বরিশালে চাঁদাবাজির সময় হাতেনাতে আটক কথিত দুই সাংবাদিক

সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে বরিশালে দুই যুবককে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর বেলস পার্ক এলাকার একটি রেস্টুরেন্ট থেকে স্থানীয় সাংবাদিকদের গঠিত অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধে অ্যাকশন কমিটি তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

আটকরা হলেন — মারুফ ও রাসেল। তাদের মধ্যে মারুফ নিজেকে ঢাকায় প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকার বরিশাল ব্যুরো প্রধান বলে দাবি করেন, আর রাসেল স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমের কর্মী পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি করেন।

ভুক্তভোগী উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মার্টিন সৌরভ চৌধুরী জানান, কয়েকজন যুবক সাংবাদিক পরিচয়ে তার কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে ভয়ভীতি দেখান এবং টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। পরে তারা আলোচনার জন্য বেলস পার্ক এলাকায় দেখা করতে বলেন। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং অসংলগ্ন বক্তব্যের কারণে তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

বরিশাল প্রেস ক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক খান রুবেল বলেন, “বরিশালে অপসাংবাদিকতার নামে প্রতারণা দিন দিন বাড়ছে। এই প্রবণতা রোধে মূলধারার সাংবাদিক সংগঠনগুলো একত্রিত হয়ে অ্যাকশন কমিটি গঠন করেছে।”

অ্যাকশন কমিটির আহ্বানে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেনসহ গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা দুই যুবককে চাঁদাবাজির সময় ধরে পুলিশে দেন।

খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, “সাংবাদিকতা পেশা সেবামূলক। কিন্তু কেউ যদি এই পরিচয়ে চাঁদাবাজি বা প্রতারণা করে, আমরা তার বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেব। বরিশাল থেকে অপসাংবাদিকতার সিন্ডিকেট নির্মূল করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “দুই ভুয়া সাংবাদিককে আটক করে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন প্রকৃত সাংবাদিকরা। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মারুফ ও রাসেলের নেতৃত্বে আরও কয়েকজনের একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বরিশালে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করছিল। পুলিশের তদন্তে সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদেরও খুঁজে বের করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় পালিত জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুবার্ষিকী

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ৭১তম মৃত্যুবার্ষিকী নানা আয়োজনে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে পালন করেছে বরিশালবাসী। বাংলা কবিতায় আধুনিকতার পথিকৃৎ এই কবির স্মৃতিকে স্মরণ করে আজ (বুধবার) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন, কবিতা পাঠ, সংগীত পরিবেশনা ও আলোচনাসভা।

সকালে বরিশাল নগরীর সাহেবের হাট এলাকায় কবির পৈতৃক ভিটায় নির্মিত জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি মিলনায়তন ও পাঠাগারে কবির ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান কবিপ্রেমীরা। পরে সেখানে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, “জীবনানন্দ দাশের কবিতা শুধু প্রকৃতির নয়, মানবমনের অন্তর্গত সৌন্দর্যের অনন্য প্রকাশ।”

পরে বরিশাল কবিতা পরিষদপ্রগতী লেখক সংঘের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় কবি আড্ডা, কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনা।
এছাড়া আগুনমুখা প্রকাশনীর উদ্যোগে ছিল দিনব্যাপী সাহিত্য ভ্রমণ ও কবি আলোচনা সভা।

এদিন উত্তরণ সংস্কৃতি পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন শহরের বিভিন্ন স্থানে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পৃথক কর্মসূচি পালন করে।

আয়োজকরা জানান, নতুন প্রজন্মের মাঝে কবি জীবনানন্দ দাশের চিন্তা, চেতনা ও সাহিত্যকর্ম ছড়িয়ে দিতে এসব আয়োজন অব্যাহত থাকবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাউফলের সাবেক এমপি আ স ম ফিরোজ পরিবারবর্গের বিরুদ্ধে দুদকের তিন মামলা

বাউফল আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, তার স্ত্রী দেলোয়ারা সুলতানা ও ছেলে রায়হান শাকিবের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে পটুয়াখালী দুদকের উপ-পরিচালক তানভীর আহমদ বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন।

দুদক সূত্রে জানা যায়, সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের মোট বৈধ আয় ১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার কিছু বেশি, আর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকা। হিসাব অনুযায়ী বৈধ সঞ্চয় থাকার কথা ছিল ৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকার মতো। কিন্তু তার নামে মোট সম্পদের পরিমাণ পাওয়া যায় প্রায় ১২ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৩ কোটি ২৯ লাখ টাকার উৎস অস্পষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, তার স্ত্রী দেলোয়ারা সুলতানার বৈধ আয় ৬৮ লাখ টাকা হলেও, ব্যয় বাদে বৈধ সঞ্চয়ের তুলনায় ১ কোটি টাকার বেশি সম্পদ অসামঞ্জস্যপূর্ণ পাওয়া গেছে।

এছাড়া, ছেলে রায়হান শাকিবের বৈধ আয় প্রায় ৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা হলেও তার নামে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৯১ লাখ টাকার সম্পদ। এর মধ্যে ৪ কোটি ২১ লাখ টাকার উৎসের সঙ্গে আয় সামঞ্জস্য মেলেনি বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনজনই তাদের বৈধ আয়ের বাইরে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী দুদক কর্মকর্তা তানভীর আহমদ।


আল-আমিন




জাতীয় নির্বাচন ঘিরে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উভয় পক্ষ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসালাহউদ্দিন আহমদ। সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান

বিএনপি নেতারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি জানান, অতীতের বিতর্কিত ও দলীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হোক। তারা বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রশাসনে আস্থা পুনরুদ্ধার অত্যন্ত জরুরি।

এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, প্রশাসনের পদায়ন ও বদলি সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত সরাসরি তার তত্ত্বাবধানে হবে। তিনি বলেন,
“জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হিসেবে আমি নিজে জেলা প্রশাসকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে নজর রাখব। যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতেই কর্মকর্তারা দায়িত্ব পাবেন। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে যা কিছু প্রয়োজন, আমরা তা করব।”

বৈঠকে বিএনপি নেতারা পুলিশের বদলি, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক ভারসাম্য নিয়েও মতামত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থাপনায় ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো অন্তর্ঘাতমূলক কি না, তা তদন্তের আহ্বান জানান।

বৈঠক শেষে জানা যায়, রাজনৈতিক সংলাপের ধারাবাহিকতায় বুধবার (২২ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধারাবাহিক সংলাপ আগামী জাতীয় নির্বাচনে একটি নতুন আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনার মিন্নি কাণ্ডের ‘আধুনিক প্রতিচ্ছবি’ বর্ষা: পুলিশ

ভালোবাসা কখনও বাঁচায়, কখনও কাঁদায়, আবার কখনও মৃত্যুর পথ দেখায়—এটাই ঘটেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জোবায়েদ হোসেনের ক্ষেত্রে। পুলিশ বলছে, “বর্ষা চাইলে হয়তো বাঁচাতে পারতেন জোবায়েদকে।”

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) পুলিশ জানিয়েছে, বর্ষাকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রেম, প্রতারণা ও প্রতিশোধের এক ভয়াবহ গল্প উঠে এসেছে। ঘটনা রিফাত-মিন্নির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিল রয়েছে—স্থান ও নাম ভিন্ন হলেও মূল চিত্র একই। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, “বর্ষা, মাহির ও জোবায়েদের সম্পর্ক যেন পুরোনো মিন্নি-রিফাত কাহিনীর আধুনিক প্রতিচ্ছবি।”

তদন্তের বরাতে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ষা ও জোবায়েদের পরিচয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু একই সময়ে বর্ষা মাহির হোসেনের সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্ক বজায় রাখছিলেন। দুই প্রেমিকই জানতে পারেন বর্ষার দ্বিমুখী সম্পর্কের কথা। এরপর শুরু হয় সন্দেহ, ঝগড়া ও ঈর্ষার শৃঙ্খল।

পুলিশ জানায়, বর্ষার প্ররোচনায় মাহির ও তার বন্ধু আয়লান মিলিতভাবে হত্যার পরিকল্পনা করেন। বর্ষা মাহিরকে বলেন, “জোবায়েদকে না সরালে আমি তোমার কাছে ফিরতে পারব না।”

২৬ সেপ্টেম্বর রাতে বর্ষার কথায় ক্ষুব্ধ মাহির জোবায়েদের সঙ্গে দেখা করতে যান। শুরু হয় বাগ্‌বিতণ্ডা। পরে মাহির ও তার সহযোগীরা নতুন কেনা সুইচ গিয়ার দিয়ে জোবায়েদকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। হামলার পরও বেঁচে ছিলেন জোবায়েদ। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি দোতলা থেকে তৃতীয় তলায় দৌড়ে যান। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন বর্ষা। মুখোমুখি হয়ে জোবায়েদ বলেছিলেন, “বর্ষা, আমাকে বাঁচাও।” বর্ষার জবাব ছিল, “তুমি না মরলে আমি মাহিরের হবো না।” এ কথা বলেই তিনি চলে যান।

পুলিশের ভাষায়, বর্ষা মূল পরিকল্পনাকারী। মাহির ও আয়লান তার কথায় হত্যায় অংশ নেয়। জোবায়েদ বাঁচার জন্য লড়ছিলেন, কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করেনি।

এই ঘটনা প্রেমের জটিল ত্রিভুজের মর্মান্তিক পরিণতি হিসেবে ধরা হচ্ছে, যেখানে এক নারীর দ্বিমুখী সম্পর্ক থেকে জন্ম নিয়েছে হত্যার ট্র্যাজেডি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় মেয়েকে গলা টিপে হত্যা, বাবার ৭ বছরের কারাদণ্ড

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় নিজের মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করার দায়ে মো. ফারুক হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে চরফ্যাশনের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. শওকত হোসাইন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি (এপিপি) মো. হযরত আলী হিরণ।

মামলার বরাতে এপিপি হিরণ জানান, ২০২০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বরিশালে যাওয়ার পথে ফারুক হোসেন ও তার মেয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। রাগের মাথায় ফারুক হোসেন তার ২০ বছর বয়সী কন্যা খাদিজা আক্তার খুকিকে গলা টিপে হত্যা করেন। এরপর তিনি মেয়ের লাশ উপজেলা ফজলুর রহমান সড়কের পাশে অধ্যক্ষ দুলাল মিয়ার বাড়ির পেছনের বিলে ফেলে দেন।

পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে এবং নিহত ব্যক্তিকে ফারুক হোসেনের কন্যা হিসেবে শনাক্ত করে। গ্রেপ্তারের পর ফারুক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

স্থানীয় আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ এই রায়কে ন্যায়সংগত ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হযরত আলী হিরণ জানিয়েছেন, “ন্যায়ের ভিত্তিতেই রায় প্রদান করা হয়েছে।” আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাইনুল ইসলাম নাবিল সরমান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দেশে না থেকেও আনন্দে মাতোয়ারা পরীমনি, জন্মদিন উদযাপন চার দিন আগেই!

চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা পরীমনি প্রতি বছরই জন্মদিন পালন করেন বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে। তবে এবারের জন্মদিনটা একটু অন্যভাবে উদযাপিত হলো—কারণ ২৪ অক্টোবর তার জন্মদিন হলেও এবার তিনি দেশে থাকবেন না। তাই ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে চার দিন আগেই কেক কেটে উদযাপন করেছেন এই নায়িকা।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) পরীমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করে জানান, “২৪ অক্টোবর আমার বার্থ ডে। কিন্তু গতকাল রাতেই সেলিব্রেট করে ফেললো অর্ক, কারণ আমি এবার দেশে থাকছি না।”

পরীমনি জানান, অর্ক তার মেকআপ আর্টিস্ট হলেও এখন পরিবারের সদস্যের মতো ঘনিষ্ঠ। দুজনের বাসাও একই এলাকায়, তাই প্রায়ই তাদের মধ্যে খাবারদাবার ও দেখা-সাক্ষাৎ হয়।

পরী বলেন, “অর্ক আমার ভাইয়ের মতো। ও খুব আহ্লাদি, ছোট ছোট অনেক আবদার থাকে সবসময়। তেমনি এক আবদারে গতকাল রাতে ওর বাসায় যেতে হয়েছিল, গিয়ে দেখি এই চমক!”

অর্কের এমন ভালোবাসা ও যত্নে অভিভূত হয়ে পরীমনি আরও লিখেছেন, “আমি এত খুশি হয়েছি রে অর্ক! আমি চাই সারাজীবন তোদের সঙ্গে আমার আনন্দগুলো ভাগাভাগি করতে। থ্যাংক ইউ ভাই আমার।”

ছবিগুলোতে দেখা যায়, কেক হাতে নিয়ে অর্ক ও পরীমনি হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন। এক ফ্রেমে বাড়ির সিঁড়ি জুড়ে গোলাপের পাপড়িতে দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বসিত পরীমনি, যেন আনন্দের আলোয় ভেসে যাচ্ছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পার করেও পরীমনি সবসময় ইতিবাচক ও প্রাণবন্ত। জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলোতে আনন্দ খুঁজে নিতে জানেন তিনি—আর সেই প্রমাণ মিলল আগাম এই জন্মদিন উদযাপনে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঢাকায় গ্রেপ্তার রফিকের বরিশালের বাড়ি থেকে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার

ঢাকায় মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামির বরিশালের উজিরপুরে গ্রামের বাড়ির তালাবদ্ধ ঘর থেকে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।

সোমবার রাতে উপজেলার দক্ষিণ শোলক গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি রফিক হাওলাদার দক্ষিণ শোলক গ্রামের মৃত মোকসেদ হোসেন তালুকদারের ছেলে। মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে রফিক জানায়, তার গ্রামের বাড়ির ঘরে একটি ট্রাংকের ভেতর পিস্তল লুকিয়ে রাখা আছে।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ ক্যাম্পের সেনা সদস্যরা সোমবার রাতে রফিকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তালাবদ্ধ ঘর খুলে ট্রাংক থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনে থাকা তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি সেনাবাহিনীর হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন উজিরপুর থানার ওসি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বুধবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসছে জামায়াত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আগামীকাল (বুধবার) বৈঠকে বসবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও চলমান ইস্যু নিয়ে সরকারের সঙ্গে সংলাপের অংশ হিসেবেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

জামায়াতে ইসলামীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকাল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিকা ও জাতীয় ঐক্য বিষয়ে মতামত তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় একই স্থানে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের স্থিতিশীলতা ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে প্রধান উপদেষ্টার এ ধারাবাহিক বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অচল সিসিটিভিতে বরিশালের নিরাপত্তা হুমকিতে

বরিশাল নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রধান অবলম্বন হিসেবে স্থাপিত শত শত সিসিটিভি ক্যামেরা বর্তমানে অচল হয়ে পড়েছে। ফলে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ কার্যক্রমে সৃষ্টি হয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ।

গত ১০ বছরে বরিশাল সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে শহরের ৫৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৪১৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রায় সব ক্যামেরাই বিকল হয়ে গেছে। এর মধ্যে ৭০টিরও বেশি ক্যামেরা চুরি হয়েছে—ক্যাবলসহ সম্পূর্ণ ইউনিট উধাও। অথচ কেন এগুলো সংস্কার বা প্রতিস্থাপন করা হয়নি, তা স্পষ্টভাবে জানাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

চাঁদমারি এলাকার বাসিন্দা মমতাজ বেগম বলেন, “রাস্তায় চলাচল করতে এখন ভয় লাগে। সিসিটিভি ক্যামেরা সচল না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সকালে বা সন্ধ্যায় রাস্তায় বের হতে ভয় লাগে।”

সচেতন নাগরিক রফিকুল ইসলাম বলেন, “নগরীর নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে। ক্যামেরা না থাকায় অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায় না, অপরাধীরাও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, “বেশিরভাগ ক্যামেরা দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন ক্যামেরা স্থাপন বা পুরনোগুলো সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নিতে।”

সিটি করপোরেশনের অচল ক্যামেরার ঘাটতি পূরণে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ গত পাঁচ বছরে ২০০টির বেশি স্থানে ২৬০টি নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। তবে নগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এখনও পর্যাপ্ত নজরদারি সম্ভব হয়নি।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে। তবে নগরজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল না হলে অপরাধ দমন কার্যক্রম কার্যকরভাবে চালানো কঠিন হয়ে যাবে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা শুধু অপরাধ দমন নয়, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নগর ব্যবস্থাপনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই দ্রুত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ না করলে নগরীর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫