সংস্কারের অভাবে নাজিরপুর মিনি স্টেডিয়াম এখন গরু-ছাগলের চারণভূমি

দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পিরোজপুরের নাজিরপুর মিনি স্টেডিয়াম এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। খেলাধুলার মাঠে চলছে গরু-ছাগলের চারণ, গ্যালারিতে ফাটল, ভবনে শেওলা আর ময়লার স্তূপ। ফলে নাজিরপুরের ক্রীড়াঙ্গন আজ ধুঁকছে অবহেলার ভারে।

১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্টেডিয়াম একসময় নাজিরপুরের তরুণদের ক্রীড়াকেন্দ্র ছিল। কিন্তু জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে থাকা এ মিনি স্টেডিয়ামে ২০১২ সালের পর থেকে আর কোনো সংস্কার হয়নি। তখন একটি দুই কক্ষবিশিষ্ট ভবন, শৌচাগার ও কয়েকটি বসার বেঞ্চ নির্মাণ করা হয়। এরপর আর কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর রোডের পাশে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামটি এখন চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। নেই কোনো নামফলক বা সাইনবোর্ড। মাঠজুড়ে উঁচু ঘাস, জায়গায় জায়গায় গর্ত আর জলাবদ্ধতা। ভবনের দেয়ালে ফাটল, ছাদে শেওলা, ভেতরে আবর্জনার স্তূপ। পথচারীরা ব্যবহার করছেন শৌচাগারটি।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী যুবক সাইদুর রহমান বলেন,
“এখানে আগে প্রতিদিন বিকেলে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবলসহ নানা খেলা হতো। এখন মাঠে গরু ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না। বৃষ্টিতে জল জমে খেলা বন্ধ থাকে মাসের পর মাস।”

খেলোয়াড়রা জানান, মাঠের ঘাস বড় হয়ে যাওয়ায় খেলাধুলা করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ড্রেনেজ না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা হয়। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই, নেই নিরাপত্তাও।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সন্ধ্যার পর স্টেডিয়াম এলাকায় মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। আনসার-ভিডিপি অফিসের পাশে ও বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়মিতই এ ধরনের কার্যক্রম দেখা যায়। তারা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহল বলছে, নাজিরপুরে এটি একমাত্র স্টেডিয়াম। অথচ সংস্কারের অভাবে এর অস্তিত্ব আজ বিলীন হতে বসেছে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এটি আবারও যুব সমাজের ক্রীড়াকেন্দ্র হিসেবে প্রাণ ফিরে পেতে পারে।

নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা জানান,
“মিনি স্টেডিয়ামের গ্যালারি, ড্রেসিং রুম, শৌচাগার ও মাঠ সংস্কারের জন্য আমরা ইতোমধ্যে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম নির্মাণেরও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।”

নাজিরপুরবাসীর আশা— দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হলে আবারও খেলাধুলার হাসি ফিরবে এ স্টেডিয়ামে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মিরপুরে রূপনগরে ভয়াবহ আগুনে নিহত বেড়ে ১৬

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকার কেমিক্যাল গোডাউন ও কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে শুরু হওয়া এই অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে দুটি কারখানায়—এর মধ্যে একটি হলো “কসমিক ফার্মা” নামে একটি কেমিক্যাল গোডাউন। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে কাজ করছে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ১১টা ৫৬ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির সদস্যরাও সহায়তা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ একটি বড় বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রাসায়নিক দ্রব্য থাকার কারণে আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে। আশপাশের কয়েকটি ভবনও তাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, “এখনও ধ্বংসস্তূপে মরদেহ অনুসন্ধান চলছে। অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কিছু সময় লাগবে।”

এদিকে, দগ্ধদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিতের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।

রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে রাসায়নিক কারখানায় আগুনের ঘটনা বাড়ছে, যা নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষিকা রঞ্জিতা রানী, আজ অসহায়তার সঙ্গী

ঝালকাঠির সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষিকা রঞ্জিতা রানী পাল (৭৫) আজ দারিদ্র্যের কবলে। দীর্ঘ ৩৫ বছর শিক্ষকতার মাধ্যমে তিনি হাজারো ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছেন, কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজেই চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পাচ্ছেন না।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার দারখি গ্রামের যোগেন্দ্রনাথ বসুর কন্যা রঞ্জিতা রানী, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। চামটা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ঝালকাঠি সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করে ১৯৭২ সালে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। একই বছর তিনি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হিসেবে কাজ শুরু করেন।

প্রায় ৩৫ বছর শিক্ষকতা শেষে ২০০৭ সালে তিনি অবসর নেন। পেনশন হিসেবে হাতে পান ৭ লাখ টাকা। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই চিকিৎসা ও সংসারের খরচের কারণে সেই অর্থ শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে শহরের আমতলা রোডের একটি ছোট, জরাজীর্ণ বাড়িতে ছেলে তাপস পাল ও পুত্রবধূর সঙ্গে বসবাস করছেন। স্বামী বিমল কৃষ্ণ পাল গত বছর মৃত্যুবরণ করেছেন। তার এক মেয়ে, সম্পা রানী দাস, বরিশালে সংসার করছেন।

উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছেন রঞ্জিতা রানী। নিয়মিত ওষুধের প্রয়োজন থাকলেও তার কাছে তা কেনার সক্ষমতা নেই। শিক্ষকতার সময় তিনি ছিলেন ছাত্রীদের প্রিয়তম শিক্ষকদের একজন। কঠিন পাঠও সহজভাবে বোঝাতেন, পড়াশোনা ছাড়াও চরিত্র গঠনের শিক্ষায় ছাত্রীরা সমৃদ্ধ হতো।

তার গড়া ছাত্রীরা আজ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তার মধ্যে কেউ প্রশাসনে, কেউ চিকিৎসক, কেউ ব্যাংক কর্মকর্তা। সাবেক ছাত্রী চিকিৎসক বৈশাখী বড়াল বলেন, “আমাদের মানুষ হতে শিখিয়েছে রঞ্জিতা ম্যাডাম। আমি চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছি, কিন্তু এর পেছনে তার বিশাল অবদান রয়েছে। এত বড় একজন মানুষ আজ অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছেন, সমাজ ও রাষ্ট্র তার প্রতি দায়িত্ব নেওয়া উচিত।”

সাবেক ছাত্রী বদরুন্নেছা, বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার, বলেন, “রঞ্জিতা ম্যাডাম ছিলেন আদর্শের এক মূর্ত প্রতীক। তার শিক্ষা ও নৈতিক দিক আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।”

বর্তমান সহকারী শিক্ষক মো. তারিকুল ইসলাম তারিক ও সাবেক সহকর্মী তৌহিদ হোসেন খান উভয়ই রঞ্জিতা রানীকে নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও সমাজের জন্য অবদানশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, তার পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব।

আজ রঞ্জিতা রানী পালের মতো শিক্ষকদের সঠিক মর্যাদা ও সহায়তা নিশ্চিত করা আমাদের সমাজের দায়িত্ব, যাতে তারা কেবল শ্রদ্ধারূপে স্মৃতিতে না থাকে, বাস্তব সাহায্যেরও দাবিদার হন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরগুনায় নিম্নমানের বীজে কৃষকের সর্বনাশ .চারা গাছেই ধান, ক্ষতির মুখে শতাধিক পরিবার

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় নিম্নমানের ধানের বীজ রোপণের কারণে শতাধিক কৃষক পড়েছেন চরম বিপর্যয়ে। চারা গাছে আগেভাগেই শীষ আসায় ফলন আসেনি প্রত্যাশিতভাবে। ফলে প্রায় ৯০ একর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে, ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০ লাখ টাকারও বেশি

জানা গেছে, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বাদুরতলা গ্রামের কৃষকরা চলতি মৌসুমে স্থানীয় বীজ ডিলার নাসির উদ্দিন সরদার এর কাছ থেকে ‘সাউথ এশিয়ান সিডস’ কোম্পানির উচ্চ ফলনশীল বি.আর-২২ জাতের বীজ কিনে জমিতে রোপণ করেন। কিন্তু রোপণের মাত্র ১৫-২০ দিনের মধ্যেই বীজতলায় চারা গাছে শীষ দেখা যায়। পরে ক্ষেতজুড়ে আগেই ধান ধরলেও অধিকাংশ শীষেই ছিল চিটা— ফলে কৃষকের মাথায় হাত।

কৃষকরা জানান, প্রতি কুড়া জমিতে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা, অথচ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫ হাজার টাকা

 

কৃষক সাকিব বলেন, “ডিলার আমাদের উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ দিয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। পরে সমস্যা দেখা দিলে তারা ভিডিও করে নিয়ে যায়, পরে মাত্র ৫ হাজার টাকা দিয়ে কাগজে স্বাক্ষর নেয়। আমরা গরিব মানুষ, এখন নিঃস্ব।”

আরেক কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, “গতবার যে জমিতে ৪০ মণ ধান পেয়েছিলাম, এবার সেই জমিতে চিটা ছাড়া কিছুই পাইনি। কৃষি অফিসাররা ডিলারের পক্ষ নিয়েছে।”

পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হিমেল আল ইসলাম বলেন, “কৃষকের অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। ডিলারকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছিল, তিনি কিছু ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই, তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দাবি করেছেন— কোম্পানি ও ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে কেউই কৃষিতে টিকে থাকতে পারবে না।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ভোলায় মোটরসাইকেল চালক হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

ভোলার চরফ্যাশনে মোটরসাইকেল চালক কালু হত্যা মামলায় আসামি মিন্টিজ ওরফে মো. শাজাহানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চরফ্যাশন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. শওকত হোসাইন এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার অপর চার আসামি সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে খালাস পেয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোটরসাইকেল চালক কালু আলাউদ্দিন গাছির মোটরসাইকেল নিয়ে দুলারহাট বাজার থেকে চরফ্যাশন যাচ্ছিলেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন।

পরদিন সকালে চরফ্যাশনের আলীগাঁও ২ নম্বর ওয়ার্ডের নূরেআলম পাটোয়ারীর বাড়ির পাশে কালুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তে জানা যায়, মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পথরোধ করে মো. মিলন, মো. জামাল, মো. ফিরোজ, মো. শাহাবুদ্দিন ও মো. মিন্টিজ ওরফে শাজাহান—এই পাঁচজন একযোগে গলায় গামছা পেঁচিয়ে কালুকে হত্যা করেন।

পরে পুলিশ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে চার্জশিট দাখিল করে। ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে মিন্টিজ ওরফে শাজাহানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সাক্ষ্যপ্রমাণের ঘাটতির কারণে মো. মিলন, মো. জামাল, মো. শাহাবুদ্দিন ও মো. ফিরোজকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পিপি মো. হযরত আলী হিরণ এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট এএইচএম জাবেদ করিম মামলা পরিচালনা করেন।

রায় ঘোষণার পর অতিরিক্ত পিপি হযরত আলী হিরণ বলেন, “ন্যায়ের ভিত্তিতেই আদালত রায় দিয়েছেন। নিহত পরিবারের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।”

রায় ঘোষণার পর বিচারক মো. শওকত হোসাইনকে স্থানীয় আইনজীবী ও জনসাধারণ ধন্যবাদ জানান। তাদের মতে, দীর্ঘ ১৩ বছর পর আলোচিত এই মামলার সাহসী ও ন্যায্য রায় ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পি.আর. পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে বরিশালে ইসলামী আন্দোলনের মানববন্ধন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পি.আর. (Proportional Representation) পদ্ধতিতে আয়োজন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মাধ্যমে গণভোট প্রদানের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর শাখা।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর ২০২৫) দুপুরে বরিশাল সদর রোড এলাকায় এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগরের সভাপতি প্রফেসর মো. লোকমান হাকীম এবং সঞ্চালনা করেন নগর সেক্রেটারি মাওলানা আবুল খায়ের।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,
“যারা মাত্র ৩৩ থেকে ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়ে শতভাগ ক্ষমতা ভোগ করতে চায়, তারাই পি.আর. পদ্ধতির বিরোধীতা করে। যারা বিগত ৫৪ বছরের ক্ষতিকর রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ধরে রাখতে চায়, তারাই অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার বিপক্ষে কথা বলে। যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও পেশিশক্তির রাজনীতিতে দেশকে জিম্মি করে রেখেছে, তারাই জনগণের প্রকৃত ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার পথে বাধা।”

বক্তারা আরও বলেন,
পি.আর. পদ্ধতি হলো দেশের জন্য একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক সমাধান। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন এবং দেশকে স্বৈরতন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে অনুপাতিক ভোটব্যবস্থা চালু করতে হবে। এখনই সময়—‘পি.আর. পদ্ধতির পক্ষে জনমত গড়ে তোলার’।”

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল নগর সহ-সভাপতি মাওলানা সৈয়দ নাছির আহমাদ কাওছার, নগর সহ-সভাপতি মাওলানা ইদ্রিস আলী, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুল হক, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুফতি নাসির উদ্দিন নাইস, সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম হাসানুজ্জামান মিরাজ, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ বরিশাল মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা আবু জাফর সালেহ, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম মহানগর সভাপতি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক ত্বহা, ইসলামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ নাসির, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন সভাপতি মুফতি মুহিবুল্লাহ কাজেমী, ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা রেজাউল করীম ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন সভাপতি গাজী মুহাম্মাদ রেদোয়ান।

এ সময় বক্তারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করতে পি.আর. পদ্ধতি বাস্তবায়নের দাবিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে এনআইডি কার্ডে অসংগতি, নারীসহ চারজন থানায়

বরিশাল নগরীতে এক নারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)–এ অসংগতি ও পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় পুলিশ নারীসহ চারজনকে হেফাজতে নিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর ফরেস্টার বাড়ির পুল মানু মিয়ার লেন এলাকায়।
পুলিশ জানায়, বারেক মজুমদারের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ওই নারী ও আরও তিনজনকে হেফাজতে নেয়া হয়।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মিরাজুর ইসলাম জানান, এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে।
তিনি বলেন, “লোকমুখে শোনা যাচ্ছে নারীটি ভারতীয় নাগরিক বা রোহিঙ্গা হতে পারেন। তবে তার এনআইডিতে তথ্য ঠিক থাকলেও ছবিটি সন্দেহজনক। এছাড়া তার কথাবার্তায়ও অসংগতি রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে নারীসহ চারজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।”

হেফাজতে নেওয়া নারী রিতা বালা দাবি করেন, তিনি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বাসিন্দা।
তার ভাষায়, “আমি চিকিৎসার জন্য বরিশালে এসেছি। আমার ভাই আমাকে মকবুলের মেয়ের বাসায় রেখে গেছে। আমি বাংলাদেশি নাগরিক।”

অন্যদিকে আশ্রয়দাতা মকবুল হোসেন জানান, “আমার হোটেলে এক ব্যক্তি রিতাকে নিয়ে আসত। থাকার জায়গা না থাকায় মানবিক কারণে মেয়ের বাসায় থাকতে দিয়েছি। তার আসল পরিচয় আমি জানি না।”

এ ঘটনায় এনআইডির তথ্য যাচাই ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে পুলিশ আরও তদন্ত চালাচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পটুয়াখালীতে জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা

পটুয়াখালীতে ৩৬ জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পটুয়াখালী শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ সভা আয়োজন করা হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ উল আলম। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ইয়া হাদিয়া সোনামণি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের স্প্রিরিট ও আকাঙ্খাগুলো যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে আমরা একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। আগামী প্রজন্মের নেতৃত্বে দেশ আরও সমৃদ্ধশালী হবে। আপনরাই আমাদের দেশের চালিকা শক্তি।”

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ড. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. অপু সরোয়ার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক জাকির হোসেন, জুলাই যোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব আবু হানিফ, এবং অন্যান্য সদস্যরা।

সভায় জুলাই যোদ্ধারা তাদের দাবিসমূহ তুলে ধরেন। তারা জানান, “আমরা জুলাই কার্ড পেয়েছি, কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা পাইনি। জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দেয়ার পরও আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয় যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমরা চাই আহত জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আমাদের যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরি দেওয়া হোক। যদি কোনো সনদ না পাই, তাহলে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

অনুষ্ঠানে অন্তত ১৫ জন শহিদ পরিবারের সদস্য এবং ১৩০ জন আহত জুলাই যোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক এ সময় তাদের সুচিকিৎসা, আর্থিক সহায়তা, টিউবওয়েল স্থাপন, রাস্তাঘাট উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় কার্যকরভাবে সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় ও তাদের সমস্যার আলোচনার মাধ্যমে আশা দেখাচ্ছে যে, জেলা প্রশাসন বাস্তবিকভাবে যোদ্ধাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ আগামী দিনে আরও নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হবে এবং যোদ্ধাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা হবে।

এছাড়াও উপস্থিত সবাই জেলা প্রশাসকের দৃষ্টান্তমূলক উদার মনোভাব এবং সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতিকে প্রশংসা করেন। তারা বলেন, এ ধরনের সভা যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের মধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও শক্তিশালী করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এক ক্লিকেই জেলে যাবে জামিননামা, শুরু হচ্ছে অনলাইন ব্যবস্থা

আগামীকাল বুধবার (১৫ অক্টোবর) থেকে দেশের আদালত ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে যুগান্তকারী ডিজিটাল উদ্যোগ—অনলাইন জামিননামা (বেইল বন্ড)। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে আদালত থেকে জামিন মঞ্জুরের পর এক ক্লিকেই জামিননামা সরাসরি সংশ্লিষ্ট কারাগারে পৌঁছে যাবে।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে জামিননামা প্রক্রিয়ায় আসামিদের নানা হয়রানি ও অতিরিক্ত খরচের অভিযোগ ছিল। আগে আদালত থেকে মুক্তি পেতে আসামিদের ১২টি ধাপ অতিক্রম করতে হতো, যার প্রতিটি ধাপেই ছিল সময় ও অর্থের অপচয়। নতুন এই অনলাইন পদ্ধতি চালু হলে আদালতের রায় থেকে শুরু করে আসামির মুক্তি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি এক ক্লিকেই সম্পন্ন হবে।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, “এটা সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করা হয়েছে। কোনো বিদেশি সহায়তা লাগেনি। এটা আমাদের নিজেদের উদ্যোগে করা সংস্কার। পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে আগামীকালই আমরা নতুন যুগে প্রবেশ করব।”

তিনি আরও জানান, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে পর্যাপ্ত অর্থের প্রাপ্যতা আছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, “প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকে ১৬০০ কোটি টাকা এবং রেজিস্টার অফিসে (আইজিআর) ১৫০০ কোটি টাকা জমা আছে। আমরা চাইলে নিজেদের অর্থ দিয়েই উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিতে পারি।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ ও ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন জামিননামা চালু হলে বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে, পাশাপাশি আসামিদের হয়রানি অনেকাংশে কমে যাবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আবার বাড়লো সয়াবিন তেলের দাম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :ব্যবসায়ীরা এবার ঘোষণা দিয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৬ টাকা বাড়িয়েছে  এ ছাড়া প্রতি লিটার পাম ওয়েলের দাম বাড়ানো হয়েছে ১৩ টাকা করে। ৩ টাকা বাড়নো হয়েছে খোলা সয়াবিন তেলের দাম।

সোমবার বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গত আগস্টে ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ নিয়ে সরকার ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে ব্যবসায়ীরা ১০ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের মাত্র এক টাকা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছিল। এতে করে ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হন এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিষয়ে কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমকে জানাননি।

তবে নতুন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৮৯ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৫ টাকা, খোলা সয়াবিনের দাম ৩ টাকা বাড়িয়ে ১৭৭ টাকা এবং পাম তেলের দাম ১৩ টাকা বাড়িয়ে ১৬৩ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ