো ও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া। তার ভাষায়, “আমার ওপর হামলা করে তারা বোঝাতে চায়, রিফাইন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার নামে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা এখন সক্রিয়।”

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি আরও জানান, তদন্ত কমিশন তার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। নুর আশা প্রকাশ করেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে হামলাকারীদের মুখোশ উন্মোচিত হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় তিনি শান্তিপূর্ণ রাজনীতির পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হালাল পণ্যের বিশাল বাজারে পিছিয়ে বাংলাদেশ

বিশ্বে হালাল পণ্যের বাজারের পরিমাণ এখন প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, অথচ বাংলাদেশ সেই বাজারে অংশ নিচ্ছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারেরও কম। হালাল শিল্পে কাঠামোগত ঘাটতি, স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতি এবং আধুনিক ইকোসিস্টেম না থাকায় বাংলাদেশ এই সম্ভাবনাময় খাতে পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

শনিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের হালাল শিল্পখাতের উন্নয়ন : সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ আলোচনায় এই বিষয়টি উঠে আসে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের হালাল পণ্যের রপ্তানি প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ডলার, যার অধিকাংশই কৃষি ও খাদ্যভিত্তিক। অথচ বৈশ্বিক বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে এই বাজারের পরিমাণ ৯.৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক মান বজায় না রাখা, পরীক্ষাগার সংকট, সনদ প্রদানের জটিলতা এবং দক্ষ জনবলের অভাব বাংলাদেশের এই খাতের বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডিসিসিআই নেতারা আরও বলেন, বাংলাদেশে হালাল পণ্যের সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা বিভ্রান্তি তৈরি করছে। বিশেষ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিএসটিআই উভয় প্রতিষ্ঠান হালাল সনদ প্রদান করায় অনেক সময় ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইইউবিএটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের হালাল খাতকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পরীক্ষাগার, প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ, আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ডিং এবং একটি স্বতন্ত্র নীতিনির্ধারক সংস্থা গঠন করা জরুরি।

আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, বিডা’র মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আরিফুল হক, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক বেবী রাণী কর্মকার, বিএসটিআইর উপপরিচালক (হালাল সার্টিফিকেশন) এসএম আবু সাইদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ডা. মো. আবু সালেহ পাটোয়ারী, বেঙ্গল মিটের এজিএম সায়েদুল হক ভূঁইয়া, মেটামরফোসিস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিক এম আলম এবং প্যারাগন গ্রুপের সহকারী ম্যানেজার (এক্সপোর্ট) মো. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

বেঙ্গল মিটের প্রতিনিধি সায়েদুল হক ভূঁইয়া বলেন, “ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পশু থেকে শুরু করে পণ্য উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।”

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক বেবী রাণী কর্মকার বলেন, “হালালের বৈশ্বিক বাজার প্রতি বছর প্রায় ১২.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ ছাড়া এই খাতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব নয়।”

এছাড়া বিডা মহাপরিচালক মো. আরিফুল হক জানান, এলডিসি উত্তরণের পর রপ্তানি খাতের সম্প্রসারণে হালাল ইন্ডাস্ট্রি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য সরকার একটি বিশেষ হালাল অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।

বাংলাদেশ যদি সময়মতো হালাল খাতের সার্টিফিকেশন, ব্র্যান্ডিং এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে মনোযোগ দেয়, তবে বৈশ্বিক বাজারে দেশের অংশীদারিত্ব কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তা সেনা হেফাজতে

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার পর সেনাবাহিনীর ১৫ কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে কর্মরত এবং একজন অবসর-উত্তর ছুটিতে (এলপিআর) আছেন।

শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান।
তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্তদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একজন কর্মকর্তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। তার সন্ধান পেতে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ তৎপরতা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা দেশের আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালতের নির্দেশ মান্য করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী পূর্ণ সহযোগিতা করছে।”

গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত সেনা কর্মকর্তারা হলেন—
মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কর্নেল কে এম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন।

প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বর্তমান ও সাবেক ২৪ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত ৮ অক্টোবর আদালত এই নির্দেশ দেন এবং আগামী ২১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করে ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

এ ঘটনায় সেনা সদর জানায়, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেনাবাহিনী ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ কার্যকর করছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম