পটুয়াখালীর বিএনপি প্রার্থীদের গুলশান ডাক: আজ তারেক রহমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়নপ্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোচ্ছে। এবার পটুয়াখালীর চারটি আসনের আটজন মনোনয়নপ্রত্যাশীকে ডেকেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।

দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রতিটি আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে ( ভিডিও কনফারেন্স)  এর মাধ্যমে সরাসরি কথা বলবেন তারেক রহমান। এই বৈঠককে মনোনয়ন চূড়ান্ত করার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই প্রার্থীরা চূড়ান্ত মনোনয়নের সবুজ সংকেত পাবেন।

পটুয়াখালী জেলা থেকে গুলশান বৈঠকে ডাকা হয়েছে—

পটুয়াখালী-১ (সদর-দুমকী-মির্জাগঞ্জ) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে।

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদারকে।

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) থেকে নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন এবং

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন ও কলাপাড়া বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনিরকে।

বাউফল আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মুনির হোসেন বলেন,
“আমাদের সোমবার বিকেল ৪টায় গুলশান অফিসে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। তবে কে মনোনয়ন পাবেন বা কবে চূড়ান্ত হবে—এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।”

একই কথা বলেন সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার ও জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি। তাদের ভাষ্য, বৈঠকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন,
“এটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ। বিএনপির মতো বড় দলে প্রতিটি আসনে একাধিক যোগ্য নেতা রয়েছেন। সবাই মনোনয়ন পাবেন না, দলীয় পদ্ধতিই চূড়ান্ত করবে যোগ্য প্রার্থীকে।”

তিনি আরও বলেন,
“বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। এমপি হওয়াই শেষ কথা নয়—ধানের শীষের বিজয়ই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

দলীয় একটি সূত্র জানায়, বৈঠকে শুধুমাত্র মনোনয়নপ্রত্যাশীদের যোগ্যতা, সাংগঠনিক অবস্থান ও নির্বাচনী সক্ষমতা যাচাই করা হবে। এরপরেই মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানো হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই বৈঠক আসন্ন নির্বাচনে দক্ষিণাঞ্চল—বিশেষ করে পটুয়াখালী জেলায় প্রার্থিতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিদেশে গ্রাহকের মোটা অঙ্কের ডলার খরচ, ব্যাংক এশিয়াকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা

বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা বিধি থাকা সত্ত্বেও, ব্যাংক এশিয়ার কয়েকজন গ্রাহক সেই সীমা লঙ্ঘন করে বিদেশে বিপুল পরিমাণ ডলার ব্যয় করেছেন। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি ব্যাংক এশিয়াকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, একজন বাংলাদেশি নাগরিক বছরে সর্বোচ্চ ১২ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিদেশে ব্যয় করতে পারেন। কিন্তু ব্যাংক এশিয়ার কয়েকজন গ্রাহক ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি অর্থ বিদেশে খরচ করেছেন, যা স্পষ্টতই নিয়মবহির্ভূত। বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানলেও গোপন রেখেছে এবং অনিয়মের সুযোগ দিয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগ সম্প্রতি ব্যাংকটির দুটি রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাব পরিদর্শন করে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সেখানে বিপুল পরিমাণ মার্কিন ডলার জমা হয় এবং পরে সেই অর্থ বিদেশে খরচ করা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, এক গ্রাহক ফারহানা করিম পুরোনো ভ্রমণ তারিখ দেখিয়ে একই দিনে একাধিকবার ১০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ জমা দেন। আরও আশ্চর্যের বিষয়, বিদেশে অবস্থানকালেও দেশের ভেতর থেকে তার নামে ডলার জমা হয়েছে, যা স্পষ্টতই বেআইনি। এভাবে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার জমা হয় তার হিসাবে, যা পরে বিদেশে ব্যয় করা হয়।

অন্যদিকে, আলায়না চৌধুরী নামে আরেক গ্রাহক বিদেশে থাকাকালীন তার পক্ষে অন্য একজন ব্যাংকে গিয়ে ৬৮ হাজার ডলার জমা দেন। পরে সেই অর্থও বিদেশে ব্যবহার করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব লেনদেন “সম্পূর্ণ নিয়মবিরোধী”। দেশীয় কার্ব মার্কেট থেকে সংগৃহীত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা করা হলেও এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশে খরচ করা, যা ব্যাংকের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়।

এই অনিয়মের দায়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ব্যাংক এশিয়াকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সোহেল আর কে হুসেইন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “ঘটনাটি ঘটেছে যখন আমি এমডি ছিলাম না। তবে যতটুকু জানি, দুই গ্রাহকের ক্ষেত্রে নিয়মের অতিরিক্ত অর্থ জমা হয়েছিল। আইন অনুযায়ী ঘোষণা ছাড়া ডলার গ্রহণের সুযোগ নেই। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের জরিমানা করেছে, এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম ঠেকাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের অনিয়ম শুধু ব্যাংকিং চ্যানেলের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করছে না, বরং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা মনে করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের আরএফসিডি হিসাবের ওপর আরও কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সব ব্যাংকের আরএফসিডি হিসাব ও কার্ড লেনদেন কার্যক্রম পুনরায় পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী জুড়ে অনুমোদনহীন ক্লিনিকের রাজত্ব, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে লাখো মানুষ

পটুয়াখালী জেলায় স্বাস্থ্যসেবার নামে চলছে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব। জেলায় দিন দিন গজিয়ে উঠছে অসংখ্য বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কিন্তু এর বড় একটি অংশই পরিচালিত হচ্ছে সরকারি অনুমোদন বা নবায়ন ছাড়াই। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষ পড়ছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পটুয়াখালীতে বর্তমানে ২৪০টি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৮১টির লাইসেন্স বৈধ। বাকি ১৫৯টি প্রতিষ্ঠান কোনো অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের অধিকাংশই সরকারি চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রভাবশালী কর্মকর্তারা। সরকারি দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগত ক্লিনিক চালিয়ে তারা গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদ, বিলাসবহুল বাড়ি এবং অ্যাপার্টমেন্ট।

সরকারি হাসপাতালে রোগীরা গেলে, অনেক চিকিৎসক নানা অজুহাতে তাদের নিজেদের ক্লিনিকে পাঠান। সেখানে চিকিৎসা বা সিজার অপারেশনের নামে গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে পড়ছে।

পটুয়াখালী পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় “পটুয়াখালী ইসলামী চক্ষু হাসপাতাল” নামের একটি প্রতিষ্ঠান কোনো অনুমোদন ছাড়াই তিন বছর ধরে চোখের অপারেশন করছে। মাসে ৩০ থেকে ৫০ জন রোগীর চোখের সার্জারি করা হয় বলে স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া শহরের বাধঘাট এলাকায় অবস্থিত “পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার”-এ এমবিবিএস চিকিৎসক না থাকলেও একজন ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী নারী রোগী দেখছেন, প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন এমনকি অ্যান্টিবায়োটিকও লিখছেন। ল্যাব টেকনিশিয়ান বা টেকনোলজিস্টও সেখানে স্থায়ীভাবে পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. সুমন বলেন, “আমরা ছোট পরিসরে ব্যবসা করছি। আত্মীয় এমবিবিএস পাশ করেছে, তাকে বসাবো শিগগিরই।”

গলাচিপা উপজেলা হাসপাতাল রোডে “নিউ লাইফ ক্লিনিক” নামের প্রতিষ্ঠানের ভবনের সামনে দুর্গন্ধযুক্ত নর্দমা সংলগ্ন পুকুর রয়েছে। পাশাপাশি এটির অনুমোদনের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে গত অর্থবছরে।

রোগী হামিদা বেগম বলেন, “বাধঘাটের পপুলার ডায়াগনস্টিকে রক্ত পরীক্ষা করাই, রিপোর্ট ভুল আসায় ঢাকায় গিয়ে দেখি সেটি ভুয়া। এতে আমি বিপাকে পড়েছি।”

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অনিয়ম পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনুমোদনহীনভাবে রোগী ভর্তি বা চিকিৎসা আইন লঙ্ঘন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. খালিদুর রহমান মিয়া জানান, “আমরা ইতোমধ্যে চারটি উপজেলার তথ্য সংগ্রহ করেছি। বাকিগুলোর কাজ শেষ করেই অভিযানে নামবো। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

পটুয়াখালী জুড়ে এভাবে অনুমোদনবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বেপরোয়া কার্যক্রমের কারণে সাধারণ মানুষ আজ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে অভিযানের মাধ্যমে এসব অনিয়ম বন্ধ না হলে স্বাস্থ্যসেবা খাত পুরোপুরি অরাজকতায় নেমে যেতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সালিশের নামে শিক্ষার্থীসহ ৫ জনের মাথা ন্যাড়া করলেন ইউপি সদস্য

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের মধ্য চতলাখালী গ্রামে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে এবং নির্দেশে পাঁচ তরুণের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার  সকালে প্রায় শতাধিক লোকের সামনে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে ও ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার পটভূমি ছিল জমিজমা সংক্রান্ত শত্রুতা। মনির গোলদার ও মোজাম্মেল মৃধার মধ্যে পূর্বের জমিজমা সূচক বিরোধ এবং এর জেরে একপর্যায়ে তাদের ছেলে-পুল্লেরা বিবাদে জড়ায়। শনিবার রাতে দু’পক্ষের কথা কাটাকাটির পর রোববার সকালে ইউপি সদস্য রেশাদ খলিফা উপস্থিতিতে খুতির বাজারে সালিশ বসে। সালিশে ওই ইউপি সদস্য পাঁচ তরুণ—রাব্বি (১৮), রিয়ান (২১), রাতুল (১৭), শাকিল (১৯) ও নয়ন সরদার (১৮)—কে ‘বখাটে’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের চুল কেটে দেয়ার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নাপিত ডেকে এনে সদস্য নিজে উপস্থিত থেকে মাথা ন্যাড়া করানো হয়; ঘটনাটি ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগীদের বয়ান অনুযায়ী তারা বানানবিরোধ থামানোর উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, কিন্তু সালিশের নামে তাদের নিজেদেরই অপমান করা হয়েছে। নয়ন সরদারের মা ঝর্ণা বেগম কেঁদে বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি; তিনি মারামারি থামাতে গিয়েছিলেন। নিয়োমিতভাবে আমাকে ডেকে জানানো হতো কিন্তু কেউ ডাকেনি—শুধু এসে আমার ছেলের চুল কেটে ফেলা হয়েছে।’ রাব্বির মা মাহফুজাও বলছেন, মূল বিরোধের সূত্রই জমিজমা; তাদেরই উপর অতিরিক্ত মানহানি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রেশাদ খলিফা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ছিলাম না, আমি জানি না’—তথ্যসমূহ সম্পর্কে তিনি নিজেকে দুর্বল অবস্থায় উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে সালিশ (গ্রাম আদালত) পরিচালনার স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে সালিশ বসানো অনুচিত ও আইনবিরোধী; গ্রাম আদালত পরিচালনারও নির্দিষ্ট বিধি-নির্দেশনা রয়েছে এবং তা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার ঘটনাটি শুনেছেন বলে নিশ্চিত করে বলেন, ‘খোঁজখবর নিচ্ছি; সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিব দাশ পুরকায়স্থও ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন এবং প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। স্থানীয় আইনজীবীরা এই ধরনের জনসম্মুখে অপমানে দণ্ড দেওয়া—কোনও আইনগত শাস্তি নয়—বলেই মন্তব্য করেছেন; তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটি ব্যক্তিগত মর্যাদা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন।

স্থানীয়দের অভিমত—জনপ্রতিনিধি কিংবা দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি নিজেই আইনবহির্ভূত কর্মে অংশগ্রহণ করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় ন্যায়বিচার খুঁজবে? বহু পরিবারের সদস্যরা লজ্জায় ও উদ্বেগে ভেঙে পড়েছেন; কিছু পরিবার এই ঘটনায় আইনি পথে বিচার চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, কেউ কেউ স্থানীয় প্রভাবের ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না।

আইনগত বিশ্লেষণ করেছে স্থানীয় অ্যাডভোকেটরা—গ্রাম আদালতের মাধ্যমে জরিমানা বা মধ্যস্থতা করা গেলেও কাউকে জনসম্মুখে অপমান করা, জোর করে চুল কাটা বা প্রকাশ্যে হেয় করা বাংলাদেশের আইনের চোখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে। যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘটনাস্থলের সামাজিক পরিবেশ বিবেচনায় স্থানীয় নেতারা ও মানবাধিকারকর্মীরা প্রশাসনকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে—যাতে ভবিষ্যতে কোনো জনপ্রতিনিধি বা প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজের বিচার-হাতে তুলে না নিতে পারে এবং গ্রামের সাধারণ মানুষ নিরাপদে ন্যায়বিচার পাবেন।

এ ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে; তদন্ত শেষে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে সিদ্ধান্ত নেবে তা সবার সামনে প্রকাশ করা হবে এবং প্রমাণিত দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বৃদ্ধিতে আইএমএফের প্রশংসা

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক উন্নয়ন হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, রিজার্ভের এই বৃদ্ধি কেবল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতীকই নয়, বরং আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির লক্ষ্য পূরণের দিকেও বড় একটি অগ্রগতি।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) হংকংয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপ-পরিচালক থমাস হেলব্লিং বলেন, “রিজার্ভের সঞ্চয় আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশ এখনো পেমেন্ট ভারসাম্যের চাপে রয়েছে, তাই এই রিজার্ভ বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, “রিজার্ভ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক পেমেন্ট ভারসাম্যের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্রচেষ্টা ও সফলতাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।”

হেলব্লিং জানান, চলতি মাসেই ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির পঞ্চম পর্যালোচনার অংশ হিসেবে আইএমএফের একটি উচ্চপর্যায়ের দল বাংলাদেশ সফর করবে। দলটি মাঠপর্যায়ে মূল্যায়নসহ বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করবে এবং দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপগুলো ঘোষিত বিনিময় হার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা।

আইএমএফের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৭.৩৫ বিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের ১৯.৯৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ৭.৪ বিলিয়ন ডলার বেশি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রিজার্ভ বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক লেনদেন, আমদানি ব্যয় ও মুদ্রা বিনিময় নীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরবে। এতে দেশীয় অর্থনীতিতে আস্থা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কৌশলগত পদক্ষেপের ফলে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি আইএমএফ ও অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে নিচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলায় পৌরসভার ৩ গাড়িতে আগুন, ১৫ জন আহত

ভোলা শহরের নতুন বাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের সময় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকাল পৌনে ৫টার দিকে পৌরসভার তিনটি ময়লা ও মালামাল পরিবহনের গাড়িতে আগুন দেয়া হয়।

এই ঘটনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিকালে পৌরসভার কর্মীরা নতুন বাজার চত্বরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনের পাশে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করতে গিয়ে মালামাল তোলার সময় বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়েন। বাগবিতণ্ডা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

উচ্ছেদ অভিযানের কর্মী আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন, তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং তিনটি গাড়িতে আগুন ধরা হয়েছে। আগুন দেওয়া এলাকায় কোনো একজনকেও যেতে দেওয়া হয়নি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই গাড়িগুলোর বডি ও ইঞ্জিনসহ অনেকাংশ পুড়ে যায়।

ভোলা পৌরসভার প্রশাসক মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অবৈধ দোকান উচ্ছেদের সময় বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা তিনটি গাড়িতে আগুন দিয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ চলছে। তিনি বলেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ঘটনার পর জেলা প্রশাসক আজাদ জাহান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভোলা মডেল থানার ওসি আবু শাহাদাৎ মো. হাছনাইন পারভেজ জানিয়েছেন, উচ্ছেদ অভিযানে আগে থেকে পুলিশ চাওয়া হয়নি, তবে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের জয় দাবি ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানের

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল-১ আসনের মনোনয়নপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেছেন, বিগত ১৭ বছর ধরে পতিত সরকারের সময়ে বিএনপি ও দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ নানা অন্যায়, অবিচার, খুন ও গুমের শিকার হয়েছে। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করে এই দীর্ঘ কষ্টের সুফল ভোগ করতে হবে।

বিগত নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী হিসেবে বরিশাল-১ আসনে অংশগ্রহণকারী আবদুস সোবহান আরও বলেন, “যতবার বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, দেশ ততবারই উন্নয়ন করেছে। তবে পতিত সরকার দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষকে জয়ী করতে হবে।”

শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের গুপ্তেরহাট বাজারে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুস সোবহান বলেন, দেশের গণতন্ত্র যখনই সংকটে পড়েছে, তখনই বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্ব বাংলাদেশকে মুক্তির পথে নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত স্বৈরাচার ক্ষমতা বৈধ করার চেষ্টা করলেও খালেদা জিয়ার দৃঢ় অবস্থানের কারণে অবৈধ সংসদ টিকে উঠতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় খালেদা জিয়ার আপোষহীনতার কারণে বারবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল, তবুও তিনি জনগণকে আন্দোলনের জন্য প্রেরণা দিয়েছেন।

পথসবার পূর্বে আবদুস সোবহান গুপ্তের হাট জামে মসজিদে আছর নামাজ আদায় করেন এবং বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান সহ পরিবারের সুস্থতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া-মিলাদে অংশ নেন।

এরপর গুপ্তেরহাট বাজারে ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ ও ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেন। ভ্যানযোগে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করে তারা গৈলা বাজার, রথখোলা বাজার, বড়বাড়ি বাজার, দরগাহ বাড়ি বাজারে গণসংযোগ চালান।

পথসভায় আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মাহবুবুল ইসলাম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল লোকমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক আকন, যুবদলের আহবায়ক শোভন রহমান মনিরসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জাতিসংঘকে সময়ের সঙ্গে বিকশিত হতে হবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বর্তমান বিশ্বের জটিল বাস্তবতায় জাতিসংঘকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। শান্তি, ন্যায়বিচার ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘকে আরও গতিশীল ও আধুনিক কাঠামোয় রূপান্তরিত হওয়া প্রয়োজন।

(২৪ অক্টোবর) জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘যদি জাতিসংঘ মানবজাতির শান্তি ও সহযোগিতার আকাঙ্ক্ষা পূরণে সত্যিকারের ভূমিকা রাখতে চায়, তবে তাকে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের অভিযোজিত করতে হবে। আমরা এমন এক জাতিসংঘ চাই, যা হবে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সময়োপযোগী।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এই তাৎপর্যপূর্ণ দিনে আমরা অঙ্গীকার করছি যে জাতিসংঘ সনদে কল্পিত শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বিশ্ব গড়তে বাংলাদেশ তার দায়িত্ব অব্যাহত রাখবে।’

অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ ও অংশীদারদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘এই দিনটি ভয় ও অভাবমুক্ত বিশ্ব গড়ার অঙ্গীকার পুনর্নবায়নের একটি সুযোগ। জাতিসংঘের সহযোগিতা ও ঐকমত্যের যে চেতনা, সেটিই মানবতার প্রকৃত ভিত্তি।’

তিনি আরও বলেন, গত আট দশকে জাতিসংঘ তার কর্মকাণ্ডের পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে এবং বিশ্বের শান্তি, নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা পালন করেছে।

১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে যোগদানের পর বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল ও অবদানশীল সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ শান্তির সংস্কৃতির পতাকা হাতে নিয়ে জাতিসংঘের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মিশনগুলোতে অংশ নিয়েছে। আমাদের বহু সাহসী শান্তিরক্ষী বিশ্বশান্তির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেই হোক—বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নতি করতে চায়। কিন্তু বর্তমানে একতরফা সিদ্ধান্ত ও দ্বিপাক্ষিক বৈষম্যের কারণে বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা বাড়ছে।’

বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও মানবিক বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আজকের বিশ্ব গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। চরম জাতীয়তাবাদ এবং মানবিকতার প্রতি উদাসীনতা বহু বছরের অর্জিত অগ্রগতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।’

গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞ ও মানবিক সংকটের কথা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘আজ বিশ্ববাসী গাজার এক ভয়াবহ গণহত্যার দৃশ্য সরাসরি প্রত্যক্ষ করছে। একইভাবে আমাদের নিজস্ব অঞ্চলেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকারবঞ্চনা ও নির্যাতন চলছে। এসব ঘটনার মূল কারণ সাংস্কৃতিক পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি। এ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নতুন করে মনোযোগ আশা করছি।’

জাতিসংঘ দিবসের এই বিশেষ বার্তায় ড. ইউনূসের আহ্বান— মানবতা, শান্তি এবং ন্যায়ভিত্তিক পৃথিবী গড়ে তুলতে জাতিসংঘকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সাহসিকতার সঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিমানবন্দরের আগুনে তদন্তে ৪ দেশের বিশেষজ্ঞ দল আনছে সরকার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো অব্যবস্থাপনা ছিল কি না, তা তদন্তে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিতে যাচ্ছে সরকার। শনিবার (২৫ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “বিমানবন্দরের আগুনের কারণ নির্ণয়ে অস্ট্রেলিয়া, চীন, ইংল্যান্ড ও তুর্কি থেকে বিশেষজ্ঞ দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারা প্রযুক্তিগতভাবে যাচাই করবে—আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো, কোনো অব্যবস্থাপনা বা নাশকতা ছিল কি না, এবং দায়ীদের চিহ্নিত করবে।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “এই তদন্তের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি স্বচ্ছভাবে প্রকাশ পাবে। সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও অগ্নি-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে। পরবর্তীতে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, বিজিবি এবং ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় সাত ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে বিপুল পরিমাণ আমদানি ও রপ্তানিযোগ্য পণ্য পুড়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর থেকে সীমিত আকারে পণ্য খালাসের কাজ চলছে।

এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) দাবি করেছে, এ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই ব্যবসায়ী সমাজে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারের নির্দেশনায় ইতোমধ্যে বিমানবন্দরের সকল ফায়ার ও নিরাপত্তা ইউনিটকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে। পাশাপাশি কার্গো ভিলেজে অগ্নি-নির্বাপণ ও পর্যবেক্ষণ যন্ত্রপাতি হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় শুরু হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রাসমেলা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন রাসমেলা ও রাসপূর্ণিমা উৎসব। ইতোমধ্যে এই উৎসবকে ঘিরে সাজসজ্জা ও প্রস্তুতির জোয়ারে মুখর পুরো কুয়াকাটা পর্যটন শহর।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলা ও মা লক্ষ্মীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সেই ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই রাসপূর্ণিমা উপলক্ষে প্রতিবছর কুয়াকাটায় এই উৎসব পালিত হয়। সময়ের পরিক্রমায় এটি এখন কুয়াকাটার সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও পর্যটন উৎসবে রূপ নিয়েছে, যেখানে দেশ-বিদেশের হাজারও দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রী সমবেত হন।

গত ১৮ অক্টোবর কুয়াকাটা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজল বরন দাস জানান, রাসমেলা আগামী ৪ নভেম্বর শুরু হয়ে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। উৎসবের প্রতিদিনই থাকবে গঙ্গাস্নান, পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় আলোচনা, প্রদীপ প্রজ্বলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তিনি বলেন, “এই উৎসব শুধু ধর্মীয় নয়, এটি কুয়াকাটার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির প্রতীক।”

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নিহার রঞ্জন মণ্ডল বলেন, “রাসমেলা এখন এমন এক উৎসবে পরিণত হয়েছে, যেখানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ অংশ নেয়। পর্যটক, ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনতা সবাই মিলে এটিকে উৎসবের শহরে পরিণত করে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়েও কঠোর নজরদারি থাকবে।”

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, রাস উৎসবের সময় পর্যটকের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন এবং থানা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে।

স্থানীয় দোকানদার আবদুর রহমান বলেন, “রাসমেলার সময় কুয়াকাটায় ব্যবসা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। মেলার সময় দোকানে ভিড় থাকে, বিক্রিও ভালো হয়। এটি আমাদের জন্য উৎসবের সময়।”

উৎসবের মূল আকর্ষণ হলো গঙ্গাস্নান, যা অনুষ্ঠিত হবে রাসপূর্ণিমার সকালে। ভোরে হাজারও ভক্ত, সাধু-সন্ন্যাসী ও তীর্থযাত্রী সমুদ্রের পবিত্র জলে পুণ্যস্নান করেন। পরে দিনভর চলে পূজা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদীপ প্রজ্বালন ও নানা ধর্মীয় আচার।

রাসমেলাকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটা সৈকতজুড়ে চলছে অস্থায়ী দোকান, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জা নির্মাণের কাজ। হোটেল-মোটেলগুলোতে চলছে বুকিংয়ের ধুম, আর পর্যটন শহরটি যেন এখন উৎসবের নগরীতে রূপ নিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, রাসমেলা কুয়াকাটার ঐতিহ্যের প্রাণ; এটি ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আনন্দের মিলনমেলা


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম