কনের বয়স কম, তাই বিয়ে দাওয়াতে না খেয়ে ফিরে গেলেন ইউএনও

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার দৈহারী গ্রামে শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) একটি বিয়ে অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত হয়ে কনের বয়স কম জানার পর দাওয়াত না খেয়ে ফিরে গেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম। এ ঘটনায় কাজীও বিয়ে পড়ানো থেকে বিরত থাকেন, ফলে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়নি।

স্থানীয়রা জানায়, কনের বয়স ১৬ বছর, যা বয়সসীমা অনুযায়ী কম। সে গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। বিয়ে পড়ানোর জন্য কাজী মো. ইসহাক আলী বলেন,“প্রথমে আমাকে জানানো হয়েছিল মেয়ের বয়স ১৮ বছর। পরে প্রকৃত বয়স ১৬ জানার পর আমি বিয়ে পড়াইনি। ইউএনও সাহেবও বিষয়টি জানার পর দাওয়াতে না খেয়ে চলে যান।”

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য জানান, বিয়ে বাড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। কিন্তু কনের বয়স কম জানার পর ইউএনও সপরিবারে চলে যাওয়ায় এবং কাজী বিয়ে পড়ানো থেকে বিরত থাকায় বিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়নি।

ইউএনও মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি ব্যক্তিগত অনুরোধে দাওয়াতে গিয়েছিলাম। কনের বয়স কম জানার পর আইনগত ও নৈতিক দিক বিবেচনায় দাওয়াত না খেয়ে ফিরে এসেছি। পরে জানতে পেরেছি, বিয়েটি আর হয়নি।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




তরুণ প্রজন্ম ভোটাধিকার প্রয়োগে উন্মুখ: রহমাতুল্লাহ

বরিশালের চরমোনাইয়ে অনুষ্ঠিত মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের তরুণ প্রজন্ম ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্দীপনা ও প্রস্তুতিসূচক মনোভাব দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।

রহমাতুল্লাহ বলেন,“তরুণ প্রজন্ম জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্য কোনো নির্বাচন দেখতে চায় না। তারা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেবে। যারা জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে, তরুণরা সে ষড়যন্ত্রে অংশ নেবে না।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রজন্ম দেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন এবং তারা পরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চাঁন বলেন,“আগামীর নতুন বাংলাদেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা।”

ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় ও দর্শকরা আনন্দ উদযাপন করেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বিলুপ্তির পথে দেড়শ বছরের বাজপাই জমিদারবাড়ি, রক্ষণাবেক্ষণের দাবি স্থানীয়দের

পিরোজপুর শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে ইন্দুরকানীর পাড়েরহাট বন্দরে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় দেড়শ বছর পুরোনো বাজপাই জমিদারবাড়ি, যা স্থানীয়ভাবে ‘লালা বাবুর বাড়ি’ নামে পরিচিত। ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত এই বাড়ি একসময় এলাকায় বিচার-সালিশ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং খাজনা আদায়ের কেন্দ্র ছিল। কিন্তু বর্তমানে সংরক্ষণের অভাবে এটি বিলুপ্তির পথে।

স্থাপনার ইতিহাস অনুযায়ী, জমিদার ছিলেন সূর্য প্রসন্ন বাজপাই, যাকে স্থানীয়রা ‘লালা বাবু’ নামে চেনে। তিনি ছিলেন কালীপ্রসন্ন পারের ছেলে এবং ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপাইয়ের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। দেশ বিভাজনের পর ১৯৪৭ সালে বাজপাই পরিবার ভারত চলে যায় এবং আর কখনো ফিরে আসেনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৩ একর জমির ওপর নির্মিত এই বাড়ি বহু অংশে ভেঙে পড়া, ছাদ ধসে যাওয়া ও লতাপাতায় আচ্ছাদিত। বাড়ির ভেতরের নাগ মন্দির, শয়নকক্ষ, সভাকক্ষ প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত। ব্রিটিশ আমলের কাচারি ঘর, পুকুর এবং অন্যান্য স্থাপনা ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

স্থানীয়রা মনে করেন, যদি সরকার সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়, তাহলে এই জমিদারবাড়ি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে এবং পাড়েরহাট নতুন পরিচিতি পাবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি ও ঐতিহ্য দুইই লাভবান হবে।

পাড়েরহাট ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল কালাম ফরাজী বলেন, “লালা বাবু এখানে বিচার সালিশি করতেন, খাজনা আদায় হতো। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত। সরকার রক্ষণাবেক্ষণ করলে এটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পাবে।”

স্থানীয় শিক্ষক রঞ্জিত কুমার সাহা জানান,“এখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হতো, যাত্রাপালা হতো। তবে এখন সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকার সংস্কার করলে বাড়ির ঐতিহ্য বৃদ্ধি পাবে, এবং এলাকার উন্নয়নও সম্ভব।”

ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান-বিন-মোহাম্মদ আলী বলেন, “বাড়িতে কাচারি ঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা আছে। ব্রিটিশ আমলে খাজনা আদায় ও বিচার-সালিশ হতো। অযত্ন-অবহেলায় এটি ভঙ্গুর হয়ে গেছে। আমরা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিচালক বরাবর চিঠি দিয়েছি। আশা করি শিগগিরই সমাধান হবে।”

স্থানীয়রা দাবি করছেন, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের মাধ্যমে বাজপাই জমিদারবাড়িকে পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এটি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ হয়ে থাকবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলার নদীতে ফের জেলেদের সরব উপস্থিতি, প্রস্তুত তিন লাখ মৎস্যজীবী

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও জীবন ফিরে পাচ্ছে ভোলার নদ-নদীগুলো। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকেই মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে নামবেন জেলার প্রায় তিন লাখ জেলে। এরইমধ্যে জেলেপল্লিগুলোতে চলছে নৌকা, ট্রলার ও জাল মেরামতের ব্যস্ততা। বহু কষ্টের পর ইলিশ শিকারে নামতে পেরে আনন্দে মুখর তারা।

শুক্রবার দুপুরে ভোলার সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জেলেরা নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুরোদমে। কেউ নতুন জাল কিনছেন, কেউ ট্রলার মেরামত করছেন, আবার কেউ পুরোনো নৌকায় নতুন করে রঙ করছেন। দীর্ঘ ২২ দিন আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় অনেকেই ধারদেনা করে প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করেছেন।

স্থানীয় জেলে সুমন মাঝিসোহেল মাঝি বলেন, “নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় আমরা আবার নদীতে নামব। ধারদেনা করে নতুন জাল কিনেছি। আশা করছি, এবার পর্যাপ্ত ইলিশ পাব এবং ঋণ শোধ করতে পারব।”

অন্যদিকে খলিল মাঝিজাকির মাঝি জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারিভাবে ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা পেয়েছেন, তবে বাকিটা নিজেরাই সামলাতে হয়েছে। তারা বলেন, “এই সময়টা খুব কষ্টে কেটেছে। এখন নদীতে ভালো মাছ পেলে সব দুঃখ কেটে যাবে।”

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, “নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা যেন নির্বিঘ্নে ইলিশ শিকার করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত আছে। আশা করি, এবার নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ মিলবে, আর জেলেরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।”

তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ভোলার সাত উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে দুই শতাধিক জেলেকে আটক এবং বিপুল পরিমাণ জাল ও ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক জেলেকে আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা দেওয়া হয়।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোলার নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ শিকার নিষিদ্ধ ছিল। জেলার সাত উপজেলায় প্রায় তিন লাখ জেলে জীবিকা নির্বাহ করেন, যার মধ্যে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার সরকারিভাবে নিবন্ধিত।

জেলেরা এখন আশা করছেন—এই মৌসুমে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়লে সারা বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে নতুন উদ্যমে জীবনযুদ্ধে নামতে পারবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নতুন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের স্মৃতিধন্য বাড়ি

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ও জাদুঘর অবশেষে নবজীবন পেতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা, অযত্ন ও জরাজীর্ণ অবস্থা কাটিয়ে নতুন করে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।

শান্ত ও ইতিহাসঘেরা এই গ্রামেই জন্মেছিলেন বাংলাদেশের এক গৌরবোজ্জ্বল সন্তান, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর স্মৃতি ধারণ করা বাড়ি, গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর অবহেলার কারণে ভগ্নদশায় পড়ে ছিল। ২০০৮ সালে বরিশাল জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত গ্রন্থাগার ও জাদুঘরটি বছরের পর বছর তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল; ছিল না বিদ্যুৎ, পানি বা পরিচর্যার ব্যবস্থাও।

তবে সম্প্রতি সরকারি উদ্যোগে শুরু হয়েছে সংস্কার অভিযান। গত ১৬ অক্টোবর বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছার জাহাঙ্গীরনগর পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিকভাবে স্মৃতি জাদুঘর সংস্কারের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনার পর উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ইউএনও ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে সংস্কার কাজ শুরু হয়।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে ভিআইপি গেস্টরুম, লাইব্রেরি ও ওয়াশরুম সংস্কার এবং পুরো ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম চলছে। জঙ্গল পরিষ্কার, ভবনের ছাদ ও চারপাশের ঝোপঝাড় অপসারণসহ পুরো এলাকাকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারুক আহমেদ বলেন, “দীর্ঘদিন কেউ যত্ন না নেওয়ায় বাড়ি ও জাদুঘর পরিত্যক্ত হয়ে ছিল। এখন নতুনভাবে সংস্কার করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছি, যাতে মানুষ কাছ থেকে বীরশ্রেষ্ঠকে জানতে ও তাঁর জীবনাদর্শকে ধারণ করতে পারে।”

সংস্কার ব্যয় উপজেলা প্রশাসন বহন করছে, আর ভবন সংস্কার ও কেয়ারটেকার নিয়োগের দায়িত্ব নিয়েছে জেলা পরিষদ। বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনসহ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

১৯৪৯ সালের ৭ মার্চ বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীর তীরে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন তিনি। তাঁর জন্মস্থান রহিমগঞ্জ বর্তমানে পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন নামে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা,এই সংস্কার উদ্যোগের মাধ্যমে বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের স্মৃতি আবারও নতুন আলোয় উজ্জ্বল হবে, হয়ে উঠবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও দেশপ্রেমের এক অনন্ত প্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




এবারের বিপিএলে থাকছে না ফরচুন বরিশাল

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আসন্ন আসরে অংশ নিচ্ছে না আলোচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি ফরচুন বরিশাল। টানা দুই আসরে দাপটের সঙ্গে শিরোপা জেতা দক্ষিণাঞ্চলের এই দলটি আর্থিক সংকটের কারণে এবারের আসর থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেছে।

বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে বরিশাল ছিল সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় দল। সর্বশেষ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক মিজানুর রহমান জানিয়েছিলেন, নতুন মৌসুমেও শক্তিশালী দল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, “ফরচুন বরিশালের মালিক মিজান ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এত অল্প সময়ে এত বড় আয়োজন করা সম্ভব নয়। আমরা ২৮ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। এরপরও যদি তারা বিড না করেন, তাহলে আর কিছু করার থাকবে না।”

সূত্র জানায়, এবারের বিপিএলে অংশ নিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে ১০ কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে। এখনো পর্যন্ত কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি আনুষ্ঠানিকভাবে ফরম জমা দেয়নি, তবে সাত-আটটি কোম্পানি দল নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ইফতেখার রহমান আরও বলেন, “যদি কেউ ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে না পারে, তাহলে দ্বিতীয় অপশনে যাবে বিসিবি। গ্যারান্টি ছাড়া কাউকে দল দেওয়া হবে না।”

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে প্লেয়ার ড্রাফট, এবং ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে মাঠে গড়াবে দেশের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট—বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)।

ফরচুন বরিশালের অনুপস্থিতিতে এবারের বিপিএলে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির আগমন ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গৌরনদীতে প্রবাসীর স্ত্রীর স্বর্ণলংকার ছিনতাই ও মারধরের অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর ওপর হামলা ও স্বর্ণলংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্থানীয় যুবক এনাম তালুকদার ও তার সহযোগীরা ওই নারীর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। বর্তমানে আহত ওই নারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে গৌরনদীর খাঞ্জাপুর গ্রামে। শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী নারী গৌরনদী মডেল থানায় এনাম তালুকদারসহ আরও তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযুক্ত এনাম তালুকদার বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী নারী জানান, “সেদিন আমি আমার দুই সন্তানকে নিয়ে কালকিনি উপজেলার কুন্ডুবাড়ি মেলায় যাওয়ার জন্য রওনা দিই। পথিমধ্যে এনাম তালুকদারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে সে আমার গতিরোধ করে। একপর্যায়ে সে ও তার সহযোগীরা টানাহেঁচড়া করে আমাকে কিল-ঘুষি মারে। আমি চিৎকার করলে তারা আমার পরনের স্বর্ণলংকার ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।”

এ ঘটনায় এনাম তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে এ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।”

গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “একজন প্রবাসীর স্ত্রীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চরফ্যাশনের গাছিরখাল লঞ্চঘাটে পন্টুন স্থাপন, উদ্যোগে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর গাছিরখাল লঞ্চঘাটে অবশেষে বসানো হয়েছে নতুন একটি পন্টুন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এ পন্টুনটি স্থাপন করেছে। এ উদ্যোগে বিশেষ ভূমিকা রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ভোলা-৪ (চরফ্যাশন–মনপুরা) আসনের বিএনপি মনোনয়নপ্রত্যাশী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।

বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পন্টুনটি গাছিরখাল ঘাটে পৌঁছায়। পরদিন শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া নিজে ঘাটে গিয়ে পন্টুন স্থাপনের কাজ পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় তিনি বলেন, “গণমানুষের সেবাই আমার রাজনীতি। এই এলাকার মানুষ বহু বছর ধরে নদীপথে ভোগান্তিতে ছিল। আজ সেই কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে, এটি আমার জন্য বড় সন্তুষ্টি।” তিনি আরও আশ্বাস দেন, নুরাবাদসহ পুরো চরফ্যাশন ও মনপুরার উন্নয়নে তিনি ভবিষ্যতেও পাশে থাকবেন।

নতুন পন্টুন স্থাপনের ফলে গাছিরখাল, নুরাবাদ ও আশপাশের গ্রামের হাজারো মানুষ এখন থেকে নিরাপদে ও সহজে নৌপথে চলাচল করতে পারবেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতি, বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

পরে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া আহমদপুর ইউনিয়নের ফরিদাবাদ গ্রামে তাঁর নিজ অর্থায়নে নির্মিতব্য দোতলা মসজিদের কাজ পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণ শেষ করার আশ্বাস দেন।

জুমার নামাজ শেষে তিনি চরফ্যাশন শহরের একটি এতিমখানায় অনাথ শিশুদের সঙ্গে বসে দুপুরের খাবার খান এবং তাদের হাতে খাবার তুলে দেন।

এরপর বিকেল ৪টায় চরফ্যাশন টিবি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত “শহীদ জিয়া স্মৃতি সিটি হকিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬”-এর ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় তিনি বলেন,
“খেলাধুলা সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে এবং তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখে। তাই সমাজের প্রতিটি স্তরে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে হবে।”

তিনি চরফ্যাশন ও মনপুরার তরুণদের খেলাধুলা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সব সময় পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকারে ফাটল ধরা ব্রিজ আরও ঝুঁকিপূর্ণ, বন্ধ হতে পারে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক

খোকন আহম্মেদ হীরা ;:ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাসস্ট্যান্ডের পুরোনো ব্রিজে ফাটল ধরা পড়ায় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজের দুই প্রান্তে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত স্পিড ব্রেকারের কারণে দূরপাল্লার বাস ও ভারী ট্রাকের ধাক্কায় সেতুটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজটির নিচের দক্ষিণাংশে ফাটল দেখা দেওয়ার পর ভারী যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এক সপ্তাহ আগে ফাটল ধরার পর বিষয়টি সড়ক ও জনপদ বিভাগকে (সওজ) জানানো হয়। পরে কর্মকর্তারা জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা দিয়ে গার্ডার নির্মাণ করে কিছুটা ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করেন।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, ফাটলের মূল কারণ হলো ব্রিজের দুই পাশে ব্রিজের গা ঘেঁষে তৈরি করা দুটি স্পিড ব্রেকার। এতে দ্রুতগতির যানবাহন ব্রিজের ওপর উঠতেই ধাক্কা খেয়ে তীব্র কম্পন সৃষ্টি করছে, যা পুরোনো কাঠামোটির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ফলে ব্রিজটি এখন আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

একজন মোটরসাইকেল চালক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “ব্রিজের আশেপাশে কোনো বিকল্প সড়ক নেই, তাই সবাই ঝুঁকি নিয়েই এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করছে। স্পিড ব্রেকারগুলো দ্রুত সরিয়ে না ফেললে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পাঁচ টনের বেশি ওজনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সওজ সাইনবোর্ড টানালেও তা কেউ মানছে না। ফলে ভারী ট্রাক ও বাসের চাপেই ব্রিজের ক্ষতি বাড়ছে।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বলেন, “ব্রিজে ফাটল ধরার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পরিদর্শন করেছি। সওজ কর্মকর্তারা জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা দিয়ে গার্ডার তৈরি করে কিছুটা ঝুঁকি কমিয়েছেন। স্থায়ী সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা চলছে।”

এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা স্পিড ব্রেকার সমস্যার কথা তুললে ইউএনও বিষয়টি সওজ কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে বরিশাল সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিন খান বলেন, “বর্তমানে ব্রিজটি আপাতত ঝুঁকিমুক্ত করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবির ভিত্তিতেই স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা হয়েছিল। এখন যদি সেটি সমস্যা সৃষ্টি করে, তাহলে তা সরানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।”

স্থানীয় পরিবহন চালক ও বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানের সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো সুযোগ নেই: প্রেস সচিব শফিকুল আলম

গুম, খুন ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কোনো দলের আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে মাগুরার নবগঙ্গা পার্কে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রেস সচিব বলেন, “জুলাই শহীদদের স্মরণে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে, যেন জাতি তাদের ত্যাগ কখনো ভুলে না যায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় মাগুরার অনেক বীর শহীদের নাম মানুষ ভুলে গেছে, কারণ তাঁদের স্মরণে আগে কোনো স্মারক নির্মাণ হয়নি। এবার আমরা সেই দায়িত্ব পালন করছি।”

জুলাই সনদে কিছু রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর না করার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “এটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং একই লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। কেবল অল্প কিছু দলের মধ্যে নীতিগত মতভেদ থাকতে পারে, তবে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে। এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। জনগণ এবার সত্যিকার অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।”

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে প্রেস সচিব বলেন, “তারা অতীতে টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দিয়েছে, ভোট কারচুপি করেছে, প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু এবার সে সুযোগ তাদের আর নেই। গুম-খুনের রাজনীতি করা দল কখনো গণতন্ত্রের পথে টিকে থাকতে পারে না।”

‘না ভোট’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেসব আসনে একক প্রার্থী থাকবে, সেখানে জনগণ ‘না ভোট’ দিতে পারবে। এটি আরপিও আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। তাই এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবে না।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম