প্রধান বিচারপতির বাসভবন হচ্ছে ‘সংরক্ষিত পুরাকীর্তি’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: রাজধানীর ১৯ হেয়ার রোডে অবস্থিত প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবন পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ভবনটিকে ‘সংরক্ষিত পুরাকীর্তি’ ঘোষণার কার্যক্রম শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকার পতনের দিন প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা-লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার ইঙ্গিত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ঐতিহসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই উদ্যোগের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গত ২৫ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা করেন প্রধান বিচারপতি। ওই সভায় ভবনটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা করে তা সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় প্রত্নতত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম উপস্থিত ছিলেন।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালককে চিঠি দেয় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার (৯ অক্টোবর) প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আমিরুজ্জামান অধিদফতরের ঢাকা ও ময়মনসিংহের আঞ্চলিক পরিচালককে বাসভবনটি সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।

ভবনটির ইতিহাস ও স্থাপত্যশৈলী তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ঢাকাকে পূর্ববঙ্গ ও আসামের রাজধানী করার পর উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য যেসব আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল, সেসব ভবনের একটি হচ্ছে হেয়ার রোডের প্রধান বিচারপতির বাসভবন। মোঘল ও ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণে ১৯০৮ সালে ভবনটি নির্মাণ করা হয়।

১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পর ভবনটি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলেও পঞ্চাশের দশক থেকে ভবনটি প্রধান বিচারপতির বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুরাকীর্তি আইন, ১৯৬৮ অনুসারে ভবনটির মালিকানা ও ব্যবহার স্বত্ব সুপ্রিম কোর্টের অনুকূলে রেখে সংরক্ষণ করা হলে তা জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে। ১১৬ বছরের পুরনো স্থাপনাটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা করা হলে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এর ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে স্থাপনাটির গুরুত্ব ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।




বরগুনায় জমে উঠেছে ‘হাউন আঙ্কেলের ভাতের হোটেল’

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠি পৌর শহরের বাসিন্দা ইমন চৌধুরী একসময় হার্ডওয়ারের দোকানের পাশাপাশি ঠিকাদারি করতেন। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে তার ঠিকাদারি ও ব্যবসায়ের অবস্থা তেমন একটা ভালো যাচ্ছিল না। পরে তিনি বিভিন্ন মানুষের পরামর্শ নিয়ে ভাতের হোটেল করেন।

আর সেই ভাতের হোটেলের নাম দেন ‘হাউন আঙ্কেলের ভাতের হোটেল’। বর্তমানে ঝালকাঠিতে এটি আলোচিত একটি হোটেল। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এখানে ভাত খেতে।

খাবার খেতে আসা কয়েকজন জানান, হোটেলটির নাম শুনে এখানে খেতে আসছি। এখানের পরিবেশ বেশ ভালো এবং খাবার মানও খুব ভালো, তাই এসে খুব ভালোই লাগল।

হোটেলের স্বত্বাধিকারী ইমন চৌধুরী বলেন, ‘হাউন আঙ্কেল’ নামটি বেশ আলোচিত একটি নাম। আমার হোটেলটি এই নামের জন্যই খুব অল্প সময়েই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখানে অনেক দূর থেকে খাবার খেতে আসে।




বিএম কলেজের ছাত্রের পানিতে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু

বরিশাল প্রতিনিধি :: বরিশালের গৌরনদীতে পুকুরে ডুবে ফাহিম বিন ফিরোজ রাতুল (২২) নামের বিএম কলেজের এক ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ফাহিম বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার দাদার স্বপ্ন ছিলো তাকে সেনাবাহিনীর অফিসার হিসেবে দেখা। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে আগামী মার্চে সেনাবাহিনীতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ উদ্দেশ্যে গ্রামের বাড়িতে এসে পরিবারের সবার কাছ থেকে দোয়া নিচ্ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ আগষ্ট) দুপুরে বন্ধুদের সাথে গোসল করতে গিয়ে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা চত্বরের পুকুরে ডুবে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা জানান, পুকুরে নেমে অসাবধানতাবশত পানিতে তলিয়ে যান ফাহিম। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে। গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফাহিম গৌরনদী পৌরসভার চরগাধাতলী মহল্লার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী টিটু ফকিরের একমাত্র ছেলে। তার মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে, একই দিনে বরিশাল গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড-বন্দর সড়কে নির্মাণাধীন বেইলি ব্রিজের পাশে একটি ভবনের সিড়ি ধসে তিন নির্মাণ শ্রমিক আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ইব্রাহীম খানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ফাহিমের এ মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ওএলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া বিরাজ করছে । তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে , রাতুল ছিল পরিবারের একমাত্র সন্তান এবং তাদের সব স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে তার দাদা সেনাবাহিনীতে রাতুলকে অফিসার হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। পরিবারের মতে, রাতুল একজন উদ্যমী ও মেধাবী ছাত্র ছিল, এবং সেনাবাহিনীর পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পরিবারের সবাই তার জন্য দোয়া করেছিল। তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না, যে একটি সাধারণ গোসলের সময় এমন দুর্ঘটনা ঘটে গেল, যা তাদের জীবনকে চিরতরে পাল্টে দিল।

বরিশাল গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আফজাল হোসেন জানান, এটি একটি দুর্ঘটনা। রাতুল ও তার তিন বন্ধু গৌরনদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে পুকুরে গোসল করতে গিয়েছিলেন, এবং সেখানে অসাবধানতাবশত তিনি পানিতে ডুবে যান। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, তবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ এটিকে একটি দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখছে এবং প্রাথমিক তদন্তে কোনো অপরাধের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবুও তারা ঘটনাটি আরও খতিয়ে দেখছে।




রাঙ্গাবালীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা সভা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান উপলক্ষে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় কোড়ালিয়া স্পিডবোট ঘাটে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মৎস্যজীবীদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমারাৎ হোসেন।

এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মেরিন ফিশারিজ কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন, রাঙ্গাবালী কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আলমগীর হোসেন।

সভায় বক্তারা সরকার ঘোষিত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর (২২ দিন) ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, কেনা-বেচা ও বিনিময় করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন। এছাড়াও এ আইন অমান্যকারীকে কমপক্ষে ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।




পটুয়াখালীতে সরকারি খাল দখলমুক্ত করতে গিয়ে হামলায় আহত ৫

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি খাল দখলমুক্ত করতে গিয়ে ২ পক্ষের হামলায় আহত হয়েছেন ৫ জন।

বৃহস্পতিবার (১০ আক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের পশ্চিম তুলাতলী গ্রামের ইটবাড়িয়া পেখার খালকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ ঘটে। আহতদের মধ্যে ৩ জনকে কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কতিপয় প্রভাবশালী নেতা বহু বছর ধরে খালটি অবৈধভাবে দখল করে রাখায় গ্রামবাসী একত্র হয়ে খালটি উন্মুক্ত করেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাশার গাজী, পারভেজ তালুকদার ও নূরুল আমিনসহ অনেকে জানান, সোনাপাড়া, পক্ষিয়াপাড়া, বৈদ্যপাড়া ও তুলাতলী গ্রামের প্রায় ৭০০-৮০০ একর জমির চাষাবাদের পানি এ খাল থেকে সরবরাহ করা হয়। আবার বর্ষা মৌসুমে অতি বৃষ্টির পানি এ খাল দিয়েই নিষ্কাশনা হয়। স্থানীয় সাইফুল গাজী, আলতাফ গাজী, সালাম গাজী ও শাহালম গাজীসহ সাবেক ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে খালটিকে দখল করে রেখেছিল। এতে সাধারণ মানুষসহ কৃষকদের চরম ভোগান্তি হয়। এ জন্য গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে খালের ৯টি স্থানের বাঁধ কেটে সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।

এ বিষয়ে আলতাফ গাজী বলেন, খালটি তারা চার বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেনে। কিন্তু গ্রামবাসী জোর করে মাছ ধরেছে এবং খালের বাঁধ কেটে দিয়েছে।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, তারা বিষয়টি জেনেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।




পটুয়াখালীতে ১৭৬ মন্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে জেলার দুমকিতে ১০ টিসহ ৯ টি উপজেলায় ১৭৬ টি মন্ডপে ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছ। নির্বিঘ্নে ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যদিয়ে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে আনসার, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী মাঠে রয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যারাতে ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলায় ১৭৬ টি মন্ডপে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছ।

দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে হিন্দু সম্প্রদায়, সাংবাদিক ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা প্রশাসনের একাধিক সভা, মতবিনিময় ও প্রেসব্রিফিং করা হয়েছে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন বরিশালের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ আব্দুস সালাম (রিমন)সহ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

১৭৬ টি পূজা মন্ডপের মধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ২৬ টি, গলাচিপা উপজেলায় ২৮ টি, বাউফলে ৬৫ টি, দুমকিতে ১০ টি, রাঙ্গাবালীতে ৫ টি, মির্জাগঞ্জে ১৫ টি, দশমিনায় ১৩ টি ও কলাপাড়া উপজেলায় ১০ টি পূজামন্ডপ।

এ সব পূজামন্ডপে পূজা অর্চনার মধ্যদিয়ে দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে বলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) যাদব সরকার নিশ্চিত করেছেন। উক্ত সংখ্যক পূজা মন্ডপের মধ্য অধিক গুরুত্বপুর্ন ৫৭ টি, গুরুত্বপুর্ন ৯১ টি এবং সাধারন মন্ডপ ২৭ টি বলেও জানান তিনি। পূজামন্ডপ সমূহে নির্বিঘ্ন পূজা উদযাপনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে বলেও জানিয়েছে অতিরিক্ত জেলা পরশাসক যাদব সরকার।

মন্ডপ সমূহ সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।




পিরোজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, একই পরিবারের ৪ জনের কবর খোঁড়া হচ্ছে একসঙ্গে

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই পরিবারের মোট আটজন। বুধবার (৯ অক্টোবর) রাতে প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে যায়, এতে ঘটনাস্থলেই আটজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের হোগলাবুনিয়া গ্রামের একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তাঁদের জন্য পরিবারের কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবর খোঁড়া হচ্ছে।

নাজিরপুরের হোগলাবুনিয়া গ্রামের মো. শাওন (৩২), তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগম (২৫), তাঁদের দুই সন্তান শাহাদাত (১০) ও আব্দুল্লাহ (৩)। শাওনই গাড়িটির চালক ছিলেন। অপর পরিবারটি শেরপুর সদর উপজেলার ভীমগঞ্জ গ্রামের। তারা হলেন—মোতালেব (৪৫), তার স্ত্রী সাবিনা (৩৬), কন্যা মুক্তা (১০) ও পুত্র শোয়াইব (২)।

বুধবার রাত ২টা ১৫ মিনিটের দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার নাজিরপুর সড়কের নূরানী গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস রাত ২টা ৩০ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুই পরিবারের সদস্যরা কুয়াকাটায় ঘুরতে গিয়েছিলেন এবং ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।

নিহত শাওনের বড় ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের তিন ভাই, এক বোন। শাওন আমাদের সবার ছোট, সে সুখে-শান্তিতে ছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল।” জানাজা শেষে একই সারিতে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে চারজনকে দাফন করা হবে বলে জানান তিনি।

পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) মো. মুকিত হাসান খাঁন জানান, দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক ধারণা, চালকের অসতর্কতা বা ঘুমিয়ে পড়ার কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।




বরিশালে গোসলে নেমে ঢাকা কমার্স কলেজের ছাত্রের মৃত্যু

বরিশাল অফিস :: বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরকালেখান গ্রামে পুকুরে গোসলে নেমে ঢাকা কমার্স কলেজের এক ছাত্রের মৃত্যু ঘটেছে।

বুধবার (১০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

মৃত ছাত্রটির নাম অর্পন মন্ডল, তিনি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার নারায়ন মন্ডলের ছেলে। অর্পন ঢাকা কমার্স কলেজ থেকে একাদশ শ্রেণীর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছিলেন। তিনি দুই দিন আগে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অর্পন সাঁতার জানতেন না। আজ দুপুরে তিনি পাশের বাড়ির কয়েকজনের সঙ্গে বাড়ির সামনে পুকুরে গোসল করতে যান। কিছুক্ষণ পর তার পুকুরে ডুব দেয়ার বিষয়টি কারো নজরে আসে না। অর্পনকে দেখতে না পেয়ে অন্যরা চিৎকার করতে শুরু করেন এবং তাকে খোঁজার চেষ্টা করেন। পরে তারা তাকে পানির নিচ থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বরিশাল মুলাদী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কাজী মঈনুল ইসলাম জানান, অর্পনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল।

বরিশাল মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অর্পনের মৃত্যু পরিবারের জন্য একটি বড় শোক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্তের জন্য কিছু পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানা গেছে।




বরিশালে বিএনপি নেতার মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুইজন গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস : চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি নেতার মাছ ঘাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হিজলা উপজেলার গৌরব্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম মিলনসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মিলন এবং তার কর্মী দেলোয়ার হোসেন দেলু রয়েছেন।

হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, বুধবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন হিজলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল গাফফার তালুকদার, যার অভিযোগ অনুযায়ী ২০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে গত ২৪ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত তার নয়টি মাছ ঘাটে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

এ মামলায় একশ’জন নামধারী এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে, মামলায় ছয়জন সাংবাদিককে আসামি করায় বরিশালের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হিজলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, মামলায় তাকে ছাড়াও মাই টিভির প্রতিনিধি দেলোয়ার হোসেন, দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি মো. আলহাজ, এশিয়ান টেলিভিশনের মিলন সরদার, মানবজমিনের কাজী মহসিন, আজকের বার্তার হুমায়ুন নলী এবং বাংলাদেশ বাণীর প্রতিনিধি মো. শাহে আলমকে আসামি করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের মামলায় জড়ানোর ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং হয়রানিমূলক বলে দাবি করেছেন বরিশালের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফরসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধ এবং তাদের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।




বরিশালে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালিজিরা খান মার্কেট এলাকায় ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আওয়ামী লীগ নেতা কর্তৃক অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক মজিবর রহমান খান লিটনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহ্বায়ক কায়কোবাদ, ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান, পলাশ হাওলাদার ও শামীম খান প্রমুখ।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বিআইডব্লিউটিএ’র কাছ থেকে ভূয়া ইজারা আনার কথা বলে প্রতিনিয়ত তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছেন। এছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা উজ্জ্বল ঘড়ামী ও বাবু হাওলাদারের নেতৃত্বে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং এ ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য সুদৃষ্টি কামনা করেন।