নারায়ণগঞ্জের নৈশপ্রহরী হত্যা মামলার প্রধান আসামি পটুয়াখালীতে গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জে নৈশপ্রহরী আবু হানিফকে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা করার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি অপু (২৫)–কে হত্যার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্প।
বুধবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার রাশেদের নেতৃত্বে র্যাবের একটি বিশেষ অভিযানিক দল কলাপাড়া থানার বলিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত অপুকে আটক করে। সে নারায়ণগঞ্জের মহসিন ক্লাব এলাকার হিরা মিয়ার ছেলে।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর দুপুরে শিশু সানজিদা নামের ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে নৈশপ্রহরী আবু হানিফকে সন্দেহভাজন হিসেবে কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। এরপর তাকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার সুন্দরবন মাঠ, সেন্ট্রাল হাসপাতালের বিপরীতে এবং পরে খানপুর মেট্রো হলের পশ্চিম পাশে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে মারধর করা হয়। এ সময় ইট, লাঠি ও ঘুষির আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি।
স্থানীয়রা আহত অবস্থায় হানিফকে খানপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে রাতেই তিনি মারা যান। নিহত হানিফের বাড়ি বাগেরহাট জেলার শরণখোলায় হলেও তিনি নারায়ণগঞ্জের খানপুর এলাকায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই হযরত আলী বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলো অপু। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপু হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে র্যাব সূত্রে জানা গেছে।
র্যাব-৮ এর কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. রাশেদুল আহসান বলেন, “চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্তদের গ্রেফতারে র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। অবশেষে মূল অভিযুক্তকে কলাপাড়া থেকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে এবং এতে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। তারা দ্রুত সকল আসামিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








