“দুই গুম ও এক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ”

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দুই গুম ও একটি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনাল গুমের অভিযোগে দায়ের দুটি মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করেছে। এছাড়া, রামপুরায় গত বছরের ১৮ ও ১৯ জুলাই গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার শুনানির জন্য ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আসামিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে আনার পর আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন কোথায় রাখা হবে।” তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে আনার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করেছে এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ করার আহ্বান জানান।

সকালে ৭টা ১৫ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে পুলিশ সদস্যরা তাদের ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নিয়ে যান।

অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, মেজর জেনারেল মোস্তফা সরোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম, কর্নেল মশিউল রহমান জুয়েল, লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহম্মেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, লে. কর্নেল মখচুরুল হক (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার ও কর্নেল কেএম আজাদ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




“আবরাহার নকল কাবা: রাজনীতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার করুণ পরিণতি”

ইসলামের আগমনের পূর্বে আরবের একটি ঘটনাই মুসলমানদের জন্য এক চিরন্তন স্মৃতি। ষষ্ঠ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ইয়েমেনে আবিসিনিয়ার শাসক আবরাহা ‘নতুন কাবা’ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি মক্কার কাবাকে প্রতিস্থাপন করে ইয়েমেনকে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।

আবরাহা সানা শহরে ‘আল-কালিস’ নামে একটি বিশাল গির্জা নির্মাণ করেন। এটি অত্যন্ত বিলাসবহুল ও উঁচু, যা দৃষ্টিনন্দন হলেও আরব উপজাতি ও কুরাইশরা একেবারেই প্রত্যাখ্যান করে। কুরাইশদের একজন যুবক সেখানে প্রবেশ করে গির্জাটিকে অপবিত্র করেন। আবরাহা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মক্কার দিকে বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে অগ্রসর হন।

কোরআনে সূরা ফিল-এ বর্ণিত ঘটনায় দেখা যায়, আল্লাহতায়ালা আবাবিল পাখি পাঠিয়ে সিজ্জিল (পোড়া মাটির পাথর) দিয়ে আবরাহার সেনাকে ধ্বংস করেন। আবরাহা নিজেও আহত হয়ে খাত’আম অঞ্চলে মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনা ঘটেছিল ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে, মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম বর্ষে, যাকে ‘আম আল-ফিল’ বলা হয়।

আজ আবরাহার গৌরবময় উপাসনালয় আর নেই। সানা শহরে এর ধ্বংসাবশেষ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের রূপে সংরক্ষিত। এটি আবরাহার ব্যর্থতার প্রতীক, যেখানে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বিলাসবহুল নির্মাণ কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসকে জয় করতে পারেনি। বিপরীতে, মক্কার কাবা প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমানকে আকর্ষণ করছে, যা সত্যিকারের ইমান ও আল্লাহর সুরক্ষার প্রমাণ।

ঘটনাটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে ধর্মীয় বিশ্বাসকে রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতা বা বিলাসবহুল নির্মাণ দিয়ে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সত্যিকারের ইমান অটুট থাকলেই কোনো শত্রু সফল হতে পারে না।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“সিইসি ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ কোনো চাপের কাছে নত হবেন না”

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের সময় ম্যাজিস্ট্রেটরা কোনো চাপের কাছে নত করবেন না এবং কমিশনও আইন অনুযায়ী কাজ করে বেআইনি নির্দেশনা দেবে না। তিনি মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত নির্বাচন ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থার মূল কারণ আইনের প্রতি অনীহা—এ থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ভূমিকা নেওয়া। তিনি এবং নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও বেআপত্তি সম্পন্ন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রশাসনিক ও ম্যাজিস্ট্রেটিক কর্মকর্তা-ম্যান্ডেটরা যেন কোনো অবৈধতায় জড়াতে না পারেন, সেজন্য কঠোর দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলার প্রতি সতর্ক থাকা, কোনো সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মনোভাব থাকা অপরিহার্য। ভোটগ্রহণকালে ভোট বাক্স দখলের মতো আইনের পরিপন্থী কাজ করা যাবে না এবং কেউ মাঠে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করবেন না—এ ধরনের কোনো অবস্থা মেনে নেওয়া হবে না।

প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসন, নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সিইসি এসব কর্মকর্তাদের কাছে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কমিশন প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বসহকারে নেবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেবে।

এ প্রসঙ্গে কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, সিইসির এই নির্দেশনাগুলো মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং নিরপেক্ষ, ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়নি: আইন উপদেষ্টা”

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়নি। দলটির দাবি ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে।

বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে কাজ করছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গে ড. নজরুল জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনও অনৈক্য থাকায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হলে এই সংশয় দূর হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি ও জনপ্রশাসনের বিভিন্ন বিষয় প্রধান উপদেষ্টা নিজেই নিকট থেকে পর্যবেক্ষণ করবেন।

অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, এই বিষয়ে সকল সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাদের সাবজেলে রাখার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে।

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, আগামী নির্বাচনকে অর্থবহ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে নিতে হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২5




“এক পা হারিয়েও সমুদ্রের সঙ্গে লড়াই ছোরাফের”

২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় বাঁ পা হারানো পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে ছোরাফ, জীবন ও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন অগভীর সমুদ্রে নামেন। ভোরের অন্ধকারে, বৈরি আবহাওয়ায় উত্তাল ঢেউয়ের মাঝখানে তিনি এক পা নিয়েই জাল ভরা নৌকায় উঠেন।

ছোরাফের পাশে থাকে ছোট ভাই, কখনো বড় ছেলে। ঋণ নিয়ে ছোট্ট নৌকা বানিয়ে এতে যুক্ত করেছেন শ্যালো ইঞ্জিন। কখনো সাগরে মাছ না ধরা গেলে ছোট ছেলের চায়ের দোকানই সংসারের ভরসা। তিনি বলেন, “আমি যদি ঘরে বসে থাকি, বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানরা খাবে কী?”

ছোরাফের স্ত্রী হালিমা বেগম বলেন, ঝড়ের রাতে স্বামীকে নিয়ে উৎকণ্ঠা থাকে, তবে সকালে জালভরা মাছ নিয়ে ফিরলে আনন্দে অশ্রু ঝরে। পরিবারে তিন সন্তান, বড় ছেলে চায়ের দোকান চালিয়ে বাবাকে সাহায্য করে, ছোট ছেলে মাঝে মধ্যেই সাগরে যায়।

স্থানীয় প্রবীণ জেলে মান্নান হাওলাদার বলেন, “সমুদ্রের মতো মন ওর। পা নাই তো কী হয়েছে? ঝড়ে সাগরে মাছ পড়ে, তখনও জীবন বাজি রেখে ছোরাফ নামেন।”

ছোরাফের বাবা কালাম মাঝি জানান, “আমি আর আগের মতো কাজ করতে পারি না। সংসারের সব দায়িত্ব ছোরাফের কাঁধে।” সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের ছোট্ট ঘরে পরিবার নিয়ে থাকেন ছোরাফ, একজোড়া ক্র্যাচ আর কৃত্রিম পা-ই তাঁর ভরসা।

ছোরাফ বলেন, “জীবন বাজি রেখে সমুদ্রে নামি। স্রোতের বিপরীতে লড়াই অভ্যাস হয়ে গেছে। চাই সরকার একটু সাহায্য করুক। সন্তানদের মুখে হাসি থাকলেই আমার জয়।”

কলাপাড়ার পরিবেশকর্মী মেজবাহ উদ্দিন মাননু বলেন, “ছোরাফ কুয়াকাটার হাজারো সংগ্রামী মানুষের প্রতিচ্ছবি। সমুদ্রের বুক যেখানে ভয় দেখায়, সেখানেই তিনি প্রমাণ করেছেন—হাল না ছাড়ার নামই আসল লড়াই।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




“পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ৫ বছর ভাঙা ব্রীজে চরম দূর্ভোগ, দুই উপজেলার মানুষ সমস্যায়”

মির্জাগঞ্জ উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ডোমরাবাদ এলাকায় ধানবোঝাই ট্রলারের ধাক্কায় ‘ডোমরাবাদ-জলিশা সংযোগ ব্রীজ’ ভেঙে পড়ে গত পাঁচ বছর ধরে নদে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় স্কুল শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙ্গি নৌকায় পারাপার হচ্ছেন।

সম্প্রতি নদীর দুই তীরের বাসিন্দারা নিজস্ব উদ্যোগে ভাঙা সেতুর পশ্চিমাংশে গাছ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেছেন। নেট দিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীও বসানো হয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর কারণে এখনও জরুরি রোগী ও প্রসূতি মায়ের জন্য ১০–১২ কিলোমিটার দীর্ঘ ঘুরিয়ে পথ চলতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০০৬ সালের ৭ এপ্রিল নির্মিত ব্রীজটি ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ভেঙে পড়ে। ব্রীজের পশ্চিম পাড়ে বেতাগীর জলিশা, পূর্ব পাড়ে মির্জাগঞ্জের ডোমরাবাদ গ্রাম। ব্রীজটি ভেঙে যাওয়ায় দুই উপজেলার মানুষ যাতায়াত, কৃষি আবাদ ও হাট-বাজারে সমস্যায় পড়েছেন। দীর্ঘ চার বছর শিক্ষার্থীরা নৌকা ভাড়া দিয়ে পারাপার হতেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ ইউসুফ মিয়া জানান, ব্রীজ ভাঙার পর তার মেয়ে ও ভাতিজারা নিরাপত্তার কারণে অন্য স্কুলে ভর্তি হয়েছেন। ডোমরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফিরোজ আলম জানান, ব্রীজ ভাঙার কারণে স্কুলে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, ভাঙা ব্রীজের সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্র দরপত্র আহ্বান করে দ্রুত ব্রীজ নির্মাণ শুরু করা হবে।

স্থানীয়রা প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান, দ্রুত ব্রীজ নির্মাণ করলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে স্কুলে যাতায়াত করতে পারবে এবং কৃষকরা ফসল বাজারজাত করতে সক্ষম হবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ভারতের রাষ্ট্রপতি মুর্মু অল্পের জন্য রক্ষা”

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বুধবার সকালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন কেরালার থিরুভানান্থাপুরম জেলার প্রমোদোম স্টেডিয়ামে। রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী হেলিকপ্টারের চাকা সদ্য নির্মিত কংক্রিট হেলিপ্যাডে আটকে গিয়ে সেটি ভেঙে পড়ে।

ঘটনাটি শবরীমালা মন্দির পরিদর্শনের পর ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হেলিপ্যাডটি শেষ মুহূর্তে, মঙ্গলবার রাতেই জরুরি ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল। ফলে কংক্রিট পুরোপুরি শক্ত হয়নি এবং হেলিকপ্টারের ভার সহ্য করতে পারেনি।

একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হেলিকপ্টারটি একদিকে হেলে পড়ে এবং পুলিশ ও দমকল কর্মীরা তা উদ্ধার করতে ছুটে যান। বহুজনের সম্মিলিত চেষ্টায় হেলিকপ্টারটি ভূগর্ভস্থ জলাধার থেকে নিরাপদে বের করা হয়।

প্রাথমিকভাবে হেলিকপ্টার অবতরণের পরিকল্পনা ছিল নীলাক্কাল এলাকায়। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে স্টেডিয়াম বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি মুর্মু বর্তমানে কেরালায় চার দিনের সরকারি সফরে রয়েছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি তিরুবনন্তপুরম পৌঁছে পাথানামথিত্তা জেলার শবরীমালা মন্দির দর্শনে যান।

ভাগ্যক্রমে এই দুর্ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং রাষ্ট্রপতি নিরাপদে রয়েছেন, নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্রপতির দফতর।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দুমকিতে শহীদ জসিমের কন্যাকে ধর্ষণের মামলায় তিন কিশোরের ১০ বছরের কারাদণ্ড

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার বহুল আলোচিত জুলাই অভ্যুত্থানকালে শহীদ জসিম উদ্দিনের কন্যা লামিয়া আক্তারকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় তিন কিশোরকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ১০ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই মামলায় পর্নোগ্রাফি আইনে দুই আসামি—সাকিব মুন্সী ও সিফাত মুন্সীকে অতিরিক্ত তিন বছর করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিলুফার শিরিন জনাকীর্ণ আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা শেষে এই রায় প্রদান করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় পাংগাশিয়া ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে নানা বাড়ি যাওয়ার পথে কিশোরী লামিয়া আক্তার সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরদিন তিনি নিজেই বাদী হয়ে দুমকি থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১১, তারিখ: ১৯ মার্চ ২০২৫)।

তদন্ত শেষে ওসি (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম আদালতে অভিযুক্ত হিসেবে তিন কিশোরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন—
১. সাকিব মুন্সী ওরফে সাকির আল হাসান (১৫), পিতা মৃত মামুন মুন্সী, সাং নলদোয়ানী ২নং ওয়ার্ড, দুমকি;
২. সিফাত মুন্সী (১৭), পিতা মো. সোহাগ মুন্সী, সাং নলদোয়ানী ২নং ওয়ার্ড, দুমকি;
৩. ইমরান মুন্সী (১৭), পিতা মো. আব্দুল মালেক মুন্সী, সাং নলদোয়ানী ২নং ওয়ার্ড, দুমকি, পটুয়াখালী।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, শহীদ জসিম উদ্দিন ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম শহীদ। চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল ঢাকার শেখেরটেক এলাকায় জসিম উদ্দিনের কন্যা লামিয়া আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে গত বছরের ১৯ জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ জসিম উদ্দিন মারা যান।


আল-আমিন




পাকিস্তানে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, রাজধানীসহ একাধিক শহরে কম্পন

পাকিস্তানে আবারও আঘাত হেনেছে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাতে রাজধানী ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি, পেশোয়ার, চিত্রাল, সুয়াত, দির ও মালাকান্দসহ বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর (পিএমডি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৩।

পিএমডির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালা অঞ্চল, যার গভীরতা ছিল প্রায় ২৩৪ কিলোমিটার। গভীর ভূমিকেন্দ্রের কারণে কম্পনটি দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হলেও বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের পরপরই দেশজুড়ে জেলা প্রশাসন ও জরুরি প্রতিক্রিয়া ইউনিটগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিভিন্ন এলাকার তথ্য সংগ্রহ করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করছে।

ভূকম্পবিদদের মতে, পাকিস্তান পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্প-প্রবণ অঞ্চলগুলোর একটি। দেশটি হিমালয় ফল্ট লাইনের নিচে অবস্থান করায় প্রায়ই মাঝারি থেকে শক্তিশালী মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাঁকো দিয়ে ব্রিজ পারাপার, ছয় বছর ধরে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের তালুকদার হাট সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীর ওপর ভেঙে পড়া ২২৫ ফুট দীর্ঘ আয়রন ব্রিজটি ছয় বছরেও সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে স্থানীয়দের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো সীমিত একটি অস্থায়ী সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল। এতে করে অন্তত ৩০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর ভোরে গাছবাহী নৌকার ধাক্কায় ব্রিজটির মাঝের অংশ নদীতে ভেঙে পড়ে। এরপর থেকেই রাজাপুর, পাশের কাউখালী ও ঝালকাঠি সদর উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

যাত্রীবাহী গাড়ি ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকায় মানুষজন বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপার করছেন। বিশেষ করে এলাকার সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াতে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রিজটির ওপর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ-ছয় শ মানুষ যাতায়াত করতেন। এই পথে কৃষিপণ্য, বাজারের মালামালসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবহন করা হতো।

বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম, আবু ইউসুফ, আনোয়ার মিলন ও মামুন জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ করলেও এখনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। তারা দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের দাবি জানান।

রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “ব্রিজ নির্মাণের জন্য স্কিম তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫