দুর্গা পূজার ছুটিতে পর্যটকের পদভারে মুখরিত সারকন্যা কুয়াকাটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দুর্গাপূজার ছুটিতে হাজারো পর্যটকদের পদচারণায় মুখর এখন সমুদ্র সৈকত পটুয়াখালীর কুয়াকাটা। নোনা জলে নেচে-গেয়ে আনন্দ উন্মাদনায় মেতেছে পর্যটকরা।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যটকে মুখরিত সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। দীর্ঘ সময় পরে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কেটে যাওয়ার আভাস মেলে পর্যটকদের উচ্ছ্বাসে। প্রতি বছর এই সময় সমুদ্র সৈকতে তেমন ভিড় না থাকলেও এবার দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি উপলক্ষ্যে পর্যটকদের মেলা বসেছে সৈকতে।

কুমিল্লা থেকে ঘুরতে আসা সাইমা ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই সৈকতের নোনা জলে গা ভাসিয়ে নেচে-গেয়ে আনন্দ করেছি আমরা। খুবই ভালো লাগছে। অনেক দিন ধরে দেশের পরিস্থিতির কারণে যাওয়া হয়নি কোথাও।

যশোর থেকে পরিবারসহ ঘুরতে আসা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, অনেক দিন থেকেই ভাবছি কোথাও ঘুরতে যাবো। কিন্তু যাওয়া হয়ে ওঠেনি। এখন যেন আকাশে-বাতাসে স্বস্তি। তাই পরিবার নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। সমুদ্রকে অন্য রকম লাগছে।

আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। দক্ষিণের নির্মল বাতাস, সাগরের নীল জলরাশি। এমন পরিবেশে অনেকে প্রিয়জনদের সঙ্গে সৈকতে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলে ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কেউ আবার সৈকতের বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন প্রকৃতি। ওয়াটার বাইক, মোটরসাইকেল কিংবা ঘোড়ায় চড়ে আনন্দ উপভোগ করতে দেখা গেছে অনেক পর্যটকদের।

কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব শরীফ বলেন, টানা ছুটিকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন পরে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কেটে যাওয়ার পরে কুয়াকাটায় অধিকাংশ হোটেল-মোটেল বুকিং হয়েছে। এতোদিনে আমরা কিছু ব্যবসা করতে পারছি। পর্যটকদের এমন ভিড় অনেক দিন দেখা হয় না।

আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে তৎপর কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে কুয়াকাটায় অনেক পর্যটকের আগমন হয়েছে। কোনো পর্যটক যেন হয়রানির শিকার না হয় এজন্য আমরা সর্বদা মনিটরিং করছি।

উল্লেখ্য, কুয়াকাটায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতে ছোট বড় মিলে প্রায় দুই শতাধিক হোটেল-মোটেল রয়েছে।

আরো পড়ুন : পূজার ছুটিতে কুয়াকাটায় আসতে শুরু করেছে পর্যটক



পটুয়াখালীতে বিশ্ব ডিম দিবস পালিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বিশ্ব ডিম দিবস উদযাপন উপলক্ষে পটুয়াখালীতে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারী হাসপাতালের সভা কক্ষে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এর আয়োজনে বিশ্ব ডিম দিবসের প্রতিপাদ্য “ডিমে পুষ্টি ডিমে শক্তি, ডিমে আছে রোগ মুক্তি” শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আতিকুর রহমান।

কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মারুফ বিল্লাহ খান এর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফাহিমা ইসলাম লিজা, দশমিনা উপজেলা এলও কৃষিবিদ শুভেন্দু সরকার, মির্জাগঞ্জ উপজেলা এলও ডাঃ মো. আলাউদ্দিন মাসুদ। আরও বক্তব্য রাখেন লেয়ার খামারি মো. রাসেল হাওলাদার। বিশ্ব ডিম দিবসের তাৎপর্য ও ডিমের উৎপাদন এবং ডিমের গুনাগুন বিষয়ে প্রেজেক্টরের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন পটুয়াখালী সদরের এলইও কৃষিবিদ মো. সহিদ হাসান।

বক্তার বলেন, ‘ডিম’ একটি সুপার ফুড, ডিমে সকল ধরনের রোগ প্রতিরোধের গুন রয়েছে। ডিম মানুষের শক্তি বৃদ্ধি করে। ডিম উৎপাদন করে এবং ব্যবসা করে শত শত খামারিরা ও ব্যবসায়ীরা সাবলম্বী হয়।
এর আগে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আয়োজনে একটি র‍্যালী বের করে এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সহ বিভিন্ন উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তেরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহন করেন।




‘বিদেশ ফেরত অনেকে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দলের দুঃসময়ে অনেক নেতাকর্মী বিদেশে গিয়ে শান্তি ও স্বস্তিতে দিনযাপন করেছে। এই দুঃসময়ে অনেকেরই কোনো খবর ছিল না। এখন প্রবাস থেকে ফিরে তারা বিভিন্ন সেক্টরকে কেন্দ্র করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। এদের ব্যাপারে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, তারা এখন দেশে ফিরে এসে প্রভাব খাটিয়ে আরও বেশি স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টায় লিপ্ত। জনপ্রশাসন, পুলিশ ও মিডিয়া হাউসকে টার্গেট করে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ কেউ খবরদারি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের ব্যাপারে সবাই সতর্ক থাকবেন। এ সমস্ত ব্যক্তিরা কেউ বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করে না।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দুর্যোগ মুহূর্তে তাদের জীবন কেটেছে নিরাপদে। অথচ দেশে থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে ছিল, আন্দোলনে ছিল। ৫ আগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনার নির্দেশে বাহিনীগুলোর ছোড়া বুলেট ও ধারালো অস্ত্রে গুরুতর আহত হয়ে এখনো প্রতিদিনই কেউ না কেউ মৃত্যুবরণ করছে। তাদেরকে আমাদের মনে রাখতে হবে।




পূজামণ্ডপে ইসলামি সঙ্গীত: আটককৃতদের পরিচয় জানাল পুলিশ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপে ইসলামি সঙ্গীত পরিবেশনের ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন- গান পরিবেশনকারী শহিদুল ইসলাম (৪২) ও নুরুল ইসলাম (৩৪)। শহিদুল নগরীর তানজীমুমুল উম্মাহ মাদরাসা ও নুরুল করিম দারুল ইফরান মাদরাসার শিক্ষক।

শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন্স) মো. রইছ উদ্দিন।

পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজল দত্তের আহ্বানে চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির ছয় সদস্য গান পরিবেশন করেন বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রইছ উদ্দিন বলেন, গতকাল জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একটি ইসলামি গান গাওয়া নিয়ে ফেসবুকে বেশ সমালোচনা হয়। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পূজা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজল দত্ত চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির একদল শিল্পীকে অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করার জন্য অনুরোধ করে। তার অনুরোধে শহীদুল করিম (৪২), মো. নুরুল ইসলাম (৩৪), আব্দুল্লাহ ইকবাল (৩০, রনি (২৮) ও গোলাম মোস্তফা ও মো. মামুন (২৭) দুইটি পরিবেশন করেন। সেখানে একটি গানের ভাষায় শব্দ চয়ন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বলে প্রতীয়মান হয়। পরে পুলিশ এ ঘটনায় তৎপর হন এবং বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে।

তিনি বলেন, আটককৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও অপতৎপরতার কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা তা খুঁজে দেখছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে ছয়জন মঞ্চে উঠে ইসলামি গান পরিবেশন করেন। অভিযোগ উঠেছে, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা এমন সঙ্গীত পরিবেশনা করেছেন। যদিও শিবির এক বিবৃতিতে বলেছে, এই ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত নয়। যারা গান পরিবেশন করেছেন তাদের সঙ্গে শিবিরের সম্পর্ক নেই।

গান পরিবেশনের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম ওই পূজামণ্ডপে গিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, মণ্ডপে ইসলামি সঙ্গীত পরিবেশনকারীদের চিহ্নিত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে কালচারাল প্রোগ্রাম ছিল। পূজা উদযাপন কমিটির অন্যতম সদস্য সজল দত্তের আহ্বানে চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির ছয় সদস্য গান পরিবেশন করতে মঞ্চে ওঠে। সংগঠনটি শাহ্ আবদুল করিমের লেখা বিখ্যাত গান ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’ এবং চৌধুরী আবদুল হালিমের লেখা ‘শুধু মুসলমানের লাগি আসেনিকো ইসলাম, বিশ্ব মানুষের কল্যাণে স্রষ্টার এই বিধান’-শীর্ষক গান দুটি পরিবেশন করে। এর মধ্যে শুধু মুসলমানের লাগি আসেনিকো ইসলাম, বিশ্ব মানুষের কল্যাণে স্রষ্টার এই বিধান-গানটির ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।




ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে প্রাণ গেল ২ জনের

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকেকালিহাতী উপজেলার সল্লা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের মহেশপুর গ্রামে আজহারুল ইসলামের ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম। নিহতদের মধ্যে একজন ট্রাকচালক, অন্যজন ট্রাকের হেলপার। আহত কাভার্ডভ্যানচালককে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

যমুনা সেতু পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসাইন জানান, কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ট্রাকচালক আনোয়ার হোসেন ও হেলপার নিহত হন। আহত কাভার্ডভ্যানচালককে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুইজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।




ভোলার গ্যাস বরিশালের অর্থনৈতিক বিকাশে নতুন দিগন্ত

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশের অন্যতম গ্যাস সমৃদ্ধ অঞ্চল ভোলা থেকে বরিশালে গ্যাস সরবরাহের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত উদ্যোগ এখন বাস্তবায়নের পথে। এই প্রকল্প দেশের দক্ষিণাঞ্চলের শিল্পায়ন ও উন্নয়নকে গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভোলার বিশাল গ্যাস রিজার্ভ এবং তার সঠিক ব্যবহার দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকারের লক্ষ্য হলো এই গ্যাস ব্যবহার করে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংকট ও শিল্প উৎপাদনে গতি আনা।

ভোলার গ্যাস রিজার্ভ বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সম্পদগুলোর একটি। প্রায় ১.৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ রয়েছে ভোলায়, যা দেশের বিভিন্ন খাতে সরবরাহ করে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার একটি বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বরিশালে এই গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে, ফলে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো আরও সাশ্রয়ী ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুবিধা পাবে। এর ফলে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, এবং দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটবে।

এই প্রকল্পের আওতায় একটি পাইপলাইন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি গ্যাস বরিশাল এবং আশেপাশের এলাকাগুলোতে সরবরাহ করা হবে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানির যোগান নিশ্চিত হবে। তাছাড়া, গ্যাস সরবরাহের কারণে এই অঞ্চলে নতুন শিল্প কারখানা স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সরকার ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ জন্য স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদেরও আকৃষ্ট করা হচ্ছে। তাছাড়া, ভোলা-বরিশাল গ্যাস সরবরাহ সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বরিশালের অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

গ্যাস সরবরাহের ফলে বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ক্রমাগত উন্নতি আশা করা হচ্ছে। বরিশালের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডেও সরবরাহ করা যাবে, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই সাশ্রয়ী উৎস বরিশালের সম্ভাব্য শিল্প অঞ্চলগুলোকে শক্তিশালী করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

শিল্পখাতেও গ্যাস সরবরাহের ব্যাপক প্রভাব দেখা যাবে। বর্তমান সময়ে দেশে শিল্প উৎপাদনে গ্যাসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বরিশালে গ্যাস সরবরাহের ফলে এই অঞ্চলে নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। তাছাড়া, বিদ্যমান শিল্পগুলোও তাদের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারবে। ফলে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং মানুষের জীবনমানেরও উন্নয়ন ঘটবে।

ভোলার গ্যাস বরিশালে সরবরাহের ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে যেমন পরিবর্তন আসবে, তেমনি এর সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। সাশ্রয়ী গ্যাসের ব্যবহার পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়তা করবে, ফলে কার্বন নিঃসরণ কমবে এবং পরিবেশ দূষণ কম হবে। একই সঙ্গে, গ্যাসের সহজলভ্যতা স্থানীয় পর্যায়ে কাজের সুযোগ তৈরি করবে এবং জনগণের আয় বৃদ্ধি পাবে।

তবে, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। পাইপলাইন নির্মাণ এবং গ্যাস ব্যবহারের সময় পরিবেশের উপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব কমানোর জন্য সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাছাড়া, স্থানীয় জনগণের সুরক্ষা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও বিশেষ নজর দেওয়া দরকার।

ভোলা থেকে বরিশালে গ্যাস সরবরাহ প্রকল্পটি যেমন সম্ভাবনাময়, তেমনি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হলো পাইপলাইন স্থাপনের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ সংগ্রহ এবং যথাযথ প্রযুক্তির ব্যবহার। এ ছাড়া, প্রকল্পটি সঠিক সময়ে বাস্তবায়িত করার জন্য দক্ষ জনবল এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে, যদি এই চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করা যায়, তবে বরিশাল এবং দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হবে।

সরকার এই প্রকল্পকে সফলভাবে বাস্তবায়িত করার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। তাছাড়া, প্রকল্পের সময়সীমা এবং বাজেট নির্ধারণের কাজও চলছে।

ভোলা থেকে বরিশালে গ্যাস সরবরাহ প্রকল্পটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এটি বরিশালসহ আশপাশের এলাকাগুলোর শিল্পায়ন ও বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগও তৈরি করবে। এই গ্যাস সরবরাহ বরিশালকে একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

তবে, প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সঠিক পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং কারিগরি সহায়তার উপর। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য ভোলা থেকে বরিশালে গ্যাস সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে।




শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বরিশাল জেলা প্রশাসক

বরিশাল অফিস :: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বরিশাল সদর উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে তিনি সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনরাজি সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গামন্দির এবং চাঁদপুরা ইউনিয়নের রাইপুরা বুনিয়াদি স্কুল সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গামন্দিরের পূজা মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেন।

বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন,বরিশাল স্থানীয় সরকার উপপরিচালক গৌতম বাড়ৈ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার, বরিশাল সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলামসহ অন্যান্য জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক পূজা মণ্ডপগুলোতে উপস্থিত পূজার দর্শনার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

এই পরিদর্শনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক দুর্গাপূজার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং মণ্ডপ কর্তৃপক্ষের সাথে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা শেয়ার করেন। পূজার আয়োজকরা প্রশাসনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।




বরিশালে ১০ দিনে ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু,আক্রান্ত ৭১০

বরিশাল অফিস :: বরিশালে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনেই সরকারি হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ৭১০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। গত কয়েক মাসে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারের ফলে বরিশাল জেলায় এ পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে।

সেপ্টেম্বর মাসে বরিশালের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। মাসব্যাপী বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ১,২৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। এর মধ্যে, মাসের শেষ ১০ দিনেই মৃত্যু হয় ৭ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে গুরুতর রোগীদের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

অক্টোবরে বরিশালসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনেই নতুন করে ৭১০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৬ জন মারা গেছেন, যা পরিস্থিতির আরো অবনতির ইঙ্গিত দেয়।

বরিশাল জেলার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। শুধুমাত্র বরিশাল জেলা সদর ও আশেপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১,০০৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। জেলার অন্যান্য ছোট হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার সংকট দেখা দেওয়ায়, গুরুতর রোগীদের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে, যেখানে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চলের ৩,৫৩৭ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ৩,২১৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন, হাসপাতালে ভর্তি না হওয়া আরও অনেক রোগী রয়েছেন, যাদের কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনসহ অন্যান্য পৌরসভাগুলো মশা নিধনে ওষুধ ছিটানোর চেষ্টা করলেও বৃষ্টির কারণে তেমন কার্যকর ফল মিলছে না। মশার ওষুধ ছিটানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৃষ্টির পানিতে তা ধুয়ে যাচ্ছে, ফলে মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে এডিস মশা নির্মূলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বরিশালের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মশার ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস এবং জনগণকে সচেতন করা খুবই জরুরি।




তারেক রহমান সবার আগে পটুয়াখালী ভিজিট করবেন: কুট্টি সরকার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: `বাংলাদেশে তারেক রহমান আসবেন, নির্বাচনী প্রচারণায় নামবেন, আমি আপনাদেরকে কথা দিতে পারি আমাদের নেতা তারেক রহমান সবার আগে পটুয়াখালী ভিজিট করবেন”-পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত সাংগঠনিক সভার বক্তব্যে এমন কথা বলেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার (কুট্টি)।

তিনি আরও বলেন,আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহম্মেদ বলেছিল আওয়ামী লীগের লাখো নেতাকর্মীদের বিএনপির নেতাকর্মীরা মেরে ফেলবে। কই আমাদের পটুয়াখালী জেলায় বা কোথাওতো এমন ঘটনা ঘটেনি। কেন ঘটেনি? আমাদের নেতা তারেক রহমান এর কারণে। কারণ তিনি দলের নেতাকর্মীদের উচ্ছৃঙ্খলতা সংবরণ করার জন্য সামান্য ভুল পেয়ে এখন পর্যন্ত চার পাঁচশোর ওপরে নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন। তাঁর দূরদর্শিতাসম্পন্ন নেতৃত্বগুণের কারণে আজ সর্বত্র শান্তি, শৃঙ্খলা বিরাজমান।

১০ অক্টোবর,বৃহস্পতিবার, বিকালে মির্জাগঞ্জের সুবিদখালী র ই পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে এ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্নেহাংশু সরকার (কুট্টি)। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সাহাবুদ্দিন নান্নু।

বিশেষ অতিথি ছিলেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য ও পটুয়াখালী পৌর সভার সাবেক মেয়র মোস্তাক আহমেদ পিনু, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান টোটন, সদস্য দেলোয়ার হোসেন নান্নু, সদস্য মোফাজ্জেল আলী খান দুলাল, পটুয়াখালী পৌর বিএনপির সভাপতি মো. কামাল হোসেন,পটুয়াখালী যুবদলের সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম লিটন, সদস্য ও সাবেক জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আশফাকুর রহমান বিপ্লব, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. মশিউর রহমান মিলন, ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. জাকারিয়া হোসেন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসানউ ল্লাহ পিন্টু সিকদার, সহ-সভাপতি ফারুক মুন্সি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ মুন্সি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মনির, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম শামীম, দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল মুন্সি, প্রচার সম্পাদক সার্জেন্ট (অব) আলমগীর হোসেন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মল্লিক মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদ, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো. নাসির উদ্দীন হাওলার, যুগ্ম আহবায়ক মিজানুর রহমান সুজন হাওলাদার, সহিদুজ্জামান সাহিন মুন্সি, সৌরভ মুন্সি, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মো. রাজিব হোসেন রাজু, মো. নাইম ইসলাম, মো. ইব্রাহীম হোসেন প্রমুখ।

এছাড়াও উপজেলা বিএনপি, সহযোগী সংগঠন, ইউনিয়ন ও সর্বস্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল। সাংগঠনিক সভা শেষে, অতিথিবৃন্দ সুবিদখালী বন্দর ও মির্জাগঞ্জ সদর পুজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সকলের খোঁজ-খবর নেন।’




বাউফলে ৮ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলা শহরের সাথে বাউফল উপজেলার সাথে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম পটুয়াখালীর লোহালিয়া- কালাইয়া সড়ক। ব্যস্ততম ৩০ কিলোমিটার সড়কের প্রায় ৮ কিলোমিটার জুড়ে খানাখন্দে ভরা। বেহাল এ সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এতে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। দ্রুত সড়ক সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন দুর্ভোগের শিকার যাত্রী, পথচারী ও যানবাহন চালকরা।

সরেজমিনে যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয়রা জানান, জেলা শহরে যোগাযোগের প্রধান সড়ক মাধ্যম লোহালিয়া- কালাইয়া সড়ক। গলাচিপা ও দশমিনা থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী পরিবহনও এই সড়কে চলাচলে করে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততম এ সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার পরিবহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন মেরামত ও সংস্কার না হওয়ায় বাউফলের পূর্ব বাহির দাশপাড়া থেকে পূর্ব নওমালা পর্যন্ত ৮কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। এতে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্বোগের শিকার হচ্ছেন নারী, শিশু ও রোগীরা। সড়কটি সংষ্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রী, চালক ও স্থানীয়রা।

উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে বাসিন্দা পটুয়াখালী জজ আদালতের আইনজীবী মোহাম্মাদ আলী বলেন, সড়কে খানাখন্দে ভরা। খুবই ভয়াবহ অবস্থা এবং বেহাল দশা। প্রায়ই এই সড়কের দুর্ঘটনা ঘটছে। তারপরেও পেশাগত কারণে ঝুকি নিয়ে এই পথে চলাচল করি।

জেলা শহরের বাসিন্দা পাইকারী মোবাইল ও টেলিকম বিক্রেতা মো. এনামুল হক জানান, মালামাল নিয়ে বাউফল যেতে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হয়। প্রায় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। এতে ব্যবসার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। সড়কটি দ্রুত সংষ্কার দরকার।

পটুয়াখালী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মো. সায়েম আহমেদ বলেন,‘ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার হয় না। যার কারণে সড়কের কোনো অস্থিত্ব নেই। পুরো সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। বৃষ্টি হলেই সড়ক পরিনিত হয় ডোবা নালায়। কাদা পানিতে চলাচলে চরমভোগান্তির শিকার হতে হন। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

বাউফল সরকারি কলেজের প্রভাষক বাদল দাস বলেন,‘ সড়কটি একদিকে উপজেলার সাথে জেলার অন্যতম প্রধান সড়ক। অপরদিকে উপজেলা শহরের সাথে দাশপাড়া, নওমালা ও আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের যোগাযোগেরও প্রধান সড়ক। দীর্ঘদিন সড়কটি বেহাল অবস্থায় থাকায় সাধারন মানুষ, পথচারী, যাত্রী, রোগী ও যানবাহন চালকেরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এটি এখন মরণ ফাদে পরিনত হয়েছে।

এক ট্রাক চালাক বলেন,‘ পুরো সড়ক ভাঙা। বিভিন্ন জায়গা বড় বড় গর্ত হয়ে আছে। স্বাভাবিক ভাবে গাড়ী চালানো যায় না। বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটচনাও ঘটছে। এছাড়া ভাঙা সড়কের কারণে আমাদের গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। দাশপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মটরসাইকেল চালক মো. রিয়াজ বলেন, এ রুটে ৫শতাধিক মটরসাইকেল চালক ভাড়ায় মটরসাইকেল চালান। ভাঙা রাস্তায় মটরসাইকেল চালানো অনেক ঝুকি। বড় বড় গর্তে গাড়ির চাকা আটকে যায়। প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। যার কারণে যাত্রীরা মটরসাইকেলে আরহণ করেন না। এতে আমাদের ইনকাম কমে গেছে। সংসার চালাতে হিমশীম খেতে হচ্ছে।

উপজেলা এলজিইডি সূত্র জানায়, পটুয়াখালীর লোহালিয়া-কালাইয়া সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ কিলোমিটার। সড়কের কাশিপুর অংশের ৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজ চলছে। নওমালা- দাশপাড়া অংশে প্রায় ৭দশমিক ৫৬ কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে।

এলজিইডির উপ- প্রকৌশলী আলী ইবনে আব্বাস জানান, দীর্ঘদিন সংস্কা না করার কারণে সড়কের কাপের্টিং উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে সড়কের ভাঙা অংশ মেপে নির্ধারণ করেছি। প্রতিবেদন উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে জমা দিয়েছি।

এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন বলেন, ‘সংস্কারের জন্য উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠিয়েছিলাম। তবে সংস্কার কাজ পাশ হয়নি। এখন আবারও অতি গুরুত্বপূর্ণের তালিকায় সড়কটির নাম পাঠানো হবে।’