অপরাধ না করা আ.লীগ নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা সরকারের দায়িত্ব: ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও বরিশাল সদর-বাকেরগঞ্জ আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মোহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী কোনো অপরাধে জড়িত নন, তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তারা যাকে ইচ্ছা তাকেই ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নির্বাচনী প্রতীক গ্রহণের পর দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফয়জুল করীম অভিযোগ করে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আসামি না হলেও যাকে-তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। বিগত সময়ে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন মানুষ নিরাপত্তার সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে প্রশাসন যেন একদিকে ঝুঁকে না পড়ে। কালো টাকা ও দখলদারিত্বের ব্যবহার যাতে না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কাউকে হয়রানি করা যাবে না। হয়রানি চলতে থাকলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফয়জুল করীম বলেন, বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নতুন করে কোনো জোটে যাওয়ার সুযোগ দেখছে না। তবে যদি শরিয়াভিত্তিক কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে আইন প্রণয়নের সুযোগ তৈরি হয়, তখন পরিস্থিতি বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, “আমাদের এক সময়ের জোটের মূল থিম ছিল ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স। কিন্তু পরে দেখা গেল তারা ইসলামের নীতি থেকে সরে গেছে। তাই ইসলামী আন্দোলন জোট ছেড়েছে। এখন ইসলামের পক্ষে হাতপাখার একটি বাক্স রয়েছে।”

জামায়াতের সঙ্গে জোটগতভাবে ভোট না করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এককভাবেই মাঠে থাকবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। নির্বাচিত হলে তিনি দুর্নীতিমুক্ত বরিশাল গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব ও বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ এছহাক মোহাম্মাদ আবুল খায়েরসহ দলটির জেলা ও মহানগরের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গণভোটের আইনি ভিত্তি নেই: মেজর (অব.) হাফিজ

গণভোটের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী জনগণের ওপর এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে এবং যেভাবে গণভোটের প্রচার চালানো হচ্ছে, তাতে নানা ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে ভোলার লালমোহন উপজেলার উত্তর বাজার এলাকায় মদন মোহন মন্দির প্রাঙ্গণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের কথা বলা হচ্ছে। অথচ সংবিধান সংশোধনের এখতিয়ার একমাত্র জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের। এখানে ঢাকার একটি এলিট গোষ্ঠী জনগণের ওপর বিষয়টি চাপিয়ে দিয়েছে। আমাদের দেশ এখনো এ ধরনের ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত নয়। শুরুতে বিএনপি এতে রাজি ছিল না। কিন্তু বিএনপি রাজি না হলে নির্বাচনই হবে না—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে বিএনপি জুলাই সনদে সই করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা কিছুটা বাধ্য হয়েই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। এরপর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে গিয়ে সংবিধানকে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেবে। পৃথিবীর কিছু দেশে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় পরিবর্তনের জন্য গণভোটের বিধান রয়েছে, তবে সেসব ক্ষেত্রেও তা আসে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়—এমন একটি গোষ্ঠী হঠাৎ ক্ষমতার কেন্দ্রে বসে গণভোটের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে। এই গণভোটের আইনগত ভিত্তি নেই, তবে একটি নৈতিক ভিত্তি রয়েছে। যেহেতু আমরা জুলাই অভ্যুত্থানকে সমর্থন করি, সে কারণে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাবো।

অনুষ্ঠানে লালমোহন মদন মোহন মন্দির কমিটির সভাপতি নিরব কুমার দে’র সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




এবার ভোটের ফল প্রকাশে বেশি সময় লাগতে পারে— প্রেস সচিব

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ :বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে  প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন –

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবার ভোট গণনায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে ।

প্রেস সচিব বলেন, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় ভোট গণনার প্রক্রিয়া কিছুটা দীর্ঘ হতে পারে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে।

নির্বাচনের সময় তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরকে উন্নত ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ২৫ হাজার ৫০০টি বডি অন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।

শফিকুল আলম বলেন, এসব ক্যামেরার ফুটেজ একটি সুরক্ষা অ্যাপে যুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া (কুইক রেসপন্স) নিশ্চিত করা হবে।

ভোটের দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান প্রেস সচিব। একই সঙ্গে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় দায়িত্বে থাকবেন— সেনাবাহিনীর ১ লাখ সদস্য, নৌবাহিনীর ৫ হাজার সদস্য, বিমান বাহিনীর সাড়ে ৩ হাজার সদস্য, ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য বাহিনী এবং নজরদারিতে থাকবে ৫০০ ড্রোন।

নির্বাচনী সুরক্ষা’ অ্যাপ

শফিকুল আলম আরও জানান, ‘নির্বাচনী সুরক্ষা’ নামের একটি অ্যাপের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন, যা মাঠপর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে।




উজিরপুরের লোককথায় আজও বেঁচে আছে ‘ঘইড্যা’

বরিশাল জেলার উজিরপুর—বাংলাভাষা ও লোকসংস্কৃতির এক প্রাচীন জনপদ। অনেক গবেষকের মতে, বাংলাভাষার উৎপত্তি ও বিকাশে বরিশালের উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে উজিরপুর, কোটালিপাড়া, বাবুগঞ্জ, আগৈলঝাড়া, গৌরনদী ও কালকিনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এমনকি ‘বাংলা’ শব্দের উৎপত্তিও এই অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হয়।

এই উজিরপুরের মাটিতেই জন্ম নিয়েছিলেন বাংলাভাষার প্রথম কবি মীননাথ বা মৎসেন্দ্রনাথ। যদিও তাঁর বসবাসের নির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য নেই, তবে সন্ধ্যা নদীর তীরে ‘যোগীরকান্দা’ নামে একটি গ্রাম রয়েছে, যা লোকমুখে তাঁর স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। মীননাথ ছিলেন একজন যোগী। যোগসাধনা ও কাপড় বুননের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তৎকালীন সমাজে তাঁর অনুসারীরা ‘যোগী সম্প্রদায়’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

এই ঐতিহ্যবাহী জনপদের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে আঞ্চলিক ভাষা ও লোককথার ভাণ্ডার। উজিরপুরের হস্তিশুণ্ড ও কাজিরা—পাশাপাশি দুটি গ্রাম। এই কাজিরা গ্রামের এক বাড়ির নাম মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে ‘ঘইড্যার বাড়ি’ নামে। বাড়িটির বংশনাম ফরাজি হলেও, এলাকাবাসীর কাছে এটি পরিচিত ‘ঘইড্যার বাড়ি’ হিসেবেই। কেন এমন নাম—তা নিয়েই জন্ম নিয়েছে এক লোককথা।

স্থানীয় ভাষায় ‘ঘইড্যা’ বলতে বোঝায় মাটির গোল হাঁড়ি বা ঘটির মতো আকৃতির কিছু। এই এলাকায় মাটির হাঁড়িকে বলা হয় ‘ঘডি’ বা ‘ঘইড্যা’। আবার গোলাকৃতির এক ধরনের কদু বা লাউকেও বলা হয় ‘ঘইড্যা কদু’। এখানেই শেষ নয়—গ্রামীণ জীবনে গরুর গোবর শুকিয়ে যে জ্বালানি তৈরি করা হয়, তাকেও বলা হয় ‘ঘই’, ‘ঘইড্যা’, ‘লইড্যা’ বা ‘মুইড্যা’। নরম গোবর কাঠিতে মেখে বা দলা করে রোদে শুকিয়ে চুলার জ্বালানি বানানো হয়—এই পরিবেশবান্ধব জ্বালানি আজও অনেক গ্রামে ব্যবহৃত হচ্ছে।

লোককথা অনুযায়ী, কাজিরা গ্রামের ওই ফরাজি বাড়ির এক সদস্যের পেট জন্মের পর থেকেই ছিল মাটির ঘটির মতো বড় ও গোল। সেই কারণেই সবাই তাকে ডাকতে শুরু করে ‘ঘইড্যা’ নামে। তার প্রকৃত নাম আজ আর কেউ জানে না। তবে নামটি এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে, পুরো বাড়িটিই হয়ে ওঠে ‘ঘইড্যার বাড়ি’।

ঘইড্যার বাড়ির পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে বিস্তীর্ণ মাঠ রয়েছে, যেখানে তখন যেমন ধান চাষ হতো, এখনও (২০২৬ সালেও) চাষ হচ্ছে। আশপাশের মানুষ সেই জমিকে ডাকত ‘ঘইড্যার ভুঁই’ নামে। এলাকায় প্রচলিত ছিল একটি ছড়া—

“ঘইড্যার বাড়তে যামু না,
পচা তামাক খামু না।
ঘইড্যা গেছে কোলায়,
বাপরে নেছে ঝোলায়।”

এর অর্থ দাঁড়ায়—ঘইড্যার বাড়িতে যাওয়া যাবে না, সেখানে পচা তামাক খেতে হবে না; ঘইড্যা মাঠে গেছে, আর তার বাবাকে ধরে নিয়েছে ‘ঝোলা’ বা কলেরা।

লোকমুখে শোনা যায়, এক সময় ঘইড্যার বাবা কলেরায় মারা যান। তখন ঘইড্যা বাড়িতে না থেকে মাঠে কাজ করছিল। সে যুগে গ্রীষ্মকালে গ্রামে গ্রামে কলেরার প্রাদুর্ভাব হতো, ওষুধের অভাবে বহু মানুষের মৃত্যু ঘটত। হস্তিশুণ্ড-কাজিরা এলাকায় কলেরাকে বলা হতো ‘ঝোলা’। সেই ভয় থেকেই মানুষ বলত—‘ঘইড্যার বাড়তে যামু না’।

আজ ঘইড্যা বেঁচে নেই, তবে তার বংশধররা এখনও ওই এলাকায় বসবাস করছেন। সময় বদলেছে, জীবনযাত্রা আধুনিক হয়েছে, কিন্তু লোককথার ভেতর দিয়ে ‘ঘইড্যা’ আজও উজিরপুরবাসীর স্মৃতিতে বেঁচে আছে—একটি জনপদের ভাষা, সংস্কৃতি আর ইতিহাসের অংশ হয়ে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলার নির্বাচনী মাঠে জামায়াত জোটের ভাঙন: ভোটে আগ্রহ কম

ভোলার দ্বীপজেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের উদ্দীপনা কমেছে। নদী ভাঙন, দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থা এবং জোটভঙ্গের প্রভাব নির্বাচনী মাঠে স্পষ্ট।

ভোলার চরাঞ্চলের মানুষজন, বিশেষ করে মৎস্যজীবী বিবি ফাতেমা, ছোট নৌকায় বসবাস করেও জীবিকার তাগিদে ভোটকে গৌণ মনে করছেন। তিনি বলেন, “কেউ যদি আমাগোরে ডাকে তাইলে ভোট দিতে যামু, নইলে আর গিয়া কি করমু।” জেলার অন্যান্য গ্রামীণ ভোটাররা বলেন, ভোটের আগে আশ্বাস থাকলেও পরবর্তী সময় বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন এক হলে ভোলার অন্তত তিনটি আসনে বিএনপির সঙ্গে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো। তবে জোটভঙ্গের কারণে ভোটের সমীকরণ একপেশে হয়ে গেছে। বিএনপি প্রার্থীরা কিছু আসনে সুবিধা পেতে পারেন। জোট না থাকলেও জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

ভোলার ভোটাররা উন্নয়নমূলক কাজ, নদী ভাঙন প্রতিরোধ, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ এবং গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটাররা প্রার্থীর পরিকল্পনা, উন্নয়ন ইশতেহার এবং ভোটের নিরাপত্তা দেখতে চাইছেন। নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ভোটাররা কেন্দ্রে আসবেন যদি প্রচারণা এবং সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।

ভোলার রাজনৈতিক ইতিহাসেও দেখা গেছে, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন না থাকলে বিএনপি এবং প্রধান দুই দলের প্রার্থী সহজ সুবিধা পেতে পারে। জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে ভোলা-৩ ও ভোলা-৪ আসনে বিশেষ করে মৎস্য ও কৃষি পেশার মানুষ ভোটের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে পরিবেশ অধিদফতরের অভিযান

বরিশালের বানারীপাড়ায় অবস্থিত একটি প্লাস্টিক কারখানায় অভিযান চালিয়ে পরিবেশ অধিদফতর বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন ও কাঁচামাল জব্দ করেছে। অভিযানটি সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান গলি সড়কে পরিচালিত হয়।

পরিবেশ অধিদফতর বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেসার্স জাবের প্লাস্টিক অ্যান্ড প্যাকেজিং কারখানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পলিথিন তৈরির ৩ হাজার কেজি কাঁচামাল (পিপিই দানা) এবং ৭২০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় কোনো ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

কারখানার মালিক মো. জিয়া মুঠোফোনে দাবি করেছেন, কারখানায় কোনো নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরি হচ্ছিল না। তিনি বলেন, “আমাদের কারখানায় শুধুমাত্র অনুমোদিত প্লাস্টিক পণ্য তৈরি করা হয়।”

পরিবেশ অধিদফতর জানান, এই ধরনের অভিযান পরিবেশ রক্ষায় এবং নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার বন্ধে নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে নদীপথে ঢুকছে অবৈধ অস্ত্র

নির্বাচনের আগে আতঙ্কে নগরবাসী

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, বরিশালে ততই বাড়ছে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি। আধিপত্য বিস্তার, মাদক কারবার ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় প্রকাশ্যে এসব অস্ত্রের ব্যবহার নগরজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে আতঙ্ক। দিন-রাত যেকোনো সময় অস্ত্র প্রদর্শন ও গুলির শব্দে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ ভেঙে পড়ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সড়কের পাশাপাশি বরিশালের নৌপথ ব্যবহার করেই মূলত নগরে ঢুকছে এসব অবৈধ অস্ত্র।

চলতি মাসের ৫ তারিখে নগরের বিসিক এলাকার একটি ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তি একটি পুরোনো স্টিলের আলমারি মেরামতের জন্য আকবর নামে এক কারিগরের কাছে দেন। মেরামতের সময় আলমারির ভেতর থেকে সাত রাউন্ড গুলি বেরিয়ে আসে। পরে আকবর গুলিগুলো কাউনিয়া থানা পুলিশের কাছে জমা দেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় পুলিশ জাকিরকে আটক করে।

এর আগেও অস্ত্রের প্রকাশ্য ব্যবহার দেখা গেছে নগরীতে। গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে বরিশাল মহানগরের রিফিউজি কলোনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়, যা এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, এলাকাভিত্তিক দুটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও ছিনতাইয়ের সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে। নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে তারা প্রায়ই অস্ত্রের মহড়া দেয়। মাঝেমধ্যে পুলিশ অভিযান চালালেও কার্যকর ফল দেখা যায় না বলে অভিযোগ তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশালে অন্তত ১০টি স্থানে নৌপথে অস্ত্র সরবরাহ হচ্ছে। নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নগরের কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী রসুলপুর, মোহাম্মদপুর ও পলাশপুর এলাকায় এসব অস্ত্র মজুত করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা রিপন জানান, রাতের শেষ প্রহরে লবণবোঝাই ও মাছের ট্রলারে করে পিস্তল, দা ও মাদক আনা হয়। পরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সেগুলো মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। বেলতলা খেয়াঘাট এলাকার ষাটোর্ধ্ব হারিছ উদ্দিন বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নদীর তীর ধরে মাদক কেনাবেচার পাশাপাশি সন্দেহজনক ট্রলারের আনাগোনা চোখে পড়ে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল মহানগরের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, “৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের বড় একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। প্রতিটি নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকে। কিন্তু এবারের নির্বাচনের আগ মুহূর্তে সেই তৎপরতা চোখে পড়ছে না, যা ভোটের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”

তবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মহানগর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, “বরিশালের কোনো থানায় অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটেনি। মহানগরীর চার থানা এলাকায় যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলায় আমরা সর্বদা তৎপর রয়েছি।”

তবুও স্থানীয়দের আশঙ্কা—নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ বন্ধ না হলে নগরীর শান্ত পরিবেশ ব্যাহত হবে এবং ভোটের মাঠে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়বে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অনিরাপদ উপকূলে অস্তিত্ব সংকটে অতিথি পাখি

ভোলার চরাঞ্চলে থমকে যাচ্ছে শীতের কলকাকলি

শীত এলেই ভোলার উপকূলীয় চরাঞ্চল হয়ে উঠত রঙিন ও প্রাণবন্ত। দিগন্তজোড়া জলরাশিতে হাজার হাজার অতিথি পাখির উড়াউড়ি, দলবেঁধে খাবার খোঁজা আর কিচিরমিচির শব্দে মুখর থাকত চর কুকরী মুকরী, ঢালচর, মনপুরাসহ বিস্তীর্ণ উপকূল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন সেখানে শোনা যায় যান্ত্রিক নৌযানের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের চাপ। ফলে পরিযায়ী পাখিদের জন্য ভোলার চরাঞ্চল দিন দিন হয়ে উঠছে অনিরাপদ।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় চর কুকরী মুকরী, চর শাহজালাল, চর শাজাহান, চর পিয়াল, আইলউদ্দিন চর, চরনিজাম, দমার চর, ডেগরারচরসহ মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মধ্যবর্তী প্রায় অর্ধশত নতুন চর ছিল পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সুদূর সাইবেরিয়া ও হিমালয় অঞ্চল থেকে আসা অতিথি পাখির কলতানে মুখর থাকত সাগরকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা।

কিন্তু মানুষের বসতি স্থাপন, কৃষি আবাদ বৃদ্ধি, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, চরগুলোকে গোচারণভূমি হিসেবে ব্যবহার এবং দিনরাত যান্ত্রিক নৌযানের শব্দদূষণে সেই শান্ত পরিবেশ আজ স্তব্ধপ্রায়। চর কুকরী মুকরির বাসিন্দা নিয়ামুল মাঝি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজান খানের মতে, মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপে পাখিরা এখন আর আগের মতো এসব চরে ভিড়ছে না।

সম্প্রতি বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের রিসার্চ কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়াম ইউ. চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল ১১ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও পটুয়াখালীর ৫৩টি চরে পাখি শুমারি পরিচালনা করে। জরিপে উপকূলীয় মেঘনা মোহনায় ৬৩ প্রজাতির মোট ৪৭ হাজার ১৫৭টি জলপাখির অস্তিত্ব নথিভুক্ত করা হয়।

শুমারিতে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ইউরেশিয়ান উইজিয়ন (৬,০১২টি), ব্ল্যাক-টেইলড গডউইট (৪,৪৩৪টি) এবং লেসার স্যান্ড প্লোভার (৩,৯৬২টি)। মনপুরার কাছে চর আতাউর, ভাসান চরের পাশে জৈজ্জার চর ও আন্ডার চরে পাখির ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি ছিল। চর আতাউরে ৬,৪৭৯টি, জৈজ্জার চরে ৫,৮১৪টি এবং আন্ডার চরে ৪,৯৮৭টি পাখি রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে এই পরিসংখ্যানের আড়ালে লুকিয়ে আছে উদ্বেগজনক চিত্র। শুমারি দলের সদস্য এম এ মুহিত জানান, একসময় ভোলার উপকূলে বার-হেডেড গুজ বা রাজহাঁস হাজারেরও বেশি দেখা যেত, এ বছর তা নেমে এসেছে মাত্র ২০–২৫টিতে। খয়রা চখাচখি, গাঙচষা, লেনজা হাঁস, ইউরেশিয়ান টিল, গ্যাডওয়ালসহ বহু প্রজাতির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। এমনকি আগে শত শত দেখা যেত এমন হাড়গিলা পাখির একটি নমুনাও এবার পাওয়া যায়নি।

শুমারি দলের আরেক সদস্য নাজিম উদ্দিন প্রিন্স বলেন, পাখি শিকারিদের উপদ্রবের পাশাপাশি নতুন হুমকি হিসেবে যুক্ত হয়েছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে তরমুজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ। এতে পাখিদের বিচরণভূমি সংকুচিত হচ্ছে। প্রায় ৫০০ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিয়ে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে শিগগিরই বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফা-তু-জো খালেক মিলা জানান, জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত কাদাজলের চরগুলো পরিযায়ী পাখিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মানুষের অবাধ যাতায়াত ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় পাখিরা ভীত হয়ে এলাকা ছাড়ছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এসব চরাঞ্চলে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় চরাঞ্চল রক্ষা না করা গেলে শুধু অতিথি পাখিই নয়, হারাবে প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভোলার শীতকাল আর কখনোই আগের মতো কলকাকলিতে ভরে উঠবে না।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ব্যারিস্টার ফুয়াদের নির্বাচনী তহবিলে ইনকিলাব মঞ্চের আর্থিক সহায়তা

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও দশ দলীয় জোটের বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের নির্বাচনী তহবিলে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ ও ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার।

ঢাকায় সন্ত্রাসী গুলিতে শহীদ ওসমান হাদির প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে এই সহায়তা প্রদান করা হয়। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীতে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের নেতৃত্বে ব্যারিস্টার ফুয়াদের হাতে এই অনুদান তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার রাত ৯টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন,
“ইনকিলাব পরিবারের ইনকিলাব মঞ্চ ও ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের পক্ষ থেকে শহীদ ওসমান হাদির বিশ্বস্ত সহযোদ্ধারা আমার নির্বাচনী তহবিলে অনুদান দিতে এসেছিলেন।”

তিনি আরও লেখেন, টাকার পরিমাণ যাই হোক না কেন, এর গুরুত্ব ‘হিমালয়ের মতো’। তবে কত টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

পোস্টে তিনি দোয়া করে বলেন,
“আল্লাহ তায়ালা যেন সবাইকে ইনসাফ ও আজাদির সংগ্রাম অব্যাহত রাখার তৌফিক দান করেন।”

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সহায়তাকে ব্যারিস্টার ফুয়াদের প্রতি সমর্থনের একটি শক্ত বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পটুয়াখালী-৪ এ চমক: জামায়াত জোটের প্রার্থী সাবেক আ.লীগ উপদেষ্টা!

রাজনীতিতে দল বদল নতুন নয়। তবে কখনো কখনো সেই পরিবর্তন এতটাই দ্রুত ও জটিল হয়ে ওঠে যে, প্রশ্ন ওঠে রাজনৈতিক পরিচয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই। পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে ঠিক এমনই এক বিতর্কের কেন্দ্রে এখন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ।

খেলাফত মজলিসের মনোনয়নে জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামা ডা. জহির একসময় রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই সময়েই তাঁর নাম যুক্ত হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে। যদিও বর্তমানে তিনি দাবি করছেন—তিনি কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে থাকা ভিডিও, ছবি ও একাধিক সূত্র বলছে ভিন্ন কথা।

১৯ ভোটে উত্থান, রাজনীতিতে দৃশ্যমানতা

২০১৯ সালের পঞ্চম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দোয়াতকলম প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনকে মাত্র ১৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন ডা. জহির উদ্দিন। ওই জয়ের পরই স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘প্রভাবশালী স্বতন্ত্র’ হিসেবে।

২০২৪ সালের ষষ্ঠ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন। নির্বাচন চলাকালেই ৩ মে তাঁকে রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনীত করার ঘোষণা আসে। এর কিছুদিন পর তিনি নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

ঘোষণা, ছবি ও ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, তৎকালীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মহিব্বুর রহমান মহিবের নির্দেশে ডা. জহিরকে উপদেষ্টা করার লিখিত ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই তিনি নিয়মিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন শীর্ষ নেতা বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তাঁর আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ছবি ও ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেনের সঙ্গে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগের একান্ত বৈঠকের ছবিও তখন আলোচনায় আসে। তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী মহিবের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।

৫ আগস্টের পর নতুন রাজনৈতিক ঠিকানা

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ডা. জহির প্রথমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দেন। কিছুদিনের মধ্যেই দলটি ছাড়িয়ে যুক্ত হন খেলাফত মজলিসে। বর্তমানে তিনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে পটুয়াখালী-৪ আসনে ‘দেয়ালঘড়ি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জোট সূত্র জানায়, এই আসনে আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের নাম আলোচনায় ছিল। দলটি জোট থেকে সরে যাওয়ার পর স্থানীয়ভাবে পরিচিত মুখ হিসেবে ডা. জহির উদ্দিনকেই চূড়ান্ত করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

সব অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন,
“আমি কখনো আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান ছিলাম না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই চেয়ারম্যান হয়েছি। এমপি কখনো দলের পদ দিতে পারে না। জেলা কমিটি বা কাউন্সিল ছাড়া কোনো পদ বৈধ নয়। আমি কখনো সম্মতি দিইনি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।”

জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান বলেন,
“জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আবদুল কাইউম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ডা. জহির উদ্দিন আহমেদই এখন পটুয়াখালী-৪ আসনে জোটের প্রার্থী। আমরা তাঁকে পূর্ণ সহযোগিতা করব।”

পটুয়াখালীর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, চারটি আসনে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে বুধবার প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫