চানখারপুল হত্যাকাণ্ডে সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৩ জনের ফাঁসি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় আরও পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায়কে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেন, হত্যাকাণ্ডে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে।

এ ছাড়া রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় মোট আটজন আসামির মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন। তারা হলেন—আরশাদ হোসেন, সুজন মিয়া, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলাম। রায় ঘোষণার আগে আজ সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, শাহ আলম আখতারুল ইসলাম এবং সাজাপ্রাপ্ত ইমরুল এখনো পলাতক রয়েছেন।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় পর্যাপ্ত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে অধস্তন পুলিশ সদস্যদের মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান—এ বিষয়টিও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, যেদিন ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয়জন। নিহতরা হলেন—শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, ইয়াকুব, রাকিব হাওলাদার, ইশমামুল হক ও মানিক মিয়া। ঘটনাটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে আলোচিত ও রক্তাক্ত অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও মোট ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। প্রমাণ হিসেবে আদালতে জমা দেওয়া হয় ১৯টি ভিডিও ফুটেজ, ১১টি পত্রিকার প্রতিবেদন, দুটি অডিও রেকর্ড, বিভিন্ন বই ও নথিপত্র এবং ছয়টি মৃত্যুসনদ। এসব উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ট্রাইব্যুনাল আসামিদের দায় প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৪ ডিসেম্বর রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়। প্রথমে ২০ জানুয়ারি রায় ঘোষণার কথা থাকলেও প্রস্তুতির অভাবে তা পিছিয়ে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটি প্রথম বিচারাধীন মামলা হলেও রায় ঘোষণার দিক থেকে দ্বিতীয় মামলা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আবু সাঈদ হত্যা মামলায় কড়া অবস্থান, ভিসিসহ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্র

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে টানা শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর প্রসিকিউশন এই অবস্থান স্পষ্ট করে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার তৃতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের প্যানেল। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আদালতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্কের একপর্যায়ে তিনি ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করেন। ওই ফুটেজে আবু সাঈদ হত্যার সময় বেরোবি ক্যাম্পাসের মূল ফটক এলাকায় সংশ্লিষ্ট আসামিদের অবস্থান ও গতিবিধি তুলে ধরা হয়।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ভিডিওচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখান, ঘটনার মুহূর্তে কে কোথায় ছিলেন এবং কার কী ভূমিকা ছিল। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই ফুটেজ মামলার অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ, যা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে আরও দৃঢ় করে।

যুক্তিতর্ক শেষ করে ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে প্রসিকিউটর বলেন, এই পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন শেষ হয়েছে এবং তারা অভিযুক্ত সকল আসামির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হওয়ার পর আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো আদালতে বক্তব্য দেন। তিনি বেরোবির তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামসহ তিনজন আসামির পক্ষে আইনি লড়াই করছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় অভিযুক্ত ৩০ জনের মধ্যে বর্তমানে ছয়জন কারাগারে রয়েছেন। রোববার সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। কারাবন্দি আসামিরা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল এবং আনোয়ার পারভেজ।

অন্যদিকে, মামলার প্রধান অভিযুক্ত বেরোবির তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ আরও ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই হত্যা শুধু একজন শিক্ষার্থীর প্রাণহানি নয়, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর সরাসরি আঘাত। তাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নিরাপত্তা শঙ্কায় থানায় জিডি, আতঙ্কে হাদির পরিবার

নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শহীদ ওসমান হাদির মেঝো ভাই ওমর বিন হাদি। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতা, হত্যার আশঙ্কা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চান।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় এই জিডি করা হয়। জিডিতে ওমর বিন হাদি উল্লেখ করেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি এবং হাদির সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এখনো হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অপরাধী চক্র গ্রেপ্তার না হওয়ায় যে কোনো সময় তাদের ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

জিডির বিবরণে বলা হয়, হত্যার ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক গ্রুপ ও ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে পরিবারের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ওমর বিন হাদিকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

ওমর বিন হাদি জিডিতে আরও জানান, এসব হুমকি ও অপপ্রচারের কারণে তিনি এবং হাদির সন্তান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় তারা সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, ওসমান হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, জিডির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। হুমকি ও অপপ্রচারের পেছনে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তাও নেওয়া হতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্যারোলে মুক্তির খবর ভুয়া, জানাল জেলা প্রশাসন

বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে যে তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সঠিক নয় বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে প্যারোলে মুক্তির জন্য কোনো ধরনের লিখিত বা আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়নি।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জুয়েল হাসান সাদ্দাম গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর বাগেরহাট জেলা কারাগার থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত হন। তার স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে শুরু হয়, যার মধ্যে প্যারোলে মুক্তির আবেদন প্রত্যাখ্যানের দাবিও ছিল।

তবে জেলা প্রশাসন জানায়, সময়ের স্বল্পতা ও পারিবারিক বাস্তবতার কারণে জুয়েলের পরিবার প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে মরদেহ কারা ফটকে দেখানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবারের মৌখিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করে মানবিক বিবেচনায় কারাগারের ফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বন্দির স্ত্রীর নামে লেখা একটি চিঠি ও বন্দি অবস্থায় তোলা কয়েকটি ছবি নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে বলে জানায় জেলা প্রশাসন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব চিঠি ও ছবির সঙ্গে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

জেলা প্রশাসন আরও জানায়, ‘আবেদন করা হলেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি’—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। কারণ, প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়েনি।

বিষয়টি পরিষ্কার করার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে দায়িত্বশীলতা ও তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে না পড়ে এবং জনমনে ভুল বার্তা না যায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সব বিতর্ক পেরিয়ে দলে ফিরছেন সাকিব

দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও নানা বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জাতীয় দলে ফিরছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, ফিটনেস ঠিক থাকলে আগামীর সব হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজের জন্য সাকিবকে জাতীয় দলে বিবেচনায় রাখা হবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিসিবির বোর্ড সভায় সাকিব আল হাসানকে ঘিরে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, এখন থেকে নিয়মিত প্রক্রিয়ার মধ্যেই সাকিব আল হাসানকে দলে নির্বাচন করা হবে। এক্ষেত্রে তার ফিটনেসই হবে প্রধান শর্ত।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলতে পারলেও সামনে বাংলাদেশের ব্যস্ত সূচি রয়েছে। আগামী মার্চে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পাকিস্তান দল বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সিরিজ দিয়েই দীর্ঘ বিরতির পর আবারও লাল-সবুজ জার্সিতে মাঠে নামবেন সাকিব আল হাসান।

বিসিবি সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে যেসব মামলা বা আইনি জটিলতা রয়েছে, সেগুলো বোর্ডের পক্ষ থেকে আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে। পাশাপাশি তাকে আবারও বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আনার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাকিব আল হাসান সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন। এরপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাকে ঘিরে জনরোষ ও বিক্ষোভের শঙ্কা তৈরি হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজের বিদায়ী টেস্ট খেলার পরিকল্পনা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে দুবাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয় তাকে।

পরবর্তীতে দুবাই থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান জানান, তিনি দেশে ফিরতে চান এবং দেশের দর্শকদের সামনে খেলেই জাতীয় দলকে বিদায় জানাতে চান। সেই বক্তব্যের পর থেকেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তাকে ফেরানোর দাবি জোরালো হতে থাকে।

সবশেষে বিসিবির এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে, বোর্ডও সাকিবের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে এখনো জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। ফিট থাকলে আবারও জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায় দেখা যেতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল এই অলরাউন্ডারকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আইনি লড়াইয়ে জয়, ট্রাক প্রতীকে পিরোজপুর-২ তে ফিরলেন মুন্না

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনে গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মো. আনিছুর রহমান মুন্না তার মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পিরোজপুর জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে তাকে দলীয় প্রতীক ‘ট্রাক’ বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে মাত্র দুই মিনিট দেরিতে উপস্থিত হওয়ায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু সাঈদ তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। প্রার্থী ও তার সমর্থকদের অভিযোগ ছিল, সময়ের সামান্য ব্যবধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মো. আনিছুর রহমান মুন্না আদালতের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন এবং পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। আদালতের সেই নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে তাকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় আনিছুর রহমান মুন্না বলেন, ন্যায়ের পথে থেকে আইনি লড়াই করেছি এবং শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন তিনি জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাইতে পারবেন। পিরোজপুর-২ আসনের মানুষের অধিকার রক্ষা, উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানান।

প্রতীক বরাদ্দের খবরে কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ এলাকায় তার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তারা এটিকে ন্যায়ের বিজয় হিসেবে দেখছেন এবং নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




১২ ফেব্রুয়ারির ভোটই ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড হবে: ইউনূস

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়েছেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব কথা বলেন অধ্যাপক ইউনূস। বৈঠকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সরকারের অবস্থান, প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশ বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এই নির্বাচন হবে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ। জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি ভবিষ্যতের ভালো নির্বাচনের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তিনি সবাইকে আশাবাদী থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের সদিচ্ছা ও প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই।

সাক্ষাৎকালে জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও শ্রম আইন সংস্কার, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। প্রধান উপদেষ্টা জানান, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় শ্রম আইনে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্যপদ অর্জনে উদ্যোগী হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও শুল্ক হ্রাস পাবে, যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে দল বা জোটই বিজয়ী হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কারমূলক উদ্যোগ এবং অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতিকে স্বাগত জানায়। কৃষিপণ্য ও বাণিজ্য সম্প্রসারণকে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।

সাক্ষাৎকালে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর আরোপিত মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে খোলামেলা মতবিনিময় হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোটে অংশগ্রহণ বাড়াতে পটুয়াখালীতে ইমাম সম্মেলন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটারদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে এই প্রথম পটুয়াখালীতে জেলা পর্যায়ের ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় পটুয়াখালী ডিসি স্কয়ার মাঠে আয়োজিত এ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিব ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে ধর্মীয় নেতৃত্বের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরা। আয়োজকরা জানান, ধর্মীয় নেতারা সমাজে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের মাধ্যমে ভোটের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

পটুয়াখালী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আসমা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। ধর্মীয় নেতারা যদি মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করেন, তাহলে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ। তিনি জানান, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি ধর্মীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা শান্তি, সহনশীলতা ও আইন মেনে চলার বার্তা জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দেন।

এছাড়াও সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী পৌরসভার স্থানীয় সরকার ও প্রশাসক (উপসচিব) জুয়েল রানা। তিনি বলেন, নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গুজব রোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ যদি সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেন, তাহলে ভোটকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।

সম্মেলনে বক্তারা একযোগে বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগ করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ন্যায়, সত্য ও শান্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তারা সাধারণ মানুষকে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা পরিহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকদের মতে, এই ইমাম সম্মেলনের মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলায় নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে এবং ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ বাড়বে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভারতে খেলছে না বাংলাদেশ, বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াল লাল-সবুজ

শেষ পর্যন্ত বাস্তব হলো শঙ্কা। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া আসরটি ভারতে আয়োজনের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো সমাধানে না পৌঁছানোয় বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগেই সরে দাঁড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

সরকার ও বিসিবি শুরু থেকেই ভারতে খেলতে যাওয়ার বিষয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাতে সম্মতি দেয়নি। উল্টো একদিন আগে বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার এই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, বাংলাদেশ সরকার কোনো অবস্থাতেই দলকে ভারতে পাঠাবে না। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে আপস করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ন্যায্যতা পায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি এবং আশা প্রকাশ করেন, আইসিসি শেষ মুহূর্তে হলেও শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।

ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্যের পর বিসিবির অবস্থানও পরিষ্কার হয়ে যায়। বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, তারা এখনও চান বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হোক এবং সেই দাবিতে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে আইসিসির অনমনীয় অবস্থান ও ভোটাভুটির ফল বিসিবির সেই প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়।

আইসিসির বোর্ড সভায় বাংলাদেশ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ভোটের মাধ্যমে। সেখানে বিসিবি পরাজিত হয় ১২-২ ভোটে। বাংলাদেশের পক্ষে কেবল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ভোট দেয়। অধিকাংশ পূর্ণ সদস্য দেশের সমর্থন না পাওয়ায় ক্রিকেট কূটনীতিতে বিসিবির সব প্রচেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়ে।

ভোটাভুটির পর আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারতেই আয়োজন করা হবে। টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে ভেন্যু পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও জানায় তারা। একই সঙ্গে আইসিসি জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশ অংশ না নিলে ‘সি’ গ্রুপে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রথম তিনটি ম্যাচ ৭, ৯ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় এবং শেষ ম্যাচ ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই সূচি অনুযায়ী খেলতে রাজি না হওয়ায় ২০০৭ সাল থেকে টানা বিশ্বকাপে খেলে আসা বাংলাদেশের ধারাবাহিকতায় বড় ছেদ পড়ল। প্রায় দুই দশকের মধ্যে এই প্রথম কোনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ঘটছে।

এই সংকটের সূত্রপাত হয় চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি, যখন ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপরই বিসিবি নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত জানায় এবং ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি তোলে।

পরবর্তী প্রায় ২০ দিন বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে একাধিক চিঠি চালাচালি, বৈঠক এবং আলোচনা হয়। আইসিসির প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে বৈঠকও করে। বিসিবি বারবার দাবি করে, তাদের অবস্থান আইনসম্মত ও যুক্তিসংগত। অন্যদিকে আইসিসি জানায়, স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও আয়োজক দেশের আশ্বাস অনুযায়ী ভারতে বাংলাদেশের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই।

আইসিসির শীর্ষ পর্যায়ে ভারতীয় প্রভাব এবং ভোটিং কাঠামো নিয়েও নানা আলোচনা উঠে আসে ক্রিকেট অঙ্গনে। শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে সংস্থাটি।

সব যুক্তি-পাল্টা যুক্তির পর দেশের নিরাপত্তা ও সম্মানকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। এর ফলে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব থাকছে না। ক্রিকেটপ্রেমী দেশটির জন্য এটি কেবল ক্রীড়াগত নয়, ভাবমূর্তির দিক থেকেও বড় এক ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আগামী নির্বাচনে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে: মেজর হাফিজ

আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরে দেশের মানুষ নির্বাচনের নামে প্রহসনের শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের দলীয় মনোনীত প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র ফেরানোর একটি বড় সুযোগ।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে ভোলার লালমোহন পৌরশহরের শ্রী শ্রী মদন মোহন জিউ মন্দির প্রাঙ্গণে উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

মেজর হাফিজ বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের মাটিতে গণতন্ত্র দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার জনগণ অবাধ ও নিরাপদ পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। যারা বাংলাদেশকে সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবে, সেই দলের যোগ্য প্রার্থীকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ—যেখানে সবাই শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করবে।

মেজর হাফিজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

শ্রী শ্রী মদন মোহন জিউ মন্দির কমিটির সভাপতি নীরব কুমার দে’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বাবুল, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. ছাদেক মিয়া জান্টু, সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান বাবুল পাটোয়ারীসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫