শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে খোলা জায়গায় প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল জানান, দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে, তবে দৃঢ় প্রচেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে ৮ নম্বর গেইটের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট কাজ করেছে। এতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে দুজন ফায়ার ফাইটার এবং আনসারের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, “বাতাসের কারণে আগুন নেভাতে সময় লেগেছে, এখন আগুন ছড়িয়ে পড়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। আমরা শুধু নির্বাপণ কাজ করছি।”

মহাপরিচালক আরও জানান, আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কার্গো এলাকার কোনো অংশ থেকে আগুনের উৎপত্তি হয়, যা পরে বাতাসের কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলটি প্রায় ৪০০ গজ বাই ৪০০ গজের বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। রাত ৯টা ১৮ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডের পরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্তে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) মো. নওসাদ হোসেনের স্বাক্ষরিত আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আগুন লাগার কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশ দেবে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, প্রচণ্ড বাতাস ও দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। তবে দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় কোনো বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনার পর থেকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং কার্গো কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় এমন অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দেশজুড়ে অগ্নিকাণ্ডে উদ্বেগ: জনগণকে আশ্বস্ত করল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার

দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনগণের উদ্বেগের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো নিয়ে জনগণের উদ্বেগের বিষয়টি সরকার অবগত। এসব ঘটনায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে এবং জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, নাশকতা বা উস্কানির প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জনজীবন বা রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে অস্থিতিশীল করার কোনো প্রচেষ্টাই বরদাস্ত করা হবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যদি এসব অগ্নিকাণ্ডের পেছনে উদ্দেশ্য থাকে ভয় সৃষ্টি বা বিভাজন ঘটানো, তবে তারা সফল হবে কেবল তখনই, যখন জনগণ নিজেরাই ভয়কে বিবেক ও ঐক্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আশা প্রকাশ করে যে, বাংলাদেশের জনগণ অতীতের মতোই ঐক্য, ধৈর্য ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে যেকোনো সংকট মোকাবিলা করবে। বিবৃতিতে শেষে বলা হয়, “আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই, বরং ভয়কেই ভয় করতে হবে।”


আল-আমিন



জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আশঙ্কা: সারজিস আলম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দাবি দীর্ঘদিন উপেক্ষিত হতে থাকলে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি মনে করেন, জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের দায়সারা মনোভাব একদিন এই দেশের ইতিহাস থেকে আন্দোলনের সত্যতাকেও মুছে ফেলতে পারে।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের টুনিরহাট শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত টুনিরহাট জুনিয়র ফুটবল একাডেমি আয়োজিত গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারজিস আলম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “যেভাবে জুলাই সনদকে গুরুত্বহীন করে ফেলা হচ্ছে, তাতে আশঙ্কা করছি — একসময় দেখা যাবে, অভ্যুত্থানটাই যেন ইতিহাসে আর নেই। পরে হয়তো দেখা যাবে, যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হচ্ছে, বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।”

এনসিপি নেতা আরও বলেন, “আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করিনি কারণ আমাদের অন্যতম দাবি ছিল সনদটির আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করা। কিন্তু সরকার সেই দাবিকে আমলে নেয়নি। এখন দেখা যাচ্ছে, সনদ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানটি পরিণত হয়েছে একটি রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায়, যেখানে আন্দোলনের মূল নায়কেরা—জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা—পেছনের সারিতেই থেকেছেন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই দায়সারা মনোভাব আমাদেরকে হতাশ করেছে। তারা শুধু স্বাক্ষর করাকে লক্ষ্য বানিয়েছে, বাস্তবায়নের কোনো নিশ্চয়তা রাখেনি। এতে ভবিষ্যতে ইতিহাস বিকৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধের মতোই নতুন করে আন্দোলনের ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।”

সারজিস আলম বলেন, “যদি এইভাবে ইতিহাসের সঙ্গে ছলচাতুরি করা হয়, তাহলে আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে, তারাও একই পথ অনুসরণ করবে। আমাদের সেই জায়গাটা এখনই স্পষ্ট করা দরকার—যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে না পারে।”

এ সময় তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যেন আন্দোলনের ইতিহাস ও বীর যোদ্ধাদের ত্যাগ কখনোই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজকের জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নতুন বাংলাদেশের সূচনা: প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত ”জুলাই জাতীয় সনদ ” স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হলো।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজকের দিন আমাদের জন্য এক নবজন্ম। এই স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করলাম।” তিনি একই সঙ্গে সকল রাজনৈতিক দলকে ধন্যবাদ জানান যারা সনদে স্বাক্ষর করেছেন এবং দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহ প্রদান করেছেন।

জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও যোগ দেন এবং সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ঐক্য ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার প্রতি তাদের সমর্থন জানায়।

তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শেষ মুহূর্তে স্বাক্ষর থেকে সরে আসে। তারা জানিয়েছে, আইনি ভিত্তি ও সাংবিধানিক নিশ্চয়তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তারা সনদে স্বাক্ষর করবে না।




শিক্ষকদের দাবি না মানলে রোববার যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার চিন্তা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তিন দফা দাবিতে টানা আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে  কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা জানিয়েছেন,  দাবি না মানলে আগামী রোববার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা করার চিন্তা রয়েছে তাদের।

শুক্রবার সকাল থেকেই শিক্ষকরা সেখানে জড়ো হওয়া শুরু করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে একটি সমাবেশ করেন। জুমার পর বৃষ্টির মধ্যেই তারা শহীদ মিনারে অবস্থান নেন।

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন ও শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, আজ আমাদের পরিকল্পনা ছিল অনশন করার, তা আমরা শুরু করেছি। আমরা টিএসসিতে আজ সমাবেশ করেছি। আগামী রোববারে আমাদের পদযাত্রার চিন্তা রয়েছে।




জুলাই সনদের ৫ নম্বর দফায় সংশোধন: শহীদ পরিবার ও আহত বীরদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করবে সরকার

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর অঙ্গীকারনামার ৫ নম্বর দফায় পরিবর্তন আনা হয়েছে জুলাই বীর যোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) জুলাই বীর যোদ্ধা ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে এ সংশোধন করা হয়।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আন্দোলনরত জুলাই বীর যোদ্ধাদের উদ্দেশে এসব তথ্য জানান জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন, “জুলাই বীর যোদ্ধাদের দাবি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সনদের ৫ নম্বর দফায় প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়েছে। এটি এখন আরও স্পষ্ট ও মানবিক।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া, এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ অঙ্গীকারনামার সংশোধিত ৫ নম্বর দফার ভাষ্যটি পাঠ করে শোনান। এতে বলা হয়েছে—

“গণঅভ্যুত্থানপূর্ব বাংলাদেশে ১৬ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার হবে। শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, আহত বীর যোদ্ধাদের মাসিক ভাতা, সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হবে। শহীদ পরিবার ও আহতদের আইনগত দায়মুক্তি, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তাও রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চয়তা পাবে।”

অধ্যাপক রীয়াজ আরও বলেন, “আমরা এই অঙ্গীকারনামা বাস্তবায়নের ব্যাপারে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করব। এই বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও কমিশনের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই।”

এদিকে তথ্য অধিদপ্তরের এক বিবরণীতে জানানো হয়েছে, সংশোধিত সনদের খসড়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবে এবং এর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করবে।

প্রতিবেদক: মো. আল-আমিন
চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই সনদ স্বাক্ষরে প্রস্তুত সরকার, সামান্য বিলম্ব হতে পারে অনুষ্ঠানে

ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরের জন্য সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনুষ্ঠান শুরু হতে কয়েক মিনিট দেরি হতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টে শফিকুল আলম লিখেছেন, “ঐতিহাসিক জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য আমরা প্রস্তুত। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনুষ্ঠানটি কয়েক মিনিট দেরিতে শুরু হতে পারে। তবে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে এবং কিছু অতিথি ইতোমধ্যে ভেন্যুতে এসে পৌঁছেছেন। আমাদের ইতিহাসের নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা দেখার অপেক্ষায় রইলাম।”

আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত এই জুলাই সনদ। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এদিকে সকাল থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখা দেয়। জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ছাত্র-জনতা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আহতদের ‘জুলাই বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেন।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, জুলাই সনদে তাদের স্বীকৃতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তবে তারা অবস্থান বজায় রাখলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সবশেষ পাওয়া তথ্যমতে, স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং অতিথিরা ধীরে ধীরে ভেন্যুতে প্রবেশ করছেন।

প্রতিবেদক: মো. আল-আমিন
চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ছাত্র-জনতার আন্দোলনে কোনো মাস্টারমাইন্ড ছিল না: উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

গত বছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে কোনো ‘প্রধান’ বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তিনি এ মন্তব্য করেন।

এদিন বিকেল ৩টার পর ট্রাইব্যুনালে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজন আসামির বিরুদ্ধে অবশিষ্ট জবানবন্দি প্রদান করেন আসিফ মাহমুদ। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।

শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভির এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ বলেন, “গত বছরের ৫ জুন কোটাপ্রথা পুনর্বহালের রায়ের পর আমরা ৫৮ জন সমন্বয়ক ও সহসমন্বয়ক মিলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলন শুরু করি। এতে কোনো রাজনৈতিক দলের ইন্ধন ছিল না, কোনো প্রধানও ছিল না। সমন্বয়কদের সবার মর্যাদা সমান ছিল।”

যোগাযোগের মাধ্যম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা যোগাযোগের জন্য ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতাম।”

আইনজীবী অভির প্রশ্নে তিনি আরও জানান, “আমিসহ আমাদের অনেকের বিরুদ্ধেই শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছিল।”

এক দফা আন্দোলনের পেছনে বিদেশি কোনো শক্তির সম্পৃক্ততা ছিল কি না—এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, “এক দফা কর্মসূচি ঘোষণার পেছনে কোনো বিদেশি ইন্ধন ছিল না। আমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আন্দোলনের খরচও অংশগ্রহণকারীরাই নিজেদের ফান্ড থেকে বহন করেছেন।”

চানখাঁরপুলে পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনায় নিজের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি তখন ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে ছিলাম।” তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, “এত দূর থেকেও ঘটনাটি স্পষ্ট দেখা সম্ভব ছিল।”

এর আগে ৯ অক্টোবর একই মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পটভূমি এবং চানখাঁরপুলে সংঘটিত নৃশংস ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন। তখন তিনি অভিযোগ করেন, ডিবি পরিচয়ে রাতে তাকে গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল।

সেদিনের জবানবন্দিতে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ সংশ্লিষ্টদের দায়ী করেন বলেও ট্রাইব্যুনালে উল্লেখ করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই সনদে শুক্রবার স্বাক্ষর না করলেও পরে সুযোগ থাকবে: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

‘জাতীয় জুলাই সনদ ২০২৫’-এ শুক্রবার কোনো রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর না করলেও তারা পরবর্তীতেও সনদে স্বাক্ষর করতে পারবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করছি, আগামীকাল শুক্রবার সব রাজনৈতিক দলই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সনদে স্বাক্ষর করবে। মতভিন্নতা থাকলেও ঐক্যের স্বার্থে সবাই এগিয়ে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস।”

তিনি আরও বলেন, “সনদ বাস্তবায়নের জন্য কমিশন সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করবে। আমাদের মেয়াদকালেই সরকার সনদ বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছি।”

অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-কে আইনি ভিত্তি দিতে কমিশন ইতিমধ্যে প্রস্তাব তৈরি করেছে। তাঁর মতে, “এই সনদকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনা জরুরি, যাতে ভবিষ্যৎ সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো তা অনুসরণে বাধ্য থাকে।”

তিনি বলেন, “আগামীকালের অনুষ্ঠানে প্রথমে রাজনৈতিক দলগুলো, পরে কমিশনের সদস্যরা এবং সবশেষে প্রধান উপদেষ্টা অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করবেন। সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকবে।”

এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে এবং বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মরা বলেশ্বরে কচুরিপানার দখল, দূষিত পানি ব্যবহারে চরম দুর্ভোগে ৭ গ্রামের মানুষ

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মরা বলেশ্বর নদ এখন কচুরিপানার দখলে। নদীর পানি ঘন কচুরিপানায় পচে গিয়ে দূষিত হয়ে পড়েছে। ফলে আশপাশের অন্তত সাতটি গ্রামের মানুষ এখন তীব্র দুর্ভোগে ভুগছেন। গৃহস্থালি, কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে কোনো বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে এই দূষিত পানি ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা। এতে চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে মৎস্য অধিদফতরের আওতায় ‘ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রোগ্রাম প্রজেক্ট–২’-এর অধীনে মরা বলেশ্বর নদে গোগে এলাকায় একটি মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়। কিন্তু অভয়াশ্রম হওয়ার পর থেকে নদীতে কচুরিপানা স্থায়ীভাবে জমে থেকে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে নদীর পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে তারাবুনিয়া, বরইবুনিয়া, সামান্তগাতী, চর মাটিভাঙ্গা, চিলমারীর ডাকাতিয়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পুরো নদীজুড়ে কচুরিপানার এমন ঘনত্ব যে কোথাও কোথাও পানি দেখা যায় না। নৌ-চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। নদীর পাড়ে দাঁড়ানোও কঠিন হয়ে পড়েছে দুর্গন্ধ ও মশার উৎপাতের কারণে।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় এই নদীতে স্রোতের তোড়ে চলত স্টিমার, লঞ্চ, ট্রলার ও কার্গো। মানুষ যাতায়াত করত, কৃষিপণ্য পরিবহন হতো সহজেই। কিন্তু এখন নদী মৃতপ্রায়—স্রোত নেই, পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় জোয়ার-ভাটা স্বাভাবিকভাবে ওঠা-নামা করছে না, ফলে সেচ সংকটে পড়েছে হাজারো কৃষক। একসময় ‘সোনার জমি’ হিসেবে পরিচিত ছিল বলেশ্বর তীরের কৃষিজমি—যেখানে ধান, গম, সূর্যমুখী, বাদামসহ নানা ফসল বছরে তিন-চারবার ফলত। কিন্তু এখন সেই জমিগুলোও চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় জেলে নিয়াজ শেখ ও বাশার শেখ বলেন, “অভয়াশ্রমের কারণে নদীতে কেউ নামতে পারে না। ফলে কচুরিপানা জমে থেকে স্থায়ী হয়ে গেছে। অভয়াশ্রমের নামে সরকারি টাকা লুট হয়েছে, এখন কচুরিপানা ও দুর্গন্ধের শিকার আমরা।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইনজামুল হক অনিক জানান, নদীর প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকা কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। “এই পানি ব্যবহার করে চর্মরোগ ছড়াচ্ছে। গভীর নলকূপ কাজ করছে না, ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে এই দূষিত পানি ব্যবহার করছে,” বলেন তিনি।

এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া সাহনাজ তমা বলেন, “মরা বলেশ্বর নদে কচুরিপানার কারণে এলাকাবাসী যে সমস্যায় পড়েছে, তা আমরা অবগত আছি। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার পর দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ ও নদী খননের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।”

স্থানীয়দের দাবি, নদীটি দ্রুত খনন ও কচুরিপানা অপসারণ না হলে শুধু পরিবেশ নয়, জনস্বাস্থ্যও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫