পটুয়াখালী-আমতলী-কুয়াকাটায় হাইওয়ে থানার দাবী

দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রুট পটুয়াখালী-আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়ক প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ও শত শত পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক হিসেবে পরিচিত। বরগুনা জেলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত এই রুটে বর্তমানে কোনো হাইওয়ে থানা না থাকায় যাত্রী ও চালকদের জন্য নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কুয়াকাটা আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় সড়কটি নিরাপদ রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রায়ই দুর্ঘটনা, যানজট, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে, কিন্তু দ্রুত উদ্ধার বা চিকিৎসার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রাণহানি ও ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নিরাপদ সড়ক, যাত্রী ও পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই রুটে একটি পূর্ণাঙ্গ হাইওয়ে থানার দাবি উঠেছে। হাইওয়ে থানা স্থাপন হলে স্পিডগান, উদ্ধার সরঞ্জাম, রেকার ও পর্যাপ্ত যানবাহনসহ জরুরি সেবাগুলো সহজলভ্য হবে। এর ফলে অপরাধ দমন, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা রোধ সম্ভব হবে। পাশাপাশি এই পদক্ষেপ দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন শিল্প ও অর্থনীতিকেও সমৃদ্ধ করবে।

ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক বরিশাল জোনের আওতাভুক্ত। এই জোনে ১,৬০৩.৯৪ কিমি সড়ক রয়েছে, যার মধ্যে ৩টি জাতীয়, ৭টি আঞ্চলিক ও ৬১টি জেলা মহাসড়ক অন্তর্ভুক্ত। তবে এত বড় রুটের মধ্যে মাত্র ৩২ কিলোমিটার সড়কই হাইওয়ে পুলিশের আওতায় রয়েছে। বিশেষ করে পটুয়াখালী থেকে আমতলী পর্যন্ত ৩৭ কিমি এবং আমতলী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৪৭ কিমি সড়কে নেই কোনো হাইওয়ে থানা, পর্যাপ্ত গাড়ি, রেকার বা দ্রুত পৌঁছানোর মতো যানবাহন। ফলে প্রায় ৯৮ শতাংশ সড়ক হাইওয়ে পুলিশের নজরদারির বাইরে রয়েছে।

বরিশাল বিভাগে দুটি সড়ক সার্কেল রয়েছে—বরিশাল সার্কেল ও পটুয়াখালী সার্কেল। বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও ভোলা মিলে বরিশাল সার্কেল এবং পটুয়াখালী ও বরগুনা মিলে পটুয়াখালী সার্কেল গঠিত। দুটি সার্কেলের মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ১২৭.৯৮ কিমি, আঞ্চলিক মহাসড়ক ২৯০.৯ কিমি এবং জেলা মহাসড়ক ১,১৮৫.৯১ কিমি।

সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর দাবি, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে পটুয়াখালী-আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কে একটি পূর্ণাঙ্গ হাইওয়ে থানা স্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অস্তিত্ব সংকটে বরগুনার তালতলীর শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত

বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়ার চর এলাকায় সুন্দরী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মিলনমেলা “শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত” আজ অস্তিত্ব সংকটে। ঝিরঝিরে বাতাসে দোল খাওয়া সবুজ ঝাউবন এবং দীর্ঘ বালুময় সৈকত এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলেও, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে সৈকতের সৌন্দর্য ধ্বংসের পথে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় আইলা, আম্পান, ইয়াস এবং জাওয়াদের কারণে সৈকতের পাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঝাউবন রক্ষার চেষ্টা করা হলেও বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ২৫ হাজার গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; শুধুমাত্র আম্পানে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩ হাজার গাছের।

টেংরাগিরি ম্যানগ্রোভ বনভূমির অংশ এই ঝাউবনের প্রস্থ প্রায় ৫০ ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ কিলোমিটার। একসময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা সৈকত ও ঝাউবন দেখতে আসতেন। জোছনার রাতে আয়োজিত হতো উপমহাদেশের বৃহত্তম জোছনা উৎসব, যা লাখো মানুষের পদচারণায় মুখরিত হতো।

স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ জানান, “সৈকতের মূল সৌন্দর্য ছিল ঝাউবন। এখন অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে পাড় ভেঙে যাচ্ছে এবং ঝাউবন হারিয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে।” এছাড়া সৈকতের পাশে নির্মাণাধীন ৩৬০ মেগাওয়াটের তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বালু উত্তোলনও পাড় ভাঙনের একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান খান বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ঝাউবন ও ম্যানগ্রোভ বন উপকূলীয় এলাকার জীবন ও সম্পদ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন ও সৈকতের ধ্বংস হলে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাব অনেক বেশি বেড়ে যাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




৪০ বছরেও আধুনিক শিক্ষার ছোঁয়া পায়নি নলবুনিয়া মহব্বত আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ

ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে এসেও আধুনিক শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নলবুনিয়া মহব্বত আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি চার দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কিংবা উন্নত অবকাঠামোর ছোঁয়া পায়নি।

নলছিটি উপজেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হলেও অবকাঠামোগত সংকট ও প্রযুক্তিগত পশ্চাদপদতার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে কলেজে রূপান্তরের জন্য আবেদন করে এবং ২০১৫ সালে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনুমতি পায়। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির নাম হয় “নলবুনিয়া মহব্বত আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ”। কিন্তু এরপরও শিক্ষার পরিবেশে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা এখনো জরাজীর্ণ টিনশেড কক্ষে পাঠ নিচ্ছে। বিদ্যালয়ে নেই কোনো পাকা ভবন, নেই উপযুক্ত টয়লেট বা আধুনিক ল্যাবরেটরি। বৃষ্টির দিনে টিনশেড ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে যায়, ফলে ক্লাস কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সারিকা আক্তার বলেন, “ভালো ভবন নেই, রাস্তাও খারাপ। যাতায়াতে কষ্ট হয়। পাকা টয়লেটের অভাবেও আমরা ভোগান্তিতে আছি।”
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত জানায়, “আমাদের যদি একটি ডিজিটাল ল্যাব থাকত, তাহলে কম্পিউটার শেখা সম্ভব হতো। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে।”

অধ্যক্ষ শাহনাজ পারভীন বলেন, “বিদ্যালয়ের স্কুল শাখা এমপিওভুক্ত হলেও কলেজ শাখা এখনো হয়নি। এতে শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমাদের প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী ও ২৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী আছে। ভবন ও ডিজিটাল ল্যাব না থাকায় শিক্ষার্থীরা আধুনিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় তারা সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন। ফলে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি আজ ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় যৌথবাহিনীর তল্লাশি অভিযান, ৪২ হাজার টাকা জরিমানা

বরগুনার আমতলী পৌরসভায় যৌথবাহিনী সড়ক নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশেষ চেকপোস্ট অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সময় বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১১টি মামলায় মোট ৪২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আমতলী উপজেলার সৈকত ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন পটুয়াখালী–কুয়াকাটা মহাসড়কে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন লেফটেন্যান্ট হোসেন মোহাম্মদ বিল্লাল। তার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের সেনা দলের পাশাপাশি আমতলী থানা পুলিশের পাঁচ সদস্যের একটি টিম অংশ নেয়।

চেকপোস্ট চলাকালীন সময়ে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, সিএনজি, মাহিন্দ্রা, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের হেলমেট, কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই করা হয়। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয় এবং নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করা হয়।

অভিযানে মোট ৯০টি মোটরসাইকেল, ২৩টি বাস, ১০টি প্রাইভেটকার, ১২টি ট্রাক, ১০টি মাইক্রোবাস, ১৫টি সিএনজি এবং নয়টি মাহিন্দ্রা যাচাই করা হয়।
এর মধ্যে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ১১টি মামলায় জরিমানা করা হয় এবং দুটি মোটরসাইকেল, একটি সিএনজি ও একটি মাহিন্দ্রা জব্দ করা হয়।

লেফটেন্যান্ট হোসেন মোহাম্মদ বিল্লাল বলেন, “চালকদের মধ্যে সড়ক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও অপরাধ দমনই আমাদের মূল লক্ষ্য। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালের ঐতিহ্যবাহী বিবির পুকুর ঘিরে বিতর্ক

বরিশাল নগরীর হৃদয়ে অবস্থিত শতবর্ষী ঐতিহ্যের জলাশয় ‘বিবির পুকুর’। একসময় শহরের প্রাণবায়ু হিসেবে পরিচিত এই পুকুরটি এখন নানা কারণে হারিয়েছে আগের সৌন্দর্য। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে পুকুরে ফোয়ারা স্থাপনের কাজ চলছে। তবে এর দক্ষিণ পাশে লোহার গ্রিল ও নেট বসানোয় শহরজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর ২০২৫) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বিবির পুকুরের চারপাশে নেট দিয়ে ঘেরার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই গ্রিল-নেট স্থাপন পুকুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও খোলা আকাশের দৃশ্যকে বন্দি করে ফেলবে। শহরের নাগরিকরা আশঙ্কা করছেন, এটি বরিশালের ঐতিহ্যের ওপর এক নতুন আঘাত।

তাদের দাবি, আগেও বেলস পার্ক লেক ঘিরে দেওয়ার উদ্যোগের বিরোধিতা করে নাগরিকরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করেছিলেন। সংবাদ প্রকাশের পর সেই কাজ স্থগিত হয়েছিল। এবার বিবির পুকুর ঘিরে যেন আবারও সেই পুরোনো বিতর্ক ফিরে এসেছে।

ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পুকুরটি ১৯০৮ সালে জিন্নাত বিবি নামে এক মুসলিম নারী খনন করেছিলেন, যাকে খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক উইলিয়াম কেরি পর্তুগিজ দস্যুদের হাত থেকে উদ্ধার করেছিলেন। মানুষের কল্যাণে নিজের জমিতে পুকুর খনন করে তিনি শহরবাসীর পানির চাহিদা মেটাতেন। তার নামেই জলাশয়টির নামকরণ হয় ‘বিবির পুকুর’।

প্রায় ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৮৫০ ফুট প্রস্থের এই জলাশয়টি একসময় কীর্তনখোলা নদীর সঙ্গে খালযোগে সংযুক্ত ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই খাল হারিয়ে গেছে, এখন পুকুরটি বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় কবি ও ইতিহাসবিদ হেনরি স্বপন বলেন,“বিবির পুকুর একসময় শহরের গর্ব ছিল। এখন এটি অবহেলা আর দখলের শিকার। যে শহর নিজের জলাশয়কে রক্ষা করতে পারে না, সে তার ঐতিহ্যও টিকিয়ে রাখতে পারে না।”

বরিশাল সিটি করপোরেশনের বাজার কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন,“কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে ভাড়া তুলছিলেন, তাই উচ্ছেদ করা হয়েছে। বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য প্রতিদিন ৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী জানান,“ফোয়ারার কাজ প্রায় শেষ। এটি চালু হলে বিবির পুকুর তার পুরনো সৌন্দর্য ফিরে পাবে। পুকুরে ময়লা না পড়তে পারে, এজন্যই গ্রিল ও নেট বসানো হচ্ছে।”

স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখার পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গণভোট ছাড়া নির্বাচন নয়, সরাসরি দাবি ডা. তাহেরের

জাতীয় নির্বাচনের পূর্বেই গণভোট আয়োজনের দাবিতে সরব হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেছেন, “গণভোটের বিষয়টি নিয়ে আমরা কোনো জটিলতা চাই না, সরলভাবে বলতে চাই—জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট হতেই হবে।”

বুধবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. তাহের জানান, জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বেশ কিছু সময় ধরে বৈঠক করে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন কমিশন সংস্কার ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনা করেছে। আলোচনায় ৮০টিরও বেশি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, “আমরা চাই জুলাই সনদকে সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে সরকার একটি বিশেষ আদেশ জারি করুক। তবে এই ঘোষণাটি যেন প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে নয়, প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমেই দেওয়া হয়। কারণ, বর্তমান প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।”

জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, “বিএনপি শুরুতে গণভোটের ব্যাপারে অনীহা দেখালেও জনমতের চাপে তারা রাজি হয়েছে। কিন্তু এখন তারা একদিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব দিচ্ছে, যা সাংবিধানিক ও বাস্তবিকভাবে অযৌক্তিক। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন দুটি সম্পূর্ণ আলাদা প্রক্রিয়া। গণভোটে জনগণ দেশের কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে, আর জাতীয় নির্বাচনে জনগণ সরকার নির্বাচন করবে। তাই আগে গণভোট হতে হবে, তারপর নির্বাচন।”

তিনি আরও বলেন, “নভেম্বরের শেষ দিকে গণভোট আয়োজন সম্ভব। এরপর আড়াই মাস সময় থাকবে জাতীয় নির্বাচনের জন্য। এতে সময় বা ব্যয়ের কোনো সমস্যা হবে না, বরং এটি দেশের গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করবে।”

ডা. তাহের অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমানে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে একক দলের প্রভাব স্পষ্ট। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কর্মকর্তা একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে কাজ করছেন। এটি পরিবর্তন না হলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।”

তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে আহ্বান জানান প্রশাসন, সচিবালয়, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনে লটারি পদ্ধতিতে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টনের ব্যবস্থা করতে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, “নোয়াখালীতে ছাত্রশিবিরের কুরআন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিএনপি হামলা চালিয়েছে। নির্বাচনের আগে এমন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আমরা বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।”

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ।

ডা. তাহের বলেন, “আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, জনগণের অংশগ্রহণমূলক গণভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে দিন। কারণ, জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মালিক।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আসছে

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো প্রণয়নের পর এবার বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রস্তাবনা যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশনে (পে কমিশন)।

বুধবার (২২ অক্টোবর) দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) জানিয়েছে, তারা বেসরকারি খাতের জন্য ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের প্রস্তাবনা তৈরি করছে।

সংগঠনের মহাসচিব মো. আলমগীর গণমাধ্যমকে জানান,

“আমরা প্রস্তাবনাটি প্রস্তুত করছি, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা বেতন কমিশনে জমা দেওয়া হবে। সার্বিকভাবে আমাদের প্রস্তাব থাকবে—বেসরকারি খাতে সর্বনিম্ন বেতন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে হওয়া উচিত।”

তিনি বলেন, একটি পরিবারের চার সদস্যের ন্যূনতম জীবনযাত্রা বজায় রাখতে যে পরিমাণ আয়ের প্রয়োজন, সেটিই হওয়া উচিত একটি ‘মানবিক বেতন’।

“প্রাইভেট সেক্টর সবসময় চায় কম খরচে বেশি উৎপাদন। কিন্তু একজন কর্মীরও তো মানবিক মর্যাদা আছে। তার পরিবারের খাবার, বাসা ভাড়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যয় বিবেচনা করে ন্যূনতম আয় নিশ্চিত করতে হবে,” যোগ করেন তিনি।

এফবিসিসিআই মহাসচিব আরও বলেন,

“বিদেশি কর্পোরেট সেক্টরে কর্মীদের বেতন তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও দেশীয় অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনও কাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। তবে অর্থনৈতিকভাবে আমরা যত উন্নত হব, তত বৈষম্য কমে আসবে।”

তিনি মূল্যস্ফীতির প্রভাব তুলে ধরে বলেন,

“যদি কারও বেতন ২০ হাজার টাকা হয় এবং মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ বাড়ে, তাহলে প্রকৃত আয় কমে দাঁড়ায় ১৮ হাজার টাকায়। তাই বেতন বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হবে, প্রতিবছর এই সমন্বয় করা গেলে।”

তিনি আরও মন্তব্য করেন,

“আমরা চাই সরকার ও বেসরকারি খাত আলাদা না দেখে নাগরিকের মানবিক মর্যাদার দিকটা বিবেচনা করুক। একটি মানুষ যেন তার ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করতে পারে, সেটাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। অন্যথায় বৈষম্য ও দুর্নীতি বাড়বে।”

বর্তমান শ্রমবাজারের অবস্থা নিয়েও মন্তব্য করেন এফবিসিসিআই মহাসচিব।

“চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় বেতন বৃদ্ধির সুযোগ কমে যায়। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি একজনকে চাকরিতে না নেয়, তখন অন্যজন সেখানে যোগ দেয়। শ্রমবাজারে জনবল থাকলেও ন্যায্য মজুরির নিশ্চয়তা নেই। এটা আধুনিক যুগের এক ধরনের শোষণ,” বলেন তিনি।

তিনি আরও যোগ করেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে সঠিকভাবে অডিট না হওয়াও বেতন বৃদ্ধি না হওয়ার একটি বড় কারণ। সময় এসেছে বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জন্য সুষ্ঠু বেতন কাঠামো তৈরির, যাতে কর্মীদের জীবনমান উন্নত হয় এবং উৎপাদনশীলতাও বাড়ে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দশমিনার হাসপাতালে তিন চিকিৎসকে ভরসা দুই লাখ মানুষের

পটুয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলের চরবেষ্টিত দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র তিনজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। ফলে প্রতিদিন শত শত রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। এমনকি অনেককে বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।

২০০৮ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয় এই হাসপাতালটি। কিন্তু শয্যা বাড়লেও বাড়েনি চিকিৎসক ও জনবল। ২০০৮ সালের জনবল দিয়েই এখনো চলছে ৫০ শয্যার কার্যক্রম। স্বাস্থ্যসেবার এই অব্যবস্থাপনায় বিপুল জনগোষ্ঠীর একমাত্র ভরসাস্থল হয়ে থাকা হাসপাতালটি আজ নিজেই পরিণত হয়েছে সংকটকেন্দ্রে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে মোট ২২ জন চিকিৎসকের থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৩ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া গাইনি, সার্জারি, মেডিসিন, অ্যানেসথেসিয়া ও আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ গুরুত্বপূর্ণ ৫টি বিশেষজ্ঞ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ঘাটতিও প্রকট। ৬০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র ২২ জন। ফলে চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজও ব্যাহত হচ্ছে।

সরঞ্জামের অবস্থাও করুণ। হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন প্রায় পাঁচ বছর ধরে বিকল, এক্স-রে মেশিনও কার্যত অচল। অপারেশন থিয়েটারসহ অনেক যন্ত্রপাতি অকার্যকর থাকায় সেবা প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।

পর্যাপ্ত টেকনিশিয়ান না থাকায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের যেতে হচ্ছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এতে একদিকে যেমন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে বেসরকারি চিকিৎসার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মইনুল ইসলাম বলেন,

“দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও কর্মচারীর অভাবে আমরা সংকটে রয়েছি। বিশেষ করে টেকনিশিয়ানের ঘাটতির কারণে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন মো. খালেদুর রহমান মিয়া বলেন,

“উপজেলাগুলোর সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায়ই চিকিৎসক সংকট দেখা দেয়। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন মহলকে অবহিত করেছি। আশা করছি খুব দ্রুতই নতুন চিকিৎসক নিয়োগ পেলে এই সংকট কেটে যাবে।”

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন অনেক গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও শিশু চিকিৎসা নিতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যান। সরকারি হাসপাতালের অবস্থা এমন থাকলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয় উচ্চমূল্যের বেসরকারি চিকিৎসার দিকে ঝুঁকতে।

দশমিনার মানুষ এখন একটাই দাবি জানাচ্ছে—“আমরা চিকিৎসক চাই, হাসপাতাল সচল হোক।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালের লাল শাপলার বিল: প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়ন ও আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জলাভূমি এখন পর্যটকদের কাছে এক নয়নাভিরাম গন্তব্যস্থল হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়রা যাকে ‘লাল শাপলার বিল’ নামে চেনেন, সেখানে প্রতিবছর জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত হাজার হাজার লাল শাপলা ফুল ফুটে দর্শনার্থীদের মন মোহিত করে।

প্রায় ১০ হাজার একর বিস্তীর্ণ এই জলাভূমি দূর থেকে যেন সবুজ পাতার উপর লাল-গোলাপি রঙের চাদরের ভাসমান সমারোহ। ছোট ছোট নৌকা নিয়ে পর্যটকরা বিলের মাঝ দিয়ে ঘুরে বেড়ান, ছবি ও সেলফিতে মুহূর্তগুলো ধরে রাখেন। ভোরের আলোতে বিলের সৌন্দর্য আরও উজ্জ্বল হয়, আর বিভিন্ন পাখির কূজন পরিবেশকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।

সাতলার বিলে পর্যটকদের পদচারণা প্রায় এক দশক ধরে চলছে। বিলের জলে ভাসতে থাকা শাপলা দেখতে বিশেষ করে ভোর এবং সূর্যোদয়ের সময় পর্যটকেরা ভিড় করেন। এই বিল ঘিরে স্থানীয়রা নৌকা ও আবাসনের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি করেছেন।

তবে পর্যটকরা নৌকা ভাড়ার অতিরিক্ত মূল্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। আগে ২০০-৩০০ টাকায় নৌকা ভাড়া নেওয়া হতো, এখন ৫০০ থেকে হাজার টাকার মধ্যে। অন্যদিকে নৌকা চালকেরা বলছেন, এটি তাদের জীবিকার অন্যতম উৎস, বিশেষ করে ক্ষেত-খামারে কাজ না থাকায়।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো আলী সুজা জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শাপলার বিলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। দর্শনার্থীদের জন্য বিশ্রামাগার এবং ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনও জানিয়েছেন, বিলের নিরাপদ ও সহজ প্রবেশসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

লাল শাপলার বিল শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পর্যটকদের নিরাপদ ও সুন্দর অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পদক্ষেপ ও স্থানীয় সচেতনতা দুটির সমন্বয় প্রয়োজন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২5




দুবাই ও মিয়ানমার থেকে একলাখ টন চাল আমদানি করবে সরকার

দেশের সরকারি খাদ্য মজুত বৃদ্ধি এবং সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য মিয়ানমার ও দুবাই থেকে মোট একলাখ টন নন বাসমতি সেদ্ধ চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতিটি দেশ থেকে ৫০ হাজার টন করে চাল আমদানি করা হবে। এই আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪৬ কোটি ২৩ লাখ ৮ হাজার ৫৭০ টাকা।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র ও জিটুজি (G2G) পদ্ধতিতে এই চাল আমদানির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুবাইয়ের মেসার্স ক্রেডেন্টওয়ান এফজেডসিও প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি টন ৩৫৫.৯৯ মার্কিন ডলারে ৫০ হাজার টন নন বাসমতি সিদ্ধচাল আমদানি করা হবে। বাংলাদেশের মুদ্রায় এর পরিমাণ ২১৬ কোটি ৯০ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ টাকা। প্রতি কেজি চালের দাম নির্ধারিত হয়েছে ৪৩ টাকা ৩৮ পয়সা।

মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে ৫০ হাজার টন আতপ চাল আমদানি করা হবে। প্রতি কেজি আতপ চালের দাম ধরা হয়েছে ৪৫ টাকা ৮৭ পয়সা।

এ ধরনের উদ্যোগ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সরকারি বিতরণ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য মজুত বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫