“রাষ্ট্র সংস্কারে জামাতে ইসলামী: শরিয়াহ আইন থেকে অর্থনৈতিক নীতি”

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: জামাতে ইসলামী বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবগুলো মূলত তাদের আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। তারা মনে করে, বর্তমান রাষ্ট্র কাঠামো ইসলামী আদর্শের পরিপূর্ণ প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম নয়, তাই এটিকে সংস্কার করা প্রয়োজন। তাদের প্রস্তাবের বিস্তারিত নিম্নরূপ:

১. **শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা**:
জামাতে ইসলামী রাষ্ট্রের আইনি কাঠামোকে ইসলামের শরিয়াহ ভিত্তিতে ঢেলে সাজানোর পক্ষে। তাদের মতে, সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, দুর্নীতি ও অপরাধ প্রতিরোধ করতে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। শরিয়াহ অনুযায়ী শাস্তি ও পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি, ইসলামিক আইনব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য বিচার বিভাগকে পুনর্গঠনের প্রস্তাব তাদের অন্যতম প্রধান দাবি।

২. **ইসলামী অর্থনীতির প্রসার**:
জামাতের অর্থনৈতিক সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে মূলত ইসলামিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুদমুক্ত ব্যাংকিং সিস্টেম, যাকাতের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা, ধনী-গরিবের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন এবং অনৈতিক অর্থনৈতিক কার্যকলাপের অবসান। তাদের মতে, ইসলামী অর্থনীতি গ্রহণ করলে দারিদ্র্য হ্রাস পাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়বে।

৩. **শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার**:
তাদের মতে, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা পাশ্চাত্যের অনুকরণে গড়ে উঠেছে এবং এতে ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধের অভাব রয়েছে। তারা প্রস্তাব দেয়, পাঠ্যক্রমে কুরআন, হাদিস, ইসলামী ইতিহাস এবং নৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। পাশাপাশি, ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার মধ্যে ভারসাম্য আনয়ন করতে হবে। ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে দূরে সরে যাওয়ার লক্ষ্য তাদের।

৪. **পরিবার ও সামাজিক জীবন**:
জামাতের প্রস্তাবে ইসলামী পরিবার ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি জোর দেওয়া হয়। তারা চায়, পরিবার কাঠামোকে ইসলামী নিয়মে পরিচালিত করতে হবে, যেখানে নারীদের অধিকার রক্ষিত থাকবে কিন্তু পুরুষের সুরক্ষাকারী ভূমিকা স্বীকৃত হবে। বাল্যবিবাহ, তালাক এবং পলিগ্যামির ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়াহের নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

৫. **রাজনৈতিক সংস্কার**:
তাদের মতে, ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের জন্য একটি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক ভিত্তিতে গড়া রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। জামাতে ইসলামী মনে করে, বর্তমান গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ইসলামের সঠিক প্রতিনিধিত্ব করে না। তাদের দৃষ্টিতে, একটি ইসলামী শূরা (পরামর্শমূলক) ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে ইসলামী বিশেষজ্ঞরা রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

৬. **সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া সংস্কার**:
তারা মনে করে, বর্তমান সাংস্কৃতিক এবং মিডিয়া ব্যবস্থা ইসলাম বিরোধী চিন্তা ছড়াচ্ছে। তাই, মিডিয়াকে ইসলামী মূল্যবোধ প্রচারে ব্যবহার করতে হবে এবং সব ধরনের অবাধ ও অনৈতিক বিনোদন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। জামাতের মতে, সংস্কৃতি এমন হতে হবে, যা সমাজকে ইসলামের দিকে পরিচালিত করে।

৭. **আন্তর্জাতিক সম্পর্ক**:
জামাত একটি ইসলামী বিশ্বব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে কাজ করে, যেখানে মুসলিম দেশগুলো একে অপরের সঙ্গে কূটনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকবে। পশ্চিমা বিশ্ব এবং ইসলামবিরোধী শক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে একটি ইসলামী আদর্শে ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার দাবি তাদের অন্যতম।

জামাতে ইসলামীর এই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য তারা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংগ্রামের পথে রয়েছে এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতায় এসে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের ইচ্ছা প্রকাশ করে। তবে তাদের এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে, বিশেষ করে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার অধীনে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিয়ে সমালোচনা হয়।




এবার দুর্গাপূজা হবে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণভাবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: রাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা এবার সবচেয়ে নির্বিঘ্নে এবং শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। ১৩ তারিখে দশমী পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা থাকবে। এরপরও সারা দেশে নিরাপত্তা থাকবে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যেখানে যতটা দরকার, সেই পরিমাণ সশস্ত্র বাহিনী দেয়া হয়েছে। সরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ৮ দফা দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সেভাবেই কাজ চলছে।

মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাংলাদেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব আমাদের। ৩৬৫ দিনই দেশের মানুষ নিরাপদে থাকবে। মাঝে মাঝে যা ঘটে তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।




পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধীনে নিয়োগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধীনে পটুয়াখালী জেলার ইউনিয়ন পরিষদসমূহে ‘ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ০৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পটুয়াখালী

পদের বিবরণ

চাকরির ধরন: স্থায়ী
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
কর্মস্থল: পটুয়াখালী

বয়স: ০৭ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে ১৮-৩০ বছর। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ৩২ বছর।

আবেদন ফরম: আগ্রহীরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অথাবা জেলা প্রশাসকের ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।

আবেদনের ঠিকানা: জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পটুয়াখালী।

আবেদন ফি: জেলা প্রশাসক, পটুয়াখালী এর অনুকূলে রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের যে কোনো শাখায় ৫০০ টাকার পে-অর্ডার অফেরতযোগ্য হিসেবে জমা দিতে হবে। টাকা জমার রশিদ অবশ্যই আবেদনপত্রের সঙ্গে পাঠাতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: ০৭ নভেম্বর ২০২৪ তারিখ অফিস চলাকালীন সময় পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।




সৈকত দেখে ফেরার পথে নিহত ৮ জনের পরিচয় মিলেছে

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত দেখে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত আটজনের পরিচয় মিলেছে। বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সকালে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাজাহান কবীর নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন: শেরপুরে খোলআচার পাড়ার মোতালেব (৪৫), তার স্ত্রী সাবিনা আক্তার (৩০), মেয়ে মুক্তা (১২), ছেলে সোয়াইব (২), পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হোগলাবুনিয়া এলাকার শাওন মৃধা (৩২), তার স্ত্রী আমেনা বেগম ও তার দুই ছেলে আবদুল (৩) এবং শাহাদাৎ (১০)।

এর আগে বুধবার (৯ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর-নাজিরপুর আঞ্চলিক সড়কের নূরানীগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শাওনের আত্মীয় মুরাদ জানান, প্রাইভেট কারটি পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে পিরোজপুরের নাজিরপুর হয়ে ঢাকা যাওয়ার কথা ছিলো। পথে উপজেলার নূরানীগেট এলাকায় গাড়িটি দুর্ঘটনায় পড়ে।

সদর থানার এসআই শাজাহান কবীর জানান, একটি প্রাইভেট কার কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত থেকে পিরোজপুরের নাজিরপুর যাচ্ছিল। পথে রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার কদমতলা এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি রাস্তার পাশে খালে পড়ে যায়। বিষয়টি দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।

পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে একে একে শিশুসহ গাড়িতে থাকা আটজনকে উদ্ধার করেন। তাদের সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক সবাইকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মৃতদেহ ওই হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত হাসান জানান, প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মোতালেব নামে একজনের আইডি-কার্ড থেকে তার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি সেনাবাহিনীর সিভিল স্টাফ ছিলেন।




পূজার ছুটিতে কুয়াকাটায় আসতে শুরু করেছে পর্যটক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বর্ষা মৌসুম ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দীর্ঘ ৩ মাস খুব কম সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে কুয়াকাটায়। তবে এবার দুর্গাপূজার ৪ দিনের ছুটি উপলক্ষে ইতোমধ্যেই কুয়াকাটা সৈকতে আসতে শুরু করেছেন পর্যটক।

ব্যবসায়ীদের আশা পূজা উপলক্ষে লাখ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটবে কুয়াকাটায়। শুক্রবার এবং শনিবার লক্ষাধিক পর্যটক আগমনের আশা করছে ব্যবসায়ীরা।

এদিকে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

সৈকত সংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল বুধবার বিকাল থেকেই পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। আগতরা সৈকতে বালিয়াড়িতে আনন্দ উন্মাদনায় মেতেছেন। অনেকে আবার প্রিয়জনকে নিয়ে ছবি তুলছেন। অনেকে আবার সৈকতের বেঞ্চিতে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। মোটকথা সমুদ্রের মোহনীয় গর্জন ও সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিমোহিত করেছে পর্যটকদের। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে বেচাকেনাও বাড়তে শুরু করেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। ইতোমধ্যে বুকিং হয়েছে ৮০ ভাগ হোটেল মোটেলের কক্ষ।

বাকেরগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক গৌতম মন্ডল বলেন, আমরা পরিবারের সবাই গতকাল বিকালে এখানে এসেছি। এখানের পরিবেশটা বেশ দারুণ লাগছে। সৈকতের পাড়েই মন্দির থাকায় সন্ধ্যায় দুর্গা মাকেও দর্শন করেছি।

টাঙ্গাইল থেকে আসা পর্যটক দম্পতি নীলয়-উদিতা রানী জানান, আমরা দু’জনেই সরকারি চাকরি করি। তাই ৪ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করেই মূলত কুয়াকাটায় আসা। এখানের পরিবেশটা বেশ ভালোই লাগছে। বাচ্চারা বেশ দারুণ উপভোগ করছে।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, বুধবার বিকালেই অনেক পর্যটক এসেছে। আমাদের ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ রুম বুকিং হয়ে গেছে। আশা করছি আজকের মধ্যে শতভাগ রুম বুকিং হয়ে যাবে। তেমন সাড়াও পাচ্ছেন হোটেল মালিকরা।

কুয়াকাট ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ মাহফুজ আলম জানান, যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া সাদা পোশাকে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছে। আশা করছি পর্যটকরা নিরাপদে তাদের ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।




দুমকীতে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে প্রাইভেট শিক্ষক আটক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকীতে ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রকে কোচিংয়ে প্রাইভেট পড়ানোর কথা বলে জোরপূর্বক বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে সাইমুন (২৪) নামের এক প্রাইভেট শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে।

গত সোমবার ( ৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার জলিসা এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। পরের দিন ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদি হয়ে পটুয়াখালী সেনা ক্যাম্পে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তিতে দুমকী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পর্ণগ্রাফী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে । গ্রেপ্তারকৃত প্রাইভেট শিক্ষক সাইমুন পার্শ^বর্তী উপজেলা বাকেরগঞ্জের মধ্য নলুয়া এলাকার বাসিন্দা বাবুল মৃধা’র ছেলে। তিনি উপজেলার দুমকী সংলগ্ন জলিশা গ্রামে বাসা ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতেন।

জানা যায় , দীর্ঘ ১ বছর ধরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সহ আরও ১০/১২ জন ব্যাচে অভিযুক্ত সাইমুনের কাছে প্রাইভেট পড়ে। পরীক্ষায় ভালো করার জন্য রাতে তার বাসায় থেকে পড়াশোনা করতে ওই শিক্ষার্থী ও তার মা-বাবাকে অনুরোধ করে সাইমুন। একপর্যায়ে গত সোমবার শিক্ষার্থীর বাবা মা ছেলেকে ভালো পড়াশোনার জন্য সাইমুনের বাসায় রাতে পড়তে পাঠায়। সেই রাতে শারীরিক নির্যাতন সহ বলাৎকার করা হয় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে। সর্বশেষ উলঙ্গ অবস্থায় ভুক্তভুগী শিক্ষার্থীর ছবিতুলে রাখে এবং কাউকে জানালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রকাশের হুমকি ধামকি দেয় ওই শিক্ষক। কিন্তু খুব ভোরে বাড়িতে গিয়ে মাকে বলে দেয় ওই শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আটককৃত শিক্ষক সাইমুনের বিরুদ্ধে ৯অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পর্ণগ্রাফী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বাবা। দুমকী থানার মামলা নং ৫/২৪ তারিখ ৯/১০/২৪ ইং।

দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আটককৃত সাইমুনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পর্ণগ্রাফী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে পটুয়াখালী আদালতে প্রেরণ করা হয়।




গণতন্ত্র মানে মানুষের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা: তারেক রহমান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অপরিহার্য শর্ত হলো নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার। গণতন্ত্র মানে শুধুমাত্র নির্বাচন নয়, গণতন্ত্র মানে মানুষের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) শহীদ জেহাদ দিবস উপলক্ষ্যে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আমি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অকুতোভয় সৈনিক শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।

তারেক রহমান শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ ৯০’র স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে একটি অবিস্মরণীয় নাম উল্লেখ করেন বলেন, রক্তমাখা ওই আন্দোলন ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র, মত প্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে গিয়ে শহীদ জেহাদ পুলিশের বুলেট নিজের বুকে বরণ করে নেন। শাহাদাত বরণ করেন এ অকুতভয় ছাত্রনেতা। তার রক্ত স্রোতের ধারা বেয়েই সে বছর সংঘটিত হয় গণঅভ্যুত্থান, পতন হয় স্বৈরশাসক এরশাদের।

তারেক রহমান বলেন, তাই শহীদ জেহাদের আত্মত্যাগের প্রেরণাকে বুকে ধারণ করেই দেশি-বিদেশি অপশক্তির চক্রান্ত প্রতিহত, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। গণতন্ত্রের ধারা বহমান রাখতে হলে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে।




ড. ইউনূসের ‘রিসেট বাটন’, ব্যাখ্যা দিলো প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের এক বক্তব্যের জের ধরে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিশেষ করে ফেসবুকে ‘রিসেট বাটন’ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মুখ থেকে উচ্চারিত এই শব্দযুগল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও সৃষ্টি করেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার। অবশেষে রিসেট বাটনের ব্যাখ্যা দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূস যখন রিসেট বোতাম টিপানোর কথা বলেছিলেন, তখন তিনি দুর্নীতিবাজ রাজনীতি থেকে একটি নতুন সূচনা করতে চেয়েছিলেন; যা বাংলাদেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে, অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষের ভোটের অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা হরণ করেছে।’

প্রেস উইং বলছে, ‘বাংলাদেশের গর্বিত ইতিহাসকে মুছে ফেলার অর্থ তিনি (ড. ইউনূস) করেননি।’




মালয়েশিয়ায় ১৭ বাংলাদেশি অভিবাসী আটক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: মালয়েশিয়ার কেলান্তান রাজ্যের কোটা ভারু এলাকা থেকে ১৭ বাংলাদেশিসহ ৩০ জন অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ।

বুধবার (৯ অক্টোবর) রাজ্যের অভিবাসন বিভাগের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম দি সান ডেইলি এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, দুই দিনের অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।

কেলান্তান অভিবাসন বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর (ব্যবস্থাপনা) নিক আখতারুল হক নিক আবদুল রন এক বিবৃতিতে জানান, কোটা ভারু শহরের আশেপাশে সুপারমার্কেট, লোহার কারখানাসহ বেশ কয়েকটি বাড়ি এবং রেস্তোরায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে ১৭ জন বাংলাদেশি, ২ জন পাকিস্তানি, থাইল্যান্ডের ৯ জন, ভারতীয় ১ জন ও মায়ানমারের ১ জন নাগরিককে আটক করা হয়। আরও তদন্তের জন্য আটকৃতদের তানাহ মেরাহ ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।

অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান নিক আখতারুল হক নিক। তিনি রাজ্যে বিদেশিদের উপস্থিতি বা আইন ভঙ্গকারী বিদেশিদের জড়িত কোনো কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্য জনসাধারণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জনান।




ধর্ষণ রোধে বরগুনার ক্ষুদে বিজ্ঞানীর আবিষ্কার

বরিশাল অফিস :: ধর্ষণচেষ্টা হলেই বার্তা পৌঁছে যাবে স্বজনদের কাছে- ধর্ষণ রোধে এমনই এক অভিনব ডিভাইস (জুতা) আবিষ্কার করেছে বরগুনার এভারগ্রিন হাইস্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইম।

ক্ষুদে বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ আল সাইম (নিনাত) সদর উপজেলার বরগুনা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. হাবিবুল্লাহ কালামের ছেলে।

সাইমের এই জুতা ধর্ষণ চেষ্টাকালে ভিকটিমের স্বজনদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেবে। জুতার মাঝে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে এমন এক জিপিএস ট্র্যাকার এবং ২৫০ ভোল্টের ইলেকট্রিক শক গান যা হেনস্থার শিকার নারীকে রক্ষা করবে ধর্ষক বা শত্রুপক্ষের হাত থেকে।

শুধু জুতা নয়, সাইম তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আবিষ্কার করে, বিমান, ড্রোন, অন্ধ মানুষের জন্য চশমা, লঞ্চ, রাডারসহ অনেক ইলেকট্রনিক ডিভাইস।

ছোটবেলা থেকেই কোনোকিছু তৈরি বা আবিষ্কারের দিকে ছিল তার প্রবল আগ্রহ।ধর্ষণ রোধে ওর এই আবিষ্কারটি রীতিমতো তাক লাগিয়েছে স্বজনদের। সাইম (নিনাত) বলে, এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ক্লাস থ্রি থেকে।

ইউটিউবে একটি ইলেকট্রিক হিটার বানানো দেখার পর থেকে এই পথচলা শুরু। ছোট ছোট বিভিন্ন মোটর, পাখা দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করতাম। শুরুতে মা-বাবা সাপোর্ট করতেন না। ধীরে ধীর বুঝতে পেরে তারা আমার কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। ক্লাস থ্রি থেকে বিভিন্ন জিনিস যেমন ফ্যান, জাহাজ, বিমান, ড্রোন, অন্ধ মানুষের জন্য চশমা, লঞ্চ, রাডারসহ অনেক ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরি করতাম। আস্তে আস্তে বড় হলাম অভিজ্ঞতা বাড়লো।

অনলাইন থেকে জিনিসপত্র কিনে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করতাম তখন। যখন ক্লাস সেভেনে উঠলাম তখন হঠাৎ করে একদিন ড্রোন বানানোর চিন্তা আসে মাথায়। যদিও এর আগে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করেছিলাম। ড্রোনের চিন্তা আসার পর অনলাইন থেকে google, youtube থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ধীরে ধীরে এগোতে থাকি। কাজ শুরু করে প্রথমবার ব্যর্থ হই। ড্রোন তৈরি করার সময় পর পর সাত বার ব্যর্থ হই। এরপর অষ্টমবারে প্রথমবারের মতো পুরোপুরি ড্রোন তৈরি করতে সফল হই। নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় প্লেন, লঞ্চ, রাডার, ব্লাইন্ড সানগ্লাস, ভেকু, ফোন কল ফায়ার এলার্ম, গ্যাস লিকেজ এলার্ম। এরকম বিভিন্ন বিজ্ঞান প্রজেক্ট আমি তৈরি করেছি।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় যে প্রজেক্ট তা হলো- ধর্ষণ রোধ, ও জরুরি অবস্থায় নারীদের সহায়তার জন্য আমি একটি জুতো তৈরি করেছি।

জুতাটি হাঁটার সময় অটোমেটিক চার্জ হবে, এটাতে লাগানো আছে জিপিএস ট্র্যাকার এবং ২৫০ ভোল্টের ইলেকট্রিক শকগান। যখন একজন নারী হেনস্থার শিকার হন, বা তাকে টেনে হিঁচড়ে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়। এ অবস্থায় তিনি সাহায্য যাওয়ার জন্য তার মোবাইল ফোনে কাউকে কল দিতে অথবা মেসেজ দিয়ে সাহায্য চাইতে পারেন না। এজন্য আমার তৈরি করা জুতায় আমি একটি জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার করেছি, যার মাধ্যমে জরুরি অবস্থায় কোনো নারীর সহায়তার প্রয়োজন হলে জুতাটি সামনের দিকে একবার প্রেস করলে জিপি ট্র্যাকারে থাকা সেট করা নির্দিষ্ট একটি নাম্বারে (হতে পারে সেটি মা-বাবা ভাই-বোন অথবা নিকটতম কোনো আত্মীয়) একটি মেসেজ যাবে, দুইবার ক্লিক করলে সরাসরি একটি কল যাবে যার মাধ্যমে ওই ব্যক্তি বুঝতে পারবে আপনার সহায়তা প্রয়োজন এবং আপনার সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবে।

তিনি জিপি ট্র্যাকারের মাধ্যমে আপনার লাইভ লোকেশন দেখে সেখানে আসতে পারবেন এবং আপনাকে উদ্ধার করতে পারবেন। এবং ওই অবস্থায় তাৎক্ষণিক আত্মরক্ষার জন্য অন্য জুতোটি ব্যবহার করতে পারবেন। জুতায় লাগানো আছে ২৫০ কিলো ভোল্টের ইলেকট্রিক শক, এবং নিচে লাগানো হয়েছে পায়োজোইলেকট্রিক প্লেট যার মাধ্যমে যখন জুতাটি পড়ে হাঁটবে তখন অটোমেটিক চার্জ হয়ে যাবে।

সাইম আরও বলে, এ বিষয়ে সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে, এই জুতাটি আমি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করতে পারব, এটিকে আমি সম্পূর্ণ পরিধানযোগ্য একটি জুতা তৈরি করতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।

আবদুল্লাহ আল সাইম (নিনাত) এর বাবা হাবিবুল্লাহ কালাম বলেন, আমি একজন প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক। আমার ছেলে ছোটবেলায় এসব বানানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অনেক সময় বিদ্যুতের শক খেয়েছে এবং আমাকে আর্থিক সহযোগিতা করতে হয়েছে। তখন আমি রাগারাগি করতাম অযথা টাকাগুলো নষ্ট করার জন্য। এরপর থেকে অনেক ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি তৈরি করে আমাদের অবাক করে দিয়েছে। এক সময় আমারও ভালোলাগা শুরু হলো ওর এসব প্রতিভা দেখে।

তিনি বলেন, সরকারিভাবে আমার ছেলে আর্থিক সহযোগিতা পেলে ও আরও ভালো কিছু করে দেখাবে এবং উপকূলীয় জেলা বরগুনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।