পটুয়াখালীতে বেওয়ারিশ কুকুর-বিড়ালের জলাতঙ্ক প্রতিরোধে টিকা কার্যক্রম শুরু

পটুয়াখালী পৌরসভা ও জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে শহরের বেওয়ারিশ কুকুর ও বিড়ালদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি। বুধবার বিকেলে ঝাউবন এলাকার ফোর লাইন সড়কে এই মানবিক উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক জুয়েল রানা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৌর সচিব মাসুম বিল্লাহ, পৌর মেডিকেল অফিসার ডা. এস. এম. একরামুল নাহিদসহ পৌরসভার কর্মকর্তারা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ‘অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’-এর সভাপতি নওশিন আফরোজ হিয়া, রেস্কিউ অ্যান্ড রিলিজ উইং প্রধান আসাদুল্লাহ হাসান মুসা, বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী আবদুল কাইয়ুম, গলাচিপা টিম লিডার সোহেল হোসেন রাসেল, কলাপাড়া সহকারী টিম লিডার ইউসুফ রনি এবং দুমকী টিম লিডার সাইফ আহমেদ তনময়।

কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পৌর এলাকার নিউমার্কেট, পুরান বাজার, সদর রোড, বাসস্ট্যান্ড, ঝাউবন, তিতাস মোড়, লঞ্চঘাট ও সবুজবাগ মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বেওয়ারিশ কুকুরদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হচ্ছে।

পৌরসভা ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, এক মাসব্যাপী এই অভিযানে এক হাজারেরও বেশি কুকুরকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। টিকা প্রদানের পর প্রতিটি কুকুরের শরীরে লাল রঙের চিহ্ন দেওয়া হচ্ছে, যাতে একই কুকুরকে পুনরায় টিকা না দেওয়া হয়।

পৌর প্রশাসক জুয়েল রানা বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জলাতঙ্ক প্রতিরোধে এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ‘অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’-এর সহযোগিতায় শহরের সব বেওয়ারিশ কুকুরকে ধীরে ধীরে টিকার আওতায় আনা হবে, যাতে নাগরিকরা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে থাকতে পারেন।”

প্রাণীপ্রেমীদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু প্রাণীদের সুরক্ষা নয়, বরং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা জানান, পটুয়াখালীতে এমন মানবিক কর্মসূচি প্রাণীকল্যাণে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে এই উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক প্রশংসা দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে শহরে জলাতঙ্কের ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং মানুষ-প্রাণীর সহাবস্থান আরও নিরাপদ হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গুদামে আটকে ত্রাণ, অনাহারে বরিশালের মান্তা সম্প্রদায়

নদীভিত্তিক জীবনযাপন করা বরিশালের মান্তা সম্প্রদায় আবারও পড়েছে চরম খাদ্যসংকটে। সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া ত্রাণ চাল গুদামে থাকা সত্ত্বেও এখনো বিতরণ শুরু হয়নি। নির্ধারিত সময়সীমা ১৫ দিন আগে শেষ হলেও জেলা প্রশাসনের সময় না পাওয়ায় চাল গুদামেই পড়ে আছে, আর ক্ষুধায় কাতর মানুষ অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

বরিশাল সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ৫০০ মান্তা পরিবারের একমাত্র জীবিকা মাছ ধরা। কিন্তু তালিকাভুক্ত জেলে না হওয়ায় মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের জাল ফেলা বন্ধ। ফলে তারা এখন আয়-রোজগারহীন, খাদ্য সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, ৩১৬টি পরিবারকে ত্রাণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও, বরাদ্দকৃত ১১০ বস্তা চাল এখনো তাদের হাতে পৌঁছেনি। ইউনিয়ন পর্যায়ে সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও প্রশাসনিক জটিলতায় বিতরণ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বরাদ্দকৃত ত্রাণ বিতরণে প্রশাসনের গাফিলতি ও বিলম্ব তাদের আরও বিপদে ফেলেছে। লাহারহাট এলাকার মান্তা নারী মমতাজ বেগম, মালেকা বেগম ও হাজেরা বেগমরা বলেন, “আমরা নদীতে ভাসি, পেটে ভাতও ভাসে। চাল গুদামে উঠেছে, কিন্তু আমাদের পেটে যায়নি।”

৭ অক্টোবর মুলাদীতে শতাধিক মান্তা নারী-পুরুষ ত্রাণ বিতরণে দেরির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন। ঝালকাঠির রাজাপুরের ১৫০টি মান্তা পরিবার ক্ষোভে এলাকা ছেড়ে গিয়েছিলেন, পরে প্রশাসনের আশ্বাসে ফিরে আসেন।

টুঙ্গীবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা ছিল চরবাড়িয়ার ৬৫টি, শায়েস্তাবাদের ২৬টি, চরমোনাইয়ের ১০৫টি, চরকাউয়ার ১০টি এবং টুঙ্গীবাড়িয়ার ১১০টি পরিবারের। কিন্তু এই ত্রাণ এখনো কাগজেই সীমাবদ্ধ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “মান্তা সম্প্রদায়ের অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তারা সরকারিভাবে জেলে হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন না। বরাদ্দকৃত চালের সঙ্গে ডাল ও তেল বিতরণের পরিকল্পনা থাকলেও অর্থ বরাদ্দ না আসায় বিলম্ব হচ্ছে।”

এদিকে প্রশাসনিক এই জটিলতার কারণে মান্তা সম্প্রদায়ের মানুষরা এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে। তারা দ্রুত ত্রাণ বিতরণ এবং স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




‘Be a Hand Washing Hero’ প্রতিপাদ্য নিয়ে পটুয়াখালীর দুমকিতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

‘Be a Hand Washing Hero’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর দুমকিতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস ২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকালে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

দিনটি উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা মিলনায়তনে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবুজর মোঃ ইজাজুল হক। তিনি বলেন, “পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংশ। আমাদের হাতই রোগজীবাণু ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম। তাই প্রতিদিন হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আগামী প্রজন্ম যেন সুস্থভাবে বেড়ে উঠে এবং হাত ধোয়ার নায়ক হয়ে দেশকে নেতৃত্ব দেয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুমকি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোছাঃ নিপা বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম মৃধা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির জালাল উদ্দিন, সরকারি জনতা কলেজের সহকারী অধ্যাপক শহীদুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীরা হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি প্রদর্শন করে। শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

আল-আমিন

 




বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৬ ব্যাংক থেকে ৩৮ মিলিয়ন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের ব্যাংকগুলোতে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ৬টি ব্যাংক থেকে মোট ৩৮ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান

তিনি জানান, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় রিজার্ভ থেকে বিক্রির পরিবর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন বাজার থেকেই ডলার কিনছে। এতে একদিকে রিজার্ভ বাড়ছে, অন্যদিকে মুদ্রাবাজারের তারল্যও স্থিতিশীল থাকছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মাল্টিপল অকশন পদ্ধতিতে এই ৩৮ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করা হয়। নিলামে ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১২১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত গিয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক গৃহীত মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ২ হাজার ১২৬ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৯ দফায় ডলার কিনেছিল। সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর ৮টি ব্যাংক থেকে ১৪০ মিলিয়ন ডলার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২৬ ব্যাংক থেকে ৩৫৩ মিলিয়ন ডলার এবং ৪ সেপ্টেম্বর ১৩৪ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এতে বাজারে ডলারের দাম কিছুটা কমে আসে। তবে, ডলারের দর আরও কমে গেলে রপ্তানিকারক ও প্রবাসী আয় উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই বাজারের ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মে আইএমএফের (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) সঙ্গে আলোচনার পর বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণে নতুন পদ্ধতি চালু করে। এর ফলে ব্যাংক ও গ্রাহকরা এখন নিজেরাই বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী বিনিময় হার নির্ধারণ করছে।


আল-আমিন




জমি লিখে না দেওয়ায় স্ত্রীকে হত্যা করে ডিপ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখেন স্বামী

রাজধানীর কলাবাগানে এক নারীকে হত্যার পর তার মরদেহ ডিপ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, বাবার বাড়ির জমি স্বামীর নামে লিখে না দেওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নিহত তাসলিমা আক্তারের ভাই নাজমুল হোসেন মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের সামনে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

নাজমুল হোসেন জানান, তার বোনের স্বামী নজরুল ইসলাম আগে কাপড়ের ব্যবসা করতেন, পরে ব্যবসা ছেড়ে বেকার হয়ে পড়েন। এরপর থেকেই তিনি বারবার গাজীপুরের পূবাইল এলাকায় তাসলিমার নামে থাকা ১০ কাঠা জমি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু পরিবার এতে রাজি না হওয়ায় নজরুল তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

তিনি বলেন, “আমরা রাজি ছিলাম না জমি পুরোটা নজরুলের নামে দিতে। শুধু আমার বোন ও ভাগ্নিদের জন্য কিছু অংশ দিতে চেয়েছিলাম। এ নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। সম্প্রতি সে আমার বাবা-মাকে ফোন দিয়ে অসুস্থতার অজুহাতে ঢাকায় আসতে বলে। পরে ক্ষমা চেয়ে আবারও জমি চায়।”

নিহতের ভাই আরও জানান, ঘটনার দিন সকালে নজরুল তার দুই মেয়েকে জানায়, তাদের মা নাকি অন্য কারও সঙ্গে পালিয়ে গেছে। মেয়েরা খুঁজতে গিয়ে তার রুমে রক্ত দেখতে পায়। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে ফ্রিজের ভেতর থেকে তাসলিমার মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই নাঈম হোসেন কলাবাগান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৪ সালে নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাসলিমার বিয়ে হয়। তাদের তিন কন্যা রয়েছে— নাজনীন আক্তার (১৯), নাজিফা ইসলাম (১৪) ও নিশাত আনজুম (৫)। গত কয়েক বছর ধরে পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের কারণে তাদের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়।

নাঈম জানান, নজরুল নিয়মিত তার বোনকে মারধর করত এবং যোগাযোগ বন্ধ করে রাখত। এমনকি মোবাইল ফোন ব্যবহারেরও অনুমতি দিত না। ঘর থেকে বের হলে বাইরে থেকে দরজা লক করে রাখত।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক বলেন, “আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্রিজের ভেতর থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। আসামি নজরুল ইসলাম ঘটনার পর পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

পরিবারের দাবি, নজরুল ইসলামের লোভ আর নিষ্ঠুরতার কারণেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।


আল-আমিন




অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার দখলে বরিশাল নগরী

বরিশাল শহরে অনুমোদনহীন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে যানজট নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমে এগুলো মানুষের যাতায়াত সহজ করলেও বর্তমানে শহরের শৃঙ্খলা ও বিদ্যুতের উপর চাপ বাড়িয়েছে।

নগরের ব্যস্ত সড়কে অবৈধ তিন চাকার বাহনগুলো দাপটের সঙ্গে চলাচল করছে। শুধুমাত্র অলিগলি নয়, মহাসড়ক এবং ভিআইপি সড়কও এদের দখলে। দ্রুতগ্রামী এই যানগুলো হুটহাট মোড় নেওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ সতর্কতা নিলেও চালকরা প্রায়ই চড়াও হয়।

বরিশালে বৈধ প্যাডেল রিকশার সংখ্যা ১২ হাজার থেকে দেড়শ’ এ নেমে এসেছে। অন্যদিকে অবৈধ ইঞ্জিন রিকশার সংখ্যা বেড়ে ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এই যানগুলো থেকে সিটি করপোরেশন বা সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না। তবে অভিযোগ রয়েছে, ২০০ চাঁদাবাজ প্রতিদিন এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করছে

নগরীর ৭ হাজার ৬১০টি হলুদ অটো বাবদও কোনো রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। গ্যারেজ প্রতি চাঁদা দিয়ে এগুলো প্রকাশ্যে চলছে। প্যাডেল রিকশাচালকরা ইঞ্জিন রিকশা বন্ধের দাবিতে কর্মসূচীতে অংশ নেয়ার সময় এসব তথ্য সামনে আসে।

পুলিশ ও বিআরটিএ জানিয়েছে, এসব অবৈধ যান হওয়ায় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তবে সদররোড ও আমতলা থেকে জিলা স্কুল পর্যন্ত কিছু সীমিত নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার পশ্চিম কর্নকাঠি এলাকায় অবৈধ হলুদ অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এর নেতৃত্বে রয়েছেন এক যুবক, যিনি পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গাড়ি তৈরি করছেন।

এই পরিস্থিতিতে নগরীকে অবৈধ ইঞ্জিন রিকশামুক্ত করতে বিসিসি, পুলিশ, প্রশাসন ও বিআরটিএ’র যৌথ অভিযান অপরিহার্য। এতে চাঁদাবাজদের দমন এবং বিদ্যুতের সাশ্রয় সম্ভব হবে।

স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, নগরীতে প্রতি রিকশা বাবদ ৫০ টাকা করে দৈনিক চাঁদা আদায় হয়, যা মাসে ৩০ লাখ টাকা এবং বছরে তিন কোটি টাকারও বেশি। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদাবাজরা পুলিশকেও ম্যানেজ করে চলছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




লড়েও জেতা হলো না, এশিয়ান কাপের স্বপ্ন প্রায় শেষ জামাল-হামজাদের

বাংলাদেশ ফুটবল দল এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে হংকংয়ের মাঠে হারের ব্যর্থতায় হতাশ। মঙ্গলবার কাই তাক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ ১-১ গোলে ড্র করেছে। তবে এই সমতা বাংলাদেশ দলের জন্য তৃপ্তিদায়ক হয়নি।

ফিরতি লেগে ঢাকায় হংকংয়ের কাছে ৩-৪ গোলে হারের পর, এই ড্র বাংলাদেশকে বাছাইপর্বে টিকে থাকার সম্ভাবনা থেকে প্রায় দূরে ঠেলে দিয়েছে।

ম্যাচে শুরুতে রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ। জায়ান আহমেদ, শমিত সোম ও তপু বর্মনকে নিয়ে সাজানো ডিফেন্স দৃঢ় ছিল। প্রথমার্ধের ৩৬তম মিনিটে হংকংয়ের ফের্নান্দো পেরেইরার পেনাল্টি গোলের ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় হোস্টরা।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ আক্রমণে বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। ৭৫তম মিনিটে হংকং ডিফেন্ডার অলিভার গারবিগ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পাওয়ায় মাঠ ছাড়েন, সংখ্যা সংখ্যায় এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৮৩তম মিনিটে ফয়সাল ফাহিমের ক্রসে ফাহামিদুল ইসলাম হেড পাস দেন রাকিব হোসেনের পায়ে, রাকিব নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফিরিয়ে আনেন — ১-১।

শেষ মুহূর্তেও বাংলাদেশ কিছু সুযোগ পায়, কিন্তু গোল করতে ব্যর্থ হয়। এই ড্রয়ের ফলে ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে মাত্র ২। ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে হংকং। হামজা চৌধুরা ও জামাল ভূঁইয়ারা আর্থিকভাবে বাছাইপর্ব পার হওয়ার সম্ভাবনা এখন খুবই সীমিত।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ইলিশ নিষেধাজ্ঞায় মানবেতর জীবনযাপন: বরাদ্দ আসেনি অনেকের হাতে

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বরিশাল ও পটুয়াখালীর জেলেরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জেলেদের খাদ্য সহায়তার জন্য প্রতিজনকে ২৫ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও নিষেধাজ্ঞার এক সপ্তাহ পার হতে চললেও অনেকের হাতে বরাদ্দ পৌঁছায়নি। ফলে পরিবারগুলো অনাহারে বা অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।

হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মেঘনা নদীর পাড়ে দেখা যায়, চাচাতো দুই ভাই জয়নাল ও রাজ্জাক ঘরে বসে ছেঁড়া জাল ঠিক করছেন। তাদের অভিযোগ, “মা ইলিশ রক্ষার জন্য সরকার ২২ দিন নদীতে নামায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, কিন্তু খাদ্য সহায়তা পাইনি। বরাদ্দ থাকলেও এখনো কোনো সহায়তা আসেনি।”

স্থানীয় সূত্র বলছে, বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা ঠিকমতো না পৌঁছানোর কারণে অনেক জেলে বাধ্য হয়ে নদীতে নামছেন মাছ শিকারে। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে কোনো উপার্জন না থাকা পরিবারগুলোতে দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। এছাড়া ভারতীয় জেলেরা দেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরছে, কিন্তু বাংলাদেশের জেলেরা মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

বরিশাল বিভাগ মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক জহিরুল ইসলাম আকন্দ জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় চাল-ডালসহ অন্যান্য সহায়তা বিতরণের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্পেও জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, দ্রুত নিবন্ধিত প্রত্যেক জেলের হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় নিবন্ধিত জেলেদের সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ৩ লাখ ৪০ হাজার জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও মজুত কম থাকায় অন্তত ১ লাখ জেলে বরাদ্দ পাচ্ছে না। এ ছাড়া অনিবন্ধিত আরও লাখো জেলে পুরোপুরি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মনপুরায় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ: বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের আশা

ভোলার মনপুরা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ঘাটতি সমস্যার সমাধানে এবার সাবমেরিন ক্যাবল লাইনে যুক্ত হওয়ার কাজ শুরু হচ্ছে। এটি চালু হলে এলাকায় ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে, যা গ্রাহকদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে।

গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ভোলা জেলা বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নূর আহমদ এবং অতিরিক্ত সচিব (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) কেএম আলী রেজার নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মনপুরার বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর দুটি প্রযুক্তিগত রুট বিবেচনা করা হয়। একটি হলো তজুমুদ্দিন উপজেলা থেকে চরকলাতলী হয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে মনপুরায় সংযোগ স্থাপন, অপরটি চরফ্যাশন থেকে নদীর তলদেশ দিয়ে সরাসরি সংযোগ।

অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী রেজা জানান, সাবমেরিন ক্যাবলের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষ অন্ধকারে না থাকে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মনপুরা উপজেলার বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ মেগাওয়াট। উপজেলা সদর হাজীরহাটসহ আশপাশের এলাকার ৯৬৬ গ্রাহকের জন্য প্রয়োজন ৪ মেগাওয়াট। তবে স্থানীয় উৎপাদন মাত্র ৪২০ কিলোওয়াট, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। বর্তমানে তিনটি জেনারেটর রয়েছে, যার মধ্যে একটি বিকল, বাকি দুটিও দীর্ঘদিনের পুরোনো ও সার্বক্ষণিক চলার অনুপযুক্ত।

মনপুরা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী কেএম ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সমস্যা সমাধানের জন্য উপজেলা সদরে ৩ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষম সোলার বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণাধীন। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হলে মনপুরাবাসীর জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত হবে।

ভোলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আজাদ জাহান বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার মনপুরাকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে। সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ বাস্তবায়িত হলে মনপুরা সাগর মোহনার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হবে।




বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে মানবেতর জীবনযাপন, নতুন ঘর পাচ্ছেন করিম ফকির পরিবার

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নে করিম ফকির দম্পতি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এক সপ্তাহের মধ্যে পরিবারটি নতুন ঘর পাবে।

রোববার (১২ অক্টোবর) বিকেলে ৫নং ওয়ার্ড নয়াকান্দা এলাকায় সরেজমিনে ওই ঝুপড়ি ঘরে যান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান। তিনি পরিবারটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খোঁজখবর নেন।

করিম ফকির ও তার স্ত্রী প্রায় পাঁচ শতক জমিতে খড় ও পলিথিনের ঝুপড়িতে বসবাস করছেন। তাদের সংসারে রয়েছে ছয় সন্তান। জেলাপেশায় কম আয়ের কারণে সংসার চলাচ্ছে খুব সীমিত অর্থে। বৃষ্টি হলে ঘরের চাল ভিজে যায়, কাদা জমে যায়, আর শিশু ও অসুস্থ পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার কোনো সুযোগ নেই।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিষয়টি রাজিব আহসানকে অবগত করলে, তিনি তা তারেক রহমানের নজরে আনার ব্যবস্থা করেন। পরে তারেক রহমানের নির্দেশে রাজিব আহসানের সহযোগিতায় পরিবারটি এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন ঘর পাবে বলে নিশ্চিত করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন আকন।

প্রতিবেশি রিয়াজ হোসেন জানান, অর্থের অভাবে পরিবারটি মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকে। চিকিৎসার সুযোগও কম। মানবেতর জীবন দেখে তারেক রহমানের নির্দেশে রাজিব আহসান ছুটে এসেছেন এবং নতুন ঘরের আশ্বাস দিয়েছেন।

ভাষানচর ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য শিল্পী বেগম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।

করিম ফকির বলেন, “আমরা খুব গরিব মানুষ। দিনে একবেলা খাই, কখনো না খেয়েও থাকতে হয়। নতুন ঘর পেয়ে আমরা আনন্দিত। তারেক রহমান ও রাজিব আহসানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

রাজিব আহসান বলেন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের সকল অসহায় ও গরীব মানুষদের প্রতি নজর রাখছেন। মানবেতর জীবনযাপন করা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। করিম ফকির পরিবারকে নতুন ঘর দেওয়া সেই ধারাবাহিকতার অংশ।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫