পিরোজপুরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চার শিশুসহ নিহত ৮

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুর উপজেলার সদরের নূরানী গেট এলাকায় প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছেন।

বুধবার (৯ অক্টোবর) রাত সোয়া ২টায় সদর উপজেলার নাজিরপুর সড়কের নূরানী গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডিউটি অফিসার মামুন মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বুধবার রাত সোয়া ২টায় খালে গাড়ি পড়ে যাওয়ার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর পিরোজপুর ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট রাত আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যে আরও একটি ইউনিট সেখানে গিয়ে যুক্ত হয়। গাড়িতে থাকা মোট ৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িতে থাকা সবাই মারা গেছেন।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘটনাস্থলে থেকে পাওয়া একটি মোবাইল ফোন থেকে নিহতদের মধ্যে ৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন মোতালেব (৪৫), তার স্ত্রী সাবিনা আক্তার (৩০), মেয়ে মুক্তা (১২) ও ছেলে সোয়াইব (২)। এ পরিবারটির বাড়ি শেরপুর জেলার খোলআচার পাড়ায়। নিহত মোতালেবের এক আত্মীয় মোবাইল ফোনে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া অপর ৪ জন হচ্ছে শাওন মৃধা (৩২), তার স্ত্রী আমেনা বেগম, ছেলে আবদুল­ (৩) ও অপর ছেলে শাহাদাৎ (১০)। তাদের বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হোগলাবুনিয়া এলাকায়। নিহতদের মৃতদেহ পিরোজপুর সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

পিরোজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত হাসান জানান, প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মোতালেব নামে একজনের সাথে পাওয়া আইডি কার্ড থেকে তার পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহত মোতালেব সেনাবাহিনীর সিভিল স্টাফ হিসেবে কর্মরত আছেন।




ভোলায় পূজা মণ্ডপের গেইট ভাঙচুর, আটক ১

বরিশাল অফিস ::পূজা মণ্ডপের আলোক সজ্জা গেইট ভাঙচুরের সময় শিমুল চন্দ্র(৩৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে ভোলা সদর থানা পুলিশ। ওই যুবক ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মৃত মধুচন্দ্র দের ছেলে।

বৃহস্পতিবার (৯ই অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে এএসআই মানিক ডিউটিরত অবস্থায় ওই যুবককে ভোলা পৌর ১নং ওয়ার্ড আবহাওয়া অফিস সংলগ্ন পূজা মণ্ডপ থেকে প্রায় ২শ গজ দূরের গেইট ভাঙচুর ও আলোকসজ্জায় ইটের ঢিল নিক্ষেপের সময় ঘটনাস্থল থেকে ওই যুবককে আটক করা হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান পাটাওয়ারী।

ওই যুবকের পরিবারের দাবি অভিযুক্ত শিমুল চন্দ্র দীর্ঘদিন মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী। ভারসাম্যহীন হওয়ায় পরিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এধরণের অকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার। তবে পরিবারের কাছে মানসিক ভারসাম্যহীনের কোন ধরনের প্রমাণাদি চেয়েও পায়নি পুলিশ।

এবিষয়ে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ শরীফুল হক জানান, ভোলার সকল ধরনের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সকল ধরনের উৎসব নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে জেলা পুলিশ।

পূজা উদযাপন পরিষদ ভোলা সদর উপজেলার সভাপতি মনোষ ঘোষ শান্ত জানান, আবহাওয়া অফিস সংলগ্ন দুর্গা পূজা মণ্ডপের গেইট ভাঙচুরের সময় ওই হামলাকারীকে আটক করতে সক্ষম হওয়ায় ও ভোলা সদর উপজেলার সকল পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার করায় জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

 




বরিশালের ভিক্ষুক রিজিয়া বেগম: ঝুপড়ি ঘরে জীবনযুদ্ধ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের খালের পাড়ে একটি ছোট্ট ঝুপড়ি ঘর। সেখানেই ৭০ বছরের বৃদ্ধা রিজিয়া বেগমের জীবন কাটছে অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টে। স্বামী মোসলেম আলী হাওলাদারের মৃত্যুর পর বিয়ে না করে একমাত্র কন্যা সন্তান নিয়ে কোনো রকমে দিন গুজরান করছিলেন তিনি। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে মেয়েও সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে বৃদ্ধ মা আজ একাকী, বিধ্বস্ত ঘরে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তার বেঁচে থাকার জন্য।

বিগত ২০ বছর ধরে ভিক্ষা করেই কোনো রকমে পেটের ভাত জুটছে রিজিয়ার। সকাল হলে নিজের ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বাড়ি বাড়ি ছুটে বেড়ান তিনি। কিন্তু প্রতিদিনই মিলছে না সহায়তা। কোনোদিন ভিক্ষার চাল না পেলে সেই দিন অনাহারে কাটাতে হয়। তার ঝুপড়ি ঘরটি ধ্বংসের মুখে; ছাউনির উপরটা ভাঙ্গা, সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরে পানি জমে যায়। সামনের ও পিছনের অংশ খোলা থাকায় বৃষ্টির সময় পলিথিন টাঙিয়ে ঝড়-বৃষ্টি সামলাতে হয়।

রিজিয়া বেগমের জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃখ, সরকারি সহায়তার আবেদন করেও এখনও পর্যন্ত কোনো ঘর পাননি তিনি। বহুবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে ঘর চেয়েছেন, কিন্তু কেউই তার দুর্দশা মেটাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। এক বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান বাবু কিছু টিন দিয়ে একটি ছাপরার ঘর তৈরি করে দিয়েছিলেন, কিন্তু ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে সেই ঘরটিও উড়ে গেছে।

একাকী, অসহায় রিজিয়া বেগম আজ ভেঙে পড়েছেন। তার এই মানবেতর অবস্থায় কোনো খোঁজখবর নেয়ার লোক নেই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সমাজের বিত্তশালীদের কাছে আকুতি জানিয়েছেন—একটি ঘর তৈরি করে দেয়ার জন্য। তিনি আর এই ঝুপড়ি ঘরে বৃষ্টির পানিতে ভিজে, অনাহারে দিন কাটাতে চান না।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় রেমালে রিজিয়া বেগমের ঘর ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরে তাকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছিল। তবে নতুন করে তার মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করার জন্য নিজের বেতন থেকে ১০ হাজার টাকা সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

বৃদ্ধা রিজিয়ার জীবনের এই করুণ চিত্র আমাদের সমাজের দায়বদ্ধতা ও উদাসীনতার প্রতিচ্ছবি। তিনি সমাজের বিত্তবানদের কাছে আরেকটি সুযোগের অপেক্ষায় আছেন, যাতে তার শেষ বয়সে একটু স্বস্তি ও নিরাপত্তা মেলে। রিজিয়ার জন্য আমাদের ছোট্ট সহানুভূতিই হতে পারে তার জীবনের বড় আশ্রয়।




শহীদ জিয়ার নামে ফিরলো বরিশালের পোর্ট রোড ইলিশ বাজার

বরিশাল প্রতিনিধি ::বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের পাইকারী ইলিশ মাছ কেনাবেচার বাজারটি পূর্বের নামে ফিরে গেছে। বুধবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে শহীদ জিয়া মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নামে নতুন সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে এই বাজারে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বাজারের নাম পরিবর্তন হয়ে আসছিল।

নাম পরিবর্তনের ইতিহাস : ১৯৯৫ সালে প্রথমবারের মতো এই বাজারটি শহীদ জিয়া পাইকারী মৎস্য কেন্দ্র নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাজারের আড়তদার জহির সিকদার জানিয়েছেন, ওই সময় জমি কেনা হয়েছিল এই নামেই এবং সরকারি কাগজপত্রেও এই নামের উল্লেখ রয়েছে। তবে সময়ের সাথে সাথে বাজারের নাম পরিবর্তিত হতে থাকে রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এবং বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শওকত হোসেন হিরন বাজারের নাম পরিবর্তন করে ‘রসুলপুর মার্কেট’ রাখেন। এরপর বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ক্ষমতায় আসার পর বাজারের নাম পরিবর্তন করে ‘বরিশাল জেলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র’ রাখা হয়। মেয়রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল তখন এই নামকরণে ভূমিকা রাখেন।

ফের শহীদ জিয়ার নামে : অবশেষে মাছের আড়তদারদের সংগঠন ‘বরিশাল সদর মৎস্য আড়তদার এসোসিয়েশন’-এর সিদ্ধান্তে বাজারটির মূল নাম ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আড়তদার জহির সিকদার জানান, বাজারের সকল আড়তদারদের মতামতের ভিত্তিতে এবং কাগজপত্র অনুযায়ী ‘শহীদ জিয়া পাইকারী মৎস্য কেন্দ্র’ নামের সাইনবোর্ড পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও আড়তদারদের প্রতিক্রিয়া :: বাজারটির নাম নিয়ে রাজনীতির প্রভাব সম্পর্কে আড়তদাররা জানিয়েছেন, যে দল ক্ষমতায় আসে, সেই দল বাজারের নাম পরিবর্তন করে থাকে। যদিও এই পরিবর্তন নিয়ে আড়তদার কিংবা ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া নেই। আড়তদাররা বরং জানাচ্ছেন, নাম যাই হোক, মূলত তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যই মুখ্য।

আবারও শহীদ জিয়ার নামে ফিরে আসার পরেও বাজারের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে, যা আড়তদার ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।




পটুয়াখালীতে হোটেল দখলের চেষ্টা : ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার বিচার দাবি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক ব্যবসায়ীর হোটেল দখলের চেষ্টা করছে স্থানীয় এক সন্ত্রাসী। মোটা অঙ্কের চাঁদার দাবিতে হোটেলের মালিককে দলবল নিয়ে অপহরণের পর নির্যাতনও করেছেন অভিযুক্ত জসিম শিকদার রানা।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ক্র্যাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের নিরাপত্তা এবং হামলা হুমকির বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এম এ খায়ের মোল্লা।

ভুক্তভোগী জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের গত ৫ আগস্ট কলাপাড়া উপজেলার নবীনপুরে অবস্থিত ‘রোজ ভ্যালী মোটেল এন্ড রিসোর্ট’ দখলের চেষ্টা করে হামলা চালায় পটুয়াখালী সদর থানার লোহালিয়া এলাকার মো. জসিম শিকদার রানা ও তার ভাই কবির শিকদার। এক পর্যায়ে তারা মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় হোটেলের ম্যানেজার রেজাউল করিম, তাজুল বেপারি ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেয়৷ তারা দলবল নিয়ে হোটেলে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং মালিক খায়ের মোল্লাসহ অন্যান্যদের মেরে সাগরে ভাসিয়ে দেবে মর্মে হুমকি দেয়।

অপহরণের পর খায়ের মোল্লাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে জসিম শিকদার ও তার বাহিনী
অপহরণের পর খায়ের মোল্লাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে জসিম শিকদার ও তার বাহিনী
খায়ের মোল্লা বলেন, এই ঘটনার পর থেকে তারা নানাভাবে আমাকে এবং ম্যানেজারসহ আমার স্টাফদেরকে হুমকি দিতে থাকে। এ ঘটনায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতে মামলা করতে যাই। কিন্তু আদালত চত্ত্বর থেকে জসিম শিকদার, কবির শিকদার, সাঈদুর রহমান, মো. রনিসহ ২০/৪০ জনের একটি দল আমাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। জসিম শিকদারের নিজের ব্যবহৃত গাড়ীতে (ঢাকা মেট্রো-গ-২৩-৩০৩৮) করে লোহালিয়া ব্রিজ পার হয়ে কিছু দূরে বিলের মাঝে নির্জন এলাকায় নিয়ে বেধরক মারধোর করে। রাতভার আমাকে নির্যাতন করে। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একশ টাকা মূল্যের ১২টি ননজুডিশিয়াল স্টাম্পে আমার স্বাক্ষর নেয়। আমার সঙ্গে থাকা বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের রাজধানীর বিজয়নগর শাখার একটি চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়। এছাড়া তিনটি ব্লাঙ্ক কাগজে আমার সই নেয় জসিম শিকদারের সন্ত্রাসী বাহিনী। এমনকি তারা আমাকে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে যেন আমি এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় না নেই সেজন্য হুমকি দেয়। আমি আইনের আশ্রয় নিলে নগ্ন ভিডিওর মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলার হুমকি দেয়। এরমধ্যে আমার ম্যানেজার সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করে। এক পর্যায়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসূত্রে থানা পুলিশ আমাকে উদ্ধার অভিযানে নেমেছে জেনে পরেরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় লোহালিয়া ব্রিজের নিচে ফেলে যায়।

ভুক্তভোগী খায়ের মোল্লা বলেন, সন্ত্রাসীরা আমাকে ফেলে যাওয়ার পর পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল আমাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা করার কথা জানিয়ে খায়ের মোল্লা বলেন, পুলিশ আসামি জসিম শিকদারের ব্যবহৃত গাড়িটি ড্রাইভারসহ জব্দ করেছে। আসামিদের হুমকি-ধমকিতে প্রাণভয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিতে চেয়েও পারিনি। প্রাণ ভয়ে আমার কোনো প্রতিনিধি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে পারেনি। প্রায় একমাস চিকিৎসা নিয়ে এবং প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়িয়ে এক পর্যায়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আমি পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা দায়ের করি। কিন্তু আসামি জসিম শিকদার এখনো আমাকে ফোন করে এবং হোটেলে লোক পাঠিয়ে আমার স্টাফদের হুমকি দিচ্ছে। আমি যদি হোটেলে যাই তাহলে আমাকে মেরে সাগরে ভাসিয়ে দেবে। এ অবস্থায় আমার প্রাণহানির শঙ্কায় আছি এবং আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির আশঙ্কা করছি।

খায়ের মোল্লা বলেন, আমার স্থায়ী ঠিকানা রাজধানীর ফুলবাড়িয়া। এখান থেকে কুয়াকাটায় গিয়ে ব্যবসা করবো সেটা স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হিংসার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আমার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছে। চাঁদা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় প্রাণভয়ে আমি আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছি না। আমি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো পদক্ষেপ ও বিশেষ দৃষ্টি কামনা করছি।

এক প্রশ্নের জবাবে ভুক্তভোগী খায়ের মোল্লা আরও বলেন, আসামির রাজনৈতিক পরিচয় জানি না। আমি মনে করি সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকে না। তারা সব সময় ওঁৎ পেতে থাকে। সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। সন্ত্রাসী কায়দায় মানুষকে হয়রানি করে।




শারদীয় ছুটিতে ব্যস্ত কুয়াকাটা : ৫০ শতাংশ হোটেল অগ্রীম বুকিং

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা শারদীয় দূর্ঘা পুজা উপলক্ষে ১০-১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ দিন সরকারি ছুটিকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ অগ্রীম রুম বুকিং হয়েছে হোটেল রিসোর্টগুলোতে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটায় গত ৫ অক্টোবর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পরে পর্যটন নগরী শূন্য হয়ে পরে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথে পর্যটকও কিছুটা বাড়তে থাকে। হিন্দু ধর্মের এই বড় অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণীর হোটেল ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলো ৫০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে।

বুধবার (৯ অক্টোবর) দিবা গতো রাতে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পাখিমারা থেকে আলিপুর থ্রি পয়েন্ট পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার রাস্তা খুবই খারাপ। রাস্তাটির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হলেও মাত্র ১ কিলোমিটার সম্পন্ন হয়েছে বাকি কাজ অসমাপ্ত থাকায় আশানুরূপ পর্যটক না হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, চলতি বছরের মে মাস থেকে হোটেল সেক্টরে লোকসান, তবে এই পূজা উপলক্ষে শুক্রবার -শনিবার ৫০ শতাংশ রুম অগ্রিম বুকিং হয়েছে।

শিকদার রিসর্টের এজিএম আল-আমিন জানান, আগামী চারদিনের ছুটিকে সামনে রেখে দুইদিনের জন্য আমাদের হোটেলের রুমগুলো ৬০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। বাকি দিনগুলো আশানুরুপ বুকিং হয়নি।

ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, কুয়াকাটায় সর্বমোট ২০০টি আবাসিক হোটেল-মোটেল রয়েছে তার মধ্যে আগামি ১০-১৩ তারিখের পর্যটকদের বেশ সারা পাওয়া যাচ্ছে ।

কুয়াকাটা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, পূজা উপলক্ষে বুকিং এর সারা বেশ ভালোই আছে তবে বরাবরের ন্যায় আমরা ৪০শতাংশ ডিসকাউন্ট দিয়েছি। সমুদ্র সৈকত উপভোগে আসা বিশ-ত্রিশ হাজার পর্যটকদের রাত্রিযাপনের জন্য ব্যবস্থা রয়েছে বর্তমানে । তবে পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীরও প্রতিনিয়ত আসতে শুরু করেছে কুয়াকাটায়।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, হিন্দুদের বড় ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে কুয়াকাটায় অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটবে । যে কারনে বরিশাল থেকে আসা অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে। ট্যুরিষ্ট পুলিশ যথাযথ তৎপর রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজড়দারি ও মাইকিংসহ পর্যটকদের নিরাপদে থাকার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।




যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী : ম্যাথু মিলার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র, নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গাদের সাথে সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সাথে বিদ্যমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে নিয়মিত ব্রিফিংকালে বলেছেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন এবং এসব বিষয়ে অগ্রগতি বজায় রাখার জন্য অব্যাহত সম্পৃক্ততার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র, নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গাদের নিয়ে দেশের চ্যালেঞ্জ বিবেচনা করে বাইডেন প্রশাসন কিভাবে বাংলাদেশের সাথে তার সম্পর্ককে বিবেচনা করছে একজন সাংবাদিক তা জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মিলার জবাবে বলেন, ‘আমরা এসব প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মাদ ইউনূস নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশন চলার সময় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং সেক্রেটারি অব স্টেট ব্লিঙ্কেনের সাথে পৃথক বৈঠক করেন।

আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানের উপর আলোকপাত করা হয়।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস উভয়ই অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনগণের সাথে জনগণের মধ্যে গভীর সস্পর্কের ওপর জোর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব জোরদার করার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সূত্র : বাসস




এইচএসসির ফল জানতে পারবেন যেভাবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হবে আগামী ১৫ অক্টোবর। এদিন সকাল ১১টায় স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে একযোগে প্রকাশিত হবে এইচএসসির ফল।

বুধাবার (০৯ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. আবুল বাশার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়, উল্লিখিত যে কোন পদ্ধতিতে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের Result sheet download করা যাবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট www.dhakaeducationboard.gov.bdwww.educationboardresults.gov.bd ও www.eduboardresults.gov.bd-এ Result কর্নারে ক্লিক করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের EIIN এন্ট্রি করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক Result sheet download করা যাবে এবং রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের মাধ্যমে Result sheet download করতে পারবে।

পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর SMS-এর মাধ্যমে নিম্নোক্ত উপায়ে ফল সংগ্রহ করা যাবে: HSC Board name (first 3 letters) Roll Year টাইপ করে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।

উদাহরণ: HSC Dha 123456 2024 লিখে 16222-তে পাঠাতে হবে।

সম্প্রতি আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার জানান, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফল আগামী ১৫ অক্টোবর প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। তবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে এবার কোনো কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান হবে না। নিজ নিজ বোর্ড অফিস থেকে ফল প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীরা প্রতিবছরের মতো এবারও এসএমএস, ওয়েবসাইট ও নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ফল জানতে পারবে।

এইচএসসি পরীক্ষার ফল ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে যেকোনো দিন প্রকাশ করার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দেয় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। এর আগে পরীক্ষা হওয়া বিষয়গুলোর খাতা মূল্যায়ন করে এবং বাকি বিষয়গুলোতে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতে (সাবজেক্ট ম্যাপিং) এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এবার ১১টি বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সাড়ে ১৪ লাখ শিক্ষার্থী। পরীক্ষা শুরু হয় গত ৩০ জুন। তবে বন্যার কারণে সিলেট বোর্ডের পরীক্ষা শুরু হয় ৯ জুলাই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কারণে স্থগিত হওয়ার আগে ছয় থেকে সাতটি পরীক্ষা হয়েছিল। বাকি বিষয়গুলোর লিখিত এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা বাকি ছিল। কয়েক দফা স্থগিত হওয়ার পর ১১ সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষাগুলো শুরুর কথা ছিল। কিন্তু ২০ আগস্ট শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে বাকি পরীক্ষা বাতিল করে সরকার।




ছাত্র আন্দোলনে নিজের ভূমিকা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ সাকিবের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: অবশেষে মুখ খুললেন সাকিব আল হাসান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিয়ে জানান দিলেন নিজের অবস্থান। দেরি করে হলেও বুঝতে পেরেছেন দেশ ও জাতির চাহিদা। করেছেন দুঃখ প্রকাশ। সেই সাথে দেশের মাটিতে নিজের শেষ টেস্ট খেলতে সবার সমর্থন চাইলেন তিনি।

বুধবার এই প্রসঙ্গে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন সাকিব আল হাসান। যেখানে নিজের সীমাবদ্ধতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে কথা বলেন বিশ্ব সেরা এই অলরাউন্ডার। ছাত্র আন্দোলনে নিজের নীরব ভূমিকা নিয়েও দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

সাকিবের স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো
‘আসসালামু আলাইকুম, আমার দেশের প্রতিটি মানুষের ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা। আমার প্রতি আপনাদের দোয়া ও ভালবাসা আমাকে আজকের এই সাকিব আল হাসান হিসেবে বিশ্ব দরবারে সমাদৃত করেছে। শুরুতেই আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সে সকল আত্মত্যাগকারী ছাত্রদের, যারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন। তাদের প্রতি এবং তাদের পরিবারের প্রতি আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে শ্রদ্ধা এবং সমবেদনা। যদিও স্বজন হারা একটি পরিবারের ত্যাগকে কোন কিছুর বিনিময়ে পূরণ করা সম্ভব না। সন্তান হারানো কিংবা ভাই হারানোর বেদনা কোন কিছুতেই পূরণযোগ্য নয়।

এই সংকটকালীন সময়টাতে আমার সরব উপস্থিতি না থাকায় আপনারা যারা ব্যথিত হয়েছেন বা কষ্ট পেয়েছেন তাদের অনুভূতির জায়গাটার প্রতি আমার শ্রদ্ধা এবং এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আপনাদের জায়গায় আমি থাকলে হয়তো এভাবে মনঃক্ষুণ্ন হতাম। আমি খুবই স্বল্প সময়ের জন্য মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলাম। আমার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়াটা ছিল মূলত আমার জন্মস্থান অর্থাৎ আমার মাগুরার মানুষের উন্নয়নের জন্য সুযোগ পাওয়া।

আপনারা জানেন যে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্দিষ্ট কোন দায়িত্ব ছাড়া নিজের এলাকার উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখাটা একটু কঠিন। আর আমার এই এলাকার উন্নয়ন করতে চাওয়া আমাকে সংসদ সদস্য হতে আগ্রহী করে। যাইহোক দিনশেষে আমার পরিচয় আমি একজন বাংলাদেশের ক্রিকেটার। আমি যখন যেখানে যে অবস্থাতেই থেকেছি অন্তর থেকে ক্রিকেটাকেই ধারণ করেছি।

এই ক্রিকেটকে ধারণ করে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের সম্মান অর্জন করার পথে এগিয়ে নিয়ে গেছেন আপনারা। আপনাদের ভালোবাসা এবং সমর্থন আমাকে আজকের সাকিব আল হাসান বানিয়েছে। আমি যখন দেশের জন্য ক্রিকেটের মাঠে ব্যাট ধরেছি তখন আমার সাথে ব্যাট ধরেছেন আপনারা সবাই। গ্যালারি থেকে আপনাদের চিৎকার, আপনাদের সমর্থন আমাকে ভালো খেলার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। ক্রিকেট ম্যাচের দিন চায়ের দোকানে টেলিভিশনের সামনে উপচেপড়া ভিড় আমাকে শক্তি যুগিয়েছে।

আমি জিতলে, আপনারা সবাই জিতেছেন। আমি হেরে গেলে, হেরে গেছেন আপনারা সবাই! আপনারা জানেন, খুব শীঘ্রই আমি আমার শেষ ম্যাচটি খেলতে যাচ্ছি। আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আজকের সাকিব আল হাসান হয়ে ওঠা পর্যন্ত এই পুরো জার্নিটাকে ড্রাইভ করেছেন আপনারা। এই ক্রিকেটের এই গোটা গল্পটা আপনাদের হাতেই লেখা! তাই আমার শেষ ম্যাচে, এই গল্পের শেষ অধ্যায়ে, আমি আপনাদেরকে পাশে চাই। আমি আপনাদের সবাইকে সাথে নিয়ে বিদায় নিতে চাই। বিদায়বেলায়, সেই মানুষগুলোর হাতে হাত রাখতে চাই, যাদের হাতের তালি আমার ভালো খেলতে বাধ্য করেছে। বিদায়বেলায়, সেই মানুষগুলোর চোখে চোখ রাখতে চাই, আমার ভালো খেলায় যাদের চোখ আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়েছে। আবার আমার খারাপ খেলায় যাদের চোখ ছলছল করেছে।

আমি আশা করি, শুধু আশা না বিশ্বাস করি, এই বিদায় বেলায় আপনারা সবাই আমার সাথে থাকবেন। সবাই সাথে থেকে সেই গল্পের ইতি টানবেন, যে গল্পের নায়ক আমি নই, আপনারা!

উল্লেখ্য, গত জুলাই-আগস্টে সংঘটিত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে সরকার পতনের একদফা আন্দোলন; এসবে নীরব ভূমিকা পালন করেন সাকিব আল হাসান। যা নিয়ে সমর্থক মহলে বেশ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সেই ক্ষোভের আরো বড় কারণ, চলতি বছরেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তার সংসদ সদস্য হওয়া। যার জেরে সরকার পতনের পর ছাত্র আন্দোলন পোশাক শ্রমিক রুবেলকে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়।

যার কারণে তার দেশে আসা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচটা ঘরের মাঠে খেলার ইচ্ছে প্রকাশ করলেও বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই মামলা। দেখা যাক সব কিছু সামলে সাকিব ফিরতে পারেন কিনা দেশে।




সরকারি চাকরিতে প্রবেশ ও অবসরের বয়সসীমা বাড়ছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে প্রবেশ ও অবসরের বয়সসীমা বাড়ছে। প্রবেশের বয়সসীমা ৩৩ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের যৌক্তিক বয়সসীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিটি প্রধান উপদেষ্টার কাছে বয়সসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। আগামী সোমবার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান  বলেন, সরকারি চাকরিতে বয়স বাড়ছে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সচিব আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে বয়স বাড়ানোর বিষয়ে সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে জমা দিয়েছেন।