ভোলায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ঢেঁকি

বরিশাল অফিস :: কালের বিবর্তন আর আধুনিক প্রযুক্তির ফলে দ্বীপ জেলা ভোলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঢেঁকি শিল্প। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এখন দেশের প্রতিটা অঞ্চলে পৌঁছে গেছে । বদলে যেতে বসেছে শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রার মান। মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করতে তৈরি করা হয়েছে নানা আধুনিক যন্ত্রপাতি, ব্যবহার হচ্ছে নানা রকম প্রযুক্তি।

বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে সেসব পুরোনো ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। কালের বিবর্তনে ঢেঁকি এখন শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতিবহন করে। দিন দিন ঢেঁকি শিল্প বিলুপ্ত হলেও একে সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেই।

প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে এক সময়ের গ্রাম-বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি শিল্প। পাল্টে যেতে বসেছে গ্রামের সেই নিত্য দিনের চিত্র।

জেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন আর ঢেঁকিতে ধান ভাঙার দৃশ্য চোখে পড়ে না, তেমনি শোনা যায় না ঢেঁকির ধুপধাপ শব্দ। শহরে তো বটেই আজকাল অনেক গ্রামের ছেলে মেয়েরাও ঢেঁকি শব্দটির সঙ্গে পরিচিত হলেও বাস্তবে দেখেনি।

আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি এখন আর চোখে পড়ে না। ঢেঁকিই ছিল এক সময়ের গ্রামীণ জনপদে চাল, চালের গুঁড়া ও আটা তৈরির একমাত্র মাধ্যম। বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র আবিষ্কারের ফলে ঢেঁকি এখন শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করে। দিন দিন ঢেঁকি শিল্প বিলুপ্ত হলেও একে সংরক্ষণের আর কোনো উদ্যোগ নেই বললেই চলে। এখন ঢেঁকির আর দেখাই মেলে না। আধুনিক যুগে সেই ঢেঁকির জায়গা দখল করে নিয়ে বিদ্যুৎচালিত মেশিন, যার মাধ্যমে মানুষ এখন অতি সহজেই অল্প সময়ে ধান থেকে চাল পাচ্ছে। গ্রামে গ্রামে বসছে চাল তৈরির কল। হাতের কাছে বিভিন্ন যন্ত্র আর প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ায় ঢেঁকির মতো ঐতিহ্যবাহী অনেক কিছুই এখন হারিয়ে যাচ্ছে।

ভোলা সদর পূর্ব ইলিশার স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, আগে প্রায় সবার বাড়িতে ঢেঁকি ছিল। সেই ঢেঁকিছাঁটা চাল ও চালের পিঠার গন্ধ এখন আর নেই। পিঠার স্বাদ ও গন্ধ এখনো মনে পড়ে। আধুনিক প্রযুক্তির ফলে গ্রামবাংলায় ঢেঁকির ব্যবহার কমে গেছে।

ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের গুলুনুর বেগন বলেন, আগে আমরা ঢেঁকি দিয়ে বিভিন্ন খাদ্যদ্রবাদী মাড়াই করেছি। আগে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ঢেঁকিতে চালের আটা তৈরি করতে আসত। কিন্তু এখন আর তেমন কেউ আসে না। এখন সবাই মেশিনে চাল মাড়াই করে।

মনপুরা উপজেলার সাকুচিয়া গ্রামের সাফিয়া খাতুন বলেন, ঢেঁকি চাটা চাল খুবই সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত। এখন ডাক্তাররা আমাদের এ চালের ভাত খাওয়ার পরামর্শ দেন। ঢেঁকি চাটা চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি পিঠা অনেক সুস্বাদু হতো। যদিও এখন আর আগের মতো প্রতি বাড়িতে কাঠের ঢেঁকি পাওয়া যায় না, যার কারণে একটু কষ্ট করে হলেও কয়েক বাড়ি পেরিয়ে নিজেদের ইচ্ছে মত প্রয়োজনের সময় আমাদের ঢেঁকিতে চাল ও পিঠার গুঁড়ো ভানতে হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে আগামী প্রজন্ম যাতে বাংলার এসব সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের মেলবন্ধন স্থাপন করতে পারে, সে জন্য সরকারি বা বেসরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।




বরিশালে ভূমি অফিসে ঝুলছিলো সার্ভেয়ারের মৃতদেহ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) অফিসের সার্ভেয়ার জসিম উদ্দিন খানের (৪৬) ঝুলন্ত মরদেহ।

রবিবার (৭ আগষ্ট) দিবাগত রাত ৯ টার দিকে দিকে নিজ অফিস থেকে উদ্ধার করেছে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ।

মৃত জসিম উদ্দিন বিগত চার বছর যাবৎ ওই অফিসে সার্ভেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন,বরিশাল বাবুগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ অলিউল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ভূমি অফিসের তৃতীয় তলার অফিস কক্ষ থেকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় থানা পুলিশ সার্ভেয়ার জসিম উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে আত্মহত্যা মনে হলেও তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে জানিয়ে ওসি আরও জানান, সার্ভেয়ার জসিম উদ্দিনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আজ সোমবার সকালে মর্গে প্রেরণ করা হবে।

নৈশপ্রহরী নিখিল জানান, রোববার রাত ৭টার দিকে তাকে হোটেল থেকে ভাত নিয়ে আসার জন্য বলেন সার্ভেয়ার জসিম। খাবার নিয়ে এসে কক্ষ ভিতর থেকে আটকানো পেয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন। বেশ অনেকক্ষণ ধরে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেন।

তবে,প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের ধারনা সার্ভেয়ার জসিম উদ্দিনকে কেউ পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

কারণ হিসেবে তারা আরও জানান, সার্ভেয়ার জসিম উদ্দিনের মরদেহ অফিসের নিজ কক্ষের ফ্যানের সাথে ঝুলছিলো। তবে তার পা ছিলো টেবিলের ওপর। ফলে জসিম উদ্দিনের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।




রিসেট বাটনে পুশ’: বদলি করা হলো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উর্মিকে

বরিশাল অফিস :: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনায় পড়া লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী তাবাসসুম উর্মিকে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

রোববার (৬ অক্টোবর) দিনগত রাতে লালমিনরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দারের সই করা এক আদেশে তাকে এ বদলি করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ড. ইউনূসকে নিয়ে তাপসী তার ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘সাংবিধানিক ভিত্তিহীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, রিসেট বাটনে পুশ করা হয়েছে। অতীত মুছে গেছে। রিসেট বাটনে ক্লিক করে দেশের সব অতীত ইতিহাস মুছে ফেলেছেন তিনি। এতই সহজ! কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে আপনার, মহাশয়।’

বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী বলেন, ‘আমি পোস্ট দিয়েছি, এটিই তো যথেষ্ট। অনলি মি করেছি, বিভিন্ন কারণে হতে পারে।’ পরে তিনি বলেন, ‘এ বিষয় আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

তাপসী তাবাসসুম উর্মির ফেসবুকে গিয়ে দেখা গেছে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বেশ কিছু স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। এছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েও তার দেওয়া কিছু স্ট্যাটাস চোখে পড়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপসীকে অলরেডি রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় বদলি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত সরকার নেবে।




সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সাবেক মুখ্য সচিব ও সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) রেজাউল করিম মল্লিক তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

রোববার (৬ অক্টোবর) রাতে ঢাকা থেকে নজিবুরকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার (৭ অক্টোবর) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হতে পারে। তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২০১৫ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ পান নজিবুর রহমান৷ ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নতুন মুখ্য সচিব করা হয়।

তিনি ১৯৮২ নিয়মিত ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। কর্মজীবনে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছিলেন তিনি।




পায়রা সমুদ্রবন্দরের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প – দ্বিতীয় দফায় ব্যয় বাড়ছে ১৫৫৫ কোটি টাকা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দ্বিতীয় দফায় ১৫৫৫ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ছে ‘পায়রা সমুদ্রবন্দরের প্রথম টার্মিনাল এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ’ প্রকল্পে। এটি মোট ব্যয়ের ৩৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি। এক্ষেত্রে চুক্তির ফাঁকফোকর দিয়ে দাম সমন্বয়ের নামে অতিরিক্ত ৪২১ কোটি টাকা দাবি করেছেন ঠিকাদাররা।

তবে এজন্য করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলারের দাম এবং পণ্যমূল্য বৃদ্ধির অজুহাত দেওয়া হয়েছে। তাই প্রকল্পটি দ্বিতীয়বার সংশোধন করতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে মেয়াদও বাড়ছে দেড় বছর। অর্থাৎ প্রকল্পের কাজ চলবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রস্তাবটি নিয়ে পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা করেছে পরিকল্পনা কমিশন। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ বলেন, চুক্তিতে প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্টের সুযোগ দেওয়া থাকলে কিছু করার নেই। তবে ঠিকাদার যে বিল দাখিল করেছে এবং ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়ে যাওয়ায় যে বর্ধিত ব্যয় ধরা হয়েছে সেগুলো পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষ যাচাই করবে। এছাড়া যাচাইয়ের দায়িত্ব রয়েছে পরিকল্পনা কমিশনেরও। এক্ষেত্রে চুক্তি মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বিশ্লেষণ ও যাচাই করতে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) একটি টিম গঠন করে দিতে পারেন। কারণ দেড় হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি তো একবারেই সাধারণ কোনো বিষয় নয়। এক্ষেত্রে ব্যয়বৃদ্ধির বিষয়টি বিশ্লেষণ ও যাচাই করতে সব পক্ষের সিরিয়াসনেস দরকার।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৯৮২ কোটি ১০ লাখ টাকা। পরে প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে বাড়িয়ে করা হয় ৪ হাজার ৫১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এখন দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ১ হাজার ৫৫৫ কোটি ১১ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ৬ হাজার ৭১ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এদিকে প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। এখন আবার নতুন করে দেড় বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এটি বাস্তবায়ন করছে নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পটি হচ্ছে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের আওতায় জেটি নির্মাণের জন্য ঠিকাদার সিআরসিসি হারবার-সিসিইসিসি (জেভি) এর সঙ্গে ২০২০ সালের ২৭ জুলাই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এতে চুক্তি মূল্য ছিল ৯১৬ কোটি ৯৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এ সময় করোনা মহামারি এবং লকডাউন ছিল। পরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ১৮ মাসের বেশি হলে নিয়ম অনুযায়ী চুক্তিতে প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্টের সংস্থান রাখা হয়। ঠিকাদার প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্টের বিল বাবদ ১৫৫ কোটি ৪৩ লাখ ১২ হাজার এবং ডলারের মূল্য বাড়ায় ১৬১ কোটি ২১ লাখ ৭৫ হাজার টাকাসহ মোট দিয়েছে ৩১৬ কোটি ৬৪ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এসব মিলিয়ে আগের এবং নতুন বিল মিলে ঠিকাদারের মোট চুক্তি মূল্য দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ২৩৩ কোটি ৫৯ লাখ ২৩ হাজার টাকা। ঠিকাদারের দেওয়া বিল পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দিয়ে যাচাই করা হয়েছে।

এছাড়া ইয়ার্ড নির্মাণ অংশের ২০২০ সালের ২৯ জুন চুক্তি করা হয় সিএসআইসি ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির সঙ্গে। চুক্তি মূল্য ছিল ১ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। এখানেও চুক্তির মেয়াদ ১৮ মাসের বেশি হলে প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্টের সুযোগ রাখা হয়। দ্রব্যমূল্য বাড়ায় ঠিকাদার প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট বাবদ বিল দিয়েছে ১৭১ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে ডলারের দাম বাড়ায় ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করতে অতিরিক্ত ৩৭ কোটি ৪৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকা প্রয়োজন। এই দুটি মিলে ২০৮ কোটি ৫৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। সব মিলিয়ে ঠিকাদারের মোট চুক্তি মূল্য দাঁড়াবে ১ হাজার ২৪২ কোটি ৯৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

আরও জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় আন্ধারমানিক নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ কাজ ডিপোজিটরি ওয়ার্ক হিসাবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মাধ্যমে করার পরিকল্পনা ছিল। সড়ক ও জনপথ বিভাগ দুই বছরের বেশি সময়েও ঠিকাদার নিয়োগে ব্যর্থ হয়। এজন্য পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ দরপত্র আহ্বান করে। ব্রিজটি তৈরির জন্য সিআরবিজি-সিসিইসিসি (জেভি) এর সঙ্গে চুক্তি হয়। মোট চুক্তি মূল্য ছিল ৯৪৩ কোটি ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। চুক্তি মেয়াদ ১৮ মাসের বেশি হলে প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্টের বিধান রাখা হয়। ফলে এখন প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট বাবদ বাড়বে ৯৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং ডলারের মূল্য বৃদ্ধির জন্য ১১৯ কোটি ৮৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। দুটি মিলে মোট বাড়বে ২১৪ কোটি ২০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। ফলে আগের চুক্তি মূল্য ও নতুন অতিরিক্ত অর্থ মিলে ঠিকাদারের মোট চুক্তি মূল্য হবে ১ হাজার ১৫৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ইকুইপমেন্ট কেনাকাটায় দরপত্রদাতাদের দর প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে বেশি হয়। সেই সঙ্গে মামলাজনিত কারণে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি। পরে করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য অনেক বেড়ে যায়। এছাড়া ডলারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প প্রস্তাবে যে দাম ধরা হয়েছিল তা বেড়ে এই খাতে ব্যয় দাঁড়াবে ৫৪৪ কোটি ৩৯ লাখ ৩১ হাজার ১৪৭ টাকা। পাশাপাশি পরামর্শকের মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে ব্যয় বাড়বে ৩০ কোটি ৭৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। এছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ার কারণে বেশ কিছু খাতে ব্যয় বেড়ে যাবে। সব মিলে ব্যয় বৃদ্ধির পরিমাণ দেড় হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে।




বাংলাদেশে খাদ্যনিরাপত্তায় সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বাংলাদেশে খাদ্যনিরাপত্তায় সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি আর্লিংটন ও ভার্জিনিয়া। এই অনুদান তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হিমাগারের সরবরাহ ব্যবস্থার নেটওয়ার্ক স্থাপনে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশে প্রস্তুত খাদ্য এবং কোল্ড চেইন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বন্টন ফুডস লিমিটেডকে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ইউএসটিডিএ)।

সমীক্ষার লক্ষ্য হলো দুগ্ধজাত পণ্য, মাংস ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের খরচ এবং ক্ষতি কমানো; যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে। বন্টন ফুডস মিনেসোটাভিত্তিক ল্যান্ড ও লেকস ভেঞ্চার ৩৭-কে এই সমীক্ষা পরিচালনার জন্য নির্বাচন করেছে।

ইউএসটিডিএর পরিচালক এনোহ টি ইবং বলেছেন, বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এনোহ টি ইবং আরও বলেন, ‘বন্টন ফুডসের সঙ্গে আমাদের অংশীদারি জনগণের চাহিদা পূরণ করে এমন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি তৈরিতে সহায়তা করবে। তাজা খাদ্যের প্রাপ্যতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, আমরা তা দেখাতে পারব বলে আশাবাদী।’

বন্টন ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহমেদ বলেন, শুধু ঢাকাতেই ২ কোটি মানুষ। বাড়তে থাকা উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং ভোক্তাদের বদলে যাওয়া ধরন কোল্ড চেইন শিল্পের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়।

শামীম আহমেদ আরও বলেন, ‘ছোট ও মাঝারি কৃষি ব্যবসা, আন্তর্জাতিক খাদ্য আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের জন্য তৃতীয় পক্ষের লজিস্টিক সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আমাদের অবস্থানকে কাজে লাগাতে আগ্রহী।’

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হেলেন লাফেভ বলেন, বাংলাদেশে যথাযথ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত সরবরাহ ব্যবস্থার অভাবে ফসল কাটার পর ক্ষতি হয়; যা খাদ্যনিরাপত্তায় প্রভাব ফেলে এবং কৃষি ও ভোক্তাপণ্যের বাণিজ্যকে সীমিত করে। কোল্ড চেইন অবকাঠামো বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনকারীদের তাদের কৃষিপণ্যের নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিত করে রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ দেবে।

হেলেন লাফেভ আরও বলেন, এই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কোল্ড চেইনে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ চিহ্নিত করবে; যা বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোক্তা চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের হিমায়িত পণ্যের জন্য একটি স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থার নেটওয়ার্ক তৈরি করবে।

ইউএসটিডিএর এই সমীক্ষা বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসনের অগ্রাধিকার, যেমন ফিড দ্য ফিউচার উদ্যোগের লক্ষ্যগুলোকে এগিয়ে নিতে সহায়ক।

ইউএসটিডিএ উদীয়মান অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ও পরিষেবা রপ্তানির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করে। ইউএসটিডিএ প্রকল্প প্রস্তুতি ও অংশীদারত্ব গঠন কার্যক্রমে অর্থায়নের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাকে রপ্তানি সুযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করে; যা টেকসই অবকাঠামো এবং অংশীদার দেশগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এনে দেয়।




ভারতীয় গণমাধ্যম গণঅভ্যুত্থান নিয়ে উদ্দেশমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে – তথ্য উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা (ভারতীয় গণমাধ্যম) বাংলাদেশের এ অভ্যুত্থানকে একধরনের ইসলামি উগ্রবাদের সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে ইসলামি উগ্রবাদ তৈরি হলে ভারতের যারা উগ্রবাদী রয়েছে, তাদের জন্য সহায়ক হয়। সেই জায়গা থেকে এই অপপ্রচার চালানো হয়ে থাকতে পারে।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব বলেন নাহিদ ইসলাম। এসময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলমকে নিয়ে ভারতের দুটি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আপনারা দেখবেন, আমাদের এই আন্দোলনের অন্যতম একজন মাহফুজ আলমকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। ভারতের পত্রিকা ইকোনমিক টাইমস কোনো ধরনের তথ্য প্রমাণ ছাড়া তাঁকে হিজবুত তাহরীর সদস্য হিসেবে অভিহিত করে। আমরা দেখলাম, সেই একই সুর আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রতিফলিত হয়েছে। একই সুরে কথা বলছেন তসলিমা নাসরিন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ভারতের যারা গণতন্ত্রকামী মানুষ রয়েছেন, তাঁরাও এসবের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাবেন বলে আশা করি। আমরা যদি গণতান্ত্রিক দক্ষিণ এশিয়া গড়তে চাই, তাহলে অবশ্যই আমাদের এ ধরনের প্রোপাগান্ডা, মিসইনফরমেশন ও মিথ্যা বয়ানের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে, দাঁড়াতে হবে।




রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়ল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় অক্টোবর মাসের প্রথম ৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৫ হাজার ৯৬ কোটি টাকা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ৮ কোটি ৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

রোববার (৬ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, অক্টোবর মাসের প্রথম ৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১০ কোটি ৮০ লাখ ২০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ১ কোটি ৫০ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩০ কোটি ২ লাখ ডলার ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৪ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

এর আগে, গত জুন মাসে ২৫৩ কোটি ৮৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসার পর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসী আয় এসেছিল প্রায় ১৯১ কোটি মার্কিন ডলার, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম আয় ছিল।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মাস আগস্টে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। আর সেপ্টেম্বরে পাঠান ২৪০ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশীয় মুদ্রায় ২৮ হাজার ৮৫৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

ব্যাংকাররা বলেন, নতুন সরকারের শুরু থেকে প্রবাসীরা হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠানো কমিয়ে দিয়েছেন। এখন তারা লাইনে দাঁড়িয়ে হলেও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। যার কারণে দেশে প্রবাসী আয় ব্যাপক পরিমাণে বাড়ছে।




বসুন্ধরার চেয়ারম্যান ও এমডিসহ আট জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ : বিএফআইইউ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরসহ তাঁদের পরিবারের ৮ সদস্যের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাদের সবার ব্যাংক হিসাব ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করতে রোববার সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে।

ব্যাংক হিসাব স্থগিত রাখার তালিকায় থাকা অন্য সদস্যরা হলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের ছেলে সাদাত সোবহান, সাফিয়াত সোবহান, সায়েম সোবহান আনভীর ও সাফওয়ান সোবহান এবং তিন পুত্রবধূ সোনিয়া ফেরদৌসী সোবহান, সাবরিনা সোবহান ও ইয়াশা সোবহান।

চিঠিতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে, এই ৮ জনের নামে একক মালিকানাধীন কোনও প্রতিষ্ঠান থাকলে তার ব্যাংক হিসাবও ১ মাসের জন্য স্থগিত রাখতে হবে। এসব ব্যক্তি ও তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকে থাকা হিসাবে যত ধরনের লেনদেন হয়েছে তার তথ্যও চেয়েছে বিএফআইইউ।

এছাড়া বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালকদের ও তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ থাকলে তার হিসাব নম্বর, ঋণের বর্তমান স্থিতি, খেলাপি থাকলে তারও তথ্য পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছে বিএফআইইউ। পাশাপাশি আমদানি বা রফতানি সংক্রান্ত তথ্য বিশেষ করে আমদানি বা রপ্তানির বিলের বিস্তারিত তথ্য, লকার সংক্রান্ত তথ্য চিঠি পাওয়ার দুই কর্মদিবসের মধ্যে বিএফআইইউতে পাঠাতে বলা হয়েছে।




প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিল ভারত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: শরিফুলের প্রথম ওভারে ১০ রান। তাসকিনের প্রথম ওভারে ১৫ রান। মুস্তাফিজের প্রথম ওভারে খরচ ১২ রান। পাঁচ ওভারের আগেই ভারতের স্কোরবোর্ডে রান ৫০। ব্যস ওখানেই ঝটপট ম্যাচ জেতার পথ পেয়ে গেল ভারত।

নাকি আরো আগে? বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময়? তাও ঠিক, জয়ের জন্য ১২৮ রান এই ভারতীয় দলের জন্য তো মামুলি টার্গেটই। গোয়ালিওরের যে উইকেটে বাংলাদেশ খানিক আগে রানের জন্য সংগ্রাম করছিল সেখানেই ভারতীয় ব্যাটাররা হেসেখেলে খুনে মেজাজে রান তুলে গেলেন।

দু’দলের ব্যাটিংয়ের এই ভিন্ন চিত্রই এই ম্যাচের আসল ব্যবধান গড়ে দিল। সিরিজের প্রথম টি- টোয়েন্টি জিতল ভারত অনায়াসে, ৭ উইকেটে।

বাজে ব্যাটিংয়ের পর বাজে বোলিং। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে দ্রুতই এই ম্যাচটা ভুলে যেতে চাইবে বাংলাদেশ। ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ১৪ বলে ২৯ রান তুলে আউট হওয়ার আগে ব্যাট হাতে যা করলেন তাকে বলে ছেলেখেলা। বাংলাদেশের বোলিং তার ব্যাটের কাছে মনে হচ্ছিল হাতের মোয়া! ২৯ রানের এই ইনিংস খেলতে সূর্যকুমার তিনটি ছক্কা ও দুটি বাউন্ডারি হাঁকান। লেগসাইডের ওপর দিকে হাঁকানো তার গ্ল্যান্স শটের ছক্কা দেখে ধারাভাষ্যকক্ষে বসা তামিম ইকবাল বিস্মিত গলায় বলেন-‘ ওকে আটকাকে কে, ও তো সেরা বলেও ছক্কা মারে!’।

সূর্যকুমারের গড়ে দেওয়া মারকাটারি ইনিংসের ওপর দাড়িয়ে ওপেনার স্যাঞ্জু স্যামসন ভারতের জয়ের পথ আরো সহজ করে দেন। আর হার্দিক পান্ডিয়ার ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল বলের সুতো খুলে ফেলতে নেমেছেন তিনি! করলেনও তাই। ১৬ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করেন ভারতীয় অলরাউন্ডার।

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ দল প্রথম ওভারেই লিটন দাসকে হারায়। আরশদীপের বলে স্টিয়ার শটে বাউন্ডারি মারার পরের বলেই লিটন দাসের মনে হলো এবার উড়িয়ে মারি! আর যেই ভাবা সেই কাজ করতে গিয়ে তিনি যে ভঙ্গিতেই সেই শট খেললেন তার রিপ্লে দেখলে নিজেই লজ্জা পাবেন। বল ব্যাটের কানায় লেগে আকাশে উঠে। রিঙ্কু সিং সহজ ক্যাচ ধরেন। ২ রানে ৪ রান করে লিটন ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটা ধরেন।

শান্ত লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং করলেও সেটা কখনোই টি-টোয়েন্টি মেজাজের কিছু ছিল না। আরেক ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন, মিডলঅর্ডারে তাওহীদ হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ, জাকের আলী অনিক-প্রত্যেকেই দৃষ্টিকটু ভঙ্গিতে আউট হন।

শেষের দিকে মেহেদি হাসান মিরাজ ব্যাট হাতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ায় বাংলাদেশের স্কোর একশ’র ওপর যায়। কিন্তু ১২৭ রানের এই সামান্য সঞ্চয় নিয়ে ভারতীয় দলকে চ্যালেঞ্জ জানানো যায় না। গোয়ালিওরে ৭ উইকেটের হারে সেই শিক্ষা নিয়েই ফিরলো বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-
বাংলাদেশ: ১২৭/১০, ১৯.৫ ওভার (ইমন ৮, লিটন ৪, শান্ত ২৭, হৃদয় ১২, মাহমুদউল্লাহ ১, জাকের ৮, মিরাজ ৩৫*, রিশাদ ১১, তাসকিন ১২, শরিফুল ০, মুস্তাফিজ ১; আরশদীপ ৩/১৪, হার্দিক ১/২৬ বরুণ ১/৩১, মায়াঙ্ক ১/২১, সুন্দর ১/১২)।
ভারত: ১৩২/৩ ১১.৫ ওভার (স্যামসন ২৯, সূর্যকুমার ২৯, পান্ডিয়া ৩৯*)।
ফল: ভারত ৭ উইকেটে জয়ী।