বিষখালী নদীতে ভয়াবহ ভাঙন : বিলীন হচ্ছে মানকি, সুন্দর ও বাদুরতলা গ্রাম

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বিষখালী নদীর ভাঙন। হঠাৎ করে শুরু হওয়া এই ভাঙনে প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে মানকি, সুন্দর ও বাদুরতলা গ্রামের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি এবং স্মৃতিবিজড়িত ভিটেমাটি। নদীর গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের জীবনের সব চিহ্ন, অথচ এখনো কার্যকর কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঠবাড়ি ইউনিয়নের সুন্দর গ্রামটি এখন প্রায় পুরোপুরি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। একসময় ঘরবাড়ি, ফসলের জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিয়ে সমৃদ্ধ এই গ্রামটি আজ কেবল একটি বাড়ি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। নাপিতেরহাট ফকিরবাড়ি এলাকার বহু মানুষ ইতোমধ্যে গৃহহীন হয়ে আত্মীয়ের বাড়ি বা অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

নদীর প্রবল স্রোতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে। গত কয়েকদিনে মানকি, সুন্দর ও বাদুরতলা গ্রামে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ—যে কোনো মুহূর্তে বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার শঙ্কায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনকে বারবার জানালেও এখনো জিও ব্যাগ ফেলা বা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই অঞ্চলের পুরো গ্রামই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের কেউ কেউ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “নদীভাঙনে জমি-ঘর সব গেছে, এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব জানি না। যদি সরকার দ্রুত কিছু না করে, তাহলে হয়তো আগামী বর্ষার আগেই পুরো মানকি গ্রাম নদীতে তলিয়ে যাবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল এবং পরিবেশবিদরা বলছেন, এখনই জরুরি ভিত্তিতে নদী রক্ষা প্রকল্প হাতে না নিলে রাজাপুর উপজেলার এই জনবসতিগুলো চিরতরে বিষখালীর গর্ভে বিলীন হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আলিম পরীক্ষায় আবারও রোল মডেল ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা

মাদরাসা শিক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী এনএস কামিল (নেছারাবাদ) মাদরাসা। এবারের আলিম পরীক্ষায়ও দারুণ ফলাফল করে প্রতিষ্ঠানটি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০২৫ সালের আলিম পরীক্ষায় বিজ্ঞান ও সাধারণ বিভাগ মিলিয়ে মোট ২৬৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৬২ জন পাস করেছে, যা পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। সফল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০৭ জন জিপিএ-৫ এবং ১০৩ জন এ গ্রেড অর্জন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বলেন, “শিক্ষার্থীদের একাগ্র পরিশ্রম, শিক্ষক মণ্ডলীর নিবেদন এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ফলাফলে এ ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা দীর্ঘদিন ধরে জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাতি ধরে রেখেছে। প্রতি বছর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের সঙ্গে স্থান অর্জন করে আসছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




আলিম পরীক্ষায় আবারও রোল মডেল ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা

মাদরাসা শিক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী এনএস কামিল (নেছারাবাদ) মাদরাসা। এবারের আলিম পরীক্ষায়ও দারুণ ফলাফল করে প্রতিষ্ঠানটি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০২৫ সালের আলিম পরীক্ষায় বিজ্ঞান ও সাধারণ বিভাগ মিলিয়ে মোট ২৬৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৬২ জন পাস করেছে, যা পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। সফল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০৭ জন জিপিএ-৫ এবং ১০৩ জন এ গ্রেড অর্জন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বলেন, “শিক্ষার্থীদের একাগ্র পরিশ্রম, শিক্ষক মণ্ডলীর নিবেদন এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ফলাফলে এ ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা দীর্ঘদিন ধরে জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাতি ধরে রেখেছে। প্রতি বছর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের সঙ্গে স্থান অর্জন করে আসছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




পুলিশের তৎপরতায় হারানো পাসপোর্ট-ভিসা ফিরে পেলেন কানাডিয়ান নাগরিক

দ্রুত পদক্ষেপ ও তৎপরতায় হারানো পাসপোর্ট-ভিসা উদ্ধার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ। ফলে স্বস্তি ফিরেছে বরিশাল ভ্রমণে আসা কানাডিয়ান নাগরিক কিম্বারলি জিন ও’শ্যগনেসির মনে।

ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কিম্বারলি জিন ও’শ্যগনেসি বরিশাল নগরীর ফলপট্রি এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এসময় অজ্ঞাতপরিচয় চোরচক্র তার পেছনের ব্যাগ থেকে একটি আইফোন, পাসপোর্ট ও ভিসা চুরি করে নিয়ে যায়।

পরে সঙ্গে থাকা স্থানীয় দোভাষী রাসেদুল হাসান খান বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় বিষয়টি জানান এবং একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং–৯৪১) করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ চুরি হওয়া সামগ্রী উদ্ধারে দ্রুত অভিযান শুরু করে। একাধিক জায়গায় তল্লাশি ও কৌশলগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে পাসপোর্ট ও ভিসা উদ্ধার করা হয়। তবে চুরি হওয়া আইফোনটি এখনো উদ্ধার করা যায়নি, সেটির খোঁজে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উদ্ধারকৃত পাসপোর্ট ও ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে ভুক্তভোগী কিম্বারলি জিন ও’শ্যগনেসির হাতে তুলে দেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই সাইদুল ইসলামসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।

ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘চুরির ঘটনায় আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। বিদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সবসময় সতর্ক ও দায়িত্বশীল।’

তিনি আরও বলেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের টিম চোরচক্রকে শনাক্ত করে চুরি হওয়া সামগ্রী উদ্ধার করেছে। আইফোন উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

ভুক্তভোগী কিম্বারলি জিন ও’শ্যগনেসি বলেন, ‘আমি সত্যিই অভিভূত! পাসপোর্ট ও ভিসা ফিরে পাবো, এটা ভাবিনি। বরিশাল পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতায় আমি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে এএসআই সাইদুল ইসলাম ও তাঁর টিমকে ধন্যবাদ জানাই।’

পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




এইচএসসিতে বোর্ডে সেরা বরিশাল জেলা

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হারে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে বরিশাল জেলা। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী।

তিনি জানান, এ বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সার্বিক ফলাফল সন্তোষজনক হলেও গত বছরের তুলনায় পাসের হার কিছুটা কমেছে। তবে নিয়মিত পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরাই ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। গড় পাসের হারে বরিশাল জেলা শীর্ষে রয়েছে ৬৮ দশমিক ১৬ শতাংশ নিয়ে।

এরপর দ্বিতীয় স্থানে পিরোজপুর জেলা, যেখানে পাসের হার ৬৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে ভোলা জেলা ৬২ দশমিক ৯৮ শতাংশ, চতুর্থ স্থানে ঝালকাঠি ৫৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ, পঞ্চম স্থানে পটুয়াখালী ৫৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং ষষ্ঠ স্থানে বরগুনা জেলা ৫১ দশমিক ৭৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে রয়েছে।

চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী বলেন, “ফলাফল তুলনামূলক কম হলেও এ বছর যেসব শিক্ষার্থী নিয়মিত অধ্যয়ন করেছে তারা প্রত্যাশিত ফল পেয়েছে। জেলা পর্যায়ে বরিশালের শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”

এবার বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগ থেকে ৮০৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, মানবিক বিভাগে ৭৭৭ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯১ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পটুয়াখালীর এক কলেজে চার শিক্ষার্থী, পরীক্ষায় অংশ নিল দুজন কেউ পাস করেনি

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর সাবিনা আক্তার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় চরম দুরবস্থা দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট শিক্ষার্থী ছিল চারজন, কিন্তু পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মাত্র দুজন। আরও হতাশার বিষয়, এদের কেউই পাস করতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে দেখা যায়, কলেজটির এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কেউ সফলতা অর্জন করতে পারেনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফল স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

প্রধান শিক্ষক এস. এম. আবু তালেব বলেন, “আমাদের কলেজ নতুন, শিক্ষক সংকট রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বর্তমানে একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক আছেন। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনা না করায় এমন ফলাফল এসেছে। তবে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ পেলে আগামীতে পরিস্থিতি উন্নত হবে।”

এদিকে ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সার্বিক ফলাফলে দেখা গেছে, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ কম।

প্রকাশিত তথ্যে আরও জানা যায়, এ বছর সারা দেশে ২০২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজনও শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, যেখানে গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৬৫টি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ: পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ, ছাত্রীদের সাফল্য বেশি

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় একযোগে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের ফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর গড় পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ কম

২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন। সারাদেশের ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

📊 বোর্ডভিত্তিক অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা:

  • ঢাকা: ২ লাখ ৯১ হাজার ২৪১ জন
  • রাজশাহী: ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৪২ জন
  • কুমিল্লা: ১ লাখ ১ হাজার ৭৫০ জন
  • যশোর: ১ লাখ ১৬ হাজার ৩১৭ জন
  • চট্টগ্রাম: ১ লাখ ৩৫ জন
  • বরিশাল: ৬১ হাজার ২৫ জন
  • সিলেট: ৬৯ হাজার ৬৮৩ জন
  • দিনাজপুর: ১ লাখ ৩ হাজার ৮৩২ জন
  • ময়মনসিংহ: ৭৮ হাজার ২৭৩ জন
  • মাদরাসা (আলিম): ৮৬ হাজার ১০২ জন
  • কারিগরি (ভোকেশনাল/বিএম): ১ লাখ ৯ হাজার ৬১১ জন

🧕 ছাত্রীরা এগিয়ে:

এইচএসসি ও সমমানের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছাত্রীদের পাসের হার ৬৩ শতাংশ, আর ছাত্রদের পাসের হার ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে ছাত্রীরা প্রায় ৮ শতাংশ এগিয়ে।
মোট ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে, যার মধ্যে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬ জন ছাত্রী এবং ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৪ জন ছাত্র।

🏆 জিপিএ-৫ প্রাপ্তি:

মোট ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রী ৩৭ হাজার ৪৪ জন, আর ছাত্র ৩২ হাজার ৫৩ জন।

📉 শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠান:

এবারের পরীক্ষায় দেশের ২০২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছে।
গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৬৫টি। অর্থাৎ এবার শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা তিনগুণ বেড়েছে।

📚 আলিম ও কারিগরি বোর্ড:

  • আলিমে পাসের হার: ৭৫.৬১%
    জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ২৬৮ জন।
  • কারিগরিতে পাসের হার: ৬২.৬৭%
    জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৬১০ জন।

🕓 পুনঃনিরীক্ষণ আবেদন:

ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা যাবে ১৭ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত।
আবেদন করতে হবে ওয়েবসাইটে:
🔗 https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd

🌐 ফলাফল দেখার নিয়ম:

শিক্ষার্থীরা ফলাফল দেখতে পারবে:
🔗 www.educationboardresults.gov.bd
অথবা মোবাইল থেকে 16222 নম্বরে SMS পাঠিয়ে।


মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




”জুলাই সনদ স্বাক্ষর” উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে : প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষর করলেই কাজ শেষ নয়, বরং এটাকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে হবে। নির্বাচনের সঙ্গেই জুলাই সনদ গভীরভাবে জড়িত। এই সনদের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জুলাই সনদে স্বাক্ষর হবে। তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য যা যা করার প্রয়োজন, সরকার সব ব্যবস্থা নেবে।

বৈঠকে অংশ নেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি (রব), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার মূখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।




ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন, কোনো ছাড় নয় — প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে, এবং এর সময়সূচি বা পদ্ধতি নিয়ে কোনো আপস করা হবে না বলে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে, এবং সেই নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।”

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি (রব), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি।

ড. ইউনূস বলেন, “আপনারা সবাই মিলে জাতীয় সনদ তৈরি করেছেন, এখন সরকারের দায়িত্ব উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন করা। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়েই আমরা এগোবো—এর সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ করা হবে না।”

তিনি আরও জানান, “উৎসবমুখরভাবে ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষর হবে। জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তবে এখানেই কাজের সমাপ্তি নয়, বরং এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আমরা চাই এই সনদটি শুধু দলিল হিসেবে নয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থায় স্থায়ীভাবে প্রভাব ফেলুক।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই সনদে যে ঐক্যমত তৈরি হয়েছে তা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। আপনারা অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। এই ঐকমত্য জাতিকে এক নতুন দিগন্তে নিয়ে গেছে।”

তিনি আরও জানান, এই সনদ ও আলোচনাগুলো যাতে হারিয়ে না যায়, সেজন্য তা বই, ভিডিও এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। “আমাদের দায়িত্ব এটি জনগণের ভাষায় প্রচার করা, যাতে সবাই বুঝতে পারে কেন আমরা একমত হয়েছি,” যোগ করেন ড. ইউনূস।

তার ভাষায়, “আজকে যেই পয়েন্টে আমরা এসে দাঁড়িয়েছি, তা ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এটা শুধু একটি রাজনৈতিক অর্জন নয়, বরং জাতি হিসেবে আমাদের গৌরবের বিষয়।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রশাসনের নীরবতায় হারাচ্ছে ভোলার ঐতিহ্যবাহী জলাশয়

ভোলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত দুই শতাধিক বছরের পুরোনো বাংলা স্কুল পুকুর আজ দখলদারদের কবলে। ঐতিহ্যবাহী এই জলাশয়টি একসময় ছিল শহরের সৌন্দর্য ও সংস্কৃতির প্রতীক, কিন্তু এখন সেটি পরিণত হয়েছে কংক্রিটের জঙ্গলে। গত দুই দশক ধরে নাগরিক সমাজের আন্দোলন ও অভিযোগের পরও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে পুকুরটি।

সর্বশেষ গত বছরের ৫ আগস্টের পরও বেআইনিভাবে পুকুরের তীর ভরাট করে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এই পুকুরের পানি শহরের মানুষ দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করেন এবং অগ্নিকাণ্ডের সময় এখান থেকেই পানি সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু অবৈধ দখল ও ভরাটের ফলে জলাশয়টি এখন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে।

ভোলা পৌর ভূমি কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে চরজংলা মৌজার ১৬৪ নম্বর খতিয়ানে পুকুরটির আয়তন ছিল ১ একর ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ৭০ শতাংশে। অর্থাৎ গত কয়েক দশকে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জায়গা হারিয়ে গেছে দখল ও ভরাটের কারণে।

স্থানীয়রা জানান, ২০০১ সালে ‘আমেনা প্লাজা’ নির্মাণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দখলের ইতিহাস। এরপর বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় পুকুর ঘিরে গড়ে ওঠে শিক্ষক সমিতির কার্যালয়, স্কাউটস ভবন, আওয়ামী লীগ কার্যালয়, চেম্বার অব কমার্স, আমেনা প্লাজা, গোলদার প্লাজা ও আরও অনেক স্থাপনা। এর বেশিরভাগই নির্মিত হয়েছে পুকুরের তীর দখল করে।

বাংলা স্কুলের সাবেক ছাত্র মো. মশিউর রহমান বলেন, “এই পুকুর শুধু একটি জলাশয় নয়, ভোলার সংস্কৃতি, স্মৃতি আর শৈশবের প্রতীক। প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় তা হারিয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে।”

ভোলা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব এস. এম. বাহাউদ্দিন বলেন, “২০০৪ সাল থেকে আন্দোলন করছি। মানববন্ধন, স্মারকলিপি, সংবাদ সম্মেলন—সবই করেছি। কিন্তু প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।”

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মো. মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী বলেন, “এখনই উদ্যোগ না নিলে পুকুরটি মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে।”

পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলেছেন, গত ৩০ বছরে ভোলা শহরের শতাধিক পুকুর ভরাট হয়ে গেছে। এখন মাত্র তিনটি সরকারি পুকুর টিকে আছে—বাংলা স্কুল, জেলা পরিষদ ও সরকারি স্কুল পুকুর। এগুলোও রক্ষা না পেলে শহরে জলাবদ্ধতা, পানির সংকট ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়বে।

ভোলার জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান বলেন, “সরকারি জলাশয় দখল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে এসি ল্যান্ড ও ইউএনওকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পুকুরটি দখলমুক্ত করা হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫